All posts by Pujan Kumar

কীভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন?

গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার

আজকাল আমাদের দেশে বেশির ভাগ ঘরেই গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়।

আমাদের মধ্যে অনেকেই নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য এই গ্যাস সিলিন্ডার ছাড়া জীবন কাটানোর কথা ভাবতেই পারি না। আমরা যারা এমন সব এলাকায় থাকি যেখানে গ্যাসের নতুন লাইন সরবরাহ করা হয় না, সেখানে তো গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা ছাড়া কোন গতিই নেই। এছাড়াও অনেকেই বাসায় ব্যাক-আপ হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার রাখেন, যাতে গ্যাসের লাইনে সমস্যা হলে সেটা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়।

সিলিন্ডারের ব্যাপক মাত্রায় ব্যবহার এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অনেকগুলো প্রাণ কেড়ে নেয়া ভয়াবহ ঘটনাটির মত নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি হওয়ার কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিত্য দিনের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার সম্পর্কে একটি পরিপূর্ণ নিরাপত্তা গাইডলাইন আপনাদের জন্য উপস্থাপন করবো।

বিভিন্ন কারণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা তেমন একটা দুর্লভ নয়। বরং আমাদের কল্পনার চেয়েও বেশি পরিমাণে এমনটা ঘটে!

গ্যাস সিলিন্ডার এবং এর নানাবিধ ব্যবহার কী কী?

এটিকে আমরা সাধারণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার হিসেবে জানি, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে এটি এলপিজি সিলিন্ডার হিসেবে পরিচিত। এলপিজি অর্থ দাঁড়ায় লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস, যা আমাদের বাসাবাড়ি, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদির দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়াও আমরা সিএনজি সিলিন্ডারও চিনি, যেগুলো আমাদের বিভিন্ন যানবাহনে ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, আর সেজন্য  সিএনজি স্টেশনের সংখ্যাও আমাদের দেশে অনেক বেশি। সিএনজি এর অর্থ হচ্ছে কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস, যা যানবাহন চালনার জন্য ব্যবহার করা হয়।

যেখানে বাংলাদেশের সরকার এখন অনেক এগিয়ে গিয়েছে এবং নিরাপত্তার মান রক্ষা করতে নানা রকম উন্নয়ন সাধন করেছে, সেখানে জনসচেতনতা তৈরি হওয়া খুবই জরুরি। একটি দুর্ঘটনা যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে, আর সেজন্য এটা জরুরি যে আমরা আমাদের ও আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোর উপর যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তা দমন করার জন্য আমরা একটু চেষ্টা করে সব গুলো নিরাপত্তা টিপস শিখে নিতে পারি।

গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে নিরাপত্তার গুরুত্ব

গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুতকারকদের জন্য একটা বড় চিন্তার বিষয় হওয়া উচিত ব্যবহারকারী জনসাধারণের নিরাপত্তা, হোক তা প্রাইভেট কিংবা পাবলিক। খুব সামান্য একটা ভুল থেকেও ঘটে যেতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা।

বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র যেমন ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ, চিকিৎসা, আতিথেয়তা, বিজ্ঞান এবং শিক্ষা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে থাকা মানুষগুলো গ্যাস সিলিন্ডারে কমপ্রেসড আকারে গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন। এই গ্যাস অনেক বেশি চাপে কমপ্রেস করা হয়ে থাকে, এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তির উন্নয়ন এই পরিমাণ আরো বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে। অতএব যথাযথ এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন এখন সময়ের দাবি এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ!

আজকের দিনে গ্যাস সিলিন্ডার প্রায় সব রকম শিল্প এবং জায়গায় নিয়মিত ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কেননা এর সুবিধা ও কার্যকারিতা অন্যান্য বিকল্পগুলোর তুলনায় অনেক বেশি, যেমন- সাশ্রয়ী দাম, গতিশীলতা, পরিবেশ বান্ধব গুণাবলী, কম মাত্রায় দূষণ ইত্যাদি। ফসিল ফুয়েল এবং কার্বন নির্গমন জাতীয় জ্বালানীর বিপরীতে এটি বর্তমানে অন্যতম এক বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু এই দারুণ বিকল্প জ্বালানীর সাথে জড়িত বিপর্যয়ের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে আজকাল। এই দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই ঘটার পেছনে অন্য যেকোন কারণের চেয়ে অজ্ঞতা, অবহেলা এবং অসচেতন ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি দায়ী।

 গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের জন্য আবশ্যক

এছাড়াও গ্যাস সিলিন্ডারগুলো নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের সাথে ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। কেননা যথাযথ ব্যবহারে ত্রুটি হলে সেই থেকে বিস্ফোরণ, অগ্নিকান্ড, প্রপার্টির ক্ষতি এবং মানুষের জন্য মারাত্মক শারীরিক আঘাত, এমনকি মৃত্যুও ঘটে যেতে পারে। অতএব অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসিক নিরাপত্তামূলক প্রোটোকল যেমন ঘরে কিংবা বাইরে উভয় জায়গায় নিরাপদ ভাবে সংরক্ষণ করা ইত্যাদি ব্যাপার জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সত্যায়িত সার্টিফাইড কোম্পানি থেকে অনুমোদিত সিলিন্ডার কিনুন

সব সময় অনুমোদিত বিক্রেতাদের কাছ থেকেই পণ্য কেনা উচিত। এছাড়াও আপনাকে এটাও খেয়াল করে দেখতে হবে যেন সিলিন্ডারগুলো সার্টিফাইড প্রস্তুতকারক কোম্পানির দ্বারা তৈরি হয়। অতএব গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করে নেয়ার চেষ্টা করুনঃ

  • নিশ্চিত করুন সিলিন্ডারে কোম্পানির সিল রয়েছে কি না
  • নিশ্চিত করুন যে সিলিন্ডারটির সেফটি ক্যাপটি সুরক্ষিত ভাবে লাগানো রয়েছে কি না
  • বিক্রেতা কিংবা ডেলিভারি ম্যানকে সিলিন্ডারের যথাযথ ব্যবহার বিধি ও ম্যানুয়াল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধা করবেন না।
  • ভূমির সমতলে সমান ও শুষ্ক জায়গায় সিলিন্ডারটি রাখুন।
  • সিলিন্ডারটি টানা হেঁচড়া করবেন না, মাটিতে গড়াবেন না কিংবা ফেলে দেবেন না। এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিশেষজ্ঞরা বিশেষ ভাবে নিষেধ করে থাকেন।

শুধুমাত্র অনুমোদিত বিক্রেতাদের কাছ থেকে সব সময় কেনার চেষ্টা করুন। অনুমোদন ছাড়া, সার্টিফিকেশন ছাড়া কিংবা অন্য কোন উপায়ে অবৈধ হওয়া বিক্রেতাদের কাছ থেকে সস্তায় সিলিন্ডার কেনা আপনার ও আপনার আশেপাশের মানুষদের জীবনে বিপদ ডেকে আনার শামিল।

ব্যবহারের আগে ও পরের জন্য নিরাপত্তা টিপস

আপনি যদি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী হন কিংবা এমন কোন জায়গার আশেপাশে বসবাস করে থাকেন যেখানে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে নিচে উল্লেখিত নিরাপত্তা টিপস গুলো প্রয়োগ করা এবং অন্যদের জানানো আপনার জন্য খুবই জরুরিঃ

  • সর্বক্ষণ যেকোন ধরণের গন্ধ বা গ্যাস লিক হওয়ার যেকোন লক্ষণীয় চিহ্নের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
  • সিলিন্ডারে লিকেজ খোঁজার সময় মোমবাতি কিংবা ম্যাচের কাঠি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • সব সময় গ্যাস সিলিন্ডারের উপরের মুখটি উপরের দিকে রেখে সোজা ভাবে একটি সমতল ভূমিতে রাখুন কিংবা সংরক্ষণ করুন।
  • কোন বদ্ধ ক্যাবিনেট নয়, সব সময় যথাযথ বায়ু চলাচল করে এমন জায়গায় সিলিন্ডারটি রাখুন।
  • আগুন, বিদ্যুৎ এবং তাপের যেকোন রকম উৎস থেকে সিলিন্ডারকে দূরে রাখুন।
  • ব্যবহার শেষে প্রত্যেক বার সুইচ অফ করে রাখুন।
  • খালি সিলিন্ডারগুলো একটি শীতল ও খোলামেলা জায়গায় সংরক্ষণ করুন এবং খেয়াল রাখুন যেন সেফটি ক্যাপ লাগানো থাকে।
  • আপনার ম্যাচের কাঠি কিংবা আগুনের উৎস সব সময় সিলিন্ডার গ্যাস চালু করার আগে জ্বালিয়ে নিন।
  • সিলিন্ডারের বিভিন্ন কানেকশন ও রাবার টিউব ইত্যাদি প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।

গ্যাস লিকের ঘটনা ঘটলে যা কিছু করণীয়

আপনি যদি কখনও গ্যাস লিকের ঘটনার মত একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তখন নিচের জরুরী টিপস গুলো মেনে চলার চেষ্টা করুনঃ

  • আতঙ্কিত হবেন না।
  • শান্ত থাকুন, মাথা ঠাণ্ডা রাখুন এবং নিজেকে সামলে নিন।
  • কোথাও লিক হয়েছে এমন সন্দেহ হলে যে কোন ধরণের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বা বিস্ফোরক পণ্য চালু করা থেকে বিরত থাকুন।
  • সব ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বন্ধ করে ফেলুন এবং যেকোন ধরণের শিখা, লাইট, ধূপ কাঠি, মোমবাতি ইত্যাদি নিভিয়ে ফেলুন।
  • সিলিন্ডার কানেকশন বন্ধ করে দিন এবং সেখানে সেফটি ক্যাপ পরিয়ে দিন।
  • বাতাস ভালোভাবে চলাফেরা করার জন্য প্রত্যেকটি জানালা ও দরজা খুলে দিন, কিন্তু সব গুলো ফ্যান বন্ধ করে রাখুন।
  • ফায়ার সার্ভিস ও পার্শ্ববর্তী থানার সাথে যোগাযোগ করুন অথবা ৯১১ এ ডায়াল করুন।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের জন্য সহজ ও কার্যকরী গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপত্তামূলক টিপস

এটা সত্যি যে গ্যাস সিলিন্ডারের সাথে সম্পর্কিত নানা রকমের অজস্র ব্যাপার এমনিতেই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে। তাই এটি ব্যবহার করা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া, কিংবা এটি ব্যবহৃত হচ্ছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলা কখনওই সম্ভব নয়। আমাদের বাসাবাড়ি কিংবা রান্নাঘরে আমাদের প্রিয়জনরা থাকেন এবং আমরা আমাদের বেশির ভাগ সময় সেখানেই কাটাই।

অতএব আমাদের প্রাত্যহিক জীবন চলাকালীন সময়ে সহজ ও কার্যকরী কিছু জিনিস মাথায় রাখা উচিত। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার সুবিধার জন্য সহজ ও কার্যকরী কিছু টিপস নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

  • আপনার গ্যাস সিলিন্ডারটি এবং এর সাথে ব্যবহার হওয়া নানা রকম সামগ্রীর নিয়মিত ও যথাযথ সার্ভিসিং করানো হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করে নিন। হয়ত সেগুলোতে কোন সমস্যা নাও থাকতে পারে, তারপরও যেকোন দুর্ঘটনা ঘটে যেতেই পারে। অনেক ক্ষেত্রে এমন ঘটে যে সহজ ও দ্রুত কিছু রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করার কারণে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
  • গ্যাস সিলিন্ডার, ইলেকট্রনিক্স কিংবা গ্যাসের পণ্যসামগ্রী কেনার সময় অরিজিনাল ও ভালো মানের পণ্য দেখে কিনুন।
  • নিশ্চিত জানেন না বা পারেন না এমন কোন কাজ কখনওই একা হাতে করতে যাবেন না, যেমন- কীভাবে সিলিন্ডার সংযোগ দেয়া বা বিচ্ছিন্ন করতে হয় ইত্যাদি।
  • আপনার কুকার কিংবা রান্নাঘরে চুলার কাছাকাছি কোন  জানালায় পর্দা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা গোপনীয়তা রক্ষা করার আরো বিভিন্ন ধরণের উপায় রয়েছে, যেগুলোতে সহজে আগুন ধরবে না।
  • কেরোসিন বা এই জাতীয় অন্যান্য যেকোন দাহ্য বস্তু গ্যাস সিলিন্ডার বা চুলার কাছাকাছি রাখবেন না।
  • সেফটি ক্যাপটি স্থায়ীভাবে খুলে না ফেলাই ভালো। কেননা যেকোন ধরণের লিকের ঘটনা ঘটলে এটি ব্যবহার করা যায়।
  • ব্যবহারের পর সব সময় সিলিন্ডারটি বন্ধ করে ফেলুন এবং ঠিক ভাবে বন্ধ হয়েছে কি না তা আবারো চেক করে নিন।
  • কখনওই, কোন অবস্থাতেই আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না! শান্তভাবে, ভেবে চিন্তে সব রকম সিদ্ধান্ত নিন।
  • জরুরী অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য ইমারজেন্সি ফোন নাম্বার নাগালের মধ্যে রাখুন।
  • বিভিন্ন ধরণের ইমারজেন্সির ক্ষেত্রে আপনার বাসা, বিশেষ করে রান্নাঘরের মধ্যে নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি, যেমন- গ্যাস ডিটেক্টর, অগ্নি নির্বাপক ইত্যাদি কিনে রাখুন।

এত সব নিরাপত্তামূলক টিপসের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যেন আপনি যেকোন ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সেগুলো ঠেকাতে পারেন। আর যদি দুর্ঘটনা ঘটেই যায়, তাহলে নিজের ও নিজের আশেপাশের মানুষগুলোর নানা রকম ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারেন।

প্রতিরোধ সব সময়ই নিরাময়ের চেয়ে উত্তম!

আমাদের বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার আমাদের জীবনকে করে তুলেছে আরো সহজ এবং হয়ে উঠেছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিকে যেমন সরকার ও বিভিন্ন প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো এই সব পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন, অন্যদিকে আমাদেরও উচিত এই পণ্যগুলোর যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে জানা ও মানা। এতে করে যেকোন সময় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় যথাসম্ভব কমিয়ে আনা সম্ভব।

কমার্শিয়াল বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারে জন্য সর্তকতা ও নিরাপত্তামূলক টিপস

প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারে জন্য সর্তকতা ও নিরাপত্তামূলক টিপস

লিকুইফাইড কিংবা লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস দামে বেশ সাশ্রয়ী এবং কমার্শিয়াল ক্ষেত্রে আরো বেশি মাত্রায় জনপ্রিয়। যাই হোক, এই ব্যাপারটা খেয়াল রাখা জরুরী যে নানা রকম নিরাপত্তা ফিচার থাকা সত্ত্বেও এগুলো অনেক বেশি দাহ্য এবং জ্বালানীর এক রকম উৎস। এক্ষেত্রে কর্মী এবং ব্যবসা মালিকদের উচিত পরিপূর্ণ সতর্কতা এবং নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিশ্চিত করার মাধ্যমে হতাহতের ঘটনা কিংবা অন্যান্য বিপদ আপদ থেকে প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা।

অতএব, কমার্শিয়াল কিংবা শিল্পক্ষেত্র, যেমন- হোটেল, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি জায়গায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম কানুন মেনে চলা উচিত।

কমার্শিয়াল ব্যবহারের জন্য নানাবিধ সতর্কতা

  • ছোট হোক কিংবা বড়, যেকোন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অ্যালার্ম ব্যবহার করে সকলকে জানানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
  • লিক হওয়ার ঘটনায় দ্রুত পুরো ভবন খালি করার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সিলিন্ডারটি নিয়ে খোলা জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।
  • আগুন লাগার ঘটনায় অগ্নি নির্বাপক ব্যবহার করুন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দিন।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তৎক্ষণাৎ ইমারজেন্সি সার্ভিসকে জানাতে কোনরকম দ্বিধা করবেন না।

কমার্শিয়াল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বর্জনীয়

  • অবশ্যই গ্যাস সিলিন্ডারগুলো সব সময় খাড়া ও সমতল অবস্থানে রাখতে হবে।
  • সব সময় খেয়াল রাখবেন সিলিন্ডারে কোন রকম লিক হচ্ছে কি না।
  • সিলিন্ডার রয়েছে এমন জায়গায় সব অপেশাদার মানুষের প্রবেশ ও যাতায়াত সীমাবদ্ধ করে দিতে হবে।
  • স্টোরেজ কিংবা সিলিন্ডার আছে এমন এলাকায় কোন ভাবেই ধূমপান করতে দেয়া যাবে না।

ইতিকথা

সমগ্র বাংলাদেশে ব্যাপক হারে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে, যেকোন দুর্ঘটনাই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ততম শহর, যেখানে কমার্শিয়াল এবং আবাসিক এলাকায় যেকোন সময়ে সর্বদা অনেক বেশি পরিমাণ মানুষ একই সাথে অবস্থান করেন। এরকম প্রেক্ষাপটে ঠিক সময়ে যথাযথ নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেয়া না হলে, যেকোন দুর্ঘটনাই দুর্যোগের আকার ধারণ করতে পারে।

আশা করি গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহারের জন্য আমাদের এই সহজ ও কার্যকরী গাইডলাইনটি আপনাকে নতুন কিছু তথ্য জানাতে ও শেখাতে সাহায্য করেছে। নিশ্চয়ই আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এই কিছু সহজ পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে বিপদ আপদ থেকে দূরে থাকতে পারবো।

আপনার পরিবেশের সবাই, আপনার প্রতিবেশি, পরিবার এবং বন্ধুবান্ধব সকলেই আপনার অনেক কাছের এবং আপন। আর সেই সকলের জন্য নিরাপত্তার মান উন্নত করার জন্য সব রকম করণীয় ও বর্জনীয় পদক্ষেপ সহ আপনার সম্পূর্ণ জ্ঞান সকলের সাথে শেয়ার করা আপনার দায়িত্ব।

Bikroy.com এর মাধ্যমে আপনার বাসার জন্য নিরাপত্তামূলক যন্ত্রপাতি, গ্যাস সিলিন্ডার সহ আরো নানা রকম পণ্য কিনুন, আর ব্যবহার করে থাকুন সন্তুষ্ট।

সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন, এবং আপনার এলাকার সকলের জন্য একজন বন্ধুসুলভ হিরো হয়ে উঠুন, ঠিক স্পাইডারম্যানের মত!


Bikroy ও ইয়োলো ব্রিক রোড এর আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

International Women’s Day bikroy

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com এবং কিশোর ও তরুণদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ইয়োলো ব্রিক রোড যৌথভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করেছে। এবারের নারী দিবসের থিম #BalanceforBetter-কে সামনে রেখে Bikroy.com এর প্রধান কার্যালয়ে ‘সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট ও জেন্ডার ইকুয়ালিটি’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। Bikroy.com জাতিসংঘের #HeforShe প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন Bikroy.com-এর হেড অব মার্কেটিং এন্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন, হেড অব এইচআর এন্ড কালচার রেহেনুমা ইসলাম, ইয়োলো ব্রিক রোডের কো-ফাউন্ডার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফারিন দৌলাহ।আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে, Bikroy Bikroy তাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে Bikroy-এর কয়েকজন মহিলা মেম্বার ও উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসায়ের জন্য Bikroy-এর কাছ থেকে কীভাবে সহায়তা পেয়েছেন তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

Bikroy.com-এর হেড অব এইচআর অ্যান্ড কালচার রেহেনুমা ইসলাম বলেন, “জাতিসংঘের #HeforShe প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে আমরা Bikroy-এর নারী কর্মীদের জন্য মনের জানালা ফোরাম করেছি। Bikroy-এ নারীদের জন্য নিরাপদ কাজের পরিবেশ তৈরি করতে আমরা সচেষ্ট। লিডারশিপ পজিশনে নারী কর্মীরা যাতে সুযোগ পেতে পারে এ লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও আমাদের নারী কর্মীরা মাতৃত্বকালীন ছুটির পরবর্তীতে যখন পুনরায় চাকরিতে প্রবেশ করে তখন  তাঁরা যাতে সেই আগের কাজের পরিবেশ ফিরে পায় সে বিষয়েও আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করে থাকি”।

Bikroy.com-এর হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন বলেন, “বিভিন্ন অঙ্গনে বাংলাদেশের নারীরা বিশ্ব জয় করে দেখাচ্ছে। এখন আর পিছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই। Bikroy-এ আমরা নিয়মিত নারী-পুরুষের সমতা ও সমান অধিকার আদায়ের চর্চা করে থাকি। Bikroy.com সবসময় নারীবান্ধব কাজের ইনক্লুসিভ পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করে”।

ইয়োলো ব্রিক রোড-এর কো-ফাউন্ডার অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফারিন দৌলাহ বলেন, “কিছুদিন আগেও নারীরা নিজেদের অধিকারের কথা বলতে পারতো না। আশার কথা হলো ধীরে ধীরে হলেও সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। নারীরা এখন তাঁদের যেকোনো সমস্যা সম্পর্কে সচেতন ও অধিকার আদায়ে অগ্রগামী হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, নারীরা নিজেদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হলে সমাজে অবশ্যই পরিবর্তন আসবে”।


ঢাকা শহরে নতুন? খুঁজে নিন ভাড়া বা কেনার জন্য উপযুক্ত বাসা

খুঁজে নিন ভাড়া বা কেনার জন্য উপযুক্ত বাসা

আপনি কি কিছুদিন হলো বাংলাদেশের মেগা সিটিতে এসে উঠেছেন? আপনি কি ঢাকা শহরে নতুন?
তাহলে বলতেই হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং ব্যস্ততম শহরগুলোর একটিতে আপনাকে স্বাগতম!

তবে খুশির খবর এই যে আমাদের এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য একটি গাইডলাইন…নতুন আগন্তুকদের জন্য ঢাকা শহরে বসবাস করার জন্য কার্যকরী কিছু টিপস!

একটি শহর বা আপনার গ্রাম থেকে সম্পূর্ণ নতুন আরেকটি শহর কিংবা শহরের নতুন একটা অংশে স্থান বদল করাটা কোন চাট্টিখানি কথা নয়। সত্যি বলতে মানুষের জীবনের অন্যতম ঝামেলাপূর্ণ ও কষ্টকর কাজগুলোর মধ্যে এটি একটি।  ভাড়ার জন্য প্রপার্টি খুঁজুন কিংবা কেনার জন্য, যখনই আপনি ঢাকা শহরে একটি ভালো বাসযোগ্য প্রপার্টির খোঁজ করা শুরু করবেন, তখন মাথা খারাপ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক!

ভাড়ার জন্য কিংবা কেনার জন্য একটি ফ্ল্যাট খুঁজে পেতে আপনাকে বেশ ঝামেলা পোহাতে হবে। আর প্রায় প্রত্যেক বারই সবচেয়ে উপযুক্ত ও পছন্দসই যায়গাটি আপনার ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে মনে হবে। কিন্তু হতাশ হবেন না, আমাদের নতুন আগন্তুকদের জন্য প্রস্তুত করা এই গাইডলাইনটি ঢাকা শহরে থাকার জন্য উপযুক্ত একটি যায়গা খুঁজে পাওয়ার যুদ্ধে আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে।

একজন নতুন আগন্তুক হিসেবে আপনার যুদ্ধ শুরু করার জন্য একটি সহজ এবং কার্যকরী গাইডলাইন

নিজস্ব একটি বাজেট নির্ধারণ করে নিন

ঢাকার মত একটি ব্যস্ত শহরে বদলি হয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেবার পর প্রথম যে কাজটি আপনাকে করতে হবে তা হলো ফ্ল্যাট কেনা এবং একই সাথে ফ্ল্যাট ভাড়ার জন্য একটি সামগ্রিক বাজেট নির্ধারণ করা। আপনার প্রথম পছন্দ (কেনা কিংবা ভাড়া করা) দু’টোর যেটাই হোক না কেন, দু’রকম পরিস্থিতির জন্যই বাজেট নির্ধারণ করে নিন। এতে করে আপনি তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং সেরা সিদ্ধান্তটি নেয়ার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম পেয়ে যাবেন।

যেকোন রকম বাজেট নির্ধারণ করার সময় দু’রকম অপশন আপনার হাতে রাখার চেষ্টা করুন, একটি হলো নিরাপদ পছন্দ এবং অন্যটি চূড়ান্ত পছন্দ। অর্থাৎ, ঢাকা শহরে একটি প্রপার্টি কেনার জন্য যে পরিমাণ টাকা আপনি খরচ করতে ইচ্ছুক কিংবা ভাড়ার জন্য একটি ফ্ল্যাট খুঁজে পাওয়ার পর তাতে মাসিক যে পরিমাণ খরচ হতে পারে, সেই হিসেবে একটি সহনীয় ও সুবিধাজনক বাজেট আপনার আগে থেকেই ঠিক করে নেয়া উচিত। কিন্তু একই সাথে একটি চূড়ান্ত বাজেটও তৈরি করে নিন, যেটা আপনার নিরাপদ পছন্দের জন্য ঠিক করা বাজেটের চেয়েও বেশি হতে পারে।

এই বাজেট গুলো নির্ধারণ করার সময় শুধুমাত্র পছন্দের প্রপার্টির দাম কিংবা সম্ভাব্য মাসিক ভাড়ার কথা ভাবলেই চলবে না। একই সাথে ঢাকা শহরে কেনা কিংবা ভাড়া করা একটি প্রপার্টির সাথে জড়িত সব ধরণের বাড়তি খরচের কথাও ভেবে নিতে হবে। নিম্নের কয়েকটি বিষয় নিয়ে ভেবে দেখা খুবই জরুরি:

  • আপনার বর্তমান বাসস্থান থেকে স্থান বদল করার খরচ, যেমন- লোকবল, শারীরিক পরিশ্রম, বদলের জন্য যানবাহন ইত্যাদি
  • আপনার আসবাবপত্র, ঘরের সামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি প্যাকিং করার সামগ্রী
  • ডাউন পেমেন্ট, ইনস্টলমেন্ট পেমেন্ট কিংবা মাসিক ভাড়া
  • ইনস্যুরেন্স, ট্যাক্স এবং এজেন্ট অথবা সাইনিং এর খরচ
  • সুযোগ সুবিধা যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের খরচ ইত্যাদি

অতএব, বুঝতেই পারছেন, এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আপনাকে আনুষঙ্গিক অনেক গুলো বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হবে। আপনার বাজেট কেমন হবে সেটি বোঝার জন্য যত্নের সাথে আপনার উপার্জন এবং সঞ্চয়ের একটি সূক্ষ্ম হিসাব কষে নিন। বাংলাদেশে একটি বাড়ি কেনার ব্যাপারে যে বিষয় গুলো আপনাকে নিজে থেকেই জেনে নিতে হবে, সেগুলোর মধ্যে বিশেষ কয়েকটি বিষয় জেনে নেয়ার জন্য লিঙ্কে ক্লিক করে আমাদের প্রতিবেদনটি পড়ে দেখতে পারেন বাড়ি কেনার ব্যাপারে যা আপনাকে নিজেই জানতে হবে

ঢাকা শহরের প্রপার্টির বাজার নিয়ে রিসার্চ করুন

একটি প্রপার্টি কিনে নেয়া কিংবা ভাড়া করার আগে সব সময়ই সেই এলাকার প্রপার্টির বাজার নিয়ে একটু রিসার্চ করে নেয়া উচিত। যত তাড়াতাড়ি আপনি আপনার রিসার্চ শুরু করবেন, আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য একটি ভালো সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ তত বেশি হবে। ঢাকা শহরের প্রপার্টির বাজার, অর্থাৎ বাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদির ব্যাপারে যতটা সম্ভব খুঁটিনাটি সব তথ্য জেনে নেয়ার চেষ্টা করুন।

আজকের দিনে খুব বেশি ঝামেলা ছাড়াই আপনার রিসার্চ সম্পন্ন করার অনেক রকম মাধ্যম আপনার হাতের নাগালে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজ এবং তুলনামূলক সবচেয়ে বেশি কার্যকরী মাধ্যম হলো ইন্টারনেটের ব্যবহার। শুধুমাত্র ভিসিট করুন Bikroy.com -এর মত একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম, আর পেয়ে যান বিশেষ বিশেষ এলাকা, ফ্ল্যাটের সাইজ, দাম ইত্যাদি সব প্রয়োজনীয় ডিটেইল। আপনার সার্চটি আরো নিখুঁত ও সুবিধাজনক করতে ব্যবহার করতে পারেন নানা রকম ফিল্টার। এতে করে আপনি নানা রকম গুরুতর বিষয়, যেমন- থাকার খরচ, পাড়া বা এলাকার নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে আলাদা ভাবে চিন্তা করতে পারবেন।

ঢাকা শহরে প্রপার্টি খুঁজে পাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও সেরা যায়গাটির সন্ধান পাওয়ার একটি আদর্শ মাপকাঠি না থাকলে এটি আমাদের জীবনের কঠিনতম সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আমাদের দারুণ একটি ইনফোগ্রাফিক ২০১৮ সালে আবাসন খাত এর সার্বিক অবস্থা আপনাকে বেশ সাহায্য করতে পারে। এতে রয়েছে ২০১৮ সাল জুড়ে অনলাইনে সত্যিকারের কেনা, বিক্রি এবং ভাড়ার জন্য বিজ্ঞাপনের উপর ভিত্তি করে বিক্রি ও ভাড়ার জন্য প্রপার্টি সহ দামের রেঞ্জ ও ফ্ল্যাটের সাইজ ইত্যাদির ভিত্তিতে সেরা সব এলাকার নাম ও তথ্যাবলী। এর সাহায্যে আপনি ২০১৯ সালে ঢাকা শহরের কোথায় প্রপার্টি পাওয়া যাবে সে বিষয়ে সেরা সিদ্ধান্তটি নিতে পারবেন।

এতে করে আপনার বাজেট মোতাবেক ঢাকা শহরের কোন এলাকা ফ্ল্যাট কেনার জন্য পারফেক্ট হবে, কিংবা আপনার পছন্দ ও চাহিদামত সাইজে ফ্ল্যাট ভাড়া পাওয়া যাবে, এসব ব্যাপারে আর আন্দাজ লাগাতে হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আপনার রিসার্চ করে নেবেন এবং একটি নির্ভরযোগ্য প্রপার্টি পোর্টালে থাকা সব রকম তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করবেন, তত সহজে আপনি ঢাকা শহরে আপনার থাকার জন্য উপযুক্ত একটি যায়গা খুঁজে পাবেন। কিন্তু যেকোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এখানে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী বিষয়গুলোর কথা ভালো ভাবে ভেবে নিতে হবে।

প্রপার্টি কিনবেন নাকি ভাড়া নিবেন

আপনার রিসার্চটি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রপার্টি কেনা নাকি ভাড়া নেয়া কোনটি সঠিক হবে, সেই ব্যাপারে একটি দোটানায় পড়ে যেতে পারেন। দুশ্চিন্তার কিছু নেই, এরকম বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক!

হয়ত অনেকেই বলবেন যে একটি নতুন শহরে বদলি হওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় শুরুতে প্রপার্টি ভাড়া নেয়া উচিত। কিন্তু এটি সঠিক উত্তর নয়। এই সব কিছু আপনার প্রয়োজন ও চাহিদা, আর একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আপনি কতটা ভালো ভাবে আপনার সংগ্রহ করা তথ্যগুলো ব্যবহার করেন ইত্যাদি ব্যাপারের উপর নির্ভর করে। একটি প্রপার্টি কিনবেন নাকি ভাড়া নিবেন সে ব্যাপারে কোন রকম বিভ্রান্তি থাকলে আপনার সিদ্ধান্ত নেয়ার পথটি সহজ করতে লিঙ্কে দেয়া প্রতিবেদনটি পড়ুন ভাড়ার জন্য বাড়ি খোঁজা আর নয়! এখন নিজের বাড়ি কিনুন

আপনার নতুন প্রপার্টির জন্য উপযুক্ত একটি এলাকা বাছাই করা

প্রাথমিক সব রকম পরিকল্পনা, রিসার্চ এবং প্রস্তুতি নেয়ার পর আপনার যেই সিদ্ধান্তটি নিতে হবে, তা হলো আপনার প্রপার্টিটির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও সেরা যায়গা কোনটি হবে। এই ব্যাপারে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত হলো এমন একটি যায়গা বাছাই করা, যেখান থেকে ঢাকা শহরের অন্যান্য বেশির ভাগ যায়গায় সহজে চলাচল করা যায়। অতএব, যেখানে আপনি আপনার বাসা থেকে আপনার কর্মস্থল, সরকারি অফিস, স্কুল, শপিং মল ইত্যাদি বিভিন্ন যায়গায় অনায়াসে চলাচল করতে পারছেন, সেখানে আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য আদর্শ যায়গাটি বেছে নেয়া খুব একটা কঠিন ব্যাপার নয়।

স্বাভাবিক ভাবেই, এখানে একাধিক সঠিক উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ২০১৮ সালে অনলাইনে সত্যিকারের প্রপার্টি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা শহরে কেনা এবং ভাড়া নেয়ার জন্য আদর্শ কিছু যায়গা সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করছি:

ঢাকায় প্রপার্টি কেনার জন্য উপযুক্ত যায়গাগুলো

ঢাকায় প্রপার্টি বিক্রি হওয়া শীর্ষস্থানীয় এলাকা

প্রপার্টি কেনার জন্য ঢাকা শহরের সেরা ৫টি যায়গা হলো ২৬% বিক্রিযোগ্য প্রপার্টি সহ বসুন্ধরা, ১৮% প্রপার্টি সহ মিরপুর, গুলশানে ১৫%, রামপুরা এবং উত্তরায় যথাক্রমে ১১% ও ৯%। এই সব এলাকায় প্রপার্টির দাম প্রতি বর্গফুটে ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রতি বর্গফুটে ১০ হাজার টাকার বেশি পর্যন্ত রয়েছে।

ঢাকায় প্রপার্টি ভাড়া নেয়ার জন্য উপযুক্ত যায়গাগুলো

ঢাকায় প্রপার্টি ভাড়া হওয়া শীর্ষস্থানীয় এলাকা

ঢাকা শহরে প্রপার্টি ভাড়া করার ক্ষেত্রে আমাদের তালিকায় সর্বপ্রথম এলাকা হচ্ছে গুলশান, যেখানে ঢাকা শহরে ভাড়ার জন্য ফ্ল্যাট এর প্রায় ৮১% ই এই এলাকায়। বেশ বড় ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থান নিয়েছে বনানী, মাত্র ৮% ভাড়ার জন্য প্রপার্টি এখানে অবস্থিত। সবশেষে ঢাকায় প্রায় ৫% ভাড়ার জন্য প্রপার্টি নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বসুন্ধরা।  

ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকার খরচ প্রত্যাশিত ভাবেই অনেক বেশি। ভাড়ার জন্য প্রপার্টির প্রায় ৪৪% (চুয়াল্লিশ শতাংশ) এর ভাড়া মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি, যেখানে মাত্র ২২% প্রপার্টির ভাড়া প্রতি মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে পড়ে।

বাংলাদেশের হাউজিং -এর খাতকে উন্নত করার পেছনে সরকারের ভূমিকা

এই সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম অভাবনীয় পরিসংখ্যান গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে যে যেকোন প্লট কিংবা ফ্ল্যাট রেজিষ্ট্রেশন করানোর খরচ বর্তমানে মোট মূল্যের ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ। এদেশে প্রপার্টির উচ্চমূল্যের কথা ভেবে দেখলে এই রেজিষ্ট্রেশন খরচটা আসলে অনেক বেশি। এই কারণে অনেক ক্রেতারাই প্রপার্টি কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং সরকারও এই রেজিষ্ট্রেশন থেকে আসা কর বা রাজস্বের স্বল্পতা এবং এর নেতিবাচক প্রভাবগুলোর সম্মুখীন হন।

এদেশের হাউজিং শিল্পের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো বহু বছর ধরে ক্রেতাদের প্রপার্টি কেনার হার বৃদ্ধি করার জন্য সরকারের কাছে এই রেজিষ্ট্রেশনের খরচ কমানোর আবেদন করে যাচ্ছেন। রেজিষ্ট্রেশনের খরচ কমানোর জন্য ন্যাশনাল বোর্ড আফ রেভিনিউ (এনবিআর), গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কার্যনির্বাহী কমিটি সরকারি মন্ত্রীদের কাছে ও তাদের অফিসে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

বর্তমানে হাউজিং ক্ষেত্রের জন্য ভ্যালু এডেড ট্যাক্স বা ভ্যাট শতকরা ১ থেকে ৩ ভাগের মাঝামাঝি। প্রস্তাবিত উদ্যোগ অনুযায়ী ১.৫% ভ্যাট এবং পুরনো প্রপার্টির জন্য রেজিষ্ট্রেশন ফী স্বাভাবিক রেজিষ্ট্রেশনের খরচের তুলনায় ৩% কমিয়ে আনার অনুরোধ করা হয়েছে। এই ভাবে ট্যাক্স ও খরচ কমিয়ে আনা হলে আমাদের দেশের হাউজিং ক্ষেত্রগুলোয় একই সাথে ভোক্তার কেনার ক্ষমতা এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য হাউজিং বিক্রি করার পরিমাণের পাশাপাশি সরকারের রেজিষ্ট্রেশন ফী ও ট্যাক্স গ্রহনের পরিমাণও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

পরবর্তী রাজস্ব বছরের বাজেট পাশ করার জন্য কমিটির সুপারিশ গুলো এই সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে। এই সুপারিশ গুলো যদি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে এদেশের হাউজিং ক্ষেত্রের চেহারা আমূল পাল্টে যাবে। ফ্ল্যাট নির্মাণের খরচ, ভ্যাট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফ্ল্যাটের দামও কমে যাবে এবং মানুষের মনে প্রায় সাথে সাথেই নিজস্ব ফ্ল্যাট কেনার ব্যাপারে আগ্রহ তৈরি হবে। সরকারের এমন পদক্ষেপই নিশ্চিতভাবে পারবে হাউজিং ব্যবসার ক্ষেত্রে বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেই উদ্যমকে ফিরিয়ে আনতে।

ইতিকথা

যেমনটা আমরা আগেই বলেছি, প্রথমত আপনাকে নিজস্ব একটি বাজেট প্রস্তুত করতে হবে। তারপর প্রপার্টির বাজার নিয়ে রিসার্চ করে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে প্রপার্টিটি আপনি কিনতে চান নাকি ভাড়া নিতে চান। অতঃপর আপনার কেনার জন্য কিংবা ভাড়ার জন্য ফ্ল্যাটটি খুঁজে পাওয়ার পর সেটির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও পছন্দসই একটা যায়গা বেছে নিতে হবে। সতর্কতা ও সাবধানতার সাথে খোঁজ করে ঢাকা শহরে আপনার মনের মত একটি প্রপার্টি খুঁজে পাওয়ার পর আপনি অনেক বেশি পুলকিত অনুভব করবেন, আবার সেটি আপনার জন্য আদর্শ সাইজ ও দামের রেঞ্জের মধ্যে এবং একটি উপযুক্ত যায়গায়ও অবস্থিত।  

ঢাকায় সবচেয়ে উপযুক্ত ও গ্রহনযোগ্য যায়গা কিংবা সঠিক প্রপার্টি খুঁজে পাওয়ার জন্য অনেক বেশি সতর্ক রিসার্চ এবং একই সাথে ভাগ্যেরও সহায়তা প্রয়োজন। অতএব, আশা হারাবেন না, কেননা আপনি এই দারুণ মেগাসিটিতে খুব শীঘ্রই আপনার স্বপ্নের ঘর তৈরি করে নিতে পারবেন। সঠিক প্রপার্টিটি হাতের নাগালেই রয়েছে, আপনাকে শুধু Bikroy.com -এর প্রপার্টি পোর্টালের মত সঠিক যন্ত্রগুলো ব্যবহার করতে হবে, তাহলেই সেটি খুঁজে পাবেন।

ঢাকা শহরের প্রপার্টির বাজার অনেক বেশি শহরায়িত এবং লোকালাইজ হয়ে আছে। অতএব আপনাকে আলাদা এলাকা, রাস্তাঘাট ইত্যাদিতে সময় নিয়ে ভালোভাবে রিসার্চ করার পর নিজের জন্য উপযুক্ত একটি যায়গা খুঁজে পেতে পারেন। কিন্তু যখন আপনি সঠিকটি খুঁজে পাবেন, তখন দেরি না করাই ভালে। কেননা অন্যরাও একটি ভালো প্রপার্টির খোঁজ করতে থাকেন সব সময়।

আপনার বাজেটের উপর নির্ভর করে নিজের জন্য সঠিক প্রপার্টিটি খুঁজে পেতে বিভিন্ন প্রপার্টর ওয়েবসাইট, এজেন্সি ইত্যাদি যায়গায় দেখুন। যদি আপনি নিশ্চিত না হতে পারেন তাহলে কাস্টমারদের রিভিউ, রেটিংস ইত্যাদি দেখে বিচার করুন। শুধুমাত্র ঢাকায় না, বরং বাংলাদেশের বিভিন্ন যায়গায় প্রপার্টি কেনা কিংবা ভাড়া করার অন্যতম সেরা প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে Bikroy.com/Property. হাজারো বিজ্ঞাপনের মাঝে আপনি আপনার স্বপ্নের আদর্শ প্রপার্টিটি অবশ্যই খুঁজে পাবেন।

ঢাকা শহরে নিজের নতুন বাসা বলে পরিচয় দেয়ার মত একটি ভালো প্রপার্টি খুঁজে পাওয়ার জন্য  এবং আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য রইলো শুভকামনা!


চাকরি খুঁজছেন? ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে ভালো মত প্রস্তুত করুন

ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে ভালো মত প্রস্তুত করুন

আপনি কি জানেন কীভাবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিতে হয়? কীভাবে আপনার প্রথম পরিচয়ের প্রভাব বা ইম্প্রেশন দীর্ঘ সময়ের জন্য স্মরণীয় করে তোলা যায়?

আনুষ্ঠানিক হোক কিংবা অনাড়ম্বর মিটিং, পেশাদারী হোক কিংবা দৈনন্দিন মিটিং, রোমান্টিক হোক কিংবা কমেডিক মিটিং, আমরা সকলেই একবাক্যে স্বীকার করতে পারি যে যেকোন সাক্ষাতে প্রথম ইম্প্রেশনের প্রভাব বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষের মনে স্থায়ী একটা প্রভাব ফেলে।

আমরা বলছি না যে প্রথম ইম্প্রেশন কখনও বদলাতে পারে না। বরং আমরা এটা স্বীকার করি যে আমাদের জীবনের সম্পর্ক গুলোয় প্রথম ইম্প্রেশনের প্রভাব একটা বিশাল ভূমিকা পালন করে থাকে। যেকোন ব্যক্তির সাথে প্রথম সাক্ষাতের প্রভাব সব সময়ই আমাদের মনে একটি চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলে; এমনকি দলবদ্ধ ভাবে সাক্ষাতের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।

যখন আপনি একটি চাকরি খোঁজার চেষ্টা করেন, তখন প্রায় যেকোন চাকরির ক্ষেত্রেই ইন্টারভিউ এর সময় আপনার প্রথম ইম্প্রেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা পালন করে। আজকাল যেকোন চাকরিতেই নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া যথেষ্ট সংবেদনশীল এবং ইন্টারভিউ এর জন্য প্রস্তুতি নেয়ার ধাপগুলো অল্প কথায় বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কিন্তু আজ আমরা চেষ্টা করেছি ইন্টারভিউ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস এই প্রতিবেদনে তুলে ধরতে।

চাকরিটি শেষ পর্যন্ত পান কিংবা না পান, একটি ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো আপনি যে একজন পেশাদারী ব্যক্তি এবং নিজের দক্ষতা সম্পর্কে আপনার আত্মবিশ্বাস রয়েছে সেটি নিয়োগকারীর সামনে তুলে ধরা। যেকোন চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দেখা যায় যে বেশির ভাগ প্রার্থীই অন্যান্য ছোট খাটো কারণে চাকরিটি পাওয়ার সুযোগ হারান, যেমন- দেরি করা, ইন্টারভিউ এর সাপেক্ষে বেমানান পোশাক বা সাজ, বিনয়ের অভাব ইত্যাদি।

ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট প্রত্যেকটি ব্যাপারই অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। এছাড়াও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে কখনওই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে ফেলবেন না। আপনার পেশা, ক্যারিয়ার, উন্নয়ন এবং আগামী বছরগুলোয় চূড়ান্ত ভাবে নিজেকে কোথায় দেখতে চান, সে সব বিষয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা গুলো নিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরুন।

বাংলাদেশে চাকরি খুঁজে পাওয়ার জন্য ধাপে ধাপে ইন্টারভিউর জন্য প্রস্তুতির গাইড

ইন্টারভিউর জন্য প্রস্তুতির গাইড

ইন্টারভিউতে পৌঁছে প্রথমেই যা বলা যেতে পারে

যেকোন ইন্টারভিউতে পৌঁছে প্রথমেই যার সাথে দেখা হবে তাকে কীভাবে দ্রুত নিজের পরিচয় দেবেন সেই ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া আপনার প্রথম কাজগুলোর মধ্যে একটি। রিসিপশনিস্ট হোক কিংবা কোম্পানির যেকোন পজিশনের ব্যক্তি, তাকে স্মার্ট ভাবে নিজের পরিচয় দেয়ার অভ্যাস আগে থেকেই গড়ে তোলা আবশ্যক। রিসিপশনিস্টের খোঁজ করুন, কিংবা যিনি আপনাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন তাকে নম্রতার সাথে নাম সহ আপনার আগমনের উদ্দেশ্যটি জানান।

উদাহরণ স্বরূপ:

“হাই। আমার নাম আব্দুর রাহমান। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজারের ভূমিকায় নিয়োগের জন্য আজ বেলা ১১টায় নির্ধারিত একটি ইন্টারভিউ এর জন্য এসেছি।”

কিংবা

“হাই। আমার নাম আব্দুর রাহমান এবং আমি জনাব হারুন সিদ্দিকী সাহেবের কাছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার পদটির জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছি।”

আপনার সর্বোত্তম আচরণ করার চেষ্টা করুন; যার সাথেই কথা হোক না কেন, যথাযথ সম্মান ও ভদ্রতা বজায় রাখুন। কার সাথে দেখা করতে হবে তা যদি জেনে থাকেন, তাহলে তাদের নাম উল্লেখ করুন, নির্ধারিত সময় সম্পর্কে জানলে তাও উল্লেখ করুন। আপনার জানাশোনার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করুন এবং নিয়োগকারীদের কাছে আপনার উপস্থিতি জানান দিন। তারপর কোম্পানির পদ্ধতি অনুযায়ী তারা আপনার সাথে মিটিং এর বন্দোবস্ত করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

এইচআর কিংবা ইন্টারভিউ প্যানেলের সাথে সাক্ষাৎ হলে যা বলতে পারেন

একটি চাকরি পাওয়ার জন্য নিয়োগ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ ব্যস্ততায় ভরা ও সময় সাপেক্ষ হতে পারে, তাই এই সময়টায় নিজেকে হালকা ও নিরুদ্বেগ রাখা জরুরি। এইচআর কিংবা ইন্টারভিউয়ারের সাথে দেখা হওয়ার আগ পর্যন্ত যতক্ষণই অপেক্ষা করতে হোক না কেন, নিজেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখার চেষ্টা করুন।

যখন এইচআর আপনাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসবেন, তখন চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ুন এবং সমান উৎসাহে তার সাথে হাত মেলান। তার চোখে চোখ রেখে কথা বলুন, হাসিমুখে আপনার নাম বলুন এবং মিটিং -এ সাক্ষাতের জন্য আনন্দ প্রকাশ করুন। আপনি যদি একটি ইন্টারভিউ প্যানেল সমৃদ্ধ রুমে প্রবেশ করেন, তাহলে প্রথমে ভেতরে ঢোকার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করুন, হাসিমুখে নিজের পরিচয় দিন এবং সবাইকে একই সাথে অভিবাদন জানান।

উদাহরণ স্বরূপ:

“আমি টিনা আহমেদ, আপনার/আপনাদের সাথে পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো।”

কিংবা

“হ্যালো, আমি টিনা আহমেদ। আজ আমার সাথে দেখা করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।”

নিছক সামান্য ও ছোট খাটো ভুল করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা খুবই জরুরি, যেমন- অন্যমনস্ক হয়ে পড়া, কিংবা ইন্টারভিউ থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলা। আপনার মোবাইল ফোনটি সাইলেন্ট অথবা বন্ধ করে রাখুন এবং ইতিবাচক চিন্তা করুন। ইন্টারভিউয়ের আগে একবার রেস্টরুম থেকে ঘুরে আসুন এবং নিজেকে চাঙ্গা করে নিন।

পরিচয় পর্বটি সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ করার চেষ্টা করুন

যেহেতু এটি একটি ইন্টারভিউ, তাই মনে রাখবেন যে এর পরেও নানা পর্যায়ে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দেয়ার অনেক সুযোগ আপনি পাবেন। তাই প্রথম পরিচয়টা সংক্ষিপ্ত ও আন্তরিক রাখার চেষ্টা করুন। আপনাকে প্রথম যে প্রশ্নটি করা হবে তা কিছুটা খোলামেলা হবে, যেমন “আপনার ব্যাপারে আমাদের কিছু বলুন।” এই প্রশ্নের জবাবে আপনার আবেদন করা পদটির জন্য আপনার দক্ষতাগুলোকে লক্ষনীয় করে তোলার এবং পাশাপাশি আপনার ব্যক্তিত্বকে নম্রতার সাথে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন।

আপনার আবেদন করা পদটির সাথে আপনার দক্ষতা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার সমন্বয় সাধন করুন এবং কীভাবে আপনি এই পদে তাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য উপযুক্ত তা প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। খুব বেশি কথা না বলে বা বেশি সময় নষ্ট না করে আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলুন এবং আপনার ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য জানিয়ে তাদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করুন। দেখে নিন আমাদের আরেকটি প্রবন্ধ শিক্ষার্থীদের জন্য টিপস : কিভাবে ব্যবসায় ক্যারিয়ার গড়ে তুলবেন?

উদাহরণ স্বরূপ:

“একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েট হিসেবে কর্ম ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং -এর ধারা ও নিয়ম কানুন সম্পর্কে আমার গভীর জ্ঞান ও মেধার প্রতিফলন ঘটানোর মাধ্যমে এই কোম্পানির বিভিন্ন প্রোজেক্টে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার গঠন করার স্বপ্ন দেখি…”

আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার দিকে ফোকাস করুন

আপনি যদি একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েট হন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আপনার যোগ্যতা ও কোয়ালিফিকেশনের দিকে বিশেষভাবে ফোকাস করতে হবে। আর যদি তা না হন তাহলে একজন ফ্রীল্যান্সার, চাকরিজীবী কিংবা যেকোন ব্যাকগ্রাউন্ডেই কাজ করার যে অভিজ্ঞতা আপনার রয়েছে সেগুলোর দিকে ফোকাস করুন। একজন প্রার্থী হিসেবে ইন্টারভিউ গ্রহণকারীদের আগ্রহ ধরে রাখার জন্য আপনার  যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিত্বের একটি উপযুক্তও সমন্বয় তাদের সামনে উপস্থাপন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসবের মধ্যে কিছু অপেশাদারী তথ্য যেমন আপনার শখ ও কৌতুহল ইত্যাদি দিকগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

আপনার লক্ষ্য শুধুমাত্র আপনার যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে নয়, বরং আপনার সত্ত্বা, আপনার চরিত্র,আপনার ব্যক্তিত্ব এবং একজন কর্মী হিসেবে আপনার সম্ভাবনাময় দিকগুলোর সাহায্যে নিয়োগকারীদের প্রভাবিত করা। নিজেকে উপস্থাপন করার এমন একটি সুযোগ তৈরি করতে হবে যেখানে তারা আপনাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য অধীর হয়ে উঠবেন।

কোম্পানি কিংবা ইন্টারভিউ প্যানেলের নির্দিষ্ট মেম্বারদের প্রশংসা করতে গিয়ে কোন বাড়াবাড়ি করে ফেলবেন না যেন!

যেকোন উত্তরের বিপরীতে ফলো-আপ প্রশ্নের জন্যও প্রস্তুতি নিন

ইন্টারভিউ এর সময় আপনি নিয়োগকারীদের আপনার ব্যাপারে যেসব তথ্য দিচ্ছেন সেগুলো মনে রাখা খুবই জরুরি এবং তার থেকে যে সব ফলো-আপ প্রশ্ন তারা করতে পারেন সে ব্যাপারেও প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি আপনি বলেন যে আপনার জন্ম হয়েছে অন্য কোন দেশে, তাহলে সেই দেশ সম্পর্কে কিছু ফলো-আপ প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে নিন। কিংবা উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি আপনার পূর্বের নিয়োগকারীর কথা উল্লেখ করেন, তাহলে আপনার আগের চাকরি ও বসদের সম্পর্কে নানা রকম প্রশ্নে কী রকম জবাব দেবেন সে ব্যাপারেও প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

আরো গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যখন আপনি নানা রকম প্রোজেক্ট, টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং অর্জনের সাথে আপনার সংশ্লিষ্ট থাকার কথা শেয়ার করবেন, তখন সে ব্যাপারেও নানা রকম টেকনিক্যাল প্রশ্ন আপনাকে করা হতে পারে। তাদের আগ্রহ হয় এমন যেকোন দক্ষতা বা প্রোজেক্টের ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া ও তাদের কৌতুহল মেটানোর জন্য আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সুযোগ দেয়া হলে আপনার নিজের থেকে কিছু প্রশ্ন করুন, কিংবা সম্ভব হলে সুযোগ তৈরি করে নিন। এতে করে চাকরিটির ব্যাপারে আপনার আগ্রহ বা প্যাশনের দিকটা প্রকাশ পাবে। তবে এটা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন প্রশ্নগুলো অফিস সময়, বেতন ইত্যাদির ব্যাপারে না হয়ে চাকরি সংক্রান্ত দায়িত্ব-কর্তব্য, কোম্পানির লক্ষ্য এসব ব্যাপারে হয়।

উত্তম ব্যবহার সব সময়ই কার্যকরী ও আকাঙ্ক্ষিত

আপনার চাকরির কাজ যেমনই হোক না কেন, কিংবা ইন্টারভিউ গ্রহনকারীর যোগ্যতা ও অবস্থান যেমনই হোক না কেন, যেহেতু এখানে পদটির জন্য আবেদনকারী আপনি নিজে, তাই মনে রাখবেন যে আপনার ব্যবহার ও স্বভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। যতই চাপ বা পরীক্ষার সম্মুখীন হন না কেন, মাথা ঠাণ্ডা রাখুন এবং সব পরিস্থিতিতে নিজের সেরা ব্যবহার ও নম্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করুন। আত্মসম্মানের ব্যাপারে কোন রকম আপোষ করবেন না, কিন্তু পাশাপাশি আপনাকে পেশাদারী এবং উত্তম ব্যবহার বজায় রাহতে হবে।

আপনার শারীরিক ভঙ্গিমা, কথা বলার ধরণ, পোশাক আশাক ইত্যাদি সব আচরণবিধি আপনার ইন্টারভিউয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এই জিনিসগুলোর প্রতি আগে থেকেই যত্নবান হউন। নম্র এবং পেশাদারী আচরণ আপনার ব্যাপারে একটি দীর্ঘমেয়াদী ইম্প্রেশন তৈরি করতে পারে। হাসিমুখে আপনার ইন্টারভিউটি শেষ করুন এবং এই দারুণ সুযোগটির জন্য তাদের ধন্যবাদ দিন!

উদাহরন স্বরূপ:

“আপনাদের সকলের সাথে ইন্টারভিউতে অংশ নিয়ে ভালো লাগলো। আপনাদের দিন ভালো কাটুক এবং আপনাদের মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম। এই অসাধারণ সুযোগটির জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ।”

ইন্টারভিউ এর প্রস্তুতি নেয়ার তালিকা: নিজেকে আরো ভালোভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য টিপস

১। সাধারণ কথাবার্তা ও কুশলাদি বিনিময়ের সময় শুরু থেকেই হাসি মুখে কথা বলুন।
২। আপনার নাম বলার পাশাপাশি কোথা থেকে এসেছেন সেটাও বলুন (আলাপ শুরু করার ক্ষেত্রে)।
৩। সরাসরি ইন্টারভিউ গ্রহনকারীর দিকে মুখ ফিরিয়ে বসুন।
৪। যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তাহলে মার্জিত ভাবে আপনার পরিবার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিন, সংকোচ করবেন না।
৫। আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে এমন ভাবে বলুন যেন তা অন্যদের কৌতুহলী করে তোলে।
৬। আপনার অর্জন, আগের চাকরি ইত্যাদি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী থাকুন এবং ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করুন।
৭। পূর্বের করা আপনার প্রোজেক্ট গুলোতে যেসব দক্ষতা চর্চা করেছেন সেগুলো সুযোগ পেলে বুঝিয়ে বলুন।
৮। আপনার ক্যারিয়ারে আগের কোম্পানির সহযোগিতা ও ভূমিকা সম্পর্কে বলুন এবং অন্যান্যদের প্রশংসা করুন।
৯। জীবনের যে লক্ষ্য এবং স্বপ্নগুলো আপনার পথচলায় আত্মবিশ্বাস এবং অনুপ্রেরণা দেয় সেগুলো উল্লেখ করুন।
১০। ইন্টারভিউ এর সুযোগ দেয়ার জন্য আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন এবং হাসি মুখে বিদায় নিন।

সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ইন্টারভিউ এর টিপস: ইন্টারভিউ এর সময় যে জিনিসগুলো এড়িয়ে চলতে হবে

  • দেরি করা:

ইন্টারভিউ এর ক্ষেত্রে কোন ভাবেই দেরি করা যাবে না! বেশির ভাগ ইন্টারভিউ গ্রহনকারীই সময়ের মূল্য দেন এবং কোন পরিস্থিতিতেই দেরি করা প্রার্থীদের চালো চোখে দেখেন না।

 

  • নেতিবাচক বক্তব্য:

আপনার পূর্বের নিয়োগকারী কিংবা ইন্টারভিউ গ্রাহকের সম্পর্কে কখনই কোন রকম নেতিবাচক কথা বা মন্তব্য করবেন না!

 

  • অহংকার:

ইন্টারভিউ এর সময় কোন রকম অহংকার বা দাম্ভিকতা নিজের মধ্যে আসতে দেবেন না, এতে করে চাকরিটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি! যেকোন কিছুর জন্য আপনার প্যাশনকে নিয়ন্ত্রনে রাখুন এবং স্থির ও মার্জিত ভাবে তা প্রকাশ করুন, যাতে করে আপনাকে তারা অহংকারী মনে না করতে পারেন।

 

  • মোবাইল ফোন:

ইন্টারভিউ এর পুরোটা সময় মোবাইল ফোনের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকুন! ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার আগে আপনার ফোনটি সুইচ অফ অথবা সাইলেন্ট করে নিন এবং ইন্টারভিউ চলাকালীন সময়ে একেবারেই ফোনটি চেক করবেন না।

 

  • ইন্টারভিউ এর পোশাক আশাক:

ইন্টারভিউ এ যাওয়ার সময় বেমানান পোশাক বর্জন করুন! ইন্টারভিউ এর পোশাক সব সময় ফরমাল এবং পেশাদারী হওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যথোপযুক্ত পোশাকের মাধ্যমেই এর প্রতিফলন ঘটা উচিত।

 

  • বাধা দেয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন:

ইন্টারভিউয়ারের প্রশ্ন কিংবা কথার মাঝে বাধা দেয়ার চেষ্টা করবেন না! তাদের কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন, যাতে আপনি কখনওই তাদের কথায় বাধা দিতে না পারেন। তাদের কথার উপরে বা বাধা দিয়ে কথা বলবেন না, কেননা এটি একটি অসৌজন্য ও অবমাননার প্রতীক।

ইতিকথা

যখন আপনি একটি চাকরি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েটের জন্য ইন্টারভিউ প্রস্তুতি আর একজন অভিজ্ঞ প্রার্থীর জন্য ইন্টারভিউ প্রস্তুতির মধ্যে বলতে গেলে তেমন কোন পার্থক্য নেই। অতএব এই ইন্টারভিউয়ের টিপসগুলো উভয়ের জন্যই উপযোগী! সময়ের সেরা এবং সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চাকরির বিজ্ঞাপন খুঁজে নিন বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবহৃত চাকরির পোর্টাল, Bikroy.com/Jobs.

ইন্টারভিউয়ের নানা ধাপ সহ নিয়োগ দানের পদ্ধতিতে অনেক গুলো পদক্ষেপ রয়েছে। সেজন্যই আপনার ভালো সময় এবং শক্তি ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নেয়ার পেছনে বিনিয়োগ করাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। হয়ত মাঝে মাঝে এটি দেখতে অনেক সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু এটাকে মোটেও অবহেলা করা চলবে না। সবচেয়ে সহজ সরল প্রশ্নগুলোর জন্য ও তাদের উত্তর দেয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। আগেই উল্লেখ করেছি যে প্রথম ইম্প্রেশনই শেষকথা নয়, বরং এটি নিঃসন্দেহে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবশালী ইম্প্রেশন।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে ইন্টারভিউ প্রার্থীদের উচিত বিভিন্ন রকম ইন্টারভিউ টিপস চর্চা করার মাধ্যমে নিজেদেরকে এই চ্যালেঞ্জটির জন্য প্রস্তুত করে নেয়া, নেতিবাচক কথাবার্তা ও কাজ এড়িয়ে চলা এবং নিয়োগকারী, ইন্টারভিউ গ্রহণকারী, এইচআর ইত্যাদি ব্যক্তিদের সাথে আলাপচারিতার সময় উত্তম ব্যবহার ও বিনয়ের পরিচয় দেয়া। আমাদের এই সহজ গাইডলাইনটি মেনে চললে কীভাবে নিজেকে ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায় এবং ইন্টারভিউ চলাকালীন সময়ে দীর্ঘমেয়াদী ইম্প্রেশন তৈরি করা যায় সে বিষয়ে ভালোভাবে আন্দাজ করা যায়।

আপনি যাই করুন না কেন, সব সময় মনে রাখবেন যে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে, আত্মবিশ্বাসী থাকুন এবং চাকরির ইন্টারভিউতে জোরালো পারফর্মেন্স দিন!

বিক্রয় জবস এ হাজারো চাকরির বিজ্ঞাপনের মধ্যে ব্রাউজ করুন, আর আজই খুঁজে নিন দারুণ একটি চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার সুযোগ। আমাদের ইন্টারভিউ টিপস গুলো কাজে লাগিয়ে লুফে নিন আপনার স্বপ্নের চাকরিটি। শুভকামনা রইলো!


বেছে নিন আপনার পরিবারের জন্য সেরা গাড়িটি!

আপনার পরিবারের জন্য সেরা গাড়িটি

বাংলাদেশের গাড়ির শো-রুম গুলোয় নানা মডেলের বিভিন্ন রকমের গাড়ি রয়েছে। কিন্তু মানুষ কেন বাংলাদেশে গাড়ি কেনেন, তার পেছনে আসল কারণটা কি? হ্যাঁ, প্রশ্নটা শুনতে কিছুটা অর্থহীন মনে হতে পারে, কেননা অল্প কথায় এর উত্তর দেয়া সম্ভব নয়!

প্রায়ই আমরা আমাদের শখ ও ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে নতুন ব্র্যান্ডের গাড়ি কিংবা লেটেস্ট মডেলের গাড়িটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, তারপর যুক্তি তর্কের সাহায্যে আমাদের সেই শখকে ন্যায্য প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকি। মানুষের মন আসলে ঠিক এভাবেই কাজ করে, আমরা কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত আগে নিয়ে ফেলি, আর সেই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক প্রমাণ করার জন্য নানা রকম কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করি।

যখন কেউ কেউ লেটেস্ট মডেলের বিলাসবহুল গাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখেন, তখন প্রথম বারের মত গাড়ি কিনবেন এমন বেশির ভাগ মানুষই তাদের জীবনসঙ্গী, সন্তানাদি, মা, বাবা অর্থাৎ তাদের পরিবারের সকল সদস্যের চাহিদা ও প্রয়োজনের কথা ভেবে তারপর কোন সিদ্ধান্ত নেন।

আকর্ষণীয় ডিজাইন, ভালো পারফর্মেন্স, আর তার সাথে আধুনিক প্রযুক্তি এ সব কিছুর দিকে লক্ষ্য রেখে সঠিক একটি সিদ্ধান্ত নেয়া বেশ কঠিন একটা কাজ। আমাদের পরিবারের জন্য সেরা গাড়িটি বেছে নেয়ার জন্য আমরা এক রকম চাপের সম্মুখীন হই সব সময়।

পরিবারের জন্য একটি গাড়ি কেনা অন্য যেকোন গাড়ির মত সহজ নয়। নিরাপদ পরিবহন, একটি পুরো পরিবার নিয়ে বাইরে ঘুরতে বা খেতে যাওয়া, সবাই মিলে অবসরের বিনোদন, পারিবারিক রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ইত্যাদি নানা রকম ব্যাপার মাথায় রেখে তবেই একটি গাড়ি বাছাই করতে হয়। এই গাড়িটি হতে হবে এমন যেখানে আমরা আমাদের সব প্রিয় মানুষগুলোকে এক সাথে নিয়ে ভ্রমণ করতে পারি এবং আমরা যা কিছু করতে ভালোবাসি তা সবাই একসাথে করতে পারি!

বাংলাদেশে সঠিক একটি পারিবারিক গাড়ি পছন্দ করার সময় যে বিষয় গুলো মাথায় রাখা আবশ্যক

গাড়ির সাইজ

আপনার পরিবারের জন্য সেরা গাড়িটি বেছে নেয়ার জন্য অন্যতম প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটা নিয়ে ভাবতে হয় তা হলো এর সাইজ। যারা খুব শীঘ্রই নিজেদের জীবন গুছিয়ে নেয়ার কিংবা বিবাহিত জুটি হিসেবে একটি পরিবার শুরু করার কথা ভাবছেন, তাদের নতুন গাড়িটি অবশ্যই এমন সাইজের হতে হবে যেখানে তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের পরিবারের সব সদস্য নিয়ে চলাচল করা সম্ভব হয়।

পরিবারের জন্য সেরা গাড়িটি

যখন আপনার পরিবারটি স্বামী ও স্ত্রীর ছোট পরিবার হয়, তখন একটি মোটর সাইকেল কিংবা একটি আঁটসাঁট ছোট গাড়িই যথেষ্ট। কিন্তু সাথে যদি একটি বাচ্চা থাকে, তাহলে সেখানে আরো ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। আপনার গাড়িটির সাইজ নির্বাচন করার সময় নিম্নের প্রশ্নগুলো অবশ্যই নিজেকে করে নেবেন:

  • খুব বেশি সমস্যা ছাড়াই কি গাড়িটিতে একটি বাড়তি সিট ইনস্টল করা সম্ভব?
  • আপনার বাচ্চাটিকে গাড়িতে ওঠা নামা করানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ জায়গা রয়েছে কি?
  • নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন ফিচার যেমন চাইল্ড লক রয়েছে কি?
  • আপনার বাচ্চাটিকে সূর্যের তীব্রতা থেকে বাঁচানোর জন্য জানালাগুলো টিন্টেড বা গাঢ় রঙের প্রলেপ দেয়া রয়েছে কি?
  • আপনার স্ত্রী, মা, শ্বশুর শাশুড়ি, কিংবা যেকোন পূর্ণবয়স্ক মানুষের বসার জন্য গাড়ির অতিরিক্ত সিটে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি?
  • আপনার পরিবারে দ্বিতীয় একটি বাচ্চা নেয়ার কোন সম্ভাবনা রয়েছে কি?
  • বাচ্চাদের স্ট্রলার সহ অন্যান্য বিভিন্ন অনুষঙ্গ গাড়িতে নেয়ার জায়গা রয়েছে কি?

বাংলাদেশে আদর্শ একটি পারিবারিক গাড়ি পছন্দ করে নেয়ার জন্য এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনাকে যথেষ্ট সাহায্য করতে পারে। যেহেতু গাড়ি কেনাটা বেশ বড় অংকের একটা টাকার ব্যাপার, তাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই বেশ সচেতন হতে হবে শুরু থেকেই!

জ্বালানীর খরচ

যত সময় যাবে, জ্বালানীর খরচ শুধুমাত্র বাড়তেই থাকবে। তাই গাড়ি কেনার ব্যাপারে এই ফ্যাক্টরটি নিঃসন্দেহে একটি ভাবার বিষয়। অতএব আপনি যেই গাড়িগুলো কেনার জন্য অপশন হিসেবে দেখছেন, সেগুলোর সম্ভাব্য জ্বালানী খরচ ও উপযোগিতা নিয়ে কিছুটা গবেষণা আপনাকে করতেই হবে। যেহেতু আপনার ছোট খাটো পারিবারিক ভ্রমণ কিংবা যেকোন জায়গায় যাওয়ার জন্য গাড়িটি সব সময় ব্যবহৃত হবে, তাই সেটি কী পরিমান জ্বালানী পোড়াতে পারে বা বাঁচাতে পারে সেটা আপনাকে অবশ্যই আগে থেকে বুঝে নিতে হবে।

অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যাপার, যেমন লম্বা সময় ধরে ট্রাফিক জ্যামে বসে থাকা, গ্রীষ্মের তীব্র গরমের সময় এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবহার করা ইত্যাদি আপনার গাড়িটির জ্বালানী খরচের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।  আমাদের এই প্রতিবেদনটি পড়ে জেনে নিতে পারবেন কীভাবে গাড়ি চালানোর সময় কোন উপায়ে জ্বালানী খরচ কমিয়ে আনা যায়

কেনার আগে আপনার বাজেট নির্ধারণ করুন

বাংলাদেশে গাড়ি কেনার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ শুরু করার আগে সব সময়ই নিজস্ব একটি বাজেট পরিকল্পনা করে নেয়া দরকার। এর কারণ হলো, বিভিন্ন ধরণের বাজেটের মধ্যে অজস্র অপশন আপনার সামনে চলে আসবে। যেহেতু ঘুরে ফিরে আপনাকে আসলে আপনার বাজেট বুঝেই গাড়ি পছন্দ করতে হবে, তাই এই ব্যাপারটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার পরিবারের জন্য সঠিক গাড়িটি খুঁজে পাওয়ার সময় আপনি নিশ্চয়ই কোন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে চাইবেন না। অতএব আপনার বাজেট খুব বেশি কম যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আবার বাজেট কিছুটা কম থাকলে বেশ ভালো পরিমাণ টাকা ভবিষ্যতের জন্য জমানো সম্ভব, তাই খুব বেশি খরচও করা ঠিক নয়।

একটা নির্দিষ্ট মডেল কেনার জন্য জেদ করবেন না

মনে রাখবেন, আপনার পরিবারের জন্য সঠিক গাড়িটি বাছাই করাটা একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। অতএব সঠিক অপশনটি বেছে নেয়ার পথে আপনার আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। আবেগের বশবর্তী হয়ে একটা বিশেষ কোন মডেলের গাড়ি কেনার জন্য মরিয়া হবেন না। কেননা এতে আপনার পরিবারের জন্য ভালো হয় এমন সাশ্রয়ী অপশনগুলো হয়ত আপনার আর চোখেই পড়বে না।

যখন আপনি একটি বিশেষ কোন মডেলের গাড়ি কেনার পক্ষপাতী হয়ে থাকেন, তখন আরো ভালো রেটিং, রিভিউ এবং নির্ভরযোগ্যতার মত বিকল্প অপশনগুলো আর খেয়াল করতে পারবেন না। অতএব আপনার চাহিদা ও প্রয়োজনগুলো মাথায় রেখে বাজারের বিভিন্ন অপশনগুলোর মধ্যে তুলনা করে দেখার চেষ্টা করুন। এই ভাবে আপনি আপনার পরিবারের চাহিদার সাথে মিলে যায় এমন সব দিক বিবেচনা করে একটি ভালো সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাবেন।

ভবিষ্যতের কথা ভাবুন

একটি পারিবারিক গাড়ি

একটি পারিবারিক গাড়ির ক্ষেত্রে আপনাকে সব সময়ই দৈনন্দিন ব্যবহারের কথা ভাবতে হবে, আর সেটা অবশ্যই হতে হবে দীর্ঘমেয়াদী। সময় যত যাবে, আপনার পরিবারেও নিশ্চিত ভাবে কিছু পরিবর্তন আসবে। আপনার পরিবার যত বড় হতে থাকবে, সেই সাথে আপনার চাহিদা ও প্রয়োজনগুলোও পরিবর্তন হতে থাকবে। অতএব চেষ্টা করুন সব সময় বড় স্বার্থটা পূরণ করতে, পরিবারের জন্য সেরা গাড়িটি বেছে নেয়ার জন্য ভবিষ্যতের কথা এখন থেকেই ভেবে নিন।

জীবনের সব কিছুই আগে ভাগে পরিকল্পনা করে ফেলা কখনওই সম্ভব নয়। কিন্তু যখন আপনি এত বড় একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তখন দীর্ঘমেয়াদী সুযোগ সুবিধার কথা ভেবে নেয়াটা আবশ্যক। আপনি নিশ্চয়ই তাড়াহুড়ো করে এমন একটি গাড়ি কিনতে চাইবেন না, যেটা বছর পার হওয়ার সাথে সাথে আপনার প্রয়োজন পূরণ করতে ব্যর্থ হয়ে পড়বে।

নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন

আপনার পারিবারিক গাড়িটিতে আপনার ভালোবাসার ও সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোর মধ্যে কেউ না কেউ সব সময়ই চলাচল করবে। অতএব তাদের ভালোর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আপনার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রায়োরিটি হওয়া উচিত। গাড়ির নিরাপত্তা ফিচার গুলো প্রতিদিনই একটু একটু করে পরিবর্তন হচ্ছে এবং বিগত কয়েক দশক ধরে গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিবর্তিত হয়ে চলেছে। অতএব হাতের সাহায্য ছাড়াই মোবাইল ফোন চালানোর সুবিধা, জিপিএস, পাওয়ার ও চার্জিং এর সুবিধা, ওয়ারেন্টির নির্ভরযোগ্যতা এবং পথে চলাকালীন সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বিভিন্ন নতুন গাড়ির মডেলে উন্নত প্রযুক্তির ফিচার, যেমন রিয়ারভিউ ক্যামেরা, ব্লাইন্ড স্পট অর্থাৎ যেখানে চোখ পৌঁছে না সেই দিকে ক্যামেরা, মোশন সেন্সর এবং এন্টি-লক অর্থাৎ লক হয় না এমন ব্রেক রয়েছে। কিন্তু আপনি যদি ব্যবহৃত গাড়ি কেনার কথা ভেবে থাকেন তাহলে ব্যবহৃত গাড়ি কেনার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই ভেবে দেখবেন সঠিক ভাবে রিসার্চ এবং পরিকল্পনা করার মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার পরিবারের জন্য সেরা গাড়িটি খুঁজে নিতে পারবেন, যেটি কিনা আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য একই সাথে কার্যকরী, উপযোগী ও পারফেক্ট হবে।

সর্বাধিক জনপ্রিয় গাড়ি – টয়োটা

বাংলাদেশে পাবিবারিক গাড়ি হিসেবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মডেলের গাড়ি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, যেমন- নির্ভরযোগ্যতার জন্য টয়োটা করোলা, বিশাল স্পেস ও উন্নত গড়নের জন্য টয়োটা নোয়াহ, বিভিন্ন দামের মধ্যে ছোট আকারের গাড়ি, যেমন- মিতসুবিশি ল্যানসার, টয়োটা এলিয়ন, নিসান পালসার, টয়োটা এক্সিয়ো, টয়োটা প্রোবক্স, নিসাল ব্লুবার্ড আরো কত কি।

বাংলাদেশে থাকা নানা ধরণের লেটেস্ট ব্র্যান্ডের গাড়ির মধ্যে টয়োটা হলো সর্বাধিক জনপ্রিয় উৎপাদক কোম্পানি এবং এই কোম্পানির টয়োটা করোলা গাড়িটি এর অসাধারণ ও নজরকাড়া ফিচারের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক বিক্রিত। আমাদের আর একটি প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন বাংলাদেশের সেরা ও সর্বোচ্চ বিক্রিত গাড়িগুলো সম্পর্কে

টয়োটা করোলা গাড়িটির ব্যাপক জনপ্রিয়তার পেছনে কারণের তালিকা অগণিত। কিন্তু সংক্ষেপে বলতে গেলে এটি হলো এমন একটি ছোট সেডান গাড়ি, যেখানে রয়েছে পর্যাপ্ত স্পেস, আরামদায়ক এবং যথেষ্ট জ্বালানী সাশ্রয়ী। এই গাড়িটির বাহ্যিক গঠন ও চেহারাও বেশ আদর্শ রকমের। ঢাকা শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা কিংবা দেশের যেকোন এলাকায় যেকোন পরিস্থিতিতে করোলা গাড়ির পারফর্মেন্স সত্যিকার অর্থে অসাধারণ। গাড়িটির বাইরের ডিজাইন ও সৌন্দর্যের সাথে মিল রেখে এর ভেতরের গঠনও যথেষ্ট স্টাইলিশ। সহনীয় ও আকর্ষণীয় দামের মধ্যে নিঃসন্দেহে এটি একটি নিরাপদ গাড়ি।

যেখানে নোয়াহ এবং হায়েস গাড়িগুলো মূলত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, সেখানে বিভিন্ন যৌথ ও বড় পরিবার সবাইকে এক সাথে নিয়ে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করার জন্য এই গাড়িগুলোকে পছন্দ করে কেনেন। এই গাড়িগুলো রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা কম এবং ভালো মাইলেজ দিতে পারে, যা কিনা পরিবার নিয়ে চলাফেরার জন্য উপযুক্ত। যদিও বাংলাদেশে আরো অনেক ভালো ও সুন্দর গাড়ি রয়েছে, তবুও এদেশের বেশির ভাগ মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উপরে উল্লেখিত ফিচার সমৃদ্ধ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের টয়োটা করোলা।

ইতিকথা

আমাদের আজকের প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব গুলো বিষয় ও সমস্যার কথা মাথায় রেখে, ভেবে চিন্তে আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ী সম্ভাব্য অপশনগুলোকে মূল্যায়ন করতে পারেন। কিন্তু যখন পরিবারের জন্য় সঠিক একটি গাড়ি বাছাই করার কথা আসে, তখন কোন ভাবেই গাড়িটির নিরাপত্তা জনিত বিষোয়গুলোর সাথে আপোষ করা চলবে না। আপনার পছন্দ যেমনই হোক না কেন, আপনার পরিবারের জন্য সেটিকে হতে হবে সেরা সিদ্ধান্ত।

আপনি যদি বাংলাদেশে গাড়ি কেনার কথা ভেবে থাকেন তাহলে এ দেশের বিভিন্ন আমদানীকারকদের পক্ষ হতে লেটেস্ট সব গাড়ির খোঁজ পাবেন Bikroy.com -এ। শুধুমাত্র লেটেস্ট ও নতুন ব্র্যান্ডের গাড়িই নয়, Bikroy.com -এর মার্কেটপ্লেসে রয়েছে ভেরিফাই করা বিক্রেতারদের পক্ষ থেকে হাজার হাজার পণ্যের বিজ্ঞাপন, যাতে গাড়ির পাশাপাশি রয়েছে ভাড়া কিংবা কেনার জন্য প্রপার্টি, চাকরির বিজ্ঞাপন সহ আরো কত কি।

একবার আপনার প্রয়োজনগুলো সঠিক ভাবে চিহ্নিত করতে পারলে আপনি এই প্রতিবেদনে আলোচিত লেটেস্ট সেডান গাড়ি কিংবা বড় আকারের অপশন ইত্যাদির মধ্যে থেকে বেছে নিতে পারবেন সহজেই।

Bikroy -এ শুধুমাত্র লেটেস্ট গাড়িই নয়, পাশাপাশি রয়েছে সারা দেশ থেকে নানা মডেলের ও ব্র্যান্ডের নতুন ও ব্যবহৃত গাড়ির বিজ্ঞাপন!

আপনার পরিবারের জন্য সঠিক ও সেরা গাড়িটি খুঁজে পাওয়ার জন্য রইলো শুভ কামনা!


ভ্যালেন্টাইন ডিলস কণ্টেস্ট এর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করলো Bikroy

valentine deals winners 2019

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com, ভ্যালেন্টাইন ডিলস কণ্টেস্ট এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে। গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি, বুধবার রাজধানীর Bikroy এর প্রধান কার্যালয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। কণ্টেস্টের “হসপিটালিটি পার্টনার” হিসেবে রয়্যাল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্পা এবং “ট্র্যাভেল পার্টনার” হিসেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড Bikroy এর সাথে যুক্ত ছিল।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন Bikroy.com এর হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন, Bikroy.com এর হেড অব মার্কেটপ্লেস নাজ হুসাইন, রয়্যাল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা এর ডিজিটাল মার্কেটিং এন্ড সেলস ম্যানেজার এ কে এম আসাদুর রহমান এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড এর মার্কেটিং সাপোর্ট এন্ড পিআর এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ কামরুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

  • প্রথম পুরস্কার বিজয়ী রেজাউল করিম রনি জিতে নিয়েছেন ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা কাপল টিকেট (ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স) এবং ৩ দিন ২ রাত রয়্যাল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট, কক্সবাজারে থাকার সুযোগ;
  • দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী তোফাজ্জল হোসেন জিতেছেন ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা কাপল টিকেট (ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স) এবং ২ দিন ১ রাত রয়্যাল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট, কক্সবাজারে থাকার সুযোগ; এবং
  • তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী শাহরিয়ার আহমেদ জিতেছেন ২ দিন ১ রাত রয়্যাল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট, কক্সবাজারে ২ জনের থাকার সুযোগ।

valentine deals competition winners 2019

Bikroy.com এর ই-কমার্স সেকশন Bikroy Deals ইলেকট্রনিক্স, কিচেন ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ব্যক্তিগত গ্রুমিং আইটেম, ট্র্যাভেল এক্সেসরিজ এবং আরও হাজারো পণ্য শতভাগ নিরাপত্তার সাথে ক্রেতাদের নিকট পৌঁছে দেয়। আসন্ন ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে Bikroy Deals এসব সামগ্রী ছাড়াও নিয়ে এসেছিলো টি-শার্ট, মগ, পরিধেয় ফ্যাশন আইটেম, ঘড়িসহ নানাবিধ পণ্য। গ্রাহকরা তাদের পছন্দের পণ্য “Buy Now” ফিচারের মাধ্যমে কিনে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রথম পুরস্কার বিজয়ী রেজাউল করিম রনি বলেন, “প্রথম পুরস্কার জিতে নিয়ে আমি সত্যি অভিভূত যদিও এটি একদমই অপ্রত্যাশিত ছিল। আমি Bikroy-কে ধন্যবাদ জানাই ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এত সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্য।”

Bikroy.com এর হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন বলেন, “Deals Bikroy.com সার্ভিসের সর্বশেষ সংযোজন। এটি আমাদের ই-কমার্স বিভাগ যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিয়ে থাকি। আমি বিজয়ীদের অভিনন্দন এবং Deals এর সকল ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দুর্দান্ত সাড়া পেয়েছি এবং মাত্র ৭ দিনের মধ্যে ছয় হাজার অর্ডার পেয়েছি। আমি নিশ্চিত যে বিজয়ীরা তাদের সঙ্গীদের নিয়ে ভালোবাসা দিবসকে খুব চমৎকারভাবে উপভোগ করতে পারবেন। আমরা ভবিষ্যতে গ্রাহকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় কণ্টেস্ট নিয়ে আসবো”।

বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে এই কণ্টেস্টের অংশীদার রয়্যাল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্পা-এর ডিজিটাল মার্কেটিং এন্ড সেলস ম্যানেজার এ কে এম আসাদুর রহমান বলেন, “ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে রয়্যাল টিউলিপ প্রতি বছরই গ্রাহকদের জন্য বিশেষ আয়োজন করে থাকে। আমরা গ্রাহকদের বিশেষ মুহূর্তগুলোর পাশে থাকতে চাই। ভবিষ্যতেও আমাদের বিশেষ দিনের আয়োজনগুলো অব্যাহত থাকবে। দারুণ এই আয়োজনের জন্য Bikroy-কে ধন্যবাদ”।

অন্য আরেক অংশীদার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড এর মার্কেটিং সাপোর্ট এন্ড পিআর এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, “ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে ভাগ্যবান বিজয়ীদের অভিনন্দন। অনেকেই এই বিশেষ দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করতে চায়। আমরা স্বল্প পরিসরে হলেও তাদের এই প্রত্যাশা পূরণের সঙ্গী হতে পেরেছি, এটি আমাদের জন্য আগামীর বিশেষ আয়োজনে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা অনুরোধ করবো Bikroy যেন আগামীতেও এমন  কণ্টেস্টের আয়োজন করে”।


প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলুন Bikroy Deals থেকে আকর্ষণীয় সব উপহার দিয়ে

Bikroy Deals থেকে আকর্ষণীয় উপহার

প্রতিটি নতুন বছরের সাথেই হয় নতুন কিছুর সূচনা, নতুন কিছু পরিকল্পনা, বদলে যায় দৃষ্টিভঙ্গি, কিন্তু যে জিনিসটা কখনো বদলায় না তা হলো আমাদের ভালোবাসা আর সম্পর্কগুলো!

আমরা আমাদের জীবনে ভালোবাসার নানা রূপ ও রঙ আবিষ্কার করি। আর এই ভালোবাসা কেবলমাত্র প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের জীবনে ভালোবাসার মানুষ বা প্রিয়জনের তালিকা নানা রকম, কিন্তু আমরা প্রায়ই তাদের কাছে আমাদের ভালোবাসা গুলো প্রকাশ করতে ভুলে যাই  কিংবা ঠিক ভাবে প্রকাশ করতে পারি না।

জীবনে অনেক বছর ধরে যে বিশেষ সম্পর্ক গুলো আমরা তৈরি করে থাকি, সেগুলোতে হয়ত সব সময় তাদের প্রাপ্য মনোযোগ ও সাধনা দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। যেখানে আমরা আমাদের বেশির ভাগ সময় ও প্রয়াস প্রেমিক, প্রেমিকা, জীবনসঙ্গী কিংবা বিশেষ সেই মানুষটিকে  দেয়ার চেষ্টা করে থাকি, সেখানে একই রকম খেয়াল বা যত্ন আমরা আমাদের জীবনের অন্যান্য সম্পর্কগুলোতে দিতে ব্যর্থ হই।

চলুন দেখে নিই এমন কিছু সম্পর্ক যেগুলোকে আমরা আমাদের জীবনের সেরা উপহার মনে করে থাকি এবং কীভাবে Bikroy -এ থাকা কিছু দারুন উপহার সামগ্রীর সাহায্যে আপনারা আপনাদের জীবনের সেই বিশেষ মানুষগুলোর প্রতি ভালোবাসা জাহির করতে পারবেন খুব সহজেই।

মা ও বাবা : আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ

Gift for Parents from Bikroy deals

আমাদের অভিভাবক অর্থাৎ মা ও বাবা আমাদের জীবনে বর্তমান থাকুক বা না থাকুক, তারাই সর্বপ্রথম আমাদেরকে পৃথিবীর বুকে নিয়ে এসেছেন এবং আমাদের অন্তরের সবচেয়ে বিশেষ একটি অংশ জুড়ে তাদের অবস্থান। একজন মা তার সন্তানের জন্য তার ভালোবাসা ও যত্নের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে নিজেকে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত থাকেন। আর একজন বাবা তার সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যেকোন কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে পারেন। কিন্তু সন্তান হিসেবে আমরা প্রায়ই আমাদের প্রতি আমাদের বাবা-মায়ের তীব্র ভালোবাসাকে বুঝতে ও মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হই, যতদিন না আমরা নিজেরাই সন্তানের মা বা বাবা হয়ে যাই।

মায়ের জন্য কোন উপহারই আপনাকে দেয়া তার উপহারের সমান হতে পারে না – আপনার জীবন!
– অজ্ঞাতনামা

যখন একজন পিতা তার পুত্রকে কিছু দেন, তখন দু’জনই হাসেন; আর যখন পুত্র তার পিতাকে কিছু দেয়, তখন দু’জনই কাঁদেন।
– উইলিয়াম শেকসপিয়ার

আপনার বাবা মা আপনার জন্য কত কিছুই না করেন! তাদের এই অবদান আপনার জন্য কতটা মূল্যবান সেটা প্রকাশ করার জন্য তাদের দু’জনকেই চিন্তা ভাবনা করে উপযোগী কিছু উপহার দিতে পারেন।

মায়ের জন্য

  • Spice Grinder
  • Electric Ruti Maker
  • Iron

বাবার জন্য

  • Leather Wallet
  • Trimmer
  • Hot Shower

ভাই ও বোন : আমাদের সহোদর ও শৈশবের সাথী

Gift for brother and sister from bikroy deals

আমাদের সহোদর, অর্থাৎ ভাই ও বোনদের সাথে আমাদের টক-মিষ্টি সম্পর্কগুলো যেমনই হোক না কেন, তাদের সাথে আমাদের বন্ধন অনেক বেশি স্পেশাল! যখন আমরা আমাদের বাবা মা ও অন্যান্য বড়দের কাছ থেকে আদব-কায়দা ও শৃঙ্খলার শিক্ষা লাভ করি, ঠিক তখনই ভাই বোনদের সাথে আমরা যে কোন কিছু ভাগ করে নিতে শিখি। নিজেদের জন্য যেমনটা ভাবি ঠিক সেভাবেই অপরের জন্য ভাবা ও করার বুঝটা আমরা ভাই বোনদের কাছ থেকে পাই। তাদের সাথে ঝগড়া-ঝাটি আর শত দুষ্টুমি করা সত্ত্বেও তাদের প্রতি আমাদের মনে ভালোবাসা থাকে অনেক অনেক বেশি।

আপনার ভাই কিংবা বোনটির জন্য আপনি কতটা ভাবেন সেটা প্রকাশ করার জন্য রোমাঞ্চকর কিছু উপহার দেয়ার চেষ্টা করুন!

ভাইয়ের জন্য

  • Portable wireless speaker
  • M3 Smart Band
  • Crossbody Bag

বোনের জন্য

  • Bracelet
  • Straightener
  • Bluetooth Speaker

আমাদের সন্তান : ছেলে ও মেয়ে

Gift for children from bikroy deals

আমাদের সন্তানদের কাছ থেকে আমরা নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সত্যিকার অর্থ শিখি, তারা যতই ছোট কিংবা সংখ্যায় যতজনই হোক না কেন। নিজেদের ব্যাপারে কিছু ভাবারও আগে যদি আমরা কখনও কারো জন্য ভাবতে শিখি, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ হচ্ছে আমাদের সন্তানাদি। তাদের বয়স যতই হোক না কেন, পিতামাতার কাছে সব সময়ই তাদের সন্তানদের জন্য ভালোবাসা, স্নেহ এবং সুরক্ষার প্রয়োজন থেকেই যায়; বয়সের সাথে বাবা মায়েদের এই প্রবৃত্তি দিন কে দিন আরো দৃঢ় হয়ে ওঠে!

অসামান্য ভালোবাসার প্রতিরূপ হিসেবে আপনার ছেলে কিংবা মেয়েটির জন্য সেরা উপহারটি খুঁজে নিন!

ছেলেদের জন্য

  • Smartwatch
  • Backpack
  • Wireless Karaoke

মেয়েদের জন্য

  • Anti Theft Backpack
  • Hair Dryer
  • Bluetooth Speaker

আমাদের বন্ধু-বান্ধব

Gifts for friends from bikroy deals

আপনার কাছে বন্ধুত্বের মূল্য ঠিক কত খানি? হয়ত এ ব্যাপারে আগে কখনও ভাবার সুযোগ আপনাদের হয় নি; কিন্তু আমাদের জীবনের নানা রকম মূল্যবান সম্পর্কের মধ্যে এই বন্ধুত্ব অন্যতম, যেখানে অবর্ণনীয় এক ভালোবাসা জুড়ে রয়েছে সব সময়। বয়স, লিঙ্গ, প্রেক্ষাপট, ধর্ম, কিংবা অন্য যেকোন উপায়ে আমরা এই পৃথিবীতে হয়ত নিজেদের পরিচয় আলাদা করে নিয়েছি। কিন্তু এ সব কিছু ছাপিয়ে বন্ধুত্ব এমন একটি অনন্য বন্ধনের রূপ নিয়েছে, যা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এসেছে প্রতি বার। একজন ভালো বন্ধুর থেকে আপনি যত দূরে কিংবা যত লম্বা সময়ই আলাদা থাকুন না কেন, তার সাথে দেখা হওয়া মাত্রই আমরা এমন অনুভব করতে পারি যেন কখনও আলাদা ছিলামই না। ফেলে আসা সেই দিনগুলো যেন আবার সেই একই জায়গা থেকে ফিরে আসতে শুরু করে।

বন্ধুত্বের এই অটুট বন্ধন উদযাপন করুন আকর্ষণীয় সব উপহারের সাথে!

বন্ধু/বান্ধবীদের জন্য

  • Backpack
  • Wallet
  • Watch Gas Lighter
  • Coffee warmer
  • M3 Smart Band
  • Bracelet
  • Hair Dryer
  • Bluetooth Speaker
  • Straightener
  • Portable BBQ

আমাদের দাদা দাদী, নানা নানী ও নাতি নাতনী

Gift for Grandparents & Grandchildren from bikroy deals

দাদা-দাদী, নানা-নানী এবং নাতি নাতনীদের মধ্যে সম্পর্কটা এমনই এক অদ্ভুত বন্ধন যার মধ্যে আনন্দ, উচ্ছাস, ভালোবাসা, দুষ্টুমি ও রোমাঞ্চ বিরাজ করে! দাদা দাদী ও নানা নানীরা সব সময়ই তাদের নাতি নাতনীদের সাথে নিজেদের শৈশবকে নতুন করে আবিষকার করেন এবং তাদের সঙ্গ পেতে ভালোবাসেন। একই ভাবে নাতি নাতনীরাও পরিণত বয়সে এসে তাদের দাদা দাদী ও নানা নানীদেরকে অসম্ভব রকম শ্রদ্ধা ও ভক্তি করে থাকেন। এই বন্ধন এতটাই স্পেশাল যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়!

আপনার দাদা দাদী, নানা নানী কিংবা নাতি নাতনীদের সাথে জীবনের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ভাগাভাগি করে নিন এবং তাদের সাথে প্রাণ খুলে হাসুন, একই সাথে তাদের মুখেও হাসি ফুটিয়ে তুলুন দারুণ সব উপহার সামগ্রীর সাথে!

দাদা-দাদী / নানা-নানীর জন্য

  • Massage Pillow
  • Blood Pressure Monitor
  • Magic Hose pipe 50 feet
  • Instant Hot Water Tap

নাতি নাতনীদের জন্য

  • Anti Theft Backpack
  • Wireless Karaoke
  • M3 Smart Band
  • Naviforce Watch

আপনার জীবনের বিশেষ কেউ/ জীবনসঙ্গী/ স্বামী কিংবা স্ত্রী

The Special One Life Partner Spouse from bikroy deals

আমরা ইতোমধ্যে আমাদের জীবন কালে তৈরি হওয়া নানা রকম অমূল্য সম্পর্ক গুলোর কথা আলোচনা করে ফেলেছি। কিন্তু আমরা কখনওই আমাদের জীবনের সেই বিশেষ মানুষটির কথা ভুলে যেতে পারি না কিংবা ভুলবোও না। ভালোবাসার কথা ভাবতে গেলে প্রথমেই যাদের কথা আমাদের মাথায় আসে তারা হলেন আমাদের জীবনসঙ্গী!

সেই মানুষটিকে আপনি যেই নামেই ডাকুন না কেন, আপনার অর্ধাঙ্গী, আমাদের পরিপূর্ণ হয়ে ওঠার মাধ্যম, আপনার জীবনে বিশেষ কেউ, আপনার জীবনসঙ্গী, প্রণয়ের সাথী কিংবা আপনার স্বামী বা স্ত্রী, আমরা সকলেই এই ভালোবাসার সত্যিকারের মানে বুঝি! এই সেই ব্যক্তি যিনি আপনাকে ত্যাগ এবং আপোষের মানে বুঝতে শেখায়। তাদের সাথে কাটানো আপনার প্রত্যেকটি মুহূর্তকে স্মরনীয় ও রঙিন করে তুলুন!

কিংবা হয়ত কোন বিশেষ একজনের জন্য আপনার মনে গোপন কোন অনুরাগ থাকতে পারে, যাকে এখনও আপন করে নেয়া হয়ে ওঠেনি। তার চোখে শুধুমাত্র আপনার জন্য সেই বিশেষ অনুভূতি খুঁজে পাওয়ার জন্য আপনার ভালোবাসা তার কাছে জাহির করুন! দেখে নিন কীভাবে আপনার অব্যক্ত গোপন ভালোবাসার মানুষটির হৃদয় জয় করে নেয়া যায়। কেননা কিছু অনুভূতি মুখে প্রকাশ করার চেয়ে একটি সুন্দর অনন্য উপহার দিয়ে জাহির করাই শ্রেয়!

এই ভালোবাসার মৌসুমে কিছু নজরকাড়া উপহার দিয়ে আপনার সব অনুভূতিগুলো প্রকাশ করুন!

প্রিয়তমের জন্য

  • Punjabi
  • Couple Mug
  • Bed Sheet with 2 Pillow Covers

প্রিয়তমার জন্য

  • Saree
  • Couple Mug
  • Couple Valentines T-Shirt

শেষকথা

আজকের প্রতিবেদনে আমরা আমাদের জীবনে গড়ে তোলা বিশেষ সম্পর্কগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিয়ে আলোচনা করেছি। এ রকম আরো অনেক গুলো সুন্দর সম্পর্কের কথা হয়ত আজ আমরা উল্লেখ করি নি, যেমন আমাদের আংকেল কিগ্না আন্টি, বস বা লীডার, শিক্ষক, আমাদের জীবনের আদর্শ মানব ইত্যাদি। কিন্তু আপনার জীবনের বিশেষ মানুষগুলো কারা এবং কীভাবে তাদের মূল্যায়ন করবেন সেটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যাপার। তাদেরকে এমন কিছু উপহার দিন, যা দ্বারা তারা আপনাকে মনে রাখবেন, হোক তা আপনার ভালোবাসা কিংবা উপলব্ধির কোন নিদর্শন, কিংবা আপনাদের মধ্যে যে সুন্দর সম্পর্কটি রয়েছে সেটিকে জাহির করার সামান্য প্রচেষ্টা।

হৃদয়ের সব গুলো অনুভূতিকে বন্দী করে না রেখে সেগুলো প্রকাশ করুন এবং এই ভালোবাসার মৌসুমে আপনার আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ছড়িয়ে দিন সব খানে। অনেক বছর ধরে কথা বা দেখা না হওয়া বন্ধুটির সাথেও আবার যোগাযোগ করে দেখুন। একটি হৃদয়গ্রাহী বার্তার সাহায্যে আপনার জীবনের সমস্ত দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগকে দূর করে দিন, এমন কিছু উপহার দিন যেটা আপনার কথা মনে করিয়ে দেবে!

আজই Bikroy.com/Deals -এ খুঁজে নিন দারুণ সব উপহার সামগ্রী, যেগুলো এই বিশেষ মৌসুমের জন্য সেরা ডিল হিসেবে আমরা নিয়ে এসেছি শুধুমাত্র আপনাদের জন্য।

বন্ধু-বান্ধব আর পরিবারের ভালোবাসা ছাড়া আমাদের জীবন অসম্পূর্ণ। মিলে মিশে থাকার আশীর্বাদ, ভালোবাসার আনন্দ ও উত্তেজনাগুলোকে উপভোগ করুন, আর আপনার হৃদয়ের বিশেষ মানুষগুলোকে আরো কাছাকাছি নিয়ে আসুন এই মৌসুমে।


ভালোবাসা দিবসে Bikroy এর আকর্ষণীয় ভ্যালেন্টাইন ডিলস

ভ্যালেন্টাইন ডিলস

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com, ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এলো ভ্যালেন্টাইন ডিলস। এই অফারে গ্রাহকরা Bikroy Deals থেকে যেকোনো পণ্য কিনে জিতে নিতে পারবেন অসাধারণ কিছু উপহার। এই ক্যাম্পেইনে Bikroy এর সাথে “হসপিটালিটি পার্টনার” হিসেবে থাকছে রয়্যাল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্পা এবং “ট্র্যাভেল পার্টনার” হিসেবে থাকছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড।   

Bikroy Deals হচ্ছে Bikroy.com সার্ভিসের সবচেয়ে নতুন সংযোজন। এটি মূলত একটি ই-কমার্স সেকশন যা “Buy Now” ফিচারের মাধ্যমে হিসেবে ইলেকট্রনিক্স, কিচেন ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ব্যাক্তিগত গ্রুমিং আইটেম, ট্র্যাভেল এক্সেসরিজ এবং আরও হাজারো পণ্য শতভাগ নিরাপত্তার সাথে ক্রেতাদের নিকট পৌঁছে দেয়। আসন্ন ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে Bikroy Deals নিয়ে এসেছে টি-শার্ট, মগ, পরিধেয় ফ্যাশন আইটেম, ঘড়ি ইত্যাদি। এছাড়াও Bikroy Deals এ রয়েছে বিভিন্ন পণ্য যা গ্রাহকরা তাদের পরিবার  ও বন্ধুদের জন্য উপহার হিসেবে কিনতে পারবেন। Bikroy Deals এর যেকোনো পণ্য কিনেই প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভূক্ত হওয়া যাবে।

প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে তিনজন বিজয়ী গ্রাহক ও তার সঙ্গীর জন্য রয়েছে দারুণ উপহার। বিজয়ী গ্রাহকদের জন্য পুরস্কার হিসেবে থাকছেঃ

প্রথম পুরস্কারঃ ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা কাপল টিকেট ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড এর সৌজন্যে  + ৩ দিন ২ রাত রয়্যাল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্পা, কক্সবাজারে থাকার সুযোগ।

দ্বিতীয় পুরস্কারঃ ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা কাপল টিকেট ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড এর সৌজন্যে + ২ দিন ১ রাত রয়্যাল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্পা, কক্সবাজারে থাকার সুযোগ।

তৃতীয় পুরস্কারঃ ২ দিন ১ রাত রয়্যাল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্পা, কক্সবাজারে ২ জনের থাকার সুযোগ।  

এই অফারটি পেতে গ্রাহকরা ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ এর মধ্যে Bikroy Deals থেকে পণ্য কিনে আকর্ষণীয় পুরস্কার জিতে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পছন্দের পণ্য কিনতে গ্রাহকদের Bikroy Deals এ গিয়ে “Buy Now” এ ক্লিক করে অর্ডার করতে হবে। অর্ডার হওয়ার পর Bikroy এর পক্ষ থেকে গ্রাহকের জন্য একটি অর্ডার আইডি ধার্য করা হবে। সেই অর্ডার আইডি-টির মাধ্যমেই Bikroy.com এর কতৃপক্ষ র‍্যাফেল ড্র-এর দিন বিজয়ী নির্ধারণ করবেন। কাঙ্ক্ষিত পণ্য ঢাকার মধ্যে তিন দিন এবং ঢাকার বাইরে পাঁচ দিনের মধ্যে পণ্য পৌছে যাবে। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ এ Bikroy.com এর হেড অফিসে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

ভ্যালেন্টাইন ডিলস সম্পর্কে Bikroy.com-এর হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন বলেন, “ভালোবাসা দিবস বাংলাদেশে এখন অনেকটা উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই দিনে সবাই চায় প্রিয়জনকে সারপ্রাইজ দিতে। Bikroy.com এ আমরা গ্রাহকদের জন্য সেই সুযোগটিই করে দিয়েছি। আর বিজয়ী গ্রাহকদের জন্য তো আকর্ষণীয় উপহার থাকছে। আশা করি, এবারের ভালোবাসা দিবস গ্রাহকদের জন্য ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হবে”।

এই ক্যাম্পেইনের অংশীদার রয়্যাল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা-এর ডিজিটাল মার্কেটিং এন্ড সেলস ম্যানেজার এ কে এম আসাদুর রহমান বলেন, “ভালোবাসা দিবসে রয়েল টিউলিপ সবসময়ই এক্সক্লুসিভ আয়োজন করে। আমরা বিশ্বাস করি, Bikroy এর ক্যাম্পেইন বিজয়ী গ্রাহক ও তাদের সঙ্গীরা অভিভূত হবেন”।

অন্য আরেক অংশীদার ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড এর মার্কেটিং সাপোর্ট এন্ড পিআর এর জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম বলেন, “ভালোবাসা দিবসে গ্রাহকদের চমৎকৃত করতে Bikroy এর এই ক্যাম্পেইনটি সত্যিই অসাধারণ। বিশেষ এই দিবসে Bikroy এর ক্যাম্পেইনের সাথে যুক্ত হতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আমরা আশা করি, বিজয়ী গ্রাহকরা ইউএস-বাংলার রাউন্ড ট্রিপটি উপভোগ করবেন”।

তো আর দেরি কেন? এখনই শপিং করুন Bikroy Deals থেকে। তাই যত বেশি কেনাকাটা করবেন আপনার জেতার সম্ভাবনা ততই বেশি।

শর্তাবলীঃ

  • প্রতিযোগিতার গোপনীয়তা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে Bikroy এর কোনো কর্মী এই প্রতিযোগিতায়  অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
  • বিজয়ী নির্ধারণে Bikroy এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
  • পুরস্কারপ্রাপ্ত উপহারসমূহ ফেরত, বিনিময় বা বদলিযোগ্য নয়।

কীভাবে আপনার ছোট বাসাটি দারুণ সব আসবাবপত্র দিয়ে সাজাবেন?

ছোট বাসাটি সাজিয়ে তুলুন দারুণ সব আসবাবপত্র দিয়ে

এক সময় ঢাকা শহরের বাসা মানেই ছিলো নিজস্ব ছিমছাম একটি বাসা, বিশাল খোলামেলা লিভিং রুম, বেড রুম, আর পরম শান্তির খোলা বারান্দা। ভাবতেও অবাক লাগে, মাত্র বছর পনেরো আগেও ঢাকা শহরের বাসা গুলোর চেহারা কতটা অন্য রকম ছিল, কিন্তু এখন তা শুধুই স্মৃতি। পরিবার গুলো যেমন দিন দিন ছোট হয়ে আসছে, তেমনি সংসারে স্বামী স্ত্রী দুইজনই এখন চাকরি করছেন। এখনকার দিনে এমন ছোট ও স্বাধীন পরিবারের জন্য বড়সড় আকারের এপার্টমেন্ট তৈরি করাটা ব্যবসায়িক দিক থেকেও বেশ অসঙ্গত বলা চলে; যেখানে ঢাকার মত ব্যস্ত ও ধুলোবালির শহরে বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত পরিবারেরই বড় বাসা সামলানো ও চালানোর মত সময় কিংবা সামর্থ্য কোনটাই নেই।

আর তাই বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানির প্রজেক্ট ও লম্বা লম্বা দালানের ভিড়ে ঢাকার মত মেগাসিটির আকাশ ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে শুরু করল, যেগুলোর মধ্যে মৌচাকের মত ছোট খোপ খোপ এপার্টমেন্টে ঠাসা। এই ছোট খাটো এপার্টমেন্ট গুলো পরিষ্কার রাখা যেমন সহজ, তেমনি শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি থাকার সুবিধাগুলো এতে পাওয়া যায়; ভালো ভালো রেস্টুরেন্ট, শপিং সেন্টার, যানবাহন সুবিধা, হাসপাতাল ইত্যাদি সব কিছুই হাতের নাগালে চলে আসায় ছোট বাসাগুলোর উপযোগীতাও বেশি। এছাড়াও এই ছোট বাসাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই সাধারণত গুলশান, বারিধারা, বনানী এই এলাকাগুলোর মধ্যে পড়ে, ঢাকা শহরের ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র যাকে বলা চলে। ঢাকার ট্রাফিকের দুর্দশার কথা মাথায় রেখে আমাদের তরুণ প্রজন্মের পেশাজীবীদের জন্য কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকাটা বেশ কার্যকরী ও ক্যারিয়ার গঠনের জন্য সহায়ক।

ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এদেশের আসবাবপত্র নির্মাতারা দিন দিন ছোট হয়ে আসা এই স্পেস গুলোর চাহিদা ও বৈশিষ্ট্যের সাথে তাল মিলিয়ে নানা রকম পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের পণ্যগুলোকে অল্প জায়গার মধ্যে সাজানোর চেষ্টা করছেন। তবুও এই ছোট স্পেস গুলোকে একই সাথে কার্যকরী অথচ নান্দনিক ও রুচিসম্মত উপায়ে ঘর সাজানোটা আজও বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং একটা ব্যাপার। তবে আপনার স্বাচ্ছন্দ্য ও আরামের ছোট্ট স্পেসটিকে সাজিয়ে তোলার ব্যাপারে আমাদের আজকের কিছু টিপস বেশ কাজে লাগতে পারে:

শেলফ এবং ঝুড়ি হতে পারে আপনার সেরা বন্ধু

শেলফ এবং ঝুড়ি

বেতের তৈরি রঙ্গিন ঝুড়ি আজকের বাজারে নানা রকম আকার ও ডিজাইনে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো গুনগত ভাবে শুধুমাত্র মজবুতই নয়, আপনার রুমে এক চিলতে রঙের ছোঁয়াও এনে দিতে পারে এই সুন্দর ঝুড়িগুলো। কাপড় থেকে শুরু করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানা রকম ছোট বড় জিনিস একটি ঝুড়িতে ভরে রাখা যায়। এমনকি রান্নাঘরেও কাঁচা শাকসবজি, ফল, শুকনো পেয়াজ, রসুন ইত্যাদি রাখার জন্যও দারুণ এক সমাধান এই ঝুড়িগুলো।

এছাড়াও বড় সড় কাপবোর্ড বা বন্ধ কেবিনেটের বদলে খোলামেলা শেলফ বা তাক তৈরি করে এবং তাতে নানা ধরণের রঙিন বক্সে প্রয়োজনীয় ছোট বড় জিনিস সংরক্ষণ করে রাখা যায়। এতে ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত আলো বাতাস ভালো চলাচল করতে পারে আর দেখতেও লাগে দারুণ!

যত কম আসবাব, তত বেশি স্বাচ্ছন্দ্য

আসবাবপত্র হোক কিংবা মালামাল, সেগুলো হালকা ওজন ও রঙের হলে একটি ছোট ঘরের সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণে। বাসার সব কিছু সাধাসিধা ও যৎসামান্য রাখুন। এমন কিছু আসবাব রাখার চেষ্টা করুন যেগুলো একাধিক কাজে আসে। আজকাল বাজারে নানা রকম বহুমুখী আসবাব পাওয়া যায়।

ডাইনিং টেবিল বেশি বড় না হলেও চলে

ডাইনিং টেবিলের সাইজ কমিয়ে আনুন। লিভিং রুম এ সোফার সাথে খাটো বক্স টেবিল কিনে নিতে পারেন। বন্ধুরা এলে তাতে নাস্তা, খাবারও পরিবেশন করতে পারবেন, আবার লিভিং রুমের সৌন্দর্যও বেড়ে যাবে।

পুরনো বা ব্যবহৃত আসবাবও দারুণ কাজে আসে

আপনার এপার্টমেন্ট এর সাজসজ্জা করার জন্য অনলাইনে পুরনো জঞ্জাল (অন্যদের জন্য) খোঁজ করে দেখতে পারেন! Bikroy -এ রয়েছে বিপুল পরিমাণ রুচিসম্মত ব্যবহৃত ও নতুন আসবাবপত্রের সংগ্রহ, যেগুলো ঘরে বসে খুব সহজেই কিনে ফেলতে পারবেন অল্প কিছু ক্লিক করেই। কে জানে? হয়ত অল্প কিছুক্ষণ ব্রাউজ করেই আপনার ঘরের কোনায় রাখার জন্য পারফেক্ট বইয়ের শেলফ বা শোকেসটি দারুণ একটি সেকেন্ড হ্যান্ড দামে পেয়ে যেতে পারেন! আপনার মনের মত একটা জিনিস খুঁজে পাওয়ার জন্য সারা শহরে দিনের পর দিন নানা রকম আসবাবপত্রের দোকান ঘুরে ঘুরে হয়রান হওয়ার চেয়ে এটাই কি ভালো না?

স্মার্ট আসবাব কিনুন

দ্বিমুখী কাজের সোফা

দ্বিমুখী কাজের সোফার পেছনে বিনিয়োগ করুন। রাতে মেহমান থাকবে বাসায়? Bikroy -এ পাওয়া যাচ্ছে নানা রকম আসবাবপত্রের বিশাল এক রেঞ্জ, যেগুলোর মধ্যে সোফা থেকে টেনে বিছানা বানিয়ে নেয়া যায় এমন আসবাবও অন্যতম।

সৃজনশীল হউন এবং সাশ্রয় করুন

ছোট এপার্টমেন্টের আরো একটি দারুণ ব্যাপার হচ্ছে যে এগুলো আপনাকে আপনার স্বল্প স্পেস নিয়ে সৃজনশীল ভাবে ভাবতে শেখায়, আর সাজানোর সময় শুধুমাত্র বিশেষ প্রয়োজনীয় অল্প কিছু জিনিস কেনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। শেষমেষ আপনার এপার্টমেন্টটি এমন একটি স্পেসে পরিণত হয়ে ওঠে যা একই সাথে অর্থনৈতিক ভাবে সাশ্রয়ী এবং পরিবেশ বান্ধব।

বেডরুমেও জায়গা বাঁচান

ছোট বেডরুম গুলোতে স্টোরেজ এর জন্য নানা রকম বাক্স আপনার স্পেসের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করবে। ড্রয়ার এবং খোলা শেলফ সহ একটি নাইট-স্ট্যান্ড স্টোরেজের জন্য বাড়তি কিছু জায়গা তৈরি করে দিতে পারে। ঝুড়ি এবং দেয়ালে আঁটা শেলফও স্টোরেজের পরিমাণ বাড়ায় এবং ডিসপ্লে হিসেবেও এদের ব্যবহার করা সম্ভব। এখানে মূল উদ্দেশ্যটি হচ্ছে আপনাদের আরামের দিকটা ঠিক রাখার পাশাপাশি স্বল্প পরিমাণ জায়গাকে আরো বেশি কার্যকরী করে তোলা। অতএব বেডরুমে ছোট খাটো আসবাবপত্র রাখার চেষ্টা করুন এবং বিছানাটি এমন একটি মাপে নিন যা দিয়ে কাজ চালানো সম্ভব।

বেডরুমকে করে তুলুন স্মার্ট

বিছানার নিচের স্টোরেজ এবং দেয়ালে আঁটা শেলফ আপনার জন্য অতিরিক্ত স্পেস উন্মুক্ত করে দিতে ব্যাপক ভাবে সাহায্য করে এবং বেডরুমটি তুলনামূলক বড়ও দেখায়। কিন্তু এ ধরণের এক্সপেরিমেন্ট করার ব্যাপারে আপনার বাসার বাড়িওয়ালার সম্মতি থাকাটা আবশ্যক। আর তা যদি না হয়, তাহলে দ্বিমুখী আসবাবপত্র কেনার পরিকল্পনা করে ফেলা ভালো, যেমন এমন একটি সাইড টেবিল রাখা যায় যেটি শেলফের মতও কাজ করতে পারে। এই সম্পর্কে আরও দেখে নিন কিভাবে খুব সুন্দর করে আপনার শোবার ঘরটি সাজানো যায়?

ড্রেসিং টেবিলের বিকল্প লম্বা আয়না

ড্রেসিং টেবিলের বিকল্প লম্বা আয়না

বিশাল ওজনের ভারী একটা ড্রেসিং টেবিলের বদলে লম্বা পূর্ণ দৈর্ঘ্যের আয়না সহ ছোট একটি ড্রেসার কেনার কথা ভাবুন। প্রতিদিন ব্যবহারের গহনা ও কাজের জিনিসগুলো দেয়ালে বোর্ড টানিয়ে ঝুলিয়ে দিন। এতে তাড়াহুড়োর সময় যেমন সহজে সব কিছু খুঁজে পাওয়া যায়, তেমনি বেডরুমে হালকা একটা আকর্ষণও চলে আসে।

ছোট বাক্স বা ট্রে ব্যবহার করুন

পারফিউম, বই খাতা, রান্নাঘরের মশলা এবং এরকম অন্যান্য জিনিসগুলো রাখার জন্য ট্রে এবং ছোট বাক্স একেবারে পারফেক্ট। নির্দিষ্ট করে আলাদা ট্রে বা বক্সে যদি আপনার জিনিসগুলো সাজিয়ে রাখতে পারেন, তাহলে রুমের আবর্জনা তৈরি হওয়ার কোন সুযোগই থাকে না। মনে রাখবেন যে এখানে আপনার উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনার স্বল্প জায়গাকে প্রশস্ত ও কার্যকরী করে তোলা। কেননা যদি একটা রুম বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে তাহলে সেটিতে আবর্জনা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসের স্তুপ তৈরি হওয়াটা বেশ সহজ। নানা রকম ট্রে এবং বাক্স আপনার ছোট্ট স্পেসটি গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

বারান্দা কিংবা জানালার সদ্ব্যবহার করুন

একটি এপার্টমেন্ট যতই ছোট হোক না কেন, তাতে অন্তত পক্ষে একটি বারান্দা থাকেই। যদি আপনার এপার্টমেন্টে অন্তত একটি বারান্দা থাকে, তাহলে দারুণ স্পেসটিতে সামান্য কিছু সবুজের ছোঁয়া নিয়ে আসার সুযোগ পাওয়া যায়। বারান্দার ছোত এক কোনায় কিছু রসালো গুল্ম, ক্যাকটাস কিংবা বনসাই জাতীয় গাছ রাখলে আপনার এপার্টমেন্টটি আপাত দৃষ্টিতে বেশ বড় বলে মনে হয়। আপনার বারান্দায় যদি কিছুটা ঝোলা বারান্দা বা বাড়তি ঝুলন্ত শেড থাকে, তাহলে প্রচলিত পদ্ধতির পাটি এবং অল্পকিছু কুশন কিনে নিতে পারেন। সেই যায়গায় বৃষ্টির দিনে সন্ধ্যায় বসে এক কাপ চা কিংবা মনের মত একটি ভালো বই নিয়ে বৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে সময় পার করতে পারবেন। আর যদি আপনার বাসায় বারান্দা না থাকে তাহলে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনার বেডরুমের জানালার নিচ বরাবর একটি ছোট স্পেসে পাটি অথবা খাটো বেঞ্চ এবং কিছু কুশন বা বালিশ রেখে ব্যবহার করলেও প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতা পেতে পারেন।

ছোট এপার্টমেন্টের ব্যাপারে প্রায়ই মানুষের মধ্যে এক ধরণের ভুল ধারণা কাজ করে, তা হলো যে মানুষ এগুলো শুধুমাত্র আশ্রয় ও সাশ্রয়ের জন্য ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু কার্যকরী ও সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি একটি ছোট এপার্টমেন্ট একজন ব্যক্তির জীবনে একটি নান্দনিকতার ভূমিকাও রাখতে পারে, যদি আপনি সঠিক আসবাব ও স্মার্ট উপায়ের সাহায্যে ঘরটি সাজিয়ে নেন।

অতএব, আজকের জন্য আমরা আপাতত এটুকুই পরামর্শ দিতে পারি। অতিরিক্ত আইটেম সরিয়ে ফেলুন, আবশ্যক নয় এমন আসবাবকে ছোট করে নিন, রুচিশীল ও কৃত্রিম ডিভাইডারের সাহায্যে রুমগুলোকে আলাদা করুন এবং নিজের একান্ত ব্যক্তিগত প্রাইভেসি তৈরি করে নিন। কিছু ভালো ও দ্বিমুখী আসবাবপত্রে বিনিয়োগ করুন, বেত ও প্লাস্টিকের বাক্স এবং ট্রে এর সদ্ব্যবহার করুন এবং আপনার দেয়ালের সর্বোচ্চ সুবিধা নিন। ফলস্বরূপ আপনি এমন একটি বাসার অধিকারী হবেন যেটি বাসা হিসেবে যথেষ্ট কার্যকর, সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি দেখার জন্যও বেশ আকর্ষণীয় ও সুন্দর। হয়ত এখানে আমাদের পরামর্শ নেয়ারও আপনার তেমন প্রয়োজন নেই, কিন্তু আপনার স্বপ্নের বাসাটি নিজের করে পাওয়ার জন্য নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। ঢাকা দিন কে দিন বৈশ্বিক মার্কেটের সাথে আরো গভীরভাবে সংযুক্ত হয়ে চলেছে এবং বর্তমানে অনলাইনে ও বাস্তবে  নানা রকম দোকান রয়েছে যেখানে ছোট এপার্টমেন্ট এর জন্য সুন্দর সুন্দর আসবাবপত্র বিক্রি করা হয়। যদি আপনার বাজেট কিছুটা দুর্বল থাকে তাহলে Bikroy.com এর মত সাইটগুলোয় আপনাদের জন্য রয়েছে কম দামের মধ্যে বিভিন্ন সেকেন্ড হ্যান্ড অপশন। আপনার বাসা হওয়া উচিত এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি বিশ্রাম করতে, নিজেকে হালকা করতে ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে চান। তাই নিজের কল্পনাশক্তিকে ব্যবহার করে সেই স্বপ্নের বাসাটি সাজিয়ে তুলুন, আর এই ব্যাপারে স্পেস এর আকার ছোট হওয়ার মত তুচ্ছ ব্যাপারকে বাঁধা হয়ে দাড়াতে দিবেন না। ঘরকে সাজিয়ে নিন মনের মত করে!


কেন কিনবেন দাড়ির স্টাইলিং এর জন্য ভালো ট্রিমার?

একটি ভালো দাড়ির ট্রিমার কেন কিনবেন

আমাদের মধ্যে অনেকেরই দাড়ি রাখার কারণ হয়ত ভিন্ন ভিন্ন, কিন্তু প্রত্যেক পুরুষেরই দাড়ির সাথে এক রকম বন্ধন বা সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের মধ্যে কারো কারো দাড়ি আমাদের মধ্যে একটু বিজ্ঞ ভাব নিয়ে আসে, কারো জন্য এই দাড়ি কিছুটা রুক্ষ আকর্ষণীয় লুক এনে দেয়, কিংবা কারো জন্য একটু বয়স বেশি দেখাতে সাহায্য করে, আবার কারো জন্য এই দাড়ি স্টাইলের অংশ বা ধর্মীয় আচার বিধান পালনের প্রতিশ্রুতিও বটে।

কিন্তু সকল পুরুষের জন্য এটাই সত্য যে আমরা আমাদের দাড়ি অনেক ভালোবাসি এবং নারীদের পছন্দও এটি!

যে কারণে একটি ভালো দাড়ির ট্রিমার আপনার প্রয়োজন

প্রাথমিক ধাপে হয়ত আপনার মাত্রই নতুন দাড়ি গজানো শুরু হয়েছে, কিন্তু এরই মধ্যে সেটিকে কীভাবে স্টাইল করবেন সেটা নিয়েও জল্পনা কল্পনা আপনার মনের মধ্যে ঠিকই করে নিয়েছেন। যদিও স্টাইলিং এর জন্য প্রচলিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন রেজার, ক্ষুর, কাঁচি এগুলো ব্যবহার করাই যথেষ্ট, তারপরও এখন যুগ বদলে গেছে এবং একজন ব্যস্ত নরসুন্দরের জন্য বসে থাকার চেয়ে আমরা নিজেদের হাতে নিয়ন্ত্রণ থাকাটায় বেশি স্বাছন্দ্য বোধ করি।

ট্রিমারের মত একটি সহজ ও ব্যবহার উপযোগী যন্ত্র হাতে পেয়ে যাওয়ার পর পরই আপনারা নিজ নিজ দাড়ির উপর ভিন্ন ভিন্ন স্টাইল পরীক্ষা করে দেখা শুরু করতে পারেন। এতে স্বাভাবিক ভাবে সেলুনের নিয়মিত খরচটাই শুধু বাঁচাতে পারছেন তা না, বরং আপনার নির্দিষ্ট স্টাইলের জন্য ব্যক্তিগত ছোঁয়ায় নিজের মনের মত করে দাড়ির যত্নও নিতে পারবেন!

কিন্তু যদি আপনি ট্রিমার ব্যবহারে এক্সপার্ট নাও হন, তবুও একটি ভালো মানের দাড়ির ট্রিমার ব্যবহার করার মাধ্যমে নিজেকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি রাখতে পারবেন অনায়াসেই।

দাড়ির ট্রিমার কেনার আগে যে সব বিষয় ভেবে দেখতে হবে

আপনি চাইলেই যেকোন লোকাল দোকান থেকে একটি ট্রিমার কিনে নিতে পারেন, কিন্তু আপনার জন্য সঠিক ট্রিমারটি খুঁজে কেনার জন্য কিছুটা ভাবনা চিন্তা করে নেয়া আবশ্যক। বাজারের যেকোন ট্রিমারের পেছনে এমনি এমনি টাকা ঢালবেন না, নিজের প্রয়োজন বুঝে সেরা ট্রিমারটি কিনে নিন!

আপনার জন্য সেরা ট্রিমারটি পছন্দ করা খুব একটা সহজ কাজ নয়, বরং অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। বাজারে যেমন অনেক বেশি রকমের পণ্য, তেমনি তাদের মধ্যেও অনেক রকম ফিচারের সমারোহ! এরই মধ্যে আপনার জন্য সেরা কোনটি সেটা বেছে নেয়া বেশ কঠিন একটা কাজ। যেই প্রধান দিকগুলো আপনাকে অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো পারফর্মেন্স, স্থায়ীত্ব এবং আরাম।

একটি দাড়ির ট্রিমারের মূল প্রয়োজনটি বুঝুন

কোন দোকান কিংবা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে যেয়ে একটি বেছে নেয়ার আগে আপনাকে আপনার নিজের প্রয়োজন ও চাহিদাগুলো আগে চিনে নিতে হবে। আপনি জানেন যে আপনার একটি ট্রিমার প্রয়োজন, কিন্তু নিজের কাছে নিজের চাহিদাগুলো স্পষ্ট করে তোলার জন্য আরো নির্দিষ্ট ভাবে ভাবতে হবে। বাজারে আসলে বিভিন্ন ধরণের ট্রিমার, শেভার, ক্লিপার ইত্যাদি রয়েছে। আগে এই বিভিন্ন ধরণের ট্রিমার ও অন্যান্য চুলের যত্ন নেয়ার যন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য আপনাকে জানতে ও বুঝতে হবে, তারপরই কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

নতুনদের জন্য চুলের ক্লিপার মূলত বড় চুল ছাঁটার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং একই সাথে এটি দিয়ে লম্বা দাড়িও ছাঁটা যায়।  ট্রিমারের ব্লেড যথেষ্ট ছোট হয় এবং আপনার মুখের ছোট ও সূক্ষ্ম পশম বা দাড়ি গুলো কাটার জন্য তৈরি করা হয়। আরো ছোট ও আরো সূক্ষ্ম পশমের জন্য রয়েছে বিশেষ গোঁফের ট্রিমার। তারপর রয়েছে নাকের পশম ও কানের পশমের জন্য ট্রিমার, একই সাথে নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই শরীরের পশম দূর করার ট্রিমার। শুকনো বা ড্রাই শেভিং এর জন্য বাজারে রয়েছে ইলেক্ট্রনিক শেভার। 

এখন আপনি যেহেতু জেনেছেন যে আপনার হাতে নানা রকম অপশন রয়েছে, অতএব আপনার প্রয়োজন কেমন তা বুঝতে পারা খুব একটা কঠিন হবে না। আপনি যদি শুধুমাত্র দাড়ি গজানোর পরিকল্পনা করেন, তাহলে একটি আদর্শ দাড়ির ট্রিমারই আপনার জন্য যথেষ্ট। একটি দাড়ির ট্রিমার ব্যবহার করে আপনি অনায়াসে খাটো ও চাপ দাড়ির স্টাইল করতে পারবেন। কিন্তু আপনার যদি দাড়িগুলো একটু লম্বা ধাঁচের হয় তাহলে আরো ভারি ও বিশেষ ধরণের দাড়ি বা চুলের ক্লিপার ব্যবহার করতে হবে।

যদি আপনি ইতোমধ্যে দাড়ির ক্লিপার ব্যবহার করে থাকেন ও ভাবেন যে আপনার ট্রিমারের প্রয়োজন নেই, তাহলে কিন্তু ভুল হবে! একটি দাড়ির ট্রিমার বিশেষ ভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে আপনি পারফেক্ট, স্টাইলিশ ও গোছানো দাড়ি রাখতে পারেন সব সময়; অতএব এর কোন বিকল্প নেই বলা চলে। আপনাকে বুঝতে হবে যে ভিন্ন ভিন্ন ধরণের ট্রিমার ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে বাহারি স্টাইলের লুক পাওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়ে থাকে।

আপনার দাড়ির দৈর্ঘ্য হয়ে উঠুক আপনার স্টাইলের মূল আকর্ষণ

সঠিক মাপের ও চাহিদা অনুযায়ী নিজের লুক তৈরি করে নেয়ার জন্য আপনার ট্রিমারই হতে পারে আপনার জন্য সেরা পথ। আপনি যদি হালকা চাপ দাড়ি পছন্দ করেন এবং ফাইভ-ও-ক্লক শ্যাডো স্টাইলে (৫টা বাজলে ঘড়ির কাঁটা যেমন দেখায়) চাপ দাড়ি রাখতে চান, তাহলে আপনার ট্রিমারে ০.৩-০.৫ মিমি সেট করে দিয়ে ঠিক সেই সূক্ষ্ম প্রাকৃতিক ছাটে দাড়ি কাটতে পারবেন। অতএব এমন একটি ট্রিমার বেছে নিন যেটি চুল বা দাড়ি ছোট ও সূক্ষ্ম ভাবে কাটতে পারে। সাধারণভাবে কোন রকম গাইড কম্ব বা বিশেষ চিরুনি ছাড়াই এই মাপে দাড়ি ছাঁটা সম্ভব, কিন্তু গাইড কম্ব থাকলে পছন্দ মত যেকোন মাপ করে নেয়া যায়।

আপনি যদি মোটামুটি লম্বা দাড়ি রাখার কথা ভেবে থাকেন তাহলে আপনার দৈর্ঘ্য নির্ধারক গাইড কম্ব সহ একটি  ট্রিমার প্রয়োজন হবে। বেশির ভাগ দাড়ির ট্রিমারে ২ মিমি থেকে ৫ মিমি দৈর্ঘ্যের মধ্যে মাপ নির্ধারণ করে দেয়া যায়, এবং এই মাপ বেড়ে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৬ মিমি দৈর্ঘ্য পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব। এই মাপের মধ্যে সচরাচর মাঝারি থেকে লম্বা দৈর্ঘ্যের দাড়ি কাটা যায়।

আপনার ট্রিমারে থাকা এক বা একাধিক ব্লেড সম্পর্কে জানুন

ভালো ব্র্যান্ডের বেশির ভাগ ট্রিমার আপনাদের সর্বোত্তম মানের ব্লেড দিবে, যেগুলো প্রায় জীবনভর আপনাকে সার্ভিস দিয়ে যাবে। কিন্তু অন্যগুলোর মধ্যে বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই আপনারা পরবর্তী গ্রহনযোগ্য পদ্ধতি ব্যবহার করে চালিয়ে নিতে পারবেন। এই অপশনটি হলো খুলে ফেলার মত ব্লেড, যা আপনারা পরিষ্কার করার জন্য খুলে নিতে পারবেন কিংবা পরবর্তীতে বদলে ফেলতে পারবেন। অনেক ট্রিমারে দাড়ি, গোঁফ এবং চুলের জন্য আলাদা আলাদা ব্লেড ব্যবহার করার জন্য এই রকম অপশন থাকে। আবার কিছু কিছু ট্রিমারে নাক ও কানের পশম কাটার জন্য ক্লিপ পদ্ধতির ব্লেডও দেয়া থাকে। আপনি যেই ট্রিমারই বেছে নিন না কেন, সেটায় কী কী ব্লেড রয়েছে ও সেগুলো কীভাবে কাজ করে তা অবশ্যই জেনে নিতে হবে।

বাজারে এমন ট্রিমারও রয়েছে যেগুলোতে পরিবর্তনশীল গাইড কম্ব ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি দেয়া থাকে, যেগুলোর সাহায্যে মুখের পশম যেমন দাড়ি ও গোঁফ ইত্যাদি বিভিন্ন দৈর্ঘ্যে ছাঁটা সম্ভব। এই গাইড কম্ব গুলো পরিষ্কার করার জন্য সহজেই খুলে নেয়া যায় এবং এগুলো দিয়ে মোটা বা ভারী চুলও কাটা যায়। এমন ট্রিমারও রয়েছে যেগুলোর গাইড কম্ব নন-রিমুভাবল হয় বা খোলা যায় না, এবং এগুলোকে একটি লিভার বা জুম হুইলের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই লিভার কিংবা হুইল আপনাকে কম্বের দৈর্ঘ্য ও অন্যান্য সেটিংস ঠিক করতে সাহায্য করে, কিন্তু মাঝে মাঝে এগুলো পরিষ্কার করা খুব কঠিন হয়ে যায়, আর মোটা চুল বা দাড়ি কাটার সময় জ্যাম হয়ে বা আটকে যেতে পারে।

এছাড়াও ব্লেড গুলোর স্থায়িত্ব এবং উৎপাদনকারীদের যেকোন উচ্চতর প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নিতে হবে, যেমন সেলফ শার্পেনিং বা নিজে নিজেই ব্লেড ধার দেয়ার প্রযুক্তি। তেল বা এ জাতীয় যেকোন লুব্রিক্যান্ট বা পিচ্ছিলকারক পদার্থ ইত্যাদি ব্যবহার করে আপনার ট্রিমারটির যত্ন নিতে হবে নিয়মিত। কিন্তু নতুন ব্র্যান্ডের ভালো মানের দাড়ির ট্রিমার গুলোতে সেলফ শার্পেনিং ব্লেড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যেখানে ব্লেডগুলো একে অপরের সাথে ঘষা খায় এবং ধারালো হয়ে ওঠে। এছাড়াও ভালো মানের উপাদান যেমন স্টেইনলেস ষ্টীল কিংবা টাইটেনিয়ামের প্রলেপ যুক্ত ব্লেড রয়েছে, যেগুলো সূক্ষ্ম ও নিখুঁত ভাবে কাটতে পারে এবং বেশ লম্বা সময় পর্যন্ত টেকে।

কর্ডলেস অর্থাৎ তারবিহীন নাকি তারসহ : কোনটি বেশি ভালো

আরাম, স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা ইত্যাদির পর যেই জিনিসটি নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি ভাবি তা হলো, তারবিহীন নাকি তারসহ দাড়ির ট্রিমার, কোনটি কেনা উচিত।

উত্তরটা আসলে বেশ সহজ……সেরা ট্রিমারের অভিজ্ঞতা পাওয়ার জন্য কর্ডলেস বা তারবিহীন দেখে কেনাই সবচেয়ে ভালো!

কিন্তু তার মানে তারসহ ট্রিমার কেনাটা যে একটি খারাপ সিদ্ধান্ত, তা নয়। তারবিহীন ট্রিমারগুলো আপনার দাড়ি যেকোন অবস্থানে থেকে সুবিধামত কাটা বা ছাঁটার স্বাধীনতা দিতে পারে। তার ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় চলাচল করাটা অপেক্ষাকৃত ভাবে সহজ এবং বাথরুম কিংবা আপনার বেডরুম বা বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়াটা বেশ নিরাপদও বটে। ব্যাটারী চালিত বা তারবিহীন দাড়ির ট্রিমার গুলো তার সহ বা কর্ডেড ট্রিমারের চেয়ে কম শক্তিশালী, এমন ভুল ধারণা অনেকেরই রয়েছে। তার থাকুক আর নাই বা থাকুক, ভালো মানের ট্রিমার গুলো কোনভাবেই দুর্বল বা কম শক্তিশালী হয় না।

এছাড়াও বেশির ভাগ নতুন মডেলের তারবিহীন বা ব্যাটারী চালিত দাড়ির ট্রিমারে সেটিকে তারযুক্ত অবস্থায় ব্যবহার করার অপশনও দেয়া থাকে। অতএব আপনি যেমন আপনার ট্রিমারটির রিচার্জেবল ব্যাটারীর স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারছেন, তেমন প্রয়োজনের সময় সেটিকে তার যুক্ত করেও ব্যবহার করতে পারবেন,

মেয়েদের জন্য ট্রিমার

মেয়েদের জন্য ট্রিমার

ছেলে কিংবা মেয়েদের জন্য, অথবা ছেলে কিংবা মেয়ে জন্য ট্রিমারের মধ্যে পণ্যের মান ও পারফর্মেন্সে আলাদা করার মত তেমন কোন বৈশিষ্ট্য নেই। বরং পুরুষদের তুলনায় মেয়ে কিংবা নারীদের ট্রিমার ব্যবহারের মধ্যে কিছুটা তফাৎ রয়েছে। একই ভাবে মেয়ে বা ছেলে উভয়ের জন্যই সেরা ট্রিমারগুলোর বৈশিষ্ট্য ও চাহিদা গুলো প্রায় একই রকম, পার্থক্য শুধুমাত্র তাদের ব্যবহারে। মেয়েদের জন্য বিশেষ ভাবে ডিজাইন করা ট্রিমার গুলো পাতলা চুল বা পশম কাটার মত করে তৈরি এবং এদের আকৃতিতে কিছুটা ফ্লেক্সিবল ও বাঁকানোর সিস্টেম দেয়া থাকে, যাতে করে তাদের ব্যবহারে সুবিধা হয়। এই একটা দিক ছাড়া ছেলেদের জন্য ট্রিমার কিংবা মেয়েদের জন্য ট্রিমারের মধ্যে আর কোন বিশেষ পার্থক্য নেই।

একটি ভালো দাড়ির ট্রিমারে কি কি বৈশিষ্ট্য খুঁজে দেখা উচিত

একটি দাড়ির ট্রিমারে অনেক রকম ফিচার থাকে, কিন্তু আমাদের পছন্দের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

  • ব্যবহারের সুবিধার জন্য কর্ডলেস বা তারবিহীন ব্যবহারের অপশন
  • তারবিহীন ভাবে ব্যবহার করার সময় সর্বোচ্চ সময় ধরে চলার জন্য ভালো ব্যাটারি ব্যাক-আপ
  • প্লাগ-ইন বা তারসহ ব্যবহারের সুবিধা : বিভিন্ন কর্ডলেস ট্রিমারে তার যুক্ত অবস্থাতেও ব্যবহার করার অপশন
  • বাথরুমে ব্যবহার ও সহজে পরিষ্কার করার জন্য পানিরোধী বা ওয়াটারপ্রুফ সুবিধা
  • রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিমুভাবল বা পরিবর্তনযোগ্য ব্যাটারি
  • সর্বোচ্চ স্টাইলিং এর অপশন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দৈর্ঘ্য নির্ধারণের সেটিংস

এই ফিচারগুলো একটি ট্রিমার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় ও আরামদায়ক করে তুলতে পারে। পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য প্রিমিয়াম ট্রিমার হিসেবে এই ফিচারগুলো আমরা অবশ্যই সুপারিশ করব। যেখানে বাংলাদেশে অনেক গুলো জনপ্রিয় ও স্বনামধন্য কোম্পানি রয়েছে, সেখানে সেরা মানের ট্রিমারটি খুঁজে পেতে ও কেনার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন মার্কেটপ্লেস, যেমন bikroy.com থেকে ব্রাউজ করুন। সস্তা ও নকল পণ্য নয়, এখানে খুঁজে পাবেন অরিজিনাল ব্র্যান্ডের মানসম্মত পণ্য।

শেষকথা

পুরুষদের জন্য পুরুষত্বের অনন্য প্রতীক হচ্ছে তাদের দাড়ি। ইতিহাসে শত শত বছর আগে যেমন এটা সত্য ছিলো, তেমনই আজকের আধুনিক দিনেও এটি একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড। যেখানে অনেকেই একে তাদের পুরুষত্বের প্রতীক হিসেবে রেখে থাকেন, সেখানে হয়ত অনেকেই তাদের সুন্দর ঘন দাড়ি সেরা লুকের জন্য প্রদর্শন করে থাকেন, আবার অনেকে তাদের ধর্মীয় আচার বিধান পালনের উদ্দেশ্যে দাড়ি রাখেন। কিন্তু কারণ যেটাই হোক না কেন, সেই দাড়িকে সুন্দর ভাবে যত্ন করে, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন ভাবে গুছিয়ে রাখাটা আবশ্যক।

একটি স্টাইলিশ লুকের জন্য দাড়ির যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে অবশ্যই একটি ভালো মানের ট্রিমার থাকা চাই। একটি ট্রিমার দাড়ির যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ ভাবে ডিজাইন করা হয়ে থাকে। অতএব আজই আপনার আকাঙ্ক্ষিত লুকটি পাওয়ার জন্য Bikroy.com -এর Bikroy Deals থেকে কিনুন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নতুন সব ট্রিমার

অপরিচিত কোন জায়গা থেকে নকল ব্র্যান্ড ও সস্তা মানের পণ্য কিনে বোকামি করবেন না!

আপনার দাড়ির জন্য আপনার পছন্দের সেই দৈর্ঘ্য, স্টাইল এবং লুকটি পেতে পারেন বাজারের সেরা দাড়ির ট্রিমার ব্যবহার করে। অতএব একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে সেরা কোয়ালিটির শত শত ট্রিমার এবং অন্যান্য পণ্য যেমন দাড়ির ট্রিমার, নাক ও কানের পশমের ট্রিমার, চুলের ক্লিপার, ইলেকট্রিক শেভার ইত্যাদি থেকে ব্রাউজ করুন। 

শুধুমাত্র দাড়ির ট্রিমারই নয়, সার্চ করুন হাজার হাজার অন্যান ইলেকট্রনিক্স, পণ্য, সার্ভিস, চাকরির বিজ্ঞাপন ইত্যাদি এবং সেরা পণ্য কিংবা সার্ভিস খুঁজে নিন Bikroy.com -এর Bikroy Deals থেকে।

দাড়ির ট্রিমার সম্পর্কে আমাদের শেয়ার করা বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে আপনার মতামত এবং অন্যদের জন্য আপনার পছন্দের টিপস ও স্টাইলগুলো জানান আমাদের কমেন্ট সেকশনে।