প্রথমবার ক্যামেরা কিনতে নির্দেশনা

camera
Share

যে কোনো সময় যেকোনো বয়সের লোক ফটোগ্রাফার হয়ে যেতে পারে। প্রায় সবার হাতেই এখন স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট চলে আসায় সবারই এখন ক্যামেরা আছে। যার মাধ্যমে যে কেউ তার প্রত্যাশিত ছবি ইনস্ট্রাগ্রাম বা পিন্টারইষ্টে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিতে পারে।

ক্যামেরা ছাড়া ভালো ছবি তোলার কোন উপায় নেই।  ভালো ছবি তোলার জন্য নতুন ফটোগ্রাফাররাও একই কথা বলবে।
 
আপনার যদি ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহ থাকে তাহলে একটি ভালো ডিজিটাল ক্যামেরা কিনতে পারেন। বর্তমানের টেকনোলজি ক্যামেরা কেনার ক্ষেত্রে যারা নতুন তাদের জন্য  অপার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে । প্রথম ক্যামেরা কেনার জন্য যাবতয়ি তথ্য তারা এখানে পেতে পারে।  সনি  ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে যদি আপনি ভালো ছবি তুলতে চান তাহলে আপনার ক্যামেরার টেকনিক্যাল বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকতে হবে।  এখন বাজারে অনেক ক্যামেরা রয়েছে, কিন্তু এর ভেতর থেকে ভালো ক্যামেরা বাছাই করাটা সত্যিই অনেক জটিল কাজ।  নতুন টেকনোলজি আর নানা অপশনে ভরপুর এই ক্যামেরাগুলো।  সব ক্যামেরার কাজ সমান নয়, এবং এগুলোর ভেতরে রয়েছে নানা প্রকারভেদ। এই নির্দেশাবলী আপনাদের নতুন ক্যামেরা খুঁজতে এবং কোন ক্যামেরা আপনার জন্য উপযোগী তার একটি ধারনা দিবে।
 
প্রথম পদক্ষেপ:
প্রথমে জানতে হবে আপনার আগ্রহ কোন ধরনের ছবিতে। আপনি কি সাধারন ছবি তুলতে চান, যেমন পারিবারিক ছবি,অনুষ্ঠানে আপনার বন্ধুদের সাথে ছবি? আপনি কি প্রকৃতি, সূর্যাস্তের ছবি তুলতে চান? তাহলে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে আপনি কখন ছবি তুলছেন। যদি আপনি ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসাবে নিতে চান তাহলে আপনাকে অর্থায়ন করতে হবে সলিড ক্যামেরার জন্য। যেমন সনি-এনইএক্স থ্রিএন। এটি একটি অন্য ধরনের ক্যামেরা যা আপনি খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন এবং ভালো ছবি তোলার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। 
এখন আপনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কিসের ছবি তুলতে যাচ্ছেন। যদি আপনি ফটোগ্রফিতে নতুন হয়ে থাকেন এবং আপনার পরিবারের এবং বাচ্চার হামাগুড়ি দেবার ছবি তুলতে চান তাহলে আপনি তুলনামূলক কম দামী ক্যামেরা যেমন প্যানাসনিক লুমিকস কিনতে পারেন। এটি খুব সহজেই ব্যবহার করা যায়।
আর যদি আপনি চিন্তা করেন বৈচিত্রময় ছবি তুলবেন খেলা-ধুলার ছবি, কমিউনিটি ইভেন্ট যেমন প্যারেড তখন আপনার প্রয়োজন অত্যন্ত ভালো লেন্স এর ক্যামেরা। অটো ফোকাস, স্টপ মোশন এর অপশন থাকবে এই ক্যামেরাগুলোতে, যার মাধ্যমে আপনি ভালো ছবি পেতে পারেন। এবং এর জন্য আপনাকে বাড়তি কিছুু টাকা গুনতে হতে পারে। এই ক্যামেরা গুলোতে ছবি তোলার পর তার সৌন্দর্যে আপনি এবং আপনার বন্ধুরা আবাক  হয়ে যাবেন। 
আপনি যদি ভিন্ন ধরনের ছবি তুলতে চান যেমন প্রকৃতির ছবি, সেক্ষেত্রে ভালো ছবি পাবার জন্য আপনাকে ভালো ক্যামেরা কিনতে হবে। খুব বেশি দাম দিয়ে অভিনব বড় ক্যামেরা কেনার প্রয়োজন নেই। বরং সেগুলো ছুটি কাটানোর সময় আপনার কাধে কেবল অতিরিক্ত বোঝাই তৈরি করবে । 
যদি আপনি অনেক বেমি সংখ্যক ছবি তুলতে চান তাহলে আপনাকে নিতে হবে স্টারডিয়ার ক্যামেরা যা কিনা সাশ্রয়ী কিন্তু  খুব দ্রত তা পরিবর্তন করার দরকার হতে পারে।  এবং খুুব বেশি ফটোগ্রফি করতে করতে আপনি নিজেও খুব দ্রত সময়ের মধ্যে ভালো ফটোগ্রাফার হয়ে যেতে পারেন। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে টাকা জমিয়ে ভালো মানের ক্যামেরাই কেনা।
 
ডিজিটাল নাকি এ্যানালগ
এ্যানালগ:
এমনকি বেশির ভাগ প্রবীন ফ্যাশন ফটোগ্রাফাররাও এখন ডিজিটাল ক্যামেরার দিকেই ঝুঁকে গেছেন। ডিজিটাল ক্যামেরার চাহিদা অনেক বেড়ে যাওয়ার কারনে এ্যানালগ ক্যামেরার দাম অনেক পড়ে গেছে। আপনি ডিজিটাল ক্যামেরার তুলনায় অনেক বেশি সস্তায় একটি একটি এ্যানালগ ক্যামেরা কিনতে পারে। ক্যানন এ ই-১ একটি সাশ্রয়ী মূল্যের ৩৫ মিলি মিটার ম্যানুয়েল ফোকাস ক্যামেরা যা সৌখিন ক্রেতাদের জন্য প্রথম পছন্দ হতে পারে। যদিও এ্যানালগ ক্যামেরা গতানুগতিক নিম্নমানের ডিজিটাল ক্যামেরার বিভিন্ন সমস্যা যেমন নয়েজ হতে পারে, আপনি গ্রেইন আশা করতে পারেন, কিংবা অনেক পুরানো কোন এ্যানালগ সমস্যাও হতে পারে।  এছাড়াও ফিল্ম ডেভেলপ করতে আপনাকে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হবে। এবং আপনি যদি এটি নিজে নিজেই করতে চান, তাহলেও আপনাকে আলাদা জায়গা এবং সংশ্লিষ্ট অনেক কিছু সাথে রাখতে হবে। আপনি যদি এ্যানালগ নিতে চান, তবে সবসময় প্রিন্ট করা ছবি সিডিতে রাখতে হবে । 
 
জিডিটাল:
ডিজিটাল ক্যামেরার সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হল এটি ফটোগ্রাফির সবচেয়ে কমন প্লাটফরমে পরিণত হয়েছে। এটিতে ফিলম ডেভেলপ করা নিয়েও চিন্তা করতে হয় না। ডিজিটার ক্যামেরায় ছবি তোলার সাথে সাথেই ফটোগ্রাফার সেটা দেখে নিতে পারে, আর এটা হল ডিজিটাল ক্যামেরার সবচেয়ে  সুবিধাজনক এবং গুরুত্বপূর্ণ দিক। আপনি পছন্দ না হলে আবার সেই ছবিটি তুলতে পারেন এবং ডেভেলপ করার ঝামেলায় যেতে হয় না বলে অনেকগুলো টাকাও বেঁচে যায়। তাই নতুন ফটোগ্রাফারদের ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়েই ফটোগ্রাফি শুরু করা উচিত। সি নেট এর রেটিং এ ফুজি ফাইন পিক্স এস২০০০এইচডি নবীন ফটোগ্রাফারদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ক্যামেরা নির্বাচিত হয়েছে। এটিতে ফেইস ডিটেকশন এবং ভিউ ফাইন্ডার আছে যা সঠিক শটটি নিতে সাহায্য করে। এবং সবশেষে আপনি যেকোনো জায়গায় ছবি আপলোড করতে পারবেন, সহযেই সেগুলো শেয়ার করতে পারবেন, এডিট করতে পারবেন এবং প্রিন্টার বা অন্য কোন ব্যবস্থায় হাই কোয়ালিটি পেপারে প্রিন্ট দিতে পারবেন।  
 
ডিউ ডিলিজেন্স:
ইন্টারনেট ব্যবহার করে আপনি ক্যামেরা সম্পর্কে যাবতীয় খুটি নাটি বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনার পছন্দমতো ক্যামেরার রকমফের, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং আপনি যে ধরনের ছবি তুলতে ইচ্ছুক সেই ক্ষেত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন ইন্টারনেট থেকে।  আপনি বিভিন্ন রিভিউ, ফোরাম ডিসকাশন, ব্যাবহারকারীদের অভিজ্ঞতা এবং দামের তুলনামূলক চিত্রও পাবেন। কোন একসেসরীজগুলো থাকলে আপনি সবচেয়ে ভালো ছবি তুলতে পারবেন সে সম্পর্কেও জানতে পারবেন নেট থেকে। আপনার মডেলের ক্যামেরা দিয়ে কি ধরনের ছবি তোলা হয়েছে সেগুলোও দেখতে পারবেন।  ভালো ক্যামেরা কেনার জন্য আপনি ইন্টারনেটে খুঁজতে পারেন। বেশিরভাগ ক্যামেরার দোকানের ওয়েবসাইট থাকে। এটি আপনাকে অনলাইনে যত দোকান আছে সেগুলোর ক্যামেরার দামের সাথে তুলনা করে দেখতে সাহায্য করবে। আপনি এমনকি ক্লাসিফাইড সাইটগুলোতে পছন্দের ক্যামেরাটি পেতে পারেন। দীর্ঘস্থায়ী এবং ভালো ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা কিনতে চাইলে বাজেটটা  একটু  বাড়াতে হবে। এবং এটা থেকে আপনি পরবর্তীতে ভালো রিটার্ন পাওয়ার আশাও করতে পারেন।
 
অন্যান্য বিষয়:
ডিজিটাল ক্যামেরার আরো একটি ভলো দিক হল এটি দিয়ে ভিডিও করা যায়। বেশিরভাগ ক্যামেরা গুলোই হাই ডেফিনেশন মুডে ভিডিও করতে সক্ষম, যেগুলো ক্যামেরার মনিটরে কিংবা এইচডি টেলিভিশনে অবিশ্বাস্য রকমের সুন্দর দেখায়। নিকন সিওওএলপিআইএক্স এল ৮২০ দিয়ে আপনি ভালো ফটোগ্রাফারের সাথে সাথে ভলো পরিচালকও হতে পারেন, কারন  এই ক্যামেরাতে নানা ধরনের কার্যকরী একসেসরীজ আছে , যার মাধ্যমে আপনি শুধু ৩০গুণ জুমে ছবিই তুলতে পারবেন না সেই সাথে কোয়ালিটি ভিডিও ও করতে পারবেন।
ক্যামেরার সাথে আসল এবং রিচার্জেবল ব্যাটারী আছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হন।  কেস ছাড়াই সেগুলোতে মজবুত ফ্রেম এবং ধুলা-বালি, পানি এবং ফ্রিজিং রেসিস্টেন্স থাকতে হবে।  এগুলো থাকলে আপনি যেকোনো আবহাওয়ায় ক্যামেরা নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন। খেয়াল রাখতে হবে ফোকাস যেন ৬ মেগাপিক্সেল এর নীচে না হয়। আপনি হয়তো আপনার তোলা খুব ভালো কোনো ছবি পোস্টার করতে চাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে অন্তত নির্দিষ্ট মেগাপিক্সেল সম্পন্ন ক্যামেরা না হলে ছবিটি বড় করলে ফেটে যাবে।
 
ডিজিটাল ক্যামেরার সাথে সম্পর্কযুক্ত এই ফিচারগুলো নবীন ফটোগ্রাফারদের জন্য নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে এবং আমরা ফটোগ্রাফারদের পছন্দ হিসাবে এনালগের চেয়ে বরং ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যাপারে জোড় দিয়ে থাকি।  
 
সবশেষে:
এই টিপসগুলো প্রথম ক্যামেরা কেনার ব্যাপারে প্রাথমিক নির্দেশনা হিসাবে কাজ করবে। আমরা আশা করি, এটি আপনার ফটোগ্রাফিতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করবে।
 
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments