৫ টি সিম্ফনি মোবাইল ফোন

Share

মোবাইল ফোন হলো আপনার মা ও পরিবারের সাথে কথা বলা এবং ছবি তোলার কাজে ব্যবহারের একটি মাধ্যম। ফেসবুকে বন্ধুদের সংস্পর্শে থাকতে, ভিডিও গেমস খেলতে, ইউটিউবে ভিডিও দেখতে মোবাইল ফোন দরকার, তাছাড়া এটি একসঙ্গে মিউজিক প্লেয়ার এবং রেডিওর কাজ করে!বিশ্বজুড়ে বড় বড় মোবাইল ফোন কোম্পানির ব্যাপক প্রসারের ফলে বাজারে যেকোনো ফোন খুঁজতে হলে আগে আমরা দেখি যে ফোনটি দিয়ে ঐ সবগুলো কাজ একসাথে করা যায় কি না। সিম্ফনি স্মার্টফোন আপনাকে ঐ সবকিছুর পাশাপাশি আরও অনেক সুবিধা প্রদান করা থাকে।

কে বলে মোবাইল ফোন ব্যয়বহুল? বড় কম্পানিগুলো ফোনের দাম বেশি রাখে বলেই যে ঐ ধরণের ফোন পাওয়ার অন্য কোনো উপায় থাকবে না, তা নয়।শুধুমাত্র একটা সিম্ফনি মোবাইল ফোন যাচাই করে দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন এটি আপনার ক্রয়সীমার মধ্যেই রয়েছে। ২০০৮ সালে বাজারে আসার পর থেকে সিম্ফনি মোবাইল ফোন বাংলাদেশের স্মার্টফোনের বাজার দখল করে নিয়েছে। সিম্ফনি তার আকর্ষণীয় কমদাম আর বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ডুয়েলসিমের ফোন নিয়ে আসায় নকিয়া, স্যামসাং, ওয়ালটন, সনি, এরিকসন এবং অন্যান্য সকল কোম্পানি পিছিয়ে পরেছে। মোবাইলের উচ্চমুল্য সাধারণ বাংলাদেশীদেরকে স্মার্টফোন কেনা থেকে বিরত রাখে একথা উপলব্ধি করার পর সিম্ফনি বানলাদেশে অ্যান্ডরয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত সুলভ মূল্যের সিম্ফনি মোবাইল ফোন বাজারজাত করেছে।

শীর্ষ পাঁচ সিম্ফনি মোবাইল ফোন-
সিম্ফনির প্রায় ৭০ ধরনের ফোনের মধ্য থেকে প্রত্যেকেই কোনো না কোনো একটি বেছে নিতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের দামের ফোন রয়েছে যাতে করে প্রত্যেকেই নিজের সাধ্যের মধ্যে একটাকে খুঁজে নিতে পারে। দামের সাথে মিল রেখে ফোনগুলো বৈশিষ্ট্যেও বৈচিত্র্য রাখা হয়েছে যাতে করে ফোনের যেসব বৈশিষ্ট্য একজন ক্রেতা ব্যবহার করতে চান না সেসব বৈশিষ্ট্যের জন্য তাকে যেন অতিরিক্ত অর্থ খরচ না করতে হয়।
বিবেচনা করার মত অনেক ফোন এবং অনেক বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্বের মধ্য থেকে আমরা সিম্ফনির সেরা পাঁটটি মোবাইল ফোনকে বেছে নিয়েছি। আসুন এক এক করে সেগুলো দেখে নেয়া যাক:
সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ৯২ (Symphony Xplorer W92)
সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ৬৮ (Symphony Xplorer W68)
সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ৮২ (Symphony Xplorer W82)
সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ৬৫ (Symphony Xplorer W65)
সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ৩২ (Symphony Xplorer W32)

এই সবগুলি মডেলেরই রয়েছে ব্রান্ডেড ডুয়্যাল সিম (branded dual SIM), যার অর্থ হলো এটা একই সঙ্গে দুইটি সিম কার্ড ধারণ করে (ফোন নম্বর এবং পরিচিতিসহ)। সেগুলোর এফ.এম রেডিও ও ভিডিও রেকডিংয়ের সামর্থও রয়েছে। আসুন এই ফোন পাঁচটির প্রতিটির মধ্যেকার পারস্পারিক প্রধান পার্থক্যগুলি বিস্তারিতভাবে দেখে নেয়া যাক।
সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ৯২ (Symphony Xplorer W92)

এটি সিম্ফনির তৈরি ১৪৫×৭৪×৯.৯ মি.মি আকারের এবং ১৮৯ গ্রাম ওজনের একটি ডুয়্যাল সিম স্মার্ট ফোন। ৫″ টিএফটি ক্যাপাসিটিভ ফুল টাচ স্ক্রিন (5″ TFT Capacitive Full Touch screen) এবং ৮ এমপি+২এমপি ক্যামেরাসহ এই ফোনটিতে অ্যান্ডরয়েড ৪.২.১ জেলিবিন অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। (Android 4.2.1 Jelly Bean operating system) ফোনটি ১.২ গিগা হার্জ কোয়াড কোর(Quad Core) প্রসেসর দিয়ে চলে এবং এর রয়েছে ৫১২ এমবি র‌্যাম এবং ৪ জিবি রম। ফোনটি থ্রিজি (3G), এজ (EDGE), ওয়াইফাই (WiFi) এবং জিপিএস (GPS) সমর্থন করে। জিএসপির প্রক্সিমিটি ও এক্সিলারোমিটার সেন্সরও (proximity and accelerometer sensor) রয়েছে। এতে করে আপনি সহজেই ফেসবুকে ছবি আপলোড করা, জিমেইলে মেইল পাঠানো অথবা ইংল্যান্ডে আপনার আত্মীয়দের সাথে স্কাইপেতে কথা বলতে পারবেন। এমনকি ইউটিউবে ভিডিও দেখাও সম্ভব!

গেম খেলার যন্ত্র হিসেবে ফোনটি দ্বিগুণ ফলাফল দেয়, আপনাকে ক্যান্ডি ক্রাস, এংরি বার্ডস, হাইওয়ে রাইডার, টেম্পল রান এবং অন্যান্য যেসব গেম আপনি অ্যান্ডরয়েড মার্কেট (প্লে স্টোর) থেকে ডাউনলোড করতে পারেন তা সবই চালাতে সক্ষম। সচল (standby) অবস্থায় ব্যাটারির আয়ু ৪০০ ঘন্টা এবং কথা বলা অবস্থায় (talk time) ব্যাটারির আয়ু ছয় ঘন্টা পর্যন্ত। ১১,৪৯০.০০ টাকা দামের এটাই হলো সিম্ফনির সবচে দামী স্মার্ট ফোন। তবে এতে আপনি যাকিছু চান তার সব বৈশিষ্ট্যই তো রয়েছেই, বরং আরও বেশি কিছু আছে।

সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ৮২ (Symphony Xplorer W82)
অ্যান্ডরয়েড ৪.২.২ জেলিবিন অপারেটিং সিস্টেম (Android 4.2.2 Jelly Bean operating system) এবং ৫″ টিএফটি ক্যাপাসিটিভ ফুল টাচ স্ক্রিন (5″ TFT Capacitive Full Touch screen)নিয়ে এই ফোনটি দেখতে প্রায় ডব্লিউ৯২ এর মতই। এটারও ডুয়্যাল সিম রয়েছে কিন্তু ১৭৮ গ্রাম ওজন আর ১৪২.৫×৭৩×১১.১৫ মি.মি আকৃতি নিয়ে ফোনটি ডব্লিউ৯২ এর চাইতে আকারে সামান্য ছোট। এটার রয়েছে এফডব্লিউভিজিএ প্রদর্শন পর্দা (FWVGA Display) এবং ৫এমপি+০.৩এমপি ক্যামেরা। দ্বিতীয় ক্যামেরাটি ভিজিএ। এর ৫১২ এমবি র‌্যাম এবং ৪ জিবি রমসহ ১.২ গিগাহার্জ প্রসেসর (ডুয়েল কোর) আছে এবং এইক্ষেত্রে ডব্লিউ৯২’র সাথে এর অমিল। কিন্তু ঠিক ডব্লিউ৯২’র মতই এটারও থ্রিজি (3G), এজ (EDGE), ওয়াইফাই (WiFi), জিপিআরএস (GPRS) জি সেন্সর (G sensor), প্রক্সিমিটি(Proximity) এবং এক্সিলারোমিটার সেন্সর (Accelerometer Sensor) সমর্থন রয়েছে। দ্বিতীয় (secondary) ক্যামেরাটি ভিজিএ। ফেসবুক, ইউটিউব, জিমেইল, স্কাইপ এবং অ্যান্ডরয়েড মার্কেট (প্লে স্টোর) সহ একটি আদর্শ স্মার্টফোনের সব বৈশিষ্ট্যই এতে আছে। অডিও প্লেয়ারটি এমপিথ্রি (MP3), এএমআর (AMR), এএসি (AAC), এএসি+ (AAC+) ফাইলসমূহ চালাতে পারে। এর একটি ইউএসবি মডেম রয়েছে এবং ৩২ জিবি পর্যন্ত সমর্থনযোগ্য (expandable) একটি মাইক্রো এসডি কার্ড রয়েছে। সচল অবস্থায় (stand by) ব্যাটারির আয়ুস্কাল ৩২০ ঘন্টা যখন কথা বলা অবস্থায় (talk time) ব্যাটারির আয়ুস্কাল হচ্ছে ছয় ঘন্টা। ৮,৯৯০.০০ টাকা দামের এই ফোনটি ডব্লিউ৯২ থেকে কম দামের হলেও এর (ডব্লিউ৯২’র) সবগুলি বৈশিষ্ট্যই এতে রয়েছে।

সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ ৬৮ (Symphony Xplorer W68)
এটা হচ্ছে আলোচ্য পাঁচটি ফোনের মধ্যে সবচে জনপ্রিয় এবং এটা ২০১৩ সালেই বাজারে এসেছিল। এটার রয়েছে অ্যান্ডরয়েড ৪.২.২ জেলিবিন অপারেটিং সিস্টেম ৪.২.২ (Android 4.2.2 Jelly Bean operating system) এবং ডব্লিউ৯২ অপেক্ষা ছোট আকারের একটি ৪″ টিএফটি ক্যাপাসিটিভ ফুল টাচ স্ক্রিন (4″ TFT Capacitive Full Touch screen) যাহোক এটার ডব্লিউভিজিএ প্রদর্শন পর্দাটি(display) এটাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ (brightness adjustment), মাল্টিশট (multi shots) এবং নাইট ভিশন (night vision) সহ ৫এমপি+০.৩এমপি’র ক্যামেরাটি যথেষ্ট ভাল। ফোনটি ১.২ গিগাহার্জের একটি প্রসেসর (ডুয়েল কোর), ৫১২ এমবি র‌্যাম এবং ৪ জিবি রম দ্বারা চালিত। এটি থ্রিজি (3G), এজ (EDGE), জিপিআরএস (GPRS), ওয়াইফাই (WiFi), এবং জিপিএস(GPS) সমর্থন করে এবং জি সেন্সর (G sensor) সহ প্রক্সিমিটি (Proximity) সেন্সর রয়েছে।
এর পূর্বসূরি ডব্লিউ৯২ ও ডব্লিউ৮২ এর মত এটা দিয়েও ফেসবুকে ছবি আপলোড দেয়া, ইউটিউবে ভিডিও দেখা এবং অ্যান্ডরয়েড প্লে স্টোর থেকে গেম ডাউনলোড করা যায়। আপনি কখনও ক্লান্ত হয়ে গেলে এটাতে বাবল ব্যাশ-৩ এবং ক্যান্ডি ক্র্যাস এর মত গেমও খেলতে পারবেন এবং অভিধান ব্যবহার করে ইংরেজি বানান ঠিক করায় সাহায্য নিতে পারবেন। এটার একটা ইউএসবি মডেম রয়েছে এবং ৩২ জিবি পর্যন্ত সমর্থন করে এমন একটি মাইক্রো এসডি কার্ড রয়েছে। এটার আকার ১২৩.৭×৬৩.২×১০.৩ মি.মি এবং ডব্লিউ ৬৫ থেমে সামান্য ছোট। সচল অবস্থায় (stand by) ব্যাটারির আয়ুস্কাল ২৮০ ঘন্টা যখন কথা বলা অবস্থায় (talk time) ব্যাটারির আয়ুস্কাল হচ্ছে চার ঘন্টা। এই ফোনটির মূল্য ৬,৯৪০.০০ টাকা এবং এর উপযুক্ত মূল্যই এটিকে খরচের তুলনায় দামী মোবাইলে পরিণত করেছে।

সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ৬৫ (Symphony Xplorer W65)
কাছাকাছি দামের ডব্লিউ৬৮ ফোনের ৫এমপি+০.৩এমপি ক্যামেরার তুলনায় এই ফোনটির রয়েছে ২এমপি+০.৩ এমপি ক্যামেরা। যদিও এটা ১.২ গিগাহার্জ প্রসেসর (ডুয়াল কোর) এর সাহায্যে চলে তবুও ডব্লিউ৬৮-এর তুলনায় এর রয়েছে ছোট আকারের ২৫৬ এমবি র‌্যাম এবং ৫১২ এমবি রম। এর অ্যান্ডরয়েড জেলিবিন অপারেটিং সিস্টেম ৪.২.২ (Android 4.2.2 Jelly Bean operating system)এবং একটি ৪″ টিএফটি ক্যাপাসিটিভ ফুল টাচ স্ক্রিন (4″ TFT Capacitive Full Touch screen) ঠিক ডব্লিউ৬৮ এর মতই। ডব্লিউ৬৫ থ্রিজি নেটওয়ার্ক (3G), এজ (EDGE), ওয়াইফাই (WiFi),জিপিএস (GPS) সমর্থন করে এবং প্রক্সিমিটি (Proximity) সেন্সরবিহীন জি সেন্সর (G sensor) রয়েছে। এটার আকার ১২৫.৫×৬৪.৫×১১.৪ মি.মি এবং ওজন ১৩২ গ্রাম। সচল অবস্থায় (stand by)২৮০ ঘন্টা এবং কথা বলা অবস্থায় (talk time) ব্যাটারির আয়ুস্কাল হচ্ছে চার ঘন্টা। ৬,২৫০.০০ টাকা দামের মধ্যে তারপরেও এতে ফেসবুক ব্যবহার করা যায়, অফিস স্যুট (Office suite) খোলা যায় এবং প্লে স্টোর থেকে গেম ডাউনলোড করা যায়।

সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ ৩২ (Symphony Xplorer W32)
সিম্ফনিরি সেরা পাঁচটি ফোনের মধ্যে এইটিরই রয়েছে সবচে ছোট টাচ স্ক্রিন (৩.৫”)। সাম্প্রতিক অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ডরয়েড ৪.২.২ জেলিবিন ওএস রয়েছে। ফোনটির রয়েছে ২এমপি+০.৩এমপি ভিজিএ ক্যামেরা এবং ফোনটি ১ গিগাহার্জ প্রসেসর (ডুয়াল কোর) সহ ২৫৬ এমবি র‌্যাম এবং ৫১২ এমবি রম দিয়ে চলে। এটাও থ্রিজি নেটওয়ার্ক (3G), এজ (EDGE), ওয়াইফাই (WiFi), জিপিএস (GPS), জি সেন্সর (G sensor) সমর্থন করে এবং ফেসবুকে ছবি আপলোড অথবা গেম ডাউনলোড করা যায়। এটার সাথে ৩২ জিবি পর্যন্ত সমর্থন করে এমন একটি মাইক্রো এসডি স্লট রয়েছে। এটার আকার ১১৬.৯×৬২.৫×১২.৬ মি.মি এবং ওজন ১২০ গ্রাম। এটার ক্ষুদ্রতম আকৃতি আর ৫,৩৫০ টাকা দাম হওয়ায় এটা সকলের পকেটেই থাকার মত একটি স্মার্টফোন।

তাহলে বলুন, আপনি বেশিরভাগ কোন কারণে ফোন ব্যবহার করেন? আপনি কি প্রচুর ইন্টারনেট ব্যবহার করেন? আপনি কি প্রচুর ক্ষুদেবার্তা পাঠান কিংবা স্কাইপ ব্যবহার করেন? উপরের শীর্ষ ৫ টির মধ্যথেকে আপনি আপনার ফোনটিকে কী কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করবেন তা কথা বলার কাজেই হোক, ডাটা ব্যাবহার করাই হোক অথবা যাকিছু আপানার বিশাল সব প্রয়োজনে লাগে সেসব কাজেই হোক তাঠিক করে নিন, যদিও সকল কাজে ব্যবহার করার মত ফোনও সেখানে রয়েছে। আপনাকে সবসময় ব্যস্ত থাকতে হয় কি-না এবং ফোনটিকে সবসময় পকেটে রাখতে হয় কি-না অথবা আপনার ফোনটিসারাদিনই আপনার কাজের টেবিলের উপরে থাকবে কি-না এইসবকিছু বিবেচনা করে চার্জ করার সুবিধা-অসুবিধার কথা মাথায় রেখে আপনি সিম্ফনি ফোনের তালিকাটি দেখুন এবং আপনার জন্য সেরাটি বেছেনিন!

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments