কীভাবে আইফোনের ম্যাসেজিং অ্যাপগুলো ব্যবহার করবেন?

Share

আপনি আইফোন ৩ (iPhone 3) বা আইফোন ৬ প্লাস (iPhone 6 Plus) যাই ব্যবহার করুন না কেনো, কোনো না কোনো এক সময় আপনি আপনার আইফোনটি ইন্টারনেট ব্রাউজ করা বা চোখের সামনে যা পড়ে তার ছবি তোলা ছাড়াও আরও অনেক কাজে ব্যবহার করতে চাইবেন। আপনি আপনার আইফোনটি দিয়ে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবকে ম্যাসেজ পাঠাতে চাইবেন। সৌভাগ্যের বিষয়, অ্যাপেলের নানা ধরনের অগণিত অ্যাপস রয়েছে, বিশেষ করে শুধুমাত্র ম্যাসেজিংয়ের জন্য আলাদা অ্যাপস পাবেন। আপনার আইফোনে ডাউনলোড করার মতো ম্যাসেজিং অ্যাপস সম্পর্কে আপনার যা জানা প্রয়োজন তা নীচে দেয়া হল।

অ্যাপেল আইফোনের জনপ্রিয় অ্যাপসগুলোর অন্যতম হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), কেননা এটি বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের স্ট্যান্ডার্ড এস এম এস অ্যাপস থেকে আলাদা। বিশেষকরে, এটি একটি পরিপূর্ণ অ্যাপ যা আইফোনের সকল ম্যাসেজিং ফিচারগুলো ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া, হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) এমন একটি অ্যাপ যা আপনি আপনার পছন্দ মতো পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। এর ব্যবহারও অনেক সহজ, কারণ ব্যবহারকারীরা তাঁদের মোবাইল নাম্বার দিয়ে এই পরিষেবার সাথে সংযুক্ত হতে পারেন। সত্যিই তাই, ম্যাসেজিং অ্যাপটি মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করে বরং ওয়েব ব্যবহার করে থাকে। আসলে, আপনি যদি ওয়াই ফাই ব্যবহার করে থাকেন, তবে আন্তর্জাতিক মেসেজিংযের ক্ষেত্রে কোনো খরচ নেই, যা বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী মানুষের একে অপরের সাথে চ্যাট করার জন্য আদর্শ। প্রথম বছর হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ব্যবহারে কোনো খরচ নেই কিন্তু এর পরবর্তী প্রতি বছরের জন্য থেকে খরচ $০.৯৯।
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আরেকটি দারুণ অ্যাপ হচ্ছে স্কাইপ (Skype)। যদিও এই অ্যাপটি সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক পরিচিত ভিডিও কলিং পরিষেবার জন্য, কিন্তু বর্তমানে এটি মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য সব ধরনের ম্যাসেজিং এবং কলিং সুবিধা দিচ্ছে। স্কাইপ (Skype) সম্পূর্ণরূপে গ্রুপ ম্যাসেজিং সুবিধা দেয়, তাই যারা একই সময়ে একাধিক মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে চান তাঁদের জন্য এটি আদর্শ। গ্রুপ ম্যাসেজিং ছাড়াও স্কাইপে ম্যাসেজিংয়ের সময় মিডিয়া ফাইল এবং ভিডিও ম্যাসেজ পাঠাতে পারবেন। এই ম্যাসেজিং অ্যাপটি সম্পূর্ণ ফ্রি যদিও আপনাকে একটি ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। আপনার যদি ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড না থাকে তবে আপনার কোনো মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট থাকলে তা দিয়ে এই অ্যাপটিতে অ্যাক্সেস করতে পারবেন।

আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাইটগুলো ব্যবহার করলে নিশ্চয়ই ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করেছেন। এই অ্যাপটি অল্প সময়ে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, কারণ প্রায় সকলেই এটি ব্যবহার করে। কেননা, এখনকার সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কে না ব্যবহার করে। শুধুমাত্র একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থাকলেই আপনি আপনার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও আপনার সহকর্মীদের সাথে চ্যাট করতে পারবেন। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার দিয়ে আপনি ভয়েস ম্যাসেজ, ছবি, স্মাইলি, এবং স্টিকার পাঠাতে পারবেন। কিন্তু, এই অ্যাপে কোনো চ্যাট হেড থাকে না। আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড বদলে আইফোন কেনেন, তবে দেখবেন যে এতে কোনো চ্যাট হেড নেই।
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য কিক (Kik) আরেকটি চমৎকার অ্যাপ যা সম্পূর্ণ ফ্রি, তাই এতে আপনার বাজেটের কোনো ব্যপার নেই। বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের প্রায় ৮০ মিলিয়নেরও অধিক ব্যবহারকারী কিক (Kik) ব্যবহার করেন, তাই এটি থাকা জরুরী। এটি প্রায়ই হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp)-এর সাথে তুলনা করা হয়, কারণ আপনি এর মাধ্যমে ছবি পাঠাতে পারবেন, গ্রুপ চ্যাট করতে পারবেন এবং ইউটিউব ইউআরএল (YouTube URL) খুঁজতে পারবেন। কিকের যেই জিনিসটি ব্যবহারকারীরা পছন্দ করেন তা হচ্ছে এটি একাধারে প্রাইভেট এবং পাবলিক উভয়ই। কারও সাথে যোগাযোগ করতে আপনাকে আপনার মোবাইল নাম্বার বা ই-মেইল অ্যাড্রেস দিতে হবে না। বরং, আপনার যা লাগবে তা হচ্ছে একটি ইউজার নেম, যা আপনি সাইন আপ করার সময় ঠিক করবেন।

এরপর রয়েছে স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat)। এটি আরেকটি ফ্রি অ্যাপ যা প্রায় সকল অপারেটিং সিস্টেমের ম্যাসেজিং অ্যাপ হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু, আপনি যদি আইফোন বিক্রি করে উইন্ডোজ ফোন ব্যবহারের করেন তবে আপনি এই অ্যাপে অ্যাক্সেস করতে পারবেন না। যারা এর আগে স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat)-এর নাম শোনেননি তাঁদের জন্য, এটি এমন একটি অ্যাপ যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ছবি পাঠাতে পারবেন, যা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। ছবিগুলো আপনি সরাসরি কেবল এবং কেবলমাত্র যাকে পাঠাতে চাইবেন তাকেই পাঠাতে পারবেন। ঠিক একই রকমভাবে, ছবিগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য থাকে না। সাধারণত, আপনি যখন সেগুলো পাঠাবেন তখন তা প্রাপকের প্রান্তে সর্বোচ্চ দশ সেকেন্ডের মতো থাকবে। একবার ছবি বা ভিডিও দেখার পর নির্দিষ্ট সময় শেষে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অদৃশ্য হয়ে যাবে। মনে রাখা জরুরী, যদিও, স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat)-এ, ব্যবহারকারীরা ছবির স্ক্রিনশট নিয়ে রাখতে পারেন কিন্তু সেটি ঘটলে যিনি ছবিটি পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে সেই তথ্যটি চলে যাবে। এই ম্যাসেজিং অ্যাপেই আপনি ছবি এডিট করতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা ছবিতে টেক্সট জুড়ে দিতে পারবেন, পাশাপাশি ছবির উপর স্কেচও করতে পারবেন।
সবশেষে রয়েছে আই এম + (IM+)। এই অ্যাপটিও উপরে উল্লেখিত অ্যাপগুলোর মতো বিনামূল্যে। কিন্তু, অন্যান্য ম্যাসেজিং অ্যাপের মতো আই এম + (IM+) একাধিক পক্ষের মধ্যে শুধুমাত্র ম্যাসেজিংযের জন্য ব্যবহার হয় না। বরং আই এম + (IM+), ফেসবুক, স্কাইপ, এবং উইন্ডোজ লাইভ ম্যাসেঞ্জারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অসংখ্য অ্যাকাউন্টের সমন্বয় করে থাকে। অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের ডিভাইসের মতো, আই এম + (IM+)-এ জমা রাখা কন্টাক্টগুলো অ্যাকাউন্ট বা নাম অনুসারে সাজাতে পারবেন। এতে সব ধরনের ফিচারই রয়েছে, যেমন থিম এবং টাইপিং নোটিশ ইত্যাদি। ম্যাসেজিং প্রক্রিয়ার পুরো সময় জুড়ে ব্যবহারকারীরা একে অপরকে ছবি ও অডিও পাঠাতে পারবেন। এটি যেভাবে করা হয় তা হল, প্রথমে ছবি বা অডিও আইএম সার্ভারে আপলোড করা হয় এবং পরে এর লিঙ্কটি প্রাপককে পাঠানো হয়। এই প্রক্রিয়াটি অন্যান্য ম্যাসেজিং অ্যাপ থেকে আলাদা, কারণ এতে ফাইলটি সরাসরি পাঠানো হয় না। তাই, যার ডাটা স্পীড কম তাঁর জন্য ছবিটি রিসাইজ করে দেওয়া হয়। আই এম + (IM+) অ্যাপটিতে নেইবরস (neighbors) ফিচারটি আছে, যার মাধ্যমে আপনার স্থানীয় এলাকার মধ্যে থাকা মানুষের সাথে কথা বলতে পারবেন। এই ফাংশনটি আপনাকে আপনার রুচির সাথে মানানসই মানুষ খুঁজে দেবে। এরপর, আপনারা একে অন্যের সাথে চ্যাট করতে ও ম্যাসেজ পাঠাতে পারবেন।
আজকের সমাজে মোবাইল ম্যাসেজিং সামাজিকীকরণের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর কারণ, আমাদের বিশ্ব আজ অনেকটা ডিজিটাল হয়ে পড়েছে। সৌভাগ্যক্রমে, অনেক অ্যাপেল অ্যাপস রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি বিনামূল্যে একে অপরের সাথে চ্যাট করতে পারেন। বস্তুত, এর অধিকাংশ অ্যাপসই শুধু আইফোন নয় বরং সব ধরণের ফোনেই কাজ করে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে আপনি আইফোন ক্রয় বা বিক্রয় করলেও সেগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments