গুগল আই-ওহ’তে ভবিষ্যত প্রযুক্তি

Share

তর্কসাপেক্ষে বা যুক্তি দিয়ে বলা যায় যে, প্রযুক্তির জগতে গুগল আই-ওহ (ইনপুট/আউটপুট) সবচেয়ে বড় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনটির আয়োজন করেছে। আই-ওহ হচ্ছে ডেভেলপার ভিত্তিক (প্রযুক্তির উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে) একটি ঘটনা মাত্র কিন্তু গুগল তাদের যেসব বিস্ময়কর পণ্যের প্রদর্শনীর আয়োজন করে তাদের সেই বিস্ময়কর সব উদ্ভাবনী দেখার জন্য সম্মেলনে ভিড় করেছিলেন সারা বিশ্বের টেক কৌতুহলীরা। আই-ওহ এর তালিকায় এমন কিছু পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে যা অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং আকর্ষণীয়। এসব পণ্য সম্ভাব্য ভবিষ্যতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যত পরিবর্তন করে দিবে।

 

নেটিভ মাল্টিটাস্কিং স্প্লাইট স্ক্রিন এবং ভুলকান সাপোর্ট
স্যামসাং তাদের স্মার্টফোনগুলোতে প্রথম মাল্টিটাস্কিং স্প্লাইট স্ক্রিনের ব্যবহার শুরু করেছিল। স্যামসাংয়ের ব্যবহারের ফলে এরপর অনেক কোম্পানি নিজেদের পণ্যেও অনুরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করতে থাকে। এমনকি অ্যাপলও সম্প্রতি তাদের আইপ্যাডে মাল্টিটাস্কিং স্প্লাইট স্ক্রিন পদ্ধতির প্রয়োগ বা সূচনা করেছে। গুগল এটি নেটিভ অ্যান্ড্রয়েড এন-এ অন্তর্ভূক্ত করতে যাচ্ছে। এটি হলে সব অ্যান্ড্রয়েড ফোন এন এর মাধ্যমেই পরিচালিত হবে এবং সব অ্যাপ্লিকেশনই স্প্লাইট স্ক্রিন মুডে ব্যবহার করা যাবে। এটা ডেভেলপারদের শুধু স্প্লাইটস্ক্রিনের নিখুত অ্যাপ তৈরিতে অনেক বড় উদ্দীপনাই দিচ্ছে না একইসাথে এটি তাদেরকে বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড স্কিনেও পৌছে দিচ্ছে।

Android-N-Split-Screen-View

 

ভুলকান, কেবল এটার মাধ্যমেই থ্রিডি গ্রাফিক্স এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ইন্টারফেইস) এর প্লাটফর্ম অতিক্রম করেছে। আর এটাই ডেভেলপারদের আরও বেশি বেশি প্রাণবন্ত এবং বাস্তবসম্মত দৃশ্য তৈরিতে উৎসাহিত করছে। এক্ষেত্রে ডিটেইল বা বিট (ক্ষুদ্র অংশ) বৃদ্ধি করা হয়েছে তবে সিপিইউ (সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট) এবং জিপিইউ (গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট) এর উপর চাপ কমানো হয়েছে। স্যামসাং গ্যালক্সি এস৭ এবং এস৭ এজ হচ্ছে প্রথম স্মার্টফোন যেখানে এই এপিআই সবচেয়ে নিখুতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ভুলকানই হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে মোবাইল গ্রাফিক্স এর ভবিষ্যত এবং বেশ আগে থেকেই শিল্পমান (ওপেনজিএল) এটির উন্নয়ন, অগ্রগতি করেছে এবং এটিকে পরবর্তী জেনারেশনের মোবাইল গেইম এর জন্য সেরা পছন্দ হিসেবে তৈরি করেছে।
ডে-ড্রিম ভার্চুয়াল রিয়ালিটি:

 

Google_Daydream_Lockup_Secondary_RGB.0

 

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) মূলত: টেক বিশ্বে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় ঘটনা বা বিষয়। ভার্চুয়াল রিয়ালিটির দারুন সব অভিজ্ঞতা পেতে হলে, আপনার প্রয়োজন হবে গিয়ার ভিআর এর মতো প্রযুক্তি। আর যদি আপনি এই ডিভাইসটি পেতে চান তাহলে এর জন্য আপনাকে কয়েক হাজার ডলার ব্যয় করতে হবে। আসছে বর্ষাতেই অ্যান্ড্রয়েড এন ভিআর মুড এবং স্মার্টফোন অবমুক্ত করতে যাচ্ছে। আর এটা অনেক নিখুত হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভিআর নির্দিষ্টি কিছু বৈশিষ্ট্যের সাথে সাব ২০ মিলিসেকেন্ড সময়ে অসুস্থতা প্রতিরোধের গতির অনুমতি দিবে। খুব শীঘ্রই গুগল ভিআর হ্যান্ডসেট এবং কন্ট্রোলারের জন্য রেফারেন্স হার্ডওয়্যার অবমুক্ত করবে। এটাই হবে ভিআর মোবাইলের ভিত্তি। তারা আরও দেখিয়েছে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির পরিবেশের মাধ্যমে আপনি সজ্ঞানে আপনার ফোনের সফটওয়্যারের সাথে পরস্পরের সংযোগ এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। কন্ট্রোলার হচ্ছে একটি কমপ্যাক্ট মডিউল, যা এক অর্থে উই রিমোর্টের (জাপানি পণ্য, যা দিয়ে গেইম খেলা হয়) মতো অনেক কাজ করে। এটি ভার্চুয়াল রিয়ালিটির জগতে হাতের ইশারাকে স্থানান্তর বা অনুবাদ করে।

 

FINALDaydreamRefernceDesign.0

 

ক্রম অপারেটিং সিস্টেমে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস

 

Google-Play-Chromebooks-840x523
দীর্ঘ সময় ধরেই এটি আসছে। সম্প্রতি ২০১৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে গুগলের ক্রমবুক অনেক গুণ বেশিতে ম্যাকবুকের নিকট বিক্রি হয়েছে। যা প্রযুক্তির জগতে টপ পাওয়ার হাউজের পরিবর্তে আরও সাশ্রয়ী এবং হালকা প্রযুক্তির মেশিনের সাধারণ একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যা আসলেই সাধারণ মানুষের জন্য এতো প্রয়োজনীয় নয়। ক্রমবুক খুব ফাস্ট এবং রেসপনসিভের অভিজ্ঞতা অফার করছে কিন্তু এর অ্যাপ সিলেকশন এটিকে পিছনের দিকেই রেখে দিচ্ছে। ২০১৬ সালে গুগল তাদের ক্রম অপারেটিং সিস্টেমের জন্য অ্যান্ড্রয়েড প্লে স্টোর চালু করতে যাচ্ছে। এর ফলে ক্রম অপারেটিং সিস্টেম ডিভাইস ব্যবকারকারীরা তাদের ডিভাইসে যে কোন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবেন। এটি নেটিভের মতো কাজ করবে এবং ডিভাইসটির সাথে মানিয়ে নেবে। একইসাথে দ্রুত অভিজ্ঞতার জন্যও আপনি সিপিইউ, জিপিইউ এবং র‌্যামের পুরো শক্তিই পাবেন। প্রযুক্তির এই পরিবর্তন ক্রমকে তাৎক্ষণিকভাবে দশগুণ বেশি আকর্ষণীয় এবং মজার করে তুলেছে, এবং অ্যান্ড্রয়েড ও ক্রম অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে ইন্টারঅপারেটিবিলিটি বা পারস্পরিক আন্ত:পরিচালনার পথ তৈরি করেছে।

 

প্রজেক্ট সোলি:

 

o-SOLI-facebook
আপনার যদি একটি স্মার্টফোন থাকে, তাহলে আপনি এধরণের ছোট স্ক্রিনের সমস্যা সম্পর্কে ভালো জানেন। বিশেষ করে যখন এটি স্ক্রিনের কনটেন্টের সাথে ইন্টারেক্ট করে। গুগল অ্যাটাপ ল্যাব এর অধীনে প্রজেক্ট সোলির মাধ্যমে যে একটি বৈপ্লবিক মিথস্ক্রিয়া হচ্ছে এতে গোটা বিশ্ব আমাদের চারপাশে চলে আসছে। রাডার সেন্সরের সহযোগিতায় আপনার স্মার্ট ডিভাইসটিও এই বৈপ্লবিক মিথস্ক্রিয়ার জন্য তৈরি করুন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কি হচ্ছে? এটি সূক্ষ্ম ইশারা বা সংকেতেও কাজ করে এবং সিগন্যাল পায়, যা স্থানান্তরিত হয়ে বা সংকেত পেয়ে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আপনার হাতে যদি সেন্সরসহ একটি স্মার্ট ওয়াচ থাকে, তাহলে আপনি আপনার অপর হাত সেন্সরটির খুব কাছে নিয়ে আসুন এবং আপনার আঙুল আবর্তিত করুন বা মোচড় দিন (আক আঙুল দিয়ে অন্য আঙুল পাক দেয়া, যেভাবে টাকা গোনা হয়) ওই স্মার্টওয়াচে থাকা অ্যাপস অথবা নোটিফিকেশন স্ক্রল বা পাকানোর জন্য (উপর নিচ, নিচে উপরে)। অর্থ্যাৎ আপনার হাতের আঙুলের ইশারাই স্মার্টওয়াচের অ্যাপস ও নোটিফিকেশন পরিচালিত হবে এবং পরিবর্তিত হবে। এজন্য আপনাকে ওই স্মার্টওয়াচকে স্পর্শও করতে হবে না। শুধু সেন্সরটির কাছে হাত নিয়ে এসে ইশারা করলেই কাজ করবে। এধরণের প্রযুক্তি অনেক স্থানেই ব্যবহৃত হতে পারে যেমন, গাড়ি, স্পিকার এবং বিশেষ করে এমন অবস্থায় যেখানে এধরণের প্রাকৃতিক মিথস্ক্রিয়া উপকৃত হবে। প্রজেক্ট সোলি প্রযুক্তি সম্পর্কে আরও জানার জন্য এখানে একটি ভিডিও লিংক দেয়া হলো:

 

 

গুগল আই-ওহ-তে যেসকল বিস্ময়কর প্রযুক্তির প্রদর্শনী করা হয় সেই বিস্ময়কর প্রযুক্তির জগতে এগুলো খুব সামান্যই। এবছরের বার্ষিক সম্মেলনে আমাদেরকে ধারণা দিয়েছে, কিভাবে নিকট ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নতুন রূপ ধারণ করছে এবং আরও একবার প্রমান করলো প্রযুক্তির জগতে বা বিশ্বে গুগল নতুন নতুন আইডিয়া এবং সৃজনশীলতা দিয়ে একেবারে পুরোপুরি নেতৃত্ব দিচ্ছে। এখানে আরও একটি ভিডিও লিংক দেয়া হলো:

 

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments