বাংলাদেশে আপনার নিজের একটি বিপনীকেন্দ্র চালু করতে হলে

Share

অনেকের কাছেই বাংলাদেশে একটি বিপনীকেন্দ্র চালু করা এমন একটি স্বপ্ন যা তারা সারা জীবনের ধরে দেখে এসেছেন। একজন ব্যক্তির কাছে একটি বিপনীকেন্দ্র তার পরিবার চালানো এবং তাদেরকে উন্নততর একটি জীবনযাত্রা উপহার দেয়ার একটি উপায় হতে পারে। যাহোক, বাংলাদেশে আইনসম্মতভাবে একটি বিপনীকেন্দ্র চালু করার আগে একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই কিছু ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। এ ব্যাপারে যা কিছু করার দরকার হবে এই নিবন্ধটি তার সবকিছুই আপনার কাছে ব্যাখ্যা করবে, যাতে করে আপনি বাংলাদেশের ব্যবসা সংক্রান্ত বিধিমালা পুরোপুরি মেনে চলতে পারেন।

১. কোম্পানীর জন্য একটি নাম ঠিক করুন
সম্পাদনের সময়কাল: এক কর্মদিবসের কম (অনলাইনে)
খরচ: ৬০০ টাকা
আপনার কোম্পানীর জন্য আপনি যে নাম পছন্দ করেছেন তা অন্য কেউ পছন্দ করে নিয়েছে কি-না আপনি তা দেখে নিতে পারবেন। ২০০৩ সালে এই পদ্ধতিটির কম্পিউটারায়ন হয়েছে। আপনি যখন দেখবেন যে আপনি যেই নাম পছন্দ করেছেন তা নিবন্ধনের জন্য উপলভ্য রয়েছে তখনই আপনি রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ এন্ড ফার্মস (আরজেএসসি)’র ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ‘নামজারি’র জন্য আবেদন করবেন। আপনি যে কোনো সময় অনলাইনে আপনার আবেদনটির আগ্রগতি জানতে পারবেন। আপনার আবেদনটি গৃহীত হলো না-কি বাতিল হলো, তা জানতে সাধারণত: এক কর্মদিবসের বেশি সময় লাগবে না। আপনার আবেদনটি যদি গৃহীত হয় তবে আপনি কোম্পানীর জন্য যে নাম পছন্দ করেছেন তা ছয় মাস সময়কালের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে। আপনাকে অবশ্যই নামজারির প্রত্যায়নপত্রটি প্রিন্ট করিয়ে নিতে হবে এবং কোম্পানী নিবন্ধনের জন্য দরকারী অন্যান্য সব কাগজপত্রের সাথে একত্রে গেঁথে দিতে হবে। আপনাকে এগুলো অবশ্যই আরজেএসসি-তে জমা দিতে হবে।

২. নির্ধারিত ব্যাংকে যান এবং স্ট্যাম্পের দাম পরিশোধ করুন।
সম্পাদনের সময়কাল: এক দিন
খরচ: ২,৫০০ টাকা
ব্রাক ব্যাংকের ট্রেজারি শাখায় গিয়ে আপনি স্ট্যাম্পের দাম পরিশোধ করবেন। ১,০০০,০০০ টাকা পর্যন্ত অনুমোদিত যৌথ মূলধনের জন্য স্ট্যাম্পের দাম দিতে হবে ২,৫০০০ বাংলাদেশি টাকা। এর মধ্যে আছে মেমোরেণ্ডাম অব এসোসিয়েশন স্ট্যাম্পের জন্য ৫০০ টাকা এবং আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশন যুক্ত করার জন্য ২,০০০ টাকা।

৩ রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ এন্ড ফার্মের দপ্তরে আপনার রেজিস্ট্রেশনটি জমা দিন।
সম্পাদনের সময়কাল: এক দিন
খরচ: রেজিস্ট্রেশন নথিভুক্ত করার জন্য ১,২০০ টাকা + রেজিস্ট্রেশন ফিস ৩,৬৪৫ টাকা
আপনার পক্ষে একটি কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন করতে হলে আপনাকে এই কাগজপত্রগুলি রেজিস্ট্রারের দপ্তরে জমা দিতে হবে:
-আর্টিকেলস এন্ড মেমোরেণ্ডাম অব এসোসিয়েশন
-ট্রেজারি স্ট্যাম্পের মূল্য পরিশোধের প্রমাণপত্র। নির্ধারিত ব্যাংকের রসিদটিই হতে পারে এই প্রামাণপত্র।
-নামজারির প্রত্যায়নপত্র।
-ফরম নং ১২ (ব্যবস্থাপনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপকগণ এবং পরিচালকবৃন্দের বিস্তারিত তথ্য); ফরম নং ১০ (পরিচালবৃন্দের স্বীকৃতিপত্র); ফরম নং ৬ (নিবন্ধন দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি); এবং ফরম নং ১ (কোম্পানী নিবন্ধনের ঘোষণা)

৪. একটি ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর সংগ্রহ করা
সম্পাদনের সময়কাল: চার দিন
খরচ: কোনো খরচ নেই
আপনি আনুষ্ঠানিকভাবে আপনার বিপনীকেন্দ্র চালু করার আগে ও ব্যবসা শুরু করার পূর্বে যথাযথ কর কর্তৃপক্ষের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড – এনআরবি-এর অধীন ডেপুটি কর কমিশন, কোম্পানী সার্কেল, আঞ্চলিক কর বিভাগ) নিকট আপনার কর পরিশোধের জন্য নিবন্ধন করিয়ে নিতে হবে এবং আপনি একটি ইউনিক ট্যাক্স আইডি নাম্বার পাবেন।

৫. কোম্পানীর একটি সীলমোহর বানিয়ে নিন
সম্পাদনের সময়কাল: এক দিন
খরচ: ৫০ টাকা

৬. ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করুন
সম্পাদনের সময়কাল: তিন দিন
খরচ: ৫,০০০ টাকা
নর্থ জোন ও সাউথ জোন বিশিষ্ট এই সিটি করপোরেশনের নিকট থেকে আপনার বিপনীকেন্দ্রের জন্য একটি ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণের দরকার হবে। আপনাকে আপনার নিকটতম সিটি করপোরেশনের কাছে আপনার আবেদনটি জমা দিতে হবে।
ট্রেড লাইসেন্সের জন্য জমা দেয়া আবেদনপত্রটির সাথে আপনাকে নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলোও অবশ্যই দিতে হবে:
-নিবন্ধিত অফিসটি লীজ গ্রহণের চুক্তিপত্রের অনুলিপি,
-আপনার ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারের প্রত্যয়নপত্র,
-আপনার কোম্পানী নিবন্ধনের অনুলিপি,
-আর্টিকেলস এন্ড মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশনের একটি সত্যায়িত অনুলিপি।
৭. ভ্যাট এর জন্য নিবন্ধন করুন
সম্পাদনের সময়কাল: তিন দিন (৪ নং ধাপের মত এটাও একই সঙ্গে করিয়ে নেয়া যায়)
খরচ: কোনো খরচ নেই
ভ্যাটের জন্য আপনাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ভ্যাট, আবগরী ও শুল্ক কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে। কোনো বিপনীকেন্দ্রের ভ্যাট নিয়ন্ত্রিত হয় সংশ্লিষ্ট এলাকার ভ্যাট, আবগরী ও শুল্ক বিভাগের অধীনে।

আপনি এই সমস্ত কাগজপত্র নথিভুক্ত করিয়ে নেয়ার পর এবং আপনি বাংলাদেশে আইনসম্মতভাবে একটি বিপনীকেন্দ্র চালু করার জন্য প্রস্তুত হওয়ার পরও আপনাকে আরও কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি আসলে ঠিক কোন স্থানটিতে আপনার বিপনীকেন্দ্রটি চালু করতে যাচ্ছেন? আপনার বিপনীকেন্দ্রের স্থানসংকুলান হওয়ার মত কতখানি জায়গার ব্যবস্থা আপনি করতে পারবেন সেদিকে নজর দিতে হবে। আপনি কি চান আপনার বিপনীকেন্দ্র কোনো আবাসিক এলাকায় হোক যার আশেপাশে ভাড়া নেয়ার মত অনেক ঘরবাড়ী, ফ্ল্যাট, কক্ষসহ এপার্টমেন্ট রয়েছে? আপনি যখন বাণিজ্যিক দিকগুলো বিবেচনা করবেন তখন মনে রাখবেন, আপনার বিপনীকেন্দ্রের অবস্থানটি ব্যবসার সাফল্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কথায়, আপনি এমন জায়গায় আপনার ব্যবসা চালাতে চাইবেন যেখানে অনেক ঘরবাড়ী অথবা অন্যধরনের সব থাকার জায়গা রয়েছে যেসব জায়গার আশেপাশে লোকজন বসবাস করে। এর দ্বারা আপনার বিপনীকেন্দ্রের চারপাশে সবসময় বিপুল সংখ্যায় পায়ে হেঁটে চলা লোকজনের উপস্থিতি নিশ্চিত হবে।

শুধুমাত্র দামে কম এই কারণেই কোনো সম্পত্তি কেনা থেকে বিরত থাকুন। কম দামে জিনিস বিক্রির পিছনে যথেষ্ট সংগত কারণ থাকে। আপনি যখন আপনার বিপনীবিতানের জন্য খুঁজবেন তখন সতর্ক থাকুন। আগের মালিক যদি আপনাকে এমন দামে দিতে চায় যা বাস্তবিকপক্ষে বেশ কম বলে মনে হয়, তবে আপনার উচিত হবে আরও কিছু জায়গা খোঁজ করা। বিপনী মালিকরা সম্পত্তি ক্রয় করার পর হয়তো দেখবেন যে বিদ্যুৎ অথবা জলব্যবস্থার কোথাও কোনো ত্রুটি রয়েছে। এমনকি আপনাকে মিথ্যে বলা হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে যদিও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার উপায় আপনার থাকে, তবুও সবচে ভাল হলো সে ধরনের বিড়ম্বনা এড়িয়ে চলা।

একটি বিপনীকেন্দ্র ক্রয় করা হবে আপনার জীবনে করা সবচে সেরা বিনিয়োগ। এ কারণে, আপনার উচিত হবে খোঁজখবর নেয়ার জন্য কিছু সময় নেয়া এবং ভবিষ্যতে ব্যবসায় উন্নতির জন্য একটা আদর্শ স্থান পাওয়া নিশ্চিত করা। উদাহরণস্বরূপ, আশেপাশে যদি নির্মানাধীন দালানকোঠা থাকে তবে আপনি শীঘ্রই এ এলাকায় অনেক বেশি ক্রেতা পাবেন।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments