ওয়াটারপ্রুফ কমপ্যাক্ট ক্যামেরা কেনার পূর্বে যা যা বিবেচনা করতে হবে

Share

প্রযুক্তি ও তথ্য শেয়ারিংয়ের এই যুগে সব জায়গায় বহন করা যায় ও নির্ভরযোগ্য একটি ক্যামেরা থাকলে খুবই ভালো। অবশ্য, আপনি ঘানার জিনিসপত্র থেকে পার পেয়ে যাবেন না, তাই ক্যামেরাটি মজবুত এবং যেকোনো কিছুর মোকাবেলা করতে পারে এমন হওয়া দরকার। বৃষ্টি, ধুলাবালি, বা কাদা, এসবে ক্যামেরার কোনো ক্ষতি হবে না। সৌভাগ্যবশত, বাজারে এমন অনেক ক্যামেরা রয়েছে যা এই ধরনের প্রতিকূল অবস্থায় কাজ করতে পারে। আপনি যদি যেকোনো স্থানে ছবি তুলতে চান এবং তা সারা পৃথিবীর সাথে শেয়ার করতে চান, তবে নিচে সেরা ওয়াটারপ্রুফ ক্যামেরার তালিকা থেকে একটি কিনতে পারেন।

রিকো ডব্লিউজি-৪ জিপিএস (Ricoh WG-4 GPS)

আপনি যদি সেরা ওয়াটারপ্রুফ ডিজিটাল ক্যামেরা কিনতে চান, তবে এটাই হবে আপনার প্রথম পছন্দ। এটি অনেক মজবুত, কিন্তু পাশাপাশি এর রয়েছে সুন্দর ডিজাইন, যা দেখতে খুবই সুন্দর। সব ওয়াটারপ্রুফ ক্যামেরার মধ্যে এর বডি সবচেয়ে মজবুত, এবং তা অ্যালুমিনিয়াম ও শক্ত প্লাস্টিকে তৈরি। এটি দিয় খুব ভালো ছবি তোলা যায়, যার রেজ্যুলেশন ১৬.৭৯ মেগাপিক্সেল এবং এতে ইমেজ স্টেবিলাইজেশনও রয়েছে। তাছাড়াও, আপনি এটি নিরাপদে ৪৫ ফুট পানির নীচে নিয়ে যেতে পারবেন। আপনি যদি গভীর সমুদ্রের তলদেশে না যান তবে ভয়ের কিছু নেই। আমরা কি বলেছি যে এতে জিপিএস আছে? এটি আপনার ছবি তোলার স্থান আপনার ছবিতে এমবেড করে দেয়, তাই আপনি সবসময় জানতে পারবেন আপনি কোথায় আছেন। এক কথায় এটি একটি অসাধারণ ক্যামেরা।

প্যানাসনিক লুমিক্স (Panasonic Lumix)

আরেকটি অসাধারণ ওয়াটারপ্রুফ ক্যামেরা, যা আপনি কিনতে চাইবেন, সেটি হচ্ছে প্যানাসনিক লুমিক্স। এর রিভিউ স্কোর রিকো ক্যামেরার মতো, এবং এটি একটি পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের ক্যামেরা। এটি পানির নীচে ৩৯ ফুট পর্যন্ত কাজ করে, এবং এর রেজ্যুলেশন ১২.১ মেগাপিক্সেল। এর ডিজাইন আধুনিক ও পাতলা এবং এতে একটি সুবিধাজনক মুভি বাটন রয়েছে যা দিয়ে সহজেই ভিডিও ধারণ করা যায়। এতে বিল্ট ইন জিপিএস আছে, কিন্তু অনেকেই বলেছেন এর জিপিএস চালু করলে তা দ্রুত ব্যাটারি শেষ করে ফেলে। এই ক্যামেরার একটি সুবিধা হচ্ছে এতে ১০ টি বিভিন্ন শুটিং মোড রয়েছে, যার ফলে যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনি পারফেক্ট ছবি তুলতে পারবেন। এটি অসাধারণ একটি ক্যামেরা যা যে কেউ কিনতে চাইবে।

নিকন কুলপিক্স এডব্লিউ১১০ (Nikon Coolpix AW110)

কুলপিক্স ক্যামেরা বাজারের জনপ্রিয় ক্যামেরাগুলোর একটি, এবং এর ওয়াটারপ্রুফ সংস্করণও তার ব্যতিক্রম নয়। ক্যামেরাটি ঠাণ্ডা সহ যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করতে পারে এবং এটি ৫৯ ফুট পানির গভীরেও কাজ করে, যা সত্যিই অসাধারণ। আপনি নিশ্চিন্তে সমুদ্রে ডাইভিংয়ে যেতে পারেন এবং সমুদ্রের তলদেশের ছবি তুলতে পারেন। কুলপিক্সের ছবির রেজ্যুলেশন ১৬ মেগাপিক্সেল, যা এই ধরনের ক্যামেরায় খুব বেশী নেই। ক্যামেরাটিতে বিল্ট-ইন ওয়াই-ফাই রয়েছে, যাতে আপনি যেকোনো সময় যেকোনো ডিভাইসের সাথে সংযোগ স্থাপন করে ছবি স্থানান্তর করতে পারবেন। ক্যামেরাটি সম্পর্কে একটি সাধারণ অভিযোগ হচ্ছে এটি পানিতে ভাসে না। যদিও এটি ওয়াটারপ্রুফ তবু এটি গভীর বা কর্দমাক্ত পানিতে পড়ে গেলে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাই এটি হারাতে না চাইলে সাবধানে রাখতে হবে।

সনি সাইবার-শট ডিএসসি- টিএক্স৩০ (Sony Cyber-Shot DSC-TX30)

উচ্চ মানসম্পন্ন ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য তৈরিতে সনির সুনাম রয়েছে, সনি সাইবার-শটও এর ব্যতিক্রম নয়। এটি পানির ৩৩ ফুট গভীরে কাজ করে, যা এই শ্রেণীর অন্যান্য ক্যামেরার মতো বেশী নয়, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা যথেষ্ট। এই ক্যামেরার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে ম্যাক্রো মোড রয়েছে যা অনেকেই পছন্দ করেন। এই মোডে আপনি লক্ষ্যবস্তুর ১ সেন্টিমিটার দূর থেকেও ছবিও তুলতে পারবেন, যা চমৎকার ক্লোজ-আপ ছবি দিয়ে থাকে। এই ক্যামেরার ছবির গুণগত মান চমৎকার, কারণ এতে রয়েছে ১৮.২ মেগাপিক্সেল রেজ্যুলেশন। এর কেসিং মজবুত প্লাস্টিক ও টেকসই ধাতু দিয়ে তৈরি, তাই হাতে নিলে এটি বেশ মজবুত মনে হয়। এর একটিই সমস্যা আর তা হচ্ছে এতে কোনো জিপিএস নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই এটাকে খুব বড় সমস্যা মনে করেন না। সাইবার-শট সহজে পরিবহনযোগ্য ও ব্যবহার করে ভালো লাগার মতো।

অলিম্পাস টিজি ৮৩০ আইএইচএস (Olympus TG 830 iHS)

অলিম্পাস অনেক দিন ধরে ক্যামেরার বাজারে রয়েছে এবং ওয়াটারপ্রুফ ক্যামেরার মধ্যে এদেরটি অন্যতম সেরা। এই ক্যামেরার রেজ্যুলেশন ১৬ মেগাপিক্সেল এবং সাইবার-শটের মতো এটিও পানির ৩৩ ফুট গভীরতায় কাজ করতে পারে। এই ক্যামেরার সেরা ফিচার, এটি ক্রাশ-প্রুফ, তাই এটি ২০০ পাউন্ড পর্যন্ত চাপ সহ্য করতে পারে। এই ক্যামেরায় বিল্ট-ইন জিপিএস আছে, যা অনেক দীর্ঘ পথে আপনার গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারে এবং এতে একটি ছোট হেডলাইট আছে যা বিভিন্ন গুহা এবং অন্যান্য অন্ধকার জায়গায় যেতে সাহায্য করবে। একবার চার্জ দেওয়ার পর এই ক্যামেরা দিয়ে ৩০০ ছবি তুলতে পারবেন এবং বিরতিহীনভাবে ৮০ মিনিট ভিডিও ধারণ করতে পারবেন। বিভিন্ন রিভিউয়ে যেই ছোট সমস্যাটি পাওয়া গেছে তা হচ্ছে এটি পিচ্ছিল পদার্থে তৈরি হওয়ায় তা ধরতে কিছুটা সমস্যা হয়। তবুও, এই শ্রেণীর ক্যামেরার মধ্যে এটি সেরা।

ক্যানন পাওয়ারশট ডি২০ (Canon PowerShot D20)

ক্যামেরা বাজারে ক্যানন সবচেয়ে পরিচিত ব্র্যান্ড এবং আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে যারা বাইরে ঘোরাঘুরি পছন্দ করেন তাঁদের জন্য নিশ্চয়ই এদের কোনো ওয়াটারপ্রুফ ক্যামেরা রয়েছে। ক্যাননের ক্যামেরা রেজ্যুলেশন ১২.১ মেগাপিক্সেল এবং এতে ৫x জুম আছে এবং এটি ৩৩ ফুট পানির নীচ পর্যন্ত কাজ করে। এর মজবুত, ওয়াটারপ্রুফ ডিজাইনের পাশাপাশি এটি হাতে ধরা বেশ সহজ। এর একটি ছোট সমস্যা হচ্ছে এর প্লেব্যাক বাটনটি ফটো বাটনের খুব কাছে, তাই ভুল করে দুই একবার চাপ পড়ে যেতে পারে। আপনি বাইরে ঘোরাঘুরি পছন্দ করলে ক্যাননের ক্যামেরাটি আপনার সাথে থাকলে খুবই ভালো হবে।

আপনি যেমনটি দেখলেন যে, সঠিক ওয়াটারপ্রুফ ক্যামেরা খুঁজে পেতে হলে আপনাকে অনেক খোঁজখবর নিতে হবে। আমরা আশা করি এই ক্যামেরা রিভিউটি আপনার কাজে লাগবে, এবং আপনি আপনার প্রয়োজন অনুসারে সঠিক ক্যামেরাটি কিনতে পারবেন।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments