ব্যবসার জন্য গাড়ি

Share

যখনই ব্যবসার কাজে গাড়ি কিনতে বিনিয়োগের বিষয়টি আসে তখন আপনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে সেটি ব্যবসার ক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগবে।  এ কারনে আপনি এমন একটি গাড়ি কিনবেন যেটি আপনার কোম্পানীকে সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করবে এটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি জ্বালানির খরচ এবং রক্ষনাবেক্ষনের ক্ষেত্রে এটা যেন অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি না হয় সেটাও দেখতে হবে।  আপনার কোম্পানীর জন্য গাড়ি কিনতে বাংলাদেশের ক্লাসিফাইডসাইট গুলোতে খজুঁতে পারেন। কিন্তু খোজ খবর করার আগে এখানে আপনার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় টিপস দেয়া হল।

কেমন সাইজের গাড়ি? ঃ

আপনার প্রয়োজনের উপরই নির্ভর করে কোন সাইজের গাড়ি আপনার দরকার। উদাহরণস্বরুপ, আপনার কোম্পানীর যদি অনেক মালামাল পরিবহনের দরকার হয় তবে আপনি বড় ভ্যান বা ট্রাকই কিনতে চাইবেন। ভ্যান কিংবা ট্রাকের গ্যাসের খরচ যোগানো অনেক বড় একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হলেও মাল-পত্র আনা-নেয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে উপযোগী।  
আপনি যখন আপনার গাড়ির সাইজের ব্যাপারে ভাববেন, তার সাথে আপনি হয়তো এটাও চিন্তা করবেন যে গাড়ির উপর বিজ্ঞাপন দিবেন কি না।  অনেকে নিজের গাড়িতে তার কোম্পানীর নাম, লোগো কিংবা কোন বিশেষ ডিজাইন করে নেয় ।  ছোট গাড়ির চেয়ে বড় গাড়িগুলোতে বিজ্ঞাপন দেয়ার ক্ষেত্রে খরচের অনেক তারতম্য হয়। এটা খুব লাভজনক বিনিয়োগ না হলেও ব্যবসার জন্য গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই বিবেচনার বিষয়। 

গ্যাস মাইলেজ কি ধরনের? ঃ

আগেই বলা হয়েছে গ্যাস মাইলেজ নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি বিবেচ্য বিষয়। এবং আপনি জানেন যে বড় গাড়ির পাম্পের জন্য বেশি খরচ হয়, তাই আপনাকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে কি পরিমান ড্রাইভ করা হবে ।  যেমন আপনার গাড়িটি যদি অনেক বেশি পরিবহনে ব্যবহৃত হয় যেমন শহর থেকে শহরে, লম্বা সফরে প্রায়ই নিয়ে যাওয়া হয় তবে আপনার প্রয়েজন এমন একটি গাড়ি যা জ্বলানির দিক থেকে সাশ্রয়ী হবে। অন্যদিকে আপনি যদি গাড়ি প্রায়ই ড্রাইভ না করেন  তবে গ্যাস খরচ তেমন একটা প্রভাব ফেলবে না। আপনার কোম্পানীর জন্য কার, ট্রাক কিংবা ভ্যান যেটাই হোক না কেন কেনার সময় গ্যাস এবং দুরত্ব দুটোই খেয়াল রাখতে হবে। 

রাস্তার জন্য গাড়িটি কি উপযুক্ত? ঃ

বাংলাদেশের সড়কগুলো বিভিন্ন ধরনের। কিছু জায়গায় গাড়ি চালানোর জন্য আপনি সমান রাস্তা পাবেন, আবার অনেক রাস্তা খানা-খন্দ দিয়ে ভরা। এজন্য গাড়ি কেনার সময় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে আপনি কি ধরনের রাস্তয় এটি চালাবেন। উচু নীচু রাস্তাতেও বড় গাড়িগুলো ভালোমতো চলাচল করতে পারে। আবার ছোট গাড়িগুলো সমান রাস্তায় চলাচলের উপযোগী।  তাই আপনি  যদি কোন  দূরবর্তী, নির্জন এলাকার জন্য গাড়ি কিনতে চান তবে ভ্যান কিংবা ট্রাক আপনার জন্য ভালো হবে আর শহরে চলাচলের জন্য কার’ই উপযোগি।

রানিং কন্ডিশনঃ

ব্যবসার ব্যাপার হলে প্রতিটি পয়সাই হিসাব করে খরচ করা হয়। তাই নিশ্চই চাইবেন না আপনার ব্যবসায় জন্য কেনা গাড়িটি অগণিত টাকার খরচের কারন হয়ে দাড়ায়।  কোন গাড়ি কেনার আগে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেয়া দরকার।  আপনার বিশ্বস্ত কোন মেকানিককে নিয়ে যান, যিনি গাড়িটি ভালো কন্ডিশনে আছে কিনা সেটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পারবে। আপনি যদি ভালো কন্ডিশনের একটি গাড়ি পেয়ে যান তবে ভবিষ্যতে এটি খুব বেশি ঝামেলার কারন হবে না এবং এটি মেরামতের জন্য বেশি খরচও করতে হবে না।

গাড়িটির স্থায়িত্বঃ

শুধুমাত্র ভালোমতো চলে কিনা এটাই না আপনাকে আরো দেখতে হবে গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে চলে কি না।  গাড়িটি যদি দীর্ঘদিন না টিকে এবং নির্ধারিত স্থায়িত্ব না থাকে তবে এর পেছনে মেরারমতের জন্য অনেক খরচ হবে। এটি আপনার কোম্পানীর জন্য লোকশানের কারন হয়ে দাড়াবে।  সেক্ষেত্রে আপনি ভ্যান কিংবা ট্রাকই কিনতে পারেন যেটি বাংলাদেশে আপনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করতে পারবেন।

আরামদায়ক কি না? ঃ

আপনি যখন গাড়ির পেছনে অনেক টাকা বিনিয়োগ করবেন, তখন এটা থেকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছন্দই  আশা করবেন।  যদি গাড়িটি আরামদায়ক না হয় তবে লম্বা সফরের ফলে শারিরীক অসুস্থতা তৈরি হতে পারে। এছাড়াও আপনি যদি আপনার কোনো ক্লায়েন্টকে সাথে নিয়ে ড্রাইভ করেন তবে এটাও নিশ্চিত হতে হবে যে তিনিও আরামদায়ক অবস্থাতেই আছেন।  নিশ্চিত হয়ে নিন যে কতটা সময় আপনি গাড়িতে ব্যয় করবেন এবং সে অনুযায়ী আরামদায়ক কার, ভ্যান এবং ট্রাক কিনতে পারেন।

নান্দনিক আবেদনঃ

শুধুমাত্র গাড়িটি ভেতর থেকে কেমন অনুভুত হয় এবং দেখতে কেমন তাই নয়, বরং এটা বাইরে থেকে দেখতে কেমন সেটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।  সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট এবং কাষ্টমার এমন কোম্পানীর  সাথে কাজ করতে চায় যে কোম্পানীর ব্যবহৃত গাড়িগুলো আকর্ষনীয়।  এটা ব্যবসার প্রতি মালিকের তীব্র আবেগ এবং ভালোবাসাকেই প্রতিনিধিত্ব করে, যা প্রায়ই কাষ্টমারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে সহায়তা করে। আপনার গাড়িটি দেখিয়ে ক্লায়েন্টকে ইমপ্রেস করতে চাইলে বাংলাদেশের ক্লাসিফায়েড সাইটে পুরাতন কন্ডিশনের গাড়ি খুজতে পারেন। এমনকি আপনার কোম্পানীর গাড়ি যদি খুব কম ক্লায়েন্টের সামনে বের করতে হয় তারপরও এটি নিশ্চিত হন যে আপনার গাড়িটি আকর্ষনীয় এবং আপনার কোম্পানীকে সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করে।

গাড়ির পেছনে খরচঃ

আপনি যখন  ভ্যান বা ট্রাক কিনতে খোজ-খবর করা শুরু করবেন, অবশ্যই তখন দামের বিষয়টি মাথয় রাখবেন। গাড়ির পেছনে যে মোট ব্যয় হবে সেটি যেন আপনার ব্যবসার ধরনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং একই সাথে আপনার স্ট্যাটাসকেও যেন তুলে ধরতে পারে সে ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে।  আপনার গাড়িটি আপনার ব্যবসার জন্য প্রাথমিক বিনিয়োগই হওয়া উচিত, বিশেষ করে ব্যবসাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে এটি যদি প্রয়োজন হয়। যাই হোক, গাড়ি কিনতে ধার দেনা এড়িয়ে চলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ন, মূলত যেখানে বিনিয়োগ থেকে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কম সেক্ষেত্রে।  সতকর্তার সাথে ঠিক করুন আপনি কি পরিমান খরচ করবেন এবং ট্রাক বা ভ্যান কেনার ক্ষেত্রে কি পরিমান ব্যয় করার সামর্থ আপনার আছে।

রি-সেল ভ্যালুঃ

যেকোনো ব্যবসাতেই আশা থাকে যে সময়ের সাথে সাথে এটি সমৃদ্ধ হবে এবং অর্থনৈতিক ভাবে অনেক উন্নতি করবে। যে কারনেই আপনাকে পরবর্তীতে গাড়ি বিক্রি করে দেন তাহলে এটা দাম কেমন হতে পারে সে বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশে ভ্যানের সাধারনত অনেক চাহিদা থাকে, তাই এটা বিক্রি করতে গেলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আপনার ব্যবসা যখন ভালো অবস্থায় যাবে তখন আরো গাড়ির প্রয়োজন পড়বে এবং নতুন কিছু কেনার জন্যই বাজেট করবেন।  সেক্ষেত্রে আপনার পুরানো গাড়িটি সহজে বিক্রি করতে ক্লাসিফাইড সাইটগুলে তে যেতে পারেন।  
এখানে উল্লিখিত টিপসগুলো বিবেচনায় রাখলে ব্যাবসার জন্য গাড়ি খুজে পাওয়াটা অনেক সহজ হবে।  এর ফলে আপনি ব্যবসার জন্য একটি ভালো গাড়ি কিনতে পারবেন, যা আপনার ব্যবসাকে প্রতিনিধিত্ব করবে, দেখতে আকর্ষনীয় হবে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখান থেকেই কিনে নিতে পারবেন।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments