স্বপ্নের বাড়ী কেনার সময় কয়েকটি বিষয় যাচাই করে নিন

Share

কোন সন্দেহ নেই যে একটি বাড়ি অথবা এক খন্ড জমি কেনা অনেক মানুষের কাছেই একটি ভীতিকর কাজ। অনেকের কাছে সারা জীবনের যতগুলো অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় তার মধ্যে এটি অন্যতম। কোন সম্পত্তি কেনার পূর্বে আপনাকে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।

নিরাপত্তা এবং নিশ্চয়তাঃ

যে কোন সম্পত্তির নিরাপত্তা এবং নিশ্চয়তা দাম নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখে। যে কোন সম্পত্তি কেনার পূর্বে এ বিষয় দুটি খোঁজ খবর অবশ্যই নেয়া উচিৎ। যদি এটা বাড়ি বা এপার্টমেন্ট হয় তাহলে অবশ্যই ডেভেলোপারদের কাছ থেকে যে ক্রেতা নিরাপত্তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা খোঁজ নেয়া জরূরী। ঐ সম্পত্তির কাছাকাছি কোন পুলিশ স্টেশন আছে কিনা তা খোঁজ-খবর নিন ।

কর্মক্ষেত্রের সাথে যোগাযোগঃ

আপনার কর্মস্থল থেকে সম্পত্তিটির দূরত্ব আপনাকে বিবেচনায় আনতে হবে।  দূরত্ব বেশি হলে যাতায়াত খরচ বেশি হবে, সময় নষ্ট হবে এবং প্রতিদিনই অফিসে যেতে বাড়তি ঝক্কি পোহাতে হবে।  প্রথমবারের মতো যারা বাড়ি কিনছে তাদের দূরত্বের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিৎ। ঐ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়া বাঞ্চনীয়, এতে যাতায়াত খরচ কমবে।

অনন্য সুযোগ সুবিধাঃ

জমি কেনার সময় অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে ঐ স্থান থেকে স্কুল,  হাসপাতাল, বিপনীবিতান এর দুরত্ব কতটা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা উন্নত। এসব সুযোগ সুবিধা জমি থেকে যতকাছে হবে ততই আপনার জমিটি ভাল। জিমনিশিয়াম, বিপনীবিতান, ক্লাব, খেলার মাঠ, সুইমিং পুল এসব সুযোগ সুবিধার কাছাকাছি থাকা প্লটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সকল সুযোগ-সুবিধা আজকাল আর বিলাসিতা হিসেবে দেখা হয় না বরং প্রয়োজন হিসেবে দেখা হয়।

মাপজোক এবং সম্পত্তির আকারঃ

যদি এটা একটা প্লট হয়, তাহলে একজন অনুমোদিত সার্ভেয়ার এনে জমিটির সঠিক পরিমাপ জেনে নিন। জমিটি কিভাবে যথাযথ ভাবে ডেভেলপ করা যাবে সে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে এই মাপজোঁক। বাড়ি বা এপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে তা কতটুকু জায়গার উপর নির্মাণ করা হয়েছে সে সর্ম্পকে খোঁজ নিন। রুমের বিভিন্ন আয়তন সর্ম্পকে একটি পরিস্কার ধারণা পেতে নিজে গিয়ে এপার্টমেন্ট বা বাড়িটি দেখে আসুন। এটা আপনাকে নির্মাণ কাজে কি ব্যবহার করা হয়েছে সেই সর্ম্পকে ধারনা দিবে। পরিদর্শনের সময় অন্যান্য সমস্যা যেমন ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্যাঁতস্যাঁত অবস্থা ইত্যাদি সনাক্ত করতেও সাহায্য করবে।

ভবিষ্যতে বিক্রির পরিকল্পনাঃ

যদি আপনি ভবিষ্যতে বিক্রির উদ্দেশ্যে জমিটি ক্রয় করে থাকেন তাহলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আপনি ভবিষ্যতে সম্পত্তিটির বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কারণ আপনাকে ভিন্ন শহরে বদলি হওয়া লাগতে পারে। ভালো এবং বড় কিছুর আশায় পুনরায় স্থান নির্ধারণ অপরিহার্য হতে পারে এবং বড় একটি বাড়িও কিনতে হতে পারে। কারণ যাইহোক পুনরায় বিক্রির ক্ষেত্রে আপনি চাইবেন না আপনার সম্পত্তির কেনা মূল্য বিক্রি মূল্য থেকে কম হোক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সময়ের সাথে সাথে সম্পত্তির দামও বাড়তে থাকে। তাই আপনি কেনার পূর্বে স্থানটির অবকাঠামো পরিকল্পনা যেমন  প্রস্তাবিত সড়ক, ফ্লাইওভার, বিপনীবিতানসহ অন্যান্য কিছু বিবেচনা করতে হবে। যদি এসকল পরিকল্পনা ৮ বছরের কম সময়ে সমাপ্ত হয় তবে এক্ষেত্রে সম্পত্তির মূল্য খুব বেড়ে যেতে পারে।

ভাড়ার সম্ভাবনাঃ

অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী সম্পত্তিটি কিনে এবং ভাড়া দিয়ে দেয়। অভিজ্ঞ ভূমি ব্যবসায়ীরা ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যেও জমি কিনে থাকে। কেনার পূর্বে জায়গাটির ভাড়া হওয়ার সম্ভাবনা সর্ম্পকে কমপক্ষে দুইবার ভাবুন। বাণিজ্যিক জেলা, হাসপাতাল এবং স্কুল সংলগ্ন একটি বাড়ি বা এপার্টমেন্ট খুব সহজে ভাড়া দেওয়া যায়। আর কর্মস্থলে যেতে অধিক সময় ও অর্থ খরচ হবে এমন স্থানে বাড়ি ভাড়া নিতে লোকজন সবসময় অনিচ্ছুক ।

আপনার সম্পত্তির সঠিক পরিকল্পনাঃ

স্বাস্থ্যসম্মত জীবন-যাপনের জন্যে আলো বাতাস খুবই প্রয়োজন। আপনি সেই বাড়িটি বা এপার্টমেন্টটি প্রছন্দ করবেন যেখানে অবশ্যই প্রাকৃতিক আলো এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে। যদি আলো এবং বাতাস বিভিন্ন দিক থেকে বাধাপ্রাপ্ত হয় তাহলে এমন বাড়ি বা এপার্টমেন্ট কেনা থেকে আপনার বিরত থাকা উচিত। কিছু ক্ষেত্রে আপনি চান আপনার একটি বাড়ি থাকুক এবং আপনার সকল প্রয়োজন হল একটি প্লট। এটা নিশ্চিত করুন যে প্লটটি আপনার প্রত্যাশিত ডিজাইনের সাথে খাপ খায় কিনা আর জায়গাটি প্রয়োজনীয় আইন সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত কিনা?

সম্পত্তির কর এবং বিদ্যুৎ বিলঃ

একজন ক্রেতা হিসেবে আপনার দায়িত্ব হল সংশ্লিষ্ট পৌরসভা অথবা সরকারী কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট করা যে সকল বিদ্যুৎ বিল এবং কর পরিশোধ করা হয়েছে কিনা। এটা আপনাকে এসকল বিল পরিশোধ ব্যর্থতার সমস্যা এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে।

সম্পত্তির চুক্তি পরীক্ষাঃ

সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি যা আপনি কিনেছেন তার চুক্তিকৃত শিরোনাম পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এটা হল প্রকৃত তথ্য উপাত্ত যা যেকোন সম্পত্তির মালিকানার প্রমান হিসেবে কাজ করবে। আর এটি সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনেও খুব প্রয়োজন। ক্রেতা হিসেবে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে চুক্তি শিরোনাম যেটি আপনাকে প্রদান করা হয়েছে তার উপরে অফিসিয়াল সিল রয়েছে। এটাই প্রমাণ করবে সম্পত্তিটি যথাযথভাবে নিবন্ধন করা হয়েছে।  কোন ভাবে দলিলের ফটোকপি গ্রহন করা যাবে না। এটা এই কারণে যে মালিক চাইলে এ দলিলটি ব্যাংকে জমা রেখে ঋণ নিতে পারবে। এইক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ব্যাংক জায়গাটি দখলে নিয়ে যাবে। যদি আপনি সম্পত্তি কেনেন তবে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে জায়গাটি বন্ধকী কিনা? এই কারণে যে  মালিক এটাকে ব্যবহার করে বন্ধক হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংক ঋন নিতে পারে। আপনার ভালোর জন্যেই বলবো বন্ধকী জায়গা কেনা ঠিক নয়।

প্রপার্টি ডেভেলপারের সম্পর্কে জানাঃ

এটা সেসব ক্রেতাদের জন্য প্রযোজ্য যারা বাড়ি বা এপার্টমেন্ট কিনতে আগ্রহী। এই ডেভেলপার কতগুলো এপার্টমেন্ট সম্প্রতি হস্তান্তর করেছে তা নিখুঁতভাবে পরিক্ষা করা উচিত । ক্রেতাদের প্রতি পরামর্শ হল আপনারা ডেভলপারদের অফিস পরিদর্শন করুন এবং প্রয়োজনীয় খোঁজ খবর নিন। আপনি ডেভেলপারদের ওয়েবসাইটে কাস্টমারদের মন্তব্য পরীক্ষা করতে পারেন। একটি প্রসিদ্ধ এবং নিবন্ধিত ডেভেলপারের নিকটথেকে এপার্টমেন্ট কিনে অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। যেখানে সম্পত্তির মালিকানা আলাদা আলাদা সেখানে আপনাকে সম্পত্তির বৈধতা এবং বিস্তারিত খোঁজ খবর নিতে হবে।

বাজেট লক্ষ্যণীয়ঃ

যেকোন সম্পত্তি যা আপনি কিনছেন তার কিছু প্রভাব আপনার অর্থনীতির উপর থাকবে। সম্পত্তির স্থান এবং পরিমাপ নির্ভর করবে আপনি কি পরিমাণ টাকা ব্যয় করতে ইচ্ছুক এবং কি পরিমাণ খরচ করার সামর্থ্য আছে। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বাজেট নিয়ে নামুন যাতে একটি সম্পত্তি কিনতে গিয়ে আপনাকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ঋণে পড়তে না হয়। খুব কম বা বেশি নির্ধারণ করাটা হতাশা জনক।

উপরোক্ত বিষয়গুলো বিস্তারিত বিবেচনা দ্বারা আপনি  সম্পত্তি কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন। যেন এই সিদ্ধান্ত আপনাকে অনুতাপে না ভোগায়। আপনার জন্য সাশ্রয়ী একটি দাম নির্ধারণ করুন। আর এটা আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা এবং আনন্দ দিতে পারে।

 

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments