বাংলাদেশের সেরা ছোট ট্রাক

Share

আপনি কি ছোটখাটো কোনো কাজ করেন যেখানে আপনাকে বিভিন্ন জায়গায় মালামাল পরিবহন করতে হয়? আপনার কি এমন কোনো ব্যাবসা আছে যেখানে আপনার কাজের জন্য বাড়ী বাড়ী যেতে হয়? এই প্রশ্ন দুটির কোনটির উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে, তবে আপনার একটি ছোট্ট ট্রাক দরকার। পুরোনো ট্রাক বা ভ্যান খোঁজার আগে এই লেখাটি থেকে বাংলাদেশে অল্প দামে পাওয়া যায় এমন কিছু ছোট ট্রাক ও ভ্যান সম্পর্কে জানতে পারবেন।

সেরা ছোট ট্রাকের দিকে নজর দেওয়ার আগে, মনে রাখা প্রয়োজন যে, কোনো ট্রাক কেনার পূর্বে আপনাকে সবসময় একজন পেশাদার মেকানিক দিয়ে ট্রাকটি দেখিয়ে নিতে হবে। তিনি বলতে পারবেন ট্রাকটি ভাল অবস্থায় আছে কি না এবং এর জন্য আপনার টাকা খরচ করা উচিৎ হবে কি না। ট্রাকটি কেনার পর যদি কোনো কারিগরি ত্রুটি খুঁজে পান তবে তখন আর কিছু করার থাকবে না। ভালো করে খেয়াল করে দেখুন কোন দুর্ঘটনার চিহ্ন খুঁজে পান কি না। যদি আপনার মনে হয় ট্রাকটি এর পূর্ববর্তী মালিক কর্তৃক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তবে সেটি কিনবেন না। দুর্ঘটনার শিকার ট্রাকগুলো অনেক বেশি মেরামতের প্রয়োজন পড়ে।

১. টয়োটা তাকোমা (Toyota Tacoma)

যখন আপনি বিক্রয় হবে এমন ট্রাক বা ভ্যান খুঁজেন, তখন টয়োটা তাকোমা হবে আপনার প্রথম পছন্দ। এটা প্রথম তৈরি হয় ১৯৯৫ সালে, তাই এর বেশ কিছু পুরনো মডেল এখনও ভাল অবস্থায় পাবেন। ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে তৈরি হওয়া তাকোমাগুলো আপনি দেখবেন। এই বছরগুলোতে, তাকোমা ছিল মজবুত পিক-আপ। ২০০৫ থেকে এটি মাঝারি আকারের তৈরি করা হয়। তাকোমাতে তিনটি ইঞ্জিন রয়েছে। ২.৪ লিটারের চার সিলিন্ডার বিশিষ্টটি খোঁজ করুন। তিনটি ইঞ্জিনের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি মাইলেজ দিয়ে থাকে। তাকোমা স্বয়ংক্রিয় ও ম্যানুয়াল উভয় ট্রান্সমিশনেরই পাওয়া যায়। এছাড়াও দুই চাকা ও চার চাকা ড্রাইভের তাকোমাও তৈরি হয়েছে।

২. হোন্ডা রিজলাইন (Honda Ridgeline)

হোন্ডা ২০০৫ সালে রিজলাইন উৎপাদন শুরু করে, তাই যেখানে পুরোনো ট্রাক বিক্রি করে সেখানে খুব ভালো করে খুঁজলে আপনি কম দামে এর মধ্যে একটি পেয়ে যাবেন। এর ট্রান্সমিশন ফাইভ স্পিড অটোম্যাটিক। এর রয়েছে ৩.৫ লিটারের V6 ইঞ্জিন যেটা ২৫০ অশ্বশক্তি তৈরি করতে সক্ষম। এই শক্তির সাহায্যে যেকোনো ধরণের কাজ করা সম্ভব। এটি কেবল ফোর-ডোর মডেল (four-door model)-এ পাওয়া যায়। পেছনের সিট ভাঁজ করে রাখার মাধ্যমে বেশি পরিমাণ মালামাল রাখা যায়। কিছু কিছু মডেলে রৌদ্রছাউনি (sunroof) ও জিপিএস (GPS) রয়েছে। রিজলাইনের একটি অল-হুইল ড্রাইভ (all-wheel drive) সিস্টেম রয়েছে। যখন আপনি স্বাভাবিকভাবে চালাবেন, তখন ট্রাকের সামনের হুইল ড্রাইভ কাজ করবে। তথাপি, যদি গাড়ীটির সেন্সর বুঝতে পারে যে সামনের চাকার কোন একটি ট্রাকশান (traction) হারিয়েছে, তবে এটি আপনাকে অতিরিক্ত শক্তি যোগাতে পেছনের চাকায় শক্তি স্থানান্তরিত করে।

৩. নিশান নাভারা (Nissan Navara)

১৯৯৭ সাল থেকে নিশান নাভারা তৈরি করে আসছে। আপনাকে যদি প্রায়ই কাদামাটির রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়, যা বাংলাদেশের জন্য একটি নৈমত্তিক ব্যাপার, তবে এর জন্য এই ট্রাকটি উপযুক্ত। এতে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ট্রান্সমিশন রয়েছে: একটি ৫-স্পিড ম্যানুয়াল, একটি ৪-স্পিড ম্যানুয়াল এবং একটি ৪-স্পিড অটোম্যাটিক। আপনি ফোর হুইল ড্রাইভ (four-wheel drive) বা রিয়ার হুইল ড্রাইভ (rear-wheel drive) মডেল থেকে যে কোনটি পছন্দ করতে পারেন। ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে, নাভারায় রয়েছে ৪-লিটার V-6। এটি ২৬১ অশ্বশক্তি তৈরি করতে পারে। উপযোগিতা সরবরাহকারী যে সকল প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরণের পরিষেবা দিতে অনেক দুর্গম এলাকায় যেতে হয়, তাদের মধ্যে এই ট্রাকটি বেশ জনপ্রিয়।

৪. শেভ্রলেট ট্রেইলব্লেজার (Chevrolet Trailblazer)

জনপ্রিয় ব্লেজার লাইন ট্রাকের উন্নত সংস্করণ হিসেবে ট্রেইলব্লেজার প্রথম বাজারে আসে ১৯৯৯ সালে। আপনার পরিবার যদি বড় হয় এবং প্রায়ই আপনার আত্মীয় পরিজনদের বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে দিয়ে আসতে হয়, তবে এই কাজের জন্য ট্রেইলব্লেজার অনেক প্রশস্ত ও আরামদায়ক একটি গাড়ী। বিশেষ করে, বয়স্ক মানুষদের জন্য এটি ভালো, কেননা এর পেছনের সিটে অনেক জায়গা রয়েছে। ট্রেইলব্লেজারে ৫.৩-লিটার V-8 ও ৬-লিটার V-8 ইঞ্জিন পাওয়া যায়। কঠিন ও মজবুত গঠনের কারণে বিশ্বের কিছু কিছু দেশ ট্রেইলব্লেজারকে পুলিশের গাড়ী হিসেবে ব্যাবহার করে থাকে।

৫. ফোর্ড রেঞ্জার (Ford Ranger)

ফোর্ড রেঞ্জার লাইনের ট্রাক উৎপাদন শুরু করে সেই ১৯৬৫ সাল থেকে। অবশ্য, আপনি এতো পুরনো গাড়ী কিনতে চাইবেন না। সম্ভব হলে আপনি চেষ্টা করবেন বিগত ২৫ বছরের মধ্যে তৈরি কোনো রেঞ্জার কিনতে। এর শক্তি, নির্ভরতা, এবং ভালো গ্যাস মাইলেজের কারণে ৫০ বছর ধরে রেঞ্জার ফোর্ডের বেশ জনপ্রিয় মডেলগুলোর একটি। এতে ম্যানুয়াল ও স্বয়ংক্রিয় উভয় ট্রান্সমিশনই রয়েছে। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে উৎপাদিত রেঞ্জার বাংলাদেশী মানুষের জন্য ভালো। পুরনো হওয়ায় অনেক কম দামে পাওয়া যাবে, কিন্তু এটি এতোটা পুরনো হওয়া উচিত নয় যে, এতে অনেক কারিগরি ত্রুটি থাকতে পারে। এতে ২.৩-লিটার ইঞ্জিন রয়েছে যা ১৫৫ অশ্বশক্তি তৈরি করতে পারে। এটি অন্যান্য ট্রাকের মত অতটা শক্তিশালী নয়, কিন্তু একটি ভালো ইঞ্জিন রয়েছে যার জন্য আপনি টাকা খরচ করতে পারেন।

৬. মাজদা বি-সিরিজ (Mazda B-Series)

রেঞ্জারের মতোই, বি-সিরিজ অনেক দিন ধরে রয়েছে। তাই সেইসব বি-সিরিজ ট্রাক দেখুন যা প্রায় ২০ বছর আগে তৈরি। তথাপি, আপনি যদি এর চেয়ে নতুন মডেল ভালো অবস্থায় ও সঠিক দামে পেয়ে যান তবে কিনে ফেলুন। ১৯৮৬ তে শুরু করে, বি-সিরিজ ইঞ্জিন ২.৬-লিটার ফোর-সিলিন্ডারে উন্নীত করে এর থেকে ১২১ অশ্বশক্তি পাওয়া সম্ভব। মাজদা ট্রাকের সবচেয়ে ভালো জিনিস হচ্ছে, ক্রয় পরবর্তী সময়ে এর জন্য আপনি বাজারে অনেক সহায়তা পাবেন। অর্থাৎ আপনার ট্রাকটি যদি মেরামত করাতে হয়, তবে আপনি আপনার শহরে সহজেই এর যন্ত্রাংশ খুঁজে পাবেন, আপনাকে অন্য শহর থেকে ফরমায়েশ দিয়ে আনাতে হবে না। মাজদা বি-সিরিজ ট্রাকগুলো ব্যবসায়ীদের ব্যাবহারের জন্য উপযুক্ত নয়। প্রতিদিনের সাধারণ কাজকর্মের জন্য ব্যাবহারের ক্ষেত্রে এটি বেশ ভাল। আপনি এদের ভাঙ্গা রাস্তায় চালাতে পারেন, তবে না চালানোই ভালো।

নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments