Bikroy

‘ভ্যালেন্টাইন ২০২০’ গল্প প্রতিযোগিতার ৫টি বিজয়ী গল্প

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com আয়োজিত ‘ভ্যালেন্টাইন ২০২০’ গল্প প্রতিযোগিতায় ১০০ এরও বেশি সংগৃহীত গল্পগুলো থেকে সেরা পাঁচটি গল্প বাছাই করে লেখদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন আবিদা সুলতানা ঐশী, দ্বিতীয় হয়েছেন তৌকির জামাল, তৃতীয় হয়েছেন সুমনা রহমান, চতুর্থ হয়েছেন বুলবুল আহমেদ এবং পঞ্চম হয়েছেন মেহেদী হাসান। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ এ Bikroy.com এর হেড অফিসে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং তাঁদেরকে Bikroy.com এবং US-Bangla Airlines Ltd. এর পক্ষ থেকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে এবার তুলে ধরা হলো বিজয়ীদের সেসকল গল্পঃ

১। An Old School Love Story

আবিদা সুলতানা ঐশী

This is a story of two 90’s kids which started 13 years ago who believed in fairy tale books, music playing in the radio FM & sitting together in a coffee shop where there’s no Wifi.

In 2007 one fine morning I met him at chemistry coaching class. The meeting was not a romantic one though, in fact, we had few arguments on our first meeting! Little did I know that he’s the one I’m gonna spend the rest of my life with. Later on, we exchanged our contact numbers on a few issues, had little conversations on study topics & notes. We slowly started to get close, we used to talk for hours & never ran out of topics. We fell in love with each other but never admitted or confessed to the opposite one. Years passed by & we both had done with our HSC exams. Then one night just before the day our results are about to publish he proposed to me over the phone saying “বিয়ে করবা আমাকে?” & I took a pause for a few minutes, then replied nervously “If u stay with me I’ll for sure”. That’s it.

Then came the real part! I took admission in medical college & he got admitted in engineering. We had very little time to meet or even talk, sometimes we used to have lots of arguments, fights over the phone, but soon we realized that we can’t live without each other too! After graduation my parents wanted me to get married. But he was not doing any job at that time. Being batchmates it was very difficult for both of us to make our parents agree for this marriage! We had lots of fights with families regarding this & finally, we got married in 2014 after dating each other for 7 long years Alhamdulillah. We were so happy & thought that nobody can make us apart now, but destiny had some other plans for us. A few months later he got a golden opportunity & a big job offer in an MNC but he had to shift to a different city without me! I was left alone in Dhaka for my study purpose. That was the hardest time of our life!! We survived through this long-distance newly married relationship too just to prove ourselves in front of everyone & make our lives better. In 2016 November I got to know that I conceived & I spent my most difficult pregnancy days without my husband, he used to visit me once or twice in a month for a short time.

Our son was born in August 2017 & then finally after all the struggles he got promotion & shifted to Dhaka Alhamdulillah.

This is my little family & my whole world, I know life is not a fairytale but nowadays we cherish each and every moment of our togetherness which is earned by hard works, dedication & by the grace of Almighty Allah.

২। Love at First Sight

তৌকির জামাল

দিনটার কথা আমি কোনদিনও ভুলব না। সেটা ছিল ইউনিভার্সিটিতে আমার ৪র্থ সেমিস্টার। একদিন ইকোনোমিক্স ক্লাস চলাকালীন সময়ে তার আবির্ভাব। ক্লাসের প্রায় ৩০ মিনিট পর আসায় স্যারের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে তার খানিকটা ইতস্তত হাসি। মেয়েটার চোখ দুটি ছিলো অসম্ভব মায়াবী। মেয়েটি আমার ব্যাচেরই ছিল কিন্তু এ পর্যন্ত আমার দেখা হয়নি। সেদিনই ছিল প্রথম দেখা আর আমার ক্ষেত্রে যাকে বলে “Love at first sight”। সত্যি বলতে এই ব্যাপারটা ততদিন পর্যন্ত আমি বিশ্বাসই করতাম না। বন্ধুমহলে প্রেম-ভালবাসার কথা উঠলে হেসেই উড়িয়ে দেওয়ার মতো ছেলে আমি। বাসা- ভার্সিটি- টিউশনি- বাসা – এই ছিল আমার প্রতিদিনের রুটিন। আর সেই আমিই মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার দিকে তাকিয়ে। তো যাই হোক, আমার মতো ছেলের দিকে ওর মতো হাস্যজ্জল মেয়ে ফিরেও তাকাবে এটা মনে করাটাও ভুল। কিন্তু আমার ভুল ভাঙল সেদিন যখন মিড টার্মের খাতা দেখানোর পর সে আমার কাছে এসে বলল, “আচ্ছা আমি তো ম্যাথস-এ অনেক কাঁচা, তুমি কি আমাকে ফাইনাল পর্যন্ত কোর্সটাতে পাশ করতে হেল্প করবে?” আমি তো আহ্লাদে আটখানা। ব্যস এভাবেই হয়ে গেল আমাদের পরিচয়। আর ক্লাসের পর এক থেকে দেড় ঘণ্টার গ্রুপ স্টাডি। ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করার পর থেকে প্রতিদিন তার প্রোফাইলে আমার নিয়মিত বিচরণ। একদিন সাহস করে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম “তোমার কি বয়ফ্রেন্ড আছে?” সে হেসে উত্তর দিল যে নেই। কি যে শান্তি লেগেছিল এটা শোনার পর! এভাবে যেতে যেতে একদিন লাস্ট ক্লাসটিও হয়ে গেল, আর আমার খুব মন খারাপ যে তার সাথে কথা বলার বা সময় কাটানোর সুযোগ হয়ত আর পাব না। কিন্তু তা হয়না। এরপরের সেমিস্টারেও তার সাথে মিলিয়ে ক্লাস আর গ্রুপ স্টাডি। এমন করেই জমে উঠে আমাদের বন্ধুত্ব আর ভাললাগা। এরপর কেটে যায় আরও ২টি বছর। তারপর একদিন যখন শুনলাম তার বাসা থেকে বিয়ের কথাবার্তা চলছে তখন ভাবলাম এবার তো আর দেরী করা যায় না। বলেই ফেললাম তাকে “ভালবাসি”। উত্তরে সেও জানালো যে সেও আমাকে ভালবাসে। সেইদিন ছিল আমার জীবনের অন্যতম সুন্দর দিন।

৩। Together Forever

সুমনা রহমান

আমার গল্পটা কিন্তু নতুন গল্প না, একটু সেকেলে একটু পুরানো। জানিনা আপনারা পছন্দ করবেন কিনা, তবুও লিখতে বসলাম। মানুষ প্রেম করে বাগদান করে, আর আমার হয়েছে উল্টো। বাগদানের পরে আমার প্রেম জমে উঠেছিল। এতো বছর পরেও মনে হয়, এইতো সেদিন আমি কলেজ থেকে আসলাম খুব ক্লান্ত হয়ে, ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু আমার মা এসে বলল পাশের বাড়িতে একটা জন্মদিনের অনুষ্ঠান আছে। আমাকে সেখানে মায়ের সাথে যেতে হবে। আমার তখন ঘুনাক্ষরেও মনে হয়নি যে, আমার মা জন্মদিনের উৎসবে যোগদানের পাশাপাশি আমাকে ছেলে দেখানোর কাজও সেরে নিচ্ছে। ক্লান্ত ছিলাম বিধায় জন্মদিন চলাকালীন সময়ে আমার মাকে গিয়ে আমি বললাম, আমার ভালো লাগছে না আমি এখন বাসায় চলে যেতে চাই। সে সময়ে আমার মা যে ছেলের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে, আমি তা মোটেও জানতাম না। বিয়ের পর আমার স্বামী বলেছিলো, আমার ক্লান্ত চেহারা সেসময় তার ভাল লাগেনি। কিন্তু যখন আমি আমার মার সাথে আহ্লাদ করে কথা বলছিলাম, সেটা তার খুব পছন্দ হয়েছিল। বিয়ের কথাবার্তা চলাকালীন সময়ে আমার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। আর বাগদানও হয়ে গেল। পরীক্ষার দিন সকালে আমার হবু স্বামী এবং শ্বশুর দুজনই গাড়ি পাঠালো, আমাকে পরীক্ষার হল থেকে আনা নেওয়ার জন্য। আমার মা পড়ল বিপদে, কার গাড়ি দিয়ে পাঠাবে পরীক্ষার হলে! তখন আমার মা পরামর্শ করে শ্বশুরের গাড়ি ফেরত পাঠিয়ে, হবু স্বামীর পাঠানো গাড়ি দিয়ে আমাকে পরীক্ষার হলে পাঠালো। পরীক্ষা শুরু হতে বুঝা গেল তারে গাড়ি পাঠানোর কারণ। প্রতিদিন পরীক্ষা শেষ হলে সে পরীক্ষার হলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকতো আমাকে এক পলক দেখার জন্য। শুধু তাই নয়, আমার সাথে গাড়িতে আমাদের পাড়ার গলি পর্যন্ত আসত এবং গলির মাথায় এসে কেউ যেন না দেখতে পারে, সে গাড়ি থেকে নেমে যেত। এভাবে যখন পরীক্ষা শেষ হল, শেষ পরীক্ষার দিন সে আমাকে আর আমার ছোট বোনকে নিয়ে পান্ডা নামের সে সময়ের এক জনপ্রিয় চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল দুপুরের খাবারের জন্য। তখন সে তার ভবিষ্যৎ বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং কিভাবে জীবনকে সাজাতে চায় সুন্দর করে বর্ণনা করলো, যা আমাকে খুব আকৃষ্ট করল। এভাবেই বিভিন্ন সাক্ষাতের পর কিভাবে কখন জানিনা আমি তার প্রেমে পড়লাম। হ্যাঁ, আমি সেই মানুষের প্রেমে পড়লাম আমি যার বাগদত্তা। আজ এত বছর পরেও সেই প্রেম কাহিনী এখনো আমার কাছে নতুনের মত লাগে এবং এখনও যখন তার চোখের দিকে তাকাই মনে হয়, আমার প্রতি তার সেই প্রেম কমে নাই বরং মনে হয় আরো বেড়েছে।

৪। ফুচকা-Love

বুলবুল আহমেদ

Chapter 01

ফুচকা- কারো জন্য মুখরোচক খাবার, কারো কারো পড়ন্ত বিকেলে আড্ডার সঙ্গী, আবার কখনও ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে বাজিতে জিতে নেয়া পুরষ্কার। কিন্তু আজ একটি অন্যরকম পরিচয়ে আপনাদের এই ফুচকা কে নিয়ে আসব যেটা কিনা John এবং Sharlene এর মিলবন্ধনের, অপেক্ষার, হতে পারে বিচ্ছেদের অথবা ভালোবাসার পথ হিসেবে একটি ক্যারেক্টার প্লে করেছে ।

Chapter 02

John-যে কিনা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি ছেলে, মাত্র গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে। জীবনের কাছে অনেক এক্সপেক্টেশন, অনেক দায়িত্ব, অনেক অপূর্ণ স্বপ্ন। বেশ কিছুদিন টিউশনি করে চলার পরে মামা খালু আর নুর ইসলাম ছাড়াই একটা জব পেয়েছে। মনে হচ্ছে তার স্বপ্ন পূরণের রাস্তায় হেঁটে যাওয়া শুরু হয়েছে মাত্র। মা আর ছোট বোনকে নিয়ে সংসার, তাদের স্বপ্নপূরণেই নিজের স্বপ্নপূরণ। নিজের জন্য তেমন কিছু ভাবার সময় হয়ে ওঠে নি কখনো। প্রেম ভালোবাসা এগুলো হয়তো চাঁদের ন্যায় ঝলসানো রুটির মত ছিল। ভালোলাগা ছিল না তা তো না- হয়তো অসংখ্যবার অসংখ্য মানুষকে ভালো লেগেছে তার কিন্তু কি করার, শুধুমাত্র হুমায়ূন আহমেদের “রুপা” বইটি পড়ে নিজেকে “হিমুর” জায়গায় কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল তার প্রেমিক ব্যক্তিত্বটি।

Chapter 03

Sometimes we have to let go everything with it’s own flow and surely our destiny will take us to the destination. ঠিক এমন ভাবেই কোন একদিন কাজের শেষে ভার্সিটির সামনে দিয়ে হেঁটে আসছিল আনমনে, হয়তোবা নিজেকে “হিমু” রূপে কল্পনা করতে করতে কে জানত সেদিন John তার Sharlene এর দেখা পাবে ।

সেদিন তাদের দুজনের প্রথম দেখা হয়েছিল।

হ্যাঁ Sharlene, তার বর্ণনা দেয়ার প্রয়োজনটা খুব একটা নেই , শুধু এতোটুকুই বলি – যে ছেলেটার হেঁটে চলা কোন রূপসী অথবা সুন্দরী আটকে রাখতে পারেনি কখনো, সেই John আজ থেমে গেছে কিছুক্ষণের জন্য, হয়তো হারিয়ে গেছে কোন এক অজানায়। John কিন্তু ভুলে যায়নি যে তাকে আরো অনেকটা পথ হাঁটতে হবে, শুধু পরিবর্তনটা এতোটুকু হয়েছে যে তার এই পথ চলায় John এর এখন মনে হয়েছে Sharlene কে তার সঙ্গী হিসেবে পেতে হয়তোবা পথ চলায় ক্লান্তি আসবে না সেই পরিশ্রান্তির জন্য।

Chapter 04

Time Note হলো, Place Note হল, আরও একটা স্বপ্ন Add হলো। রুটিন করে 30 মিনিট আগে আসা শুরু হলো John এর, মানুষের ভিড়ে নয় একাকী যেন তার রুপাকে দেখতে পারে এবং স্বপ্ন কল্পনাতেই বাস্তব করতে চায়ের দোকান রেখে কোন এক কর্নারে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিল সে, শুধুমাত্র তাকে দেখে চোখজুড়ানো যেন তার শান্তি । মজার ব্যাপার হলো দ্বিতীয় দিন থেকে John এর একাকীত্ব দূর করতে চলে আসলো সেই জায়গাটাতেই “রতন মামার ফুচকা”

Chapter 05

ফুচকা এখন John এর 30 মিনিট কাটানোর অব্যক্ত সঙ্গী। চলে গেল এভাবেই ৭টা দিন,।

হ্যাঁ এখানে Sharlene কে এতটা বোকা ভাবার কোনো কারণ ছিল না কারণ সে এর মধ্যে বিষয়টি Noticed করেছে। But she was pretending as if she doesn’t know anything. Actually she was enjoying that. নিজের দুর্বল অবস্থান এবং Sharlene er রঙ্গিন দুনিয়ায় কালো ছায়া হতে চায়নি তাই কথা বলতে চাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তৃপ্তিটা “দেখা” পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখ্গিন

না ভাবছেন ধনী-গরীব বিচ্ছেদের কোন গল্প হবে…। আচ্ছা দেখা যাক কি ঘটে………

Chapter 06

এতদিন এ রতন মামার মুখস্থ হয়ে গেছে John এর সেখানে যাওয়ার সময়, তার পছন্দের ফুচকাতে কতটুকু মরিচ এর পরিমান। এর মাঝে John এর ফ্রেন্ড নাইম ব্যাপারটা লক্ষ্য করে ছিল, কারন আড্ডা ফেলে ফুচকার সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলেছিল John গত 17 দিনে।

(গল্পের প্রয়োজনেই বলুন আর কাকতালীয় ভাবেই নাইম আর Sharlene দুঃসম্পর্কের কাজিন কিন্তু নাইম কখনো John কে বিষয়টা বলেনি।

এদিকে John এর এই বিষয়গুলো Sharlene কেউ ভাবতে বাধ্য করে তুলছিলো । আর হিমু মানে John ততদিনে ফুচকা প্রেমিক বনে গেছে।)

Chapter 07

দিন 23- কোন এক Family Occassion এ Sharlene এর সাথে নাঈমের আলাপ ।আড্ডায় Sharlene কে একটু একা পেয়ে নাইম বলেই ফেলল

নাইমঃ তোমার জন্য আমার এক বন্ধুর সেলারি এর অনেক বড় একটা অংশ ফুচকার পিছনে চলে যাচ্ছে বিষয়টা কি তুমি জানো ?

Sharleneঃ কি বলছ এগুলো? পাগল নাকি?

নাইমঃ হ্যা হয়ে গেছে। একটু বাকি আছে

Sharlene বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব না দেয়ার ভাব করে উঠে চলে গেল কিন্তু ব্যালকনিতে গিয়ে একটু তৃপ্তির হাসি ।

Chapter 08

Day 37- John আজ আসেনি । (অজ্ঞাত কারণ)

আমরা ধারণা করছি 36 দিন ফুচকা খাওয়াই হয়তোবা ফুচকা তাকে অসুস্থ করে ফেলেছে অথবা পারিবারিক কোনো কারণও হতে পারে।

এ নিয়ে Sharlene এর মন খুবই খারাপ কারণ জনকে সে্দিন ফুচকার দোকানের পাশে ্না দেখতে পেয়ে। এতটা রাগ হচ্ছে তার যে সে কিভাবে বিষয়টাকে হ্যান্ডেল করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছিল না এবং ফলাফল সেদিন রাতে খুব একটা ভালো ঘুম হলো না।

Sharlene পরের দিন আবার Johnকে না দেখতে পেয়ে ফুচকার দোকানে গিয়ে বললো “মামা আপনার রেগুলার কাস্টমার কই”?

রতন মামাঃ মামা দুই দিন হইল আহে নাতো ।

Sharleneঃ আপনার রেগুলার কাস্টমার যেভাবে ফুচকা খেতে আমাকে ওই ভাবে ফুচকা বানিয়ে দিবেন প্লিজ । ফুচকা খুব একটা পছন্দ না থাকা সত্ত্বেও প্রেমে পড়ে গেল শার্লিন। না John এর না … ফুচকা এর ।

Chapter 09

আজ ৮ দিন Sharlene এবং ফুচকা দুজনেই John এর অপেক্ষা করছিল ।

অভ্যাসটা খুব ভালোই হয়ে গেছে ফুচকা এখন শারলিনের প্রিয় খাবার গুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে।

Last Chapter

৮ দিন বিরতির পরে নবম দিনে John ফুচকা হাতে নিয়ে তার রুপার অর্থাৎ Sharlene এর অপেক্ষায় । আজ Sharlene থমকে গেল জনকে দেখে কিন্তু খুশিতে। খুব দ্রুত গতিতে ফুচকার দোকানে গিয়ে ছুটে চলা আর John এর হাত পা কাপুনি শুরু- দোকানের দিকে Sharlene কে এগিয়ে আসতে দেখে।

Sharlene এসে John এর সামনে দাঁড়ালো আর চোখে চোখ রেখে বলল

Sharleneঃ আমার সাথে কি আপনার last এই ফুচকাটা শেয়ার করা যাবে প্লিজ ?

John এর চোখ দিয়ে শুধু দুফোটা পানি ঝরলো এবং মাথা নেড়ে উত্তর দিল “না”

Sharlene এর মন খারাপ হয়ে গেল এবং সে নিচের দিকে তাকিয়ে বিষয়টাকে ঠিক মেনে নিতে পারছিল না।

একটু পরেই একটা ফুচকা হাতে নিয়ে John ভীতসন্ত্রস্ত ভাবে সামনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল

Johnঃ আমি তোমার সাথে আমার পুরোটা Life শেয়ার করতে চাই, (উত্তরের অপেক্ষায়)

Sharlene চুপ করে জাস্ট একটা হাসি দিয়ে John কে তার জীবনের সেরা উপহারটা দিল, আর John তার পথ চলার সঙ্গী টা পেয়ে গেল ।

আর তারপর থেকে তারা কোনো ‘স্পেশাল ডে’ পালন করুক আর না করুক John & Sharlene ‘ফুচকা ডে’ পালন করতে ভুলে যায় না কখনই।

ইতিকথায় আমরা এটাই চাইতে পারি “ ভালো থাকুক ভালোবাসাগুলো”।

৫। স্যাক্রিফাইস এ সফলতা

মেহেদী হাসান

প্রথম দেখাটা বিদ্যালয় মাঠেই হয়েছিলো, যখন সে ভর্তি হওয়ার জন্য স্কুলে এসেছিলো। প্রথম দেখাটা মনে বড় একটা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে। কারণ এটাই ছিলো আমার জীবনে প্রথম কাউকে ভালোলাগা। এক কথায় love at first sight…

আমার মনে হলো যে, এই মেয়েটাই হবে আমার লাইফ মেইট । যেমন ছিলো তার রুপ, তেমনি অনেক গুন। গুনের কথা গুলো না-হয় একটু পরেই বলি। স্কুলে আমার অনেক ভালো বন্ধু, ছোট ভাই, ছোট বোনরা নিচের শ্রেণীতে পড়াশোনা করতো। আমি আমার বন্ধু- বান্ধবীদের কেউ মেয়েটির কথা বলাবলি করতে লাগলাম। নানাভাবে মেয়েটির নাম জানার চেষ্টা করলাম। অনেক সাহস থাকা সত্ত্বেও আমি তো ভয়ে মেয়েটির সামনেই পরতাম না। তবে বন্ধুদের সাথে ছিলাম খুবই ফ্রি। আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেক জনের কথা শেয়ার করতাম। এভাবেই অল্প সময়ের মধ্যেই আমি অধৈর্য্য হয়ে পড়ি। একদিন যেতে না যেতেই আমার কাছের বান্ধবীদেরকে প্রিয় মানুষ টার নাম জানতে বলি। প্রিয় বললাম এই জন্যই, তো আর কি বলবো? বন্ধুরাও আমার কথা মতোই ওর নাম টা জানলো। মেয়েটির নাম ছিলো জয়নব অরনা। আমার নাম টা তো এখনও বলাই হয়নি। আমার নাম ইমন। আর ইমন-ই এই গল্পের লেখক। নাম জানার জন্যেও তখন নাকি বন্ধু-বান্ধব দের ট্রিট দিতে হয়। সামান্য একটা ট্রিট উপহার দিলাম।

পরের দিন একটা ছোট চিরকুট দিয়ে পাঠালাম, যাতে আমার মোবাইল নম্বর লিখা ছিলো। তার পরের দিনই একটা অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসলো। রিসিভ করার পরে কন্ঠটা অচেনা হলেও, মনে হলো যেন, হাজার বছর আগে থেকে চেনা। প্রথম ফোনালাপ টা যদিও ছিলো সাহস বিরোধ, তবে এতেই জন্ম হয় ভীতু সুরে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। সময় যেতে যেতে আমাদের পরিচয় টাও সুমধুর হতে লাগলো। রাতে-দিনে ইচ্ছেমতো মোবাইলে কথা বলা, এসএমএস দেওয়া, ফেইসবুকে চ্যাট করা ছাড়াও, নানা রকম ভার্চুয়াল যোগাযোগ মাধ্যম ইত্যাদি সবকিছুই যেন রীতিমতো চলছেই। আমি কথা বলার শুরু থেকেই ‘তুমি’ করে বলতাম। যদিও আমাকে ‘আপনা-আপনি’ করেই শুনতে হতো। একদিন নোটবুক, শিক্ষা উপকরণসহ কিছু গিফট দিলাম। সাহস না থাকা সত্ত্বেও ঠিক ওইদিনই সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জয়নব কে প্রপোজ করে বসলাম। কিন্তু ওর উত্তর টা ইতিবাচক না হলেও আমার বিপক্ষে যায়নি। কারণ ঐদিন থেকেই আমরা দুইজন বন্ধু হলাম। এরপর এভাবেই দুইজনের কথাবার্তা চলতে থাকে। দুইজন এর মধ্যে ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে দুষ্টুমি, রাগ অভিমান, হাসি তামাশা অনবরত চলতেই থাকে। দুইজনে মিলে অনেক দর্শনিয় স্থানে ঘুরতে যাই।

দুইজনের পরিচয় টা এতটা ভালো হলো যে, পরিচয় এর পাঁচ মাস যেতে না যেতেই জয়নব নিজেই আমাকে প্রপোজ করে বসলো। আমার তখনকার মূহুর্তটাও বলে বোঝানোর মতো নয়। সেদিন থেকেই জয়নব আমাকে ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’ বলতে শুরু করলো। এভাবেই যত দিন গড়াচ্ছে, আমাদের ভালোবাসাও তত গভীর হচ্ছে। নানান জায়গায় একসাথে ঘুরতে যাওয়া, একসাথে রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া, ফোনালাপ, এসএমএস ইত্যাদি যেন ক্রমাগত স্রোতের গতিতে বেড়েই চলছে।

ওর মায়ের সাথে ছিলো ওর বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ। জয়নবের মাধ্যমে আগে থেকেই আমাদের ভালোবাসার ব্যাপারে ওর মা সবকিছুই জানতো। কিন্তু ওর বাবা ছিলেন আমাদের গল্পের ভিলেন। লুকিয়ে লুকিয়ে আমরা অনেক প্রেম করেছি। বেশি ভালো ভালো নয়- প্রবাদটি যেন সত্যি হতে লাগলো। জয়নব দের বাড়িতে ওর জন্য একটার পর একটা করে বিয়ের প্রপোজাল আসতে লাগলো। যার ফলে ও অনেকটা চাপে ছিলো। আমার পক্ষ থেকেও ঠিক ওই সময়ে ওকে বিয়ে করা সম্ভব ছিলোনা। কারণ আমি নিজেকে তখনও ওর যোগ্য হিসেবে তৈরী করতে পেরেছি বলে মনে হয়নি। কারণ আমার পরিবারটি ছিলো বাবা মরা মধ্যবিত্ত পরিবার। তবে কি আমি ওকে হারাতে বসলাম???

জয়নবকে বেশ কদিন যাবৎ না পাচ্ছি ফোনে, না পাচ্ছি ফেসবুকে, এছাড়াও যত প্রকার ভার্চুয়াল যোগাযোগ মাধ্যম আছে, এর কোনোটাতেই ওকে পাচ্ছিনা। ওর মায়ের সাথে কথা বলেও কোনো খবরাখবর পাচ্ছি না। হয়তোবা জেনেও আমাকে কিছু জানাতে অমত ছিলো। এরপর কোনোভাবে জানতে পারলাম যে ওর অন্য একজনের সাথে বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। নিজেকে কোনোভাবেই সামলে নিতে পারছি না। এর আগে কখনোই জয়নবকে হারানোর ভয় ছিলোনা। প্রিয়জনকে হারালে কেমন লাগে তাও জানতাম না। তাই নিজেকে মানিয়ে নেওয়া বড়ই কষ্টকর। ওকে এতটাই ভালোবেসেছিলাম যে, কখনও ভাবতেই পারিনি যে, ওকে কখনও হারাতে হবে। আর হারালেই বা কেমন লাগে। কিছুক্ষণ পর আবার ওর মায়ের কাছেই ফোন দিলাম। আমার পাগলামি দেখে ওর মা এবার সত্যি কথাটা জানাতে বাধ্য হয় যে, এখনো জয়নবের বিয়ে হয়নি। আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। আর দেরি না করে চলে গেলাম ওদের বাড়িতে। গিয়ে জয়নবকে তুলে নিয়ে আসি। পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যাই। চাইলেই আমরা দুইজন পালিয়ে যেতে পারতাম। আমরা দুইজন একসাথে বাড়ি থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার পরও, দুইজন এর পরিবারের সবার কথা চিন্তা করে আবার দুইজন দুইজনের বাড়িতে ফিরে আসি।

পরেরদিন সকালে আমার মাকে নিয়ে ওদের বাড়িতে বিয়ের প্রোপোসাল নিয়ে যাই। গিয়ে অনেক বু্ঝিয়ে ওর বাবাকে ম্যানেজ করতে চাই। কিন্তু ওর বাবা রাজি হতেই চায়না। শুধু ওর বাবাই আমাদের ভালোবাসার ভিলেন ছিলেন। কিন্তু আমরা ওর বাবাকেও সিদ্ধান্ত বদলাতে সক্ষম হয়েছিলাম। অতঃপর আমরা বিয়ে করলাম। এখন আমাদের সংসার সবার দোয়ায় সুখেই আছে।

এই গল্পের লেখক আমিই-ইমন, জয়নব নামের মেয়েটিই আমার বউ, আর গল্পটি আমার বাস্তব জীবনের কিছু চিত্র। এতক্ষণ গল্পটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close