All posts by Pujan Kumar

এক নজরে Bikroy.com, ২০১৮

একটি ভালো কোম্পানির কালচার হচ্ছে, সবসময়ই তার এমপ্লয়িদের উচ্চ এবং ভালো ফলাফল করার জন্য অনুপ্রেরণা দিতে থাকে। এমপ্লয়িরা সব সময়ই চায়, এমন কাজের দায়িত্ব যা অর্থপূর্ণ, ভালো একটা ইন্ডাস্ট্রি, এবং এমন একটা কোম্পানি যা তার এমপ্লয়িদের কাজের, জীবনের এবং মেধাকে মূল্য দেয়। প্রতিটি কোম্পানির উচিত বিভিন্ন ধরণের পলিসি, এনগেজমেন্ট এবং ইভেন্টের মাধ্যমে তার এমপ্লয়িদের খোলামেলা এবং যোগাযোগপূর্ণ একটা কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা।

Bikroy.com বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস। বাংলাদেশের মার্কেটে Bikroy.com এর যাত্রা শুরু হয় সাল ২০১২ থেকে এবং তখন থেকেই টেকনোলজির সাহায্যে আরো উন্নত এবং আধুনিক ধরণের বানিজ্যের লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে ।

Bikroy.com এ আমরা সব সময়ই চেষ্টা করছি, আমাদের ২০০ এর অধিক এমপ্লয়িদের জন্য সুন্দর একটি কোম্পানি কালচার নিশ্চিত করার জন্য যা তাদেরকে কাজের প্রতি আরো আগ্রহি করে তুলবে। যেহেতু আমরা লিঙ্কডইন এ Bikroy.com এর নতুন প্রোফাইল খুলেছি সেজন্য ২০১৮ সালে, আমাদের এমপ্লয়িদের সাথে মিলে করা কতগুলো ইভেন্টের বর্ণ্না রইলো একসাথে।

যোগাযোগপুর্ণ পরিবেশঃ

New Year, 2018 Bikroy

Bikroy.com এ আমরা সব সময়ই চাই, এমপ্লয়িদের জন্য কাজের চাপ যেনো বেশি না থাকে এবং সেই সাথে বন্ধু সুলভ, আনন্দ পূর্ণ কাজের পরিবেশ তৈরি করতে। আমাদের নিত্যদিনের কাজের পরিবেশের মধ্যে আমরা সব সময়ই চেষ্টা করি বিভিন্ন ধরণের ইভেন্টের আয়োজন করতে যেনো আমাদের সকল কলিগরা আমাদের সাথে একসাথে ছোট বড় সব আনন্দঘন মুহূর্তগুলোর অংশীদার হতে পারে।

নতুন বছর, ২০১৮

পুরো Bikroy.com, নতুন বছর ২০১৮ কে স্বাগতম জানিয়েছে আনন্দ, ফুর্তি করে, কেক কাটার মধ্য দিয়ে। এছাড়াও অনুষ্ঠানের বিভিন্ন অংশের মধ্যে আরো ছিলো, নানা ধরণের খেলাধুলা এবং অন্যান্য কার্যক্রম। Bikroy পরিবারের সব সদস্যরাই পুরো অনুষ্ঠানটি সেই সাথে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম গুলোও যথেষ্ট উপভোগ করেছে।  

দল গঠন কার্যক্রম, ২০১৮

Team Building Activity, 2018

নতুন বছর ২০১৮ এর শুরু টা করেছিলাম আমরা গাজীপুরের বেজ ক্যাম্পে, আমাদের ম্যানেজার এবং সুপারভাইজারদের সাথে ইফেক্টভ টিম বিল্ডিং ডে আউটের মাধ্যমে। সারাদিনের কঠোর কর্ম ব্যস্ততার পর আমরা আমাদের টিম মিটিংটি করতে সক্ষম হয়েছি একটি সতেজ  পরিবেশে।

 Bikroy পিকনিক

Bikroy Picnic 2018

আমরা বুঝি যে, পুরো মাস ব্যাপি কাজ করার পরে, সবারই একটা দিন দরকার রিল্যাক্স করার জন্য কিংবা কলিগদের সাথে আনন্দের কিছু সময় কাটানোর জন্য। তাই Bikroy.com -এর পিকনিকগুলোতে আমরা আমাদের পুরো টিমকে বাইরে নিয়ে যাই। এতে করে তারাও বুঝেন যে, অন্য কোম্পানি থেকে Bikroy.com কতটা আলাদা।

 এছাড়াও আমরা সকল অনুষ্ঠান একসাথে পালন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। সেই সাথে সবাই যেনো অংশগ্রহণ করতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখা হয়। আমাদের প্রতিটা অনুষ্ঠানই পুরো একটা পরিবারের মতই উদযাপন করা হয়।

বিশ্ব নারী দিবস, ২০১৮

Women’s Day, 2018

বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে, Bikroy.com নারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে, অফিসে একটি থিয়েটার পারফর্মেন্সের আয়োজন করে, যার পরিচালনার দায়িত্ব ছিলো মিসেস তাসাফফি হোসেনের উপর এবং নাটকটি মঞ্চস্থ করেন তার দল “বহ্নিশিখা – আনলার্ন জেন্ডার” । এতে নারীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনে কর্মক্ষেত্রে যেসব প্রতিকূলতার মুখোমুখি হোন এবং কীভাবে সেসব কাটিয়ে অপরাজেয় ভাবে নিজের লক্ষ্যের প্রতি এগিয়ে যান সেটা তুলে ধরা হয়েছে। 

পহেলা বৈশাখ, ২০১৮

Boishakh 2018

এপ্রিল, ২০১৮ তে Bikroy.com পরিবার তাদের পহেলা বৈশাখ ১৪২৫ উদযাপন করেছে অনেক আনন্দ ও খুশির আমেজে।

Bikroy এর ৬ষ্ঠ জন্মদিন পালন

Bikroy Live with Tawsif Mahbub!

Bikroy এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা তৌসিফ মাহবুব এসেছে Bikroy-এ। আর তাকে সাথে নিয়েই প্রথম বারের মত LIVE আসছি আমরা :)Join us with Tawsif Mahbub! #6YearsofBikroy

Bikroy.com 发布于 2018年6月26日周二

Bikroy.com এর ৬ষ্ঠ জন্মদিন উপলক্ষে, বহুল পরিচিত অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব এসেছিলেন আমাদের হেড অফিসে এবং অনেকটা সময় কাটিয়ে গিয়েছেন আমাদের সাথে।

ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ, ২০১৮

Bikroy.com এ আমরা হার কিংবা জয় দুটোই ভাগাভাগি করে নিতে পছন্দ করি। গত বছর, অফিসে আমরা আমাদের টিম মেম্বারদের একসাথে ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ, ২০১৮ এর ম্যাচ গুলো দেখার আয়োজন করেছিলাম, যা কিনা আমাদের অফিস প্রাংগন কে মাতিয়ে রেখেছিলো অনন্দ উদ্দীপনায়। 

দ্বিবার্ষিক টিম ইভেন্ট, ২০১৮

Half Yearly Team Event, 2018

আমরা প্রতি ৬মাস পরপর একটি আনন্দময় টিম ইভেন্টের আয়োজন করে থাকি, যেখানে নিজের, টিমের এবং পুরো প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয় সবার সাথে। আমরা বিশ্বাস করি এই রকম ইভেন্ট এমপ্লয়িদের মোরাল বুস্ট আপ দেয় সেই সাথে একটা ইফেক্টিভ কাজের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করে।  

 বন্ধু দিবস, ২০১৮

Bikroy Friendship Day, 2018

কর্মক্ষেত্রেও বন্ধু পাওয়া যায় এবং এজন্যই আমরা আমাদের কলিগদের সাথে বন্ধু দিবস পালন করে থাকি। আমাদের অন্যতম কাজের কালচার হচ্ছে, আমাদের সকল এমপ্লয়ি নিয়ে একটা বন্ধুসুলভ কর্মক্ষেত্র তৈরি করা এবং এর জন্য বন্ধু দিবস এর মত সেরা দিন আর হয় না।

৪৮তম বিজয় দিবস

48th Victory day BIkroy

বিজয় দিবস আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং তাপর্যপূর্ণ দিন। আমরা কখনোই শুধু ধন্যবাদ দিয়ে আমাদের শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা শেষ করতে পারবো না তাদের অপরিসীম আত্মত্যাগের জন্য। আমাদের মাথার উপর এই স্বাধীন আকাশ এনে দেওয়ার জন্য। তাই Bikroy.com এ আমরা আমাদের ৪৮তম বিজয় দিবস পালন করেছি আনন্দ, খুশিও শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে। এজন্য আমরা আমাদের অফিসে আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ কেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। 

মাসিক জন্মদিন উদযাপন

Monthly Birthday Celebrations bikroy

আমরা আমাদের এমপ্লয়িদের সর্বদা তারা আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝানোর চেষ্টা করে থাকি আর তাই খুব আনন্দ নিয়েই প্রত্যেকের জন্মদিন পালন করা হয়ে থাকে। আমাদের নানা ধরণের কার্যক্রম থাকে পুরো মাসব্যাপী যেনো এমপ্লয়িরা তাদের জন্মদিনের পুরো মাসটি উপভোগ করে এবং কোম্পানি যে তাদের জন্য চিন্তা করে তা বুঝতে পারেন। আমরা আশা করি যেনো আমাদের এমপ্লয়িদের পুরো বছরটা আনন্দ এবং সাফল্য দিয়ে যায়।

নারী ক্ষমতায়ন

Women Empowerment bikroy

নারী প্রতি সমান অধিকার

Bikroy.com এ আমরা আমাদের ফিমেল এমপ্লয়িদের এমন একটা কাজের পরিবেশ দিতে চেষ্টা করি যেনো তারা সব কিছুতে সমান অধিকার, সমান স্যালারি এবং সমানভাবে নিজেদের প্রকাশ করতে পারে, উপভোগ করতে পারে। একদিকে আমরা যেমন আমাদের ফিমেল এমপ্লয়িদের  তাদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করি ঠিক একইভাবে তাদের অধিকার এবং স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখার চেষ্টা করা হয়। আমাদের বিশ্বাস, এভাবে নারী ক্ষমতায়ন অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুলোকেও আগ্রহি করে তুলবে তাদের ফিমেইল এমপ্লয়িদের উপর আরো সতর্ক করে তুলতে এবং সেই সাথে অন্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়বে। এটা নারীদেরকেও তাদের নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে।

Bikroy ‘He for she’ মুভমেন্ট

২০১৫ এর ২রা আগস্ট, Bikroy.com ইউ এন ওমেন এর সাথে মিলে ‘He for she’ মুভমেন্ট এ জয়েন করে সম অধিকার প্রচার করে। ইউ এন ওমেনের সাথে Bikroy.com যেই ব্যাপারে একমত পোষণ করে তা হচ্ছে নারী পুরুষ সমতা যার অনুপাত ৬০:৪০ এবং নারীদের জন্য নিরাপদ কাজের পরিবেশ। ‘He for she’, ইউ এন ওমেনের একটা যৌথ মুভমেন্ট, নারী পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য।

নারী পুরুষ সমতা

Bikroy.com বিশ্বাস করে নারী পুরুষ সমতায় এবং এজন্য আমরা চাই আমাদের ফিমেল এমপ্লয়িরা যেন কোন ধরণের বৈষ্যম্যের মধ্যে দিয়ে না যায় এবং আর্থিক ভাবে সচ্ছল থাকে যা পরবর্তীতে আনন্দদায়ক কাজের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করে। আমরা দৃঢভাবে বিশ্বাস করি যে, আমাদের ফিমেল এমপ্লয়িরা যদি সন্তুষ্ট থাকে তা আমাদের কোম্পানিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। আমরা চাই পুরুষ নারী বৈষ্যম্য কমে আসুক, প্রতিকূল নিয়ম যেসব নারীদের আর্থিক উন্নতিতে সমস্যা তৈরি করবে তা আর না থাকুক। 

সেক্সসুয়াল হ্যারাসমেন্টের কোন সুযোগ নেই

Bikroy.com এ আমরা বিশ্বাস করি নারীদের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ কাজের পরিবেশ। তাই প্রতি তিন মাস পর পর আমরা একটা ইভেন্টের আয়োজন করি ‘মনের জানালা’ নামে, যেখানে ফিমেল মেন্টর-রা অফিসের সকল ফিমেল এমপ্লয়িদের মনে করিয়ে দেন যে যদি কেউ কোন ধরনের হ্যারাসমেন্ট এর স্মমুখীন হয়ে থাকেন তারা যেনো তা শেয়ার করেন। এছাড়াও Bikroy তে আমরা নারী ক্ষমতায়ন প্রচার করে থাকি যেহেতু তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

 ‘মনের জানালা’-র দ্বিতীয় ভাগে, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ২৪জুন, ২০১৮ তে, আমরা আমাদের ফিমেল এমপ্লয়িদের জন্য অফিসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম বহুল পরিচিত সাংবাদিক এবং প্রধান সংবাদ সম্পাদক শাহনাজ মুন্নিকে। তার মতে, “অনেক সময় আমরা পুরোপুরি আমাদের মনের কথা বলতে পারিনা। কিন্তু আমি খুশি যে,  Bikroy.com তাদের ফিমেল এমপ্লয়িদের জন্য এরকম একটা সুযোগ করে দিয়েছে যেনো তারা তাদের মনের কথাগুলো নিরদ্বিধায় বলতে পারে”। সেই সাথে তিনি আরো বলেন,”আমরা কর্মক্ষেত্রে অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হই কিন্তু তারপরেও আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়”।

তৃতীয় ভাগ এ, ‘মনের জানালায়’ আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম আমাদের সবার পরিচিত এলিটা করিম যিনি কিনা একজন নামকরা গায়িকা এবং ডেইলি স্টারের সাংবাদিক। তিনিও তার নানা ধরণের অভিজ্ঞতার কথা,সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন যা থেকে তাকে পার হতে হয়েছে খ্যাতি অর্জনের পূর্বে। তিনি আরো বলেন, “কর্মজীবি মহিলাদের জীবনটা অনেক সংগ্রামের। কিন্তু সুখবর হচ্ছে, এটা কর্মজীবি মহিলারা মেনে নিয়েছেন। একই সাথে  ঘর এবং অফিস সামলানো যথেষ্ট শ্রম সাপেক্ষ। এত কিছু সামলানোর জন্য শ্বাস নিতে এবং মনোবল অটুট রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের দরকার একটি খোলা জানালা। এবং Bikroy.com কে এজন্য আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই,এরকম একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার জন্য”।

‘মনের জনালায়’ আমরা আরো আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম সফল কর্পোরেট ব্যাক্তিত্ব, উদ্যক্তা, কন্সালটেন্ট, এডভাইসর এবং ক্যারিস্ম্যাটিক লিডার রুবাবা দৌলাকে। তিনি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন তার নিজের যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে সেই সব-এ ক্যারিয়ার করার জন্য। আমাদের সেইলস এ যেসব ফিমেল এমপ্লয়িরা আছেন, তাদের তিনি আগ্রহি করে তোলেন সেই সাথে তাদের ক্যারিয়ার গড়তে সহায়ক হবে এমন অনেক টিপস ও দিয়েছেন। তিনি আরোও বলেন যে, “একজন নারীকে তার কর্মক্ষেত্রে, নিজের জীবনে এবং পরিবারে সর্বদাই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় এবং অনেক সময় তারা হাপিয়ে উঠেন।  অনেকের এই ক্ষোভ, কষ্টগুলো শেয়ার করার সুযোগ থাকেনা। Bikroy.com কে এজন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই, এরকম একটা সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য যেখানে সবাই সবার কথাগুলো নির্দ্বিধায় বলার সুযোগ পায়”।

আমরা বিশ্বাস করি, এই ধরনের সুযোগ, অনুকূল কাজের পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। 

"মনের জানালা" by Bikroy

স্বনামধন্য কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব এবং উদ্যোক্তা রুবাবা দৌলা এলেন Bikroy এর "মনের জানালা" অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হয়ে। সফল ক্যারিয়ার ও উদ্যোক্তা জীবনের চ্যালেঞ্জ ও টিপস গুলো জানতে সাথেই থাকুন 🙂

Bikroy.com 发布于 2018年11月15日周四

Bikroy সুস্থ নারী

Bikroy.com তার ফিমেল এমপ্লয়িদের একটি নিরাপদ কর্মক্ষেত্র দেওয়ার প্রতি বদ্ধপরিকর, যেনো তারা একটি সুস্থ এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন নির্বাহ করতে পারে ঘর এবং অফিস দুই জায়গাতেই। আমরা বিশ্বাস করি যে, এখনকার দ্রুত পরিবর্তনশীল দুনিয়ার সাথে ফিমেল এমপ্লয়িদের সর্বাধিক উন্নতির জন্য সেই সাথে কোম্পানির উন্নতির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অক্টোবর ২৫, ২০১৮ তে আমরা আয়োজন করেছিলাম একটি “ফিমেল হাইজিন এওয়ারনেস” সেশনের যেখানে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম ডাঃ রায়াতুন তেহরিন, যিনি পেশায় একজন প্রোফেশনাল হেলথ এডভাইসর এবং জিসকা ফার্মাসিউটিকালস এর পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট। পুরো সেশনে তিনি নারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর বিষয় নিয়ে কথা বলেন এবং সেশনটি আমাদের ফিমেল এমপ্লয়িদের মধ্যে অনেক সারা জাগিয়েছে।

আমরা আমাদের এমপ্লয়িদের যতটুকু সম্ভব সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করি যেনো তারা তাদের সেরাটি দিতে পারেন। আমরা আরো বিশ্বাস করি যে, সুস্থতার মাধ্যমে আমরা তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারি।    

Bikroy.com সাপোর্ট দেয় প্রত্যাশী মা’দের

Bikroy support for expectant mothers

কাজ এবং পারিবারিক জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য নারীদের জন্য। তার সাথে যদি মাতৃত্বও যোগ হয় তাহলে ব্যাপারটি আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। নতুন যারা মা হয়েছেন বা মা হতে যাবেন তাদের জন্য বাসা, নিজের ক্যারিয়ার সব কিছু সামলিয়ে উঠাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায় । Bikroy তে আমরা এজন্য আমাদের এমপ্লয়িদের গাইডলাইন দেই কীভাবে তারা তাদের অফিস,বাসা এবং মাতৃত্বের মধ্যে ব্যালেন্স করে চলতে পারেন। আমাদের সকল ফিমেল এমপ্লয়িদের ১৬ সপ্তাহের ম্যাটার্নিটি লিভ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে, Bikroy.com এর ৫ জন ফিমেল এমপ্লয়ি এই সুবিধা গ্রহণ করেছেন। আমাদের এই উন্নত ম্যাটার্নিটি স্ট্যান্ডার্ড নতুন মা’দের স্বাস্থ্যের প্রতি যেনো উপযোগী হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা হয়। 

একসাথে আমরা শিখি, গড়ি এবং শেয়ার করি

Bikroy তে আমরা চেষ্টা করি আমাদের এমপ্লয়িদের উন্নত করতে, আনন্দদায়ক ভাবে শিক্ষনীয় সেশনের মাধ্যম্‌ যার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চাই যে লিডার রা ইফেক্টিভ ভাবে নতুন বিষয়গুলোকে আয়ত্ত্বে আনতে পারবে এবং এমপ্লয়িরা নিজেদের যোগ্যতার পরিধি বাড়াতে পারবে। আমরা আমাদের এমপ্লয়িদের সুযোগ তৈরি করে দেই যেনো তারা একটা উন্নত ওয়ার্ক ফোর্স তৈরি করতে পারে যা আমাদের সেরা ফলাফল এনে দিবে।  

আমরা বিশ্বাস করি এমপ্লয়িদের যত বেশি সুযোগ দেওয়া হবে ডেভেলপমেন্টের জন্য, তারা তত বেশি সফল এবং নিজেদের গড়তে পারবে। 

আমরা সেই সাথে লক্ষ্য অর্জন এবং সার্বিক কর্মক্ষমতা বাড়ানোতে বিশ্বাসী। আমরা সৎ এবং ট্রান্সপারেন্সির কালচার মেইন্টেইন করি নিয়মিত ফিডব্যাক দিয়ে। এটা আমাদের অবিরাম উন্নতিতে সহায়তা করে এবং কোচিং, স্বীকৃতি দিয়ে সাপোর্ট করে যাওয়া।

আমরা আমাদের এমপ্লয়িদের প্রফেশনাল ট্রেনিং দিয়ে থাকি এক্সটার্নাল এবং ইন্টারনাল ট্রেইনারের মাধ্যমে। ম্যানেজারদের কাছে লার্নিং এন্ড ডেভেলপমেন্টের জন্য বহুল ব্যবহৃত মডেলটি হচ্ছে ৭০-২০-১০। ৭০% শিখার সুযোগ হয় পুর্ব অভিজ্ঞতা থেকে, উদাহারণস্বরুপ, ওয়ার্ক স্যাডোয়িং। ২০% শিক্ষা হয় আশেপাশের মানুষদের মাধ্যমে এবং  ১০% আসে শিক্ষা থেকে।

সেইলস ট্রেনিং

Sales Training Bikroy

২০১৮ তে, Bikroy.com খুবই আনন্দের সাথে কাজী জামান কে পেয়েছে আমাদের সেইলস ট্রেনিং এর জন্য, যিনি হচ্ছেন হেমাস হোল্ডিং পিএলসি এর কান্ট্রি হেড। পুরো সেশন ধরে, তিনি আমাদের  সেলস টিমকে, কিভাবে কাস্টমারদের সাথে আরো ভালো মত ব্যবহার করতে হবে যেনো সেল বাড়ে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

জামান সাহেব ১৭ বছর ধরে, বাংলাদেশ এবং বিদেশে সেলস এবং ট্রেড মার্কেটিং এর বিভিন্ন কাজে অভিজ্ঞ । উনি সেলস এর সেক্টরে সবার জন্য একজন রোল মডেল এবং অনুপ্রানিত ব্যাক্তিত্ব।  

অভ্যন্তরীন ট্রেনিং প্রোগ্রাম

Internal Training programs bikroy

২৭শে অক্টোবর এবং ২১শে ডিসেম্বর Bikroy.com এ আমরা আমাদের সকল এমপ্লয়ি যাদের মধ্যে ছিলেন, হেড অফিসের এমপ্লয়ি, ফিল্ড সেলস এবং আফটার সেলস টিমের সদস্যরা তাদের জন্য দিনভর গুগল সীট ট্রেনিং এর আয়োজন করেছিলাম। সর্ব মোট ৫৯ জন এমপ্লয়ি অংশগ্রহণ করেছিলেন এই ট্রেনিং প্রোগ্রামে এবং তাদের সকলের সন্তুষ্টির পরিমান ছিলো ৯১%।

ওরিয়েনটেশন

Orientation Bikroy

আমাদের ২ দিন ব্যাপী ওরিয়েনটেশন প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিলো আমাদের এমপ্লয়িদের আমাদের কোম্পানির যাত্রা শুরুর গল্প, কোম্পানির স্ট্রাকচার, এমপ্লয়িদের পারফরমেন্স এবং নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ, প্রোমোশনের সুযোগ, কোম্পানির সাথে এমপ্লয়িদের একাত্মতা এবং নতুন যারা জয়েন করেছে তাদের কাজ এবং কাজের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ে তাদের ধারণা দেওয়া।

তরুনদের প্রতি বিনিয়োগ

Bikroy.com এ আমরা সব সময়ই চেষ্টা করি যেনো সেরা ট্যালেন্ট কেই বাছাই করতে পারি যা আমাদের পুরো কোম্পানিকে সার্বিকভাবে উন্নতি করতে সহায়তা করবে এবং এজন্য দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে আমাদের  যোগাযোগ আছে।

২০১৮ এর কিছু গুরুত্বপূর্ন ইভেন্ট ছিলো- 

আই ইউ বি জব ফেয়ার, ২০১৮

IUB Job Fair, 2018 Bikroy

Bikroy.com আই ইউ বি আয়োজিত জব ফেয়ার, ২০১৮ তে অংশগ্রহণ করেছিলো, যেখানে আমাদের সাথে কাজ করতে আগ্রহী স্টুডেন্টদের আমরা Bikroy.com এর বিভিন্ন পদের নিয়োগের ব্যাপারে ধারণা দেই। স্টুডেন্টদের এই আগ্রহী অংশগ্রহন আমাদের জন্যো আনন্দদায়ক ছিলো।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ফেস্ট, ২০১৮

Dhaka University Career Fest 2018 Bikroy

Bikroy.com, অক্টোবর ২০১৮ এর মাঝামাঝি ঢাকা ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০১৮- তে অংশগ্রহণ করেছিলো। যেখানে নতুন গ্রাজুয়েটসদের পাশাপাশি শীঘ্রই গ্রাজুয়েট হবে এধরণের স্টুডেন্টদের সাথে ক্যারিয়ার টিপস, কাজের সুযোগ এসব ব্যাপারে কথা বার্তা বলা হয়েছিলো।

গেইম চেঞ্জার’ প্রোগ্রাম

“The Game Changer” program Bikroy

Bikroy.com আয়োজিত প্রথম বারের মত ইন্টার-ইউনিভার্সিটি প্রতিযোগিতা, ‘গেইম চেঞ্জার’ প্রোগ্রাম ব্যানারের আওতায়, যা আন্ডার গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টদের জন্য যারা বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন নিয়ে পড়াশুনা করছেন জাহাংগিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে,তাদের মধ্যে অনেক সাড়া জাগিয়েছিলো। আগ্রহী অনেক ৩ সদস্যের দলের মধ্যে থেকে ‘দ্যা  গেইম চেঞ্জার’ কেস সল্ভিং প্রতিযোগিতা” পুরো এক মাস ধরে চলেছে যেখানে অংশগ্রহণকারী দল্গুলো তাদের কেস স্টাডিগুলো Bikroy.com এর ম্যানেজমেন্টের সদস্যদের সামনে তুলে ধরেছে।

এই ‘ইনভাইটিং ক্রিয়েটিভ মাইন্ডস টু সোকেইস ইউর ইনোভেটিভ আইডিয়াস’ ট্যাগ লাইনের এই পুরো মাসব্যাপী প্রতিযোগিতাটি শুরু করা হয় আইবিএ এবং এফবিএস এর স্টুডেন্ট দিয়ে। সর্বমোট ৭টি দল প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে এবং এর মধ্য থেকে ৪টি দল ফাইনালে গিয়েছিলো। অংশগ্রহণকারীরা ই-কমার্স সম্পর্কে হাতে কলমে শিখার সুযোগ পেয়েছে এই প্রতিযোগীতার মাধ্যমে। প্রথম স্থান অধিকারী দলটি পুরস্কার স্বরুপ ৩০,০০০/-টাকা পেয়েছে এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকারী দলটি ২০,০০০/-টাকা পেয়েছে।

প্রথম পুরস্কার প্রাপ্ত দলটি যারা তাদের দলের নাম দিয়েছিলো G.O.A.T তাদের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন শেখ আব্দুল্লাহ বিন আলম এবং জারীন নৌরিন, যারা জাহাংগীরনগর ইউনিভার্সিটিতে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত দলটি যারা তাদের দলের নাম দিয়েছিলো Tarzan তাদের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মাস্রুক অনিম, সাদ শাহ আলি এবং আসফাক জামান যারা অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, যারা রানারস আপ হয়েছিলো প্রতিযোগিতায়। ডঃ শেখ মোহাম্মাদ রাফিউল হক, এসোসিয়েট প্রোফেসর (আইবিএ-জেইউ); চৌধুরি গোলাম কিবরিয়া, এসোসিয়েট প্রোফেসর (আইবিএ-জেইউ); ঈশিতা শারমিন, ডিরেক্টর অফ মার্কেটিং এন্ড এড সেলস (Bikroy); ঈশা আবরার আহমেদ, হেড অফ বেহিক্যালস এন্ড প্রোপার্টি ; রেহেনুমা ইসলাম, হেড অফ এইচ আর এবং ইয়াসিন আরাফাত, হেড অফ জবস Bikroy উপস্থিত ছিলেন গ্রান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠানে।

এন ইউ বি জব ফেয়ার,২০১৮

NUB Job Fair, 2018 Bikroy

ভবিষ্যত গ্রাডুয়েটসদের সর্বাংগিন উন্নতিতে আমাদের অবিরত পরিশ্রমের জন্য আমরা এন ইউ বি তে একটা সিভি লিখার সেশন পরিচালনা করি এবং পরবর্তিতে অন-ক্যাম্পাস রিক্রুট্মেন্ট এর ও আয়োজন করা হয় নর্দান ইউইভার্সিটি অব বাংলাদেশে। 

একটা জেতার কালচার তৈরি করা

Bikroy তে আমরা আমাদের এমপ্লয়িদের তাদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য পুরষ্কৃত করে থাকি। আমাদের এখানে মাসিক এবং অর্ধ বার্ষিক এমপ্লয়ি রিওয়ার্ড যেমন- ‘এমপ্লয়ি/টিম অফ দ্যা মান্থ’, ‘অর্ধ বার্ষিক এওয়ার্ডস’ এবং বার্ষিক এওয়ার্ডস এই তিন ধরণের পুরস্কার আছে।  রিকগনিশন ব্যাপারটা এমপ্ল্যিদের কাজের প্রতি আগ্রহি এবং রিটেইনের পক্ষে অনেক গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সাথে সবাইকে আরো ভালো পারফরমেন্স দেওয়ার প্রতি আকৃষ্ট এবং আগ্রহী করে তোলে।

এমপ্লয়ি/টিম অফ দ্যা মান্থ

Bikroy তে আমাদের জন্য প্রধান রিকগনিশন প্রোগ্রাম হচ্ছে এমপ্লয়ি/টিম অফ দ্যা মান্থ এওয়ার্ড। আমরা আমাদের এমপ্লয়িদের এবং ওয়ার্ক টিমগুলোকে তাদের মাসিক যেই টার্গেট দেওয়া হয় তা পূরণে এই এওয়ার্ড দিয়ে থাকি। সেরা এমপ্লয়ি এবং দল্গুলো তাদের কাজের জন্য স্বীকৃত হয়।

অর্ধ বার্ষিক এওয়ার্ডস

H2 Event Bikroy

H2 Event 1 Bikroy

h2 Event Bikroy.com

অর্ধ বার্ষিক এওয়ার্ডস গুলো সেই সব এমপ্লয়ি/টিম কে দেওয়া হয় যারা তাদের অর্ধ বার্ষিক টার্গেট পূরণ করতে পেরেছে।

ভ্যালু এওয়ার্ডস

প্রতি বছর, সল্ট সাইড টেকনোলজিস লিঃ একটি স্পেশাল ‘ভ্যালু এওয়ার্ড’ দিয়ে থাকে সল্ট সাইডের সকল অফিসের জন্য। এই এওয়ার্ডটা দেওয়া হয় সল্ট সাইড টেকনোলজিস এর যেকোন অফিসের (Bikroy, সল্ট সাইড টেকনোলজিস লিঃ এর সাবসিডিয়ারি) এবং ডিপার্ট্মেন্টের এমপ্লয়িদের যারা সল্ট সাইডের ৫টি ভ্যালুর অন্তত একটিকে উপস্থাপন করে থাকে । Bikroy তে আমরা বিশ্বাস করি যে, এমপ্লয়িরা যারা কোম্পানির কালচার এবং মূল্যবোধ এর উন্নতিতে অবদান রাখে ।২০১৮ সালের বিজয়ীরা ছিলেন-   

আমাদের সাফল্য

Our Achievements Bikroy

২০১৮ সালে আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিলো Bikroy.com বাংলাদেশের সেরা এমপ্লয়ার ব্রান্ড এওয়ার্ড এর বিজয়ী হয়েছে । এটি দেওয়া হয়েছে ’১৩ তম এমপ্লয়ার ব্রান্ডিং এওয়ার্ড ইন্টারনেট ক্যাটাগরিতে এবং ব্রান্ড লিডারশিপ এওয়ার্ড সি এম ও এশিয়া আয়োজিত বাংলাদেশ মাস্টার এওয়ার্ড ২০১৮ Bikroy er আউটস্ট্যান্ডিং ব্রান্ডিং, লিডারশিপ এবং ক্রিটিকাল কন্ট্রিবিউশনের জন্য ইন্টার্নেট সেক্টরে।  

বাংলাদেশের সেরা এমপ্লয়ার ব্রান্ড এওয়ার্ডস, বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে কোম্পানিদের স্বীকৃতি দেয় এবং এটি অনেক সম্মানজনক এমপ্লয়ার ব্রান্ডিং এওয়ার্ড বাংলাদেশে।

রেহেনুমা ইসলাম, হেড অফ এইচ আর এবং কালচার সাথে মোহাম্মাদ ফারহান আহমেদ,হেড অফ ফাইন্যান্স এবং এডমিনিস্ট্রেশন উপস্থিত ছিলেন এওয়ার্ড প্রদানের অনুষ্ঠানে এবং Bikroy.com এর সবার পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।


বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেট, ২০১৯ | ইনফোগ্রাফিক

বাসা থেকে বের হয়ে কখনও কি হুট করে এমন মনে হয়েছে যে আপনি ভুলে কিছু একটা রেখে এসেছেন? আপনার ব্যাগ আর পকেট তন্ন তন্ন করে খুঁজে হয়রান হয়েছেন, কিন্তু কোথাও সেটা খুঁজে পান নি। আর ঠিক তখনই আপনার কাছে মনে হয়েছে যে ঐ একটি জিনিস ছাড়া আপনার জীবন বলতে গেলে অচল। সত্যিই তো, আমাদের মহামূল্যবান মোবাইল ফোনগুলো যদি না থাকতো, তাহলে হয়ত বাস্তবতা থেকে আমরা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতাম। বৈশ্বিক যোগাযোগের অতুলনীয় ক্ষমতা বলতে গেলে এখন আমাদের সবারই আঙুলের ডগায় চলে এসেছে, আর মূলত সেই ক্ষমতার প্রতিদানেই আমরা এই ছোট্ট ডিভাইসগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে গেছি। আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা রকম দিক এই স্মার্টফোন প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল – ব্যবসা ও বাণিজ্য, শিক্ষা, খাদ্য, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন সহ আরো কত কি। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টান্তের এই নতুন মোড় নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল ফোনের মার্কেটে আসা পরিবর্তনগুলো নিয়ে তাই জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। একই সাথে গ্রাহকরাও আবার প্রতি বছর তাদের ফোনগুলোতে ভিন্ন ও নতুন কিছু পেতে চান। আজ আমরা Bikroy -এর ২০১৯ সালের ইউজার ডাটার ভিত্তিতে বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেটে তৈরি হওয়া ট্রেন্ডগুলো বিশ্লেষণ করে দেখবো এবং সেগুলোর কিছু দিক নিয়ে পর্যালোচনা করবো।

trends in the mobile market in Bangladesh

ব্যবহারকারীরা ঠিক কি খুঁজছেন?

আমাদের সার্চ ডাটাগুলো এক ঝলক দেখলেই বোঝা যায় যে বর্তমানে গ্রাহকদের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হলো শাওমি। ইদানিং শাওমি বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের মার্কেটে বেশ জনপ্রিয় একটি নাম হয়ে উঠেছে। কারণ তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে বেশ ভালো স্পেসিফিকেশনের ফোন আমাদের উপহার দিয়েছে, বিশেষ করে তাদের রেডমি সিরিজটি। স্বাভাবিকভাবে অল্প বাজেটে একজন ব্যক্তি এই ফোন কিনে প্রায় ৪-৫ বছর পর্যন্ত দারুণ সার্ভিস পেতে পারেন। এই চাইনিজ স্মার্টফোনগুলোতে আপনারা পাচ্ছেন বিভিন্ন রকম মডেল, আকর্ষণীয় ক্যামেরার অপশন, স্টাইলিশ ও নজরকাড়া রঙের বডি, আর সেই সাথে মোটামুটি ভালো ধাঁচের গেমিং সফটওয়্যার। আর এভাবেই তারা মার্কেটের একটা বড় অংশ জুড়ে অবস্থান নিয়ে ফেলেছে।

শাওমির পর অনলাইনে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা ফোনগুলো হলো স্যামসাং এবং আইফোন। যদিও এই ব্র্যান্ডগুলো মূলত বিলাসবহুল ও দামী ফোনের জন্য বিখ্যাত, তবুও স্যামসাং কোম্পানি তাদের বেশ কিছু সাশ্রয়ী দামের ফোনে কিছুটা ভালো স্পেসিফিকেশন দিয়ে থাকে। আর যদি অ্যাপলের কথা বলতে যাই, তাহলে বেশ কিছু আস্থাবান গ্রাহক প্রায় যেকোনো সময় তাদের আইফোনের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে রাজি। বাংলাদেশে আইফোনের ব্যাপক জনপ্রিয়তার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো এদের দুর্দান্ত ক্যামেরা স্পেসিফিকেশন এবং সামগ্রিকভাবে এর প্রিমিয়াম অনুভব।

এরপরেই আসে নোকিয়া, হুয়াওয়ে, ভিভো এবং অপ্পোর নাম। এই ফোনগুলোও মানুষের সার্চের তালিকায় বেশ জোরালো অবস্থানে রয়েছে, কিন্তু তারপরও উপরে উল্লেখিত ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় এদের সার্চ ডাটা অনেকটাই কম। যদিও বেশ লম্বা সময় পর ফিরে আসা চিরাচরিত নোকিয়া নতুন রূপে ও আঙ্গিকে স্মার্টফোনের দুনিয়ায় পা রেখেছে। তবুও এই কোম্পানিটি এখনও ততটা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিতে পারেনি, যতটা তারা ফিচার ফোনের মার্কেটে তাদের স্বর্ণযুগের সময় পেরেছিলো।

বেশির ভাগ ফোন কোথায় বিক্রি হচ্ছে?

এই পর্যায়ে আমরা মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপন পোস্ট হয় যেসব এলাকা থেকে, সেই এলাকাগুলোর ভৌগলিক অবস্থান দেখবো। এই ডাটা অনুযায়ী অনলাইনে পোস্ট হওয়া বিজ্ঞাপনের অর্ধেকেরও বেশি করা হয় ঢাকা থেকে। আমাদের রাজধানী এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা ও শিক্ষার এক প্রাণকেন্দ্র হওয়ার দরুণ দেশের যেকোনো এলাকার তুলনায় ঢাকাতেই যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মোবাইল ফোন বেচা-কেনা হবে, এমনটাই আসলে স্বাভাবিক। মোবাইল ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে এর পরই সবচেয়ে দাপুটে শহরের নাম হচ্ছে চট্টগ্রাম। Bikroy -এ পোস্ট হওয়া বিজ্ঞাপনের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ এই শহরের দখলে।

Bikroy -এ মোবাইল ফোনের টপ ব্র্যান্ড

আমাদের সাইটে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর তালিকায় এখন রাজত্ব করছে স্যামসাং, তার পর পরই রয়েছে সিম্ফনি, শাওমি, অ্যাপল এবং নোকিয়া। মোবাইল ফোনের মার্কেটে স্যামসাং বেশ লম্বা একটা ধরে তার ঘাঁটি ধরে রেখেছে এবং তাদের বিশ্বস্ত কাস্টমার বেইজদের সন্তুষ্ট রাখার জন্য ধারাবাহিকভাবে উচ্চমান ও কোয়ালিটি সম্পন্ন ফোন উপহার দিয়ে আসছে। কিন্তু বলাই বাহুল্য, মোবাইল ফোনের মার্কেট যথেষ্ট প্রগতিশীল। কেননা শাওমি ও সিম্ফনির মত ব্র্যান্ডগুলো গ্রাহকদের স্যামসাং ফোনের সাশ্রয়ী বিকল্প তৈরি করে দিচ্ছে। অন্যদিকে অ্যাপল আর নোকিয়ার গ্রাহক সংখ্যা কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকার কারণে তারা কিছুটা পিছিয়ে পরেছে। তবে এই বছরে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলো ঘোষণা হওয়ার পর আশা করা যাচ্ছে যে মার্কেটে তাদের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

OS platfrom data in the mobile market in Bangladesh

অ্যান্ড্রয়েড বনাম আইওএস বনাম ফিচার

বর্তমানে বাজারের বেশির ভাগ ফোন হয় অ্যান্ড্রয়েড কিংবা আইওএস প্ল্যাটফর্ম দিয়ে চলে। বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের মার্কেটে অ্যান্ড্রয়েড প্রায় ৭০% জায়গা দখল করে রাজত্ব করছে, কেননা এটি গ্রাহকদের সীমাহীন কাস্টমাইজেশন করার সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি এর প্রায় সবগুলো মোবাইল ফোন নির্মাতারাই এই প্ল্যাটফর্মের ফোন বানিয়ে থাকেন। আর এভাবেই বিশ্বব্যাপী মোবাইল ফোনের ইন্ডাস্ট্রিতে এটি একটি প্রভাবশালী অবস্থানে আছে।

আমাদের সময়ে অ্যান্ড্রয়েড বনাম আইওএস ফরম্যাটের লড়াই অনেকটাই নব্বই এর দশকের শুরুর দিকের উইন্ডোজ বনাম ম্যাক ফরম্যাটের রেষারেষির কথা মনে করিয়ে দেয়। অ্যাপল মূলত তাদের ‘ক্লোজড সিস্টেমের’ জন্য সুপরিচিত, যেখানে তারা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয় করার মাধ্যমে এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে থাকেন, যা তাদের বিশ্বস্ত গ্রাহকদের ভালোবাসার দাবিদার। কিন্তু এটি বেশ জটিল ও অনমনীয় একটি কম্বিনেশন, আর তাই অনেক টেক অনুরাগীরা এই কঠোর স্বভাবের ডিভাইসটি ব্যবহার করতে চান না। যাই হোক, এদেশে মোবাইল প্ল্যাটফর্মের এক আকর্ষণীয় ১০% শেয়ার শুধুমাত্র একটি ব্র্যান্ডের নামে নিয়ে এসেছে আইওএস, যা অ্যাপলের জন্য নিঃসন্দেহে সুখবর।

আবার অনেকেই হয়ত ভেবেছেন যে ফিচার ফোন প্ল্যাটফর্মগুলো  ইতোমধ্যে ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু আমাদের সার্চ ডাটা দেখে মনে হচ্ছে যে এরা আরো বেশ কিছুদিন বাজারে থাকবে, কেননা স্মার্টফোনের বিপরীতে এরা এক দারুণ কম দামী বিকল্প।

মূল্য সীমা

আমাদের ডাটা অনযায়ী, Bikroy -এ থাকা বেশির ভাগ ফোনের দামই ৫ হাজার টাকার মধ্যে। ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যেও বিপুল সংখ্যক ফোনের বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়। Bikroy -এ পোস্ট হওয়া বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে সিংহভাগই সাশ্রয়ী দামের হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে যে বেশির ভাগ ব্যবহৃত ফোনের রি-সেল ভ্যালু অনেক কম হয়, আর আমাদের সাইটে ব্যবহৃত ফোনের বিজ্ঞাপনই সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে ব্র্যান্ডগুলো বাজেট ফোন বাজারে নিয়ে আসছে, এটাও একটা প্রধান কারণ।

তাছাড়া আজকাল মোবাইল ফোনের সবচেয়ে বেসিক ফিচারগুলো প্রায় সব ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই একই রকম হয়। গ্রাহকরা সেজন্য ফোন পছন্দ করার সময় এর ডিজাইন এবং পছন্দের ব্র্যান্ডের মূল্যমান সাপেক্ষে সর্বোচ্চ পর্যায়ের স্পেসিফিকেশন পাওয়া যায় এমন ফোন বেছে নেন। আর এভাবেই মোবাইল ফোনের ইন্ডাস্ট্রিতে লক্ষণীয় মাত্রায় দামের বৈচিত্র তৈরি হয়েছে।

নতুন মোবাইল বনাম ব্যবহৃত মোবাইল

সাম্প্রতিক ডাটা অনুযায়ী, Birkoy -এ প্রতি মাসে প্রায় ১,৫০,০০০ মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হচ্ছে। কিছুটা উনিশ বিশ হওয়া সত্ত্বেও ২০১৯ সালের প্রথম ৬ মাসের মধ্যে বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের সংখ্যা সামগ্রিকভাবে বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের ধরণ এবং পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ার কারণেই মূলত এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, Bikroy -এর বিজ্ঞাপন ভান্ডারে ব্যবহৃত ফোনের বিজ্ঞাপনই সবচেয়ে বেশি দাপট নিয়ে থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের একদম নতুন ফোনের বিজ্ঞাপনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং তাও প্রায় ২০% দ্রুত গতিতে।

শেষকথা

সর্বোপরি, বাংলাদেশে ২০১৯ সালের মোবাইল ফোনের মার্কেটের পরিস্থিতির এক ঝলক আজ আমরা দেখলাম। সব সময়ের মতই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে এই মার্কেটটিও অবিরাম বিবর্তিত হচ্ছে। এক বছর যেতে না যেতেই গ্রাহকরা ভালো থেকে আরো ভালো অফার পাচ্ছেন। আর মার্কেটে বড় ব্র্যান্ডগুলোকে পাশ কাটিয়ে সাশ্রয়ী ও সহনীয় দামের ফোনগুলো দিন দিন আরো প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। তুলনামূলক দামী ও উচ্চ মানের ব্র‍্যান্ডগুলোর মধ্যে অনেকেই তাদের নিজ নিজ ধরণ অনুযায়ী গ্রাহক বেইজের কাছে পণ্য বিক্রি করতে চাইবেন, আবার কিছু ব্র্যান্ড হয়ত চেষ্টা করবে বাজেট ফোন তৈরি করার মাধ্যমে সহনীয় দামের শ্রেণীতে পা রাখতে। ক্ষেত্র যেমনই হোক না কেন, মোবাইল ফোনের মার্কেট এখন আরো দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে, আর এখন অনলাইনে একটি মোবাইল ফোন কেনা আগের চেয়েও অনেক সহজ হয়ে গেছে। কেননা Bikroy -এর মত প্ল্যাটফর্ম গুলো রয়েছে আপনাদের পাশে। তাই আপনি যদি একটি মোবাইল ফোন কেনার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোনে আকর্ষণীয় সব ডিলস পেতে আজই ভিজিট করুন Bikroy.com-এ!

সম্পূর্ণ ইনফোগ্রাফিকটি দেখুনঃ


২০১৯ এর বহুল প্রতীক্ষিত স্মার্ট গ্যাজেট

২০১৯ এর স্মার্ট গ্যাজেট

আপনি কি টেকপ্রেমী? যদি তাই হন, তবে অবশ্যই আপনি জানেন একটি টেক পণ্য ক্রয়ের আগে কিভাবে জানাশোনার কিংবা রিসার্চের কাজটা সেরে নিতে হয়। আর যদি বাজারের সেরা টেক পণ্যটির দিকেই আপনার নজর থাকে, তবে অবশ্যই আপনার পকেট থেকে বিরাট অংক বের করার জন্য প্রস্তুত থাকুন। তবে কথায় আছে, শখের তোলার দাম নাকি লাখ টাকা!

আজকের দিনের জনপ্রিয় গ্যাজেটগুলো এই দশকের উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফসল। সময়টা এমন চলছে যেখানে কোন টেক পণ্য অথবা গ্যাজেটের আগের ভার্সনটির সাথে ব্যবহারকারীরা খাপ খাইয়ে নেয়ার আগেই বাজারে এসে পড়ে নতুন একটি ভার্সন। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, ক্রয়ের জন্য কোনটি সেরা সেটা কীভাবে বিবেচনা করবেন? আজকের আর্টিকেলটিতে আলোচনা করা হবে ২০১৯ এর বহুল প্রতীক্ষিত টেক গ্যাজেটগুলোর মধ্য থেকে বিভিন্ন মডেলের স্পেসিফিকেশন, পছন্দ ও অপছন্দের দিকগুলো নিয়ে। সেরা টিভি থেকে শুরু করে সেরা ফোন, সেরা ক্যামেরা থেকে সেরা হেডফোন, কোনটি হবে আপনার কষ্টার্জিত টাকায় কেনা সেরা পণ্য তা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

 

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯+

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯+

বৃহদায়তনের স্ক্রিন সাইজ ও দারুণ রেজ্যুলেশনের ক্যামেরার দিয়ে এ বছরের সেরা ফোনটি গ্রাহকদের কাছে নিয়ে এসেছে স্যামসাং।

টেক জায়ান্ট স্যামসাং তাদের গ্যালাক্সির এস৯ সিরিজের ফোনের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে অন্যান্য ব্র্যান্ডদের চেয়ে আলাদা একটা স্থান করে নিয়েছে। এর ড্যুয়েল ১২ এমপি ক্যামেরাটি আলাদাভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। ফোনটির বিস্তৃত ক্যামেরা অ্যাপারেচার, ছবির মান, এমনকি অল্প আলোতে ক্যামেরার ছবি তোলার ক্ষমতা একে বাজারের অন্য ফোন থেকে এগিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। ইনফিনিট ডিসপ্লে, বড় ও আকর্ষণীয় স্ক্রিন একে খুব দ্রুতই ভোক্তাপ্রিয় করছে।

চলুন দেখে আসা যাক স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯ প্লাস এর স্পেসিফিকেশনগুলো কী কীঃ

ফোনটির স্পেসিফিকেশন
            ওজনঃ ১৮৯ গ্রাম

          ডাইমেনশনঃ ১৫৮.১ x ৭৩.৮ x ৮.৫ মিমি

          ওএসঃ অ্যানড্রয়েড ৮

          স্ক্রিন সাইজঃ ৬.২ ইঞ্চি

          রেজ্যুলেশনঃ ১৪৪০ x ২৯৬০

          সিপিইউঃ স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫/ এক্সিনোস ৯৮১০

          র‍্যামঃ ৬জিবি

          স্টোরেজঃ ৬৪ জিবি/১২৮জিবি

          ব্যাটারিঃ ৩,৫০০ এমএএইচ

          রেয়ার ক্যামেরাঃ ডুয়েল ১২ এমপি

          ফ্রন্ট ক্যামেরাঃ ৮ এমপি

 

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         অল্প ও কম আলোতে ক্যামেরাটির লো লাইট পারফর্মেন্স
  •         প্রিমিয়াম ম্যাটেরিয়াল ও ডিজাইন

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         এআর ইমোজি মুডটি ফোনটির অন্যতম ওভাররেটেড ফিচার
  •         স্পেসিফিকেশনের দিক দিয়ে অনেকটা এস৮ প্লাস সিরিজের কাছাকাছি।

উল্লেখিত নানান কারণে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯ প্লাস ফোনটিকে ২০১৯ এর সেরা ফোন ঘোষণা করা যেতেই পারে। লো লাইট ক্যামেরায় দারুণ সব ছবি তোলার অভিজ্ঞতা সহ আরো নানান নতুন ফিচারস ফোনটিকে নিঃসন্দেহে বর্তমান বাজারের অন্যতম সেরা ফোন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

তবে সর্বশেষ বাজারে আসা সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত স্যামসাং এস১০ মডেলটিও অল্প সময়ে তার ফিচারের ঝলকে গ্রাহকদেরকে আকৃষ্ট করছে।

২০১৯ এর সেরা ল্যাপটপ

হুয়াওয়ে মেটবুক এক্স প্রো

হুয়াওয়ে মেটবুক এক্স প্রো

আমাদের রেটিং এ ২০১৯ এর সেরা ল্যাপটপ এটিই।

হুয়াওয়ে মেটবুক এক্স প্রো-তে রয়েছে আকর্ষণীয় ডিজাইন ও মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে স্ক্রিন। এই ল্যাপটপটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে বাজারের সর্বশেষ আধুনিক সব যন্ত্রাংশ ও উপাদান। দীর্ঘতম ব্যাটারি স্থিতি, ও সাশ্রয়ী মূল্যের কারনে এটিকে ব্যবহারকারীদের জন্য বর্তমান বাজারের সেরা প্যাকেজ হিসেবে তৈরি করেছে। ল্যাপটপটিতে আরো নানান ফিচার রয়েছে, যেগুলোয় আকৃষ্ট হয়ে আপনি এটিকে আপনার অফিসের ও বাসার কাজের সঙ্গী করতে পারেন।

চলুন দেখে নেয়া যাক ল্যাপটপটির বৃত্তান্তঃ

ল্যাপটপটির স্পেসিফিকেশন
  ·         সিপিইউঃ ৮ম জেনারেশন ইনটেল কোর আই৫-আই৭

·         গ্রাফিক্সঃ ইনটেল ইউএইচডি গ্রাফিক্স ৬২০, এনভিডিয়া জিফোর্স এমএক্স১৫০ ২জিবি জিডিডিআর৫

·         র‍্যামঃ ৮জিবি-১৬জিবি

·         স্ক্রিনঃ ১৩.৯ ইঞ্চি ৩কে (৩,০০০ x ২,০৪০)

·         স্টোরেজঃ ৫১২ জিবি এসএসডি

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         অসাধারণ ডিজাইন যার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে
  •         মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে স্ক্রিন

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         দরকারী এসডি স্লট থাকলেও এর কোন বাড়তি উপকার নেই
  •         ওয়েবক্যামটি বড় হলেও গুণগত মানে অতটা এগিয়ে নেই

হুয়াওয়ে মেটবুক এক্স প্রো বর্তমান বাজারে অর্থের বিপরীতে নিঃসন্দেহে সেরা ক্রয়। আপনি এই মেশিনের কর্মক্ষমতা বছরের পর বছর ভোগ করতে পারবেন। ল্যাপটপের জগতে হুয়াওয়ে নতুন হলেও এই মডেলটি দিয়ে ব্র্যান্ডটি নানা গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে শুরু করছে।

২০১৯ এর সেরা টিভি

স্যামসাং কিউ৯এফএন কিউ এলইডি (২০১৮)

স্যামসাং কিউ৯এফএন কিউ এলইডি (২০১৮)

টিভির জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত বাজারে আসা সকল টিভির মধ্যে কী এটিই সেরা? 

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপভোগ করুন স্যামসাং কিউ৯এফএন কিউ এলইডি এর ৬৫ ইঞ্চি জায়ান্ট স্ক্রিনে। বৃষ্টি বিশ্বকাপের ম্যাচকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতেই পারে, কিন্তু এই অসাধারণ ডিসপ্লেতে এই টিভির উপভোগ্যতা কিছুতেই কমবেনা।

এ বছরের শুরুটা স্যামসাং এর জন্য তেমন ভালো না হলেও ২০১৮ তে এই ব্র্যান্ডটি রয়েছিলো টিভি বিক্রিতে সেরা ফর্মে। স্যামসাং এর এই উল্লেখিত মডেলটি এখন পর্যন্ত ব্র্যান্ডটির সকল টিভি মডেলের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও রঙ্গিন। এই প্রশংসা অনেকটা নতুন আবিষ্কৃত ডিসপ্লে সিস্টেম এফএএলডি প্যানেলেরই প্রাপ্য। ফুল অ্যারে লোকাল ডিমিং (এফএএলডি) সঙ্গে কিউএলইডি কোয়ান্টাম ডটস টিভির ডিসপ্লেকে করেছে আরো জীবন্ত।

এখন দেখে আসা যাক টিভিতে কী ধরণের টেকনোলোজি ব্যবহৃত হয়েছেঃ

টিভিটির স্পেসিফিকেশন
  ·         স্যামসাং কিউই৬৫কিউ৯এফএন

·         ৬৫-ইঞ্চি টিভি

·         ফুল অ্যারে লোকাল ডিমিং

·         এইচডিআর১০+

·         কিউ এইচডিআর এলিট ম্যাক্স

·         কিউএলইডি কোয়ান্টাম ডটস

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         দৃষ্টি আকর্ষক পিকচার কোয়ালিটি যা তৈরি করেছে এইচডিআর ভিউ
  •         শক্তিশালী ও সাররাউন্ডেড সাউন্ড সিস্টেম

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         সীমিত দেখার অ্যাঙ্গেল
  •         স্যামসাং এর ২০১৯ এ বের হওয়া অন্যান্য মডেলগুলোর সঙ্গে ফিচারস নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা

এসব উল্লেখিত ফিচারস ও স্পেসিফিকেশন দ্বারা দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্টরা কি এই মডেলটিকে বাজারের সেরা হিসেবে আশা করতে পারে? হয়তোবা, তবে সামনের দিনে প্রযুক্তিগত বিকাশের দিকে স্যামসাং যে প্রথম কাতারে থাকবে তা সহজেই অনুমেয়।

২০১৯ এর সেরা গেমিং সিস্টেম

পিএস৪ প্রো

পিএস৪ প্রো

যারা ফোরকে টিভিতে গেম খেলেন, তারা সনির পিএস৪ মডেল থেকে পিএস৪ প্রো মডেলে একটি বড় ধরণের পার্থক্য পাবেন। অবশ্যই এই পার্থক্যটি ভালোর দিকে। উচ্চমানের টেকনোলোজি অন্তর্ভূক্ত করার ফলে নতুন এ মডেলটি ফোরকে এবং এইচডিআর সাপোর্ট করে। ফ্রেম রেট ও প্রসেসিং স্পিডে উন্নতিসাধনের মাধ্যমে এটি ব্যবহারকারীকে দেয় একটি দারুণ গেমিং অভিজ্ঞতা।

পিএস৫ মুক্তির আগেই দেখে নেয়া যাক পিএস৪ প্রো তে কী কী ছিলোঃ

গেম কনসোলটির স্পেসিফিকেশন
  ·         ডাইমেনশনঃ ২৯.৫ ডব্লিউ x ৩২.৭ এল x ৫.৫ এইচ সিএম

·         জিপিইউঃ ৪.২০ টিএফএলওপিএস, এএমডি রেডিয়ন ভিত্তিক গ্রাফিক্স ইঞ্জিন

·         র‍্যামঃ ৮ জিবি জিডিডিআরএস, ১ জিবি ডিডিআর৩

·         ম্যাক্স রেজ্যুলেশনঃ ৩৮৪০ x ২১৬০

·         ম্যাক্সিমাম কন্ট্রোলারঃ ৪

·         স্টোরেজঃ ১টিবি

·  কমিউনিকেশনঃ ইউএসবি ৩.১, এইচডিএমআই ২.০এ, ইথারনেট, অপটিকাল অডিও ও প্লে-ষ্টেশন ক্যামেরা পোর্টস, ডুয়েল ব্যান্ড ৮০২.১১এসি ওয়্যারলেস, ব্লুটুথ ৪.০

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         সনির প্রথম গেমিং কনসোল যেটি ফোরকে এইচডিআর সাপোর্ট করে
  •         ১ টিবি হার্ড ড্রাইভ

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         ফোরকে ব্লুরে প্লেয়ার মিস করবেন এতে
  •         এর প্রো মুডটি ইউনিভার্সেলি সাপোর্টেড নয়

সনি প্লেষ্টেশন ও মাইক্রোসফট এক্স বক্স এর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সেরা হার্ডওয়ার, গেমিং অভিজ্ঞতা ও অনলাইনের সেরা অফারগুলোর কারণে সনি প্লেষ্টেশনকেই সেরা বলা চলে।

২০১৯ এর সেরা ফিটনেস ট্রাকার

মুভ নাউ

মুভ নাউ

‘নো স্ক্রিন ওয়ান্ডার’ শব্দটির সার্থক উদাহরণ ২০১৯ সালের মুভ নাউ ফিটনেস ট্র্যাকার। এ বছরটিতে সেরা ডিসপ্লে, বড় স্ক্রিনের ফোন ও টিভি নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন ডিসপ্লে ছাড়া মুভ নাউ ফিটনেস ট্র্যাকার বাজারে এলো অনেকটা রীতিবিরুদ্ধ রূপে। একটি ফিটনেস ট্র্যাকারের যা যা থাকা প্রয়োজন সেগুলোর সঙ্গে সঙ্গে সাশ্রয়ী মূল্য ও ৬ ঘন্টা ব্যাটারি স্থিতি নিয়ে এটি এখন বাজারে।

ফিটনেস ট্র্যাকারটির ফিচার
  ·         স্ক্রিনঃ নেই

·         হার্ট রেট ট্রাকার নেই

·         পানিরোধকঃ হ্যা

·         অ্যাক্টিভিটি ট্রাকিংঃ আছে

·         জিপিএসঃ হ্যা, ফোনের মাধ্যমে

·         ব্যাটারি লাইফঃ ছয় মাস

·         কম্পেটিবিলিটিঃ অ্যান্ড্রয়েড/আইওএস

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         বিস্ময়কর ব্যাটারি স্থিতি
  •         সুলভ মূল্য

 

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         অন্যান্য ফিচারের অপ্রতুলতা
  •         এটির আলাদা স্ক্রিন না থাকায় সিঙ্ক করা ফোনের উপর নির্ভরশীলতা

জিপিএস ট্র্যাকিং ও স্ক্রিন না থাকা স্বত্বে বাজারে সবার থেকে আলাদা মুভ নাউ। তবে আপনার হাঁটা চলার ৬ মাসের স্টেপগুলোর ট্র্যাকিং, ঘুমানোর প্যাটার্ন, দৌড়ানোর স্টাইল, সামগ্রিক ফিটনেস ও নানাকিছুর মাধ্যমে এটি হয়ে উঠেছে ব্যবহারকারীদের প্রিয় পছন্দ। আরও দেখে নিন চলতি বছরের সেরা স্মার্টফোন এক্সেসরিজের ট্রেন্ড

২০১৯ এর সেরা ক্যামেরা

নাইকন জেড৬

নাইকন জেড৬

আধুনিক আউটলুক ও ব্যবহারের সুবিধাকে সমন্বয়ে রেখে ব্যবহারকারীদের জন্য বাজারে এসেছে নাইকন জেড৬। ডিএসএলআর ব্যবহারকারী নতুন ফটোগ্রাফারদের প্রধানতম সমস্যা ঘোলা ছবি তুলে ফেলা! তবে এই ক্যামেরাটির ২৭৩ পয়েন্ট অটোফোকাস সিস্টেম, ১২ এফপিএস বার্ষ্ট মুড আপনাকে ছবি ঘোলা হওয়া থেকে বাঁচাবে ও ছবিকে করবে ঝকঝকে ও প্রাণবন্ত।

এটির কার্যকরী ডিজাইন ও শেপ আপনাকে ছবি তোলার সময় হাতের দারুণ একটি কন্ট্রোল দেবে। আপনি যদি নিকনের ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন, তবে আপনার কেনা সমস্ত লেন্সই সাধারন এফজেডটি অ্যাডাপ্টর দিয়ে ব্যবহার করা যাবে।

চলুন দেখে নেয়া যাক এই ক্যামেরার ফিচারসগুলোঃ

ক্যামেরাটির ফিচার
  ·         সেন্সরঃ ফুল ফ্রেম সিমস

·         রেজ্যুলেশনঃ ২৪.৫এমপি

·         অটোফোকাসঃ ২৭৩-পয়েন্ট এএফ

·         স্ক্রিন টাইপঃ ৩.০-ইঞ্চি টিলট অ্যাঙ্গেল টাচস্ক্রিন, ২,১০০কে ডটস

·         ম্যাক্সিমাম কন্টিনিউয়াস শ্যুটিং স্পিডঃ ১২এফপিএস

·         মুভিসঃ ৪কে, ৩০পি

·         ইউজার লেভেলঃ নব্য আগ্রহী অথবা এক্সপার্ট

 

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         ব্যবহারকারীর জন্য সহজ ইউজার এক্সপেরিয়েন্স
  •         যেকোনো শটের জন্য দারুণ ইমেজ কোয়ালিটি

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         সীমিত বাফার ডেপথ
  •         সীমিত এক্সকিউডি সাপোর্ট

ফিচার, পারফরম্যান্স ও মূল্যে নিকনের এই মডেলটি বাকিসব ব্র্যান্ড থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। এর ২৪.৫ এমপি সেন্সর ব্যবহারকারীকে দেবে সেরা ও শার্প ইমেজ কোয়ালিটি। সুতরাং আপনি নব্য আগ্রহী কিংবা এক্সপার্ট ফটোগ্রাফার যাই হোননা কেন, আপনার পছন্দের তালিকায় নাইকন জেড৬ কে নিঃসন্দেহে রাখতে পারেন।

 

২০১৯ এর সেরা ট্যাবলেট

আইপ্যাড প্রো ১১ (২০১৮)

আইপ্যাড প্রো ১১ (২০১৮)

যদি আপনার কাছে বাজেটের কোন সীমাবদ্ধতা না থেকে থাকে, তবে ২০১৮ এ বাজারে মুক্তিপ্রাপ্ত আইপ্যাড প্রো ১১ ই হবে আপনার কেনা বাজারের সেরা ট্যাবলেট। এতে রয়েছে ১ এর ভেতর ২, মানে আইপ্যাডের পাশাপাশি এতে ফোলিও কিবোর্ড কেস লাগানোর মাধ্যমে মেটাতে পারবেন ল্যাপটপের প্রয়োজনগুলো।

আগের মডেলগুলো সমস্যা ও অসুবিধাগুলো দূর করে এটি বাজারে মুক্তি পেয়েছে অনেকটা ত্রুটিমুক্ত হয়ে। আইওএস ১২ এর মাধ্যমে আপনি এই ট্যাবলেটে উপভোগ করতে পারবেন ল্যাপটপের ফিচারগুলোও।

আইপ্যাড প্রো ১১ এর স্পেসিফিকেশন
  ·         ওজনঃ ৪৬৮ গ্রাম

·         ডাইমেনশনঃ ২৪৭.৬ x ১৭৮.৫ x ৫.৯ এমএম

·         ওএসঃ আইওএস ১২

·         স্ক্রিন সাইজঃ ১১-ইঞ্চি

·         রেজ্যুলেশনঃ ২৩৮৮ x ১৬৬৮ পিএক্সেলস

·         সিপিএইঃ এ১২এক্স বায়োনিক

·         স্টোরেজঃ ৬৪ জিবি/২৫৬ জিবি/৫১২ জিবি/ ১ টিবি

·         মাইক্রো এসডি স্লটঃ নেই

·         ব্যাটারীঃ ৭,৮১২ এমএএইচ

·         রেয়ার ক্যামেরাঃ ১২ এমপি

·         ফ্রন্ট ক্যামেরাঃ ৭ এমপি

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         পেন্সিলটি ম্যাগনেটিকভাবেই এর গায়ে লেগে থাকে
  •         বাজারের অন্যান্য ট্যাবলেটের তুলনায় দারুন ব্যাটারি স্থিতি

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         অপারেটং সিস্টেম হিসেবে আইওএস বরাবরই ব্যবহারকারীদের কাছে বাড়াবাড়ি রকমের নিয়ন্ত্রিত
  •         অন্যান্য অ্যাপেল এক্সেসরিজের মত এর পেন্সিল ও কিবোর্ডও বেশ দামী

এই ট্যাবলেটে আপনি হেডফোন জ্যাকের অনুপস্থিতিবোধ করবেন, যেমনটি অ্যাপেলের নতুন ডিভাইসগুলিতে ব্যবহারকারীরা অনুভব করে থাকেন। তবে বর্তমানে ট্যাবলেট হিসেবে এটিই বাজারের অন্যতম সেরা! যদিও আপনি এতে ১ এর ভেতর ২ এর অনুভূতি পাবেন, তবে কিছুতেই এটি ম্যাকবুক প্রো কিংবা একটি পূর্ণাঙ্গ ল্যাপটপের পুরোপুরি প্রয়োজনকে মেটাতে পারবেননা।

২০১৯ এর সেরা স্মার্টওয়াচ

স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ

স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ

অ্যাপেল ওয়াচকে টেক্কা দিয়ে টেক জায়ান্ট স্যামসাং এ বছর তৈরি করেছে স্পোর্টি স্মার্টওয়াচ স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ। টানা ৪ দিনেরও বেশী ব্যাটারির স্থিতির মাধ্যমে এটি হয়েছে আরো ক্রেতাপ্রিয়।

এটতে ব্যবহৃত হয়েছে স্যামসাং এর নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম “টাইজেন”। চলুন এর স্পেসিফিকেশনগুলো দেখে নেয়া যাক।

 

স্মার্টওয়াচটির স্পেসিফিকেশন
  ·         ওএসঃ টাইজেন ওএস

·         কম্পেটিবিলিটিঃ অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস

·         ডিসপ্লেঃ ১.২” অথবা ১.৩“ ৩৬০ x ৩৬০ সুপার অ্যামোলেড

·         প্রসেসরঃ ডুয়েল কোর ১.১৫ গিগাহার্টজ

·         ব্যান্ড সাইজঃ ২২ মিমি অথবা ২০ মিমি

·         অনবোর্ড স্টোরেজঃ ৪ জিবি

·         ব্যাটারির স্থিতিঃ ৪ দিন ৪৬ মিমি/ ৪২ মিমিতে এর চেয়ে কম

·         চার্জিং মেথডঃ ওয়্যারলেস

·         আইপি রেটিংঃ ৫০ এম

·         কানেক্টিভিটিঃ ওয়াই ফাই, ব্লুটুথ

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         দারুণ ব্যাটারি স্থিতি
  •         কার্যকরী রোটেটিং বেজেল

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         বিরক্তিকর চার্জার ও চার্জিং সিস্টেম
  •         স্যামসাং এর কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ‘বিক্সবি’ এখনও সিরি, অ্যালেক্সার পর্যায়ে আসতে পারেনি

টাইজেন ওএস হওয়ার দরুন এই স্মার্টওয়াচটিতে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে বাজারের অন্যান্য স্মার্টওয়াচের সঙ্গে পাল্লায় কোন অংশে পিছিয়ে নেই এই স্মার্টওয়াচটি।

২০১৯ এর সেরা ভিআর হেড গিয়ার

এইচটিসি ভাইভ

এইচটিসি ভাইভ

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেড গিয়ারে ২০১৯ সালে নিঃসন্দেহে বিজয়ী এইচটিসি ভাইভ। এর কন্ট্রোলগুলো খুব সহজবোধ্য ও রেজ্যুলেশন এর মান অসাধারণ। এটি ব্যবহারের সময় আপনি অবিশ্বাস্য ১০৮০পি স্ক্রিন উপভোগ করতে পারবেন। অসাধারন এই গ্যাজেটটির মাধ্যমে ভিআর এর সেরা ভিডিও কাজগুলো হয়ে উঠবে আরও উপভোগ্য।

অকুলাস ভিআর সিরিজের হেড গিয়ারের সঙ্গে পাল্লায় নামা এইচটিভি ভাইভে কি আছে চলুন দেখে নেইঃ

ভিআর হেডসেটটির ছবি স্পেসিফিকেশন
  ·         স্ক্রিন রেজ্যুলেশনঃ ২১৬০ x ১২০০

·         কম্পেটিবিলিটিঃ উইন্ডোজ

·         ফিল্ড অব ভিউঃ ১১০ ডিগ্রি

·         প্লে স্পেসঃ ১৩ x ১৩ ফিট

·         কন্ট্রোলারসঃ যুক্ত

·         ওজনঃ ৪৭০ গ্রাম

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         সামগ্রিকভাবে ভিআর গেমিং এর অভিজ্ঞতা অসাধারণ
  •         বিখ্যাত কোম্পানি ভাল্ভ এর সঙ্গে পার্টনারশিপ এইচটিসি ভাইভ এ যোগ করেছে দারুণ সব সফটওয়ার অপশন

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         এটির জন্য অনেক উচ্চমানের গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) এর দরকার
  •         অন্যান্যদের তুলনায় এটি অনেক দামী

আর্টিকেলে উল্লেখিত অনান্য গ্যাজেটগুলোর মত এটিও একটি প্রিমিয়াম মূল্যের প্রোডাক্ট। যখন আপনি বাজারের সেরাটা খুঁজবেন, তখন দেখা যাবে দামের সঙ্গে পণ্যের মানও উপর অথবা নিচে পরিবর্তিত হয়। তবে প্রথম প্রজন্মের বাজারের সেরা ভিআর হেডসেট যে এইচটিসি ভাইভ তা আর আলাদা করে বলে দিতে হয়না।

২০১৯ এর সেরা হেডফোন

সনি ডব্লিউএইচ-১০০০এক্সএম৩

সনি ডব্লিউএইচ-১০০০এক্সএম৩

২ বছরেরও বেশী সময় ধরে বহুজাতিক কোম্পানি সনি সেরা নয়েস ক্যান্সেলিং হেডফোন তৈরি করে আসছে। এ বছরেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সর্বশেষ মডেল ডব্লিউএইচ-১০০০এক্সএম২ তে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা এ বছরের মডেলটি মুক্তি দিয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো এউএসবি সি টাইপ চার্জিং।

এসবের দ্বারা নতুন মডেলটি আগেরটির চেয়ে কিছুটা কার্যকরী ও উন্নত হয়েছে। নতুন এই মডেলটিতে যা আছে তা হলোঃ

হেডফোনটির ডিজাইন
  ·         অ্যাকুয়েষ্টিক ডিজাইনঃ ক্লোজড

·         ওজনঃ ৮.৯৯ আউন্স

·         কেবল দৈর্ঘ্য” ৩.৯৪ ফিট

·         ফ্রিকোয়েন্সি রেপ্সন্সঃ ৪ গিগাহার্টজ থেকে ৪০ গিগাহার্টজ

·         ড্রাইভারসঃ ৪০ এমএম ডুয়েল লেয়ারড ডায়াফ্রেম

·         ড্রাইভার টাইপঃ ডায়নামিক

·         সেনসিটিভিটিঃ ১০৪.৫ ডিবি

·         ইম্পিডেন্সঃ ৪৭ ওহমস

·         ব্যাটারির স্থিতিঃ ৩০ ঘন্টা

·         ওয়্যারলেস রেঞ্জঃ ৩০ মিটার (৯৮ ফিট)

·         এনএফসিঃ আছে

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         বাজারের সেরা নয়েস ক্যান্সেলেশন
  •         অসাধারন সাউন্ড
  •         ৩০ ঘন্টা ব্যাটারি স্থিতি

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         আগের বছরের মডেল থেকে সামান্য পরিমানে পরিবর্তন
  •         সাউন্ডের তুলনায় কল কোয়েলিটি ততটা উন্নত নয়

কমদামে আপনি বাজারে গতবছরের উল্লেখিত হেডফোনের মডেলটি পাবেন, কিন্তু ডব্লিউএইচ-১০০০এক্সএম৩ কেনার জন্য আপনাকে গুনতে হবে বাড়তি পয়সা।

শেষকথা

২০১৯ এর স্মার্ট গ্যাজেট নিয়ে তুলনামূলক এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আশা করছি এই আর্টিকেলটি পরবর্তী বড় কোন গ্যাজেট কেনার ক্ষেত্রে অনেকটাই সাহায্যে আসবে।

আপনি কি সত্যিই বাজারের সর্বশেষ, সবচেয়ে সেরা, বহুল প্রতীক্ষিত টেক গ্যাজেট সম্পর্কে জানার জন্য মুখিয়ে থাকেন?

তবে নিয়মিত Bikroy.com ব্লগ এ চোখ রেখে জানুন নতুন সব গ্যাজেট এর ইতিবৃত্ত! এছাড়াও আছে ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি, জবস, প্রপার্টি সহ সমগ্র বাংলাদেশের আরো নানা কিছু, শুধুমাত্র Bikroy.com-এ।

যদি আপনি ভোগ্যপণ্য কেনার জন্য নির্ভরযোগ্য কোন মাধ্যম খুঁজে থাকেন, Bikroy.com রয়েছে আস্থার প্রতীক হিসেবে। আসল ও নির্ভরযোগ্য ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মিলনস্থল তৈরি করার মাধ্যমে Bikroy.com

আমাদের সেরা গ্যাজেটের তালিকাটির সাথে আপনি কি একমত?

অসাধারন সব গ্যাজেটের লিস্ট ঠাসা আর্টিকেলটি নিয়ে আপনার মতামতের কথা জানান কমেন্ট সেকশনে, অথবা জানাতে পারেন আপনার প্রিয় গ্যাজেটটির সম্পর্কেও।

পণ্যের মান এ কোন রকম ছাড় না দিয়ে আসল বিক্রেতার কাছ থেকে সেরা গ্যাজেটটি কিনতে ভিজিট করুন Bikroy.com পোর্টালে।


ঢাকা শহরে চলাফেরার জন্য কেন টয়োটা গাড়িই সেরা?

টয়োটা গাড়ির সাথে আমাদের পরিচয় বেড়ে ওঠার প্রায় একই সাথে। এই গাড়িগুলো কয়েক প্রজন্ম ধরেই আমাদের জীবনের এক অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর কখনও এই গাড়িগুলোতে চড়েননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়াও প্রায় অসম্ভবই বলা চলে। ঢাকা শহরে, এমনকি সারা দেশ জুড়েই টয়োটার এই গাড়িগুলো অসম্ভব রকম জনপ্রিয়। এমনকি আজকের যুগে এসে বাজারে এত সব নজরকাড়া গাড়ির ব্র্যান্ড থাকা সত্ত্বেও এ দেশের বেশির ভাগ মানুষ আজও গাড়ি কেনা কিংবা ব্যবহারের জন্য টয়োটার উপর ভরসা করেন সবার আগে। বাংলাদেশের সেরা ৫ সর্বাধিক বিক্রিত গাড়ির হিসাবে আমাদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি দাপট যদি কোন ব্র্যান্ডের হয়, তাহলে সেটাও হচ্ছে টয়োটা। তাই আজ আমাদের আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে আমরা দেখবো টয়োটার বিপুল জনপ্রিয়তার পেছনে কিছু অন্তর্নিহিত কারণ। পাশাপাশি দেশের মার্কেটে এক প্রভাবশালী গাড়ির ব্র্যান্ড হিসেবে এই গাড়িগুলোর কাছ থেকে আমরা ঠিক কী আশা করতে পারি সেটাও জানার চেষ্টা করবো।

কেন বেছে নেবেন একটি টয়োটা গাড়ি?

মূলত টয়োটা হলো একটি জাপানিজ অটোমোবাইল কোম্পানি। এই কোম্পানিটি বেশ লম্বা একটা সময় ধরে গাড়ি তৈরি ও বাজারজাত করে আসছে এবং বিশ্ব বাজারে এখন অবধি একটি বিশেষ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও এশিয়া মহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ির গ্রাহক সংখ্যা চোখে পড়ার মত। যদিও ঢাকা শহরে সব সময় টয়োটা গাড়ির পরিচিতি ও প্রসার এত বেশি ছিল না। বেশ আগের দিনগুলোতে ফোর্ড এবং ভোক্সওয়াগনের মত নামি ব্র্যান্ডগুলো বেশি জনপ্রিয় ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই যুগে এসে টয়োটা অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে আরো বেশি প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। টয়োটার মত অন্যান্য ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো রাস্তাঘাটে এত বেশি পরিমাণে চোখেও পড়ে না। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ও অন্যতম একটি কারণ হলো, টয়োটা তাদের গাড়িগুলোতে সব সময় ব্যাপক পরিমাণ সুবিধা ও ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য অফার করে। যেকোনো ধরণের মানুষ কিংবা প্রয়োজনের জন্য তাঁদের কাছে গাড়ির অপশন রয়েছে। চলুন দেখে নিই টয়োটা গাড়ির নানারকম সুবিধার মধ্যে কিছু বিশেষ দিকঃ

সাধ্যের মধ্যে সাশ্রয়ী দাম

টয়োটা গাড়ির জনপ্রিয়তার সর্বপ্রথম ও অন্যতম বড় একটি কারণ হলো এর সাশ্রয়ী দাম। অন্যান্য ব্র্যান্ডের রিকন্ডিশনড বা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির তুলনায় এই টয়োটা গাড়িগুলোর দাম বেশ যৌক্তিক এবং সাশ্রয়ী। একটি গাড়ি কেনার সময় এর স্পেসিফিকেশন ও বৈশিষ্ট্যগুলো অবশ্যই দেখতে হয়, কিন্তু কেনার সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ইন্ধন গাড়িটির দামই দিতে পারে। কখনও কখনও কোন জায়গা থেকে কিনছেন তার ভিত্তিতেও গাড়ির দাম কিছুটা উনিশ বিশ হতে পারে। একজন বিক্রেতার কাছ থেকে সরাসরি কেনার চেয়ে গাড়ির শোরুম থেকে কিনতে গেলে দাম কিছুটা হলেও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি আপনি ঢাকা শহরে একটি টয়োটা গাড়ি কেনার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে Bikroy.com -এ ভিজিট করে আপনার পছন্দ অনুযায়ী গাড়ির দামের একটি ধারণা নিতে পারেন এবং বাজেটের মধ্যে খুঁজে নিতে পারেন আপনার পারফেক্ট গাড়িটি। এতে করে একটি নতুন টয়োটা গাড়ি কিংবা ব্যবহৃত একটি টয়োটা গাড়ি কেনার সুযোগ আপনি পেয়ে যাবেন একজন বিশ্বস্ত ও অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে।

স্থায়ী ও টেকসই

টয়োটা আপনাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত করেছে যেকোন ধরণের ভূমিতে চালানোর মত গাড়ি। ঢাকা শহরের মত একটি ব্যস্ত ও উন্নয়নশীল নগরীতে গাড়ি চালানোর সময় আমাদের রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে ধারণা থাকা খুবই জরুরি। এই শহরে প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ নির্মাণ কাজ ও রাস্তা সংস্করণের কাজ চলে, সেখানে এই উঁচু নিচু ও কখনও চলাচলের অযোগ্য হয়ে ওঠা রাস্তাগুলোতে গাড়ি চালালে সেগুলোর বেশ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ঠিক এখানেই টয়োটা তাদের গাড়ির জন্য সুবিধা তৈরি করে নিয়েছে। মজবুত ও বলিষ্ঠ গড়ন হওয়ার কারণে টয়োটা গাড়িগুলোর বডি অনেক বেশি পরিমাণে ঝাঁকুনি ও ধাক্কা সহ্য করতে পারে, যা কিনা ঢাকা শহরে চলাচলের জন্য আদর্শ। এছাড়াও টয়োটা কোম্পানির উৎপাদন তালিকায় রয়েছে বহু ধরণের পিক-আপ ট্রাক, এসইউভি, অফ রোড বা রাস্তার বাইরের যানবাহন ও দূরপাল্লার ভার বহনকারী যানবাহন। এই গাড়ি গুলো শহরের বাইরে ভ্রমণের জন্য বেশ কার্যকরী, কেননা এরকম পথে রাস্তাঘাট বেশ খারাপ থাকে। এগুলোকে টাইম-টেস্ট করার মাধ্যমে দেখা গেছে যে এই গাড়িগুলো সত্যিই ব্যাপক টেকসই। সাধারণত গ্রাহকরা এমন ব্র্যান্ডের সাথেই টিকে থাকেন যেগুলো তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদী পণ্য এবং ভালো সার্ভিস দিতে পারে। আর বাংলাদেশি মার্কেটে টয়োটা ঠিক এই ব্যাপারটাই প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে।

বৈচিত্র

চলুন টয়োটার কালেকশনে যে সব ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যময় গাড়ির সংগ্রহ রয়েছে তা দেখে নিইঃ

কেনো টয়োটা গাড়িই সেরা

টয়োটার ফ্যামিলি গাড়ি

আপনি যদি আপনার পরিবারের জন্য সেরা ফ্যামিলি গাড়িটির খোঁজ করেন, তাহলে টয়োটা ব্র্যান্ডের বাইরে আপনাকে আর কিছু দেখতেই হবে না। কেননা এই ব্র্যান্ড আপনাদের জন্য এনেছে বিভিন্ন ধরণের সেডান ও হ্যাচব্যাক গাড়ি সহ আরো কত কি। দীর্ঘ দিন ধরে সকলের প্রিয় টয়োটা করোলা ছাড়াও, তাদের কাছে রয়েছে টয়োটা এক্সিও, টয়োটা এলিয়ন এবং টয়োটা প্রোবক্স, যেগুলোর প্রত্যেকটিই ফ্যামিলি গাড়ি হিসেবে দারুণ একেকটি অপশন।

টয়োটার ছোট গাড়ি

যদি আপনার চাহিদা একটি ছোট ব্যক্তিগত গাড়ি হয়ে থাকে, তাহলে টয়োটা আইএসটি, টয়োটা পাসো, টয়োটা একুয়া কিংবা টয়োটা ভিটজ এই গাড়িগুলো নিশ্চয়ই আপনার প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবে। ছোট গাড়ি গুলো তুলনামূলক কম দাম আর কিছুটা বেশি জ্বালানী সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য জনপ্রিয়। ঢাকা শহরের দম বন্ধ করা ট্র্যাফিক আর সরু রাস্তা ঘাটে চলাফেরা করার ক্ষেত্রে একটি ছোট গাড়ি থাকা সত্যিই বেশ শান্তির হতে পারে। কেননা এই গাড়িগুলো সরু পথে পরিচালনা করা ও পার্ক করা যায় সহজেই। কম বয়সী হোক কিংবা বয়স্ক, যে কারো জন্যই এই ধরণের গাড়িগুলো আদর্শ হতে পারে। এছাড়াও যেসব মানুষ নতুন নতুন ড্রাইভিং শিখছেন তাদের জন্য এই ছোট গাড়ি গুলো নিয়ন্ত্রণ করা বেশ সহজ হবে।

টয়োটার বিলাসবহুল গাড়ি

টয়োটা প্রিমিয়ো, টয়োটা নোয়াহ, এবং টয়োটা ক্রাউনের মত গাড়ি গুলো স্বাভাবিক সময়ে হোক কিংবা ঢাকা শহরের জ্যামে ভরা রাস্তায় পর্যন্ত একজন চালককে সর্বাধুনিক ও প্রিমিয়াম পর্যায়ের অভিজ্ঞতা দিতে পারে। কারো কারো জন্য একটি গাড়ি তার মনের প্রশান্তির জায়গা হতে পারে, আর সেই গাড়িতে একটি খোলামেলা বড় স্পেস, আরামদায়ক সিট ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক বিলাসবহুল অনুভূতি থাকাটা খুবই দরকার। তার উপর টয়োটার নতুন বিলাসবহুল গাড়ি গুলো সব সময় বাংলাদেশি মার্কেটে বেশ জলদিই পৌঁছে যায়, যেমন সদ্য মুক্তি পাওয়া টয়োটা করোলা আলটিস

জ্বালানী দক্ষতা ও সাশ্রয়

ঢাকা শহরের বাড়ন্ত ট্র্যাফিক জ্যাম প্রতিনিয়ত আমাদের গাড়িগুলোর জ্বালানী দক্ষতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। আমাদের গাড়ি গুলো যখন ঘন্টার পর ঘন্টা ট্র্যাফিক জ্যামে বসে অপেক্ষা করে, তখন তাদের ইঞ্জিন প্রচুর পরিমাণ জ্বালানী টেনে নেয়। এখান থেকে জ্বালানীর চাহিদা দিনকে দিন শুধু বেড়েই চলে আর দামটাও ধীরে ধীরে অসম্ভবের কোঠায় গিয়ে ঠেকে। মার্কেটে টয়োটার বেশ কিছু জ্বালানী দক্ষতা সম্পন্ন গাড়ি রয়েছে, আর সেগুলো ব্যবহার করে আপনারা চাইলেই খুব সহজে আপনাদের জ্বালানীর খরচ কমিয়ে আনতে চাচ্ছেন। এরকম একটি গাড়ি হচ্ছে হাইব্রিড ধাঁচের টয়োটা প্রিয়াস এবং এটি বেশ দ্রুত গতিতে ঢাকা শহরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এছাড়াও আপনার যাতায়তের খরচ কমানোর জন্য চাইলে আপনার গাড়িটিকে পেট্রোল থেকে সিএনজিতে রূপান্তর করিয়ে নিতে পারেন, আজকাল অনেকে তাদের টয়োটা গাড়িতে জ্বালানী রূপান্তর করে এভাবেই খরচ বাঁচাচ্ছেন।

সহজলভ্যতা

বাংলদেশে টয়োটা গাড়ির জনপ্রিয়তার একটি বিশেষ সুবিধা হচ্ছে যে দেশের যেকোনো জায়গায় সবগুলো ভার্চুয়াল শোরুমে এই ব্র্যান্ডের প্রায় সবগুলো গাড়িই পাওয়া যায়। যেহেতু ঢাকার রাস্তায় এই গাড়িগুলোই সবচেয়ে বেশি করে চোখে পড়ে, সেহেতু আপনার কাছাকাছি যেকোন একটা শোরুমে গেলেই আপনার পছন্দের টয়োটা গাড়িটি খুঁজে পেতে পারেন নিশ্চিত ভাবে। এর মানে এটাও দাঁড়ায় যে আপনি বেছে নেয়ার জন্য বিপুল সংখ্যক টয়োটা গাড়ির অপশনও চোখের সামনে পাচ্ছেন, কেননা টয়োটা ব্র্যান্ডের চাহিদাই বাজারে সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র গাড়ি কেনাই নয়, আপনার টয়োটা গাড়িটি মেরামত কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ করাও ঢাকা শহরে খুবই সহজ। এর পেছনে প্রথম কারণ হচ্ছে যে ঢাকার বেশির ভাগ গাড়ির ওয়ার্কশপেই টয়োটা গাড়ির পার্টস ও উপকরণ বেশ সহজলভ্য।

সর্বোচ্চ রি-সেল ভ্যালু

ঢাকা শহরে অন্যান্য ব্র্যান্ডের গাড়ির তুলনায় টয়োটা গাড়িগুলো রি-সেল ভ্যালু বেশি হওয়ার জন্য সুপরিচিত। যেহেতু এই গাড়িগুলো গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি মাত্রায় সার্চ করেন এবং কিনে থাকেন, সেজন্য এই গাড়িগুলো বিক্রি হওয়ার সময় তাদের রি-সেল ভ্যালু যে তুলনামূলক বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। অবশ্য সেটা পুরোপুরি নির্ভর করে একজন ব্যবহারকারী তার টয়োটা গাড়িটি কোন কন্ডিশনে বিক্রি করছেন এবং সেটিকে কত ভালো ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে রেখেছেন তার উপর। অতএব, আপনি যদি আপনার যত্নে রাখা ও মেইনটেন্যান্স করা টয়োটা গাড়িটি বিক্রি করার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে বেশ কিছু সম্ভাব্য ক্রেতার কাছ থেকে গাড়িটির জন্য একটি ভালো দাম আশা করতেই পারেন।

আপনার টয়োটা গাড়িটি কিনতে কোথায় যাবেন?

ঢাকা শহরে গাড়ির শোরুমগুলো বেশ প্রভাবশালী অবস্থায় রয়েছে। অনেকগুলো শোরুম পাশাপাশি সারি বেঁধে সাজানো থাকে, তাই আপনি যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে চাইলে বেশ কয়েকটা দোকান ঘুরে দেখতে পারবেন। আপনার স্বপ্নের গাড়িটি বেছে নেয়ার আগে খেয়াল করে আপনার বাজেটের মধ্যে সবগুলো অপশন বিভিন্ন দোকান থেকে ঘুরে দামের তুলনা ও বাছবিচার করে তারপরই নেয়া উচিত। কিছু কিছু গাড়ির ডিলাররা আপনার ব্যক্তিগত চাহিদা ও প্রয়োজনগুলোর খেয়াল রাখার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন সব সময়। এছাড়াও আপনি অনলাইনেও গাড়ি সম্পর্কে সার্চ করতে পারেন। আজকের আধুনিক যুগে এসে বেশির ভাগ পণ্যের মত গাড়ি বেচাকেনাটাও ডিজিটাল হয়ে গেছে। Bikroy.com সম্ভাব্য গাড়ির ক্রেতাদের নিজ নিজ ঘরে বসে স্বাচ্ছন্দ্যে বিপুল সংখ্যক গাড়ির সংগ্রহ থেকে বাছাই করার সুযোগ করে দিয়েছে। একবার যখন আপনি একটি নির্দিষ্ট গাড়ি কেনার জন্য মনস্থির করে ফেলবেন, তখন আপনি চাইলে বিক্রেতার সাথে সরাসরি দেখা করে গাড়িটি নিজ চোখে ভালোমত দেখে নিতে পারবেন। এছাড়াও Bikroy.com -এ আপনারা পাবেন ভালো মানের সেকেন্ড হ্যান্ড কিংবা ব্যবহৃত গাড়ি কেনা কিংবা আপনার নিজের ব্যবহৃত গাড়িটি ভালো দামে বিক্রি করার দারুণ সুযোগ।

শেষকথা

আপনার চাহিদা মত সঠিক গাড়িটি খুঁজে পাওয়া কোন সহজ ব্যাপার নয়। কিন্তু আপনি যে ধরণের গাড়িই কিনতে চাচ্ছেন না কেন-হোক তা বড়, ছোট, বাহারি বা ফ্যান্সি, সাদামাটা কিংবা হোক কোন হাইব্রিড মডেল, টয়োটার কাছে আপনার মনের মত কোনো না কোনো গাড়ি থাকবেই। যেহেতু গাড়ি কেনাটা যে কারো জন্য এক ধরণের বড়সড় বিনিয়োগ, তাই আমাদের আজকের প্রতিবেদনে আলোচিত বিষয়গুলো ভালোভাবে ভেবে চিন্তে ও পর্যালোচনা করে নিলে আপনি অবশ্যই আপনার পরবর্তী গাড়িটি কেনার ব্যাপারে একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। যদি আপনি অনলাইন থেকে একটি টয়োটা গাড়ি কেনার কথা চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আজই ব্রাউজ করুন Bikroy.com -এ আর দেখে নিন কোন সব নতুন অফার এখন চলছে। ভিজিট করুন আজই আর ঘরে নিয়ে আসুন আপনার নিজের টয়োটা গাড়িটি!


নিয়োগকারী হিসাবে চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে যে সকল গুণ দেখে নেয়া জরুরি

চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার চেয়েও যদি কঠিন কোন কাজ থেকে থাকে, তবে তা হলো একজন নিয়োগকারী হিসেবে স্বয়ং প্রার্থীদের ইন্টারভিউ নেয়া, কিংবা কাকে নিয়োগ দিতে হবে সে ব্যাপারে মত দেয়া। আপনার কোম্পানির জন্য শত শত আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে সঠিক প্রার্থীকে বাছাই করা বা সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াটা একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি কোন ভুল লোককে নিয়োগ দেন, বা নিয়োগ দেয়ার সময় সাধারণ কিছু ভুল করে বসেন, তাহলে শুধুমাত্র যে আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখে ছোট হতে হবে তাই নয়, একই সাথে আপনার কারণে কোম্পানির সম্মান ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ে যেতে পারে। আর সেজন্যই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সময় ছোট ছোট বিষয়গুলোতেও মনোযোগ দেয়া এত বেশি জরুরি।

আপনার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সঠিক ট্যালেন্টদের খুঁজে বের করার সময় আপনাকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। একজন নিয়োগকারী হিসেবে আপনাকে কিছু মূল বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করে দেখতে হবে এবং এর সাহায্যে অনুপযুক্ত বা বেমানান প্রার্থীদের মধ্যে থেকে সম্ভাবনাময় ও উপযুক্ত লোকগুলিকে বেছে নেয়া জানতে হবে। একজন আবেদনকারীর সিভি দেখে হয়তো আপাত দৃষ্টিতে তাকে কোম্পানির জন্য উপযুক্ত বা পারফেক্ট লোক বলে মনে হতে পারে, কিন্তু তাদের সাথে সামনা সামনি কথা বলার প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই এমন কিছু বিষয় আপনার সামনে চলে আসতে পারে যা আপনার মত তৎক্ষণাৎ বদলে দিতে পারে। যেখানে কিছু বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতা আপনার কোম্পানি থেকেই নির্ধারণ করে দেয়া থাকতে পারে, যেমন- শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা ইত্যাদি। কিন্তু সম্ভাব্য সেরা প্রার্থীগুলোকে সফলভাবে বাছাই করে নেয়ার জন্য কিছু বাড়তি গুণ তাদের মধ্য থেকে খুঁজে বের করতে হবে। নিচে সেরকম কিছু গুণ তুলে ধরা হলো:

১. উচ্চাকাঙ্ক্ষা

ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে আসা সব প্রার্থীরাই শুধুমাত্র চাকরির পদবীর দিকে তাকিয়ে আসেন না। তাদের মধ্যে কিছু লোক এমন থাকেন যারা মাস শেষের বেতনটাকে বেশি প্রাধান্য দেন, আবার কিছু লোক এমনও থাকেন যারা চাকরিটি থেকে নতুন কিছু শিখতে বেশি আগ্রহী এবং ভবিষ্যতের কথা ভাবেন। যদি আপনার চাহিদা একজন দীর্ঘমেয়াদী ও সমর্পণকারী লোক হয়, তাহলে আপনার উচিত এমন ব্যক্তিদের খোঁজ করা যারা সুযোগ সন্ধানী ও আত্ম-উন্নয়নের ব্যাপারে উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখেন। কেননা এই ধরণের কর্মীরা আপনার কোম্পানির সাথে বেশি দিন টিকে থাকবেন এবং প্রয়োজনের জন্য যেকোনো ধরণের কাজের চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। মূলত তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাই তাদেরকে হার মেনে নেয়া বা হাল ছেড়ে দেয়া প্রার্থীদের থেকে আলাদা করে।

উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিরা আপনার কোম্পানির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পারফর্ম করতে চাইবেন, তাই তাদেরকে ট্রেনিং দেয়াটাও এক রকম ভালো বিনিয়োগ। তাদের শেখা ও ক্যারিয়ারে উপরের দিকে ওঠার অনুপ্রেরণাগুলো আসলে অবচেতনভাবে আপনার কোম্পানির জন্যই উপকারী হয়ে দাঁড়াবে।

২. ইতিবাচক মনোভাব

কৌতুহল ও উদ্যম খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন আপনি কারো ইন্টারভিউ নিচ্ছেন। আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার সময় প্রার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব এবং উদ্যমী স্বভাব ফুটে ওঠা চাই। যদি তারা নম্রভাবে হাসেন, বিনয়ী থাকেন এবং আশাবাদী মনোভাব নিয়ে কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন, তাহলে তো খুবই ভালো। আপনার কোম্পানির জন্য একজন উদ্যমী মানুষ খুবই ভালো কর্মী হিসেবে গণ্য হবেন, কেননা তারা কাজের পরিবেশে এক ধরণের টাটকা নতুন এনার্জি নিয়ে আসবেন। একজন আশাবাদী মানুষ কাজের সময় সবচেয়ে কঠিনতম সমস্যাটি সমাধান করার সময়ও একটি গঠনমূলক ভঙ্গিমায় কাজ করতে পারবেন। এরকম একজন কর্মী কোম্পানিতে থাকলে বাকি সবার জন্যও কাজের পরিবেশ অনেকটাই ইতিবাচক হয়ে উঠবে।

একজন প্রার্থীর মনোভাব পরীক্ষা করার জন্য ইন্টারভিউয়ের সময় তাকে নানা রকম পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রশ্ন করে দেখতে পারেন। ইন্টারভিউয়ের সময় কাল্পনিক কোন সমস্যার সমাধান করতে দেয়াটা একটা ভালো অভ্যাস। কেননা এর সাহায্যে একজন প্রার্থীর মধ্যে নিয়োগ পাওয়ার পর বাস্তব জীবনে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো কার্যকরী ভাবে সমাধান করার মত যোগ্যতা ও দক্ষতা আছে কি না তা বোঝা যায়।

৩. যোগাযোগের বা কথোপকথনের দক্ষতা

ভালো যোগাযোগের দক্ষতা প্রার্থীদের মধ্যে থাকাটা আবশ্যক। ইন্টারভিউয়ের প্রশ্নগুলোর উত্তর সাবলীল ভাবে দিতে পারা, ইন্টারভিউ চলাকালীন অবস্থায় নিজের ব্যাপারে একটি আকর্ষণীয় বা কৌতুহল জাগানো গল্প বলতে পারা – এর যে কোন একটিই একজন প্রার্থীর মধ্যে থাকা শক্তিশালী যোগাযোগের দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে। ভালো মৌখিক যোগাযোগ, যেমন ফোন কলে কথা বলার সময় ভদ্রতার পাশাপাশি একজন প্রার্থীর লৈখিক যোগাযোগ বা লেখালেখির ক্ষমতাটাও (যেমন- রিপোর্ট ও ইমেইল) বেশ গুরুত্ব বহন করে। অন্যদের সাথে ভালোভাবে আলাপ করার ক্ষমতা একটি দারুণ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বা সফট স্কিল হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে যখন একজন কর্মী আপনার কাস্টমারদের সাথে সরাসরি কাজ করেন

একই সাথে একজন কর্মীর মৌখিক ও লৈখিক যোগাযোগের দক্ষতা পরীক্ষা করার জন্য দারুণ একটি উপায় হলো তাকে কোন একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রেজেন্টেশন লেখা ও পারফর্ম করতে দেয়া। আবার অন্যদিকে আপনি ইন্টারভিউয়ের সময় বা লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদেরকে বিস্তারিত প্রশ্ন করতে পারেন, আর দেখতে পারেন যে তারা একেক ধরণের কথোপকথনে কীভাবে উত্তর দিচ্ছেন আর কী রকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

৪. সহনশীলতা ও মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা

যেকোনো ধরণের পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেয়ার দক্ষতা সবার থাকে না, আর হয়তো এজন্যই এই গুণটি নিয়োগকারীদের চাহিদায় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। যেকোন প্রতিষ্ঠানের জন্য এমন একজন প্রার্থী বা কর্মী অনেক মূল্যবান, যারা দ্রুত যেকোন পরিবর্তন ও পরিস্থিতির সাহে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। একটি ব্যবসার লক্ষ্য এবং কৌশল গুলো সব সময়ই পরিবর্তনশীল, আর তাই সেখানে এমন সব কর্মী থাকা জরুরি যারা অভিযোজনে দক্ষ ও সহনশীল। জেদি ও অনমনীয় কর্মীরা একটা সময় আপনার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতায় বাধার সৃষ্টি করে থাকেন, কেননা তারা কর্মক্ষেত্রে কোন ধরণের পরিবর্তনকে মেনে নিতে চান না। অন্যদিকে নমনীয় ও সহনশীল কর্মীরা আপনার বিপদের সময়ে কাজে আসবেন, বিশেষ করে যখন জনবল কম থাকে। তারা এ ধরণের পরিস্থিতিতে যেখানে যেভাবে সম্ভব সাহায্য করতে ও কোম্পানিকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

৫. ব্যক্তিত্ব

চাকরি প্রার্থীদের ইন্টারভিউ নেয়ার সময় আপনার বিভিন্ন ধরণের বৈচিত্রময় ব্যক্তিত্বের মানুষের সাথে পরিচয় হওয়ার সুযোগ হবে। এদের মধ্যে কেউ কেউ অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী হবেন, কেউ অনেক উদ্যমী ও কর্মশক্তিতে পরিপূর্ণ থাকবেন, যেখানে কেউ কেউ আবার লাজুক বা নার্ভাস প্রকৃতির হবেন। আসলে বেশির ভাগ ইন্টারভিউয়াররাই এমন লোকের দিকে বেশি আকৃষ্ট হন যাদের মধ্যে সহজাত ও আত্মবিশ্বাসী প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু এরই সাথে তাদের ব্যক্তিত্বের সূক্ষ্ম দিকগুলোতেও খেয়াল করা দরকার। সুপ্ত ও গভীর বৈশিষ্ট্যগুলো একজন প্রার্থীর বিনয়ী স্বভাব ও আন্তরিকতার মত গুণগুলো ফুটিয়ে তুলতে পারে, যেমন- আগের অর্জন ও প্রাপ্তিগুলোর কথা বলার সময় নম্রতা, কিংবা আগের নিয়োগকারী ও কলিগদের ব্যাপারে ভালো মন্তব্য করা ইত্যাদি। এ ধরণের লোকগুলো বেশির ভাগ কোম্পানির জন্যই দারুণ কর্মী হতে পারেন, কেননা তাদের সাথে মিলেমিশে কাজ করা ও সম্পর্ক রাখা সহজ।

তবুও প্রত্যেকটি কোম্পানিই নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যে আলাদা এবং তাদের প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতিও ভিন্ন। সুতরাং এমন একজন লোককে নিয়োগ দেয়া আপনার জন্য ভালো হবে, যে কি না পুরো কোম্পানির বাকিদের সাথে ভালোভাবে মিশে যেতে পারবেন। আর এভাবেই নতুন এবং বর্তমান সব কর্মীরা একে অপরের সাথে মেলামেশা করতে ও ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।

৬. নির্ভরযোগ্যতা

আপনার কোম্পানির জন্য সেরা ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। কোন প্রার্থীর সাথে আলাপের পর যদি এমন মনে হয় যে তারা ঠিক ততটা নির্ভরযোগ্য নন, তাহলে সেই ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া কোন ভাবেই সঠিক হতে পারে না। নির্দিষ্ট সময়সীমার দিকে খেয়াল রাখা, যত্ন সহকারে ও সঠিক ভাবে কাজ সম্পন্ন করা এবং চাকরিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার মত বেসিক গুণগুলো মূলত সব ধরণের কর্মীর কাছ থেকেই আশা করা হয়। আর একজন অবিশ্বস্ত কর্মী হয়তো মাঝে মাঝে ন্যূনতম পরিমাণ কাজ করতেও অনীহা দেখাবেন। পাশাপাশি এই ধরণের কর্মীদের মধ্যে হয়ত কর্মক্ষেত্রে অনৈতিক কাজকর্ম করার প্রবণতাও থাকতে পারে। তারা হয়ত কাজের মধ্যে ফাঁকি দেয়া বা অসম্পূর্ণ কাজ করার চেষ্টা করবেন, কিংবা কিছু কিছু ভুল কাজকে উপেক্ষা করে চলবেন। আর এসব সমস্যা একটা সময় আপনার কোম্পানির সম্মান ও মর্যাদাকে নষ্ট করে দিতে পারে, বা এর চেয়েও খারাপ, যেমন আপনার কাস্টমারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই কোম্পানিগুলোর জন্য এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া ও ধরে রাখার চেষ্টা করা আবশ্যক, যারা কোম্পানির জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বলে প্রমাণিত হবেন।

শেষকথা

একজন নিয়োগকারীর ভূমিকা পালন করা কোন সহজ কাজ নয়। আপনার প্রতিষ্ঠানের অনবদ্য অংশ হতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করাটা অসম্ভব রকম চ্যালেঞ্জিং একটা ব্যাপার হতে পারে। তবুও, আপনি যেন আপনার কোম্পানির জন্য সম্ভাব্য সেরা প্রার্থীগুলোকে বাছাই করে নিতে পারেন সেটা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়াটা আদতে আপনার কোম্পানির ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান একটি ধাপ। বলা হয় যে যেকোন কোম্পানির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে তাদের জনসম্পদ বা জনবল। কেননা কাকে কাকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে তারা একটি ব্যবসাকে গড়ার কিংবা ভাঙার ক্ষমতা রাখেন। অতএব চেষ্টা করুন যেন মার্কেটের সব প্রার্থীদের মধ্যে শুধু সেরাদেরই আপনার কোম্পানিতে নিয়োগ দিতে পারেন সব সময়। নিয়োগ দিন নিশ্চিন্তে!

আপনি কি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য পরবর্তী সেরা ট্যালেন্টদের খুঁজছেন? আপনার কোম্পানিতে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সেরা সব প্রার্থীদের আবেদন পাওয়ার জন্য ব্যবহার করুন আমাদের অ্যাডভান্সড অপশন “ট্যালেন্ট সার্চ, আর আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য সেরা লোকগুলোকে খুঁজে পাওয়ার জন্য বাছাই করুন ৪৩৪,০০০ -এরও বেশি সংখ্যক প্রোফাইল থেকে।


ফ্ল্যাট খোঁজার টিপসঃ ইউনিভার্সিটি ভর্তির জন্য ঢাকায় আসা ছাত্র ছাত্রীদের জন্য

যেকোনো জায়গায় বসবাসের জন্য একটি পারফেক্ট থাকার জায়গা খুঁজে বের করা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ঢাকা শহরে থাকার জন্য মেস, সাবলেট বা ছোট ফ্ল্যাট যে যেটাই খুঁজচ্ছেন না কেনো – দিনশেষে নিজে মনমতো না হলে কারোরই ভালো লাগেনা। জায়গা খোঁজা শুরু করার আগে থাকার ঘরটির সাইজ কত স্কয়ার-ফিট চাচ্ছেন, বাসা ভাড়ার জন্য আপনার বাজেট কীরকম কিংবা বন্ধুদের সাথে শেয়ারে ফ্ল্যাটে উঠতে চাচ্ছেন কিনা তা আগে নির্ধারণ করে নিন। প্রথমবারের মত যারা ঢাকায় স্টুডেন্ট হিসেবে আসছেন তাদের সাহায্যের উদ্দেশ্যেই আমাদের এই আর্টিকেলটি। এই আর্টিকেলটি ছাড়াও ঢাকা শহরে থাকার জন্য পছন্দসই জায়গা খুজে পেতে ভিজিট করতে পারেন এই লিঙ্কটি – ঢাকা শহরে নতুন? খুঁজে নিন ভাড়া বা কেনার জন্য উপযুক্ত বাসা

কর্মক্ষেত্রের আশেপাশে থাকার জায়গা খুঁজে বের করা-  

একজন স্টুডেন্টের থাকার জন্য নিজস্ব একটি জায়গা থাকা অতি প্রয়োজনীয় কারণ এতে করে সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে নিজের মত করে থাকা, সময় কাটানো যায়। এছাড়াও নিজের থাকার জায়গা থাকলে নিজের প্রাইভেসির সাথেও কম্প্রোমাইজ করতে হয় না যেটা কিনা আত্মীয় বা পরিচিত কারো বাসায় থাকতে গেলে সম্ভব হয়ে উঠেনা। অনেকে আবার যারা পড়াশুনার পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করেন তাদের সারাদিন বাধা-ধরা রুটিন শেষে নিজের মত করে একটু পারসোনাল সময় কাটাতে ইচ্ছা করে। কর্মসংস্থান থাকলে একা থাকার ব্যাপারটা অনেকাংশে সহজ হয়ে যায় যেহেতু নির্দিষ্ট আয়ের একটা ব্যবস্থা  থাকে।

একা থেকে ক্লাস এবং অফিসের প্রতিদিনের টানা পোড়ন সামলানো, সেই সাথে বাসা অফিস ইউনিভার্সিটি যাতায়াতের যেই খরচ সেটার দিকেও নজর রাখতে কর্মক্ষেত্রের কাছাকাছি বাসা নেওয়াটা জরুরি। অফিস বা ইউনিভার্সিটির কাছাকাছি থাকার জায়গাটি কিভাবে  খুঁজে বের করতে পারবেন অনায়াসেই, জানতে ভিজিট করুন এই লিঙ্কটিতে- কিভাবে আপনার আশেপাশেই ভাড়ার জন্য অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাবেন

জায়গা খোঁজা শুরুর আগে যেসব বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে

  • ভাড়াঃ ঢাকা শহরে মেস, সাবলেট বা ছোট অ্যাপার্টমেন্ট যেটাই হোক না কেনো ভাড়া মোটামুটি ভালোই পড়ে যায়। আবার এলাকার ভিত্তিতেও ভাড়ার তারতম্য দেখা যায়। আপনি যদি থাকার জন্য বারিধারা বা ধানমন্ডি এলাকা বেছে নেন তাহলে খরচ তুলনামূলক একটু বেশিই পড়বে। অন্যদিকে বসুন্ধরা বা উওরার দিকের এলাকাগুলোতে একটু কম বাজেটের মধ্যেই বাসা পাওয়ার সুযোগ আছে। বাসা ভাড়া আনুমানিক ৫,০০০/- টাকা থেকে শুরু করে ২০,০০০/- টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা সাধারণত একজন স্টুডেন্টের পক্ষে অনেক ব্যয়বহুল। যারা ছোট খাট বা পার্ট টাইম জবও করেন তাদের জন্যেও খরচটা ভালোই পড়ে যায়। সারাদিন অফিস ক্লাস সামলে, ছুটির দিনে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে নিজের পছন্দসই থাকার জায়গা খুঁজে খুঁজে হয়রান হওয়ার থেকে ঘরে বসেই Bikroy.com থেকে পছন্দের শহর এবং এলাকার ভিত্তিতে খুব সহজেই খুজে দেখতে পারবেন থাকার জায়গা। এতে করে আপনার যেমন বেঁচে যাবে যাতায়াতের খরচটা সেইসাথে বেঁচে যাবে অনেকখানি সময়।    
  • থাকার জায়গাটির আশেপাশের অবস্থার প্রতি নজর রাখাঃ থাকার জায়গা খোঁজার সময় সবার যেটা নজরে থাকে তা হচ্ছে, এলাকাটি কিরকম, আশেপাশের মানুষেরা কিরকম সেটার প্রতি। খরচ বাচানোর জন্য অনিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বেছে নেওয়া মোটেও ভালো না কারো জন্যই। থাকার জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং নির্ঝঞ্ঝাট এলাকাই পছন্দের তালিকার শীর্ষে হওয়া চাই। সেই সাথে আশে পাশে কোন ধরণের মানুষ বসবাস করছে সেই দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে নিজেকে যেকোন অপ্রীতিকর অবস্থা থেকে নিরাপদ রাখার জন্য। সবচেয়ে ভালো হয় যদি একসাথে কয়েকজন মিলে থাকা যায়। একই পেশা, বয়সের হলে সবার সাথে সবার খাপ খাওয়াতেও সুবিধা হয় সাথে অন্য সবদিক থেকেও সহজ হয়। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পরে বৈরি বা প্রতিকূল পরিবেশে থাকাটা যেমন অস্বস্তিকর তেমনি মানসিক চাপেরও সৃষ্টি করে।
  • রুমমেটঃ একা থাকার চেয়ে রুমমেট নিয়ে থাকাটা অনেকাংশে উপকারী। বিশেষ করে যারা ঢাকায় একদমই নতুন তাদের জন্য। দুই তিনজন মিলে যদি একসাথে থাকেন সেক্ষেত্রে সবদিক থেকেই সুবিধা হয়। বাসা ভাড়াটা ভাগাভাগি করে নেওয়া, সেই সাথে খাওয়ার খরচ সহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচাপাতিগুলোও ভাগাভাগি করে নেওয়া যায়। ফলে সাশ্রয় হয় অনেক। তাছাড়া বিপদে আপদে অচেনা এই ব্যস্ত শহরে জুটে যায় কয়েকজন আপনজন।
  • দূরত্বঃ ঢাকা শহরের জ্যামের ভয়াবহতার কথা সবারই কম বেশি জানা। তাই থাকার জায়গাটি যদি হয় অফিস বা ইউনিভার্সিটির কাছাকাছি তাহলে যথেষ্ট সময় বেঁচে যায় প্রতিদিন। সেই সাথে যাতায়াতের খরচটাও বাঁচে অনেকখানি। বাসা যদি দূরে হয় তাহলে সবদিন হাতে অনেকখানি সময় নিয়েই বের হতে হবে ঠিক সময়ে ক্লাস বা অফিস ধরার জন্য।
  • কোচিং সেন্টারঃ কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য অনেকেই এক্সট্রা কোচিং এ ভর্তি হওয়ার দরকার অনুভব করেন। সেক্ষেত্রে কোচিং সেন্টারের আশেপাশে বাসা নিতে পারলে অনেক সহজ হবে ক্লাস করা সেই সাথে পড়াশুনায় একটু বেশি সময় দেওয়ার। এছাড়া বাসা থেকে কোচিং এর দূরত্ব হাঁটা পথ হলে জ্যামেও অযথা সময় নষ্ট হবেনা।
  • ফিমেল স্টুডেন্টঃ ঢাকা শহরে কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার করতে আসা ছাত্রীদের জন্য ভালো একটা থাকার জায়গা খুজে পাওয়া খুব একটা সোজা কাজ নয়, কিন্তু কেউ যদি থাকার জন্য একটা আদর্শ জায়গা খুঁজে পেয়ে যায় তাহলে নিত্যদিনের জীবনযাপন অনেকটা সহজ এবং আরামদায়ক হয়ে যায়। ছাত্রীদের নিজেদের নিরাপত্তা এবং নিরাপদে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো হয় অন্য একজন ছাত্রীর সাথে শেয়ারে থাকা তার সাথে যেই এলাকায় থাকার জন্য বাসা ঠিক করেছেন সেই এলাকাটি ভালো কিনা এবং থাকার উপযুক্ত কিনা তা বাসা ভাড়া নেওয়ার আগে যাচাই বাছাই করে নেওয়া । ঘনবসতিপূর্ণ এবং সেই সাথে লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন এলাকা পরিহার করে যাওয়াই ভালো।
  • অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসমূহঃ এলাকা অনুযায়ী, থাকার জায়গার সাথে দেওয়া আনুষাঙ্গিক অন্যান্য সুযোগ সুবিধার তারতম্য দেখা যায়। এসব অন্যান্য সুযোগ সুবিধার মধ্যে রয়েছে, পানি, বিদ্যুৎ এবং গ্যাস লাইনের সংযোগ। থাকার জায়গা ঠিক করার আগে, সব ধরণের সুযোগ সুবিধা না থাকলেও প্রাথমিক সুবিধাগুলো যেনো পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করে নিতে হবে। যেসব এলাকায়, পানি, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের সমস্যা রয়েছে সেসব এলাকায় বাসা নিলে দৈনন্দিন জীবনে পড়তে হতে পারে নানা সমস্যায়। এতে করে ক্ষতি হতে পারে পড়ালেখারও।

আদর্শ থাকার জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে-

Flats in Dhaka

উপরের বিষয়গুলো ছিলো জায়গা নির্বাচনের সময় যেগুলোর খেয়াল রাখতে হবে। এখন হচ্ছে সেসব বিষয়গুলো নিয়ে কথা যেগুলো জায়গা ঠিক করার পরে খেয়াল করতে হবে। রুমের সাথে  নিজস্ব বাথরুম এবং রান্নাঘর থাকলে সুবিধা হয় কমন বা শেয়ারড হওয়ার থেকে। সবার জন্য একটি মাত্র রান্নাঘর থাকার সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে সবাই একই বাসনপত্র , কড়াই, রান্নায় ব্যবহৃত মসলাপাতি এবং অন্যান্য দরকারি জিনিসপত্র ব্যবহার করে থাকে। একই সাথে থাকা সবগুলো মানুষের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা একই রকম না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কমন বাথরুমের বেলায়ও  একই ব্যাপার।

বাসায় কয়টা বেডরুমের দরকার তা নির্ভর করবে আপনি একা থাকবেন না সাথে রুমমেট থাকছে এবং থাকলে কয়জন রুমমেট একসাথে থাকছেন সেটার উপর। বড় বাসা হলে বেশি রুমমেট হলেও সমস্যা হয়না যেহেতু ঘরের সংখ্যা বেশি থাকে।

মেসে থাকা নির্ধারণ করলে, আপনাকে প্রথমে কতগুলো বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। যেসব মেসের বেশিরভাগ বাসিন্দাই ছাত্র সেসব মেসে সাধারণত সিট পাওয়া মুশকিল এবং কষ্টসাধ্য। এজন্য সেমিস্টার শুরু হওয়ার আগেই মেস খুঁজে সিট বুকিং দিয়ে রাখতে হবে যেনো পরবর্তীতে সমস্যায় না পড়তে হয়। মেসে থাকার আরেকটি জরুরি বিষয় হচ্ছে, মেসে থাকতে গেলে নানা স্বভাবের, নানা ধরণের মানুষের সাথে থাকতে হয়। তাই সকলের সাথে মানিয়ে চলার অভ্যাস না থাকলে এবং শুধু আত্মকেন্দ্রিক হলে মেসে থাকাটা সহজ না হয়ে বরং কঠিনই হয়ে পড়ে। তাছাড়া মেস এমন একটি জায়গা যেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নোংরা থাকে কিন্তু আপনি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করলে, আপনার নিজেরই আগ বারিয়ে নিজের অংশটুকু পরিষ্কার রাখতে হবে। এসব সত্ত্বেও মেসে সবার সাথে থাকার আলাদা একটা আনন্দ আছে এবং অনেকে একসাথে থাকায় শত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও দিন শেষে আনন্দময় একটা পরিবেশই বজায় থাকে।

ঢাকা শহরে সাবলেট খুজে পাওয়া একটু কঠিনই কিন্তু ঠিকভাবে খোঁজাখুঁজি করলে আবার সহজেই পাওয়া যাবে। সাবলেট ঠিক করার আগে, সেটার ভাড়া, বাথরুম এবং রান্নাঘরের অবস্থা দেখে নিতে হবে। অনেক ছাত্র ছাত্রীর জন্য সাবলেট থাকাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। কারণ সাবলেটে নিজস্ব একটি থাকার জায়গা হয় সেই সাথে খরচটাও তুলনামূলকভাবে বেশি পড়েনা অন্য বাসা ভাড়া নেওয়ার মত।  

ঢাকা শহরে উপযুক্ত এবং পছন্দসই জায়গা খুঁজে পাওয়াটা খুব একটা সহজ কাজ না কিন্তু তারপরেও Bikroy.com এর মত প্ল্যাটফর্ম গুলো থাকায় এখন অনেকেই খুব সহজে খুঁজে নিতে পারছেন নিজেদের কাঙ্ক্ষিত বসবাসের জায়গাটি।

নিজের জন্য জায়গা খুঁজবেন কীভাবে?

এতক্ষণ তো কথা হল, কোন ধরণের জায়গার ক্ষেত্রে কী কী বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে এখন জানা যাক কিভাবে খুব সহজেই কীভাবে নিজের পছন্দের জায়গাটি খুঁজে বের করতে পারবেন।

গতানুগতিক উপায়ঃ

ফ্ল্যাট, মেস বা সাবলেট খোঁজার সবচেয়ে গতানুগতিক উপায় হচ্ছে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে বা টু-লেটের সাইনবোর্ড দেখে দেখে গিয়ে খোঁজ নেওয়া। অনেকেই আবার ঢাকা আসার আগে নিজেদের পরিচিত আত্মীয়দের ফোন করেও আশেপাশের পরিচিত থাকা যাবে এমন জায়গার খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন। আবার অনেকে তাদের চেনা শোনা রিয়েল এস্টেটের এজেন্টদের থেকেও খবর সংগ্রহ করেন যেটা কিনা বেশিরভাগ সময়ই একটু বেশি খরচের হয়ে থাকে।

আধুনিক উপায়ঃ

পছন্দসই থাকার জায়গা খোঁজার আধুনিক পন্থা হচ্ছে, অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট/প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে বাসা খোঁজা। যেমন Bikroy.com। বর্তমানে Bikroy.com এর মাধ্যমে খুব সহজেই বিনা ঝামেলায় ঘরে বসেই পছন্দসই থাকার জায়গা খুঁজে নিচ্ছেন অনেকে। ওয়েবসাইটে গিয়ে পছন্দের এলাকা এবং নিজের ভাড়ার বাজেটের পরিমাণ উল্লেখ করে নিমেষেই পেয়ে যাবেন থাকার জায়গার লিস্ট। এখন সব কিছুর সাথে সাথে প্রপার্টি মার্কেটও ডিজিটাল হয়ে গেছে। এভাবে সরাসরি বাড়ির মালিকের সাথে ভাড়াটিয়ার যোগাযোগের রাস্তা থাকায় দালাল বা কোনো তৃতীয় ব্যক্তির সাহায্যের দরকার পড়েনা। অনলাইন প্রপার্টি মার্কেট প্রসঙ্গে আরো বিস্তারিত জানতে ভিজিট Bikroy Blogs এর এই লিঙ্কটি- ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশের প্রপার্টির বাজার

সর্বোপরি, নিজের থাকার জন্য ফ্ল্যাট, মেস বা সাবলেট যে কোনটাই ঠিক করা একটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধান্ত। কোথায় থাকা হচ্ছে তার উপর ব্যক্তির দৈহিক এবং মানসিক অবস্থা দুটোই নির্ভর করে। থাকার জায়গাটি যদি আরামদায়ক এবং পছন্দসই না হয় সেক্ষেত্রে ক্লাস,পড়াশুনা কোন কিছুতেই কোন আগ্রহ আসেনা। এজন্য ভালো একটি থাকার জায়গা নির্বাচন করা জরুরি। এজন্য ভিজিট করতে পারেন- Bikroy Blogs এর এই লিঙ্কটি – কিভাবে আপনার আশেপাশেই ভাড়ার জন্য অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাবেন। নিত্য পরিবর্তনশীল প্রপার্টি মার্কেটে যদি সেরা লেনদেন সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনার বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট মার্কেট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা চাই। বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট মার্কেট সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন এই লিঙ্কটি – ২০১৮ সালে আবাসন খাত এর সার্বিক অবস্থা। জায়গা নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পরে ভাড়া, আশেপাশের প্রতিবেশীরা কে কীরকম, থাকার জায়গাটির অবস্থা এবং অন্যান্য সুবিধা সেগুলোও দেখে নিতে হবে যেনো পরবর্তীতে কোন ঝামেলায় না পড়তে হয়। আশা করছি আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনাকে আপনার পছন্দসই জায়গা খুঁজে পেতে সহযোগীতা করবে। তাছাড়া আপনি চাইলে কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন আপনার মতামত।


যে ৫ টি ভুল আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর

একটি নতুন চাকরি শুরু করার পর আমরা অনেকেই নানা রকম ভুল করে থাকি। এর মধ্যে কিছু ভুল সহজেই শুধরে নেয়া যায় আর তেমন কোন বড় ক্ষতিও করে না, কিন্তু কিছু ভুল এমন রয়েছে যেগুলো আমাদের চাকরি খোয়ানোর কারণ হতে পারে। আমাদের করণীয় কাজ সম্পর্কিত ভুলগুলো আমরা সময়ের সাথে ধীরে ধীরে এড়িয়ে চলতে শিখি, একই সাথে নানা রকম অভিজ্ঞতা থেকেও আমরা শিক্ষা নিতে পারি। কিন্তু আমাদের স্বভাবের ভুলগুলো এমন, যার পেছনে আমাদের স্বক্রিয়ভাবে কাজ করা এবং সব সময়ই এই ব্যাপারে সচেতন থাকা দরকার।

আমাদের স্বভাবের মারাত্মক ভুলগুলো এড়িয়ে চলার মাধ্যমে আমরা আমাদের ক্যারিয়ারের পথে সামনে এগিয়ে চলার রাস্তা খুঁজে পেতে পারি এবং ভবিষ্যতে সত্যিকারের সাফল্য অর্জন করতে পারি। আজ আমরা এমন কিছু সর্বজনীন ভুল আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যেগুলো একটা সময় আপনার ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। পাশাপাশি আমরা জানবো এমন কিছু টিপস, যার সাহায্যে এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলা আপনাদের জন্য সহজ হবে।

যদি প্রায়ই নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া আপনার চাকরির একটি অংশ হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের আগের প্রতিবেদনটি পড়ে দেখতে পারেন কর্মী নিয়োগ দেয়ার সময় সাধারণ কিছু ভুল সম্পর্কে।

১. কর্মস্থলে সম্পর্ক রক্ষা করার ব্যাপারে উদাসীনতা

বেশির ভাগ চাকরিতেই একটি খোলামেলা অফিস স্পেসে অনেক রকম সহকর্মী, সুপারভাইজার এবং অধস্তন কর্মীদের পাশে বসে একসাথে কাজ করার প্রচলন রয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই কেবল মাত্র নিজ নিজ কাজ ও দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকি, অথচ যাদের সাথে বসে কাজ করছি তাদের কথা এক রকম ভুলেই যাই। আমাদের যার যার অফিস স্পেসে ইতিবাচক ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমাদের উচিত প্রত্যেকটি সহকর্মী এবং স্টাফদের সাথে পরিস্থিতি বুঝে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা।

কর্মক্ষেত্রে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হচ্ছে প্রমোশন বা পদোন্নতি হওয়ার সুযোগ। প্রায়শই দেখা যায় যে, যেসব কর্মীরা তাদের সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ, তারা খুব অল্প সময়েই উচ্চতর পদে প্রমোশন পেয়ে থাকেন। কেননা এই কর্মীরা তাদের অসাধারণ যোগাযোগের দক্ষতা এবং বন্ধুসুলভ আচরণের জন্য সবার চোখে একেকজন ভালো নেতা হিসেবে বিবেচিত হন।

অতএব, আপনার চারপাশের মানুষগুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চললে একদিকে যেমন অফিসের পরিবেশে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেয়া আপনার জন্য সহজ হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতেও আপনি আপনার ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত অবস্থানে পৌঁছে যেতে পারবেন। সহকর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করার কিছু সহজ উপায়গুলোর মধ্যে একটি হলো তাদের সাথে দেখা হওয়া মাত্রই সহজ ভাবে কুশল বিনিময় করা, যেমন- সাক্ষাতে “হ্যালো” কিংবা সালাম বিনিময় করা যেতে পারে। এছাড়া বিরতি বা অবসর সময়ে তাদের সাথে বন্ধুসুলভ কথোপকথন, আড্ডা দেয়া এগুলোও কর্মক্ষেত্রে আপনার কাজের অভিজ্ঞতাকে করে তুলবে আরও আন্তরিক।

আমাদের এই প্রতিবেদনটি পড়ে দেখতে পারেন নিয়োগকারীদের চোখে যোগাযোগের দক্ষতা কতটা জরুরি এবং ক্যারিয়ারের কোন গুণগুলো চর্চা করা উচিত

২. নেটওয়ার্কিং না করা

আপনি যেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন, সেখান থেকে সেরা সুবিধাগুলো পেতে চাইলে নেটওয়ার্কিং এর গুরুত্ব অপরিসীম। সামগ্রিকভাবে আপনার ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে থাকা মানুষগুলোর সাথে পরিচয় রাখার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কগুলো কোম্পানির বাইরেও বিস্তার করা সম্ভব। অন্যান্য কোম্পানি কিংবা ক্ষেত্রের মানুষগুলোর সাথে পরিচিত হওয়ার সুবিধা হচ্ছে যে আপনি বাস্তবে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য আরো বেশি উন্নতির সুযোগ তৈরি করে নিতে পারবেন।

আপনার নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা মানুষগুলো একটা সময় আপনার ক্যারিয়ারের যাত্রায় সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারেন; কেননা তারা প্রতিনিয়ত আপনাকে আরো ভালো পদের চাকরি এবং আপনার কাজের সাথে জড়িত সুযোগগুলো আপনাকে জানিয়ে দিতে পারবেন। তাই আপনার নেটওয়ার্ক বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আপনার সমমানের ক্ষেত্রে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিদের সাথে পরিচিত হতে চাইলে অফিসের বাইরে মাঝেমধ্যে যাতায়াত করা এবং ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত ছোট বড় ইভেন্ট এবং কনফারেন্সে অংশ নেয়া খুবই জরুরি। এই উপায়ে আপনি নিজেকে শুধুমাত্র একটি কোম্পানির গন্ডিতে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং আপনার ক্যারিয়ারকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলার মত সুবর্ণ সুযোগগুলো সম্পর্কে বেশি করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

আপনার নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করার আরো একটি কার্যকরী উপায় হচ্ছে আপনার কোম্পানির নিয়োগকারীদের সাথে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করে চলা, বিশেষ করে যখন আপনি চাকরিটি ছেড়ে দিচ্ছেন। একটি চাকরি ছেড়ে দেয়া কিংবা বহিষ্কার হওয়াটা যে সব সময় খারাপ ভাবেই ঘটতে হবে এমন কোন কথা নেই। বরং আপনার নিয়োগকারীদের সাথে চাইলে আপনি একটি ভালো বোঝাপড়া তৈরি করে নিতে পারেন, যাতে করে তারা আপনার সাথে যোগাযোগ রাখেন এবং ভবিষ্যতে আপনার উপযুক্ত কোন চাকরির সুযোগ থাকলে আপনার জন্য সুপারিশ করতে রাজি হন।

নেটওয়ার্কিং করার আরো একটি সুবিধা হচ্ছে যে আপনি এমন কিছু ইন্ডাস্ট্রিও খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন যেখানে আপনার ভালো পারফর্ম করার সম্ভাবনা রয়েছে। দেখে নিন বাংলাদেশের সেরা দশটি আকাঙ্ক্ষিত চাকরির তালিকা। আর যদি আপনার এই ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করা কোন ব্যক্তির সাথে পরিচয় থাকে, তাহলে আপনার বর্তমান চাকরির চেয়েও ভালো কোন চাকরির সুযোগ খুঁজে পেতে পারেন খুব সহজেই।

৩. সোশ্যাল মিডিয়া বা গণমাধ্যমের অপব্যবহার

আজকের দিনের দ্রুত গতির ডিজিটাল দুনিয়ায় আমরা দেখেছি সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি আমাদের ক্যারিয়ারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের মধ্যে অনেকেই ফেসবুক, কিংবা অন্য যেকোন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কোন কিছু পোস্ট দেয়ার সময় তেমন একটা ভাবার প্রয়োজন মনে করি করি না। অথচ এই খামখেয়ালি পোস্টগুলো আমাদের কর্মজীবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার বস কিংবা সহকর্মীদের ব্যাপারে অযাচিত খারাপ কোন মন্তব্য পোস্ট কিংবা কমেন্ট করলে সেটি যদি তাঁদের চোখে পড়ে, তাহলে আপনি বড় রকম বিপদেও পড়তে পারেন। ইন্টারনেটে সব কিছু এতটাই খোলামেলা যে এরকম কিছু ঘটা অস্বাভাবিক নয়। একই ভাবে আপনার কর্মক্ষেত্র বা অফিস নিয়ে খারাপ কোন পোস্ট বা কমেন্ট করলে আপনার চাকরিটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

যেটাই হোক, এখানে চাকরি চলে যাওয়ার চেয়েও খারাপ কিছু আপনার সাথে ঘটতে পারে। এর পর নতুন একটি চাকরি খুঁজে পাওয়া আরো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, কেননা আজকাল অনেক কোম্পানিই নতুন কোন সম্ভাবনাময় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়ার সময় সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টগুলো দেখে  তাঁর অতীত ইতিহাস নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। আর যদি নিয়োগকারীরা দেখেন যে আপনি সবার সামনে আপনার আগের চাকরিদাতাদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছেন, তাহলে আপনাকে তাদের কোম্পানিতে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে আর কোন আগ্রহই হয়ত থাকবে না।

অতএব আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ব্যবহার করার সময় স্মার্ট হোন এবং যেকোনো কিছু পোস্ট করার আগে ভেবে নিন। আপনার কর্মক্ষেত্রে যা কিছুই ঘটছে, সে সব কিছুর ব্যাপারে গণহারে পোস্ট করা বা কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন এবং যাদের সাথে আপনি কাজ করছেন তাদের ব্যাপারে খোলাখুলি ভাবে কখনোই কোন খারাপ মন্তব্য করবেন না!

৪. কাজ করার সময় ঢিলেমি বা অবহেলা করা

এটা নিঃসন্দেহে একটি বিশাল ভুল। কাজের ক্ষেত্রে আপনার সেরা চেষ্টাটা না দেয়া কিংবা কাজের সময় ঢিলেমি করার অভ্যাস থাকলে তা আপনার সুপারভাইজারদের চোখে পড়তে বাধ্য। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ না করতে পারা, ঠিকভাবে গুরুত্ব সহকারে কাজটি শেষ না করা, কিংবা দলবদ্ধ কাজের ক্ষেত্রে নিজে কিছু না করে আপনার সহকর্মীদের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল থাকার মত ভুলগুলো আপনাকে আপনার ঊর্ধ্বতন বা সিনিয়রদের নজরে একটি বিপদজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। প্রথম দিকে হয়তো আপনাকে একটি সতর্ক বার্তা পাঠাবে, যাতে করে আপনি সেই ভুল আর না করেন। কিন্তু তারপরও আপনি যদি কর্মক্ষেত্রে সেই একই ধরণের ভুল বার বার করতে থাকেন, তাহলে খুব শীঘ্রই হয়ত আপনার চাকরি চলে যেতে পারে।

যদিও যেকোনো চাকরিতে একেবারে নিখুঁত রেকর্ড রাখা কখনোই সম্ভব নয়, তারপরও নিয়োগদাতারা তাঁদের কর্মচারীদের কাছ থেকে একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে নিষ্ঠা ও চেষ্টা পাবার আশা করেন। যদি আপনি ক্রমাগত তাদেরকে আপনার পারফর্মইয়া পারফর্মেন্স দিয়ে নিরাশ করতে থাকেন, তাহলে হয়তো সময় এসেছে নিজেকে নতুন করে মূল্যায়ন করার এবং কেনো আপনার পারফর্মেন্স খারাপ হচ্ছে তার কারণ খুঁজে বের করার।

চাকরিতে ঢিলেমি বা অবহেলা শুরু করার আরো একটি বড় কারণ হতে পারে যে মানুষটি সেই কাজে আর নতুন করে উৎসাহ পাচ্ছেন না। আপনার বর্তমান চাকরির জায়গা থেকে মোটামুটি ভালো বেতন এবং ভালো সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরও হয়তো আপনার এমনটা অনুভব হতে পারে যে কাজটি আদৌ আপনার জন্য নয়। সেজন্য আমাদের মধ্যে অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন ক্যারিয়ার অপশন খুঁজে দেখেন যে তাঁদের জন্য ঠিক কোন অপশনটা সবচেয়ে মানানসই। আর সেখান থেকে প্রায়ই আমরা এমন কোন কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ি, যেখানে আমরা আমাদের স্বার্থ বা প্রাপ্তির দিকটা ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র বেতনের অংকটাই বড় করে দেখি, আর অপ্রাপ্তি নিয়ে কাজ করি। এরকম ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই সেজন্য ভালোভাবে রিসার্চ করে নেয়া দরকার যে আমরা ঠিক কোন ধরণের চাকরি করতে চাই এবং এদের মধ্যে কোনটি সত্যিকার অর্থে আমাদের পছন্দের ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারবে। আমাদের প্রতিবেদনটি পড়ে দেখে নিতে পারেন যেকোনো চাকরিতে আবেদন করার আগে যে তথ্যগুলো যাচাই করে নেয়া দরকার

৫. কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তনের সাথে তাল না মেলানো

আজকাল কর্ম প্রতিষ্ঠানগুলোয় দ্রুত হারে পরিবর্তন হচ্ছে এবং তারা মার্কেটে সেরা অবস্থানে পৌঁছাবার জন্য নিজ নিজ কৌশলগুলোকে নতুন ভাবে সাজাচ্ছেন। প্রতি বছর প্রযুক্তির নতুন মাত্রায় অগ্রগতির সাথে মার্কেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টিকে থাকার জন্য কোম্পানিগুলোকে সর্বশেষ পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হচ্ছে সব সময়। একই ভাবে প্রতিষ্ঠানের নিত্য পরিবর্তনশীল চাহিদার সাথে তাল মেলাতে সেখানে থাকা কর্মীদেরও প্রতিনিয়ত নিজেদের দক্ষতাগুলোকে ঝালাই করে নিতে হয়।

আর এমনটা করার জন্য কর্মীদের মধ্যে পরিবর্তনের ক্ষমতা এবং নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার দক্ষতা থাকা দরকার। এছাড়াও ঐ কোম্পানির জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য তাদের নিজ নিজ দক্ষতাগুলোকে এবং নিজেদেরকে আরো বেশি উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় সব সময়।

যেসব কর্মীরা এই সব পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে চান না, তারা একটা সময় প্রতিষ্ঠানটির জন্য অপ্রয়োজনীয় বোঝায় পরিণত হন, ফলস্বরূপ কিছুদিন পর তাদের চাকরিও চলে যায়। আপনার চাকরিটি যদি হারাতে না চান, তাহলে নিয়মিত নিজের দক্ষতাগুলোর মধ্যে ছোটখাটো ভুলগুলোকে খুঁজে বের করতে হবে এবং সেগুলো সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি আপনার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করার জন্য প্রয়োজনে নতুন কিছু দক্ষতার চর্চাও করতে হবে। আপনার কর্মপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বাইরের বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও সেমিনারগুলোতে নানা রকম ট্রেনিং এর অপশন আপনি খুঁজে পাবেন। কাজের ফাঁকে এসব ওয়ার্কশপ ও সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

নতুন নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে এবং সময়ের সাথে নিজের দক্ষতাগুলোকে উন্নত করতে না পারলে শুধুমাত্র আপনার বর্তমান চাকরিতেই টিকে থাকা কষ্টকর হবে তা না, একই সাথে নতুন কোন চাকরি খুঁজে পেতেও বেশ ঝামেলা পোহাতে হবে। আরও দেখে নিন নতুন প্রতিভা ও প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগকারীরা ঠিক কী ধরণের দক্ষতা ও গুণাবলী খোঁজেন

ইতিকথা

আশা করি আজকের প্রতিবেদনটি আপনাকে আপনার ক্যারিয়ারে এড়িয়ে চলার মত কিছু মারাত্মক ভুল সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা দিতে পেরেছে। যেকোনো চাকরিতে প্রথম প্রথম কিছু ভুল করা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু সময়ের সাথে ধীরে ধীরে যখন আপনার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ঝুলি বড় হবে, তখন নিজেকে সেই অনুযায়ী ঝালাই করে নিলে আর কোন ভুল করার সম্ভাবনাই থাকবে না।

এই মুহূর্তে যদি আপনি চাকরির খোঁজ করতে থাকেন, তাহলে দেখে নিন ইন্টারভিউয়ের সময় কি করা উচিত আর কি উচিত না

আজই ভিজিট করুন Bikroy.com -এ, আর খুঁজে নিন বাংলাদেশের সেরা কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শত শত আকর্ষণীয় চাকরির অফার

সফল ক্যারিয়ারের পথে হয়ত আরো কিছু ভুল হতে পারে যেগুলো আমাদের সবার জেনে নেয়া ও শুধরে নেয়া দরকার। আপনার কি মত? জানান নিচে আমাদের কমেন্ট সেকশনে!


ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে ‘Ramadan Deals’-এর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করলো Bikroy

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com, ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ক্যাম্পেইনে ‘Ramadan Deals’ ক্যাম্পেইন বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছে। গতকাল Bikroy.com-এর প্রধাণ কার্যালয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিজয়ীরা হলেন কাজী আশরাফুল হক, শামীমা আলম, শওকত আলী, আফজাল হোসেন, আফরিনা আকতার, আদনান ফিরোজ, সালাউদ্দিন ইউসুফ এবং মোঃ খলিলুর রহমান। এই ‌ক্যাম্পেইনে Bikroy-এর পার্টনার হিসেবে ছিল Minister Hi-Tech Park Limited, বাংলাদেশে নোকিয়ার একমাত্র আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান HMD Global এবং US-Bangla Airlines Ltd.

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন Bikroy.com-এর হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন, Minister Hi-Tech Park Limited-এর হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস কে.এম.জি. কিবরিয়া, HMD Global এর হেড অব বিজনেস ফারহান রশীদ, এবং HMD Global এর রিটেইল চ্যানেল মার্কেটিং ম্যানেজার মোঃ কামরুল ইসলাম সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

গ্রাহকরা Bikroy ডিলস গিয়ে তাদের পছন্দের পণ্য “Buy Now” ফিচারের মাধ্যমে কিনে ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করেন। সর্বোচ্চ সংখ্যক কেনাকাটা করা গ্রাহকদের মধ্য থেকে র‍্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে তিনজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। Bikroy ডিলস হচ্ছে Bikroy.com সার্ভিসের সবচেয়ে নতুন সংযোজন। এটি মূলত একটি ই-কমার্স সেকশন যা “Buy Now” ফিচারের মাধ্যমে হিসেবে ইলেকট্রনিক্স, কিচেন ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ব্যাক্তিগত গ্রুমিং আইটেম, ট্র্যাভেল এক্সেসরিজ এবং আরও হাজারো পণ্য শতভাগ নিরাপত্তার সাথে ক্রেতাদের নিকট পৌঁছে দেয়।

  • প্রথম পুরস্কার বিজয়ী জিতে নিয়েছেন Nokia 4.2 স্মার্টফোন ও ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা কাপল টিকেট;
  • দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী জিতে নিয়েছেন একটি ৩০০ লিটার রেফ্রিজারেটর;
  • তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী জিতে নিয়েছেন একটি ৩২” স্মার্ট এল ই ডি টেলিভিশন;
  • চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ী জিতে নিয়েছেন একটি Nokia 4.2 স্মার্টফোন;
  • পঞ্চম পুরস্কার বিজয়ী জিতে নিয়েছেন একটি Nokia 4.2 স্মার্টফোন;
  • ষষ্ট পুরস্কার বিজয়ী জিতে নিয়েছেন ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা কাপল টিকেট;
  • সপ্তম পুরস্কার বিজয়ী জিতে নিয়েছেন ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা কাপল টিকেট; এবং
  • অষ্টম পুরস্কার বিজয়ী জিতে নিয়েছেন একটি গ্যাস বার্নার

প্রথম পুরস্কার বিজয়ী কাজী আশরাফুল হক বলেন, “এবারের ঈদ আমার জন্য সত্যিই ব্যতিক্রম এবং স্মরণীয়। ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে এমন বাড়তি পুরস্কার যে কাউকেই অভিভূত করে। Bikroy.comকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি ক্যাম্পেইন আয়োজন করার জন্য। আমি আশা করি, Bikroy আগামীতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে”।

Bikroy.com এর হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন বলেন, “আমি বিজয়ীদের অভিনন্দন এবং ডিলস এর সকল ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার বিশ্বাস, বিজয়ীরা জিততে পেরে দারুণ খুশি হয়েছে, গ্রাহকদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরাও আনন্দিত। মাত্র ১২ দিন ব্যাপী এ ক্যাম্পেইনে আমরা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দুর্দান্ত সাড়া পেয়েছি এবং গত মাসে ডিলস থেকে আমরা নয় হাজার অর্ডার পেয়েছি”।

এই ক্যাম্পেইনের অংশীদার Minister Hi-Tech Park Limited-এর হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস কে.এম.জি. কিবরিয়া বলেন, “Minister Hi-Tech Park Limited-এর পক্ষ থেকে বিজয়ীদের অভিনন্দন। আমরা স্বল্প পরিসরে হলেও গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণের সঙ্গী হতে পেরেছি, এটি আমাদের জন্য আগামীর বিশেষ আয়োজনে অনুপ্রাণিত করবে। দারুণ এই আয়োজনের জন্য Bikroyকে ধন্যবাদ”।

অন্য আরেক পার্টনার, HMD Global এর হেড অব বিজনেস ফারহান রশীদ বলেন, “কোনো ক্যাম্পেইনের পার্টনার হিসেবে এই প্রথম আমরা Bikroy এর যুক্ত হলাম। আমি বিশ্বাস করি বিজয়ীরা আমাদের নতুন উদ্বোধন হওয়া স্মার্টফোনগুলো পেয়ে খুবই খুশি হবেন”।

ক্যাম্পেইনের আরেক পার্টনার US-Bangla Airlines Ltd. এর মার্কেটিং সাপোর্ট অ্যান্ড পিআর এর জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম বলেন, “ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে এই ক্যাম্পেইনের সাথে যুক্ত হতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আশা করি বিজয়ীরা আমাদের রাউন্ড ট্রিপটি উপভোগ করবেন”।


মোটরবাইক রিভিউ কন্টেস্ট-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করলো Bikroy

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com প্রথমবারের মতো আয়োজিত মোটরবাইক রিভিউ কন্টেস্ট-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে। এতে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মিনহাজ ইসলাম, দ্বিতীয় হয়েছেন শাহেদ সাদ উল্লাহ এবং তৃতীয় হয়েছেন সাবরিন শাহরিয়ার আবির।

সম্প্রতি, মোটরবাইকের জনপ্রিয়তা এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে Bikroy এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে যাতে ভবিষ্যতে মোটরবাইক কিনতে আগ্রহী, এমন ক্রেতারা এসকল রিভিউ থেকে একটি ভালো ধারণা পান। প্রতিযোগিরা বিক্রয় ব্লগ ভিজিট করে রিভিউ পাঠিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

গল্প নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন Bikroy এর ম্যানেজমেন্ট টিমের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল।

  • প্রথম পুরস্কার বিজয়ী জিতে নিয়েছেন বাইক সেফটি গিয়ার,
  • দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী জিতে নিয়েছেন একটি আকর্ষণীয় হেলমেট, এবং
  • তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী জিতে নিয়েছেন একটি বাইক লক

এছাড়াও বিজয়ীদেরকে Bikroy-এর পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় এবং নির্বাচিত গল্প তিনটি খুব শীঘ্রই Bikroy ব্লগে প্রকাশ করা হবে।

বিজয়ীদের নাম ঘোষণাকালে Bikroy.com-এর হেড অব মার্কেটিং এন্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন বলেন, “মোটরবাইক Bikroy ভেহিকেলস-এর অন্যতম জনপ্রিয় একটি পণ্য। আমরা মোটরবাইক-এর আগ্রহী ক্রেতাদের কথা চিন্তা করেই এই আয়োজনটি করেছি। এত অল্প সময়ের মধ্যে সবার আগ্রহ আর প্রানবন্ত অংশগ্রহণে আমরা অভিভূত। প্রচুর ভালো ভালো লেখা আমরা পেয়েছি যার মধ্য থেকে বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়েছে। আশা করি বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে পাওয়া বাইকের জন্য নিরাপত্তামূলক ও জরুরি উপকরণগুলো কাজে লাগাতে পারবেন ও উপকৃত হবেন।”

রিভিউ আর্টিকেল লেখার প্রতিযোগিতার প্রথম স্থান অধিকারী মিনহাজ ইসলাম অনুভূতি প্রকাশে বলেন, “যেকোনো প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়াটা নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। আর সেটা যদি নিজের পছন্দের বাইক নিয়ে লিখে হয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই। এতো সুন্দর একটি আয়োজনের জন্য Bikroy.com-কে ধন্যবাদ”। মিহাজুল ইসলাম তাঁর ইয়ামাহা এফজেডএস বাইক নিয়ে রিভিউ লেখেন। এতে তিনি বাইকের খুঁটিনাটি বিষয়সহ সুবিধা ও অসুবিধার বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।


নিয়োগকারীদের জন্য টিপস । নতুন কর্মী নিয়োগের পূর্বে জেনে নিন এই বিষয়গুলো

একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ঠিক ততখানি ভালো যতখানি ভালো হয় সেখানে কর্মরত ব্যক্তিরা। এজন্যেই নিয়োগের সময়, সব থেকে সেরা মানুষটিকে বাছাই করে নিয়োগ দেওয়াটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়োগ কর্তার উপর গুরুদায়িত্বটা থাকে যেনো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যোগ্য মানুষকে আবেদনের জন্য আগ্রহী এবং সেই সাথে সঠিক মানুষটিকে বাছাই করা যেনো এর ফলস্বরুপ সুদূর ভবিষ্যতে তা প্রতিষ্ঠানে সাফল্য বয়ে নিয়ে আসতে পারে। যেকোনো প্রতিষ্ঠান, সঠিক কর্মচারী ছাড়া তার নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারে না। প্রতিষ্ঠানের সকলের মধ্যে সহযোগিতা এবং সমমানসিকতা একটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নের মূলমন্ত্র। সেজন্যই যেকোনো পদের জন্য যোগ্য কর্মী নিয়োগ দেওয়াটা আবশ্যক। আরও জেনে নিন নিয়োগের সময় নিয়োগ কর্তাদের দ্বারা হয়ে যাওয়া সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো

নিয়োগের সময়কার এসব ভুলগুলো পরিহার করে, সেরা কর্মী কিভাবে বাছাই করবেন সে সংশ্লিস্ট ৮টি উপায় সম্পর্কে জেনে নিন আমাদের এই আর্টিকেলটি থেকে।

১। প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট মিশন, ভিশন এবং মূল্যবোধ

সঠিক কর্মী নিয়োগের জন্য সবার আগে নিয়োগকর্তাদের উচিত হবে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য কী তা স্থির করা। প্রতিষ্ঠানের যদি নিজস্ব কোন নির্দিষ্ট মিশন, ভিশন না থাকে সেক্ষেত্রে আবেদনকারীরা আবেদনের ক্ষেত্রে অনেকাংশে অনাগ্রহ প্রকাশ করতে পারে যেহেতু কোম্পানি সম্পর্কে তাঁদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকেনা। আবেদনের পূর্বে সকল প্রার্থীরাই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কম বেশি তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। এজন্য যেসব কোম্পানি তাঁদের ব্যাপারে কোন নির্দিষ্ট তথ্য দিতে অক্ষম হয় সেখানে অনেক যোগ্য প্রার্থীরাই আবেদন করা থেকে বিরত থাকেন।

এই সমস্যা সমাধানের উপায়স্বরুপ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তাদের উচিত, একটু সময় নিয়ে নিজেদের কোম্পানি, কোন লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছে, ভবিষ্যতে কীভাবে সবকিছু পরিচালনা করার প্ল্যানিং করছে এসব সম্পর্কে কোম্পানির ওয়েবসাইটে একটু বিস্তারিত বলে দেওয়া, যাতে করে আবেদনকারীরা খুব সহজেই তাঁদের লক্ষ্য এবং কোম্পানির লক্ষ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে পেতে পারেন এবং আবেদন করতে আগ্রহী বোধ করেন। প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির একই লক্ষ্য এবং মানসিকতা থাকলে তা উভয়ের সার্বিক উন্নতিতে সাহায্য করে, লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে এবং সেইসাথে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতেও সুবিধা হয়ে থাকে।

২। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নির্দিষ্ট , স্পষ্ট এবং সংক্ষিপ্ত রাখা  

সঠিক কর্মী নিয়োগের জন্য, নিয়োগকর্তাদের উচিত তাঁদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁরা কী ধরনের কর্মী চাচ্ছেন তা স্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করে দেওয়া। অনির্দিষ্ট চাকরি বিজ্ঞপ্তি যেখানে কাজের ধরণ, বেতন, লোকেশন এসবের স্পষ্ট উল্লেখ থাকেনা সেসব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অযাচিত এবং বেমানান অনেক আবেদনকারী আবেদন করে থাকেন। এতে করে নিয়োগকর্তাদের সময়ও অনেক নষ্ট হয় শত শত সিভি থেকে বাছাইকরণ প্রক্রিয়ায়।

সময় বাঁচাতে এবং যোগ্য কর্মী নিয়োগের জন্য স্পষ্টভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তৈরির বিকল্প নেই। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট পদটির বিবরণ এবং সেই সাথে পালনীয় কার্যবিবরণী পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে। পদটির জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং দক্ষতা গুলো স্পষ্টভাবে বলে দিতে হবে যেনো আবেদনকারীরা বুঝতে পারেন তাঁরা আবেদনের জন্য উপযুক্ত কিনা। কিছু দক্ষতার উদাহারণ যেমন-

– যোগাযোগ দক্ষতা

– দলবদ্ধতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি

– সমস্যা সমাধান যোগ্যতা

– পরিকল্পনা এবং সঠিকভাবে কাজ সম্পাদন যোগ্যতা

– নতুন কিছু শেখার যোগ্যতা, এসবের উল্লেখ করে দিলে বিজ্ঞপ্তিতে তা আবেদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও আগে থেকে ঠিক করে রাখলে নিয়োগের সময় বাছাইয়ে সুবিধা হয় এবং সময়ও কম লাগে। সেইসাথে ভুল মানুষ নিয়োগের সম্ভাবনাও কমে যায়।

৩। ইন্টারভিউতে যোগ্যতা যাচাই

যেকোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ইন্টারভিউ। ইন্টারভিউতে আবেদনকারী এবং নিয়োগকর্তাগণ সামনাসামনি কথা বলার সুযোগ পান। এতে করে নিয়োগকর্তারা যেমন আবেদনকারী সম্পর্কে মোটামুটি একটি ধারণা পান তেমনি আবেদনকারীও প্রতিষ্ঠান এবং নিয়োগকর্তাদের ব্যাপারে ধারণা লাভ করেন।

ইন্টারভিউতে নিয়োগকর্তারা যদি আবেদনকারীকে এমন সব প্রশ্ন করেন যা থেকে নিয়োগকর্তারা নির্ধারণ করতে পারবেন যে, সেই ব্যক্তিটি চাকরীর উপযুক্ত কিনা তাহলে বাছাই প্রক্রিয়াটা খুব সহজ হয়ে যায়। তাছাড়া ইন্টারভিউতে প্রশ্ন-উওরের মাধ্যমে সিভিতে উল্লেখ নেই সেরকম অনেক তথ্যও জেনে নেওয়া সম্ভব নিয়োগকর্তাদের পক্ষে। কিছু প্রশ্ন আছে, যেমন, “আপনি নিজেকে ৫-১০ বছর পর কোন অবস্থানে দেখতে চান?” এ ধরণের প্রশ্নের মাধ্যমে, নিয়োগকর্তারা যাচাই করতে পারেন, আবেদনকারী কত সময়ের জন্য কোম্পানিতে স্থায়ী হবেন কিংবা তাঁর অন্য কোন ইচ্ছা আছে কিনা। যেহেতু নিয়োগের প্রক্রিয়াটি অনেক ব্যয়বহুল এবং সময় সাপেক্ষ তাই সঠিক কর্মী নিয়োগের গুরুত্ব অপরিসীম। ভুল ব্যক্তি নিয়োগে কোম্পানিকে হয়তো কিছু সময় পরেই আবারো নিয়োগ দিতে হবে। এতে করে যেমন প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয় তেমনি অনেক সময়ও নষ্ট হয়।

এছাড়াও ইন্টারভিউতে আবেদনকারীকে প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত প্রশ্ন করেও বোঝা যায় যে, কোম্পানি সম্পর্কে প্রার্থীর ধারণা বা আগ্রহ কতটুকু। যেসব প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পূর্ব ধারণা থাকে তাঁরা জেনে শুনেই আবেদন করতে আগ্রহী বলে ধরে নেওয়া হয়। অন্যদিকে যেসব প্রার্থী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে না জেনে শুনে আবেদন করে থাকেন তাঁদের অনেকেই ইন্টারভিউতে কোম্পানি সম্পর্কে জেনে অনেক ক্ষেত্রে অনাগ্রহী হয়ে যান।

৪। নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপর নজর রাখা

যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া বর্তমানে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সকল প্রতিষ্ঠানই শত শত আবেদনপ্রার্থীর মধ্যে থেকে খুঁজছেন সঠিক ও যোগ্য লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। দক্ষ এবং যোগ্য কর্মচারীদের চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানই তাঁদের বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের কাজের প্রতি তাঁদের  সমানভাবে আগ্রহী রাখার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি দিচ্ছেন। একজন কর্মীকে খুশি এবং সন্তুষ্ট রাখাটা জরুরি যদি তাঁকে প্রতিষ্ঠানে সুদূর ভবিষ্যতেও রেখে দেওয়ার ইচ্ছা থাকে। এজন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সর্বদা উচিত তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর নজর রাখা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান তার কর্মীদের কী ধরণের সুযোগ সুবিধা প্রদান করছে বা তাঁদের স্কিল বৃদ্ধিতে নতুন ধরণের ট্রেনিং দেওয়া শুরু করেছে কী না – এসব বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে হবে নতুবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজের দক্ষ এবং যোগ্য জনবল হারানোর সম্ভাবনা রয়ে যায়। নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতেও নিদির্ষ্ট পদের সাথে সম্পৃক্ত কম্পেন্সেশন এবং বেনেফিটগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দেওয়া উচিত এর জন্য।   

এর সাথে জেনে নিন সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ১০টি চাকরি কোনগুলো?

৫। নিয়োগের জন্য সঠিক ডিজিটাল পোর্টাল ব্যবহার করা

নিয়োগের জন্য শুধুমাত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করাই এখনকার দিনে যথেষ্ট নয় সঠিক এবং যোগ্য কর্মী পাওয়ার জন্য। চাকরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমগুলোর পাশাপাশি এখন নিয়োগকর্তারা এখন ডিজিটাল পোর্টালগুলোয়ও তাঁদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকেন। স্মার্টফোনের যুগে প্রায় সকলেই ডিজিটাল মাধ্যমে বেশি স্বাছন্দ্য বোধ করেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোয় চাকরির বিজ্ঞপ্তি খুঁজতে এবং অনলাইনে আবেদন করতে। এজন্য বর্তমানে BikroyJOBS, বিডি জবস (Bdjobds), প্রথম আলো জবস (Prothom Alo Jobs) – এসব অনলাইন জব পোর্টালগুলো খুব প্রচলিত হয়ে উঠছে। নিয়োগকর্তারাও সহজে পেয়ে যাচ্ছেন হাজারো প্রার্থীদের ভিড়ে তাঁদের কাঙ্খিত প্রার্থীকে।

BikroyJOBS রয়েছে সকল ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। 

অনলাইন এসব জব পোর্টালগুলো ব্যবহারের আরো সুবিধা হচ্ছে এসব পোর্টালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ প্রতিষ্ঠানের টাকা এবং সময় দুটোই বাঁচিয়ে দেয়। সেইসাথে সিভি সর্টিং এর বিভিন্ন অপশন থাকায় হাজার হাজার আবেদনকারীর মধ্যে থেকে উপযুক্ত প্রার্থীকে খুব সহজেই বের করে ফেলা যায়।

অনেক নিয়োগকর্তারাই অল্প সময়ের জন্য বা পার্ট টাইম পদগুলোর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোয় প্রকাশ করে থাকেন। আরও জেনে নিন বাংলাদেশে পার্ট টাইম জবস সম্পর্কে

৬। দ্রুত নিয়োগ এবং যোগ্য কর্মী

যখনই কোনো চাকরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় তখন সাধারণত নিয়োগের প্রক্রিয়াটি দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার একটি প্রবণতা দেখা যায় নিয়োগকর্তাদের মাঝে। নিয়োগের প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল এবং সময় সাপেক্ষ হওয়ার জন্যই এই প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু দ্রুত নিয়োগ পদ্ধতি কখনোই যোগ্য এবং সঠিক ব্যক্তির বাছাই নিশ্চিত করেনা। বরং ভুল কর্মী বাছাইয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং পরবর্তীতে তা প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্য আনুষাঙ্গিক খরচের সৃষ্টি করে।   

যে কাউকে নিয়োগ দেওয়া থেকেও বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয় ভুল কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে। প্রথম দিকে হয়তো ব্যাপারটা প্রকট আকারে ধরা দেয় না, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ভুল ব্যক্তি নিয়োগের ফলে প্রকট সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভুল ব্যক্তিকে নতুনভাবে কাজ শেখানো, প্রশিক্ষণ দেওয়া – এতে করে সময় এবং অর্থ দুইই অনেক ব্যয় করতে হয়। পরবর্তীতে যদি একান্তই কাজ করানো না যায় তখন আবারও নতুন করে, পুরো নিয়োগের প্রক্রিয়াটি চালিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে হয়। এতে যেমন নিয়োগকর্তাদের অনেক সময় ব্যয় করতে হয় সেই সাথে প্রতিষ্ঠানেরও সার্বিক ক্ষতি হয়।  

এতসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য, প্রথমবারের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি থেকেই যেনো সেরা প্রার্থীকেই বাছাই করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭। নিয়োগকর্তার নিজের মতামতের গুরুত্ব

সঠিকভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ইন্টারভিউতে সঠিক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, সিভি ভালোমত দেখার পরেও দিন শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আবেদনকারী সম্পর্কে নিয়োগকর্তার নিজস্ব মতামত। শত শত সিভিতে হাজার হাজার উল্লেখিত দক্ষতা এবং ডিগ্রীধারীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের জন্য আসলেই কে সেরা হবে সেটা যাচাই করা খুব সহজ নয় বরং বেশ কঠিনই।

চোখের দেখায় ভালো প্রার্থী নির্বাচনের জন্য একজন নিয়োগকর্তার চাই অনেক বছরের অভিজ্ঞতা। যেসব নিয়োগকর্তারা বহু বছর ধরে কর্মী নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকেন, ইন্টারভিউতে প্রার্থীর দুই একটি প্রশ্নের জবাব শুনেই বুঝে নিতে পারেন যে প্রার্থী পদটির জন্য কতটা উপযুক্ত। প্রায়ই দেখা যায়,বেশ ভালো ইন্টারভিউ দেওয়ার পরেও অনেক প্রার্থীর পারফরম্যান্স আশানুরুপ হয়না আবার ইন্টারভিউতে হয়তো খুব ভালো পারফর্ম করেননি কিন্তু চাকরিতে যোগদানের পর সেই ব্যক্তির পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভালো।

এজন্য, একজন অভিজ্ঞ নিয়োগকর্তার উচিত হবে তার নিজস্ব মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া কিন্তু সেই সাথে খেয়াল রাখতে হবে মতামত যেনো ন্যায্য ও পক্ষপাতিত্ব বিহীন হয়ে থাকে।

৮। সেরা ট্যালেন্টগুলোকে ধরে রাখা

যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ দিলেই হবেনা সে যেনো প্রতিষ্ঠান এ দীর্ঘদিন কাজ করে যেতে পারে সে  ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠানেরই করতে হবে। বর্তমানে চাকরির বাজারে অনেক অনেক প্রার্থীর সমাগম থাকলেও এদের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা কমই আছে। একজন যোগ্য কর্মীকে যদি প্রতিষ্ঠান থেকে সঠিক কাজের পরিবেশ, নতুন দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ভালো বেতন সেই সাথে অন্যান্য বেনিফিট এবং তাঁর ক্যারিয়ারের বিকাশের সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে একজন ব্যক্তি কখনই চাইবেন না তার বর্তমান প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে অন্য কোথাও যেতে। বরং এত সুবিধার জন্য সে আরো ভালো পারফর্ম করার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের উচিত অযোগ্য কর্মীদের প্রথমে সুযোগ দেওয়া নিজেদের বদলানোর জন্য কিন্তু তাতে কাজ না হলে, তাঁদের ছাঁটাই করে দেওয়া। কেননা, একজন যোগ্য কর্মী প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নতির জন্য যতটুকু ভালো অযোগ্য কর্মী ঠিক ততটাই খারাপ।  

কোন নির্দিষ্ট পদের জন্য আবেদনকৃত প্রার্থীদের মধ্যে থেকে সেরা প্রার্থী বাছাই করা যেমন কষ্টসাধ্য তেমনি অনেক সময় সাপেক্ষ। কিন্তু যদি নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু এবং সঠিকভাবে করা যায়, সেক্ষেত্রে সেরা কর্মী বাছাইয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং একজন যোগ্য কর্মী প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করে এর মুনাফা ও লক্ষ্য অর্জনে।

নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য সেরা ট্যালেন্ট বাছাই করুন, আমাদের ট্যালেন্ট সার্চ থেকে