ব্ল্যাকবেরী ফোন কেনার পেছনে যুক্তিসংগত কারন

Share

ব্ল্যাকবেরী ফোন দীর্ঘদিন ধরেই কর্পোরেট ব্যাংকার এবং প্রতিরক্ষার সাথে জড়িত কর্মকর্তারা ব্যবহার করে আসছেন। ব্ল্যাকবেরী  ফোন এটার স্টাইলিশ লুকের চেয়েও টপ-নচ সিকিউরিটি প্রটোকলের জন্য সব চেয়ে সেরা যা একে অ্যাপেল আইফোন থেকে ভিন্নতা দিয়েছে। আর এই কার্যকারিতার জন্য ব্ল্যাকবেরী  এখন পর্যন্ত আন্যান্য কোম্পানীর কাছে ঈর্ষনীয়, তাস্বত্তেও পপ কালচারের এই সময়ে ব্ল্যাকবেরী  মেগা- সাইজ এবং নতুন নতুন অ্যাপস সম্বলিত ফোনের বাজারে চলমান নতুন মডেলের ফোনের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন সেট-আপ নিয়ে আসার চেষ্টা করছে।  সাম্প্রতিক সময়ে ব্ল্যাকবেরি প্রতিদ্বন্দিদের উদ্ভাবিত চকচকে উজ্জল ফেবলেটের এই যুগে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য অনেক সংগাম করেছে।  যেমন স্ট্যাটাস সিম্বল হিসেবে যারা ফোন ব্যাবহার করে তাদের কাছে স্যামসাং এর গ্যালাক্সি নোট এর একটি আবেদন রয়েছে। প্রায় শুরু থেকেই ব্ল্যাকবেরীতে ব্লু-টুথ এবং ওয়াফাই এ কাজ করার সুবিধার কারনে যে সুনাম অর্জন করেছে সে কারনে এখনো এটিকে কর্পোরেট ওয়ার্কহর্স হিসেবে দেখা হয়।  তারপরও এটি ব্যাংকার ছাড়াও অন্যান্যদের কাছে  আকর্ষনীয় করতে এটিতে আরো বিভিন্ন ধরনের ফিচার সংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় স্ক্রিন, সোস্যাল অ্যাপস এবং বিনা মূল্যে এসএমএস সেবা।

এখনো ব্ল্যাকবেরী ফোন কেনার পেছনে কি কোনো কারন আছে?:
আপনি যদি আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তরে কাজ করেন, তবে ব্ল্যাকবেরী কেনাটা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরী এটার মজবুত সলিড সিকিউরিটি প্রটোকলের জন্য।  ২০১৪ সালের শুরুর দিকে প্রতিরক্ষা দপ্তর ঘোষণা করেছে তারা তাদের একটি নেটওয়ার্কের  ৯৮ শতাংশ ডিভাইসের জন্য ব্ল্যাকবেরী ব্যবহার করবে  কেননা অন্য কোন ফোন ব্ল্যাকবেরীর মতো পেন্টাগনের সিকিউরিটি প্রটোকল দিতে ব্যর্থ। এই কারনে ব্ল্যাকবেরী ব্্র্যান্ডটি অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েছে, এর ব্র্যান্ড, দাম এবং বিক্রির ক্ষেত্র্ওে।  যাই হোক, বেশির ভাগ ব্যবহারকারী  যারা তাদের ফোনে অনেক ডক্যুমেন্ট নিয়ে চিন্তিত নয়, তাদের ক্ষেত্রে কি হয়? যেমন হয়তো তার ফোনে এমন জরুরী তথ্য আছে যেগুলো ফাঁস হয়ে গেলে রাষ্ট্র অনেক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।  তারা ব্ল্যাক বেরী ফোন দিয়ে কি করবে যেই সেবা তারা স্যামসাং কিংবা অ্যাপেল আইফোনে থেকেও নিতে পােে না? এতে প্রমাণিত হয় যে বাজারে এখনো আকর্ষন করার মতো আসংখ্য অ্যাপস রয়েছে।
ব্ল্যাকবেরী ফোন পছন্দ করার পেছনে আন্যান্য কারন:
ব্ল্যাকবেরী ফোন ব্যবহারকারীরা যাদের হাতে ব্ল্যাকবেরী পার্ল সেটটি রয়েছে তারা এটার প্রতি এতটাই আকৃষ্ট থাকে যে নতুন কোনো মডেলের ফোন কেনার কথা চিন্তাই করে না।  এই কারনে ব্যবহৃত ব্ল্যাকবেরী ফোনের একটা চাহিদা থাকায় এটা বাজার থেকে প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে।  ব্ল্যাকবেরী পার্ল  যদিও এখন আর বাজারে নেই কিন্তু এই ফোনের ভক্তদের কাছে এই সেটের অনুরূপ কোনো ফোন এখনো আসেনি যা এই ফোন কে অন্যন্য করেছে।  স্ক্রল  হুইল বা ফিংগার সুইপের বদলে এই ফোনে স্বচ্ছ ট্র্যাকবল আছে যা ভার্টিক্যালি এবং হরাইজন্টালি ব্যবহারের মাধ্যমে নেভিগেট করা যায়। কিছু মডেল এমনকি এলইডি পার্ল কল, ই-মেইল কিংবা টেক্সট মেসেজের ভিত্তিতে বিভিন্ন রং এর আলো জ্বলে।  এই  ধরনের অনবদ্য ফিচারের কারনে বিভিন্ন ধরনের ব্ল্যাক বেরী মডেলের সেটের প্রতি ব্যবহারকারীরা আকৃষ্ট হয়ে পড়ে, যতক্ষন না নতুন মডেরের সেটে বাজার ছেঁয়ে যায়।  এখানে নতুন মডেলের ব্ল্যাকবেরি সেটের নতুন নতুন সৃজনমীল ফিচারগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হল যেগুলো সামনে যারা ব্ল্যাকবেরী ব্যবহার করবে তাদেরকে নিশ্চিতভাবেই আকৃষ্ট করবে।
ইন্ডিকেটর লাইট:
পার্ল মডেলটির মতো নতুন কিছু মডেলে একটি ইন্ডিকেটর লাইট আছে।  এটি ট্র্যাকবল নয়, যা পার্র্ল মডেলটিতে আছে। এটা শুধু মাত্র একটি ইন্ডিকেটর লাইট যা ইন্টারনেট কানেকশন পেতে এবং বিভিন্ন ধরনের ম্যসেজ আসলে বিভিন্ন রঙে জ্বলে উঠে।   এটা হয়তো খুব সাধারন একটি ফিচার মনে হতে পারে অন্য ফোনের তুলনায়, কিন্তু ব্ল্যাক বেরীর এমন অনেক ভক্ত আছেন যারা শুধুমাত্র এই ফিচারটির জন্যে ব্ল্যাকবেরী ফোনটি কিনতে চান।  ব্ল্যাক বেরী কার্ভ এবং কিউটেন মডেলের ফোন দুটোতেই এই ইন্ডিকেটর লাইট রয়েছে।
ফিজিক্যাল কী-বোর্ড – অ্যাপল আই ফোন এবং স্যামসাং ফোনের বড় স্ক্রীন রয়েছে, যে কারনে স্মার্টফোনের স্ক্রিনের প্রতিটি ইঞ্চিই ব্যাবহার করা হয়।  এই ফোনগুলোর কোনটাতেই ফিজিক্যাল কী-বোর্ডের জন্য কোন জায়গা নেই এবং ভার্চুয়াল কী-বোর্ডের জন্য টাচ-প্যাডের উপর নির্ভর করতে হয়।  কিন্তু আপনি এখনো একটি ব্ল্যাকবেরী সেটে ফিজিক্যাল কী-বোর্ড পাবেন। এ কারনেই আনেকে ব্ল্যাকবেরী ফোন পছন্দ করে। কেননা, এটার কারনে টাইপ করার সময় তাদের স্ক্রীনের ভেতরে সুইচ আগাতে বা পেছাতে হয় না। ব্ল্যাকবেরীতে দ্রুত বার্তা পাঠাতে প্রেডিকটিভ টেক্সট সিেিস্টমও কাজ করে, এমনকি যখন ফিজিক্যাল কুয়্যারটি কী-বোর্ডে কাজ করা হয় তখনও এই সুবিধা প্ওায়া যায়।
এক্টিভ ফ্রেম:
এই ফিচারের মাধ্যমেই ব্ল্যাকবেরী ব্যবহারকারীরা কেন্দ্র এবং আন্যান্য ম্যাসেজের মাঝে ফ্লিপ করতে পারে এবং একই সময়ে দুটি ফরমেই দেখা যায়। স্ক্রীনে একই সময়ে একটা কাজে আটকে থাকার বদলে ব্ল্যাকবেরী সেটে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা একসাথে অনেক কাজ করার সুযোগ পাবেন।
ব্ল্যাবকবেরী  ম্যাসেন্জার:
ব্ল্যাকবেরী ম্যাসেন্জার যা বিবিএম নামেও পরিচিত, এটি বিশ্ব-মানের সিকিউরিটি প্রটোকল দিয়ে থাকে যা এই ব্র্যান্ডকে বিখ্যাত করেছে। এই ম্যাসেজ এ্যাপ্লিকেশনটি ব্ল্যাকবেরী ব্যবহারকারীদের মাঝে বিনামূল্যে ম্যাসেজ আদান-প্রদান সুবিধা দিয়েছে। যদি ম্যাসেজটি বিসিভার কর্তৃক রিসিভ হয়ে থাকে তবে ম্যাসেজের পরেএকটি “আর” লিখা উঠবে।  ব্ল্যাকবেরী ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিনামূল্যে ম্যাসেজ আদান-প্রদান সুবিধাটি এই ব্র্যান্ডের বিশ্বস্ততাকেও তুলে ধরে। সব মিলিয়ে সারা বিশ্বে ৮ কোটি ৫০ লাখ বিবিএম ব্যবহারকারী আছেন।
ইমেজ শিফটিং- এমনকি ছবি তোলার সময় কোন ব্যাক্তির চোখ বন্ধ থাকলেও তার আগে বা পরে ধারন করে ঠিকই সঠিক ছবিটি উপহার দেয়। এক সেকেন্ড আগে বা পরে ছবি ধারন করার কারনে হয়তো আপনি সঠিক ছবিটিই পাবেন। কিছু ব্ল্যাকবেরী সেট যেমন, কিউ টেন এ নতুন ইমেজ শিফটিং ফিচারটি থাকার কারনে আপনি স্ক্রল করে কয়েক সেকেন্ড আগে বা পরে সঠিক শটটি নিতে পারবেন। যদিও সঠিকভাবে ফেস ডিটেক্ট করতে ব্ল্যাকবেরীতে ছয় সেকেন্ড সময় লাগে, কিন্তু এই পুরো ছয় সেকেন্ড ই ফোনে রেকর্ড হয়ে থাকে যা থেকে ব্যবহারকরী স্ক্রল করে নিখূত ছবিঠি বেছে নিতে পারে।
ডকস টু গো:কাজ পাগল মানুষের জন্য ব্ল্যাকবেরীতে ডকস টু গো নেটিভ অ্যাপস আছে যেখানে তারা ট্রেন যাত্রায় বা কাজে যাওয়ার পথে শেষবারের মতো পাওয়ার পয়েন্টে নজর বুলিয়েও নিতে পারবেন।  এটাতে এমসকি আপনাকে লাইসেন্স কেনা ছাড়াও এক্সেল কিংবা ওয়ার্ড ফাইল দেখার ও সুবিধা আছে। আপনি এডিটও করতে পারবেন এমনকি একবার প্রিন্টারের সাথে কানেক্ট করে নিলেই প্রিন্টও করতে পারবেন।
বড় স্ক্রীন এবং ষ্টাইলিশও বটে:
যদিও ব্ল্যাকবেরী জেড থ্রি’এর স্ক্রীন এর আকার ৫ ইঞ্চি এবং যেখানে স্যামসাং গ্যালাক্সি মেগা ফোনেই ৬ ইঞ্চি স্ক্রীন থাকে। তারপরও এটা এখনো মোটামুটিভাবে অনেক বড় পর্দা। ব্ল্যাকবেরী বাজারে তার প্রতিদ্বন্দিরা বিক্রি বাড়ানোর জন্য যেসব ফিচার ব্যবহার করছে সেগুলো সম্পর্কে অবগত এবং সেগুলো অনুকরণ করার চেষ্টা করছে এবং ইতিমধ্যে এমন অনেক নির্ভরযোগ্য ফিচার এ ফোনের অনুরাগীদের জন্য সেট করা হয়েছে।   আপনি হয়তো কখনো মসৃন, চকচকে চেহারার ব্ল্যাকবেরী দেখবেন না, যতদিন পর্যন্ত এটার ফিজিক্যাল কী-বোর্ড থাকবে। কিন্তু তারা অন্যান্য টাচ সিরিজের ফোনের মতো কোন টাচপ্যাড যোগ করার চিন্তা-ভাবনা করছে না। যেহেতু ব্ল্যাকবেরী আন্যান্য ব্যবসা সফল কোম্পানী যেমন অ্যাপল, স্যামসাং কোম্পানীর সাথে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাবে, তাই তারা তাদের ওএস এ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস’এ  আরো সহজভাবে ব্যবহারযোগ্য করার জন্য চেষ্টাও করছে।  যদিও ব্ল্যাকবেরী সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তারপরও তারা তাদের নতুন মডেলেন ফোনগুলোতে  নিজস্ব কিছু পুরানো ফিচার যেমন ট্র্যাকবল অথবা ফিজিক্যাল কী-বোর্ড  রাখবে। যেখানে নতুন মডেলেন এই ফোনগুলোতে  ক্যামেরার কার্যকারীতা, সোস্যাল হাব, কিংবা বর্তমান সামাজিক যোগাযোগকারীদের কাছে আকর্ষনীয় যেকোনো  কিছু রয়েছে। চলতি ফ্যাসনে ব্ল্যাকবেরী কোম্পানী তাদের বাজার এর ব্যবহারকারীদের সামনে  আরো প্রসারিত করার আশা করছে এবং  তাদের বর্তমানে যে গ্রাহক রয়েছে তাদের প্রতিও আগের মতোই নির্ভযোগ্য থাকবে।
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments