ক্রেতা এবং বিক্রেতার জন্য বিড়ালের যত্ন সংক্রান্ত টিপস

Share

একটি পোষা প্রাণী থাকলে আপনি অনেক আনন্দ পাবেন।  যখন আপনি নিজের জন্যে বিড়াল অথবা অন্য কোন প্রাণীকে পছন্দ করবেন তখন থেকে আপনি আপনার বাসায় একটি নতুন সঙ্গী পেয়ে যাবেন। একটি বিড়াল আপনার জীবনে অনাবিল শান্তি নিয়ে আসতে পারে।  সাধারণত বিড়াল অনেক মজার, চালাক প্রাণী এবং এরা আপনার কোলে বসতে ভালোবাসে।

আপনি কোন প্রাণী পছন্দ করছেন সেটা ব্যাপার না আসল বিষয় হল আপনি যখন বিক্রির জন্য পোষা প্রাণী খুঁজতে যাবেন তখন আপনাকে নতুন এ প্রাণীটির পরিচর্যা সর্ম্পকে জানতে হবে।  যাতে প্রাণীটি সুখে জীবন যাপন করতে পাওে এবং  বছরের পর বছর স্বাস্থ্যবান থাকে।

এই প্রবন্ধে বিড়ালের পরিচর্যার টিপস এর উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে বিড়ালের পরিচর্যা, স্বাস্থ্য, ব্যায়াম এবং সুস্বাস্থ্য নিয়ে আলোকপাত করা হবে। এগুলোই মূলত বিড়ালের পরিচর্যার মৌলিক ও প্রাথমিক টিপস। এই অনুচ্ছেদ এবং বিক্রয় ডট কমে থাকা আরো অন্যান্য অনুচ্ছেদ পড়ার পরও বিড়ালের পরিচর্যা সর্ম্পকে আপনার মনে প্রশ্ন থাকে তবে আপনি একজন পশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

বিড়ালের পরিচর্যাঃ

বিড়ালের পরিচর্যা অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় সব বিড়াল নিজেরাই নিজেদের রুক্ষ জিহ্বার দিয়ে পশম লেহনের মাধ্যমে নিজেদের পরিচর্যা করে থাকে। এক্ষেত্রে মাঝে মাঝে এদের মনিবের নিকট থেকে সামান্য সাহায্যের প্রয়োজন হয়।

একটি ক্যাট ব্রাশ কিনে এবং প্রতিদিন কিছু সময় ব্যয় করে আপনার বিড়ালকে ব্রাশ করতে হবে। এটি বিড়ালের লোম পড়ে না এবং গ্রুমিং এর সময় লোম উঠে যাওয়ার ঝুঁকি কমাবে।

বিড়ালকে ব্রাশ করার আরো একটি উপকারিতা হল গ্রীষ্মকালীন সময়ে আপনি  প্রাকৃতিকভাবে নির্মিত শীতকালীন কোট সরাতে সাহায্য করবে যেটি গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিড়ালকে শীতল এবং আরামদায়ক করে রাখবে।

আপনি চাইলে একটি ফ্লিয়া চিরুনী কিনতে পারেন যার মাধ্যমে আপনি আপনার বিড়ালের ফ্লিয়া চেক করতে পারবেন। সাধারণত আপনি বিড়ালের নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারেন। তবুও আপনার বিড়ালের ফ্লিয়া নেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যে চিরুনী ব্যবহার করে দুই দফা চেক করা উচিত।

বিড়ালকে গোসল করানো মোটেও প্রয়োজনীয় বিষয় নয়। যদি কুকুর ও বিড়াল নিজেরাই না গোসল করে। যখন বিড়াল তার জিহ্বা দিয়ে গ্রোমিং করে তারা তাদের প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা করে নেয়। এ কারনে আপনি কখনো বিড়ালকে গোসল না করালেও বিড়ালকে সবসময় স্বাস্থ্যবান, সচ্ছন্দ এবং মশৃণ পশমের মনে হয়।

যাইহোক, যদি আপনার বিড়াল বাসার বাইরে থাকে, ময়লা এবং মাটিতে খেলাধুলা করে অথবা ফ্লিয়া থাকে তখন আপনি চাইলে তাকে গোসল করাতে পারেন তবে এটা যেন নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত না হয়।

বিড়ালের স্বাস্থ্যঃ

বিড়ালের শারিরিক স্বাস্থ্য তার যত্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিড়ালের নিয়মিত চেকআপ করা উচিত, কমপক্ষে বছরে একবার পশু চিকিৎসককে দেখানো উচিত।

যদি আপনার পোষা বিড়াল এখনো স্পেইড অথবা নিউটারড হয়ে থাকে, তখন আপনাকে খুব দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। আপনার বিড়ালের যদি স্বাস্থ্য সমস্যা কম থাকে এবং যদি আপনি এগুলো সমাধান করতে পারেন তবে বিড়াল অনেক বেশি বাঁচতে পারবে।

আপনার পশু চিকিৎসক নিয়মিত ফ্লিয়া চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দিবে এবং কৃমি রোগের ট্যাবলেট দিবে। এ দুটিই বিড়ালের চিকিৎসার জন্যে খুব উপকারী। ফ্লিয়া চিকিৎসা প্রতি এক মাসে এবং কৃমি ট্যাবলেট প্রতি তিন মাসে খাওয়াতে হবে।

ডায়েটটা বিড়ালের স্বাস্থ্যের জন্যে অন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আপনাকে সব সময় সচেতন থাকতে হবে আপনি আপনার বিড়ালকে তার বয়স অনুযায়ী মানসম্মত ব্রান্ডের খাবার পরিবেশন করছেন। যদি আপনার বিড়াল ঘরের আভ্যন্তরে থাকে তবে আপনার উচিত হবে তার জন্যে আভ্যন্তরীন খাদ্য অথবা যদি আপনার বিড়াল বয়স্ক হয় তাহলে পরিপক্ক বিড়ালের খাদ্য দিতে হবে।

সব সময় বিড়ালকে মুক্ত ও পরিস্কার পানি দিতে হবে। কিছু কিছু বিড়ালকে পানি পান করানোর জন্যে যথেষ্ট উৎসাহ দিতে হয়। তাই বাহিরে একের অধিক পানির পাত্র রাখতে হবে। আপনি চাইলে মাঝে মাঝে পানির পাত্রে অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবেন কারণ বিড়াল নতুন বিষয় অনুসন্ধান করতে পছন্দ করে। কিছু বিড়াল বরফের খন্ড খুঁজে যেটি তাদের পানি পান করতে উৎসাহিত করে।

বিড়ালরা তাদের পানীয় পানি সর্ম্পকে খুব পিকি এবং অনেক পরিস্কার পানি চায়। আপনাকে এটাও নিশ্চিত থাকতে হবে পানির পাত্র তাদের খাবারের পাত্র থেকে যথেষ্ট দূরে। কেননা খাবার ও পানির পাত্র পাশাপাশি থাকলে পানিতে খাবার পড়া সম্ভাবনা থাকতে পারে।

যদি কখনো আপনি মনে করেন আপনার বিড়াল পানি শূণ্যতায় ভুগছে তখন আপনি বিড়ালকে কিছু ভিজা খাবার প্রদান করবেন যেটি তার শরীরে আদ্রতা সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে। যদি বিড়াল পানি পান না করে তবে অবশ্যই আপনি বিড়ালকে পশু চিকিৎসকের নিকট নিয়ে যাবেন। কারণ এটি মারাত্মক রোগের লক্ষণ হিসেবে কাজ করে।

বিড়ালের ব্যায়ামঃ

আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে আপনার বিড়ালের সুস্বাস্থ্যের জন্যে তার অধিক ব্যায়াম প্রয়োজন। যদি আপনার বিড়াল ঘরের আভ্যন্তরে থাকে অথবা বাহিরেও যায় তবে আপনি আপনার বিড়ালকে খেলতে এবং শিকার করতে উৎসাহিত করতে হবে এতে বিড়াল ফিট এবং স্বাস্থ্যবান থাকবে।

বিড়ালের সাথে খেলে তাকে খেলতে উৎসাহিত করতে হবে।  এমন খেলনা তৈরি অথবা কিনতে হবে যেটিকে টেনে নিতে জাম্প দিতে বিড়াল পছন্দ করবে।  মাঝে মাঝে বিড়াল একেবারে খেলনার মতো কাগজ অথবা পুরাতন কাগজের টাওয়েল টিউবের মতো মনে হয়।

যদি আপনার বিড়াল বাহিরে যায়, তবে বিচরণ এবং শিকারের মাধ্যমে কিছু ব্যয়াম সে এমনি এমনিতে পেয়ে যায় । যদি আপনার বিড়াল বাহিরে না যায় তবে শিকল লাগাতে হবে যাতে আপনি তাকে বাহিরে নিতে পারেন এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।

আপনি আপনার বিড়ালকে অন্য প্রাণীদের সাথে সামাজিকীকরণ করার মাধ্যমে ব্যায়াম করাতে পারেন। অবশ্যই এটি খুব সচেতনতার সাথে করতে হবে কারণ অধিকাংশ বিড়াল অন্য প্রাণৗকে পছন্দ করে না। কিছু বিড়াল নিকটবর্তী অন্য বিড়াল এমনকি কুকুরের সাথে খেলতে পছন্দ করে। তাই আপনাকে খুব যতœবান থাকতে হবে আপনি কিভাবে তাদেরকে পরিচিত করাবেন। একই জঁজালের দুটি বাচ্ছাকে অভিযোজন করানো আপনার পোষা প্রাণী সঙ্গী নিশ্চিত করার ভালো মাধ্যম। কারণ সাধারণত বাচ্ছারা সঙ্গী চায়।

বিড়ালের সুস্থতাঃ

বিড়ালের সুস্থতা অথবা ইমোশন্যাল হেলথও গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বিড়ালের অনুভুতি ঠিক আপনার মতই মাঝে মাঝে নিজেকে বঞ্চিত, ভীত অথবা রাগান্বিত মনে হয়। নিয়মিত বিড়ালের সাথে খেলা করা এবং তার মনোযোগ আর্কষণ করা আপনার বিড়ালকে সুখী ভাবতে শেখাবে।

বিড়ালের সাথে খেলার জন্যে আপনাকে কমপক্ষে প্রতিদিন দশ মিনিট সময় ব্যয় করতে হবে। এইসময়টা আপনাকে আপনার পোষা প্রাণীর সাথে সর্ম্পক তৈরিতে সাহায্য করবে এবং তাকে বঞ্চিত রাখার অনুভূতি দূর করতে সাহায্য করবে।  যদি আপনি দিনের বিভিন্ন সময়ে তার সাথে খেলা করার পরিকল্পনা করেন এটা অনেক ভালো হবে।

খেলার জন্যে আপনি আপনার বিড়ালকে কিছু মজার মজার বস্তু প্রদান করতে হবে। আঁক কাটা পোষ্ট এবং খেলনা দিবেন। আপনি চাইলে ট্যানেল অথবা কার্ডবোর্ড বক্সও দিতে পারেন। যাই দিন ঐ বস্তুগুলো যেন আপনার বিড়ালকে উদ্দীপিত করে তার মানবিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা নিশ্চিত করে।

সুস্থ থাকার জন্যে সঙ্গও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার অন্য কোন পোষা প্রাণী না থাকে এবং আপনি বেশির ভাগ সময় বাসার বাহিরে থাকেন তাহলে আপনার বিড়াল খুব সহজে একাকী হবে। এজন্যে তখন আপনাকে অন্য একটি বিড়াল অথবা আপনার কোন বন্ধুকে আপনি যখন বাহিরে থাকেন তখন তাকে সঙ্গ দিতে বলবেন।

আপনাকে আপনার বিড়ালের থাকার পরিবেশ পরিস্কার রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যখন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পায় তখন বিড়াল অনেক বেশি খুশি থাকে। নিয়মিত ভাবে খালি ক্যাট’স লিটার বক্স আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। আপনাকে তার থাকার বিছানা পরিস্কার এবং আরামদায়ক বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। তবে পরিস্কার রাখতে অধিক পরিমানে ঔষুধ ব্যবহার করা যাবে না কারণ বিড়াল অতিমাত্রায় সংবেদনশীল প্রাণী।

এগুলো হল আপনার বিড়ালের পরিচর্যা করার কিছু মৌলিক টিপস। যত দিন আপনি আপনার পোষা প্রাণীর সুস্থ এবং স্বাস্থ্যকে প্রথমে গুরুত্ব  দিবেন ততদিন তার পরিপূর্ণ আনন্দময় জীবন নিশ্চিত হবে।

 

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments