জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সেরা গাড়ী

Share

যারা গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে হাঁপিয়ে উঠেছেন, প্রতিবার গ্যাস ভরলেই যাদের পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে, তাঁরা পুরনো গাড়ীর প্রতি আগ্রহী হবেন। এগুলোর মাইলেজ প্রতি গ্যালনে ১৭ কিলোমিটার বা তারও বেশী।
জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে, এসব গাড়ী প্রতিদিনের ড্রাইভিং চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম ও মালিকদের জ্বালানি সাশ্রয় করে। আরও ভালো ব্যাপার হচ্ছে পুরনো গাড়ীর দামের কারণে এগুলো কেনা বেশ সহজ। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নিচের গাড়ীগুলো সেরা।
হুন্দাই আই টেন (Hyundai i10)
পুরনো গাড়ীর ওয়েবসাইটে আপনি হুন্দাই আই টেন (Hyundai i10)-এর বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন যা অনেক জ্বালানি সাশ্রয়ী। গাড়ীগুলোতে দুই ধরনের ইঞ্জিনের রয়েছে এবং এদের মাইলেজও ভিন্ন। আই টেন (i10) কাপ্পা২ ১.২ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনে চলে যা ভিটি ভিটি প্রযুক্তি (VTVT technology) ব্যবহার করে থাকে। এই ইঞ্জিন ৮০ বিএইচপি (BHP) শক্তি এবং ১১৪ এনএম (Nm) টর্ক উৎপন্ন করতে পারে।
এর বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে, হুন্দাইয়ের আই টেন এরা (i10 Era) এবং ডি-লাইট (D-lite)-এ ১০৮৬ সিসি ১.১ লিটার আই আর ডি ই (iRDE) গ্যাস ইঞ্জিন রয়েছে যা জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং এর কর্মক্ষমতা বেশ ভালো। এই সংস্করণ দুইটির মাইলেজ হাইওেয়েতে ১৯.৮ কেপিএল (kpl) এবং নগরীতে কেপিএল (kpl)।
হুন্দাই আই টেন (Hyundai i10)-এ ক্রোম এক্সটিরিয়র এবং ফুল হুইল কাভার, এয়ার কন্ডিশনার, রিয়ার এন্ড ফ্রন্ট পাওয়ার উইন্ডো এবং হাইট-অ্যাডজাস্টেবল ড্রাইভার সিট রয়েছে। গাড়ীটিতর সামনে ডুয়াল এয়ারব্যাগ এবং এবিএস (ABS) সিস্টেম রয়েছে যা প্যানিক ব্রেকিংয়ের সময় চাকা লক হয়ে যাওয়া রোধ করে।
হুন্দাই ইয়ন (Hyundai Eon)
হুন্দাই ইয়ন (Hyundai Eon) মালিকের জ্বালানীর খরচ কমাতে সাহায্য করবে, যা বাজারের অন্যান্য গাড়ীর মতো নয়। এর সার্টিফাইড মাইলেজ ২১.১ কেপিএল (kpl) যা এই শ্রেণীর মধ্যে সেরা। এটি তিন সিলিন্ডার বিশিষ্ট ৮১৪ সিসি ইঞ্জিন চালিত, যা ৭৬.৫ এনএম (Nm) এবং ৫৫ বিএইচপি (BHP) শক্তি উৎপন্ন করতে সক্ষম।
এটা স্যানট্রো মডেলে যে ইঞ্জিন রয়েছে তার চেয়ে এক সিলিন্ডার কম বিশিষ্ট ইঞ্জিন। পেট্রোল সংস্করণ বাদে, এটা ম্যাগনা প্লাস (Magna Plus), এরা প্লাস (Era Plus) এবং ডি-লাইট প্লাস (D-Lite Plus) সংস্করণে এই ইঙ্গিন রয়েছে। এগুলোর সবই একই রকম টর্ক এবং শক্তি উৎপাদন করে, যা বাজারে অন্যান্য গাড়ীর সাথে ভালই টক্কর দিতে পারবে।

সবগুলো সংস্করণে ফোল্ডিং রিয়ার সিট, এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম, পাওয়ার স্টিয়ারিং এবং ফ্রন্ট পাওয়ার উইন্ডো রয়েছে। যদিও, ম্যাগনা প্লাসে কী লেস এন্ট্রি এবং একটি ইঞ্জিন মবিলাইজার রয়েছে।
টয়োটা ইটিওস লিভা (Toyota EtiosLiva)
টয়োটা ইটিওস লিভা (Toyota EtiosLiva) পেট্রোল সংস্করণে দুর্দান্ত ১১৯৭ সিসি, ৩এন আর-এফ ই (3NR-FE) ১৬-ভাল্ভ ডি ও এইচ সি (DOHC) ইঞ্জিন রয়েছে, যা ৮০ পিএস (PS) শক্তি উৎপন্ন করার পাশাপাশি ১০৪ এন এম (Nm) টর্ক এবং ১৮.৩১ কেপিএল (kpl)-এর জ্বালানী সাশ্রয় নিশ্চিত করে। অপরদিকে এর ডিজেল সংস্করণ ১৩৬৪ ডিজেল ইঞ্জিনে চলে, যার সর্বোচ্চ শক্তি ৬৯ পি এস (PS) এবং এর ঘূর্ণন গতি ৩৮০০ আর পি এম (rpm)। টয়োটা ইটিওস লিভা ডিজেলের মাইলেজ শহরের মধ্যে ২০.২৩ কেপিএল (kpl)এবং হাইওয়েতে ২৩.৫৯ কেপিএল (kpl)।
গ্যাস এবং ডিজেল উভয় সংস্করণে আরোহীর সর্বোচ্চ আরামের জন্য চমৎকার এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম, পাওয়ার স্টিয়ারিং, রিমোট সেন্ট্রাল লকিং, স্টিয়ারিং মাউন্টেড অডিও কন্ট্রোল এবং ড্যাশ ইন্টিগ্রেটেড মিউজিক্যাল সিস্টেম রয়েছে।
শেভ্রলেট ক্রুজ ইকো (Chevrolet Cruze Eco)
এটি এমন একটি গাড়ী,যেটিতে মাঝারি ধরনের সেডানের অনেক সুযোগ-সুবিধা এবং জায়গার পাশাপাশি শেভ্রলেট ক্রুজের কর্মদক্ষতা বা পারফর্মেন্স পাবেন। এতে রয়েছে চার সিলিন্ডার বিশিষ্ট ১.৪ লিটার টার্বো চার্জড, ১৩৮-হর্স পাওয়ার ইঞ্জিন, যা ম্যানুয়াল সিক্স-স্পিড ট্রান্সমিশনের সাথে সংযুক্ত থাকলে হাইওয়েতে ১৮ কেপিএল (kpl) এবং শহরে ১১ কেপিএল (kpl) এবং অটোম্যাটিক সিক্স-স্পিড ট্রান্সমিশনের সাথে সংযুক্ত থাকলে হাইওয়েতে ১৬ কেপিএল (kpl)এবং শহরে ১১ কেপিএল (kpl) মাইলেজ প্রদান করে। এর স্ট্যান্ডার্ড ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে ছয় স্পিকারের অডিও সিস্টেম, দশটি এয়ার ব্যাগ, পাওয়ার উইন্ডো এবং ডোর লক। ছোটখাটো হলেও এর ভেতরে অনেক জায়গা রয়েছে, এতে টয়োটা করলা বা হোন্ডা সিভিকের চেয়ে বেশী আরোহী ও মালামাল নেয়ার জায়গা রয়েছে।
টয়োটা প্রিয়াস ভি (Toyota Prius V)
পুরনো প্রিয়াস ভি (Toyota Prius V) গাড়ীর মূল্য বাজারে সবচেয়ে কম। এই গাড়ীটি একটি ছোট উইটিলিটি গাড়ীর মালামাল ধারণ ক্ষমতা এবং তিনগুণ গ্যাস মাইলেজ রয়েছে।
জ্বালানী সাশ্রয় সাধারণ প্রিয়াসের চেয়ে অনেক কম, কিন্তু ডিজেল ও হাইব্রিড ইঞ্জিনের ছোট এসইউভি (SUV)-এর চাইতে বেশী। এটি শহরে ১৭ কেপিএল (kpl) এবং হাইওয়েতে ১৯ কেপিএল (kpl) মাইলেজ দেয়। প্রিয়াসভি-এর ষ্ট্যাণ্ডার্ড ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে কী-লেস এন্ট্রি, টাচ স্ক্রিন ইনফরমেশন সিস্টেম, অডিও এবং ব্লু-টুথ ফোন স্ট্রিমিং, একটি ব্যাকআপ ক্যামেরা এবং একটি ইউএসবি (USB) পোর্ট।

ফোর্ড ফিয়েস্তা এসএফই (Ford Fiesta SFE)
ফোর্ড ফিয়েস্তা এসএফই চার সিলিন্ডার বিশিষ্ট ১.৬ লিটার ১২০ হর্স পাওয়ার ইঙ্গিন চালিত, যার রেটিং হাইওয়েতে ১৭ এবং শহরে ১৩ কেপিএল (kpl)। এতে ইন্টিগ্রেটেড সাইডভিউ ব্লাইন্ডস্পট মিরর এবং চালকের সিটে একটি আর্মরেস্ট রয়েছে।
এতে টেলিস্কপিক এবং টিল্ট স্টিয়ারিং হুইল, সাতটি এয়ার ব্যাগ, এয়ার কন্ডিশনিং এবং স্টেবিলিটি অ্যান্ড ট্র্যাকশন কন্ট্রোল রয়েছে। অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে সাইড এয়ার ডিফলেক্টর, রিয়ার স্পয়লার, লো গ্রিল ব্লকার, ক্রুজ কন্ট্রোল এবং লো রোলিং রেসিস্টেন্স টায়ার।
মাজদা থ্রী (Mazda 3)
জ্বালানী সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে মাজদা থ্রী-এর ডিজাইনে সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে, বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে এর নীচের বডি ও বাইরের বডির এয়ার ডাইন্যামিক্স উন্নত করার ক্ষেত্রে। এটি চার দরজার হ্যাচব্যাক বা সেডান হিসেবে পাওয়া যায়, এর ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে পাওয়ার ডোর লক এবং উইন্ডো, ছয়টি এয়ার ব্যাগ এবং ট্র্যাকশন এবং স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল।
এটিতে স্কাইঅ্যাক্টিভ-জি (Skyactiv-G) ইঞ্জিন, একটি দুই লিটার ১৫৫-হর্স পাওয়ার ডিরেক্ট-ইঞ্জেকশন ইঞ্জিন রয়েছে, যা হাইওয়েতে ১৭ কেপিএল (kpl) এবং শহরে ১৪ কেপিএল (kpl) মাইলেজ দেয়। এটি মাজদা সিক্স-স্পিড অটোম্যাটিক স্কাইঅ্যাক্টিভ ড্রাইভ ট্রান্সমিশনের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় আগের সেডান বডি স্টাইলের চেয়ে ২১ ভাগ উন্নত।
ভক্সওয়াগন গলফ (Volkswagen Golf)
সর্বশেষ ভক্সওয়াগন গলফ ইতোমধ্যেই মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে সবচেয়ে সেরা জ্বালানী সাশ্রয়ী গাড়ী এবং এতে রয়েছে গুণগত মান, স্টাইল, কর্মদক্ষতা বা পারফর্মেন্স এবং ড্রাইভার আপিল। যদিও, নতুন ইকো-টার্নড ব্লু মোশন মডেল এর কর্মদক্ষতাকে অনেক উঁচু পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
এর জ্বালানী খরচ সেরা সুপার মিনিগুলোর মতো, যা কম্বাইন্ড সাইকেলে ৩৮ কেপিএল (kpl)। যা এক ট্যাঙ্ক ডিজেলে প্রায় ১৬০০ কিলোমিটারের মতো যেতে পারে। আধুনিক গলফ মোশন পাঁচ অথবা তিন দরজার গাড়ী হিসেবে পাওয়া যায় এবং এর অভ্যন্তরভাগ গুণগত মান সম্পন্ন উপাদানে তৈরি। এতে অনেক জায়গা রয়েছে এবং এর বুট সাইজ ৩৮০ লিটারের ফোর্ড ফোকাসের চেয়ে অনেক বড়।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments