ফ্রিজ কেনার আগে কি কি জানা দরকার

Share

গত দশক জুড়ে রেফ্রিজারেটরে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, এবং কার্যকর আর স্টাইলিস্ট গৃহস্থালির তৈজসপত্রের মধ্যে এগুলো অন্যতম হিসেবে পরিণত হয়েছে। এগুলো এখন অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, খুব দ্রুত ঠাণ্ডা হয়, এবং অতীতের যেকোনো সময় থেকে অনেক বেশি সময় ঠাণ্ডা থাকে। আর বিদ্যুৎ না থাকলেও এগুলোতে খাবার দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে।

যাহোক, নতুন বা ব্যবহৃত যাই হোক না কেনো, বিক্রির জন্য রেফ্রিজারেটরের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিকল্প রয়েছে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কোনটি সবচেয়ে ভালো হবে, তা নির্বাচন করা কঠিন হতে পারে, তাই এই নির্দেশিকাটি আপনাকে বিভিন্ন ধরণের বৈশিষ্ট্যগুলো বুঝতে সহায়তা করবে এবং আপনাকে একটি জ্ঞাত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

১. আপনাকে প্রথমেই যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা হলো, আপনি ফ্রিজটি কোথায় রাখবেন। এর কারণ হলো, আপনার যেই জায়গা রয়েছে তার উপর ভিত্তি করেই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আপনি কোন আকারের ফ্রিজ কিনবেন। তাই, একটি পরিমাপক টেপ (মেজারিং টেপ) নিয়ে ঐ জায়গাটির উচ্চতা, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ মাপুন, এবং আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, ফ্রিজের দরজা খোলার জন্য আপনার জায়গার দরকার হবে। বায়ু চলাচলের সুবিধার্থে সকল পার্শ্বে কয়েক সেন্টিমিটার খোলা জায়গা থাকা প্রয়োজন – এর মাধ্যমে ফ্রিজটি অতিরিক্ত উত্তপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। যখন আপনি দোকানে যাবেন, তখন আপনি বিক্রেতাকে আপনার প্রয়োজনীয় আকারের কথা বলতে পারবেন, এবং এর মাধ্যমে তাঁরা আপনার পছন্দকে অল্প সংখ্যার মধ্যে কমিয়ে আনতে পারবেন, যা আপনার জন্য সহজতর হবে।

২. দ্বিতীয় যে বিষয়টি আপনাকে বিবেচনা করতে হবে তা হলো, কীভাবে ফ্রিজের দরজাটি খুললে আপনার সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে। এটি নির্ভর করবে আপনি আপনার রান্নাঘরের কোথায় ফ্রিজটি রাখবেন তার উপর, কিন্তু ফ্রিজ কিনতে যাওয়ার পূর্বেই আপনাকে তা জানতে হবে যেন আপনার ক্রয়কৃত ফ্রিজের দরজা সঠিকভাবে খোলা যায়। কিছু কিছু ফ্রিজের দরজা পরেও লাগানো যায়। এই ক্ষেত্রে, আপনাকে সরবরাহ করার পূর্বে সার্ভিসে যুক্ত লোকটি আপনার পছন্দমতো ফ্রিজের দরজাটি লাগিয়ে দিতে পারবেন।

৩. ফ্রিজ অনেক আকার, আকৃতি এবং রঙের রয়েছে। সবচেয়ে সাধারণ ডিজাইনের ফ্রিজগুলো হলো:
এক দরজা – সাধারণত এক দরজাবিশিষ্ট ফ্রিজ হলো বাজারের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। যদিও একটি ভালো তাপমাত্রা ধরে রাখার জন্য এটি বেশ ভালো, তবে এর ফ্রিজারটি সাধারণত ছোট হয়, এবং যেহেতু সমগ্র ফ্রিজে কেবলমাত্র একটিই দরজা থাকে, তাই খাবারকে জমাটবদ্ধ রাখা কঠিন হয়ে পরে।
দুই দরজা – একটি ফ্রিজের দুটি দরজার অর্থ হলো, ফ্রিজারটির জন্য আলাদা দরজা রয়েছে, এবং তাই এটি এর নিজস্ব তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারে এবং খাবার জমাটবদ্ধ রাখতে পারে। ফ্রিজারটি ফ্রিজের উপরে বা নিচে থাকতে পারে। যদি আপনার প্রতিদিন ফ্রিজারটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা না থাকে, তবে আপনাকে এমন ফ্রিজ পছন্দ করা উচিত যার ফ্রিজারটি নিচের দিকে রয়েছে, কারণ এর মাধ্যমে আপনি শরীর না বাঁকিয়েই সহজে ফ্রিজটির বাকি অংশ ব্যবহার করতে পারবেন। তবে, আপনার যদি প্রতিদিন ফ্রিজারটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকে, তবে ফ্রিজারটি উপরের দিকে থাকলেই সবচেয়ে সুবিধা হবে।
পাশাপাশি – এর মানে হলো ফ্রিজটির দুটি দরজা থাকবে, যেগুলো ফ্রিজের মাঝ থেকে খোলা যাবে। এক পার্শ্বে থাকবে ফ্রিজার, এবং অন্য পার্শ্বে থাকবে ফ্রিজের নিয়মিত অংশ। এটি অনেক বেশি সুবিধাজনক হতে পারে, কারণ দরজার আকার ফ্রিজের আকারের অর্ধেক হবে, এবং এগুলো খোলার জন্য খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হবে না। এর উভয় কামরাই সহজে ব্যবহার করা যায়।

৪. একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রিজ হলো সবেচেয়ে ভালো ফ্রিজ। কারণ, যখন সব জায়গা নিয়ে নেয়া হয়, তখন তাপমাত্রার খুব বেশি তারতম্য হয় না, এবং তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য ফ্রিজটিকে খুব বেশি কাজ করতে হয় না। এর মাধ্যমে আপনার বিদ্যুৎ ব্যয়ও কম হয়।

৫. যদি আপনি একটি ব্যবহৃত ফ্রিজ কেনারও পরিকল্পনা করে থাকেন, তবুও আপনাকে উপরে বর্ণিত ধাপগুলো অনুসরণ করার প্রয়োজন রয়েছে। তবে, কোনো ব্যবহৃত ফ্রিজ কেনার পূর্বে আপনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা প্রয়োজন: ১০ বছরের অধিক মেয়াদের কোনো ফ্রিজ বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে এবং আপনার খাবার ঠাণ্ডা রাখতে খুব বেশি কার্যকর হবে না। এর কারণ হলো, প্রযুক্তি অনেক বেশি এগিয়ে গেছে, এবং বর্তমানে প্রস্তুত ফ্রিজগুলো এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই চলতে সক্ষম এবং অন্তরিত করার কৌশল অনেক বেশি উন্নত।

কোনো ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটর কেনার জন্য চেকলিস্ট:
• নিশ্চিত হোন যে এটি সঠিকভাবে কাজ করছে। যদি দোকানের মধ্যে এটি পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব না হয়, তবে এটি বাসায় নেয়ার সাথে সাথে এবং এটি ব্যবহার করার পূর্বেই তা পরীক্ষা করে দেখুন। এটি চালু করুন এবং তা যথেষ্ট পরিমাণ ঠাণ্ডা হয় কী না তা দেখতে দরজা বন্ধ রেখে প্রায় দুই ঘণ্টা একটানা চালু রাখুন। যদি এটি খুব একটা বেশি ঠাণ্ডা না হয়, তবে বুঝতে হবে যে এটি ঠিকঠাক মতো কাজ করছে না, এবং আপনার উচিত হবে ফেরত দেয়া।
• নিশ্চিত হোন যে দরজার গ্যাসকেটটি দৃঢ়ভাবে বন্ধ হয়। দরজা এবং ফ্রিজের মাঝখানে একটি কাগজের টুকরো রাখুন। যদি আপনি সহজেই দরজাটি খুলতে পারেন, তবে এটি সম্ভবত যথেষ্ট ভালোভাবে বন্ধ হবে না। তখন তাঁদেরকে গ্যাসকেটগুলো পরিবর্তন করে দেয়ার জন্য বলুন, এবং দরজার কব্জাগুলো পরীক্ষা করে দেখুন, কারণ এগুলো হয়তো সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে।
• ফ্রিজটি খুলুন এবং সবোগুলো অংশ ঠিকঠাক মতো রয়েছে কী না তা দেখুন। তাক এবং ড্রয়ারের মতো জিনিসগুলো সেখানে ভালো অবস্থায় থাকা উচিত। লাইট এবং তাপমাত্রার নবগুলো ভালো অবস্থায় রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করুন।

৬. আপনার রেফ্রিজারেটরটি পরিচ্ছন্ন রাখুন। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে ফ্রিজের সকল খাবার স্বাস্থ্যকর থাকবে, এবং এটি সকল খাবার ভালো অবস্থায় রাখতে ও তা সঠিকভাবে চলতে সহায়তা করবে। আপনার ফ্রিজ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কিছু পরামর্শ:
• আপনার ফ্রিজ পরিষ্কার করার জন্য কোনো শক্ত জিনিস ব্যবহার করবেন না। ফ্রিজ পরিষ্কার করার জন্য সবধরনের কাজে ব্যবহৃত হয় এমন সাবানই যথেষ্ট। কঠিন দাগে কিছুটা সোডিয়াম বাই-কার্বনেট ব্যবহার করলেই এটি পুনরায় সাদা হয়ে যাবে।
• ড্রয়ার এবং তাকগুলো বের করে ভালো করে ধুয়ে নিন।
• যদি দরজার গ্যাসকেটের চারপাশে কালো রঙের ছত্রাক জন্মায়, তবে আপনি অল্প পরিমাণ ক্ষয়কারক তরল নিয়ে গ্যাসকেটটিকে মুছে ফেলতে পারেন। দুইশ পঞ্চাশ এমএল পানিতে প্রায় ৫০ এমএল ক্ষয়কারক তরল প্রয়োজন হয়। ফ্রিজের অন্য অংশে এই ক্ষয়কারক তরল ব্যবহার করবেন না, কারণ এর ফলে প্লাস্টিক হলুদ বর্ণের হয়ে যেতে পারে।
• কিছুদিন পর পর আপনি লক্ষ্য করবেন যে, ফ্রিজের বাইরের দিকে খাবার জমা হয়, বিশেষ করে ফ্রিজের হাতলে। তাই, নিয়মিতভাবে ফ্রিজের বাইরের অংশ পরিষ্কার করাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
• যদি ফ্রিজ থেকে আপনি কোনো উৎকট গন্ধ পান, তবে সোডিয়াম বাই-কার্বনেট এবং পানির মিশ্রণ ব্যবহার করে ফ্রিজটিকে পরিষ্কার করুন। এক লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম সোডিয়াম বাই-কার্বনেট প্রয়োজন হয়।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments