বাসায় অ্যাকুয়ারিয়াম এবং মাছ রাখার জন্য নির্দেশিকা

Share

বাসায় একটি অ্যাকুয়ারিয়াম থাকা মানে হলো মানসিকভাবে অনেক বেশি প্রশান্তি থাকা, এবং কোনো বাসার উপযোগী করে কোনো অ্যাকুয়ারিয়াম তৈরি করা ও তা যথাযথভাবে রাখার ব্যবস্থা করা বেশ চমকপ্রদ।

অ্যাক্রিলিক অ্যাকুয়ারিয়াম এবং অ্যাকুয়ারিয়াম ট্যাংক – অধিকাংশ মানুষের পছন্দের অ্যাকুয়ারিয়াম হলো অ্যাক্রিলিক অ্যাকুয়ারিয়াম।এগুলো আসল কাঁচের অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে শ্রেয়তর, কারণ বাস্তবে অ্যাক্রিলিক কাঁচের তুলনায় সতের গুণ শক্তিশালী। এই অ্যাকুয়ারিয়ামগুলো তৈরিতে যেসকল অ্যাক্রিলিক ব্যবহৃত হয় তার ওজন, সাধারণ কাঁচের তৈরি অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে ৫০% কম হয়, এবং তাই, পুরনো কাঁচের তৈরি অ্যাকুয়ারিয়ামের তুলনায় এই সকল অ্যাক্রিলিক অ্যাকুয়ারিয়ামগুলো নড়াচড়া করা এবং দেখাশুনা করা অনেক বেশি সহজ।

অ্যাকুয়ারিয়ামের সজ্জা – অ্যাকুয়ারিয়ামের সজ্জার কাজে বিভিন্ন ধরণের জিনিস ব্যবহার করা হয়। সজ্জার কাজে ব্যবহার করা এমন কিছু জিনিস হলো অলংকার, কোরাল এবং মিঠা আর লোনা পানির বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ।

অ্যাকুয়ারিয়ামের ছাকুনি বা ফিল্টার – অ্যাকুয়ারিয়ামের কোন ধরণের ছাকুনি ব্যবহার করা হবে তা অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। কিছু অ্যাকুয়ারিয়ামের ছাকুনি কেবলমাত্র লোনা পানির জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়, এবং অন্যগুলো মিঠা পানির অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য ব্যবহার করা হয়। অ্যাকুয়ারিয়ামের এই ছাকুনিগুলো ভিন্ন ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে, কিন্তু এগুলোর কাজ একই এবং তা অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করে।

অ্যাকুয়ারিয়ামের আলোকসজ্জা – যখন কারও অ্যাকুয়ারিয়ামে আলোকসজ্জার প্রয়োজন হয়, তখন এর জন্য অনেক রকম বিকল্প রয়েছে। কিছু অ্যাকুয়ারিয়ামের আলোকসজ্জা অ্যাকুয়ারিয়ামের ঢাকনাতে ব্যবহার করা হয়। এই অবস্থায় যখন তা চালু করা হয়, তখন তা সমগ্র অ্যাকুয়ারিয়ামটিকে মৃদু আলোয় আলোকিত করে। অ্যাকুয়ারিয়ামে যে সকল লাইট ব্যবহার করা হয় সেগুলোর অধিকাংশই এলইডি লাইট এবং সবসময় এই লাইটগুলোকে চালু না রেখে নিয়ন্ত্রিতভাবে চালু রাখার জন্য টাইমার ব্যবহার করা যায়।

অ্যাকুয়ারিয়ামের পাথর – যেকোনো অ্যাকুয়ারিয়ামের সজ্জার ক্ষেত্রে অ্যাকুয়ারিয়ামের পাথর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পাথরগুলো মাছের লুকানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলো যেকোনো প্রদত্ত অ্যাকুয়ারিয়ামে একটি অনন্য পরিবেশ নিশ্চিত করে।

অ্যাকুয়ারিয়াম স্ট্যান্ড – বাজারে হরেক রকমের অ্যাকুয়ারিয়াম স্ট্যান্ড পাওয়া যায়। এগুলো যেকোনো ধরণের কাঠ দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে এবং অ্যাকুয়ারিয়ামের আকৃতির উপর নির্ভর করে এই সকল স্ট্যান্ড নির্বাচন করতে হয়। এক ধরণের স্ট্যান্ড আছে যার উপর অ্যাকুয়ারিয়ামটি সরাসরি রাখা যায় এবং অন্যদিকে ক্যাবিনেট আকৃতির স্ট্যান্ড সম্পূর্ণ অ্যাকুয়ারিয়ামকে চারদিক থেকে বেষ্টন করে রাখে। একটি উন্নতমানের অ্যাকুয়ারিয়াম স্ট্যান্ডের জন্য অ্যাকুয়ারিয়াম স্টোরগুলো হলো আদর্শ জায়গা।

অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য জিনিসপত্র – অ্যাকুয়ারিয়ামের ধরণ যাই হোক না কেন, কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই অ্যাকুয়ারিয়ামটির যত্ন নেয়ার জন্য হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জিনিসপত্র থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিক্রির জন্য মাছ এবং অনলাইনে বিক্রির জন্য মাছ

শিশুদেরকে দায়িত্ব সচেতন করে তোলার জন্য পোষা মাছ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কেহ হয়তো তাদের সন্তানকে প্রথমবারের মতো একটি মাছের অ্যাকুয়ারিয়াম কিনে দিতে পারেন বা তাদের বাসায় বা কর্মস্থলে অ্যাকুয়ারিয়াম রাখার বিষয়টি উপভোগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে, সঠিক অ্যাকুয়ারিয়াম এবং মাছ নির্বাচন অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন জায়গায় অ্যাকুয়ারিয়াম কিনতে পাওয়া যায়, তবে কোনো অ্যাকুয়ারিয়াম কেনার পূর্বে সেখানে কোন ধরণের মাছ রাখা হবে সে সিদ্ধান্ত আগে নিতে হবে। বিক্রির জন্য অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ যেখানে পাওয়া যায় সেখান থেকেই তা কেনা যায়, তবে কেনার পূর্বে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনি কি মিঠা পানির মাছ, না লোনা পানির মাছ না ট্রপিক্যাল মাছ কিনবেন।

মিঠা পানির মাছের প্রকারভেদ

১. গ্রে বিচির (Gray Bichir) – এই শিকারি মাছটি বড় আকারের অ্যাকুয়ারিয়ামে ভালোভাবে বাঁচতে পারে। যখন কোনো ট্যাংকে এই ধরণের শিকারি মাছ থাকে, তখন এই শিকারি মাছের খাবার হিসেবে অপেক্ষাকৃত ছোট এবং সস্তা মাছ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

২. লেমন টেটরা (Lemon Tetra) – এই মাছগুলো দলবদ্ধভাবে বাস করতে পছন্দ করে, তবে ভাসমান উদ্ভিদ না থাকলে এগুলো ট্যাংক থেকে লাফ দিয়ে বাইরে চলে আসতে পারে।

৩. ইলেকট্রিক ইয়োলো চিচাইল্ড (Electric Yellow Cichlid) – এটি এক ধরণের এম্বু-না মাছ এবং অন্যান্য এম্বু-না মাছের তুলনায় এই ইলেক্ট্রিক ইয়োলো চিচাইল্ড মাছটি কম আগ্রাসী। সহজে এদের বাসস্থান তৈরিতে সহায়তা করতে এই ধরণের মাছের জন্য অ্যাকুয়ারিয়ামে বিভিন্ন ধরণের শিলা বা পাথরের গুহা তৈরি করা সর্বোত্তম।

লোনা পানির মাছ

১. ব্লু হেপাটাস ট্যাং (Blue Hepatus Tang) – একই প্রজাতির অন্যান্য মাছের তুলনায় এই মাছ অনেক বেশি স্থানিক। ফাটলে লুকিয়ে থাকার ক্ষেত্রে এদের বেশ সুনাম রয়েছে, এবং এগুলো ট্যাংকে ‘মরার ভান করা’র জন্য বেশ বিখ্যাত।

২. কপারব্যান্ড বাটারফ্লাই (Copperband Butterfly) – এই মাছগুলো ফাটল থেকে শুণ্ড এবং মুখ ব্যবহার করে খাবার তুলে নেয়। এই কপারব্যান্ড বাটারফ্লাই মাছ অন্য প্রজাতির যেমন সফট কোরাল, এনেমনেস এবং ফেদার ডাস্টারস খেয়ে ফেলতে পারে। তাই অ্যাকুয়ারিয়ামে এদের সংখ্যা সীমিত রাখা উচিত।

৩. ফ্লেইম অ্যাঞ্জেল (Flame Angel) – এই মাছগুলো তাহিতি এবং মার্শাল আইল্যান্ডস এলাকায় পাওয়া যায়। এগুলো সর্বভুক এবং এদেরকে ৩০ গ্যালনের ছোট ট্যাংকে রাখা উচিত নয়।

৪. স্ট্রবেরি ডটিব্যাক (Strawberry Dottyback) – এই মাছটি ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় পাওয়া যায়, এবং এরা কিছুটা আগ্রাসী। এগুলোকে শৈলশ্রেণি বিশিষ্ট পরিবেশে রাখা নিরাপদ। এগুলোকে কমপক্ষে ৩০ গ্যালনের ট্যাংকে রাখা উচিত, এবং লুকানোর সুবিধার্থে এদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে।

৫. ক্লাউন ট্রিগার (Clown Trigger) – এই ধরণের মাছকে খুব বেশি আগ্রাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং এগুলো কোরাল সি এবং ক্রিসমাস আইল্যান্ডসে পাওয়া যায়। এগুলো মাংসাশী প্রকৃতির, তাই এগুলো অ্যাকুয়ারিয়ামের ছোট ছোট মাছগুলোকে আক্রমণ করতে পারে। আপনি যদি এই প্রজাতির মাছ কেনেন তবে তা রাখার জন্য কমপক্ষে ১০০ গ্যালনের ট্যাংক ব্যবহার করবেন এবং প্রতি ট্যাংকে একটির বেশি রাখবেন না।

৬. স্কুটার ব্লেনি (Scooter Blenny) – এই মাছটি লোনাপানির নিচের স্তরের মাছ এবং এগুলো লোনাপানির অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখার মতো। এগুলো সাধারণত দলবদ্ধ প্রজাতির, কিন্তু মাংসাশী। যেই ট্যাংকে এই মাছ রাখা হয় সেখানে জীবন্ত শিলা রাখতে হয়, কারণ এদের বেঁচে থাকার জন্য প্রচুর পরিমাণ অণুজীবের প্রয়োজন হয়।

নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments