পোষা প্রাণী ও জীবজন্তু

পোষা প্রানী হিসাবে মাছের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা

পোষা প্রাণী মানেই বাড়িতে মজার আর রোমাঞ্চকর সব কান্ড-কারখানা। কিন্তু অনেক শোরগোল সৃষ্টিকারী প্রকৃতির পোষা প্রাণী আপনাকে উত্তেজিত করে তুলতে পারে, বিশেষ করে আপনি যদি নিরবতা, নির্মলতা আর প্রশান্ত পরিবেশ পছন্দ করেন। এই কারণে অধিকাংশ মানুষ পোষা প্রাণী হিসেবে মাছের দিকেই ঝুঁকছেন। অসংখ্য প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় যেগুলোকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী আপনার পোষা প্রানী হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। মাছ চারদিকে সাঁতার কাটছে এটা দেখা প্রশান্তির এবং মজার। যেমন কুকুরের মালিক তার পোষা প্রাণিকে বাহিরে হাটতে নিতে পছন্দ করে, তেমনি মাছকে খাবার খাওয়ানোর মাঝে আপনি শান্তি খুঁজে পাবেন। তুলনামূলকভাবে এ মাছগুলোর পরিচর্যা করা খুবই সহজ। তাছাড়া, এগুলো দীর্ঘ দিন ধরে বেঁচে থাকে তাই আপনাকে হঠাৎ করে এগুলো থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করতে হবে না।

মাছকে পোষা প্রাণী হিসেবে নেওয়ার আগে এগুলো সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়-দায়িত্বের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে আপনাকে অবশ্যই মানসিক এবং শারিরিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। এখানে এই সহজ এবং মজার কাজগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

খাওয়ানো এবং যত্নের প্রক্রিয়া

আপনি জানেন যে, মাছ জীবন্ত প্রাণী এবং বেঁচে থাকার জন্যে অবশ্যই এর খাদ্য লাগে। খাবার বিয়য়ে বলার আসলে তেমন কিছু নাই যথাযথ ডায়েট টিক রাখা। মাছের ধরনের উপর খাবার ভিন্ন হয়। সবচেয়ে ভালো মাছকে দিনে কমপক্ষে দুইবার খাওয়ানো। সময়ের সমান বন্টনের জন্যে সকাল ও সন্ধ্যায়ই খাওয়ানো উচিত।

আর যখন আপনি এটা করবেন তখন অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিন যে মাছ শুধু সেগুলোই খায যা সে হজম করতে পারে। গড়-পড়তা ৩ থেকে ৪ মিনিট সময়ের ভেতরেই খাবার দেয়া উচিত এরপর আর কোন খাবার সেখানে ছাড়া উচিত না। অতিরিক্ত খাবার দেওয়া নিষেধ কারন এতে করে পানি দুষিত হয়ে মাছের ক্ষতি হতে পারে।

আপনি যদি বুঝতে পারেন যে ট্যাংকে কোনো রোগাক্রান্ত মাছ আছে তাহলে খুব দ্রুত সেটিকে আলাদা ট্যাঙ্কে রাখার ব্যবস্থা করুন যাতে রোগটি অন্য কোনো মাছে সংক্রমন করতে না পারে। এরপর আপনার উচিত অভিজ্ঞ কাউকে খোঁজা যিনি মাছের প্রকৃত সমস্যা সনাক্ত করতে পারবে এবং এটাকে কিভাবে সারিয়ে তোলা যাবে ।

সঠিক আবাস পছন্দ করা

অ্যাকুয়ারিয়াম ট্যাঙ্ক

আপনাকে অবশ্যই মাছের জন্যে উপযুক্ত জায়গা দিতে হবে। অনেকে এ্যাকোয়ারিয়ামে রাখার পরামর্শ দেন। যদিও মাছের বউল’এ রাখাও খারাপ না, এটি মাছের আয়ুষ্কাল কমিয়ে ফেলে। মাছকে পকুরে রাখাও সম্ভব। কিন্তু এটি যারা অনেক বেশি মাছ পুষতে আগ্রহী তাদের জন্যই প্রযোজ্য। মাত্র পাঁচটি মাছ পুকুরে রাখা মোটেও অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক নয়। এতে যে খরচ হবে তার সঠিক ব্যবহার হবে না। যে ধরনের মাছের জায়গাই আপনি পছন্দ করেন না কেন সেখানে এমন কিছু উপাদান অবশ্যই থাকতে হবে যেগুলো সেটিকে বেশি বসবাস উপযোগী করবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পানির কন্ডিশনার, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার যন্ত্র, ফিল্টার, পানির হিটার এবং জীবানু নাশক। আরও জেনে নিন বাসায় অ্যাকুয়ারিয়াম এবং মাছ রাখার জন্য নির্দেশিকা

অ্যাকুয়ারিয়াম ট্যাঙ্ক পরিস্কার করা

এটা গুরুত্বপূর্ণ যে মাছ পরিষ্কার এবং উপযুক্ত পরিবেশেই থাকে। অ্যাকুয়ারিয়াম পরিস্কার করার জন্য ফিল্টার ব্যবহার হয়। এর উদ্দেশ্যে মূলত পোষা মাছের জন্যে অপ্রয়োজনীয় সব কিছুকে দূর করা। প্রতি মাসে অন্তত একবার ট্যাংকি পরিস্কার করার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে এর পানি পরিস্কার এবং সতেজ আছে যাতে সহজে পোষা মাছের স্বাস্থ্যেও সমস্যা না হয়।
মাছ পোষে এমন অনেক মানুষই শামুকও রাখেন। অমেরুদন্ডী এই প্রাণী গুলো কিছু অপ্রত্যাশিত বস্তু খেয়ে ট্যাংকে পরিস্কার রাখতে সাহায্য করে। শামুককে পরিস্কার করার একমাত্র উপায় হিসেবে ব্যবহার না করে সহযোগী পরিস্কারক হিসেবে রাখা উচিত যা নিজেই ১০০% পরিস্কারের কাজ করবে না।

সঠিক মাছ বাছাই করা

এটিই মূলত শুরু যার মাধ্যমে মাছ রাখার সফল অথবা ব্যর্থ অভিজ্ঞতা হবে। যখন আপনি স্থানীয় প্রজনন ও পোষা প্রাণীর দোকানে যাবেন তখন কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর মনযোগী হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ যাতে আপনি ভুল কোনো মাছ না কিনেন। আপনার পোষা মাছ দেখতে যেন স্বাস্থ্যবান হয় যাতে কেনার পর দ্রুতই মারা না যায়।

নিচের বিষয়গুলো নির্ধারণ করবে আপনার মাছ সংশ্লিষ্ট সব কিছু সঠিক আছে কিনা।

  • খাবারের প্রতি কোন আগ্রহ নেই এমন মাছ।
  • আবদ্ধ মাছ; অধিকাংশ সময় ট্যাংকের নিচে শুয়ে থাকে এমন মাছ না নিয়ে তার পরিবর্তে অনেক সক্রিয় মাচ নেয়াই ভালো।
  • মাছের উপর লাল এবং সাদা দাগ নির্দেশ করে মাছটি রোগাক্রান্ত। যদি চামড়া কাঁচা হয় এবং কিছু অংশ যেমন পাখনা না থাকে তবে বুঝতে হবে মাছটি সব দিক থেকে ভালো নয়।
  • কিছু রোগাক্রান্ত মাছকে কিনারের দিকে চলার প্রবনতার মাধ্যমেও নির্ধারিন করা যায়।

পোষা মাছের বিভিন্ন ধরন

মাছকে পোষা প্রানী হিসেবে রাখার প্রচলন অনেক আগে থেকেই যখন মাছকে পুকুরে এবং পুলে রাখা হতো। বর্তমানে বিভিন্ন ভাবে বাড়িতেই অনেক প্রজাতির মাছ রাখা যায়। নিচের গুলো হলো কিছু ভিন্ন প্রজাতির মাছ-
সতেজ পানির মাছ

পোষা মাছপ্রেমীদের কাছে সতেজ পানির মাছ অনেক বেশি জনপ্রিয়। উদারণস্বরূপ প্লেটি, গোল্ডফিশ, মোলি এবং এ্যাঞ্জেল ফিশ। কোনো জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই এই প্রকৃতির মাছগুলো কমিউনিটি ট্যাংকে ভালো থাকে। গাপ্পি, ক্যাটপিশ এবং চিচলিড সহজেই পুকুরে বেড়ে উঠতে পারে তবে ওই স্থানের জলবায়ুর দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়।

লোনা পানির বা মেরিন ফিশ

এই জাতীয় মাছের বেচে থাকার জন্যে এবং তাদেরও বেড়ে উঠার জন্য অতিরিক্ত যন্ত্রপাতির দরকার হয়। অভিজ্ঞ মাছ উৎপাদনকারীদেও কাছে এই জাতীয় মাছ তাদের বিভিন্ন রঙ এবং সৌন্দর্যের জন্যে খুবই জনপ্রিয়। একই সাথে এগুলোর সাথে আর্কষনীয় কোরাল ও থাকে।

ব্র্যাকিশ ফিশ

ব্র্যাকিশ ফিশ মোহনায় রাখতে হয় যেখানে পানির লবনাক্ততা লবন ও সতেজ পানির মাঝামাঝি অবস্থায় থাকে। মলি, পুফার এবং গোবি এই অবস্থায়ও ভালো থাকে।

যখন মাছ পোষা প্রানী হিসেবে রাখবেন তখন অনেক পানির ব্যবস্থা রাখা গুরুত্বপূর্ণ যাতে মাছ ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে । ফিল্টারিং সিসটেম যোগ করলে এটি পানিতে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো রাখে এবং পানির মধ্যকার বায়ো লোড কমিয়ে আনতে পারে। অন্যান্য উপাদান যেগুলো অনুকূল তাপমাত্রা, নাইট্রোজেন সাইকেল এবং প্রয়োজনীয় পদার্থ পানিতে বজায় রাখে যাতে মাছ ভালো থাকে

যে ১০ টি কারনে মাছ পোষা প্রানী হিসেবে উপযুক্ত

  • এগুলো শান্ত এবং ধীর ও স্থির স্বভাবের হয়।
  • তাদের পরিচর্যা এবং খাওয়ানো অনেক সহজ এবং কম ব্যয়বহুল।
  • কিছু মাছ আছে যারা খুবই মিথস্ক্রীয়প্রবণ এবং বিভিন্ন ট্রিকস তাদের শেখানো যায়।
  • মাছের এ্যাকুরিয়াম বাসার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
  • এরা সবচেয়ে বেশি পরিস্কার পোষাপ্রাণী
  • এদের অনেক প্রজাতি এবং রঙের ভিন্নতা রয়েছে।
  • মাছগুলোকে বাসায় রেখে কখনো আপনি বাইওে গেলে তারা কোনো বিশৃংখলা সৃষ্টি করে দুশ্চিন্তায় ফেলবে না।
  • এরা খুব শান্তিপ্রিয় কারণ এরা কখনো চিৎকার করে না। অন্য প্রানী যেমন কুকুরের মতো বিদ্ধংশী কিছু করার সুযোগই তাদের নেই।
  • এরা আনন্দদায়ক এবং এবং যত্ন পেতে মানুষকে প্রলুদ্ধ কওে যদি একবার কারো ভেতওে তাদেও জন্য মায়া তৈরি কওে ফেলে।
  • এদেরকে বাইরে বের করে হাটিয়ে আনার প্রয়োজন নেই। আর আপনার সময় সীমাবদ্ধতা থাকলে পোষার জন্য এরা খুব উপযুক্ত।

এখন আপনার কাছে মাছ পোষার যাবতীয় তথ্যাবলী আছে যা থেকে আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন যে আপনি কোন ধরনের মাছ পুষবেন। এই ধরনের প্রানী বাড়িতে রাখাটা অনেক উদ্যোম আর আকর্ষনীয় ব্যাপার। এরা বাড়িতে নান্দনিক সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করে যা বাড়িটিকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এনে দেয়। আপনার যদি আগে থেকে মাছ পোষার ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ থেকে থাকে তবে এখন নিশ্চই তা পরিস্কার হয়ে যাবে। আপনার কাছে আর এক মুহুর্তেও জন্যও এদেরকে বিরক্তিকর মনে হবে না।

আশা করি এই প্রবন্ধটি আপনার উপকারে আসবে। এখন যদি আপনি একটি অ্যাকুয়ারিয়াম কেনার চিন্তা করে থাকেন তবে চলে আসুন bikroy.com – এ এবং আপনার পছন্দের অ্যাকুয়ারিয়াম ও মাছ গুলোন কিনে নিন

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

Arifin Hussain

Passionate online marketer and tech blogger. Currently working at Bikroy.com as Online Marketing Specialist.

অনুরূপ লেখা গুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close