মিররলেস ক্যামেরা কী এবং কেনো কিনবেন?

Share

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি তোলার মাধ্যমে পরিবার ও বন্ধুবান্ধব, প্রকৃতি বা আপনার সাম্প্রতিক ছুটির দিনগুলোর স্মৃতি ধরে রাখা সম্ভব। এই প্রযুক্তি যেকোনো আলোতে আপনার স্পষ্ট ও ঝকঝকে ছবি দেবে। এর একটি সমাধান হচ্ছে মিররলেস ক্যামেরা। এতে আপনি লেন্স পরিবর্তন করতে পারবেন, এতে কোনো মিরর থাকবে না বা মিরর থাকলেও এর স্থান এমনভাবে পরিবর্তিত হবে যেন তা চারপাশের আলো প্রবেশের পথে বাধা সৃষ্টি না করে। এই প্রযুক্তিতে অধিক পরিমাণ আলো ধারণ করা সম্ভব, কারণ এতে খুব একটা প্রতিফলন হয় না। সব ধরনের ছবি তোলার জন্য আপনাকে আগে বুঝতে হবে কোন ক্যামেরাটি আপনার কেনা উচিৎ।

মিররলেস ক্যামেরা সম্পর্কে ধারণা

মিরর ছাড়া বা পরিবর্তনশীল মিররের ক্যামেরা প্রাথমিকভাবে কিছু সুবিধার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতার জন্য মিররগুলো তৈরি। কিন্তু, এটি সবসময় সুবিধার নয় এবং মাঝেমধ্যে আপনি যে ছবি তুলবেন তার মান ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মিরর না থাকার কারণে ক্যামেরা যেকোনো আলোতে ছবি তুলতে পারে। এতে ব্যবহৃত ডিজিটাল ফরমেটের কারণে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আলোর পরিমাণের পরিবর্তন করতে পারে যা প্রচলিত ক্যামেরার মিররের কাজ করে।

মিরর ব্যতীত ডিজিটাল পদ্ধতির সাথে সাথে ক্যামেরা ফাংশন পরিবর্তিত হয়। মিরর বিহীন এই প্রযুক্তির কারণে এটি হালকা ও বহন করা অনেক সহজ। আপনি সেরা কমপ্যাক্ট ক্যামেরাগুলোতে কোনো মিরর পাবেন না। ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো নয়েজ ছাড়া স্পষ্ট ছবি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বিভিন্ন লেন্স মাউন্ট ব্যবহার ও পরিবর্তন করতে পারবেন, যা আপনাকে একই লক্ষ্যবস্তুর বিভিন্ন ফরমেটে ছবি তোলার সুযোগ করে দেবে।

যেহেতু ডিজিটাল এই পদ্ধতি অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক তাই আপনার ছবি তোলার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। স্বয়ংক্রিয় পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে অনেকগুলোতে ম্যানুয়াল ফোকাস ব্যবহার করতে হয়। আলোকসজ্জা ঠিক না থাকলে ছবির মানে পরিবর্তন হতে পারে। যদিও, তা নির্ভর করে ক্যামেরার অবস্থান ও অ্যাঙ্গেলের ওপর। আজকের প্রযুক্তির কারণে ছবি তোলার ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হয়েছে যা ডিজিটাল ফোকাসের মাধ্যমে অধিক ফোকাস ও আলো প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে।

আপনার জন্য কোন ক্যামেরাটি উপযুক্ত?

বাজারে বিক্রির জন্য যেসব ক্যামেরা পাওয়া যায় সেসব দেখলে, পরিষ্কার ছবি তোলার জন্য অনেক বিকল্প খুঁজে পাবেন। মিররলেস ক্যামেরার জনপ্রিয়তার কারণে অনেক উৎপাদনকারী বিভিন্ন সিস্টেমের মিররলেস ক্যামেরা বাজারে নিয়ে এসেছে। সেরা কমপ্যাক্ট ক্যামেরার মতো আপনি বিভিন্ন ধরণের ক্যামেরা থেকে পছন্দ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে আপনি স্পষ্ট ছবি তুলতে পারবেন এবং এর ব্যবহারও সহজ। আপনার জন্য উপযুক্ত ক্যামেরাটি উপহার দিতে মিররলেস ক্যামেরা তৈরিতে বিশেষায়িত ছোট বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সদা প্রস্তুত।

ক্যামেরা রিভিউ দেখলে আপনি মিররলেস ক্যামেরার নানা ধরণের আপগ্রেড ও ফিচার খুঁজে পাবেন। ফুজিফিল্ম এক্স-টি১ (Fujifilm X-T1) এবং অলিম্পাস ওএম-ডি-ই-এম১ (Olympus OM – D – E – M1) বর্তমানে সেরা দুইটি ক্যামেরা। এতে যে সেন্সর রয়েছে তা স্পষ্ট ছবি তুলতে পারে এবং ম্যানুয়াল ও স্বয়ংক্রিয় ফোকাসের ব্যবস্থা রয়েছে। ফুজিফিল্ম এক্স-টি১ (Fujifilm X-T1) এবং অলিম্পাস ওএম-ডি-ই-এম১ (Olympus OM – D – E – M1) দিয়ে যে ধরণের ফ্রেমের ছবি তোলা সম্ভব তা পেশাদার মানের এবং অনেক অনুসন্ধিৎসু মন এই ব্যাপারে জানতে চায়। প্রচলিত ক্যামেরার মতোই অথচ ভারী মিরর ছাড়া এসব ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের ক্যামেরাগুলো ভালো ফোকাস ও বিভিন্ন আলোতে ছবি তোলার সক্ষমতার কারণে বাজারে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

আপনি কমদামের মধ্যে ক্যামেরা খুঁজলে আপনাকে অন্য ক্যামেরার দিকে নজর দিতে হবে। মিররলেস ক্যামেরার সেরা একটি মডেল হচ্ছে সনি নেক্স-৫টি (Sony NEX – 5T)। যারা রিভিউ লেখেন তাঁদের মতে, কিছুটা পুরনো এই মডেলটির ফিচার, স্পীড, এবং রেজ্যুলেশন পেশাদার ক্যামেরার মতোই। শুধুমাত্র, ছবি ধারণক্ষমতা ও পিক্সেলের পরিমাণে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। আপনার কাঙ্ক্ষিত রেজ্যুলেশন ও ছবি পাওয়ার জন্য বাজেটের মধ্যে প্যানাসনিক জিএফ ৩ (Panasonic GF 3) এবং ক্যানন এম (Canon M)-ই সেরা। এগুলোতে আপনি কম দামে অধিক রেজ্যুলেশনের ছবি পাবেন।

ডিএসএলআর কেমন হবে?

সত্যিকারের ফটোগ্রাফার, যারা ক্যামেরা নিয়ে অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন তাঁরা ডিএসএলআর-এর কথা ভাবতে পারেন। এগুলো মিররলেস ক্যামেরার মতো একই ফলাফল দেয়, কিন্তু এতে প্রচলিত ক্যামেরা থেকে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। আপনার কাজ হচ্ছে সেরা ডিএসএলআর ক্যামেরা খুঁজে বের করা। ডিএসএলআর-এর মানে ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স। এর গঠন প্রচলিত ক্যামেরার মতই। কিন্তু, এতে মিরর ব্যবহার না করে, ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে লেন্স বা মিরর আলো প্রবেশের মূল পথ থেকে সরে যায়। এরপর তা মিরর না সরিয়ে আলোর পথ পরিবর্তন করে দেয়।

সাধারণত, ডিএসএলআর-এর আকার কিছুটা বড় এবং প্রচলিত ক্যামেরার মতো নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তথাপি, ছবি তোলার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি সুবিধাজনক। ইমেজ স্টেবিলিটি, অধিক ফোকাস এবং ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডার ডিএসএলআর-এর সুবিধাগুলোর অন্যতম। আপনি ছবির ভিন্ন ফরমেট পেতে চাইলে ডিএসএলআর ক্যামেরা দেখতে পারেন। এই প্রযুক্তির সেরা ক্যামেরাগুলো হল স্যামসাং এন এক্স (Samsung NX) সিরিজ, সনি এ (Sony A) সিরিজ এবং পেনট্যাক্স কিউ (Pentax Q) সিরিজ। এই মডেলগুলোতে মিরর থাকা সত্ত্বেও ততোটা ভারী নয় এবং ভালো মানের ছবি তুলতে পারে।

আপনার ক্যামেরার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিন

নানা ধরণের মিররলেস প্রযুক্তি এবং ডিএসএলআর, পছন্দের ক্যামেরা বেছে নেওয়ার জন্য ফটোগ্রাফারদের অনেক সুযোগ করে দিয়েছে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কোন ক্যামেরাটি আপনার জন্য উপযুক্ত তা ঠিক করুন। সুযোগসুবিধা, দাম এবং হালকা পাতলা গড়ন এর সবকিছুই পাবেন মিররলেস ক্যামেরায়। এরপর আপনাকে ইমেজ স্টেবিলিটি ও সব ফ্রেমের ছবি তোলার দিকে নজর দিতে হবে। প্রতিটি ছবির মান, পিক্সেলের পরিমাণ, আলো, এবং লেন্সের ব্যবহারের কথাও ভাবতে হবে। প্রতিটি বিষয়ই আপনার পরবর্তী ছবির মানের পরিবর্তন করবে।

নিখুঁত ছবি তোলার একমাত্র সমাধান প্রযুক্তি, যা ছবি তুলতে পারে। ভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে তোলা বন্ধুবান্ধব, পরিবার এবং চারপাশের দৃশ্যের ছবি আরও ভালো হবে। মিররলেস ক্যামেরা এর একটি বিকল্প হতে পারে, বিশেষকরে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা বেশ ভালো মানের ছবি ধারণ করতে পারে। ডিএসএলআর বা প্রচলিত ক্যামেরার প্রযুক্তিগত পার্থক্য বুঝতে পারলে আপনি ভালো মানের ছবির মাধ্যমে আপনার প্রতিটি স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পারবেন।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments