All posts by Pujan Kumar

কর্মী নিয়োগের সময় এই সাধারণ ৫টি ভুল করছেন না তো?

প্রতিষ্ঠানে সফলতা আনার জন্য সঠিক কর্মী নির্বাচন করা প্রয়োজন। উপযুক্ত কর্মী ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান-ই তাদের লক্ষ্যের দিকে আগাতে পারেনা। সেইসাথে, যেসব কর্মী, পদের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার সাথে নিজেদের মিলিয়ে নিতে পারেনা তাদের কে নিয়োগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে তা প্রতিষ্ঠানে অনেক অযাচিত সমস্যা এবং অদরকারি খরচ বয়ে আনে।  

চাকরিতে নিয়োগের সময় সাধারণ যে ভুলগুলো হয় তা এড়াতে, নিয়োগ কর্তাদের জানা উচিত, সঠিকভাবে কিভাবে কর্মী নিয়োগ করা উচিত যেনো পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানকে কোন ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয়। কেননা যদি ভুল কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে, একটা সময় কোন না কোন ভাবে  হয় তারা চাকরিচ্যুত হয় বা নিজে থেকেই চাকরি ছেড়ে চলে যায়। যার ফলস্বরুপ নিয়োগকর্তাদের আবারো নিয়োগের পুরো পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করতে হয়।

নিয়োগের সময় সাধারণ যেসব ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে সেগুলো হল-

১। প্রার্থীদের অপর্যাপ্ত সার্চ পুল

নিয়োগের সময়কার একটি বড় ভুল হয় আবেদনকারী প্রার্থীদের পুল তৈরির সময়। বেশিরভাগ নিয়োগকর্তাই বেশিরভাগ সিভি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র হাতে গোনা কয়েকটা সিভি রাখেন যা তাদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করে।

নিয়োগ কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কিভাবে সিভি তৈরি করতে পারেন তা বিস্তারিত জানতে আমাদের আরেকটি আর্টিকেল দেখুন “চাকরির জন্য সিভি তৈরির সঠিক নিয়ম

উপযুক্ত কর্মী নিয়োগের জন্য, যারা ভালো ক্যান্ডিডেট আছেন তাদের সর্টলিস্ট করা জরুরী কিন্তু এই কাজটা প্রাথমিক বাছাইয়ের সময় থেকেই করা উচিত নয়।

প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য লাভের অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে বৈচিত্রতা। বৈচিত্রতা বলতে, প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, বয়সের মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করা বোঝায়। বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের থেকে সঠিক কর্মী বাছাই, তাদের নানা ধরণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং মতাদর্শ যেসব নতুন এবং ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনার মিশ্রণ ঘটাবে কর্মস্থলে তা প্রতিষ্ঠানটিকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রমী করে তুলবে। নিয়োগকর্তারা তাদের ক্যান্ডিডেট পুলে যোগ্য কর্মীর আবেদন বাড়ানোর জন্য ভিন্নধর্মী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেন। মানুষজন আজকাল  খুব কমই সংবাদপ্ত্রের চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অংশটা পড়ে থাকেন, বেশিরভাগ-ই ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোতে চাকরির বিজ্ঞপ্তি খুজে বেড়ান। চাকরি সন্ধানিদের মাঝে ফেইসবুক এবং লিঙ্কড-ইন বর্তমানে চাকরি খোজার সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। Bikroy.com ও নতুন একটি প্লাটফর্ম bikroyJobs এমন ভাবে ডেভলভ করেছে যেন এর সাহায্যে নিয়োগকর্তারা খুব সহজেই খুজে নিতে পারবেন যোগ্য প্রার্থীদেরকে। BikroyJobs সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন দেখুনঃ জব পোর্টাল সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দিতে BikroyJOBS এর নতুন সূচনা!

 এছাড়াও প্রার্থীদের আবেদনের সংখ্যা বাড়াতে , নিয়োগকর্তাদের উচিত বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা,তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গুলো প্রকাশ করার জন্যে, যেমন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো, যেনো বিভিন্ন ধরণের মানুষ খুব সহজেই চাকরির আবেদন করতে পারেন।

২। নিয়োগকারীদের প্রার্থীর ব্যাপারে প্রথম ধারণা

এটা খুব-ই স্বাভাবিক যে ইন্টারভিউ এর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় আবেদনকারী প্রার্থীর ব্যাপারে নিয়োগকর্তারা কিছু একটা ধারণা পোষণ করবেন। একজন প্রার্থীর কথা বলার ধরণ, তার আচার-আচরণ এবং তার হাব-ভাব সকল কিছুর উপরেই নির্ভর করে একজন ইন্টারভিওয়ার তার ব্যাপারে এবং নির্দিষ্ট পদটির জন্য সে কতটুকু যোগ্য তা নিয়ে মতামত পোষণ করেন।

নিয়োগকর্তারা প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণত কি কি গুনাবলি খেয়াল করে থাকেন তা বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনঃ ইন্টারভিউ বোর্ড-এ কি করা উচিৎ আর কি উচিৎ না

একজন নিয়োগকর্তা যদি  নিয়োগের চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নেয় শুধুমাত্র প্রার্থীর প্রতি তার নিজস্ব ধারনার উপর ভিত্তি করে তবে এতে করে ভুল প্রার্থী নির্বাচনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একজন প্রার্থীর হয়তো নির্দিষ্ট পদের জন্য দরকারি সকল জ্ঞান এবং দক্ষতা দুইটিই আছে, কিন্তু নার্ভাসনেস কিংবা ইন্টারভিউতে সঠিক ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে না পারায় প্রথম ইমপ্রেশন খারাপ হয়ে গেছে। এতে করে নিয়োগকর্তাদের মনে হতে পারে ব্যক্তিটি পদটির জন্য উপযুক্ত নয়। এতে করে প্রতিষ্ঠানটিও একজন দক্ষ এবং যোগ্য লোককে হারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

এসব থেকে পরিত্রাণের জন্য নিয়োগ কর্তাদের উচিত ইন্টারভিউ এর সময় প্রার্থীদের সিভি তে উল্লিখিত দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অন্যান্য যেসব সহকারী তথ্য দেওয়া থাকে তার উপর প্রাধান্য দেওয়া। নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা ছাড়া অন্যান্য বিষয়াদির উপর গুরুত্ব প্রদান করা না হলে নিয়োগ কর্তাদের পক্ষে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে সুবিধা হবে।

৩। আবেদনকারী প্রার্থীদের চাকরি/ইন্টারভিউয়ের জন্য পূর্ব-প্রস্তুত না কর

ইন্টারভিউটা যেনো ভালোমত দিতে পারে, তার জন্য প্রার্থীদেরে একটা নির্দিষ্ট পরিমান পূর্ব প্রস্তুতির প্রয়োজন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ই ইন্টারভিউয়ার, প্রার্থীদেরকে প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি নিয়ে প্রশ্ন করে থাকেন এবং প্রার্থীর কাছ থেকেও একি রকম প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন আশা করে থাকেন। এইভাবে,সকল প্রার্থীকে একই ধরণের প্রশ্ন সেই সাথে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে ইন্টারভিউয়ের  অনেক মুল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য সময় বাচাতে এবং গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলা যেমন- প্রার্থীর দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে সে কতটুকু খাপখাওয়াতে পারবে, এসব নিয়ে কথা বলতে, নিয়োগ কর্তাদের উচিত ইন্টারভিউয়ের আগেই প্রার্থীদের উপরোক্ত বিষয়গুলো জানিয়ে দেওয়া। নিয়োগকর্তারা চাকরির পদটির একটি বিস্তারিত জব ডেসক্রিপশন প্রস্তুত করে তাতে পালনীয় দায়িত্বসমূহের উল্লেখ করে দিতে পারেন সেই সাথে কি কি কাজ করা লাগবে এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত তথ্যাবলি, রীতিনীতি সম্পর্কিত তথ্য । এসব ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে  কোম্পানির মিশন এবং উদ্দেশ্য বিষয়ে বর্ণনা দেওয়া থাকলে প্রার্থীরা তা পড়ে নিজেরাই বুঝতে পারবেন প্রতিষ্ঠানটি কি ধরণের এবং সেই সাথে যাচাই করে নিতে পারবেন তারা কতটুকু উপযুক্ত কাজ করার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানটিতে।

একজন প্রার্থী হিসেবে, কিভাবে নিজে থেকে কিভাবে ইন্টারভিউ এর প্রস্তুতি নিতে দেখে নিন ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে ভালো মত প্রস্তুত করবেন

৪। নিয়োগকর্তাদের পূর্ব প্রস্তুত না করা

নিয়োগকারীদের দিক থেকে একটি প্রধান ভুল হচ্ছে, বেশিরভাগই কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখেন না। অনেক নিয়োগ কর্তাই যেটা বোঝেন না সেটা হচ্ছে, একটা বিনা পরিকল্পনার রিক্রুট্মেন্টে ইন্টারভিউ করা শখানেক প্রার্থীর মধ্যে থেকে কে সব থেকে বেশি যোগ্য তা নির্ধারণ করা কষ্টকর। প্রার্থীদের যদি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন না করা হয় এবং যদি তা নিয়োগকর্তার প্রয়োজন অনুযায়ী না হয় সেক্ষেত্রে ভুল লোক নিয়োগের সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকখানি। অন্যদিকে প্রশ্নকর্তাদেরকেও প্রস্তুত করা উচিত, তাদেরও জানা উচিত কিভাবে সঠিক প্রার্থীকে বাছাই করতে হবে। সঠিক পূর্ব পরিকল্পনা করতে হবে যেখানে থাকবে – যেই পদের জন্য লোক নেওয়া হচ্ছে তার কার্যবিবরণী, প্রার্থীদের প্রাসঙ্গিক কি কি প্রশ্ন করা যায় এবং ইন্টারভিওয়ের সময় প্রার্থীর দক্ষতা এবং যোগ্যতার সঠিক যাচাই-বাছাই।

ইন্টারভিউটাকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে পারলে তা যেমন প্রতিষ্ঠানের  কাজ এবং সময় বাচাবে সেই সাথে, নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দরকারি তথ্য খুজে বের করতেও সুবিধা হবে।

৫। আবেদনকারী প্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাই করা

নিয়োগকর্তাদের উচিত আবেদনকৃত সব এপ্লিকেশন গুলো দেখা এবং একই ধরণের প্রার্থীদের সমগোত্রীয় করা। এডভান্স প্রযুক্তির সহায়তায় এখন আমাদের হাতের নাগালের মধ্যেই বিভিন্ন ধরণের সফটওয়্যার  আছে যা এই ক্লান্তিকর কাজ এর সমাধান করে দেয় অতি সহজেই। এপ্লিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে নিয়োগকর্তারা খুব সহজেই সেসব প্রার্থীদের সিভি আলাদা করে নিতে পারেন যাদের তাদের দরকার এবং যাদের পদটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা এবং পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। এই ভাবে কাজ করার মাধ্যমে, পুরো নিয়োগের জন্য নির্ধারিত সময়ের অনেকখানি বেচে যায় এবং নিয়োগকর্তাদেরও সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

প্রার্থী স্ক্রিনিং পদ্ধতিতে রেফারেন্স চেকিং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। এমন অনেক প্রার্থী থাকেন যারা ইন্টারভিউয়ের সময় তাদের সিভি তে সঠিক ভাবে বিভিন্ন তথ্যের উল্লেখ করেন না, এই আশায় সে উল্লেখ না থাকায় ওসব বিষয়গুলো উপেক্ষিত থেকে যাবে। কিন্তু এরকমটি যেনো না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য,তাদের উল্লিখিত তথ্য এবং রেফারেন্সের সত্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। এতে করে নিয়োগকর্তারা নিশ্চিত হতে পারবেন যে কে যোগ্য এবং সঠিক প্রার্থীকে বাছাই করতে পারবেন যারা প্রতিষ্ঠানের জন্যও হবে মানানসই।  

এখনকার দিনে, এতো মানুষের ভীড়ে আসল ট্যালেন্ট খুজে বের করা অনেক কষ্টসাধ্য। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান-ই এমন কর্মী চান যিনি তাদের এবং প্রতিষ্ঠানের জন্যে বয়ে নিয়ে আসবে সর্বাধিক লাভ কেননা কর্মীরাই হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সঠিক প্রার্থী নির্ধারণের মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা দৈনন্দিন সুইফট অপারেশন পরিচালনার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে পারেন কম খরচ এবং বেশি লাভ।

উপরে উল্লেখিত ভুল ত্রুটিগুলো খেয়াল রাখলে, নিয়োগকর্তারা বুঝতে পারবেন কীভাবে যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া যায়, যারা প্রতিষ্ঠানের জন্য সেরা হবে।

অন্য আর কোন কোন নিয়োগ সময়কার ভুলের কথা যেটা উল্লেখ করা হয়নি কিন্তু করা উচিত ছিলো আর্টিকেলটিতে, সেরকম কিছু সম্পর্কে আপনার মতামত জানান আমাদেরকে কমেন্ট সেকশনে।

নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য প্রার্থী খুজছেন? আপনার নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যবহার করুন আমাদের এডভান্সড টুল “ট্যালেন্ট সার্চএবং ৪,৩৪,০০০+ প্রোফাইল থেকে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য ব্যক্তি খুঁজে নিন।


Bikroy-এর মোটরবাইক রিভিউ কন্টেস্ট – জিতে নিতে পারবেন আকর্ষণীয় পুরস্কার!

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com, এই প্রথমবারের মতো নিয়ে এলো রিভিউ কন্টেস্ট। এবারের টপিক – ‘মোটরবাইক রিভিউ’। এই প্রতিযোগিতাটি মোটরবাইক প্রেমী এবং বিশেষ করে যারা লিখতে ভালবাসেন, তাদের জন্য চমৎকার একটি সুযোগ। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা পছন্দের মোটরবাইক নিয়ে রিভিউ আর্টিকেল লিখে জিতে নিতে পারবেন আকর্ষণীয় পুরস্কার। এছাড়াও বিজয়ীদের জন্য থাকছে Bikroy ব্লগের নিয়মিত লেখক হয়ে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ।

মোটরবাইক Bikroy-এর অন্যতম জনপ্রিয় একটি পণ্য। Bikroy Vehicles-এ মাসে সবরকম যানবাহন মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বিজ্ঞাপন রয়েছে যার মধ্যে মোটরবাইকের বিজ্ঞাপন ৫ হাজারেরও বেশি। এছাড়াও Bikroy Vehicles-এ মাসিক ১০ লক্ষ এরও বেশি আগ্রহী ক্রেতা রয়েছে। মূলত মোটরবাইকের জনপ্রিয়তা এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে মোটরবাইক কিনতে আগ্রহী, এমন ক্রেতারা যাতে এসকল রিভিউ থেকে একটি ভালো ধারণা পান।

একজন প্রতিযোগী কেবল একটিই রিভিউ আর্টিকেল পাঠাতে পারবেন এবং এক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজি যেকোনো ভাষায় লেখা পাঠানো যাবে। প্রতিযোগিতাটিতে অংশগ্রহণের শেষ তারিখ ১৫ মে, ২০১৯। সংগৃহীত রিভিউ আর্টিকেল থেকে তিনটি সেরা রিভিউ আর্টিকেল লেখকদের বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হবে। রিভিউ আর্টিকেল নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন Bikroy-এর ম্যানেজমেন্ট টিমের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২০ মে, ২০১৯। 

পুরস্কারসমূহঃ

  • ১ম পুরস্কারঃ বাইক সেফটি গিয়ার
  • ২য় পুরস্কারঃ হেলমেট
  • ৩য় পুরস্কারঃ বাইক লক

এছাড়াও বিজয়ীদেরকে Bikroy-এর পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে এবং নির্বাচিত তিনটি রিভিউ আর্টিকেল Bikroy-এর ব্লগ সাইটে প্রকাশ করা হবে।

প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে Bikroy.com-এর হেড অব মার্কেটিং এন্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন বলেন, “Bikroy-এ আমরা গ্রাহকদের জন্য সবসময়ই ভিন্ন কিছু আয়োজন করে থাকি। এবার প্রথমবারের মতো আমরা গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এসেছি মোটরবাইক রিভিউ কন্টেস্ট, যাতে অংশ নিয়ে প্রতিযোগীরা জিতে নিতে পারবেন বাইকের জন্য সেফটি কিটস। যারা লিখতে পছন্দ করেন, তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান যাতে তারা পছন্দের মোটরবাইক নিয়ে রিভিউ লিখার মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। আমার বিশ্বাস, সকল প্রতিযোগীই নতুন কিছু লেখার ব্যাপারটি উপভোগ করবেন।”

শর্তাবলীঃ

  • প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে এই লিঙ্কটিতে ক্লিক করুনঃ আর্টিকেল জমা দিন
  • আর্টিকেল হিসেবে জমা দেওয়া লেখাটি মৌলিক বা নতুন হতে হবে। এর কোন অংশ পূর্বে প্রকাশকৃত বা প্রকাশনার জন্য বিবেচিত হওয়া অথবা অন্য কোনো প্রতিযোগিতার জন্য বিবেচিত হবে না। যেকোনো ধরণের কপি-পেস্ট অথবা অন্যের লেখা- এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেটি অযোগ্য বলে গণ্য করা হবে।
  • কোনো ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে কটূক্তিমূলক লেখা গ্রহণযোগ্য হবে না।
  • প্রতিযোগিতার গোপনীয়তা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে Bikroy এর কোনো কর্মী এই প্রতিযোগিতায়  অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
  • বিজয়ী নির্ধারণে Bikroy এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
  • পুরস্কারপ্রাপ্ত উপহারসমূহ ফেরত, বিনিময় বা বদলিযোগ্য নয়।

২০১৯ সালে বাংলাদেশে ডেল ল্যাপটপের হালনাগাদ

ডেল কোম্পানির লেটেস্ট ল্যাপটপগুলো

আমাদের দেশের সব প্রান্তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে দেশব্যাপী ল্যাপটপের চাহিদাও বেড়েছে বহুগুণে। তবে আজকাল সব বাঘা বাঘা প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভিড়ে টেক কোম্পানি ডেল মার্কেটপ্লেসে বেশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ডেল যে শুধুমাত্র নানা ধরণের ল্যাপটপই বিক্রি করছে তা না, বরং তারা গ্রাহকদের জন্য অফার করছে বিভিন্ন কনফিগারেশনের ডেস্কটপ কম্পিউটার, কম্পিউটারের বিভিন্ন পার্টস সহ আরো নানা রকমের পণ্য। যাই হোক, ধীরে ধীরে ডেস্কটপ ব্যবহারকারীরা তাদের কম্পিউটার ব্যবহারের অনড় ও স্থাবর অপশন থেকে সরে আসছেন এবং দিনকে দিন আরো অধিক মাত্রায় ল্যাপটপ ব্যবহার করায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। বিভিন্ন প্রফেশনাল ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, এমনকি সাধারণ জনগনের জন্যও ল্যাপটপের ব্যবহার ধীরে ধীরে আরো বেশি গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠছে।

বিশ্ব বাজারে ল্যাপটপের ইন্ডাস্ট্রি চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়েই চলেছে, আর গ্রাহকরা চাচ্ছেন সবচেয়ে সহনীয় মূল্যে সম্ভাব্য সবচেয়ে সেরা মান ও স্পেসিফিকেশনের একটি ল্যাপটপ। এমনিতেই ল্যাপটপ কেনা কোনো অল্প টাকার মামলা নয়; আর যেই ল্যাপটপগুলোর দাম অস্বাভাবিক রকম কম, সেখানে ল্যাপটপের গুনগত মান ঠিক কতটা ভালো কিংবা সেটি কতদিন টেকসই থাকবে সে ব্যাপারে সন্দেহ রয়েই যায়। একদিকে যেভাবে মানুষ ধীরে ধীরে ডেস্কটপ কম্পিউটার থেকে সরে আসছেন এবং ল্যাপটপের দিকে ঝুঁকছেন, অন্যদিকে এসার, আসুস, কিংবা ডেলের মত কোম্পানিগুলোও গ্রাহকদের এই পরিবর্তনের দরুন মার্কেটে তৈরি হওয়া সুবর্ণ সুযোগটি লুফে নিচ্ছে। আমাদের আজকের প্রতিবেদনটির মূল ফোকাস হচ্ছে ডেল ল্যাপটপের দিকে। এছাড়াও আমরা জানবো, কীভাবে তারা প্রতিনিয়ত নতুন সব বৈশিষ্ট্যময় ও আকর্ষণীয় ল্যাপটপ মার্কেটে আনছেন, তাও আবার দারুণ সব সাশ্রয়ী মূল্যে। আর টাকা খরচ করার আগে কীভাবে আপনার প্রয়োজন বুঝে সেরা ল্যাপটপটি কিনবেন সে ব্যাপারে ধারণা পাওয়ার জন্য ‘বাংলাদেশে আপনার বাজেটের মধ্যে সেরা ল্যাপটপটি কিনুন’ শীর্ষক আমাদের আগের প্রতিবেদনটি পড়ে দেখার অনুরোধ রইলো।

এখনকার বাজারে ডেলের লেটেস্ট ল্যাপটপ

এখন চলুন দেখে নেয়া যাক আমাদের দেশে ল্যাপটপের বাজারে ডেলের বর্তমান অবস্থা। বেশ কিছু বছর ধরে ইনটেল কোর প্রসেসরগুলো মার্কেটে বেশ জোরালো অবস্থান দখল করে রেখেছে। তা সত্ত্বেও আমাদের বাংলাদেশি টেক মার্কেটে সহজলভ্য প্রসেসরগুলোর মধ্যে পেন্টিয়াম, এটম এবং কোর এগুলোই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। আর যেখানে ল্যাপটপের প্রসঙ্গ চলে আসে, সেখানে ডেল আপনাদের দিচ্ছে ইনটেল কোর আই৩ সপ্তম জেনারেশনের ল্যাপটপ বাংলাদেশে মাত্র ৩৫০০০ টাকার মধ্যে। এই ল্যাপটপটি হচ্ছে ডেল ইন্সপায়রন ১৫-৩৫৬৭।

ডেল ইন্সপায়রন ১৫-৩৫৬৭, বাজেটের মধ্যে একটি গেম-চেঞ্জার ডিভাইস

Dell Inspiron 15-3567

মূল স্পেসিফিকেশন:

প্রসেসর ইনটেল কোর আই৩-৭০২০ইউ প্রসেসর (৩ মেগাবাইট ক্যাশ, ২.৩০ গিগাহার্জ)
মেমোরি ৪ জিবি ডিডিআর৪ ২৪০০ মেগাহার্জ র‍্যাম
স্টোরেজ ১ টেরাবাইট ৫৪০০ আরপিএম হার্ড ড্রাইভ
গ্রাফিক্স ইনটেল এইচডি গ্রাফিক্স ৬২০
ডিসপ্লে ১৫.৬ ইঞ্চি এইচডি (১৩৬৬ x ৭৬৮) এন্টি-গ্লেয়ার এলইডি ব্যাকলিট ডিসপ্লে
অডিও ওয়েভস ম্যাক্স অডিও প্রো ২ এর সাথে হাই ডেফিনেশন অডিও
১টি কম্বো হেডফোন / মাইক্রোফোন জ্যাক ২
ওয়েব ক্যামেরা ইন্টিগ্রেটেড ওয়াইডস্ক্রিন এইচডি (৭২০পি) ওয়েবক্যাম, সাথে ডিজিটাল মাইক্রোফোন
নেটওয়ার্কিং ১০/১০০ ইথারনেট ল্যান, ডেল(টিএম) ওয়্যারলেস ১৭০৪ ৮০২.১১বি/ জি/ এন সহ ব্লুটুথ ভার্সন ৪.০
ব্যাটারি প্রাইমারি ২ সেলের ব্যাটারি
অপারেটিং সিস্টেম ফ্রি ডিওএস
কোম্পানির ওয়ারেন্টি ২ বছরের আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি

অতএব, ল্যাপটপটির এতসব ফিচারের কথা বিবেচনা করলে এই ডিলটি নিঃসন্দেহে দারুণ।

গ্রাহকরা যদি এর চেয়েও সাশ্রয়ী কোন অপশনের খোঁজ করে থাকেন, তাহলে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ডেল ইন্সপায়রন এন৩৪৬২ ল্যাপটপটিতে তাদের টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন। এই ল্যাপটপটিতে রয়েছে পেন্টিয়ামের একটি কোয়াড কোর (চার কোর) প্রসেসর, যার দরুণ ল্যাপটপটির দাম যথেষ্ট কমে এসে বাংলাদেশে প্রায় ২৭০০০ টাকায় নেমে এসেছে। এই ল্যাপটপগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ, পাশাপাশি সেসব ব্যবসায়ী প্রফেশনাল ও কর্মকর্তাদের জন্যও, যারা একটি ল্যাপটপের পেছনে অনেক বিশাল অংকের টাকা খরচ করতে পারেন না, কিন্তু এমন একটি ডিভাইস কিনতে চান যেটি তাদেরকে অন্তত বেশ কিছু বছর পর্যন্ত সার্ভিস দিতে পারবে।  

ডেল ইন্সপায়রন এন৩৪৬২, দামের তুলনায় পাচ্ছেন অনেক বেশি কিছু

Dell Inspiron N3462

মূল স্পেসিফিকেশন:

প্রসেসর ইনটেল পেন্টিয়াম প্রসেসর এন৪২০০ (২মেগাবাইট ক্যাশ, ১.১০ গিগাহার্জ থেকে শুরু করে ২.৫ গিগাহার্জ পর্যন্ত)
ডিসপ্লে ১৪.০ ইঞ্চি এইচডি (১৩৬৬ x ৭৬৮) এন্টি গ্লেয়ার এলইডি ব্যাকলিট ডিসপ্লে
মেমোরি ৪ জিবি ডিডিআর৩এল ১৬০০ মেগাহার্জ
স্টোরেজ ৫০০ জিবি ৫৪০০ আরপিএম স্যাটা হার্ড ড্রাইভ
গ্রাফিক্স ইনটেল এইচডি গ্রাফিক্স ৫০৫
অপারেটিং সিস্টেম ফ্রি ডিওএস
ব্যাটারি ৪০ ওয়াট প্রতি ঘন্টা, ৪ সেলের ব্যাটারি (প্রতিস্থাপনযোগ্য)
অ্যাডাপ্টার ৪৫ ওয়াট এসি অ্যাডাপ্টার (সাথে স্ট্যান্ডার্ড গ্রাফিক্স)
অডিও ওয়েভস ম্যাক্স অডিও প্রো এর সাথে  ২টি টিউনড স্পিকার

ডেলের একটি ভালো ল্যাপটপের জন্য মূল দামের রেঞ্জ ধরা হয়েছে বাংলাদেশে ২২০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৭০০০ টাকার মধ্যে। ডেলের আরেকটি সমসাময়িক ভালো মানের ল্যাপটপ মডেল হচ্ছে ডেল ইন্সপায়রন ১৪ এন৩৪৬৭ ল্যাপটপ, যার দাম বাংলাদেশে ধরা হয়েছে মাত্র ৪৪০০০ টাকা। এখানে ‘মাত্র’ বলছি, কারণ এতে রয়েছে ইনটেল কোর আই৫ এবং সেটিও সপ্তম জেনারেশনের।

ডেল ইন্সপায়রন ১৪ এন৩৪৬৭

Dell Inspiron 14-N3467

মূল স্পেসিফিকেশন:

প্রসেসর ইনটেল কোর আই৫-৭২০০ইউ প্রসেসর (৩মেগাবাইট ক্যাশ, ২.৫০ গিগাহার্জ থেকে শুরু করে ৩.১০ গিগাহার্জ পর্যন্ত)
মেমোরি ৪ জিবি ডিডিআর৪ ২৪০০ মেগাহার্জ
স্টোরেজ ১ টেরাবাইট ৫৪০০ আরপিএম হার্ড ড্রাইভ
গ্রাফিক্স ইনটেল এইচডি গ্রাফিক্স ৬২০
ডিসপ্লে ১৪.০ ইঞ্চি এইচডি (১৩৬৬ x ৭৬৮) এন্টি গ্লেয়ার এলইডি ব্যাকলিট ডিসপ্লে
অডিও ওয়েভস ম্যাক্স অডিও প্রো ২ এর সাথে হাই ডেফিনেশন অডিও
১টি কম্বো হেডফোন / মাইক্রোফোন জ্যাক ২
ওয়েব ক্যামেরা ইন্টিগ্রেটেড ওয়াইডস্ক্রিন এইচডি (৭২০পি) ওয়েবক্যাম, সাথে ডিজিটাল মাইক্রোফোন
নেটওয়ার্কিং ১০/১০০ ইথারনেট ল্যান, ডেল(টিএম) ওয়্যারলেস ১৭০৪ ৮০২.১১বি/ জি/ এন সহ ব্লুটুথ ভার্সন ৪.০
ব্যাটারি প্রাইমারি ৪ সেলের ব্যাটারি
অপারেটিং সিস্টেম ফ্রি ডিওএস
কোম্পানির ওয়ারেন্টি ২ বছরের আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি

আজকাল ডেলের লেটেস্ট ল্যাপটপগুলোতে লেটেস্ট প্রসেসরের পাশাপাশি আর ভালো গ্রাফিক্স কার্ডের ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘন্টায় ব্যাটারি লাইফও আগের চেয়ে আরো উন্নত হয়েছে, তবে একেক মডেলের জন্য এই ব্যাটারি লাইফ একেক রকম। ডেল তাদের ইন্সপায়রন সিরিজটিতে অনেক ভিন্ন ভিন্ন ধরণের ল্যাপটপ আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে, যার মধ্যে ৩টি মডেল সম্পর্কে আমরা উপরে আলোচনা করেছি । আর এই ৩টি মডেলেরই স্ক্রিন সাইজ একই রকম, অর্থাৎ ১৫.৬ ইঞ্চি। এছাড়াও উপরে উল্লেখিত সবগুলো ল্যাপটপের সাথেই রয়েছে একটি করে ৪ জিবি ইন-বিল্ট (মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত) র‍্যাম। এই বৈশিষ্ট্যগুলো হালকা কাজের জন্য যেমন আদর্শ, তেমনি এই ফিচারসহ ল্যাপটপগুলোর আয়ুষ্কালও সেরকম হয়। আপনারা চাইলে এই র‍্যাম মেমোরি আরো বাড়িয়ে নিতে পারবেন, তবে সেটি করতে হবে এক্সটারনাল ভাবে বা মাদারবোর্ডের বাইরে থেকে।

তবে সম্ভাব্য ক্রেতারা যদি এমন একটি ডেল ল্যাপটপ খোঁজেন যাতে ইন-বিল্ট মেমোরি আরো বেশি, তাহলে তারা ডেল ইন্সপায়রন ১৫- এন৫৫৬৭ এর উপর ভরসা করতে পারেন। ইনটেল কোর আই৫ প্রসেসর সহ এই ল্যাপটপটির ভেতরে দেয়া হয়েছে ৬ জিবি র‍্যাম, তার উপর সেই প্রসেসরটিও আবার সপ্তম জেনারেশনের।

ডেল ইন্সপায়রন ১৫- এন৫৫৬৭

Dell Inspiron 15-N5567

মূল স্পেসিফিকেশন:

প্রসেসর ইনটেল কোর আই৫-৭২০০ইউ প্রসেসর (৩মেগাবাইট ক্যাশ, ২.৫০ গিগাহার্জ থেকে শুরু করে ৩.১০ গিগাহার্জ পর্যন্ত)
মেমোরি ৮ জিবি, ডিডিআর৪, ১৬ জিবি পর্যন্ত (বাড়তি মেমোরি আলাদাভাবে বিক্রি করা হয়)
স্টোরেজ ১ টেরাবাইট ৫৪০০ আরপিএম হার্ড ড্রাইভ
গ্রাফিক্স এএমডি রেডিওন আর৭ এম৪৪৫ গ্রাফিক্সের সাথে ২জি জিডিডিআর৫ গ্রাফিক্স মেমোরি
ডিসপ্লে ১৫.৬ ইঞ্চি এইচডি (১৩৬৬ x ৭৬৮) ট্রুলাইফ এলইডি ডিসপ্লে
অডিও ওয়েভস ম্যাক্স অডিও প্রো এর সাথে  ২টি টিউনড স্পিকার
১টি কম্বো হেডফোন / মাইক্রোফোন জ্যাক
ওয়েব ক্যামেরা ইন্টিগ্রেটেড ওয়াইডস্ক্রিন এইচডি (৭২০পি) ওয়েবক্যাম, সাথে ডুয়াল ডিজিটাল মাইক্রোফোন অ্যারে
নেটওয়ার্কিং ৮০২.১১ এসি + ব্লুটুথ ৪.২, ডুয়াল ব্যান্ড ২.৪ এবং ৫ গিগাহার্জ, ১x১
ইন্টারফেস ১টি এইচডিএমআই ভার্সন ১.৪এ
২টি ইউএসবি ৩.০
১টি ইউএসবি ২.০
১টি কেনসিংটন লক স্লট
১০/১০০ আরজে-৪৫ ইথারনেট নেটওয়ার্ক
১টি এসডি কার্ড স্লট (এসডি, এসডিএইচসি, এসডিএক্সসি)
ব্যাটারি ৪২ ওয়াট প্রতি ঘন্টা, ৩ সেলের ব্যাটারি (ইন্টিগ্রেটেড)
অপারেটিং সিস্টেম উবুন্টু লিনাক্স
কোম্পানির ওয়ারেন্টি ২ বছরের আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি

বর্তমানে ডেলের ইন্সপায়রন সিরিজের মধ্যে ডেল ইন্সপায়রন ১৫-৩৫৬৭ মডেলটি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে, যেটির কথা আমরা কিছুক্ষণ আগেও আলোচনা করেছি। তবে এই ল্যাপটপ মডেলটির সাথে বিভিন্ন রকম উপযুক্ত প্রসেসর দেয়ার অপশন রয়েছে। আর আপনি যদি আপনার বাজেট আরেকটু বাড়ান, তাহলে নিশ্চিত ভাবে ডিভাইসটিতে আরো উন্নত স্পেসিফিকেশন পাবেন।

এছাড়াও ডেল ল্যাটিটিউড সিরিজের ল্যাপটপগুলোও গ্রাহকদেরকে তথ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি দামী ডিভাইসের পারফর্মেন্স দিতে পারে। এই ল্যাপটপগুলোর গুনগত মান প্রিমিয়াম পর্যায়ের এবং এগুলোর দামও তুলনামূলক ভাবে বেশি হয়। আর সব ল্যাপটপ ব্যবহারকারীরাই তাদের ডিভাইসের ব্যাটারি পাওয়ার বা ক্ষমতাকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। একটি ল্যাপটপ যেহেতু পরিবহনযোগ্য এবং সব সময় সেটিকে চার্জ দেয়ার মত পরিস্থিতি নাও থাকতে পারে, সেহেতু একজন সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য মোটামুটি রকম দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ বা লম্বা সময় চার্জ থাকাটা সব সময়ই একটি আকর্ষণের বিষয়। ডেল ইন্সপায়রন সিরিজের ল্যাপটপগুলোতে বিভিন্ন টাইপের ব্যাটারি দেয়া থাকে, যেগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই প্রাইমারি ২ সেলের ব্যাটারি হয়, আবার কিছু কিছু ডিভাইসে ৪ সেলের ব্যাটারিও দেয়া হয়। আর তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের কম্পিউটারগুলোর মধ্যে প্রচলিত ব্যাটারিগুলো সাধারণত ২ থেকে ৪ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যবহারের সুবিধা দিতে পারে।

এছাড়াও, ডেল ল্যাপটপগুলোর প্রায় প্রত্যেকটিতেই অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড হয়ে উইন্ডোজ ১০ ওএস পাওয়া যাচ্ছে। যদিও উইন্ডোজ ১০ এর অরিজিনাল সফটওয়্যার দেয়া ল্যাপটপগুলোর সামগ্রিক দাম কিছুটা বেড়ে যায়, তারপরও এই সুবিধাটি একজন গ্রাহককে আর বেশি নিরাপদ ও রক্ষণশীল অভিজ্ঞতা দিতে পারে। নিঃসন্দেহে এই সব কিছুর কৃতিত্ব উইন্ডোজ ১০ -এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আপগ্রেডের।

যদি সম্ভাব্য ক্রেতারা এই দামের রেঞ্জে বাজেট ধরতে পারেন, তাহলে প্রায় নিশ্চিতভাবেই তারা তাদের কষ্টের টাকায় একটি ভালো ডিল পাবেন। এই ল্যাপটপগুলো শুধুমাত্র শক্তসমর্থই নয়, পাশাপাশি এগুলো ব্যবহারকারীদেরকে খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক সুযোগ সুবিধাও দিতে পারে। তার উপর এই ল্যাপটপগুলো গেমারদের জন্যও বেশ উপযুক্ত। আমাদের দেশে ইদানিং গেমিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং কিছুদিন ধরে এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। আবার যেহেতু একটি গেমিং পিসি আর সেট-আপ কেনা বেশ ব্যয়বহুল একটা ব্যাপার, সেজন্য গেমাররা সাধারণত হালকা মাপের গেমিং এর জন্য তাদের ল্যাপটপের উপর নির্ভরশীল। আর এই উদ্দেশ্য পরিপূরণ করার জন্য ডেল ল্যাপটপগুলো আদর্শ। যদিও ডেলের গেমিং ল্যাপটপগুলো খুব একটা সাশ্রয়ী নয়, তবুও অন্যান্য বাজারে থাকা অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় এগুলোর দাম বেশ কম। ডেল ইন্সপায়রন এন৭৫৬৬ মডেলের ল্যাপটপটি গেমারদের জন্য আদর্শ এবং এর দাম বাংলাদেশে প্রায় ৭৩০০০ টাকা পড়বে। এটি গেমারদের জন্য দিচ্ছে ষষ্ঠ জেনারেশনের ইনটেল কোর আই৫ প্রসেসর, আর সাথে ১৫.৬ ইঞ্চি এইচডি ডিসপ্লে। ল্যাপটপটির শক্তিশালী পারফর্মেন্স ও ভালো কনফিগারেশনের সাথে তুলনা করলে এই দাম আসলেই বেশ যুক্তিসঙ্গত।

ল্যাপটপ কেনার জন্য আদর্শ মার্কেটপ্লেস কোনটি এবং ঠিক কতটা খরচ করতে হবে?

এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে এই ল্যাপটপগুলো ভালো দামে কোথায় পাবেন? আজকাল অনেক রকম নতুন ও ব্যবহৃত বাছাই করা ল্যাপটপের সংগ্রহ রয়েছে অনলাইনেই। Bikroy.com -এর মত ওয়েবসাইটগুলো তাদের সম্ভাব্য ক্রেতাদেরকে অফার করছে নতুন কিংবা ব্যবহৃত উভয় ধরণের লেটেস্ট ডেল ল্যাপটপের এক বিশাল সংগ্রহ। সত্যি বলতে বিক্রয় -এ পোস্ট হওয়া বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে ব্যবহৃত ল্যাপটপের চেয়ে বরং নতুন ও ব্র্যান্ডের ল্যাপটপের সংখ্যাই অনেক বেশি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শুধুমাত্র ডেলেরই বিজ্ঞাপন রয়েছে ৪ হাজারের বেশি, আর ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায়ও এগুলো বেশ উপরেই রয়েছে। সপ্তম জেনারেশনের কোর আই ৫ প্রসেসর সহ ডেল ভস্ট্রো ৩৪৬৮ এর মত ল্যাপটপগুলো বিক্রয় -এ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৪০০০ টাকার মধ্যে। যদি গ্রাহকরা লেটেস্ট ডেল ল্যাপটপ কিনতে চান, তাহলে সেরা ডিলটি খুঁজে পেতে অবশ্যই একবার Bikroy.com -এর টেক পেইজটি ঘুরে আসুন!

যখন দামের কথা চলে আসে, তখন কিছু মৌলিক ফ্যাক্টর আমাদের মাথায় রাখা উচিত। বাংলাদেশে চাইলে মাত্র ১৫০০০ থেকে ২০০০০ টাকার মধ্যে একটি ব্যবহার উপযোগী ল্যাপটপ কিনে ফেলা সম্ভব। কিন্তু এটাও বেশ স্পষ্ট যে এই ল্যাপটপগুলো দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের দিক থেকে আরেকটু দাম দিয়ে কেনা ল্যাপটপের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে। বাজেট সামান্য বাড়িয়ে বাংলাদেশে মাত্র ২৫০০০ থেকে ৩০০০০ টাকার মধ্যে ধরতে পারলে একজন গ্রাহক সত্যিকার অর্থে একটি ভালো ও শক্তিশালী ডিভাইস কিনে নিতে পারবেন। ২০১৯ সালে ডেল ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় ডেল ল্যাপটপগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই সচরাচর এই দামের মধ্যে পড়ে, কিংবা হয়ত আর সামান্য বেশি হতে পারে। আজকের বাজারে এখনও জনপ্রিয় এমন কালজয়ী ডিভাইসগুলোর সম্পর্কে ধারণা নিতে আমাদের Bikroy.com -এর ব্লগ পেইজের আরো একটি প্রতিবেদন আপনার উপকারে আসতে পারে, যেখানে আমরা বাজারের ১০টি সেরা ল্যাপটপ কম্পিউটার ও এদের স্পেসিফিকেশনগুলো তুলে ধরেছি।

ইতিকথা

সবশেষে বলতে গেলে ল্যাপটপ সব সময়ই গ্রাহকদের চাহিদার শীর্ষে থাকবে, হোক তা নতুন কিংবা ব্যবহৃত। এই ডিভাইসগুলো বহনযোগ্য এবং যথেষ্ট কমপ্যাক্ট, যে কারণে ব্যবহারকারীরা কাজ করতে করতেই চলাফেরা করতে পারেন। আজকের দুর্বার গতিশীল পৃথিবীতে চলার পথে আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সাথে নিয়েই চলতে হয় আমাদের। একটি ল্যাপটপের পেছনে বিনিয়োগ করা বেশ ঝামেলাবহুল একটি কাজ, যদি না আমরা জানি যে ঠিক কোন জিনিসটি খুঁজতে হবে। দিনশেষে ভিন্ন ভিন্ন ল্যাপটপ মডেলের পারফর্মেন্স ভিন্নই হবে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ভালো পারফর্মেন্সের আশায় আমাদের সব সময় বিশাল অংকের টাকাই খরচ করতে হবে। ২০১৯ সালের বাজারে ডেল ল্যাপটপগুলো বেশ লক্ষণীয় মাত্রায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ এই ল্যাপটপগুলো নিয়ে ভালো রিভিউ দেবেন, আবার কেউ কেউ হয়ত বলবেন যে তাদের এগুলো মোটেই পছন্দ নয়। কিন্তু দিনশেষে সিদ্ধান্ত আপনারই।

আশা করি আমাদের এই প্রতিবেদনটি আপনাকে কিছুটা হলেও ধারণা দিতে পেরেছে যে ডেল ল্যাপটপ আপনাদের জন্য ঠিক কেমন ল্যাপটপ অফার করছে, আর আপনারা সেগুলোর থেকে ঠিক কতটুকু পারফর্মেন্স পাওয়ার আশা করতে পারবেন। Bikroy.com -এ আপনাদের জন্য রয়েছে নামকরা সব কোম্পানি আর ব্র্যান্ডের নতুন ও ব্যবহৃত ল্যাপটপ। আজই ভিসিট করুন আমাদের সাইটটি, আর আপনার নতুন ল্যাপটপটি ঘরে নিয়ে  আসুন!


ইন্টারভিউ বোর্ড-এ কি করা উচিৎ আর কি উচিৎ না

একজন ব্যক্তিকে বিচার করতে বা তার সম্পর্কে ধারণা নিতে আপনার সর্বোচ্চ কত সময় লাগে?

হ্যাঁ, এটা সত্য যে কোন ব্যক্তিকেই শুধুমাত্র তাদের বাহ্যিক রূপের মাধ্যমে বিচার করা ঠিক নয়! কিন্তু একজন সম্পূর্ণ অচেনা ব্যক্তির সম্পর্কে মোটামুটি একরকম ধারণা করে নিতে একজন সাধারণ মানুষ সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের মত সময় নেন।

এখন ভেবে দেখুন এমন একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যিনি নিজেই একজন পেশাদারী ব্যক্তিত্ব, একটা মানুষকে যতটা কম সময় নিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব, সেটি করার জন্য যাকে বেতন দিয়ে রাখা হয়েছে। জ্বি হ্যাঁ, আমরা ইন্টারভিউয়ার বা নিয়োগকারীদের দিকেই ইঙ্গিত করছি, যাদের কাজই হচ্ছে এক টুকরো কাগজ আর গড়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের বার্তালাপের উপর ভিত্তি করে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও সঠিক মূল্য যাচাই করা।

প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাইভেট কোম্পানির চাকরির জন্য মুখোমুখি ইন্টারভিউই হচ্ছে প্রার্থী বাছাই করা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। ইন্টারভিউ এর প্রার্থীদেরকে অনেক অল্প একটা সময়ের মধ্যে নিজ নিজ যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য বেশ বড় রকম চাপে থাকতে হয়। এক্ষেত্রে একজন প্রার্থীকে সব রকম টেকনিক্যাল প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর দিতে পারার পাশাপাশি ব্যবসায় ক্ষেত্রে কথোপকথন ও যোগাযোগের দক্ষতায় পারদর্শী হতে হয়।

আপনি কি জানেন যে আপনার মুখের কথার মতই সমান গুরুত্বপূর্ণ  একটি ব্যাপার রয়েছে, যা ইন্টারভিউয়ের সময় আপনার ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন  করে?

তা হলো আপনার অঙ্গভঙ্গিমা বা শারীরিক ভাষা!

এটা সত্যি যে, বেশির ভাগ ইন্টারভিউ প্রার্থীরাই অঙ্গভঙ্গিমা বা শারীরিক ভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত নন, কেননা তারা শুধুমাত্র ভাবেন ভালো পোশাক পড়া, সময়মত পৌঁছানো এবং আত্মবিশাসের সাথে সবগুলো প্রশ্নের ঠিক জবাব দেয়া নিয়ে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞ নিয়োগকারীদের মত অনুযায়ী প্রার্থীর শরীরের ভঙ্গিমা নিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার কাছে ব্যাপারটা হয়ত হাস্যকর বা তুচ্ছ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে মনস্তাত্বিক বিভিন্ন কারণ। ইন্টারভিউয়ের সময় কী কী করা উচিত নয় তা মুখে বলা খুবই সহজ, কিন্তু মুখের কথার বাইরে আপনি ইন্টারভিউয়ারের সামনে ঠিক কীভাবে আচরণ করছেন, বা কেমন প্রতিচ্ছবি তৈরি করছেন, সেটা আপনার চাকরি পাওয়া বা হারনোর পথ অনেকটাই সহজ করে দিতে পারে। এই সম্পর্কে আরও ভালো ধারনা নিতে আমাদের আরেকটি প্রবন্ধটি পড়ে নিন “চাকরি খুঁজছেন? ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে ভালো মত প্রস্তুত করুন“।

অতএব, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তর কোম্পানিগুলোতে, এমনকি ছোট স্টার্ট-আপ কোম্পানিতগুলোতেও ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার সময় কীভাবে আপনার শরীরের ভাষাকে নিজের প্রথম ইম্প্রেশন স্মরণীয় করে তোলার জন্য কাজে লাগানো যায়, সেটি আমাদের এই ইন্টারভিউয়ের অঙ্গভঙ্গিমার গাইডলাইনটির সাহায্যে আজ আপনারা শিখে নিতে পারবেন।

ইন্টারভিউয়ের সময় শরীরের ভঙ্গিমা – যেভাবে নিজেকে আরো উপস্থাপনযোগ্য করে তোলা যায়!

১. আত্মবিশ্বাসী চলাফেরা

অফিসের ভেতরে প্রবেশ করা হোক, কিংবা ওয়েটিং এরিয়া, অথবা ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার সময়ই হোক, পুরোটা সময় আপনাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসের সাথে চলাফেরা করতে হবে। আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে পেশাদারী এবং এটা সর্বক্ষণ মাথায় রাখতে হবে যে আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখা হচ্ছে। আমরা বুঝতে পারি আর নাই পারি, তবুও একজন ব্যক্তির আবেগ এবং আত্মবিশ্বাসের মাত্রা তার শরীরের ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অভিজ্ঞ নিয়োগকারীরা প্রার্থীদের চরিত্র, গাম্ভীর্য ইত্যাদি গুনগত বৈশিষ্ট্য তাদের ছোট খাটো আচরণ, যেমন চলাফেরার মাধ্যমেই অনেকটা মূল্যায়ন করতে পারেন।

২. দৃঢ় হাত

যখন আপনাকে কেউ হাত মেলাবার জন্য আহবান জানান, তখন সতর্কতার সাথে দৃঢ় ভঙ্গিমায় তার সাথে হাত মেলান। খেয়াল রাখবেন সেটি যেন খুব বেশি কোমল না হয় কিংবা খুব বেশি রুক্ষ, একেবারে সঠিক পরিমাণে আত্মবিশাস তাতে থাকা চাই! বিব্রতকর ও লম্বা হ্যান্ডশেক এড়িয়ে চলার জন্য খেয়াল করে সময় মত হাত ছেড়ে দিন; আর এখানে আপনি নিজে আগে হাত ছেড়ে দিলে দোষের কিছু নেই। আর যদি আপনি হ্যান্ডশেক করায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করেন, তাহলে স্পর্শ না করেই বিনয়ের সাথে তার প্রত্যুত্তরে একটি সম্মানজনক প্রতিক্রিয়া দিন।

৩. বেঞ্চে বসার চেষ্টা করুন

দুশ্চিন্তার কিছু নেই, আমরা সত্যি সত্যি আপনাকে কোন বেঞ্চ সাথে করে নেয়ার কিংবা ইন্টারভিউয়ের সময় সেটায় বসতে বলছি না। বসার ব্যবস্থা অর্থাৎ আপনার চেয়ার বা সীটটি যতই আরামদায়ক বা পীড়াদায়ক হোক না কেন, সব সময় তাতে এমন ভাবে বসুন, যেমনটি কোন কাঠের বেঞ্চে বসতে হলে করতেন। এতে করে কখনও কখনও আপনি একেবারে পেছনে হেলান দিয়ে কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যাওয়া থেকে বেঁচে যাবেন – একই সাথে আপনি আরো বেশি সতর্ক ও মনোযোগী থাকতে পারবেন। আপনার পা দু’টো সোজা করে রাখুন, সেগুলো আড়াআড়ি বা একটি অন্যটির উপরে দিয়ে বসবেন না। কিছুক্ষণ পর পর চাইলে আপনি কিছুটা সামনে হেলে আসতে পারেন, মনোযোগের সাথে শুনছেন এমনটি বোঝানোর জন্য।

৪. স্থির চোখ

আপনার আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ এবং ফোকাস প্রকাশ করার জন্য সব সময় চোখে চোখ রেখে কথোপকথন করাটা বহু যুগ ধরে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। অতএব, এই ব্যাপারটাকে নিজের স্বার্থে কাজে লাগান, এবং চোখ ফিরিয়ে নেয়া বা এদিক সেদিক তাকানো থেকে নিজেকে বিরত রেখে যার সাথে আলাপ করছেন সরাসরি তার চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। যদি আপনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও চোখ ফেরান, তাহলে তা নিজেকে কিছুটা চাঙ্গা করার জন্য করুন, রুমের অন্য কিছুর দিকে মনোযোগ সরাবার জন্য নয়। ঠিক কতটা সময় ধরে টানা স্থির ভাবে চোখে চোখ রাখবেন, সে ব্যাপারে কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই, তবে নিরাপদ ও গ্রহনযোগ্য একটি সীমা বলতে গেলে আমরা বলবো একটানা ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড।

৫. আপনার মুখভঙ্গি

যখনই আপনার সামনে সুযোগ আসবে, তখনই আপনার মুখে ও ভঙ্গিতে হাস্যোজ্জ্বল ভাব তুলে ধরার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি নিজে যেমন চাঙ্গা ও সতেজ অনুভব করবেন, তেমনি আপনি নিয়োগকারীদের আরো বেশি সুনজরে থাকতে পারবেন। তবে কোনওভাবেই মেকি বা বাঁকা হাসি হাসবেন না, সব সময় আন্তরিক ও বিনয়ী থাকুন! একটি আন্তরিক হাসি ও বিনয় আপনাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং প্রায় সাথে সাথেই পরিবেশে একটি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে!

৬. আপনার হাতের সঠিক ব্যবহার করুন

এখন এই পরামর্শটি কিছুটা অস্বস্তিকর শোনাতে পারে। বেশির ভাগ প্রার্থীরাই ইন্টারভিউয়ের সময় নিজেদের হাত নিয়ে কি করবেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেন না। যখন আপনি কথা বলবেন, তখন আপনার শব্দের সাথে নতুন ছন্দ মিলিয়ে হাতের ভঙ্গিমা যোগ করতে পারেন, তবে তা নিয়ে খুব বেশি বাড়াবাড়ি না করাই ভালো। আপনার যে হাত রয়েছে সেটা পুরোপুরি ভুলে বসবেন না, অনেক প্রার্থীরাই সচরাচর তাদের হাত লুকিয়ে রাখেন। কথা বলার সময় আপনার চেহারা ঢেকে না যায় এমন ভাবে আপনার হাত রাখুন এবং প্রয়োজনে কিছুটা নাড়াচাড়া করে স্বাভাবিক থাকুন।

ইন্টারভিউয়ের সময় করণীয় কিছু বাড়তি টিপস

  • ইন্টারভিউয়ের সময় স্বাভাবিক থাকার একটি ভালো উপায় হচ্ছে কিছু কথা প্রসঙ্গে নোটস নেয়া। ইন্টারভিউয়ারের অনুমতি নিয়ে আপনি শুধুমাত্র এখানে নোটসই নিচ্ছেন না, বরং একই সাথে আপনার হাতকেও অপ্রয়োজনীয় নাড়াচাড়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন।
  • আপনার সেলফোনটি বন্ধ করে রাখুন; তা সম্ভব না হলে অন্ততপক্ষে সেটি সাইলেন্ট করুন বা এয়ারপ্লেন মোডে সেট করে রাখুন।
  • মাথা উঁচু করে কথা বলুন ও পা গুলোকে স্থির রাখুন; কখনও কুঁজো হয়ে বসবেন না।
  • নিরলস এবং উদ্যমী থাকুন, তবে কমনীয়তা বজায় রাখুন।
  • ইন্টারভিউ বোর্ডের সব সদস্যদের সাথেই আলাপ করুন, শুধুমাত্র একজনের দিকে সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকাটা অশোভন।
  • মাঝে মাঝে মাথা নাড়িয়ে আপনার স্বপক্ষে সম্মতি জানান। এর মাধ্যমে আপনি যে আগ্রহী, সহানুভূতিশীল, বা একমত, তা প্রকাশ করুন এবং সাবলীল ভাবে নিজেকে তুলে ধরুন। ঘন ঘন মাথা ঝাঁকাবেন না, কেননা তাহলে আপনাকে ঠিক কাঠঠোকরার মত দেখাবে আর আপনার ভাবমূর্তি নষ্ট হবে!

ইন্টারভিউয়ের সময় শরীরের ভঙ্গিমা – যে কাজগুলো আপনার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে!

এখন যেহেতু আপনি জেনে নিয়েছেন যে ইন্টারভিউয়ের সময় ঠিক কী কী আচরণ করা যাবে, তাহলে চলুন এখন আমরা জেনে নিই যে ইন্টারভিউ দেয়ার সময় কোন কোন জিনিসগুলো করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং শরীরকে সেভাবে প্রস্তুত করে নিতে হবে-

১. অতিরঞ্জিত আত্মবিশ্বাস

আত্মবিশ্বাসকে অহংকারের সাথে মিলিয়ে ফেলবেন না! যদি আপনার বিশ্বাস থাকেও যে আপনি সব প্রার্থীর চেয়ে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন, তবুও ইন্টারভিউ রুমে প্রবেশ করার সময় এ রকম চিন্তা ভুলেও মাথায় আসতে দেবেন না। যদি আপনাকে সরাসরি বলাও হয় যে আপনি অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন, তবুও নিজের আত্মবিশাসকে অতিরঞ্জিত হতে দেবেন না। দাম্ভিকতা বা অহংকার যে শুধুমাত্র একটি বিরক্তিকর স্বভাব তাই নয়; একই সাথে এটি যেকোন ধরণের পেশাদারী কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। বার বার নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন যে আত্মবিশাস এবং অহংকার দু’টো সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস!

২. ইন্টারভিউ বহির্ভূত কার্যকলাপ

ইন্টারভিউ দেয়ার সময় আপনার ফোন ব্যবহার করা, কিংবা হাতের কলমটি নিয়ে আঁকিবুঁকি করা, বা আপনার চুল ও চেহারার কোন অংশ নিয়ে খেলা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। এই কাজগুলো স্পষ্টভাবেই বর্জনীয় বলে আমরা সবাই জানি, কিন্তু অনেকেই অবচেতন মনে এই কাজগুলো করে থাকেন, আর বুঝতেই পারেন না যে তারা নিজেদের বিব্রত করছেন। অতএব, নিজের খারাপ অভ্যাসগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং সেগুলো যথাসম্ভব বর্জন করার চেষ্টা করুন। নিজেকে আরো উন্নত ও অভিজ্ঞ করে তোলার জন্য নিজ নিজ পরিবার, বন্ধুমহল কিংবা অন্যদের সাথে ইন্টারভিউ দেয়ার চর্চা করুন।

৩. স্নায়বিক অস্থিরতা বা ছটফটে ভাব

প্রায় বেশির ভাগ মানুষই উদ্বিগ্নতায় কিংবা কঠিন প্রশ্নের মুখে বিচলিত হয়ে পড়েন ও ছটফট করেন। এ ধরণের অস্থিরতা ও ছটফটে ভাব প্রকাশ করা, ঘন ঘন হাতের আঙুল বা পা ঠোকানো ইত্যাদি থেকে বিরত থাকার জন্য অনুশীলন নিন। এতে করে নিয়োগকারীদের সামনে আপনার উদ্বিগ্নতাই শুধু প্রকাশ পায় না, একই সাথে ইন্টারভিউ বোর্ডের মনোযোগও আপনার থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। আপনি নিশ্চয়ই একেবারে কাঠের ব্লকের মত শক্ত ও আঁটসাঁট হয়ে থাকতে চাইবেন না, কিন্তু তাই বলে পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা একজন উদ্বিগ্ন কিশোরের মত ছটফট করাটাও আপনার জন্য শোভন হবে না।

ইন্টারভিউয়ের সময় বর্জনীয় কিছু বাড়তি টিপস

  • আচমকা, বেসামাল কোন কাজ করে বসবেন না।
  • ইন্টারভিউয়ের সময় চুইং গাম চাবানো, ক্যান্ডি বা কোন ধরণের খাবার মুখে রাখবেন না।
  • আপনার হাতগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন, কিন্তু তাই বলে সেগুলো পকেটে ভরে বা লুকিয়ে রাখবেন না।
  • হঠাৎ মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে কোন দিবাস্বপ্নে হারিয়ে যাবেন না। সর্বদা নিজের মনোযোগ ধরে রাখুন।
  • হাতের আঙুল টোকাটুকি, কলম দিয়ে শব্দ করা বা অস্থিরভাবে পা নাচাবেন না, ইত্যাদি।

বোনাস:

আজকের আধুনিক যুগে এসে একটি ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ একটি ধাপ হচ্ছে ফোনালাপের মাধ্যমে আপনার পরোক্ষ ইন্টারভিউ নেয়া। আপনার আত্মবিশ্বাসকে আরো প্রবল করা এবং একই সাথে আপনার শরীর ও মনকে শিথিল ও সাবলীল রাখার জন্য যদি ফোনে কথা বলার সময় আপনি কোথাও পায়চারী করেন, তাহলে যথেষ্ট উপকার পাবেন। আর এটা করার পাশাপাশি আপনার প্রত্যুত্তর ও কথোপকথন বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে, কেননা পায়চারী করার সময় আপনার মস্তিষ্ক প্রতিনিয়ত আপনার পদক্ষেপগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে থাকে।

যেকোন ধরণের ইন্টারভিউ থেকে বিদায় নেয়ার সময় নিজের ব্যাপারে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জোরালো ইম্প্রেশন তৈরি করার চেষ্টা করুন। তাই বলে কাউকে আলিঙ্গন করার প্রয়োজন নেই! যেকোন ইন্টারভিউ থেকে সুন্দরভাবে বিদায় নেয়ার চর্চা করুন। আপনার জিনিসপত্রগুলো শান্তভাবে গুছিয়ে নিন, বিনয় ও শৃঙ্খলার সাথে চলুন, হাসিমুখে সম্মতি নিন এবং পুরো ইন্টারভিউ বোর্ডের সাথে সম্ভব না হোক, অন্ততপক্ষে হায়ারিং ম্যানেজারের দিকে হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়িয়ে দিন।

এটা মনে রাখা আবশ্যক যে আপনি আপনার যোগ্যতার প্রমাণস্বরূপ যে কাগজের টুকরোগুলো তাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন, সেগুলো আপনার ইতোমধ্যে অর্জন করা শেষ। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে আপনি যেমন আচরণ করবেন, সেটিই আপনার বর্তমান প্রতিচ্ছবি তাদের সামনে তুলে ধরবে। অতএব ইন্টারভিউ দেয়ার সময় শুধুমাত্র আপনি কী করেছেন সেগুলো দেখানোর জন্য কয়েক টুকরো কাগজ উপস্থাপন করার চেয়ে একজন ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে কেমন রূপে তুলে ধরতে পারছেন সেটা নিঃসন্দেহে বেশি কার্যকরী। আপনার দক্ষতা, মেধা, অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশাস ইত্যাদি আপনার শারীরিক ভাষার মাধ্যমেই পরিপূর্ণতা লাভ করে।

শেষ কথা

এটা সত্যি যে এখানে উল্লেখিত পয়েন্ট ও টিপসগুলো তেমন কোন নতুন বা যুগান্তকারী বিশেষ সমাধান নয়, আমরা সেটা একবাক্যে মেনে নিচ্ছি। কিন্তু সারল্যেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় এটাও আমরা মানি! আপনার সিভিতে থাকা উক্তিগুলোর চেয়ে আপনার কাজ, শারীরিক ভাষা ও আত্মবিশ্বাসই আপনার হয়ে সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখে বেশি। অতএব ইন্টারভিউয়ের সময় এই সহজ ব্যাপারগুলো সুন্দর ভাবে মেনে চললেই আপনি নিজেকে নিয়োগকারীদের সামনে পরিপূর্ণ ভাবে প্রকাশ করতে পারবেন।

একজন ব্যক্তির ইম্প্রেশন তৈরি করার পেছনে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভূমিকা পালন করে তাদের শরীরের ভঙ্গিমা বা শারীরিক ভাষা, অতএব এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটিকে কোন ভাবেই অবহেলা করা চলবে না। আপনার চাকরির অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিস পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও আপনার শারীরিক ভাষা কিন্তু ঠিকই পরিবর্তন করা যায়! আরও দেখে নিন চাকরির জন্য সিভি তৈরির সঠিক নিয়ম

যেকোন ধরণের চাকরির ইন্টারভিউতে উদ্বিগ্ন হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক, সবাই এটা অনুভব করেন। কিন্তু আমাদের উল্লেখ করা টিপসগুলো মাথায় রাখতে পারলে আপনি শুধুমাত্র বাংলাদেশেই না, বরং বিশ্বব্যাপী বড় যেকোন নিয়োগকারী কোম্পানির সামনেই নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবেন আপনার সেরা পারফর্মেন্স নিয়ে।

সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে থাকা অজস্র নামকরা প্রাইভেট ও সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া চাকরির বিজ্ঞাপন খুঁজে পেতে আজই ব্রাউজ করুন Bikroy.com/Jobs.

শারীরিক ভাষা নিয়ে আলোচিত আজকের কোন টিপসগুলো আপনার কাছে সেরা মনে হয়েছে? কোনগুলো আপনারা আগেই ব্যবহার করেছেন, আর পরবর্তী ইন্টারভিউতে কোন টিপসটি কাজে লাগাতে চাচ্ছেন? আমাদের সকল পাঠকদের সাথে আপনার মতামত শেয়ার করুন নিচের কমেন্ট সেকশনে।


আপনার বসতবাড়ি কিংবা কর্মক্ষেত্রে আগুন লাগলে কি করণীয়?

আগুন লাগলে কি করবেন

চলতি বছরে আগুন সংক্রান্ত নানা রকম গুরুতর ও মাঝারী গুরুতর ঘটনায় পুরো দেশ জর্জরিত হয়েছে বারবার! লাগাতার ধ্বংস আর মৃত্যুর মিছিলে আমরা সকলেই কম বেশি শারীরিক ও মানসিক আঘাতের সম্মুখীন হয়েছি।

ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের মধ্যে অনেকেই নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য সময় মত জায়গা থেকে সরে যেতে পারেননি, আর অনেকেই আগুনের লেলিহান শিখায় হারিয়েছেন প্রাণ। আবার অনেকে আগুনে পুড়ে মরার অসহ্য যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য বহুতল বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আর নিরাপদে মাটিতে নেমে আসতে পারেননি।

এই বারংবার মর্মান্তিক অগ্নিকান্ডের ঘটনাগুলো আমাদের, অর্থাৎ গোটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সতর্ক সংকেতের চেয়ে কম কিছু নয়। দিন কয়েকের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাগুলো আমাদের জানান দেয় যে এই বিষয়ে এখনো আমাদের সঠিক শিক্ষা হয়নি। নিজেদের ও নিজের আশেপাশের মানুষগুলোকে এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার জন্য আমাদের উচিত নিজেদের ঘর ও কর্মক্ষেত্র উভয় প্রেক্ষাপটের জন্য সব রকম অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কে জানা ও সেগুলোর প্রয়োগ ঘটানো।

এই প্রসঙ্গে পুরনো এক প্রবাদের কথা মনে পড়ে যায়, “প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম।”

এই কথাটা কতটাই না সত্য!

তাই আজ, আমাদের এই প্রতিবেদনে আমরা অগ্নিকান্ডের সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক বিষয় দু’টি ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে আলোচনা করবো:

  • প্রেক্ষাপট ১: নিজেদের বসতবাড়িতে আগুন লাগলে কী কী করতে হবে?
  • প্রেক্ষাপট ২: আপনার কর্মক্ষেত্রে আগুন লাগলে কী কী করতে হবে?

এছাড়াও উভয় পরিস্থিতিতেই কীভাবে এ ধরণের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, সেটা নিয়েও আমরা আলোচনা করবো।

যদি আমরা প্রতিরোধের নানা রকম পদ্ধতি সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নিতে পারি, তাহলে এ ধরণের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার হাত থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারবো, কিংবা অন্তত এর ভয়াবহ পরিণাম থেকে একটু হলেও রেহাই পাবো। পাশাপাশি এ ধরণের যেকোন পরিস্থিতিতে পড়লে কী কী পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি, জখম ও হতাহতের পরিমাণ কমানো যায় সে সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখাটাও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রেক্ষাপট ১: নিজেদের বসতবাড়িতে আগুন লাগলে কী কী করতে হবে?

যখনই আপনি কোথাও কোন রকম অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত লক্ষ্য করবেন, তখন সেটি পুরোপুরি লেগে যাওয়া বা ছড়িয়ে যাওয়ার আগে প্রাথমিক ভাবে আপনার করণীয় হচ্ছে তৎক্ষণাৎ একটি অগ্নিনির্বাপক বা এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করে সেটিকে নেভানোর চেষ্টা করা। যদি এক্সটিংগুইশার হাতের কাছে কিংবা বাসায় না থাকে, তাহলে ভুলেও কখনও পানি ব্যবহার করবেন না! আপনার কুকার কিংবা অন্য যেকোন ইলেকট্রনিক্স পণ্য থেকে শুরু হওয়া আগুনে পানি ঢালা হলে সচরাচর পরিস্থিতি আরো খারাপ দিকে মোড় নেয়।

বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞ দমকল কর্মীদের মতে একটি প্রচলিত সহজ নীতি হচ্ছে:

“যখন আগুনের পরিমাণ অল্প তখন দ্রুত স্থান ত্যাগ করুন; কিন্তু যখন ভারী কালো ধোঁয়া দেখা যায়, তখন দরজা বন্ধ করে দিন! ”

বাংলাদেশের মত সদ্য উন্নয়নশীল একটি দেশে এই পদ্ধতিটি কার্যকর হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে; সেটা সম্পূর্ণ ভাবে আপনার ভবনটির মান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই নীতিটি আমাদেরকে ভারী ও বিষাক্ত ধোঁয়াযুক্ত অগ্নিকান্ডের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানান দেয়, যা বিপদের সময় মাথায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ!

আপনার রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে কী করবেন?

আপনি যদি বাসায় থাকেন এবং রান্নার সময় বাসার রান্নাঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়, তাহলে মনে রাখবেন, আতঙ্কিত হওয়া যাবে না! নিজেকে ও নিজের আশেপাশের মানুষদের শান্ত করুন, অতঃপর নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করুন:

  • রান্নার বাসন, প্যান কিংবা কুকারের উপর ঢাকনা বা ভারী কোন বস্তু দিয়ে আগুনটি ভালোভাবে ঢেকে দিন। এতে করে আপনি এটুকু নিশ্চিত হতে পারবেন যে আগুনটি অক্সিজেনের অভাবে একটু পর নিভে যাবে।
  • আপনার কুকারটি বৈদ্যুতিক হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন, কিংবা গ্যাসের চুলা হলে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিন।
  • রান্নাঘরে আগুন লাগলে কোন অবস্থাতেই সেটা নেভানোর জন্য পানি ব্যবহার করা যাবে না! ভুল পদ্ধতিতে পানি ব্যবহারের ফলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে এবং আগুনের অবস্থা প্রাথমিকের চেয়ে আরো অবনতির দিকে যেতে পারে।
  • যদি আপনি নিজে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আর কোন কিছু চিন্তা না করে আপনার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান এবং ঠান্ডা মাথায় যত দ্রুত সম্ভব ভবনটি পরিত্যাগ করুন।

আপনার বাসায় আগুনের সূত্রপাত হলে এবং আপনি কোন রুমে আটকা পড়ে গেলে কী করবেন?

  • চেক করে দেখুন আপনার দরজার হাতলটি ঠিক কতটুকু গরম হয়েছে। যদি এটি অত্যাধিক গরম এবং স্পর্শ করা সম্ভব না হয়, আর যদি দরজার অন্য পাশ থেকে ভারী বিষাক্ত ধোঁয়া আসতে থাকে, তাহলে কোনভাবেই দরজা খোলার চেষ্টা করবেন না।
  • যেকোন রকম কাপড়, চাদর কিংবা তোয়ালে ব্যবহার করে দরজার আশেপাশের ফাঁকফোকর বন্ধ করে দিন, যাতে করে ধোঁয়া আপনার রুমের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। কেননা এ ধরণের দুর্ঘটনায় সবার আগে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
  • যদি আপনার নাগালের মধ্যে কোন ফোন থাকে, তাহলে তৎক্ষণাৎ ইমারজেন্সি নাম্বার ও আপনার পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের ফোন দিয়ে আপনার অবস্থান জানান।
  • বাইরে বের হওয়ার সব রকম রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে সোজা মাটিতে শুয়ে পরুন এবং রুমের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন।
  • একটি ভেজা কাপড় নাকে-মুখ চেপে ধরুন ও সেটির সাহায্যে নিঃশ্বাস নিন। এতে করে নিঃশ্বাসের সাথে বিষাক্ত ভারি ধোঁয়া আপনার ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারবে না।
  • ইমারজেন্সি সার্ভিসের লোকজন কিংবা অন্য যে কেউ আপনার খোঁজ করছে কি না তা খেয়াল করে শুনুন ও উত্তর দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
  • যদি কোন ভাবে বুঝতে পারেন যে কোন উদ্ধারকর্মী কাছাকাছি রয়েছেন, তাহলে জোরে জোরে আওয়াজ দিন ও শব্দ করে তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে দরজা, আসবাবপত্র কিংবা দেয়ালে জোরে নক করে শব্দ সৃষ্টি করুন, যাতে করে আপনাকে খুজে পাওয়া তাদের জন্য সহজ হয়।
  • দরজা বন্ধ করে রাখলেও লক করে রাখবেন না। কেননা আপনি ধোঁয়ার প্রভাবে কিংবা অক্সিজেনের অভাবে অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন, তখন যেন তারা সহজে আপনার কাছে পৌঁছুতে পারে।

বহুতলবিশিষ্ট সুউচ্চ ভবনে আগুন লাগলে কী করবেন?

যদি আপনি কোন বহুতল বিশিষ্ট উঁচু বিল্ডিং-এ অবস্থান করেন, হোক তা আপনার এপার্টমেন্ট, বা কোন হোটেল রুম ইত্যাদি, তাহলে আগুন লাগার মত ঘটনায় নিজেকে বাঁচানোর জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো অবলম্বন করার চেষ্টা করুন:

  • আগুন যদি আপনার ইউনিটে না লেগে থাক, তাহলে যে কোন কিছু করার আগে নিশ্চিত হউন আগুনটি ঠিক কোথায় লেগেছে।
  • আপনার নিকটস্থ জানালা দিয়ে বাইরে দেখুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন আগুনের উৎসটি কোথায়, বা কোথাও থেকে ভারি ধোঁয়া নির্গমন হচ্ছে কি না।
  • আপনার ইউনিটের উপরের কোন ইউনিট থেকে যদি ধোঁয়া আসতে থাকে, তাহলে দ্রুত ভবনটি ত্যাগ করুন।
  • যদি দেখতে পান যে আপনার দরজার ফাঁকফোকর দিয়ে ধোঁয়া ভেতরে ঢুকছে, তাহলে দরজার হাতলে হাত রাখা কিংবা খোলার চেষ্টা করার আগে সেটি ঠিক কতটা গরম তা সতর্কতার সাথে চেক করুন।
  • বের হয়ে আসার সময় মনে করে আপনার পেছনের সব গুলো দরজা বন্ধ করে এগিয়ে চলুন।
  • দ্রুত ভবনটি ত্যাগ করার জন্য ফায়ার এক্সিট থাকলে সেটি ব্যবহার করুন, এবং নিজে সেটি করার পাশাপাশি অন্যদেরও সেই পথ সম্পর্কে অবগত করে যান।
  • নিরাপদ স্থানে পৌঁছে যাওয়া মাত্রই দ্রুত ইমারজেন্সি সার্ভিসে খবর দিন।

বসতবাড়িতে আগুন লাগার বিপক্ষে কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন?

আপনার বসত বাড়িতে কিংবা এপার্টমেন্টে আগুন লাগা ও ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে নিচের কিছু বেসিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অবলম্বন করতে পারেন:

  • দেখে শুনে নামকরা ও ভালো ব্র্যান্ডের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির কাছ থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও গ্যাসের সামগ্রী কিনে ব্যবহার করুন।
  • স্মোক ডিটেক্টর জাতীয় অ্যালার্ম সিস্টেম ব্যবহার করুন।
  • আপনার বাসায় একটি ভালো ব্র্যান্ডের ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখুন।
  • বাসায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে নাগালের মধ্যে অতিরিক্ত এক সেট চাবি সব সময় রাখার চেষ্টা করুন।
  • আপনার জানালায় যদি গ্রিল দেয়া থাকে, তাহলে সেটার সাথে একটি খিল দেয়া সিস্টেম করে রাখুন, যাতে জরুরী অবস্থায় সেটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
  • বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবহার করার জন্য মাত্রাতিরিক্ত মাল্টি-প্লাগ বা এক্সটেনশন কর্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • ব্যবহার হচ্ছে না এমন যেকোন রকম লাইট এবং যেকোন রকম ইলেকট্রনিক্স পণ্য সব সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখুন।
  • ল্যাপটপ, কম্পিউটার কিংবা ফোন ইত্যাদি পণ্য চার্জ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও সংযোগ দিয়ে ফেলে রাখবেন না।
  • আপনার বাসার ইলেকট্রিক্যাল ও গ্যাসের সংযোগ গুলো নিয়মিত পরীক্ষা করুন, কেননা ইঁদুর বা তেলাপোকা সেগুলো নষ্ট করে রাখতে পারে।
  • রান্নাঘরের স্টোভ, কুকার বা চুলা ইত্যাদি চালু থাকা অবস্থায় কখনই বাসা থেকে বের হয়ে যাবেন না, সব সময় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য নিজে উপস্থিত থাকুন, অথবা কাউকে কাছাকাছি থাকতে বলুন।
  • দাহ্য ও বিস্ফোরক জাতীয় সকল পণ্য যেমন তেল, কেরোসিন ইত্যাদি রান্নাঘরের চুলা ও ইলেকট্রনিক্স আউটলেট থেকে নিরাপদ দুরত্বে রাখুন।

বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক ঘরে ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার কম বেশি থাকেই, সেটি মূল গ্যাসের উৎস হিসেবেই হোক, কিংবা বিকল্প মাধ্যম। যেকোন ক্ষেত্রেই হোক, বেশির ভাগ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত সাধারণত গ্যাস সিলিন্ডারের বেপরোয়া ও অসতর্ক ব্যবহার থেকেই হয়। নিজের, পরিবারের ও আশেপাশের মানুষদের এ ধরণের দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচাতে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কিত আমাদের প্রতিবেদনটি পড়ে দেখতে পারেন কীভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন?

প্রেক্ষাপট ২: আপনার কর্মক্ষেত্রে আগুন লাগলে কী কী করতে হবে?

বসতবাড়িতে আগুন লাগার চেয়েও কর্মক্ষেত্রে অগ্নিকান্ডের ঘটনা আরো বেশি বিধ্বংসী ও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই বলে আমরা এটা বলছি না যে বসতবাড়ির অগ্নিকান্ড কোন অংশে কম ভয়াবহ বা কম বিপদজনক। কিন্তু এটা সত্যি যে কমার্শিয়াল স্পেসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বসতবাড়ির তুলনায় অনেক গুনে বেশি হয়।

এসব ক্ষেত্রে যে শুধুমাত্র শত শত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয় তা না, এর সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় ক্ষয়ক্ষতির এক কঠিন দুষ্টচক্র, যেখান থেকে আর্থিক ভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাটির অর্থনৈতিক ধারাই থমকে যায় না, একই সাথে থমকে পড়ে তাদের সাথে জড়িত অন্য সব ব্যবসা, কর্মচারী, তাদের পরিবার, এমনকি সামগ্রিক ভাবে গোটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাও।

এরই সাথে যুক্ত হয় এক বিশাল মাত্রায় হতাহতের সংখ্যা। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে একসাথে অনেক গুলো মানুষ একই সাথে এক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে কিংবা অবস্থান করে, সেখানে হতাহতের ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক গুনে বেশি হতে পারে। ঠিক এই কারণেই আপনার কর্ম প্রতিষ্ঠান কিংবা যেকোন কমার্শিয়াল ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা তুলনামূলক ভাবে অনেক বড় একটি ধ্বংসযজ্ঞে রূপ নিতে পারে!

আরো একটি বিশেষ কারণে কর্মক্ষেত্রগুলোয় অগ্নিকান্ড বিপদজনক হয়ে ওঠে, আর সেটি হচ্ছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানিগুলো এধরণের দুর্ঘটনার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত থাকে না। হয় তারা সঠিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন না, নয়ত তাদের কর্মচারীদের ট্রেনিং-এ গুরুতর রকম ঘাটতি থাকে। অথচ এ ধরণের পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের ও আশেপাশের মানুষদের রক্ষা করতে হবে সেসব বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান ও নিয়ম কানুন সম্পর্কে তাদের ট্রেনিং থাকা টা খুবই প্রয়োজন।

আবারো বলছি : প্রতিকারের চেয়ে সব সময়ই প্রতিরোধ উত্তম!

প্রত্যেক ব্যক্তি, প্রত্যেক পরিবার, প্রত্যেকটি এলাকা, প্রত্যেকটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, প্রত্যেক শহর এবং সর্বোপরি প্রত্যেকটি সরকারি সেক্টরেরই মনে রাখা উচিত যে – প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম!

প্রতিরোধ শুধুমাত্র উত্তমই নয় – এটি তুলনামূলক ভাবে বেশি নিরাপদ… দ্রুততর… এবং অর্থনৈতিকভাবেও বেশি কার্যকরী!

অতএব, প্রত্যেকটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানিরই উচিত আগুন লাগার মত বড় যেকোন রকম দুর্ঘটনার জন্য আগে থেকেই সচেতন হওয়া এবং যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া। এর মধ্যে কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • ঝুঁকির মাত্রার উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন জরুরী অবস্থার জন্য অ্যাকশন প্ল্যান বা কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করা, যেমন- অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বিদ্যুৎ সংযোগে গোলযোগ ইত্যাদি।
  • আগুন লাগা ও অন্যান্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অ্যাকশন প্ল্যানগুলো নিয়ে শিডিউল তৈরি করা এবং নিয়মিত সেগুলোর পর্যালোচনা করে দেখা।
  • সর্বাধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অডিটের প্রত্যেকটি ফাঁক ফোকরের দিকে খেয়াল রাখা ও সেগুলো চর্চা করা।
  • সকল কর্মচারীদেরকেই সবগুলো নিরাপত্তা পরিকল্পনা, পদ্ধতি, সরঞ্জাম এবং বের হওয়ার পথ বা এক্সিট সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
  • নির্দিষ্ট কিছু লোককে কর্মচারীদের ছোট ছোট দলকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ট্রেনিং দিতে হবে।
  • নির্দিষ্ট সময় পর পর অনুশীলনমূলক ফায়ার ড্রিলের আয়োজন করার মাধ্যমে অ্যালার্ম, সরঞ্জাম, বের হওয়ার রাস্তা এবং অন্যান্য পদ্ধতিগুলো নিরীক্ষণ করতে হবে।

আপনি হয়ত জেনে অবাক হবেন যে, যত ছোটই হোক কিংবা বড়, প্রায় প্রত্যেকটি কর্মক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও অ্যাকশন প্ল্যান থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে প্রায় কেউই সেগুলোর সম্পর্কে ভালো ভাবে ধারণাই রাখেন না!

কর্মচারীদেরও উচিত গুরুত্ব সহকারে উদ্যোগ নিয়ে এই জিনিসগুলো শিখে নেয়া, আর নিয়োগকারীদের দায়িত্ব হচ্ছে এ সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা এবং পদ্ধতিগুলো স্টাফদের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে শিখিয়ে দেয়া।

তাহলে চলুন এবার দেখে নিই কর্মক্ষেত্রে অগ্নিকান্ডের সময় পালনীয় ৩ ধাপের বেসিক কার্যপদ্ধতিগুলো:

ধাপ ১ – অ্যালার্ম… অ্যালার্ম… এবং অ্যালার্ম!!!

আপনি যদি বাংলাদেশের মত একটি দেশে থাকেন, কিংবা ইউএসএ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রেই থাকেন না কেন, ফায়ার অ্যালার্মের প্রয়োজনীয়তা সব জায়গায়ই অনেক আন্ডাররেটেড বা হালকা করে দেখা হয়!

একটি কর্মক্ষেত্র, কিংবা কমার্শিয়াল স্পেসের প্রত্যেকটি মানুষেরই জানা থাকা উচিত কীভাবে জরুরী অবস্থার সময় ফায়ার অ্যালার্ম চালু করতে হয়। ঘটনা যতই ছোট বা বড় হোক না কেন, সব ইমারজেন্সিতেই একটি অ্যালার্ম ব্যবহার করা উচিত। এতে করে এটা নিশ্চিত করা যায় যে ফারার সার্ভিস অর্থাৎ দমকল বাহিনীর কাছে যত দ্রুত সম্ভব খবর পৌঁছানো যাবে এবং তারা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌছানোর জন্য তৎক্ষণাৎ রওনা হতে পারবেন।

একটি অ্যালার্ম  ব্যবহার করার মাধ্যমে সহজ ভাবে ঐ স্পেসের সব গুলো মানুষকে জানিয়ে দেয়া যায় যে একটি জরুরী অবস্থা শুরু হয়েছে, আর তাই যেন তারা নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন। এখানে সবার মধ্যে বিপদসংকেত তৈরি করার আংশিক সুবিধা হচ্ছে একটি জরুরী ফোন নাম্বার ব্যবহার করে তাদের সঠিক অবস্থান এবং দুর্ঘটনার যথাসম্ভব তথ্য সহ উপযুক্ত ইমারজেন্সি সার্ভিস দাতা কোম্পানির, যেমন- ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকর্মীদের কাছে তৎক্ষণাৎ পৌঁছে দেয়া।

ছোটখাটো অগ্নিকান্ডের ক্ষেত্রে উপযুক্ত সরঞ্জাম, যেমন – ফায়ার এক্সটিংগুইশারের সাহায্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যাটির নিজেরাই সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। তবে, এই কাজটি যদি সঠিক ভাবে সম্পন্ন করা না যায়, তাহলে কখনও কখনও সমস্যাটি আরো গুরুতর ও ক্ষতিকর আকার ধারণ করতে পারে।

অতএব, এধরণের জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ট্রেনিংপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট লোক হাতের কাছে রাখা উচিত, যারা তাদের ট্রেনিং অনুযায়ী এধরণের পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন। এছাড়াও তারা অন্যান্যদের পূর্বনির্ধারিত অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী ভবন ত্যাগ করার জরুরী পথ দিয়ে গাইড করে বের করে দিতে পারবেন এবং আপনার কর্মক্ষেত্রের সবগুলো অংশ দ্রুত আয়ত্ত্বে নিয়ে আসতে পারবেন।

ধাপ ২ – আপনার কর্মক্ষেত্রটি দ্রুত খালি করে ফেলুন

অনেক কর্মচারীরাই তাদের যার যার কর্মক্ষেত্র খালি করা বা ভবন ত্যাগ করার জরুরী পথ পরিকল্পনার বিষয়টাকে ততটা গুরুত্ব দেননা। কর্মচারীরা বিপদের সময় এত বেশি শান্ত থাকা উচিত নয়, যে ভবন ত্যাগ করার ব্যাপার নিয়ে হেলাফেলা করবেন। আবার ঠিক ততটুকুই শান্ত থাকা উচিত যাতে খুব বেশি আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে পড়েন। ভবন ত্যাগ করার পুরো ব্যাপারটা যতটা শান্তভাবে এবং ঝটপট সেরে ফেলা যায় তত উত্তম।

ভবন ত্যাগ করার সময় আপনার আশেপাশের পরিবেশ পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক জিনিস নিরাপদ নিশ্চিত করে নেয়া উচিত, যেমন- মেশিন ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন করে দেয়া, দরজা ও জানালা বন্ধ করে দেয়া, কিন্তু সেগুলো লক না করা, দুর্গম ও দূরবর্তী জায়গা থেকে অন্যান্যদের উদ্ধার করা ইত্যাদি।

যত যাই হোক, এরকম পরিস্থিতিতে আপনার সব ব্যক্তিগত সামগ্রী খুঁজে খুঁজে সবকিছু সাথে নেয়ার চেষ্টা করবেন না। কেননা এতে করে আপনার সব কলীগদের সাথে নিয়ে নিরাপদে ভবন থেকে বের হয়ে আসাটা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও এসব সময়ে লিফট ভুলেও ব্যবহার করা যাবে না, সব সময় সিঁড়ি ব্যবহার করাই নিরাপদ। যদি আপনি কাউকে আতঙ্কে কাবু হয়ে যেতে দেখেন, তাহলে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু তার আগে নিজেকে শান্ত করে নেয়াটা বেশি জরুরী।

ধাপ ৩ – নির্ধারিত নিরাপদ  স্থানে অবস্থান নিন

প্রত্যেকটি কর্মক্ষেত্রে একটি নিবেদিত বিশেষ নিরাপদ স্থান থাকা উচিত, যেখানে জরুরী অবস্থায় করমচারীরা অবস্থান নিতে পারেন, এবং কোম্পানিতে কর্মরত সকলেরই সেই স্থান ও যাওয়ার পথ সম্পর্কে অবগত থাকা উচিত। সতর্ক সংকেত বা অ্যালার্ম তৈরি করা এবং ভবন ত্যাগ করার পর সকল কর্মচারীদের উচিত একটি নিবেদিত ও নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে একত্রিত হয়ে অবস্থান নেয়া।

এই নিরাপদ স্থানটি আপনার কর্মক্ষেত্রের ভবনটির থেকে নিরাপদ দুরত্বে হওয়া উচিত, এবং এটি এমন একটি জায়গায় হওয়া উচিত, যেখানে ইমারজেন্সি সার্ভিসের লোকেরা সহজে তাদের গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন, যেমন- মেডিক্যাল বা অন্যান্য জরুরী সার্ভিস। একবার সকলে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে যাওয়ার পর, আমরা পরামর্শ দিবো বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট থেকে তাদের সকল স্টাফদের সংখ্যা হিসেব করে দেখা, যাতে কেউ বাদ পড়ে গেলে তা সময় থাকতেই সনাক্ত করা যায়। এই উপায়ে ইমারজেন্সি দমকল কর্মীরা সম্ভাব্য ঠিক কতজনকে উদ্ধার করার প্রয়োজন হবে সে ব্যাপারে একটা আন্দাজ করে নিতে পারেন।

আশা করি যেন আপনাদের কখনও পরবর্তী ধাপের সম্মুখীন না হতে হয়… ধাপ ৪ – অগ্নিকান্ডের সময় আপনার কর্মস্থলে আটকা পড়ে যাওয়া

যদি আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রের ভবনটি ত্যাগ করতে ব্যর্থ হন, কিংবা আপনার কলীগদের সাথে জরুরী পথ ধরে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাতে না পারার মত দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে পড়েন, তারপরও আপনাকে শান্ত থাকতে হবে।,

এখন আপনি যদি নিচের দিকে কোন ফ্লোরে, যেমন দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলায় থাকেন, তাহলে আপনি কোন একটি জানালা খুলে, নিজেকে কিছুটা নিচু করে নিয়ে, অতঃপর বেসিক ভারসাম্যকে কাজে লাগিয়ে বাইরের মাটিতে লাফিয়ে নেমে পড়োতে পারেন। কিন্তু কখনওই সোজা জানালা থেকে ছুটে এসে লাফ দেবেন না, কেননা এক্ষেত্রে খারাপ ভাবে পড়ে ফেলে আপনার হাত কিংবা পা ভেঙ্গে যাওয়া বা অন্য কোন বড় আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে।

আর যদি আপনি আরো কিছুটা উঁচুতে, যেমন চতুর্থ বা পঞ্চম তলায় থাকেন এবং জানালা দিয়েই নেমে আসা আপনার একমাত্র অপশন হয়, তাহলে চেষ্টা করুন কোন কিছু বেয়ে কিছুটা নিচের দিকের ফ্লোরে নেমে, তারপর লাফ দেয়ার আগে নিচে নরম কিছু বস্তু ছুঁড়ে দিন, যাতে করে আঘাত লাগলেও সেটা কিছুটা কম হয়।

এর থেকেও উঁচুতে যদি আপনি থেকে থাকেন, তাহলে চেষ্টা করুন জানালার কাছাকাছি কোথাও অবস্থান নিতে, এবং জরুরী সার্ভিসের লোকরা আপনাকে উদ্ধার করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। উদ্ধার হওয়ার অপেক্ষা করার সময় আপনার রুমের দরজা বন্ধ করে সব গুলো ফাঁক ফোকর কাপড় বা এই ধরণের জিনিস দিয়ে বন্ধ করে দিন, যাতে করে রুমের মধ্যে ধোঁয়া জমতে না পারে।

যদি আপনার কাপড় বা শরীরের কোন অংশে আগুন লেগে যায়, তাহলে ছুটোছুটি করবেন না, কেননা এতে করে আগুনের শিখা আরো বেশি প্রখর ভাবে বেড়ে যায়। থামুন, শুয়ে পড়ুন এবং গড়াগড়ি দিন!

এর মানে হচ্ছে, আপনার উচিত ছুটোছুটি ও নড়াচড়া বন্ধ করে দেয়া, তারপর ফ্লোর বা মাটিতে শুয়ে পড়া, এবং তারপর মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে আগুনের শিখা নিভিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।

শেষ কথা

আগুন কোন ছোটখাটো সমস্যা নয়, বরং অনেক বিপদজনক ও ভয়াবহ একটি ব্যাপার!

ঢাকা শহর ও দেশের অন্যান্য অংশে অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া সর্বশেষ ঘটনাগুলো থেকে আমরা এটাই বুঝতে পেরেছি যে নিজেদের বাসা এবং কর্মক্ষেত্রে এই ধরণের পরিস্থিতিতে পড়লে আমাদের যে রকম প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা থাকা উচিত, সেরকম কোন প্রস্তুতিই আমাদের কারো মধ্যে নেই।

কেউই তাদের সামান্য কোন জিনিস পর্যন্ত হারাতে চান না, সেখানে আগুনে পুড়ে জীবন হারানোর তো প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু এরকম কিছু আমাদের সাথে হবে না, এরকম ধারনা বা আশা করে বসে থাকার বদলে আমাদের উচিত নিজেদেরকে এ ধরণের কঠিন পরিস্থিতি ও বিপদ মোকাবিলা করার নানা রকম উপায় ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা ও নিজেদেরকে যেকোন অবস্থার জন্য প্রস্তুত করে রাখা।

আশা করি আমাদের এই প্রতিবেদনটি আপনাদেরকে জরুরী অবস্থার ট্রেনিং, নিরাপত্তা পদ্ধতি সম্পর্কে জানা এবং নিজ নিজ বসতবাড়ি ও কর্মক্ষেত্রকে অগ্নিকান্ডের মত ভয়াবহ দুর্ঘটনা মোকাবিলা করার মত করে গড়ে তোলা।

Bikroy.com -এ ব্রাউজ করে আজই আপনারা নিজেদের ঘর ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যেমন- ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, মাস্ক, ফায়ার এক্সটিংগুইশার ইত্যাদি খুঁজে নিতে পারেন সহজেই।

আগুনের ভয়াবহতা এবং ক্ষতিকর প্রভাবকে কখনওই ছোট করে দেখবেন না। আর শুধুমাত্র নিজেই নয়, নিজের পরিবার, বন্ধুবান্ধদ এবং কলীগদের সকলে মিলে অগ্নিকান্ডের বিপক্ষে নিজেদেরকে রক্ষা করার বিভিন্ন পদ্ধতি ও নিরাপত্তামূলক নানা রকম জ্ঞানের চর্চা করে সবাইকে প্রস্তুত করে নিন।

নিরাপদ থাকুন এবং প্রস্তুত থাকুন! ভাগ্য আপনাদের সহায় হোক!


আকর্ষণীয় “বৈশাখী ডিলস ১৪২৬”-এর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করলো Bikroy-Minister

Winner of Boishakhi Deals

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com, “বৈশাখী Deals ১৪২৬ পাওয়ার্ড বাই Minister ক্যাম্পেইনের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে। গতকাল ১৭ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার রাজধানীর Bikroy-এর প্রধান কার্যালয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এই ‌ক্যাম্পেইনে Bikroy-এর পার্টনার হিসেবে ছিল Minister Hi-Tech Park Limited.

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন Bikroy.com-এর হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন; Bikroy.com-এর হেড অব মার্কেটপ্লেস নাজ হুসাইন; এবং Minister Hi-Tech Park Limited-এর হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস কে.এম.জি. কিবরিয়া সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

  • প্রথম পুরস্কার বিজয়ী নাবিলা রিতা জিতে নিয়েছেন Minister-এর সৌজন্যে একটি ৩০০ লিটার রেফ্রিজারেটর;
  • দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী শিমুল দেবনাথ জিতেছেন Minister-এর সৌজন্যে একটি ৩২” এলইডি স্মার্ট টেলিভিশন; এবং
  • তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী মেহেদী হাসান আনিস জিতেছেন Minister-এর সৌজন্যে একটি গ্যাস বার্নার।

Boishakhi Deals Winners

গ্রাহকরা Bikroy Deals গিয়ে তাদের পছন্দের পণ্য “Buy Now” ফিচারের মাধ্যমে কিনে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। সর্বোচ্চ সংখ্যক কেনাকাটা করা গ্রাহকদের মধ্য থেকে র‍্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে তিনজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। Bikroy Deals হচ্ছে Bikroy.com সার্ভিসের সবচেয়ে নতুন সংযোজন। এটি মূলত একটি ই-কমার্স সেকশন যা “Buy Now” ফিচারের মাধ্যমে হিসেবে ইলেকট্রনিক্স, কিচেন ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ব্যাক্তিগত গ্রুমিং আইটেম, ট্র্যাভেল এক্সেসরিজ এবং আরও হাজারো পণ্য শতভাগ নিরাপত্তার সাথে ক্রেতাদের নিকট পৌঁছে দেয়।

প্রথম পুরস্কার বিজয়ী নাবিলা রিতা বলেন, “আমি এর আগেও Deals থেকে কেনাকাটা করেছিলাম। এবারও তাই করি, কিন্তু প্রথম পুরস্কার জিতে যাবো তা ভাবতেও পারিনি। Bikroy.com-কে অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্য।”

Bikroy.com-এর হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন বলেন, “আমি বিজয়ীদের অভিনন্দন এবং Deals এর সকল ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার বিশ্বাস, বিজয়ীরা জিততে পেরে দারুণ খুশি হয়েছে, গ্রাহকদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরাও আনন্দিত। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা ভ্যালেন্টাইন Deals কন্টেস্ট নিয়ে এসেছিলাম এবং গ্রাহকদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলাম, যা আমাদের নববর্ষ উপলক্ষ্যে আকর্ষণীয় এই ক্যাম্পেইনটি নিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে। এবারও মাত্র ১৯ দিন ব্যাপী এ ক্যাম্পেইনে আমরা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দুর্দান্ত সাড়া পেয়েছি এবং গত মার্চ মাসে Deals থেকে আমরা দশ হাজার অর্ডার পেয়েছি।

এই ক্যাম্পেইনের অংশীদার Minister Hi-Tech Park Limited-এর হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস কে.এম.জি. কিবরিয়া বলেন, “Minister Hi-Tech Park Limited-এর পক্ষ থেকে ভাগ্যবান বিজয়ীদের অভিনন্দন। আমরা স্বল্প পরিসরে হলেও গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণের সঙ্গী হতে পেরেছি, এটি আমাদের জন্য আগামীর বিশেষ আয়োজনে অনুপ্রাণিত করবে। দারুণ এই আয়োজনের জন্য Bikroy-কে ধন্যবাদ।”


২০১৮ এর পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশের গাড়ির মার্কেট | ইনফোগ্রাফিক

বাংলাদেশের গাড়ির মার্কেট

২০১৮ সালে Bikroy এদেশে গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশের গাড়ির মার্কেট নিয়ে একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করছে। শুধুমাত্র Bikroy প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীদের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এটি সাজানো বলে এটি ফলপ্রসূতা পেয়েছে তা নয়, এই ইনফোগ্রাফিকটি ২০১৯ সালের বাংলাদেশের গাড়ির বাজার সম্পর্কে একটি কার্যকরী ধারণা দিতেও সক্ষম।

এই ইনফোগ্রাফিকটি বাংলাদেশের গাড়ির বাজারের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে যা হলোঃ

) এলাকা ভিত্তিক গাড়ির বিজ্ঞাপনের হার

) দামের অনুযায়ী গাড়ির শ্রেণীবিভাগ

) বিজ্ঞাপনের এর ভিত্তিতে পাঁচটি জনপ্রিয় গাড়ির ব্র্যান্ড

৪) সেরা পাঁচ সর্বাধিক খোঁজা গাড়ির ব্র্যান্ড

৫) নতুন, ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন গাড়ি

গাড়ি, প্রপার্টি, মোবাইল ফোন কেনাবেচার সঙ্গে চাকরি খোঁজা, এ সমস্ত জিনিস একসাথে দিয়ে গ্রাহকদের কাছে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অনলাইন প্লাটফর্ম পরিণত হয়েছে Bikroy। প্লাটফর্মটি প্রপার্টি কিংবা গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের প্রাথমিক মূল্যায়নের যথার্থ যায়গা হিসেবে ব্যবহারকারীদের মনে স্থান করে নিয়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনকে বোঝা ও তাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর পরামর্শ ও সমাধান দিয়ে আজ এই পর্যায়ে পৌছেছে প্ল্যাটফর্ম।

এলাকা ভিত্তিক গাড়ির বিজ্ঞাপনের হার

বিভাগ ভিত্তিক গাড়ির বিজ্ঞাপনের হার

অনলাইন মার্কেটপ্লেস প্লাটফর্মের কারনে বাংলাদেশের সমস্ত বিভাগে Bikroy এখন একটি নির্ভরযোগ্য নাম। যদিও যখন Bikroy-এ গাড়ির বিজ্ঞাপনের কথা আসে, দেখা যায় তার সিংহভাগ বিজ্ঞাপনই প্রকাশ করা হয় রাজধানী ঢাকা থেকে। Bikroy-এ ঢাকা থেকে প্রকাশিত গাড়ির বিজ্ঞাপন তাই ৭৭ শতাংশ। এরপরই পাঁচভাগের একভাগ বিজ্ঞাপন (১৮ শতাংশ) প্রকাশিত হয় চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে। এছাড়া বাকি অন্যান্য বিভাগ থেকে বিজ্ঞাপন আসে মাত্র ৫ শতাংশ।

যেহেতু রাজধানী ঢাকার রাস্তায় এদেশের সর্বাধিক সংখ্যক গাড়ি চলাচল করে, তাই স্বভাবতই সবচেয়ে বেশী বিজ্ঞাপন এ শহর থেকেই প্রকাশ করা হয়। তবে জ্বালানী ও বসবাসের খরচের উর্দ্ধগতি একটি উদ্ধেগের বিষয়, তাই এদেশের গাড়ি চালানোর সময় জ্বালানীর খরচ কমানোর উপায়গুলো বিবেচনায় রাখা উচিৎ।

দাম অনুযায়ী গাড়ির বিজ্ঞাপন

দামের রেঞ্জ অনুযায়ী গাড়ি

২০১৮ সালের যানবাহনের বিজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব গাড়ির দাম ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা সেগুলো Bikroy এর বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে সর্বাধিক অংশ জুড়ে আছে। এই ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের গাড়িগুলো বিজ্ঞাপনগুলোর ৩৬ শতাংশ যায়গা জুড়ে রয়েছে। ২৫ শতাংশ হয়ে পরবর্তী বড় বিজ্ঞাপনের ভাগ নিয়েছে একটি বাড়তি মূল্যমানের গাড়িগুলো যেগুলোর দাম ২০ থেকে ৩০ লক্ষের মধ্যে।

সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়িও পিছিয়ে নেই, ১ থেকে ১০ লক্ষ টাকার গাড়িগুলোও সম্পূর্ণের এক পঞ্চমাংশ মানে ২০ শতাংশ যায়গা দখল করেছে। ৫ শতাংশ যায়গা নিয়েছে ১ লক্ষ টাকার নিচের যানবাহনগুলো। এছাড়া ৩০ লক্ষের অধিক দামী গাড়িগুলো বিজ্ঞাপনের ১৪ শতাংশ অংশ জুড়ে আছে।

পাঁচটি জনপ্রিয় গাড়ির ব্র্যান্ড

অ্যাডস এর ভিত্তিতে পাঁচটি জনপ্রিয় গাড়ির ব্রান্ড

আমরা ইতিমধ্যেই জানলাম যে রাজধানী ঢাকার বিজ্ঞাপনগুলো সমগ্র বিজ্ঞাপনের ৭৭ শতাংশ যায়গা জুড়ে রয়েছে এবং ১০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের গাড়িগুলো সমগ্র বিজ্ঞাপনের ৫১ শতাংশ স্থান দখল করেছে। কিন্তু কোনটি সর্বাধিক জনপ্রিয় গাড়ির ব্র্যান্ড সেটি এখনো জানা হয়নি। ২০১৮ এর Bikroy এর বিজ্ঞাপনের তথ্য অনুসারে সর্বাধিক জনপ্রিয় ৫ টি গাড়ির ব্র্যান্ডের নাম নিম্নে উল্লেখিত হলো।

১) টয়োটা – ৮০%

২) হোন্ডা – ৭%

৩) নিসান – ৬%

৪) মিতশুবিশি – ৫% এর কম

৫) হুন্দাই – ৫% এর কম

যেখানে টয়োটা নিঃসন্দেহে এদেশে সর্বাধিক জনপ্রিয় গাড়ির ব্র্যান্ডের নাম, এর সাথে তালিকায় অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলোর নামও শোভা পাচ্ছে। টয়োটা গাড়ির এই ৮০ শতাংশ মার্কেট শেয়ারের মধ্যে রয়েছে ব্র্যান্ডটির কিছু নির্ভরযোগ্য গাড়ির মডেল।

টয়োটা এদেশে সর্বাধিক জনপ্রিয় গাড়ির ব্রান্ড

যার মধ্যে রয়েছে প্রিমিও ১৪ শতাংশ, এক্সিও ১১ শতাংশ, এলিয়ন ১০ শতাংশ ও করোলা ১০ শতাংশ। টয়োটা নোয়াহ অধিকার করেছে ৮ শতাংশ স্থান এবং টয়োটার অন্যান্য মডেলের গাড়িগুলো নিয়েছে ৪৭ শতাংশ স্থান।

আমাদের আরেকটি প্রবন্ধ থেকে দেখে নিন বাংলাদেশের সেরা ৫ সর্বাধিক বিক্রিত গাড়িগুলো.

সেরা পাঁচ সর্বাধিক সার্চ করা গাড়ির ব্র্যান্ড

সেরা পাঁচ সর্বাধিক খোঁজা গাড়ির ব্রান্ড

মজার ব্যাপার হচ্ছে, ব্যবহারকারীর আচরণগত তথ্য অনুযায়ী Bikroy সার্চ ইঞ্জিনে ৫ টি গাড়ির ব্র্যান্ড পাওয়া গিয়েছে যেগুলো সর্বাধিক সার্চ করা বা খোঁজা হয়েছে। কাউকে অবাক না করে এ তালিকার শীর্ষে স্থান নিয়েছে টয়োটা, এরপর রয়েছে হোন্ডা ও নিসান। তবে এর পরের সার্চ করা দুইটি ব্র্যান্ড আবার কিছুটা ব্যতিক্রমী আর তা হলো সুজুকি ও বিএমডব্লিউ।

যদি আপনি আপনার পরিবারের জন্য সেরা গাড়িটি কেনার কথা ভাবেন, আপনি তা অবশ্যই পাবেন Bikroy-এ।

নতুন, ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশনড গাড়ির হার

Bikroy-এ নতুন, ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন গাড়ি

Bikroy প্লাটফর্মে ২০১৮ সালের যানবাহন ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য থেকে আরেকটি বিষয় উঠে এসেছে আর তা হলো বাজারে থাকা গাড়িগুলোর কন্ডিশন। বাজারে থাকা ৪৫ শতাংশ গাড়িই ব্যবহৃত যা বাজারের প্রায় অর্ধেক। এটি এদেশে একটি সুষম সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির বাজার তৈরি করছে। বাজারে থাকা মাত্র ৫ শতাংশ গাড়ি একেবারে নতুন কিংবা ব্রান্ড নিউ, আর ৫০ শতাংশ গাড়ি রিকন্ডিশন যেটি বাংলাদেশের বাজারে নতুন গাড়ি হিসেবে গণ্য করা হয়।

আপনি যদি ব্যবহৃত অথবা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে এখান থেকে দেখে নিন কেনার আগে কিছু বিষয়ের কথা অবশ্যই মাথায় রাখবেন

শেষকথা

২০১২ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই Bikroy.com বাংলাদেশের প্রতিদিনের অনলাইন ব্যবহারকারী ও ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে। গাড়ি ও যানবাহন, প্রপার্টি, ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ব্যক্রিগত সামগ্রী, খেলাধুলা ও সৌখিন উপাদান এমনকি চাকরির বিজ্ঞাপন.. এসব দিয়ে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই গ্রাহকদের কাছে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অনলাইন প্লাটফর্ম পরিণত হয়েছে Bikroy।

আপনি যদি ২০১৯ সালে নতুন একটি গাড়ি কেনার কথা ভেবে থাকেন তবে ২০১৮ সালের বাংলাদেশের গাড়ির বাজার বিশ্লেষণ আপনাকে সেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সাহায্য করবে। 

সম্পূর্ণ ইনফোগ্রাফিকটি দেখুন


জব পোর্টাল সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দিতে BikroyJOBS এর নতুন সূচনা!

New BikroyJOBS

আপনি কী চাকরির জন্য ইন্টারনেট এবং পত্রিকার কলামের উপর নির্ভরশীল? অথবা একজন নিয়োগকর্তা হিসেবে আপনি কী আপনার টিমের জন্য সঠিক প্রার্থীর সন্ধানে ঘুরছেন?

চাকরির বাজার নিয়ে আমাদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, খালি পদ দ্রুত পূরণ করা বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনশক্তি ও নিয়োগকর্তাদের পক্ষে বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং এর প্রতিটি পদে জড়িয়ে আছে ব্যাপক খরচ।

তাই Bikroy.com নতুন আঙ্গিকে নিয়ে এসেছে BikroyJOBS – বাংলাদেশের প্রথম জব সাইট যা নিয়োগকারীদের জন্য একটি সাশ্রয়ী ও পরিপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করবে এবং বিশেষভাবে পার্ট-টাইম, এন্ট্রি লেভেল এবং তরুণ শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানে সহায়তা করবে।

BikroyJOBS যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরি এবং আপনার দক্ষতা অনুযায়ী চাকরি খোঁজার আদর্শ মাধ্যম। হতে পারে আপনি আমাদের মেম্বারদের খোঁজা সঠিক প্রার্থী কিংবা স্বপ্নের চাকরিটির জন্য আপনি সম্ভাব্য প্রার্থী – BikroyJOBS এ যোগ দিন আর আপডেটেড থাকুন এই সব বিষয়ে।

কীভাবে BikroyJOBS এর মাধ্যমে আপনি উপকৃত হবেন?

Aarong, Eskayef, Pran, Daraz, Foodpanda, Shohoz, Obhai, Interspeed, ECourier এর মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানগুলির আস্থা BikroyJOBS। Bikroy.com এর ৩.৪ মিলিয়নেরও বেশি ইউনিক ভিজিটরের সাথে আমরা একটি বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম যা নিয়োগ বা চাকরি খোঁজার বিষয়টিকে মতো সময়সাধ্য বিষয়কেও একদম সহজ করে তোলে।

এক নজরে BikroyJOBS:

  • প্রতি মাসে ৪৫০,০০০+ ইউনিক ভিজিটর
  • প্রতি মাসে ৩৮০+ নতুন বিজ্ঞাপন
  • প্রতি মাসে ১,০০০+ লাইভ বিজ্ঞাপন
  • ৪০০,০০০+ সিভি ডাটাবেজ
  • ৫০+ নিবন্ধিত নিয়োগকর্তা
  • প্রতি মাসে ২০০,০০০+ আবেদনকারী

BikroyJOBS এর নতুন ফিচারসমূহঃ

  • ফিচারড এমপ্লয়ারঃ “ফিচারড এমপ্লয়ার” এ BikroyJOBS এর সাথে যুক্ত কোম্পানিগুলোর জব ওপেনিংগুলোতে সরাসরি আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
  • সহজেই চাকরি খুঁজুনঃ এখন থেকে ইন্ডাস্ট্রি অর্থাৎ ম্যানুফ্যাকচারিং, হেলথকেয়ার, ই-কমার্স এবং ইন্টারনেট; ব্যবসায়িক ফাংশন (কাজের ধরণ) অর্থাৎ মার্কেটিং ও সেলস, গ্রাহক সেবা, প্রশাসন এবং আইটি ও টেলিকম এবং চাকরির ধরন অর্থাৎ ফুলটাইম, পার্ট-টাইম এবং কন্ট্রাকচুয়াল – ইত্যাদি বিভাগ থেকে আপনার প্রয়োজনীয় বিষয়টি খুঁজে নিতে পারবেন।

সহজ নেভিগেশনঃ

  • চাকরি প্রার্থীদের জন্যঃ কীভাবে সিভি তৈরি আপডেট করতে হয় সেসম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা দেওয়া আছে।
  • নিয়োগকর্তাদের জন্যঃ এটি নিয়োগকর্তাদের সরাসরি ট্যালেন্ট হান্ট পেজে নিয়ে যায় যার মাধ্যমে তারা আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পান।

BikroyJOBS এর লক্ষ্য় হচ্ছে চাকরি প্রার্থীদের পছন্দের ইন্ডাস্ট্রি বা ফাংশন অনুযায়ী চাকরি খোঁজা এবং একইভাবে প্রার্থীদের একটি বিশাল পুল তৈরির মাধ্যমে নিয়োগকারীদের যোগ্য প্রতিভা খোঁজার জন্য একটি বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

সুতরাং, আর দেরি না করে আজই ভিজিট করুন Bikroy.com/JOBS!


বাড়ি কেনার গাইডঃ নতুন নাকি পুরনো কোন বাড়ি কিনবো?

বাড়ি কেনার গাইড

বাড়ি কেনার কথা মাথায় আসলেই সবার আগে যেই ভাবনাটা আসে তা হলো, নতুন নাকি পুরনো বাড়ী কিনবো?

ফ্লাট, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা আস্ত বাড়ি; নতুন বাড়ি কেনা প্রত্যেকের জীবনের অনেক বড় একটি সিদ্ধান্ত।

নতুন নাকি পুরনো বাড়িকোনটি হতে পারে সেরা পছন্দ?

যেহেতু বাড়ি কেনার ব্যাপারে এই মতামতগুলো নানা বিষয়ের কারনে ভাগ হয়ে আছে, তাই নতুন কিংবা পুরনো যেকোন ফ্লাট কেনার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এই লেখাটি পাঠককে নানাভাবে সাহায্য করবে।

আপনি যখন এদেশে কোন নতুন ফ্লাট কেনা এমনকি ভাড়ার বিষয়েও আগ্রহী হবেন, এই লেখাটি আপনাকে জানাবে নতুন পুরনো বাড়ির সুবিধা অসুবিধার দিকগুলো।

নতুন কিংবা পুরনো ফ্লাট কেনার সময় যে ভাবনাগুলো বেশী মাথায় আসে

শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, বাড়ি কেনার বিষয়গুলোতে প্রভাবক বিষয়গুলো সারাবিশ্বে একই। গুণগত মান নির্মাণশৈলীর কারনে অনেক মানুষই পুরনো বাড়ি কেনার প্রতি আকৃষ্ট থাকেন অপরদিকে একবিংশ শতাব্দীর জীবনধারায় অনেকে সদ্য বানানো নতুন বাড়ির প্রতি আগ্রহী হন।

তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাড়ি অন্বেষকদের মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণীর লোকই বেশী যারা নতুন বাড়ি কিনতে চান।

এই শ্রেণীর লোকেরা নতুন ফ্লাটে থাকতে পছন্দ করেন যাতে রুম লাইট, আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, গ্যাজেট জ্বালানীশক্তি সাশ্রয়ী পরিবেশ তাদের বর্তমান জীবনযাত্রার মানের সংগে মানানসই

অন্যদিকে যখন আপনি পুরনো বাড়ি কেনেন, তখন প্রধানত প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, মজবুত নির্মাণ কিংবা সাশ্রয়ী মূল্যের কারনগুলো বেশী কাজ করে শুধুমাত্র এদেশে নয়, আধুনিক মানের নির্মানের কারনে বিশ্বব্যাপী  নতুন বাড়ি কেনার চাহিদা বাড়ছে।

নতুন কিংবা পুরাতন ফ্লাট কেনার সুবিধা, অসুবিধার যুক্তিগুলো সমানভাবে গুরুত্বপূর্ন।

সরকার কর্তৃপক্ষকে তাই গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, তারা কি পুরনো বাড়িগুলো সংরক্ষণ করবে নাকি নতুন বাড়ি বানিয়ে জনগনের আবাসনের চাহিদাকে মেটাবে। সঙ্গে ব্যাংক থেকে লোন নানা স্কিমও দেয়া হচ্ছে বাড়ি কেনার ব্যাপারে ক্রেতাদের সাহায্য উদ্ধুদ্ধ করার জন্য।

আপনি যদি এমন ক্রেতাদের মধ্যে একজন হন যিনি নতুন কিংবা পুরনো বাড়ির মধ্যে কোনটি কিনবেন তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, আপনার জন্য এই লেখাতে বাড়িগুলো ক্রয়ের সুবিধা অসুবিধার বিবরণ আপনাকে সিদ্ধান্তগ্রহনে সাহায্য করবে। তাই দেরি না করে দেখে নেয়া যাক এদেশে পুরনো বনাম নতুন ফ্লাট ক্রয়ের সুবিধা অসুবিধার দিকগুলো। এই সম্পর্কে আরও সাহায্য পেতে দেখে নিন ঢাকা শহরের যেসব এলাকা ফ্ল্যাট কেনার জন্য জনপ্রিয়

পুরনো ফ্লাট কেনার সুবিধাগুলো

অনন্য ও ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলী

যখন আপনি পুরনো বাড়ি কিনবেন,  অধিকাংশ ক্ষেত্রি দেখা যাবে বাড়িটি অন্তত ৩০ বছর আগে তৈরি এই পুরনো প্রপার্টিগুলো ব্যতিক্রমী নির্মানশৈলী দিয়ে একপ্রকার সুনাম অর্জন করেছে। এগুলোর নির্মানের ধরন অনন্য আকর্ষনীয় হওয়ায় একটি নিজ চরিত্র ধারণ করছে। বাড়িগুলোর পেছনের ইতিহাস বাড়িগুলোকে এখনকার ভিন্টেজ ব্রান্ডে পরিণত হয়েছে।

গুনগত নির্মাণ

এটি সত্যি যে বাড়িগুলো পুরনো ধাঁচের নির্মান হলেও গুনগত মানের দিক দিয়ে এখনকার বাড়ির থেকে পুরনো বাড়িগুলো অনেকাংশে এগিয়ে। বাড়ি নির্মানের ম্যাটেরিয়াল কিংবা উপাদানগুলো ১০২০ বছর আগের হলেও আজকালকার বাড়ি নির্মানের উপাদানগুলো থেকে ঢের ভালো।

ক্রয়ে স্বল্প খরচ ও দরকষাকষির ক্ষমতা

বাড়ি ক্রয়ের খরচের দিক চিন্তা করলে পুরনো বাড়ির বিক্রয়মূল্য নতুন বাড়ির থেকে অনেক কম চাওয়া হয়, এবং অনেকক্ষেত্রে ক্রেতারা দরকষাকষির সুযোগও পেয়ে থাকেন। বাড়ির বর্তমান অবস্থা বয়সের কারণে ক্রেতারা ক্রয়মূল্য তুলনামূলক কম বলার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

পর্যাপ্ত প্রশস্ততা

পুরনো বাড়িগুলো আগে যে মানসিকতা নিয়ে বানানো হতো সেখানে বাড়ির আয়তন কিংবা প্রশস্ততা একটি গৌণ বিষয় হিসেবে ভাবা হতো। তাই পুরনো বাড়িগুলোতে অনেক বিশাল আকৃতির সব কামরা, স্টোরেজ এর জন্য পর্যাপ্ত যায়গা, বড় খাবার ঘর, রান্নাঘর, বারান্দা থাকতো তাই সেখানে এয়ার কন্ডিশন, বিদ্যুতের মত বিষয়গুলো আলাদা করে বড় আকারে ভাবনায় রাখা হতোনা।

পুরনো ফ্লাট কেনার অসুবিধাগুলো

বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্তের দীর্ঘসূত্রিতা

যখন আপনি এদেশে ফ্লাট কিংবা বাড়ি খুঁজবেন, তখন দেখবেন অধিকাংশ পুরনো বাড়িগুলোই বিক্রির জন্য অনেকদিন ধরে পড়ে আছে। আপনি পছন্দসই কোন পুরনো বাড়ির জন্য একটি দামও প্রস্তাব করতে পারেন কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আরো নতুন প্রস্তাবের আশায় বাড়ির মালিকেরা চুড়ান্ত বিক্রির সিদ্ধান্তটা নিতে চাননা। তাই পুরনো বাড়ি বিক্রির প্রক্রিয়া অনেক লম্বা, দীর্ঘসূত্রি এবং অনেক ক্ষেত্রে হতাশাজনক।

নিরাপত্তার অপর্যাপ্ততা

নতুন ধাঁচের জানালা কিংবা দরজার লক, ফায়ার এলার্ম, ভোল্টেজ রেগুলেটরের মত আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো আপনি পুরনো দিনের বাড়িতে আশা করাটা ঠিক হবেনা।

পুরনো বাড়ি বড় বাড়ি, আর বড় বাড়ির বেশী দাম

নতুন বাড়িগুলোতে যেহেতু অনেক বেশী পরিমানে রুম থাকে আয়তনে বড় হয়, তাই পুরনো বাড়ির দাম নতুন বাড়ির থেকে অনেকক্ষেত্রে বেশী হয়। তাই ভালো দাম না হাকালে বড় আকারের পুরনো বাড়ি কেনার সুযোগ আপনি হারাতে হতে পারে।

ঘনঘন মেরামত

সাধ্যের মধ্যে আপনি একটি পুরনো বাড়ি পেয়ে যেতে পারেন ঠিকই, কিন্তু অন্যান্য আনুসাঙ্গিক খরচের ব্যাপারেও আপনাকে ভাবতে হবে। পুরনো হওয়ায় বাড়ির নানা যন্ত্রাংশের ঘনঘন মেরামতের ব্যাপারটি অবশ্যই আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। অনেকক্ষেত্রে, এই ছোটছোট খরচগুলো আপনার প্রত্যাশিত খরচকে ছাড়িয়ে যেতে পারে

নতুন ফ্লাট কেনার সুবিধাগুলো

সরকারী সাহায্য

আগেই জানিয়েছি, সরকার নতুন বাড়ি কেনায় উৎসাহ প্রদানের জন্য নানা ব্যাংকিং স্কিম তৈরি করেছে। এরসঙ্গে অনেক প্রপার্টি ডেভলপারদের দেয়া নানা আকর্ষনীয় সহজ স্কিম বাড়ি কেনার বিষয়টাকে সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসছে। বাংলাদেশ সরকারের আবাসন খাতে নেয়া উদ্যোগগুলো জানতে এই লেখাটি পড়ুন খুঁজে নিন ভাড়া বা কেনার জন্য উপযুক্ত বাসা

নিজের মত করে ফাঁকা বাড়ি সাজানোর সুযোগ

নতুন ফ্লাট, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা বাড়িটিকে আপনি আপনার পরিবার প্রিয়জনদের জন্য নিজের আপন মনে সাজানোর সুযোগ পাবেন। বাড়ির নাম, ওয়ালপেপার কিংবা দেয়ালের রঙ, ফিটিংস সহ নানাবিধ বিষয়গুলির ব্যাপারে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নিজের সিদ্ধান্তে ভালো জিনিসগুলো দিয়ে বাড়ি সাজাচ্ছেন, তাইতো ঘনঘন নষ্ট মেরামতের ঝামেলা থেকে উদ্ধার পাবেন।

জ্বালানীশক্তি সাশ্রয়ী

নতুন বাড়িগুলো ছোট রুমের আয়তনে তৈরি বিধায় এটি অধিক জ্বালানীশক্তি সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ইউটিলিটির এই বাড়তি খরচের যুগে আপনি কম খরচে আপনার ছোট রুমকে এসির সাহায্যে ঠান্ডা করতে পারবেন। আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি যেমন ফ্রিজ, টিভি, ওয়াশিং মেশিনও স্বল্প বিদ্যুৎ খরচে চালাতে পারবেন আপনি। বাজারের সেরা জ্বালানীশক্তি সাশ্রয়ী ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি খুঁজুন Bikroy.com মার্কেটপ্লেসে।

নতুন ফ্লাট কেনার অসুবিধাগুলো

নির্মাণ সমাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতা

সুবিধার পাশাপাশি নতুন ফ্লাট কেনার অসুবিধাও রয়েছে যেমন বাড়ি নির্মাণ সমাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতা অনেকক্ষেত্রে ক্রেতাদের ডেভলপার থেকে বাড়ি বুঝে পেতে থেকে বছরও লেগে যেতে পারে।

গুণগত নির্মাণের ঘাটতি

অনেকেই মনে করেন ইদানিংকালে নির্মিত ফ্লাটবাড়িগুলোতে সস্তামানের উপকরণ ব্যবহৃত হয় যেটি বেশিদিন স্থায়িত্ব লাভ করেনা। উপকরণগুলো দেখতে সুন্দর আকর্ষনীয় হলেও গুণগত মানের দিক দিয়ে সেগুলোতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

অপর্যাপ্ত প্রশস্ততা

এদেশে নতুন ফ্লাটবাড়ির যে বিষয়টি নজরে আসে তা হলো এগুলোর অপর্যাপ্ত প্রশস্ততা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বানাতে গিয়ে বাড়িগুলো ছোট আকৃতির হয়ে থাকে যেগুলো অনেকক্ষেত্রে অনাকর্ষণীয়

সার্ভিস চার্জ

নতুন বাড়িতে উঠতে গেলে আপনাকে গুনতে হবে নানা ধরনের সার্ভিস চার্জও। যদিও এটি স্থানের সাথে পরিবর্তন হয়, তাও আপনাকে বাড়ি সামলে রাখতে দিতে হবে সিকিউরিটি, লিফট, পার্কিং, ময়লা সহ নানান বিল। অনেকক্ষেত্রে খরচগুলো একত্রে একটি আস্ত বাসা ভাড়া নেয়ার সমান।

শেষকথা

আশাকরি লেখাটি দিয়ে আপনার বাড়ি খোঁজার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কৌতুহলগুলো মেটানো গেছে।

এবারে বলুন, আপনার সিদ্ধান্তটি কি?

নতুন বাড়ি কিনবেন?

নাকি পুরনো বাড়ি কেনার ব্যাপারেই মনস্থির করবেন?

বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত একটি দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ। দিনশেষে এটি একান্তই আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ যে আপনি নতুন বাড়ি কিনবেন নাকি পুরনো।

কিছু মানুষ অন্ধভাবে পুরনো বাড়িকেই পছন্দ করে আবার কিছু মানুষের পছন্দ নতুন বাড়ি। কিন্তু বাকিদের জন্য বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বড্ড বিভ্রান্তিকর এবং তারা জানেনা কোথা থেকে শুরু করতে হবে।

বাড়ি কেনার ব্যাপারে লেখাটিতে আলোচিত পুরনো নতুন বাড়ির সুবিধা অসুবিধাগুলো আপনাকে একটি সিদ্ধান্তগ্রহনে সাহায্য করবে বলে আশা রাখা যায়। ঢাকায় বিভিন্ন দাম আয়তনের প্রোপার্টিগুলো সম্পর্কে জানুন এই ইনফোগ্রাফিক্স এর মাধ্যমে যেটি ২০১৮ সালের আবাসন খাতের পরিসংখ্যান দিয়ে তৈরি ২০১৮ সালে আবাসন খাত এর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে।

পরিশেষে বাড়ি কেনার ব্যাপারে আপনি বিজয়ী কিংবা পরাজিত হবেন কিনা সেটি আসল নয়, আসল হলো আপনি বাংলাদেশে ফ্লাট খোঁজার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিচ্ছেন। বাড়ি আপনি ভাড়া কিংবা পুরোপুরি কেনার জন্যই খুঁজুন, এটি সবচেয়ে জরুরী যে আপনি সমস্ত বিকল্পগুলো খুঁজতে পেরেছেন কিনা!

Bikroy.com প্রপার্টি পোর্টালের সমস্ত লিষ্টিংগুলোতে ব্রাউজ করে খুঁজুন ফ্লাট। খুঁজুন আপনার আপনার পরিবারের জন্য সঠিক বাড়ি কিংবা আপনার পরবর্তী প্রপার্টি শুধুমাত্র Bikroy.comএ।

আশাকরছি এই পুরনো বনাম নতুন প্রপার্টি ক্রয়ের গাইডটি আপনাকে সঠিক বাড়ি খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। প্রপার্টি ক্রেতা কিংবা বিক্রেতাদের জন্য আপনার সুচিন্তিত মতামত, পরামর্শ কমেন্ট সেকশনে লিখুন।


চাকরির জন্য সিভি তৈরির সঠিক নিয়ম

চাকরির জন্য সিভি

একটি ভালো চাকরি পাওয়ার জন্য কোন কাজটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবার আগে করা জরুরী?

আপনি কি এর সঠিক উত্তরটি জানেন? আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়ত নানা রকম উত্তর ভাববেন, যেমন- ভালো পড়াশোনা কিংবা ট্রেনিং, বা এই ধরণের কিছু একটা বেশি দরকারি। কিন্তু সত্যি বলতে গেলে, আপনার স্বপ্নের চাকরিটি পাওয়ার জন্য সবার আগে আপনাকে সেখানে একটা আবেদন করতে হবে!

একটি চাকরির আবেদন করার সময় আপনার পরিচয় ও প্রতিনিধি হয়ে থাকে শুধুমাত্র একটি ডকুমেন্ট – তা হলো আপনার ‘কারিকুলাম ভিটায়’, যা সংক্ষেপে শুধুমাত্র সিভি নামে পরিচিত।

সিভি হলো এমন একটি শক্তিশালী দলিল, যা কাগজে কলমে আপনার যাবতীয় তথ্য, যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। আমাদের মধ্যে অনেকেই একটি ভালো মানের সিভির গুরুত্ব বুঝতে পারেন না কিংবা অবহেলা করেন। অথচ ইন্টারভিউ এর জন্য প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য নিয়োগকারীরা সর্বপ্রথম এই সিভি দেখেই আবদনকারীদের যাচাই করে থাকেন। শুধুমাত্র যাদের সিভি কিছুটা আকর্ষণীয় আর বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় তারাই ইন্টারভিউ বা পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন!

আজ আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো কীভাবে একটি ভালো সিভি লেখা যায়। এই পরিপূর্ণ গাইডলাইনটি আপনাকে বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বের যেকোন দেশে চাকরির আবেদন করা ও মানসম্মত সিভি লেখার ব্যাপারে সাহায্য করবে। চাকরির ধরণের উপর ভিত্তি করে একাধিক সিভির টেমপ্লেট তৈরি করা ও ব্যবহার করার জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।

সিভি ব্যাপারটা আসলে  কী ও এটি কেমন হয়?

আমরা একটু আগেই সংক্ষিপ্ত ভাবে সিভির গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু এটি আসলে কী?

একটি সিভি (অর্থাৎ কারিকুলাম ভিটায়) হলো এমন একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী দলিল, যা একজন নিয়োগকারীর নজরে একজন চাকরি প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সামগ্রিক মান ইত্যাদির সংক্ষিপ্তসার হিসেবে কাজ করে।

হয়ত অনেকেই বলবেন যে সিভি হচ্ছে এমন একটি পরচা বা লিফলেট যা নিজেকে বিকিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়।

এই কথাটার সাথে আমরা কোন ভাবেই একমত নই!

আমরা বলবো, একটি সিভি হচ্ছে একটি ব্যবসা কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য আপনি যে মূল্যমান প্রতিষ্ঠা করতে পারেন এবং কীভাবে আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা একজন নির্দিষ্ট নিয়োগকারীকে আপনার সার্ভিস থেকে উপকার পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে, সে ব্যাপারে খোলাখুলি কথা বলার একটি প্রফেশনাল সুযোগ।

অতএব, যেসব ক্ষেত্রে আপনি আপনার সেরা পারফর্মেন্স দিতে পারবেন, অর্থাৎ আপনার শক্তির উপর গুরুত্ব আরোপ করাটা একদিকে যেমন জরুরী; অন্যদিকে আপনার দুর্বলতার দিকগুলো তুলে ধরাটাও দরকারী, যাতে তারা বুঝতে পারেন যে কীভাবে আপনি আপনার স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে থাকা যেকোন পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করতে পারবেন।

একটি সিভি সর্বোচ্চ কতটুকু লম্বা করে লেখা সম্ভব? আর অন্তত কতটুকু এতে না লিখলেই নয়!

ইউনাইটেড কিংডম এবং ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা এর মত বেশির ভাগ উন্নত দেশে, একটি আদর্শ সিভির দৈর্ঘ্য সচরাচর ২ পৃষ্ঠার বেশি হয় না। তবে এই দৈর্ঘ্য চাকরির ভূমিকা এবং আবেদনকারীর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কম বেশি হতে পারে। একটি সিভি কতটা ভালো ভাবে লিখা বা সাজানো তার উপর নির্ভর করে সিভির কোন নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য বা আকার নেই।

বাংলাদেশে একটি প্রচলিত সিভির আকার বেশ লম্বা হয়ে থাকে। যখন আপনি বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার আশায় একটি সিভি লেখেন, তখন সেটির আকার অন্তত পক্ষে ২ পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে তার চেয়েও বেশি লম্বা হবে এমনটাই আশা করা হয়। এর কারণ হলো, বাংলাদেশের বেশির ভাগ কোম্পানিগুলোই তাদের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা চাকরি ও কাজের অভিজ্ঞতা, বিস্তারিত পেশাদারী ভূমিকাগুলো ইত্যাদি ব্যাপারে একটি বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেখতে চান।

আপনার সিভিটি লিখার সময় এমন ভাবে সব তথ্য সাজানো দরকার যাতে করে আপনার পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের বিশেষ দিকগুলোর দিকে নিয়োগকারীদের নজর আকৃষ্ট করে আনা যায় সবচেয়ে বেশি। তা না হলে, দ্রুত চোখ বোলানোর সময় নিয়োগকারীদের নজর ঐ নির্দিষ্ট চাকরিটির জন্য আপনার সবচেয়ে উপযুক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো এড়িয়ে যেতে পারে।

সিভি তে কি কি তথ্য ও বিবরণ দিতে হবে?

নিজের সিভি লেখার সময় যেসব সহজ ও বেসিক তথ্য তাতে উল্লেখ করতে হয় সেগুলো অনেকেই মাঝে মাঝে খেয়াল করে লিখতে ভুলে যান।

  • যোগাযোগের বৃত্তান্ত:

আপনার পূর্ণ নাম, বাসার ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার, ইমেইল এড্রেস ও অন্যান্য ইত্যাদি সব রকম ব্যক্তিগত যোগাযোগের বৃত্তান্ত আপনার সিভিতে উল্লেখ করা খুবই দরকারি। তবে, যদি বিশেষ প্রয়োজন না পড়ে, তাহগলে আপনার জন্ম তারিখ কিংবা ফটোগ্রাফ ইত্যাদি সিভিতে না থাকলেও চলে।

  • প্রোফাইল / উদ্দেশ্য:

সিভি পাঠকদের দ্রিষ্টি আকর্ষণ করার জন্য অন্যতম প্রথম ব্যাপার গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এই অংশটি – আপনার প্রোফাইলের সারমর্ম বা উদ্দেশ্যমূলক উক্তি। এই উক্তিতে সাধারণত একটি বিশদ বাক্য বা ছোট ছোট অল্প কিছু বাক্যের সাহায্যে আপনার বেশ কিছু প্রধাণ শিক্ষাগত দখল, দক্ষতা কিংবা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি বিষয় প্রকাশ করা হয়। প্রতিটি এপ্লিকেশনের মধ্যে এই অংশটি যতটা সম্ভব চাকরি সম্পর্কিত ও নির্দিষ্ট রাখা যায় তত ভালো। এটি যেন একঘেয়ে না হয়, বরং ছোট, প্রাণোচ্ছল, স্মার্ট এবং বুদ্ধিদীপ্ত হতে হবে!

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা:

এই অংশে আপনার সম্পূর্ণ শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করতে হয়, যার মধ্যে নানা রকম সার্টিফিকেট, কোর্স, বিশেষ ট্রেনিং প্রোগ্রাম সহ অন্যান্য নানা রকম যোগ্যতা উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়। সব সময় সবার শুরুতে আপনার সর্বশেষ সমাপনী বা গ্র্যাজুয়েশনের কথা লিখতে হয়, আর তার পর থেকে সেই ক্রম অনুযায়ী পেছনের তথ্য গুলো দিতে পারেন।

  • কাজের অভিজ্ঞতা:

ঠিক আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার মতই যাবতীয় কর্ম অভিজ্ঞতাগুলো সময়ের বিপরীত ক্রমানুসারে সাজিয়ে তালিকাবদ্ধ ভাবে প্রকাশ করতে হইয় এই অংশে, এখানেও সর্বশেষ অভিজ্ঞতাটি সর্বপ্রথমে লেখা উচিত। এর মধ্যেই আপনি যদি কোন ট্রেনিং, স্বেচ্ছাসেবা বা ভলান্টিয়ার সার্ভিস এবং ইন্টার্নশিপ ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে থাকেন তবে সেগুলোও উল্লেখ করতে হবে। এক্ষেত্রে মনে করে প্রতিটি চাকরির জন্য আপনার কর্ম ভূমিকা এবং দায়িত্ব-কর্তব্যের পাশাপাশি আগের চাকরিগুলোয় বিশেষ কোন সাফল্য বা অর্জন থাকলে সেটাও উল্লেখ করবেন।

  • দক্ষতা ও কৃতিত্ব:

এটি হলো এমন একটি অতিরিক্ত অনুচ্ছেদ যেখানে আপনার অন্যান্য বিভিন্ন দক্ষতা ও অর্জন, যেমন- একাধিক ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা ইত্যাদি লক্ষণীয় ভাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। নিয়োগকারীরা এসব গুণাগুনকেও প্রাধান্য দেন কেননা এগুলো কর্মক্ষেত্রে আমাদের অনেক কাজে আসে।

  • আগ্রহের দিকগুলো:

সিভিতে আপনার আগ্রহ, রুচি ও পছন্দের কাজগুলো সম্পর্কে কথা বলাটা দৈনন্দিন নানা রকম কাজের সাথে কীভাবে আপনি খাপ খাইয়ে নিতে পারেন সেটি প্রকাশ করার একটা উপায় হতে পারে। পরবর্তীতে এই ধরণের গুণাগুনগুলো কীভাবে আপনার ক্যারিয়ার এবং লক্ষ্যে সাফল্য অর্জন করার জন্য কীভাবে সাহায্য করতে পারে, সেটিও লিখতে পারেন। তবে তাই বলে সাদামাটা যেকোন ধরণের শখ যেমন শপিং মলে ঘুরতে যাওয়া বা মুভি দেখা এসব লেখা থেকে বিরত থাকুন।

  • আপনার বিভিন্ন পেশাদারী সম্পর্ক বা রেফারেন্স:

আপনার বিভিন্ন পেশাদারী সম্পর্ক বা আপনার সম্পর্কে রেফারেন্স দিতে পারবেন এমন ব্যক্তিদের তথ্য দেয়াটা যেকোন সিভির জন্য এক অসামান্য সংযোগ। এখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা রেফারেন্সের তুলনায় পেশাদারী রেফারেন্স ব্যবহার করা বেশি যুক্তিসঙ্গত, কেননা নিয়োগকারীরা এ ধরণের রেফারেন্সকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

আপনার সিভিটির গড়ন ও বিন্যাস

ইতোমধ্যে আপনি জেনে গেছেন যে আপনার সিভিতে কী কী ধরণের তথ্য ও বিবরণ থাকা আবশ্যক। অতএব, এখন আপনাকে জানতে হবে এই সমস্ত তথ্য ও বিবরণ কীভাবে একটি কার্যকরী বিন্যাসে উপস্থাপন করা যায়। পেশাদারী সিভির জন্য এই বিন্যাস ও গড়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এটি আপনাকে নিম্নোক্ত উপায়ে সাহায্য করবে:

  • আপনার পেশাদারী স্বভাব এবং সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি মনোযোগকে তুলে ধরবে।
  • সিভিটি পড়তে এবং যেকোন প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
  • মূল্যবান তথ্য লক্ষণীয় ভাবে চোখে পড়বে এবং সিভিটি দ্রুত চোখ বুলিয়ে নেয়া সহজ হবে।

আপনার সমস্ত তথ্য সংক্ষিপ্ত এবং সহজপাঠ্য আকারে রাখার চেষ্টা করুন, সম্ভব হলে বুলেট পয়েন্ট এবং অনুচ্ছেদ ও প্যারার মাঝে রুচিসম্মত স্পেসিং ব্যবহার করা ভালো। সিভিটি বিন্যস্ত করার সময় সরলতা ও পাঠযোগ্যতার দিকে খেয়াল রাখুন। আপনি যদি একজন ডিজাইনার কিংবা অন্য ধরণের সৃজনশীল কর্মীও হন, তবুও আপনার ডিজাইন বা কাজের প্রোফাইলের থেকে সিভিটি পৃথক রেখে তৈরি করুন।

  • আপনার সিভিটির সফট কপি পাঠানোর সময় প্রত্যেক বার পিডিএফ ফরম্যাট করে পাঠান, যাতে করে আপনার তৈরি করা ডকুমেন্টটি অক্ষত থাকে ও ফন্ট বা ডিজাইনের কোন সমস্যায় না পড়তে হয়।
  • যদি সিভিটি কোথাও ডাকযোগে বা কুরিয়ার করে পাঠান তাহলে খেয়াল রাখবেন যেন সেটি ভালো মানের এ-ফোর কাগজে প্রিন্ট করা হয়। একই পাতার দুই পাশে কখনই প্রিন্ট করবেন না।
  • সব সময় চেষ্টা করুন একটি স্পষ্ট, সহজ এবং সহজ পাঠ্য ফন্ট আদর্শ আকারে ব্যবহার করতে। ফ্যান্সি বাহারি ফন্ট এড়িয়ে চলুন, এবং  পেশাদারি লুক আনার জন্য বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট, যেমন এরিয়াল, তাহোমা এবং ক্যালিবরি ইত্যাদি ব্যবহার করুন।
  • ডিজাইন ও সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ও কটকটে রঙ ও ছবি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

সিভিটি বিন্যাস করার সময় মাঝে মাঝে এটিকে জুম আউট করে বা পুরোটায় চোখ বুলিয়ে খেয়াল করা প্রয়োজন যে সেটির মধ্যে প্রফেশনাল ভাইব কাজ করছে কি না। টেক্সট ও ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য বিশুদ্ধ কালো ও সাদা রঙ-ই শ্রেষ্ঠ। আর অন্য কোন রঙ ব্যবহার করতে হলে শুধুমাত্র হেডার বা অনুচ্ছেদের নামের ক্ষেত্রে ব্যবহার করুন।

এবার চলুন আলাপ করি সিভিতে কী ধরণের ভাষা বা লেখার ধরণ ব্যবহার করা উচিত সে প্রসঙ্গে। “did, had, got, completed,” ইত্যাদির বদলে বিভিন্ন ক্রিয়াশীল শব্দ, যেমন- “created, analyzed and researched” ইত্যাদি ব্যবহার করুন। বার বার ডকুমেন্টটি প্রুফরিড করে বা রিভিশন দিয়ে অবাঞ্ছিত ছোট খাটো ভুল ও গুরুতর বানান কিংবা ব্যাকরণের ভুল এড়িয়ে চলুন। পুঁথিগত বিবরণ যেমন- “punctual, team worker, hard worker” ইত্যাদি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, এবং সম্ভব হলে বাস্তব জীবনের উদাহরণ ও পূর্বের চাকরির অভিজ্ঞতার আলোকে নিজের এই গুনগুলোকে উপস্থাপন করুন।

যেই কোম্পানি থেকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে সেটির সম্পর্কে ভালোভাবে পড়াশোনা করুন এবং কেমন সিভি সেটার জন্য ভালো হবে সেই অনুযায়ী সিভির টেমপ্লেট তৈরি করুন। যদি কোন একটি চাকরির জন্য উত্তম শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় তাহলে সিভিতে আপনার জীবনের সেই দিকটিকে বিশেষ ভাবে হাইলাইট করুন। যদি কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থীর খোঁজ করে, তাহলে আপনার চাকরির অভিজ্ঞতার দিকগুলো সর্বোচ্চ পর্যায়ে হাইলাইট করে সিভি লিখুন।

কখনও, ভুলেও সিভিতে মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না!

যদি আপনার ইন্টারভিউ চলাকালীন সময়ে আপনার সিভিতে লেখা কোন কথার প্রমাণ দিতে বা পারফর্ম করতে একবার ব্যর্থ হন, তাহলে নিয়োগকারীদের নজরে এক নিমেষে আপনার সম্মান ও মূল্য হারিয়ে ফেলবেন।

এতকিছুর পর দিনশেষে, আপনার সিভি তৈরির মূল উদ্দেশ্যটি কী?

যখন আপনি চাকরির আবেদন করার জন্য সিভি লিখেন, তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনার সিভিটি তৈরির পেছনে মূল উদ্দেশ্য কোনটি?

একটি ভালো সিভি তৈরি করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যেন পাঠক এটি পড়ে আপনার সাথে দেখা করতে ও আপনার সম্পর্কে আরো কিছু জানতে উৎসুক হয়ে ওঠেন। কিংবা হয়ত পাঠককে এটুকু প্রমাণ করে দিন যে ঐ নির্দিষ্ট চাকরিটির জন্য আপনিই একজন সেরা প্রার্থী – ব্যাস!

বলতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, করার সময় ব্যাপারটা আর ততটা সহজ থাকে না, তাইনা?

চাকরিটির ভূমিকার জন্য আপনিই যে একজন সঠিক ব্যক্তি, সেটা প্রমাণ করার জন্য নিজের সেরা প্রয়াসটি দিন, এবং ইন্টারভিউ দেয়ার সময় আপনার সিভিতে ফুটে ওঠা সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলুন। এভাবেই আপনার স্বপ্নের চাকরিটি পেয়ে যাওয়ার পথে আপনি পেরিয়ে যাবেন আরো একটি ধাপ!

যদি সিভির সাথে কোন ধরণের কভার লেটার দেয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে আরো একটু খাটুনি করে হলেও সব সময় একটি ভালো কভার লেটার দেয়ার চেষ্টা করুন। এটি আপনাকে চাকরিটির জন্য নিজেকে যথাযথ ভাবে প্রচার করা ও নিজের সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি করার একটা বাড়তি সুযোগ তৈরি করে দেবে। এছাড়াও একটি স্বতন্ত্র কভার লেটার নিয়োগকারীদের প্রভাবিত করবে, কেননা এতে করে আপনার প্রচেষ্টা ও কোম্পানির সম্পর্কে জানা শোনা থাকার ব্যাপারটা তাদের কাছে আরো বেশি করে প্রতীয়মান হয়ে উঠবে।

আপনার ইন্টারভিউয়ের দক্ষতা আরো একটু শাণিত করে নেয়ার জন্য আমাদের আগের প্রতিবেদনটি পড়ে দেখতে পারেন। চাকরি খুঁজছেন? ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে ভালো মত প্রস্তুত করুন

ইতিকথা

আশা করি, একটি ভালো সিভি তৈরি সম্পর্কিত আমাদের এই গাইডলাইনটি আপনাকে বাংলাদেশে চাকরি প্রার্থীদের জন্য ভালো মানের সিভির প্রয়োজনীয়তা ও সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শেখাতে কিংবা মনে করিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিভিন্ন গাইডলাইন, টিপস, কৌশল এবং করনিয় ও বর্জনীয় কাজের তালিকা ইত্যাদি আপনাকে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই না, বরং বিশ্বের যেকোন কোম্পানিতে চাকরির জন্য মানসম্মত সিভি লিখতে সাহায্য করবে।

এই সহজ ও কার্যকরী গাইডলাইনটি মেনে চললে, আপনি এতটুকু নিশ্চিত থাকতে পারবেন যে, একটি ভালো চাকরি পাওয়ার জন্য নিজেকে ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে ভালোভাবে উপস্থাপন করা ও ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য আপনাকে ডাকা হবেই!

আজকাল পরামর্শ ও টিপস  সব জায়গায় বেশ সহজেই পাওয়া যায়, কিন্তু সেরা ফলাফল পাওয়ার জন্য সেই পরামর্শ গুলো আপনাকে নিজে থেকে খাটিয়ে চলতে হবে। অতএব, আজই নিজের জন্য ভালো কিছু সিভির টেমপ্লেট তৈরি করার চেষ্টা করুন এবং পরবর্তী চাকরির আবেদনটি করার জন্য আপনার সেই টেমপ্লেট ব্যবহার করে লিখে ফেলুন ভালো একটি সিভি।

Bikroy.com/Jobs -এ খুঁজে নিন বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি করার সুযোগ, আর আপনার দক্ষতা, জ্ঞান ও ব্যক্তিত্বের দারুণ সমন্বয়ে তৈরি একটি আকর্ষণীয় ও বিশ্বাসযোগ্য সিভি ব্যবহার করে হয়ে উঠুন সবার থেকে আলাদা।

শুধুমাত্র অনলাইন থেকে একটি পুস্তকী ভাবগম্ভীর সিভি টেমপ্লেট নামিয়ে ব্যবহার না করে, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি করুন নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র সিভি। আর সব সময়ই খেয়াল রাখুন যেন সেটি প্রফেশনাল মানের হয়। নিয়োগকারীর অবস্থানে নিজেকে কল্পনা করে দেখুন এবং ভেবে দেখুন যে আপনার তৈরি সিভিটি পড়ার পর একজন প্রার্থীকে আপনি নিয়োগ দিতে আগ্রহী হবেন কি না।

একটি নিরপেক্ষ ও সৎ প্রতিক্রিয়া দিতে পারলে আপনি প্রত্যেক বার আপনার সিভিটিকে আরো বেশি পারফেক্ট করে তুলতে পারবেন। সব সময় চেক এবং রিচেক করার মাধ্যমে আপনার সিভিতে থাকা যেকোন ভুল সনাক্ত করুন এবং নিশ্চিত করুন যেন সেটি পরিচ্ছন্ন, গোছানো এবং আকর্ষণীয় হয়।

আপনার পরবর্তী চাকরির আবেদনটির জন্য রইলো শুভকামনা!