নতুন স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ফোর (Samsung Galaxy Note 4) রিভিউ

Share

অবশেষে সারা বিশ্বে মুক্তি পেল স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ফোর (Samsung Galaxy Note 4) । স্যামসাং, তার বাঁকানো স্ক্রিনের নোট এজ (Note Edge)-এর সাথে নোট ফোর বাজারে এনেছে। স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ফোরে দারুণ কিছু নতুন ফিচার রয়েছে, যেমন, শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৮০৫ (Snapdragon 805)প্রসেসর, 2K স্ক্রিন, এস পেন (S pen), উন্নত ক্যামেরা এবং আরও অনেক কিছু।

ডিসপ্লে

গ্যালাক্সি নোট ফোরে রয়েছে 2K ডিসপ্লে সম্বলিত উজ্জ্বল নতুন স্ক্রিন। যেখানে স্ক্রিনের আকার সেই ৫.৭ ইঞ্চিতে অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, অথচ এর রেজ্যুলেশন হয়েছে ২৫৬০×১৪৪০,অর্থাৎ প্রতি ইঞ্চিতে ৫১৫ পিক্সেল। স্ক্রিন রেজ্যুলেশনে স্যামসাং তার অনেক প্রতিদ্বন্দ্বীকেই পেছনে ফেলে দিয়েছে। এর সুপার অ্যামোলেড (Super AMOLED) ডিসপ্লের কারনে এর ফলাফল অসাধারণ।

আপনার যদি এর রং অনেক বেশী উজ্জ্বল মনে হয়, তবে আপনি যে কোনো সময় ডিসপ্লে সেটিংস পরিবর্তন করে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে পারেন। স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ফোরের পরিবর্তনশীল ডিসপ্লে প্রযুক্তি (Adaptive Display technology) গ্যালাক্সি ট্যাব এস (Galaxy Tab S)-এ দেখা গেছে। এই ফিচারটি আলোর উজ্জ্বলতা ও উষ্ণতা অনুযায়ী রঙের পরিবর্তন করে। যা সরাসরি সূর্যের আলোতে দেখতে সহায়তা করে।

নকশা

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ফোর এদের নকশায় বহু প্রতীক্ষিত উন্নতি করেছে। অনেক লম্বা বিরতির পর, আমরা ফক্স-লেদার ব্যাক (faux-leather back) পেলাম, যা নোট থ্রি এর চাইতে ভালো গ্রিপ দেবে। এর কেসিংটিও নোট থ্রি-র চাইতে সহজে বহনযোগ্য। একটি ধাতব ব্যান্ড দিয়ে ডিভাইসের পাশ মুড়ে দেওয়া, যা একে মজবুত এবং অভিজাত চেহারা দিয়েছে, যা অনেক দিন থেকেই স্যামসাং-এ ছিল না।

এর পেছনের কাভার খুললে আপনি দেখতে পাবেন একটি ৩২২০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার (3220mAh) ব্যাটারি এবং একটি মাইক্রো এস ডি কার্ড স্লট। এতে গালাক্সি এস ফাইভের মতো একটি হোম বাটন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার এবং হার্ট-রেট মনিটর রয়েছে।

প্রসেসিং পাওয়ার

কোয়ালকমের (Qualcomm’s) ২.৭ গিগাহার্জ কোয়াড-কোর স্ন্যাপড্রাগন ৮০৫ (Snapdragon 805) প্রসেসর চালিত, নোট ফোর (Note 4) সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে। এতে ৩ জিবি র‍্যাম (RAM) রয়েছে। এর উন্নত প্রসেসিং স্পীড নোট ফোর (Note 4)-কে এর আগের ডিভাইসগুলোর থেকে আরও কর্মক্ষম করে তুলেছে। উন্নত ডিসপ্লে থাকার পরও এর দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ রয়েছে।

এসব উন্নতির ফলে নোট ফোরে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই সকল কমান্ড টাস্ক, ফাংশন এবং সিস্টেম প্রসেস চালানো যাবে।

ক্যামেরা

নোট ফোর (Note 4), নোটথ্রি (Note 3)-এর ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার পরিবর্তে নিয়ে এসেছে ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, যাতে রয়েছে অপটিক্যাল ইমেজ স্টেবিলাইজেশন ফিচার। আমরা ইতোমধ্যেই এস ফাইভ (S5)-এ ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দেখেছি। এটা যে কোনো বস্তুকে খুব দ্রুত ফোকাস করতে পারে এবং স্পষ্ট ঝকঝকে ছবি তোলে। প্রতিকূল অবস্থায়ও এটি বেশ ভালো ফলাফল দেয়।

সামনের ক্যামেরা অনেক বেশী অ্যাঙ্গেলে ছবি তুলতে সক্ষম, যার ফলে আপনি সহজেই অনেক বন্ধুবান্ধবকে একসাথে নিয়ে সেলফি তুলতে পারবেন। ভালো ফলাফলের জন্য ৩.৭ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাটির রয়েছে এফ/১.৯ (f/1.9) অ্যাপার্চার। এর ছবির মান খুব বেশী ভালো নয়, তবে অধিকাংশ অত্যাধুনিক স্মার্টফোনেই এই ফিচারটি নেই।

উন্নত এস পেন (S-Pen)

নোট ফোর (Note 4) তার ট্রেডমার্ক এস পেনস্টাইলাস (S-Penstylus) বেশ কিছু সংযোজন ব্যাতীত নকশা একই রকম রেখেছে। এর প্রেসার সেন্সিটিভিটি ২০৪৮ ডিপিএস, যা নোট থ্রি (Note 3)-এর সেন্সিটিভিটির দ্বিগুণ। এর ফলাফলও দুর্দান্ত। এটা ভার্চুয়ালি অনেকটা এস পেন দিয়ে কাগজের উপর লেখার মতো যেখানে এস পেনের বাঁক ও কোণ লেখার লাইনের উপর প্রভাব ফেলে। হেলানো কোণ, চাপ এবং বেগের সমন্বয়ে স্বাভাবিক লেখা এস পেনের উন্নতির ছাপ বহন করে।

এটা আপনাকে একসাথে অনেকগুলো ছবি নির্বাচন করতে দেবে এবং ফাংশন বাটন চেপে ধরে ডিভাইস টেনে নেয়ার মাধ্যমে টেক্সট হাইলাইট করার সুবিধা দেবে। এর মাধ্যমে আপনি পূর্বের অ্যান্ডরয়েড ফোনের চাইতে বেশ সহজে টেক্সট নির্বাচন করতে পারবেন।

নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য এস পেনের ব্যবহার আয়ত্তে আনতে কিছু সময় লাগবে, কিন্তু যারা এস থ্রি-তে এটি ব্যবহার করেছেন তাঁরা সহজেই তা আয়ত্তে আনতে পারবেন। মনে হচ্ছে, অবশেষে স্যামসাং বিভিন্ন ফাংশন সংযোজনের মাধ্যমে তার এস পেনটিকে কাজের একটি জিনিসে রুপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে।

সফটওয়্যার

নোটটি অ্যান্ডরয়েড ৪.৪ কিটক্যাট অপারেটিং সিস্টেমে চলবে, যা এখন পর্যন্ত রিলিজ হওয়া সর্বশেষ ভার্সন। এতে স্যামসাংয়ের টাচউইজ (TouchWiz) ইউজার ইন্টারফেস রয়েছে। যা সহজে ন্যাভিগেশন করতে সাহায্য করবে, কিন্তু আপানি যদি আগের স্যামসাং ডিভাইস থেকে আপগ্রেড করে থাকেন, তবে আপনার কাছে ইউজার ইন্টারফেস (UI) টি দেখতে ও ব্যবহার করতে একই মনে হবে। এতে স্যামসাংয়ের অনেক অতিরিক্ত সুবিধা থাকবে।

৫.৭ ইঞ্চি ওয়াইড স্ক্রিনের কারণে মাল্টি-টাস্কিং অনেকটা সহজ হয়েছে। এতে মাল্টি উইন্ডো রয়েছে, যার মাধ্যমে আপনি আলাদা আলাদা উইন্ডো খুলে একসাথে একাধিক কাজ করতে পারবেন। তবু, কিছু কিছু অ্যাপ, এই ফিচারটি সমর্থন করে না, তাই সেগুলোকে মাল্টি উইন্ডোতে ব্যবহার করতে সেগুলোর হালনাগাদ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এই মাল্টি উইন্ডো ফিচারটি বেশ কাজের যা এলজি জি থ্রি (LG G3) সহ অনেক নতুন অ্যান্ডরয়েড ডিভাইসে দেখা যায়। এই ফিচারটির অনেক ব্যবহার রয়েছে। যেমন ধরুন, আপনি, কী করে ভালো ছবি তুলতে হয় তা পড়তে পড়তে ছবি তুলতে পারবেন, ওয়েব ব্রাউজারে ফ্লাইটের খোঁজ নেওয়ার সময় ক্যালেন্ডার খুলে রাখতে পারবেন।

এটা দিয়ে আপনি টেক্সট, নোট বা কোনো লেখার ছবিকে ডিজিটাল ফরম্যাটে পরিবর্তিত করতে পারবেন, যা অনলাইনে এডিট করতে পারবেন।

নোট ফোর (Note 4)-এ আপনি এস হেলথ সফটওয়্যার প্যাক পাবেন যা এস ফাইভ (S5)-এ ছিল। যদিও আপনার সুস্থতার জন্য এটি একটি ভালো পদক্ষেপ তবুও এতে বেশ কিছু পরিবর্ধন প্রয়োজন, যা হয়তো আমরা সামনের সিরিজগুলোতে পাবো।

নতুন ভয়েস রেকর্ডিং অ্যাপে নয়েজ ক্যান্সেলেশন প্রযুক্তি রয়েছে, যাতে তিনটি মাইক্রোফোনে ব্যবহার হয়। এটি শোরগোলপূর্ণ পরিবেশে সফলভাবে ভয়েস রেকর্ডিং আলাদা করতে পারে, যা ভালো মানের রেকর্ডিং দিয়ে থাকে।

ব্যাটারি

স্যামসাংযের এই ফোনটিতে ৩২২০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার (3220mAh) লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি রয়েছে। এটি চার্জ তাড়াতাড়ি হয়, যা ৩০ মিনিটে ৫০ ভাগ ব্যাটারি চার্জ করতে পারে। স্যামসাং-এর দাবি অনুযায়ী এটির স্ট্যান্ডার্ড ইউস ব্যাটারি লাইফ ২০ ঘণ্টা।

পরিসমাপ্তি

সার্বিকভাবে, নোট ফোর (Note 4) একটি অসাধারণ ফোন ডিভাইস যাতে চমৎকার কিছু ফিচার রয়েছে। এর স্পষ্ট ও উজ্জ্বল স্ক্রিন রয়েছে। এতে রয়েছে একটি উন্নত ক্যামেরা, শক্তিশালী এস পেন এবং উন্নত ডিজাইন। এসব কারনে আপনি নোট ফোর (Note 4) বেছে নিতে পারেন যা তার প্রধান প্রতিযোগী অ্যাপেল আইফোন (Apple iPhone)-এর সাথে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments