পোষা প্রাণী ও জীবজন্তু

আপনার পোষা প্রাণীর জন্য নতুন মালিক নির্বাচন করতে কী করবেন?

সাধারণত, যাদের পোষা প্রাণী আছে তারা বিড়াল বা কুকুরকে তাঁদের পরিবারেরই অংশ মনে করে, কিন্তু জীবনের অন্যান্য বিষয়ের মতো, পরিস্থিতির কারণে এই সব পোষা প্রাণীদেরও আবাসস্থল পরিবর্তন করতে হয়। অর্থনৈতিক কারণে হোক, পোষা প্রাণীর আচরণের কারণে হোক, অথবা স্থান পরিবর্তনের কারণে হোক, মাঝে মধ্যে তাদের ভালোর জন্যই আবাসস্থল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অনেকগুলো ধাপ পার করতে হবে। এ সকল ধাপের মধ্যে রয়েছে – পোষা প্রাণীকে প্রস্তুত করা, নতুন জায়গা খোঁজা, এবং স্থান পরিবর্তন করা। কুকুর বা বিড়াল পোষেন এমন যে কোন লোক বলবেন যে, পোষা প্রাণীদের জন্য নতুন থাকার জায়গা খুঁজে বের করা সহজ কাজ নয়। জেনে নিন সহজেই অনলাইনে পছন্দের পোষা প্রাণী কেনার উপায়!

Group of puppy dogs

এই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রাণীটিকে প্রস্তুত করা দরকার। ডিম্বাশয় ফেলে দেওয়া (spaying) ও খোজা করা (neutering), এরকম কিছু কাজ যদি আগে করা না হয়ে থাকে তবে তা করে নিতে হবে। প্রাণীটির ভালো মানের ছবি তুলে রাখতে হবে। পোষা প্রাণীটিকে যদি নিয়মিত পশু ডাক্তার দেখানো হয়ে থাকে তবে তার সকল নথিপত্র নতুন মালিককে দিতে হবে বা পোষা প্রাণীটির পশু ডাক্তারের যোগাযোগের ঠিকানা দিতে হবে। মেডিকেল রেকর্ড ছাড়াও, একজন মালিক তার প্রাণীটির বিশদ বিবরণ প্রদান করবেন। কেবল শারীরিক বর্ণনা নয় বরং এর ব্যক্তিত্বের বর্ণনাও উল্লেখ থাকতে হবে। প্রত্যেকটি প্রাণীই একে অপরের থেকে আলাদা, এবং নতুন মালিকেকে সকল পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত থাকা উচিৎ। সবশেষে, মালিক তাঁর পোষা প্রাণীটির জন্য যে নতুন আবাসস্থল খুঁজছেন তা সকলকে জানাতে হবে। এটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ই-মেইল বা সবাইকে মুখে মুখে জানিয়েও করা যেতে পারে। ভালো আবাসস্থল পেতে আপনার প্রাণীটি বিনামূল্যে না দিয়ে বিক্রির তালিকায় রাখুন। এতে মানুষ অমানবিক কোনো কাজের জন্য আপনার প্রাণীটিকে নেবে না। আবাসস্থল পরিবর্তন প্রক্রিয়া শেষ হলে বিক্রিত প্রাণীর জীবন বিপন্ন হবার সম্ভাবনা কম থাকে। দেখে নিন বাংলাদেশে পোষা-প্রাণী কেনাবেচা সম্পর্কে।

Baby Rabbit

এ সকল ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরে, বাড়ী পছন্দ করা হবে কুকুর, বিড়াল, খরগোশ বা হাঁস-মুরগির জন্য নতুন আবাসস্থল খোঁজার মুখ্য বিষয়। খরগোশ ও হাঁস-মুরগি বেশিরভাগ সময় খাবার জন্য বিক্রি হয়, কিন্তু তাদের যদি পোষার জন্য নেওয়া হয়, তবে নিশ্চিত করুন যে নতুন মালিক এই বিষয়গুলোর ব্যাপারে অবগত আছেন এবং একমত। যেকোন পোষা প্রাণীর জন্য নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, যদি পোষা প্রাণীর মালিক জানেন যে তার প্রাণীটি শিশুদের পছন্দ করে না তবে তাকে তিন বাচ্চার ঘরে না দেওয়াই ভালো, অথবা কেউ যদি দেখেন যে, কোন বিড়াল অন্যান্য প্রাণীদের সাথে থাকতে পারছে না, সেক্ষেত্রে, অনেক রকম প্রাণী রয়েছে এরকম বাড়িও তার জন্য উপযুক্ত নয়। যিনি পোষার জন্য প্রাণী খুঁজছেন তিনি যাতে প্রাণীদের ভালোভাবে বোঝেন সে বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। এক্ষেত্রে তাঁকে কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে লালন পালনের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। শুধু পোষা প্রাণীরই নয়, তাঁর নতুন মালিকের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যদি মালিক অল্প কয়েক দিনেই হাপিয়ে যান ও প্রাণীটির আর যত্ন নিতে না পারেন, তবে নতুন বাড়ীটি তার জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল নয়। সবকিছু বলার পরও, নতুন মালিকের সাথে এমন চুক্তি স্বাক্ষর করুন যেখানে উল্লেখ থাকবে যে, যদি সবকিছু ঠিকঠাক না চলে তবে তিনি পোষা প্রাণীটি ফিরিয়ে দেবেন। তাঁকে কিছু সাধারণ প্রশ্ন করুন, যেমন- কেনো তিনি প্রাণী পুষতে আগ্রহী হলেন, তিনি কোথায় থাকেন, এবং বাড়ীতে এর আগে অন্য কোন প্রাণী পুষেছেন কিনা, ইত্যাদি। নতুন মালিকের কাছে রেফারেন্স চাইবেন, বিশেষ করে, রেফারেন্স হিসেবে পশু ডাক্তার হলে ভালো হয়। পিতামাতা যে রকম বেবিসিটারের কাছে রেফারেন্স জানতে চায়, তেমনি পোষা প্রানীর মালিকও তার লোমশ প্রাণীটির জন্য সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ আবাসস্থল চাইবেন। দেখে নিন ছোট লোমশ প্রাণীকে পোষা প্রাণী হিসেবে রাখার টিপস!

বিক্রি করা পোষা প্রাণীর বাসস্থান পরিবর্তনের শেষ ভাগে রয়েছে স্থানান্তর। পোষা প্রাণীর তার মালিকের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেলে এই পরিবর্তন হতে হবে ঝামেলাহীন। প্রথমে প্রাণীটি দেখার ব্যবস্থা করুন। তাড়াহুড়া না থাকলে, দুই-এক দিন ঘন্টা দু’য়েকের জন্য তাকে একা থাকতে দিন। এতে করে পোষা প্রাণীটি তৎক্ষণাৎ নিজেকে পরিত্যাক্ত মনে করবে না। উপরন্তু, মালিকের আবেগপ্রবণ বা মন খারাপ করলে চলবে না, কারণ প্রাণীকুল এই ধরনের প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে খুবই সংবেদনশীল। মালিক যদি স্বাভাবিক থাকেন তবে প্রাণীটিও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে খাবার পরিবর্তন করলে অনেক প্রাণীরই হজমে সমস্যা হতে পারে। পোষা প্রাণীটি কী খায় আর কী না খায় সে সম্পর্কে নতুন মালিক যেন অবগত থাকেন সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। পোষা প্রাণীর সাথে তার পরিচিত জিনিসপত্র, যেমন- খেলনা ও বিছানা দিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। পরিবর্তনের সময়টুকু পার হলে, পোষা প্রাণী হস্তান্তরের পর আপনি তার খোঁজখবর করতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে নতুন মালিককে অবশ্যই জিজ্ঞেস করবেন। হস্তান্তরের পরপরই পোষা প্রাণীটিকে দেখতে যাওয়া ঠিক হবে না, কারণ এতে প্রাণীটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরতে পারে, কিন্তু তার অগ্রগতি জানার জন্য ফোন করতে পারেন। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে একজন বয়স্ক মালিক মাঝে মধ্যে টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে ছবিও চাইতে পারেন।

যদিও এটা অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত তবুও প্রত্যেক মালিকই চান তার পোষা প্রাণীটি আদর-যত্নে থাকুক। যখন কেউ সেটা করতে পারবে না, তখন পোষা প্রাণীটির ভালোর কথা চিন্তা করতে হবে। সকল পোষা প্রাণীর মালিকেরই প্রাণীর যত্ন, থাকার জায়গার ব্যবস্থা, এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। যখন তা আর সম্ভব হবে না, তখন এর জন্য নতুন আবাসস্থল খুঁজে বের করলে তা পোষা প্রাণীটির জীবনে ভালো কিছু সময় উপহার দিতে পারে। কেউ তার পোষা প্রাণীটিকে নতুন আবাসস্থলে স্থানান্তরিত করতে চাইলে, প্রাণীটিকে প্রস্তুত করা, নতুন ঘর পছন্দ করা, এবং যতটা সম্ভব ঝামেলাহীনভাবে তার স্থানান্তর করা অত্যন্ত জরুরী। এটা শুধু মালিকের জন্যই ভালো হবে না, বরং সেই প্রাণীটির জন্যও ভালো হবে, যার কোন ধারনাই নেই, কেন সেই মানুষটি এখন আর তার যত্ন করছে না, যেই মানুষটিকে সে চিনত এবং যার ডাকে নিয়মিত সাড়া দিতো।

সহজেই আপনার পোষা প্রাণীটি বিক্রি করুন বাংলাদেশের সবচেয়ে মার্কেটপ্লেস bikroy.com – এ।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

Arifin Hussain

Passionate online marketer and tech blogger. Currently working at Bikroy.com as Online Marketing Specialist.

অনুরূপ লেখা গুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close