All posts by Pujan Kumar

২০১৮ সালে আবাসন খাত এর সার্বিক অবস্থা | ইনফোগ্রাফিক

২০১৮ সালে যেমন ছিল আবাসন মার্কেট

প্রপার্টির মার্কেট অর্থাৎ আবাসন খাত হচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম লাভজনক ও নিরাপদ ব্যবসাগুলোর মধ্যে একটি। তবে এ জন্য আপনাকে জানতে হবে কীভাবে এই প্রতিযোগিতার মার্কেটে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হয়। এই সফল মার্কেট এবং এর বিশেষ ক্ষেত্রগুলোকে ভালোভাবে বোঝার জন্য আপনাকে প্রতি বছর এই ব্যবসার মূল দিকগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। আপনার এই কাজটি সহজ করে দেয়ার জন্য আজ আমরা আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে ঢাকা শহরের রিয়েল এস্টেট মার্কেটের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একই সাথে এই ব্যবসার বেসিক পর্যালোচনা ও মূল দিকগুলোও উপস্থাপন করেছি। অতএব, সাথেই থাকুন!

ঢাকায় প্রপার্টি বিক্রি হওয়া শীর্ষস্থানীয় এলাকা

ঢাকায় প্রপার্টি বিক্রি হওয়া শীর্ষস্থানীয় এলাকা

২০১৮ সালের সেরা বিক্রিযোগ্য প্রপার্টি গুলোর মধ্যে মেগাসিটি ঢাকার সবচেয়ে আকাঙ্খিত ও পছন্দসই জায়গা হলো বসুন্ধরা। বিক্রির জন্য প্রপার্টি সমূহের মধ্যে প্রায় ২৬%ই এই জায়গায় অবস্থিত, আর এমনটা হওয়াই আসলে স্বাভাবিক। কেননা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আপনাদের দিচ্ছে মানসম্মত জীবনযাত্রা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার দারুণ এক ভারসাম্য। এর পরেই নাম আসে মিরপুরের। সর্বাধিক বিক্রিযোগ্য প্রপার্টির প্রায় ১৮% নিয়ে এবং ক্রমাগত লাইফস্টাইলের উন্নতির কারণে মিরপুর এদেশের আবাসন মার্কেটে নিজের জায়গা করে নিয়েছে খুব একটা ঝামেলা ছাড়াই। তৃতীয় অবস্থানে আমরা দেখেছি ঢাকা শহরের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং সর্বাধিক আকাঙ্খিত জায়গাগুলোর মধ্যে একটিকে। সেই এলাকাটি হচ্ছে গুলশান, যা আপনাদেরকে দিচ্ছে ঢাকা শহরের বিক্রিযোগ্য প্রপার্টি গুলোর মধ্যে প্রায় ১৫% প্রপার্টির বিজ্ঞাপন। ঢাকায় সর্বাধিক বিক্রিত প্রপার্টির প্রায় ১১% নিয়ে রামপুরার অবস্থান আমাদের সেরা এলাকার তালিকায় চতুর্থ। এর কারণ হচ্ছে রামপুরায় আপনারা পাবেন সহনীয় দামের মধ্যে আকর্ষণীয় সব প্রপার্টি এবং প্রায় সব রকম লাইফস্টাইল পণ্যের সমারোহ ঘরের খুব কাছেই, ঘোরাঘুরি ছাড়া এলাকার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনই পড়ে না। এর পরের অবস্থান হলো উত্তরার, যেখানে রয়েছে প্রায় ৯% বিক্রিযোগ্য প্রপার্টির সংগ্রহ। এই এলাকাটি ঢাকা শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও উন্নত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ঢাকায় প্রপার্টি ভাড়া হওয়া শীর্ষস্থানীয় এলাকা

ঢাকায় প্রপার্টি ভাড়া হওয়া শীর্ষস্থানীয় এলাকা

ঢাকা শহরে প্রপার্টি ভাড়া দেয়ার বিজ্ঞাপনের তালিকায় আশ্চর্যজনক ভাবে বেশির ভাগই হলো বিলাসবহুল এবং সবচেয়ে আকাঙ্খিত এলাকাগুলো। সর্বাধিক প্রপার্টি ভাড়া দেয়ার বিজ্ঞাপন হলো গুলশান থেকে। এই এলাকা থেকে আমাদের তালিকায় প্রায় ৮১% ভাড়ার জন্য প্রপার্টির বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। এরপর নাম আসে বনানী ও বারিধারার, যেখানে ভাড়ার জন্য প্রপার্টির বিজ্ঞাপন দেয়া হয় যথাক্রমে ৮% ও ৫%।

দাম অনুযায়ী ভাড়ার জন্য প্রপার্টির তালিকা

দাম অনুযায়ী ভাড়ার জন্য প্রপার্টির তালিকা

 

  • <১০,০০০ টাকা: স্বল্প আয়ের এবং ছোট পরিবার ওয়ালা বেশির ভাগ মানুষেরই মূল পছন্দ হলো এই দামের মধ্যে প্রপার্টি ভাড়া পাওয়া। ভাড়ার জন্য প্রপার্টির মধ্যে প্রায় ১৪% এই দামের মধ্যে পড়ে। ১০,০০০ টাকার নিচে আপনারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছোট এক বেডরুমের ফ্ল্যাট ভাড়া পেতে পারেন।
  • ১০,০০০-২০,০০০ টাকা: ভাড়ার জন্য প্রপার্টির বিজ্ঞাপনের দ্বিতীয় বৃহত্তম তালিকা এই দামের মধ্যে পড়ে। যেহেতু বাংলাদেশের বৃহত্তর জনসংখ্যা মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ, তাই প্রপার্টি ভাড়া নেয়ার জন্য এই দামই এদেশে অন্যতম পছন্দনীয়। আর প্রায় ২২% ভাড়ার জন্য প্রপার্টি এই দামের মধ্যে পড়ে। ১০,০০০-২০,০০০ টাকার মধ্যে মোটামুটি ছোট মাপের ২ থেকে ৩ বেডরুমের ফ্ল্যাট ভাড়া পাওয়া যায়।
  • ২০,০০০-৩০,০০০ টাকা: এই দামকেও সাধারণ পারিবারিক বাসা ভাড়ার মধ্যে ধরা হয়ে থাকে। ভাড়ার জন্য প্রপার্টির প্রায় ১১% এই দামের মধ্যে পড়ে। মাঝারী থেকে আদর্শ মাপের ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ২০,০০০-৩০,০০০ টাকার মধ্যে ভাড়া পাওয়া যায়।
  • ৩০,০০০-৪০,০০০ টাকা: এই দামের মধ্যে স্পেসগুলো সাধারণত ছোটখাটো অফিস কিংবা বড় পরিবারের জন্য ভাড়া নেয়া হয়। ভাড়ার জন্য প্রপার্টির প্রায় ৮% এই দামের মধ্যে পড়ে এবং এই দামের বেশির ভাগ প্রপার্টিই জনপ্রিয় আবাসিক এলাকা গুলোতে রয়েছে।
  • >৪০,০০০ টাকা: বাংলাদেশে ভাড়ার জন্য প্রপার্টির সবচেয়ে বড় অংশ পেতে আপনাকে ৪০,০০০ টাকার বেশি খরচ করতে হবে। প্রায় ৪৪% প্রপার্টি এই দামের মধ্যে ভাড়া পাওয়া যায়। কমার্শিয়াল স্পেস, বিশাল সুসজ্জিত ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট, প্লট ও জমি ইত্যাদি চল্লিশ হাজার টাকার বেশি ভাড়ায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়।

দাম অনুযায়ী বিক্রির জন্য প্রপার্টির তালিকা

দাম অনুযায়ী বিক্রির জন্য প্রপার্টির তালিকা

বিক্রির জন্য প্রপার্টি গুলোকে ভালোভাবে বোঝার জন্য আমরা প্রতি বর্গফুট স্পেসের দামের রেট হিসাব করে আলোচনা করব। আপনি যদি এমন প্রপার্টির খোঁজ করেন যার দাম প্রতি বর্গফুটে ৩ হাজার টাকার কম, তাহলে হয়ত আপনি কিছুটা হতাশ হবেন। এই দামের মধ্যে বিক্রির জন্য প্রপার্টি রয়েছে মাত্র ২% এর মত। যদি আপনি প্রতি বর্গফুট স্পেসের দাম ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে খুঁজে দেখেন, তাহলে মার্কেটপ্লেসে বিক্রিযোগ্য প্রপার্টির প্রায় ৫% পেতে পারেন। ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা প্রতি বর্গফুট দামে অনলাইনে মোট বিক্রির জন্য প্রপার্টির প্রায় ৯% রয়েছে। কিন্তু সুখবর হচ্ছে যে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা প্রতি বর্গফুট দামের মধ্যে প্রায় ২৮% বিক্রিযোগ্য প্রপার্টি বর্তমানে মার্কেটে রয়েছে। প্রায় ১৭% বিক্রিযোগ্য প্রপার্টি এই দামের মধ্যে পড়ে।

পরবর্তী ১ হাজার টাকা প্রতি বর্গফুট দামের রেঞ্জের মধ্যে এসে প্রপার্টির সংখ্যা আবারো কমে এসেছে। বাংলাদেশে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ও ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা প্রতি বর্গফুট দামের মধ্যে মাত্র ৪% প্রপার্টি বিক্রির জন্য পাওয়া যায়। যেসব স্পেসের দাম ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা প্রতি বর্গফুট, সেগুলো সমগ্র বিক্রিযোগ্য প্রপার্টির মার্কেটের মধ্যে ৫% মাত্র। কিন্তু আবার ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা প্রতি বর্গফুট দামের মধ্যে এসে আপনি অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোয় প্রায় ২৬% প্রপার্টি বিক্রির জন্য খুঁজে পাবেন। আপনি যদি প্রতি বর্গফুট দামের এই বিশাল ব্যবধান নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান, তাহলে আপনার জেনে নেয়া উচিত যে বিক্রিযোগ্য প্রপার্টি বলতে যে কেবল ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে তা নয়। বরং প্লট ও জমি, কমার্শিয়াল স্পেস, বাড়ি, গ্যারেজ সহ নানা রকমের প্রপার্টি মার্কেটে রয়েছে।

প্রপার্টি কেনার ট্রেন্ড

প্রপার্টি কেনার ট্রেন্ড

আপনি যদি একজন বিক্রেতা হন, তাহলে আপনাকে কাস্টমারদের প্রপার্টি কেনার অভ্যাস ও বছরে আপনার প্রপার্টি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন পোস্ট করার সঠিক সময় ইত্যাদি জেনে নিতে হবে, তাহলেই আপনি আপনার প্রপার্টি তাড়াতাড়ি বিক্রি করতে পারবেন। যাই হোক, ২০১৮ সালের প্রথম তিন মাসে অনেক সংখ্যক কাস্টমার বিভিন্ন ধরণের প্রপার্টি কিনে নিয়েছেন। গড়ে প্রায় ৮ হাজারের বেশি প্রপার্টি ২০১৮ সালের শুরুর দিকে কেনা হয়েছে। পরের তিন মাসে কোন ভাবে এই ক্রয়ের সংখ্যা গড়ে প্রায় ৬.৯ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। এর পর তৃতীয় ভাগে ধীরে ধীরে ক্রয়ের সংখ্যা আবারও বেড়ে গিয়েছে এবং প্রায় ৭.৮ হাজার প্রপার্টি গড়ে কেনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রপার্টি গেল বছরের শেষ ৩ মাসে কেনা হয়েছে। অক্টোবর মাসে প্রায় ৮.৮ হাজার প্রপার্টি বেচাকেনা হয় এবং ২০১৮ সালের শেষ মাসগুলোয় এই সংখ্যা গড়ে প্রায় ৮.২ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে।

দাম অনুযায়ী সেরা পছন্দের জায়গাগুলো

দাম অনুযায়ী সেরা পছন্দের জায়গাগুলো

 

  • প্রতি বর্গফুট ৫ হাজার টাকার নিচে: এই দামের রেঞ্জের মধ্যে ঢাকা শহরে বিভিন্ন রকম যায়গা রয়েছে। কিন্তু ৫,০০০ টাকা প্রতি বর্গফুট দামের মধ্যে স্পেস খুঁজে পাওয়ার সেরা ৩টি যায়গা হচ্ছে মিরপুর, মোহাম্মদপুর এবং উত্তরা।
  • প্রতি বর্গফুট ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায়: বেশির ভাগ আবাসিক এলাকায় ভাড়ার জন্য প্রপার্টির ক্ষেত্রে এই দামের রেঞ্জ প্রযোজ্য। বাংলাদেশে ৫,০০০ – ১০,০০০ টাকা প্রতি বর্গফুট দামে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য সেরা ৩টি যায়গা হচ্ছে বসুন্ধরা, মিরপুর ও রামপুরা।
  • প্রতি বর্গফুট ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়: এই দামের মধ্যে আপনারা দারুণ সব স্মার্ট স্পেসে আধুনিক সজ্জা সহ উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পেতে পারেন। ১০,০০০ – ১৫,০০০ টাকা প্রতি বর্গফুট দামের মধ্যে আদর্শ ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাওয়ার জন্য সেরা ৩টি যায়গা হচ্ছে ধানমন্ডি, গুলশান এবং বনানী।
  • প্রতি বর্গফুট ১৫ হাজার টাকার উপরে: সেরা সব স্পেসিফিকেশন ও আধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ একটি আবাসিক এলাকায় বসবার করার নিরাপত্তা, এ সব কিছুই প্রতি বর্গফুট ১৫ হাজার টাকার উপরে একটি মোটা অংকের দামে পাওয়া সম্ভব। এ ধরণের প্রপার্টি খুঁজে পাওয়ার জন্য সেরা এলাকা গুলো হলো গুলশান, বারিধারা এবং ধানমন্ডি।

ফ্ল্যাটের সাইজ অনুযায়ী সেরা জায়গাগুলো

ফ্ল্যাটের সাইজ অনুযায়ী সেরা জায়গাগুলো

একজন ক্রেতা হিসেবে আপনার প্রয়োজন ও রুচির সাথে তাল মিলিয়ে আপনাকে একটি অ্যাপার্টমেন্টের সাইজ নিয়েও চিন্তা করতে হয়। যদি আপনি সর্বোচ্চ ১০০০ বর্গফুটের মধ্যে ছোট স্পেস খুঁজে থাকেন এবং একটি উন্নত আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা পাওয়ার ইচ্ছা আপনার থাকে, তাহলে আপনার সেরা অপশনগুলো হলো মিরপুর, রামপুরা ও মোহাম্মদপুর। সর্বোচ্চ ২০০০ বর্গফুটের মধ্যে স্পেস পাওয়ার জন্য আপনি মিরপুর, বসুন্ধরা এবং উত্তরার কথা ভাবতে পারেন। সব শেষে যদি আপনি সর্বোচ্চ ৩০০০ বর্গফুটের মধ্যে বড় স্পেস চান, তাহলে আপনার সেরা ৩টি অপশন হচ্ছে গুলশান, বারিধারা এবং উত্তরা। এছাড়াও 

নতুন বনাম ব্যবহৃত ফ্ল্যাট

নতুন বনাম ব্যবহৃত ফ্ল্যাট

আপনি যদি ভেবে থাকেন যে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে শুধুমাত্র ব্যবহৃত ফ্ল্যাটের অফার রয়েছে, তবে আপনার ধারণা ভুল। বিক্রির জন্য প্রায় ৯৬% প্রপার্টির বিজ্ঞাপনে নতুন ও নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটের অফার রয়েছে। আর বাকি ৪% বিজ্ঞাপন হচ্ছে পুরনো কিংবা ব্যবহৃত ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য।

সেরা সার্চ হওয়া জায়গাগুলো

সেরা সার্চ হওয়া জায়গাগুলো

একজন রিয়েক এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবে আপনাকে আপনার কাস্টমারদের আচরণ, দাবি এবং তাদের পছন্দের দিকগুলোও নজরে রাখতে হবে। আবাসন ব্যবসার

অনলাইন মার্কেটপ্লেস একট বিশাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। অতএব রিয়েল এস্টেটের মত বিশাল আকারের ব্যবসায় সর্বাধিক সাফল্য লাভ করার জন্য কাস্টমারদের মূল্যবান সার্চের অভ্যাসকে পর্যবেক্ষণ করাটা খুবই জরুরি।

Bikroy-এ, আগ্রহী ক্রেতারা তাদের আকাঙ্খিত জায়গাগুলোতে প্রপার্টির খোঁজ করে থাকেন দামের তুলনা করে দেখা এবং কেনার আগে জেনে শুনে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য। বিক্রির জন্য প্রপার্টির ক্ষেত্রে Bikroy-এ সবচেয়ে বেশি যেই এলাকাটি সার্চ করা হয়ে থাকে, তা হলো বসুন্ধরা। কাস্টমারদের দ্বিতীয় সেরা পছন্দ হলো গুলশান। তারপর যথাক্রমে আসে উত্তরা, ধানমন্ডি এবং মোহাম্মদপুর।

উপসংহার

বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট

অর্থাৎ প্রপার্টির মার্কেট সমগ্র ২০১৮ সাল জুড়ে বেশ উন্নয়নশীল এবং সম্ভাবনাময় রূপে দেখা গিয়েছে। যদিও এ বছর অনলাইনে প্রপাটি কেনার ট্রেন্ডে সামান্য কিছু ভালো বা খারাপ সময় গিয়েছে, কিন্তু তারপরও সংখ্যাগুলো পরস্পর বেশ কাছাকাছিই অবস্থান করছে। পুরনো বা ব্যবহৃত ফ্ল্যাটের তুলনায় মার্কেটে অধিক পরিমাণে নতুন ফ্ল্যাটের অফার ছিলো। প্রপার্টির ক্ষেত্রে মানুষের পছন্দ আগের চেয়ে আরো উন্নত হয়েছে, যার মানে দাঁড়ায় যে এই বছরে দেখের অর্থনীতিতে একটি স্বাস্থ্যকর ও ভালো পরিবর্তন এসেছে।

অতএব কেমন থাকবে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের প্রপার্টির মার্কেটের অবস্থা? প্রপার্টির পেছনে বিনিয়োগ করার সুবিধা অপরিসীম এবং ফলদায়কও বটে! হাজার হাজার রিয়েল এস্টেটের বিজ্ঞাপন খুঁজে পাওয়ার জন্য আজই Bikroy.com/propertyএ ব্রাউজ করুন, যেগুলো আমাদের মূল্যবান ও বিশ্বস্ত বিক্রেতা এবং রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের দ্বারা প্রতিদিন পোস্ট করা হয়। বিভিন্ন ধরণের প্রপার্টির দামের মধ্যে তুলনা করে দেখুন ও জেনে বুঝে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিন।

 

নিচের লিঙ্ক গুলো  থেকে ইনফোগ্রাফিকটি ডাউনলোড করুনঃ

পিন্টারেস্টঃ বাংলাদেশের প্রপার্টি মার্কেট

স্লাইডশেয়ারঃ বাংলাদেশের প্রপার্টি মার্কেট


প্লট বা জমি কেনার খুঁটিনাটি বিষয়াদি

প্লট বা জমি কেনার খুঁটিনাটি

রিয়েল এস্টেট অর্থাৎ প্লট ও জমি কেনা কিংবা বেচার ব্যবসা শুধুমাত্র বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী অন্যতম লাভজনক ও সফলতম একটি ব্যবসা। তবে যত বড় ব্যবসায়ী বা অভিজ্ঞ দালাল হন না কেন, বাংলাদেশে প্লট ও জমি কেনা বেচার প্রায়োগিক ও পরিভাষাগত দিকগুলো সহজেই গুলিয়ে ফেলেন দেশের বেশির ভাগ মানুষই।

আমরা আমাদের আজকের ছোট প্রতিবেদনে চেষ্টা করেছি আমাদের দেশে জমি কেনা বেচা সম্পর্কিত সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত কিছু প্রায়োগিক পরিভাষা বা টেকনিক্যাল টার্ম ও তাদের ব্যবহার সম্পর্কে সহজ ভাবে আলোচনা করতে। বাংলাদেশে জমিজমা সম্পর্কিত এই পরিভাষা ও কারিগরী দিকগুলো জানা থাকলে আপনি আপনার প্রপার্টির আইনগত মালিকানা ধরে রাখতে ও আপনার পরিবারের ভবিষ্যতকে নিশ্চিত করে নিতে পারবেন খুব সহজেই।

যেসব টেকনিক্যাল পরিভাষা বা টার্ম আপনার না জানলেই নয়!

একাউন্ট বই বা খতিয়ান: একাধিক গ্রাম বা মৌজা ভিত্তিতে বিভিন্ন জমির মালিকদের যাবতীয় ভূ-সম্পত্তির বিবরণ, তথ্য ও উপাত্ত জরিপ করার সময় এক বা একাধিক যে জমির রেকর্ড তৈরি করা হয় তাকে বলা হয় খতিয়ান। এতে কালেক্টর বা ভূমধ্যাধিকারীর নাম, দখলদারের নাম, জমির পয়েন্টার বা দাগ নাম্বার, পরিমাণ, ধরণ এবং ট্যাক্সের হার ইত্যাদি সব রকম তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন রকম খতিয়ান বই রয়েছে। এদের মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত সিএস, এসএ এবং আরএস খতিয়ান ইত্যাদি অন্যতম।

সি এস খতিয়ান: ১৯১০-২০ সালের মধ্যে সরকারী কর্মকর্তা বা আমিনরা দেশের প্রতিটি জমি বা ভূ-খন্ড পরিমাপ করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভু-খন্ডগুলোর আয়তন, ভৌগলিক অবস্থান ও ব্যবহারের ধরণ ইত্যাদি উল্লেখ করে তারা মৌজা নকশা এবং প্রত্যেকটি জমির মালিক কিংবা দখলদারদের বিবরণ সহ সেই আমলে একটি খতিয়ান তৈরি করেন। সেই খতিয়ানটিই সিএস খতিয়ান নামে পরিচিত।

এস এ খতিয়ান: ১৯৫০ সালে জমিদারি মাইগ্রেশন ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হওয়ার পর তখনকার সরকার জমিদারি অধিগ্রহণ করেন। এরপর সরকারি জরিপ কর্মচারীরা মাঠে না গিয়েই সরেজমিনে সি এস খতিয়ানটি সংশোধন করেন। এই নতুন খতিয়ানটি এস এ খতিয়ান নামে সুপরিচিত। কোন কোন অঞ্চলে এই খতিয়ানকে এ খতিয়ান বা এস খতিয়ান নামেও ডাকা হয়। এই খতিয়ানটি সর্বপ্রথম বাংলা ১৩৬২ সালে প্রস্তুত করা হয়েছিল। সেই থেকে অনেকের কাছেই এটি ৬২’র খতিয়ান নামেও পরিচিত।

আর এস একাউন্ট বই: আগের জরিপে উল্লেখিত ভুল ত্রুটি সংশোধনের জন্য পরবর্তীতে আবারও একটি জরিপ করা হয়, যা আর এস খতিয়ান নামে পরিচিত। দেখা যায় যে এস এ জরিপের ভিত্তিতে খতিয়ান তৈরি করার সময় কর্মচারীরা জমিগুলো পরিদর্শন করেননি ও সরেজমিনে করা তদন্তে অনেক বেশি ভুল ত্রুটি রয়ে গেছে। সেজন্যই পুনরায় জরিপের মাধ্যমে নতুন খতিয়ানটি প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সারা দেশে এই জরিপ এখনও সমাপ্ত করা হয় নি বটে, কিন্তু অনেক জেলায়ই তাদের নিজস্ব আর এস খতিয়ান চূড়ান্ত ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা নিজেরা মাঠে গিয়ে জমিগুলো পরিমাপ করে এই খতিয়ান প্রস্তুত করেন। যার ফলে সামগ্রিক ভাবে এতে ভুলত্রুটির পরিমাণ অনেক কম। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই খতিয়ানটি বি এস খতিয়ান নামেও পরিচিত।

বি এস একাউন্ট বই: সর্ব শেষ এই জরিপটি ১৯৯০ সালে পরিচালনা করা হয়। রাজধানী ঢাকায় এই জরিপটি ঢাকা মহানগর জরিপ নামেও পরিচিত।

দলিল: যেকোন লিখিত বিবরণ বা জবানি যা আইনত সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে আদালতে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলে। তবে, রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান অনুযায়ী একটি জমির ক্রেতা এবং বিক্রেতা তাদের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় যে চুক্তিনামা বা চুক্তিপত্র রেজিস্ট্রি করেন সাধারণ ভাবে সেটিকেও দলিল বলা হয়ে থাকে।

খানাপুরি: খতিয়ান প্রস্তুত করার সময় জরিপ ও তদন্ত করার পর মৌজা নকশা প্রস্তুত করার সময় খতিয়ান ফরমের প্রতিটি কলামের তথ্য পূরণকে খানাপুরি বলা হয়। জরিপ কর্মচারীরা সমগ্র খতিয়ান ফরমের তথ্য পূরণের এই কাজটি সম্পন্ন করে থাকেন।

নামজারি: ক্রয়সূত্রে কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে, অথবা যেকোন ধরণের সূত্রে যদি কেউ একটি জমির নতুন মালিক হন, তবে সেই মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় নামজারি।

তফসিল: জমির সামগ্রিক পরিচয় বহন করে এমন বিবরণকে তফসিল বলা হয়। এই তফসিলে মৌজার নাম, খতিয়ানের নাম্বার, দাগ বা পয়েন্টারের নাম্বার, জমির আয়তন বা চৌহদ্দি, জমির পরিমাণ সহ আরো নানা রকম তথ্য উল্লেখ করা থাকে।

দাগ / কিত্তা: একটি জমির অংশবিশেষ বোঝাতে দাগ ব্যবহার করা হয়। যখন একটি জমি পরিমাপ করা হয়, তখন সেটিকে ওই সময়ের ক্রম অনুসারে একটি বিশেষ পরিচিতি নাম্বার দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। জরিপের ম্যাপ প্রস্তুত করার সময় মৌজা নকশায় জমির সীমানা সনাক্ত করার জন্য প্রত্যেকটি ভূ-খন্ডকে আলাদা আলাদা নাম্বার দেয়া হয়। আর এই নাম্বারকেই আমরা দাগ নাম্বার বা দাগ হিসেবে চিনি। এক একটি দাগ নাম্বারে জমির পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন থাকতে পারে। সাধারণ ভাবে একই মৌজার অধীনে বিভিন্ন জমি মালিকদের সীমানা দাগ অনুসারে আইল বা খুঁটির সাহায্যে চিহ্নিত করা হয়। এতে করে জমির প্রত্যেকটি অংশকেই ল্যান্ড গ্রেডের ভিত্তিতে আলাদা করে চেনা সম্ভব হয়। এই দাগকে কোথাও কোথাও ‘কিত্তা’ বলা হয়ে থাকে।

ছুটা দাগ: প্রাথমিক অবস্থায় জমির নকশা তৈরি কিংবা পরিবর্তন করার সময়, নকশার প্রতি ভূমি এককে একটি নাম্বার দেয়া হয়। এই নাম্বার দেয়ার সময় কোন নাম্বার ভুলে বাদ পড়ে গেলে বা দেয়ায় ভুল হলে তাকে ছুটা দাগ বলে। আবার প্রাথমিক পর্যায়ে দেয়া দু’টি দাগ পরবর্তীতে যদি আবার একত্রিত করে পুনরায় সংশোধন করা হয়, তখন যে নাম্বারটি বাদ দেয়া হয় সেটাকেও ছুটা দাগ বলে।

পর্চা: চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তুত করার আগে জমির মালিকদের কাছে খসড়া খতিয়ানের যে কপি জমি মালিকদের দেয়া হয়ে থাকে তাকে মাঠ পর্চা বলে। এই মাঠ পর্চাটি রেভিনিউ বা রাজস্ব অফিসারের দ্বারা তসদিব বা সত্যায়িত করানোর পর কারো যদি কোণ আপত্তি থেকে থাকে তাহলে তা শুনানির পরখতিয়ার আবার চূড়ান্ত ভাবে প্রকাশিত হয়। আর এই চূড়ান্ত খতিয়ানের কপি কে পর্চা বলা হয়।

চিটা: একটি ছোট জমির পরিমাণ, ধরণ ইত্যাদির পূর্ণ বিবরণকে চিটা বলা হয়ে থাকে। বাটোয়ারা বা ভাগের মামলায় প্রাথমিক ডিক্রীকে চূড়ান্ত ডিক্রীতে পরিণত করার আগে অ্যাডভোকেট কমিশনার বাটোয়ারার সব পক্ষদের জমি সরেজমিনে পরিমাপ করে পরামর্শ দেন। সেই সময় তিনি জমিটির যে খসড়া ম্যাপ তৈরি করেন সেটি চিটা বা চিটা দাগচনামে পরিচিত।

দখলনামা: দখলনামা হচ্ছে দখল বা মালিকানা পরিবর্তন ও হস্তান্তরের সনদপত্র বা সারটিফিকেট। কোন ক্রেতা একটি প্রপার্টি নিলামে ক্রয় করার পর সরকার পক্ষ ক্রেতাকে তার প্রপার্টির দখল বুঝিয়ে দেয়ার পর একটি সার্টিফিকেট প্রদান করেন। সেই সার্টিফিকেটটিকে দখলনামা বলা হয়। সরকারের লোক মাঠ পর্যায়ে যেয়ে ঢাক ঢোল পিটিয়ে, লাল পতাকা বা নিশান উড়িয়ে কিংবা বাঁশের সাইনবোর্ড গেঁথে নতুন মালিককে দখল প্রদান করেন। কোন ডিক্রী জারি করার ক্ষেত্রে এবং নিলামে যেকোন প্রপার্টি বিক্রয় হলে কখনও কখনও ক্রেতাকে সার্টিফিকেট দেয়ার মাধ্যমে ঐ প্রপার্টির দখল বুঝিয়ে দিয়ে থাকে। সেই সার্টিফিকেটটিকেও দখলনামা বলা হয়। যদি কোন ব্যক্তি সরকার কিংবা আদালতের পক্ষ হতে কোন প্রপার্টির দখলনামা পেয়ে থাকেন, তাহলে বুঝে নিতে হবে যে ঐ সম্পত্তির উপর ঐ ব্যক্তিটির দখল রয়েছে।

খাজনা: জমি ব্যবহারের জন্য সরকার বার্ষিক ভাবে দখলদারের কাছ থেকে যে কর আদায় করে থাকেন সেটাকে সেই জমির খাজনা বলা হয়।

বায়নামা: ১৯০৮ সালের দেওয়ানি আইনের কার্যবিধি অনুযায়ী ২১ নাম্বার আদেশের ৯৪ নাম্বার নিয়ম অনুসারে কোন স্থায়ী প্রপার্টি নিলামে বিক্রি চূড়ান্ত ঘোষিত হলে আদালত ক্রেতাকে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে। এতে নিলামকৃত জমি সংক্রান্ত সব রকম বিস্তারিত তথ্য দেয়া থাকে। এই সার্টিফিকেট বা সনদ বায়নামা নামে পরিচিত। এই বায়নামায় নিলাম ক্রেতার নাম সহ অন্যান্য বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়। কোন নিলাম বিক্রি চূড়ান্ত হয়ে গেলে সেই ক্রেতার নামে একটি বায়নামা অবশ্যই দিতে হবে। নিলাম চূড়ান্ত হওয়ার তারিখটি বায়নামায় অবশ্যই উল্লেখ করে দিতে হবে।

জমাবন্দী: জমিদার কিংবা তালুকদারেরা তাদের আমলে প্রজা বা দখলদারের নাম, জমি ও খাজনার বিস্তারিত তথ্য একটি বিশেষ পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করতেন। সেই বিশেষ পদ্ধতিকেই জমাবন্দী বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে তহসিল অফিসে একই রেকর্ড বা তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখার পদ্ধতিকেও জমাবন্দী বলা হয়।

দাখিলা: সরকার বা সম্পত্তির মালিককে কোন প্রকার খাজনা দেয়া হলে একটি নির্দিষ্ট ফর্ম বা রসিদ প্রদান করতে হয় (ফর্ম নাম্বার- ১০৭৭)। এই ফর্মটিকে দাখিলা বা খাজনার রসিদ বলা হয়। যদিও দাখিলা কোন স্বত্ব বা মালিকানার দলিল নয়, তবুওদখল সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রমাণ এতে লিপিবদ্ধ থাকে।

ডিসিআর: জমির কর ব্যতীত অন্য কোন সরকারী পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত রসিদ বা ফর্ম (ফর্ম নাম্বার ২২২) দেয়া হয়ে থাকে তাকে ডিসিআর বলা হয়ে থাকে।

কবুলিয়ত: সরকারের পক্ষ হতে কৃষকদেরকে জমি ব্যবস্থা দেয়ার প্রস্তাব প্রজা বা দখলদারের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়। এরপর সরকার তাদেরকে এই ব্যাপারে একটি অনুমতি বা অঙ্গীকার পত্র দিয়ে থাকেন এবং এটিকেই কবুলিয়ত বলে।

ফারায়েজ: ইসলামী বিধান অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির প্রপার্টি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলা হয়ে থাকে।

ওয়ারিশ: ওয়ারিশ শব্দটির অর্থ হচ্ছে উত্তরাধিকারী। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী যেকোন ব্যক্তি উইল না করে মারা গেলে তার স্ত্রী, সন্তান কিংবা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে হয়ত এক বা একাধিক ব্যক্তি তার রেখে যাওয়া প্রপার্টির মালিকানা পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে ঐ মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ বলা হয়।

হুকুমনামা: জমিদারদের কাছ থেকে জমি বন্দোবস্ত নেয়ার পর প্রজা বা দখলদারের মালিকানা বা দখল প্রমাণ করতে হয়। আমলনামা বা হুকুমনামা হলো সেই প্রজার স্বত্ব দখল প্রমাণের দলিল। সংক্ষেপে বলতে গেলে জমিদারের পক্ষ থেকে প্রজা বা দখলদারের কাছে দেয়া জমির বন্দোবস্ত সম্পর্কিত নির্দেশনা পত্রকেই আমলনামা বা হুকুমনামা বলা হয়।

মৌজা: সি এস জরিপ অথবা ক্যাডাস্টল জরিপ যখন করা হয় তখন্থানা ভিত্তিক এক বা একাধিক গ্রাম, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা ইত্যাদি আলাদা করে বিভিন্ন ইউনিটে ভাগ করে তাদেরকে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছেআর বিভক্ত করা এই প্রতিটি ইউনিটকে মৌজা বলা হয়। এক বা একাধিক গ্রাম নিয়ে এই মৌজা গঠিত হয়।

আমিন: জমি জরিপের মাধ্যমে করা নকশা ও খতিয়ান তৈরি করা ও জমি জরিপের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের আমিন বলা হয়ে থাকে।

সিকস্তি: নদী ভাঙ্গনের ফলে যদি কোন বিশেষ জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় তাহলে তাকে সিকস্তি বলা হয়ে থাকে। এই সিকস্তি জমি যদি পরবর্তী ৩০ বছরের মধ্যে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসে, তাহলে সিকন্তি হওয়ার সময় জমিটির যে মালিক ছিলেন তিনি কিংবা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেউ শর্তসাপেক্ষে ঐ জমিটির মালিকানা পাবেন।

পয়ন্তি: নদী গর্ভ থেকে পলিমাটির স্তর জমে যদি কোন নতুন জমি সৃষ্টি হয়, তবে তাকে পয়ন্তি বলা হয়ে থাকে।

লেনদেন বাতিলকরণ: এর মানে হলো যৌথ মজুদকে বিভক্ত করে ফেলা এবং সম্পূর্ণ নতুন খতিয়ান তৈরি করা। সাধারণত প্রজারা জমি লেনদেন কিংবা বাটোয়ারা করার সময় অন্য খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত জমির একটি অংশের সাথে একটি করে নতুন খতিয়ান খোলেন। এই নতুন খতিয়ান খোলার ঘটনাকে লেনদেন বাতিলকরণ বলা হয়ে থাকে। সংক্ষেপে বলতে গেলে মূল খতিয়ান থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জমির জন্য নতুন খতিয়ান তৈরি করাটা লেনদেন বাতিলকরণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

উপসংহার

প্লট ও জমিতে বিনিয়োগ আপনার ভবিষ্যতের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত. সুতরাং আপনার ও আপনার পরিবার এবং ভবিষ্যত উত্তরাধিকারীদের ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করতে বাংলাদেশে প্লট ও জমি কেনা বেচার সবগুলো টেকনিক্যাল পরিভাষা জানাটা আবশ্যক!

আপনার জমি, প্রপার্টি এবং আপনার পরিবারকে বাঁচাতে আপনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো আপনার পরিবার ও বন্ধুবর্গের সাথে শেয়ার করতে পারেন। জানাশোনা ভালো করতে চাইলে এবং প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচতে চাইলে বাংলাদেশের আইন কানুন ভালো ভাবে জেনে রাখুন।

সর্তক থাকুন, নিরাপদ থাকুন!

আপনি যদি কোন প্রপার্টি, জমি কিংবা প্লট কেনার কথা ভাবেন, তাহলে Bikroy.com/Property পোর্টালটি ভিসিট করতে পারেন। এখানে পাবেন সারা বাংলাদেশ জুড়ে সত্যিকার মানুষের পোস্ট করা শত শত প্রপার্টির খোঁজ!


#ILoveBangladesh প্রতিযোগিতার বিজয়ী গল্প

I love Bangladesh Winners

দেশপ্রেম ও বীরত্বের অজানা উপাখ্যান

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com আয়োজিত বিজয় দিবস উপলক্ষে #ILoveBangladesh গল্প প্রতিযোগিতায় ২০০ এরও বেশি সংগৃহীত গল্পগুলো থেকে তিনটি গল্প বাছাই করে লেখদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন দিদারুল ইসলাম, দ্বিতীয় হয়েছেন মোঃ সাঈদ-বিন-আজিজ এবং তৃতীয় হয়েছেন মনজুরুল হক। গত ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮-তে Bikroy.com এর হেড অফিসে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং তাঁদেরকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়। বিজয়ীদের এসব গল্পে উঠে এসেছে সাহসী মুক্তিযোদ্ধাদের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ আর বীরত্বের উপাখ্যান। পাঠকদের সুবিধার্থে এবার তুলে ধরা হলো বিজয়ীদের সেসকল গল্পঃ

১ম বিজয়ী (দিদারুল ইসলাম)নিরবে দেশের জন্য আত্মত্যাগ”: একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করার জন্য তিন থেকে চারজন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্য দৌড়ে নিয়ে যাচ্ছে। লোকটি দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ রাস্তার বাঁকে তাদের আড়ালে পরে যায় এবং সামনে থাকা একটা পুকুরে ঝাঁপ দেয়। পুকুরে অনেক কচুরিপানা থাকায় লোকটি মাথায় কচুরিপানা দিয়ে দাড়িয়ে থাকে। ঐ সময়ে পুকুরঘাটে বসা ছিল একজন মহিলা যা মুক্তিযোদ্ধা খেয়াল করে নি। মুক্তিযোদ্ধাটি পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ার ফলে পানিতে ঢেউ উঠতে থাকে। এই ঢেউ দেখে পাকিস্তানিরা যেন বুঝতে না পারে পুকুরে কেউ ঝাঁপ দিয়েছে তাই মহিলাটি তার দুই পা দিয়ে পুকুরের পানিতে জোরে জোরে ঢেউ তুলতে থাকে।

এক কি দুই মিনিট পর পাকিস্তানিরা এসে ঐ পুকুরপাড়ে দাঁড়ায়। তারা পুকুরের ঢেউ দেখে ভাবলো লোকটি হয়তো পুকুরেই ঝাঁপ দিয়েছে। কিন্তু পরক্ষণেই তারা দেখলো ঢেউটা পুকুরের ঐ পাড়ে বসা ঐ মহিলার কাছে থেকে আসছে। তাই তারা মহিলাটির কাছে গিয়ে জানতে চায় তিনি এদিক দিয়ে কাউকে যেতে দেখেছে কিনা। তিনি ‘না’ জানালে তারা জানতে চায় তিনি পানিতে এভাবে ঢেউ তুলছেন কেন। মহিলাটি ভীত হয়ে যায় এবং চুপ করে বসে থাকে। নিষ্ঠুর-নির্মম পাক বাহিনীর সদস্যরা সেদিন মহিলার চুপ থাকা দেখে রেগে গিয়ে মহিলাটিকে টেনে হিঁচড়ে পুকুরঘাট থেকে উপরে তুলে আনে এবং সেই মুক্তিযোদ্ধার কথা জানতে চায়। মহিলাটি কোনো জবাব না দেওয়ায় তারা সেদিন তাদের বন্দুকের সামনে থাকা ছুরি দিয়ে মহিলাটির পেট চিরে বাচ্চাটিকে বের করে নিয়ে আসে এবং দুইজন চ্যাং দোলা করে বাচ্চাটিকে পানিতে ছুঁড়ে মারে। এরপর তারা চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে মহিলাটিকে হত্যা করে।

গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে সেদিন এমনই নাম না জানা অনেক নারী মুক্তিযুদ্ধের জন্য যে অবদান রেখেছিলেন এটা ছিল তারই একটি উদাহরণ। মহিলাটি যে আত্মত্যাগ দিয়েছিল তা পানিতে থাকা মুক্তিযোদ্ধাটিকে এতোটাই ক্ষিপ্র করেছিল যে তিনি সেদিন প্রতিজ্ঞা করে বলেছিলেন দেশে যতদিন না পর্যন্ত এই বর্বরোচিত বাহিনীর কবর রচনা করতে পারবেন ততদিন পর্যন্ত তিনি বাড়ি ফিরে যাবেন না। একদিন তিনি ঠিকই সফল হয়েছিলেন। কিন্তু তার মন থেকে সেই দৃশ্যটা কোনোদিন মুছে যায় নি!

২য় বিজয়ী (মোঃ সাঈদ-বিন-আজিজ)দেশ স্বাধীনে কিশোর মামুনের শেষ চেষ্টা”: শহীদ ক্যাডেট আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁর বীরত্বের কথা উঠে এসেছে তৎকালীন ৭ নম্বর সেক্টরের প্রধান সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের কাছ থেকে। মামুনের বাড়ী নওগাঁ জেলার মান্দা থানায়। সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে। বাবার নাম হলো ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণীতে পড়তেন।

আব্দুল জলিলের ভাষায়, সেই ছেলেকে একটা ক্যাম্পে আমি রিক্রুট করতে বাধ্য হয়েছিলাম ট্রেনিং এর জন্য। আমি প্রথমে ঐ ছেলেকে রিক্রুট করি নাই বা করতে চাইনি। এর মধ্যে ঐ ছেলে আমার কাছে যেয়ে কান্নাকাটি শুরু করেছে। বলে যে, আমি  মুক্তিযুদ্ধে যাবো। মুক্তিযুদ্ধ করার জন্য আমি এসেছি। ট্রেনিং নিয়ে আসার পর ইনডাকটেড হয়ে একদিন সে কিভাবে শুনেছে যে, পাঞ্জাবিরা ফেরিঘাট দিয়ে নদী ক্রস করবে। আত্রাই নদী দিয়ে মান্দা থানার ডিভিশন আছে। এই খবর পেয়ে ওরা ৩/৪ জন ওখানে গ্রেনেড নিয়ে গেছে। তারা দেখলো আর্মি সেখান দিয়ে পার হচ্ছে। তখন মামুন গ্রেনেড ছুড়ে। মামুন তিনটা গ্রেনেডই ছুড়েছিলো। কিন্তু তিনটার একটাও বিস্ফোরণ হয় নাই। পরে আর্মি তাকে ধরে ফেলে। আর্মি তাকে ধরার পরে ট্রাকের পেছনে রশিতে বেধে নওগাঁ শহর পর্যন্ত নিয়ে আসে। শহরে এনে আবার পুরো শহর ঘুরিয়েছে। ততক্ষনে তার শরীরে কোনো মাংস ছিলো না। পরে তারা তাকে ফেলে দিয়ে যায়।

কিন্তু যে উদ্দেশ্যে তুমি এবং তোমরা এভাবে নির্বিচারে, বীভৎসভাবে তোমাদের প্রাণ দিলে, রক্ত দিয়ে ঘাস-মাটি ভেজালে, সত্যিই সেই সোনালী দিনগুলো কবে আসবে বলতে পারো হে চির কিশোর-বয়সের ফ্রেমে আটকে যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাডেট আবদুল্লাহ আল মামুন?

৩য় বিজয়ী (মনজুরুল হক)স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক আবদুল হক”: আবদুল হক ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নৌবাহিনীর একজন নওজোয়ান সদস্য। যুদ্ধ চলাকালীন সময় তাঁকেসহ সামরিক বাহিনীর সকল সদস্যকে বন্দী করে নিয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানে। একদিন আবদুল হকসহ কয়েকজন সেখান থেকে পালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, পাহাড় অতিক্রম করতে গিয়ে তাঁরা গর্তে পড়ে গিয়ে পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়ে যান। নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায় এবং এক পর্যায়ে তাঁদের বুকের উপর ভারী পাথর তুলে নির্মম নির্যাতন করা হয়। পাথরের ভর সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে জ্ঞান হারান আবদুল হক।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার প্রায় আড়াই বছর পর বন্দীচুক্তির মাধ্যমে আবদুল হক রোগাক্রান্ত অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরার পর স্ত্রীর ইচ্ছা না থাকায় এই রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দিতে চাননি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বিশেষ অনুরোধে বাংলাদেশ পুনর্গঠনে আবারো বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে চাকরি শুরু করেন। অর্পিত হয় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার দায়িত্ব এবং তিনি চলে যান যুগোশ্লাভিয়ার যুদ্ধ জাহাজ আনতে। আবদুল হককে পাক হানাদার বাহিনী যে নির্মম নির্যাতনের কারণে ধীরে ধীরে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ “Buy Now সার্ভিস” – Bikroy থেকে সরাসরি আপনার দোরগোড়ায়!

Bikroy Buy Now Ecommerce

যখনই আপনি কোন পণ্য বিক্রি করার বা অল্প পরিশ্রমে নিজের জন্য কিছু কেনার প্রয়োজন মনে করেন, তখন প্রথমেই যেই জিনিসটার কথা আপনার মাথায় আসে তা হলো অনলাইনে সার্চ করা! ইন্টারনেটের নানা রকম সুবিধার মধ্যে অন্যতম একটি ব্যাপার হচ্ছে যে এটি আমাদের সব কিছুকে অনেক সহজ ও হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। একই সাথে আমাদের বিপুল পরিমাণ সময় ও শক্তি প্রতিনিয়ত বাঁচিয়ে দিচ্ছে এই ইন্টারনেট। যখনই আমরা কোন অনলাইন মার্কেটপ্লেস ভিসিট করার কথা ভাবি, তখন প্রথমেই আমাদের মনে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে Bikroy.com প্রথম এবং অন্যতম। Bikroy.com-এর একেবারে শুরুর দিক থেকে এদেশের সব ধরণের মানুষ একে ব্যবহৃত পণ্যের জন্য সেরা ও নির্ভরযোগ্য মার্কেটপ্লেস গুলোর মধ্যে একটি বিবেচনা করে আসছেন। কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ নয়!

আপনি হয়ত জেনে অবাক হবেন যে আমাদের পণ্যের তালিকায় পুরনো বা ব্যবহৃত পণ্যের চেয়ে নতুন পণ্যের সংখ্যাই বেশি। এই সমস্ত নতুন পণ্যের বিজ্ঞাপন আমাদের বিশ্বস্ত মেম্বার বা সদস্যরা পোস্ট করে থাকেন, যাদের প্রত্যেকেরই Bikroy.com এ নিজস্ব ভার্চুয়াল ওয়েব শপ রয়েছে। যাই হোক, আমাদের ক্রেতা ও বিক্রেতা সকলের জন্যই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে আমাদের একটি বিশেষ পণ্য হস্তান্তরের সার্ভিস রয়েছে, যার নাম ‘Buy Now’। আজকে আমরা Bikroy-এর পক্ষ থেকে দেয়া এই বিশেষ সার্ভিস সম্পর্কে বিশদ ভাবে আলোচনা করবো। অতএব, সাথেই থাকুন!

“Buy Now” কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

Buy Now হলো এমন একটি সার্ভিস যা Bikroy-এ একজন ক্রেতা ও একজন বিক্রেতার মধ্যে আরো সহজ এবং সর্বোচ্চ নিরাপদ উপায়ে পণ্য আদান প্রদান নিশ্চিত করে। যখনই আপনি Bikroy-এর শত শত পণ্যের বিজ্ঞাপন ব্রাউজ করে দেখবেন, তখন কিছু কিছু বিজ্ঞাপনের গায়ে দেখবেন একটি ছোট সবুজ রঙের ’Buy Now’ বাটন রয়েছে, আর কিছু বিজ্ঞাপনে তা নেই। যে পণ্যগুলোয় এই বাটনটি রয়েছে সেগুলোতেই আপনারা এই সার্ভিসটি পাচ্ছেন।

যখন আপনি Bikroy থেকে কোন একটি পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নেন, তখন পণ্যটি পাওয়ার জন্য আপনার হাতে দু’রকম অপশন থাকে-

  • আপনি বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বিজ্ঞাপনে দেয়া ফোন নাম্বারে সরাসরি কল করে অথবা আমাদের ‘চ্যাট’ সার্ভিস ব্যবহার করে তার সাথে আলাপ করতে পারেন। তারপর কোন একটা যায়গা ঠিক করে সেখানে তার সাথে দেখা করে পণ্যটি কিনে নিতে পারেন।
  • যদি পণ্যটি আমাদের ‘Buy Now’ সার্ভিসের জন্য উন্মুক্ত থাকে, তাহলে আপনি শুধুমাত্র সবুজ বাটনটি প্রেস করবেন আর বিল রেডি রাখবেন। বাকিটা Bikroy আপনার হয়ে করে দেবে।

যদি আপনি সবচেয়ে সহজ অপশনটি অর্থাৎ ‘Buy Now’ সার্ভিস বেছে নেন, তাহলে আপনাকে কোনো জায়গা ঠিক করা, সেখানে যাওয়া কিংবা একজন অপরিচিত ব্যক্তির সাথে কথা বলা এসবের কিছুই করতে হবে না। নিশ্চিন্তে শুধু আপনার নাম, ফোন নাম্বার এবং মেইলিং এড্রেস বা পণ্য ডেলিভারি নেয়ার ঠিকানাটি ফর্মে ইনপুট দিন এবং ‘অর্ডার করুন’ লেখা বাটনটি প্রেস করুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি Bikroy থেকে আপনার ফোন নাম্বারটি ভেরিফিকেশন করার জন্য ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি সহ একটি টেক্স মেসেজ পাবেন। অতঃপর আমাদের নিবেদিত কর্মীরা আপনাকে কল করে অর্ডারটি কনফার্ম করবেন, বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্যটি সংগ্রহ করবেন এবং সব শেষে আপনার দেয়া ঠিকানায় পণ্যটি পৌঁছে দেবেন। আমরা যেকোন পণ্যের ডেলিভারি করার জন্য খুব অল্প পরিমানে ডেলিভারি চার্জ রাখি। এই ডেলিভারি চার্জ নির্ভর করে পণ্যটির দাম ও ওজনের উপর। আপনাকে আগে থেকেই এই চার্জের পরিমান ও সম্পূর্ণ বিলের হিসাব জানিয়ে দেয়া হবে। অতএব, একবার ‘Buy Now’ বাটনটি প্রেস করে ফেলার পর আপনার কাজ হবে শুধুমাত্র পণ্যটি আপনার হাতে এসে পৌঁছানোর জন্য অপেক্ষা করা এবং ডেলিভারি পাওয়ার পর সেটা বুঝে নিয়ে বিল পরিশোধ করা।

 

তাহলে আসুন এবার আমরা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের দিক থেকেই ‘Buy Now’ সার্ভিস ব্যবহারের নানা রকম সুবিধা সমূহ দেখে নিই।

বিক্রেতাদের জন্য সুবিধা

যখন আপনি কিছ বিক্রি করার কথা চিন্তা করেন, তখন আপনার প্রধান উদ্দেশ্যই থাকে যে কীভাবে ঐ পণ্যটি থেকে সর্বোচ্চ লাভ করা যায় এবং কম ঝামেলা করে বিক্রি করে ফেলা যায়। আমাদের ‘Buy Now’ সার্ভিসটি একজন বিক্রেতার এই উদ্দেশ্যগুলো সফল করার জন্য নিম্নোক্ত উপায়ে সাহায্য করে থাকে:

Bikroy -এ আপনার একটি ব্যক্তিগত ভার্চুয়াল শপ থাকবে

অনলাইনে নানা রকম পণ্য বিক্রি করা কিংবা সেই থেকে একটা ব্যবসা দাঁড় করানোর চিন্তা করছেন, এমন একজন বিক্রেতা হিসেবে আপনার ব্যবসায়ের সব পণ্যগুলো এক সাথে ডিসপ্লে করার প্রয়োজন পড়ে। বিক্রির সুবিধার জন্য আপনার হয়ত প্রায়ই নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট কিংবা অনলাইন শপের প্রয়োজন অনুভব হতে পারে। অনলাইনে একটি ভার্চুয়াল শপ থাকলে আপনার সব কাস্টমারদের সাথে একটি মাত্র লিঙ্ক শেয়ার করে আপনার সব রকম পণ্যের বিজ্ঞাপন ও অফার তাদের কাছে তুলে ধরতে পারবেন। এছাড়াও মাত্র একটি লিঙ্ক ব্যবহার করে তারা আপনার সব গুলো পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ, আনুষঙ্গিক ছবি এবং দাম সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই জানেন না কীভাবে অনলাইনে নিজস্ব একটি উপযুক্ত মার্কেটপ্লেস তৈরি করা যায়, আর সেজন্য শুধু মাত্র ফেসবুক পেইজ বা গ্রুপ তৈরি করা ও সেগুলো দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় আমাদের হাতে থাকে না।

 

কিন্তু Bikroy আপনাদেরকে নিজস্ব একটি অনলাইন শপ তৈরি করার সহজ একটি উপায় এনে দিয়েছে, আর সেজন্য আপনাকে কোন ডেভেলপার নিয়োগ দেয়া বা অতিরিক্ত টাকা খরচ করার কোন প্রয়োজনও হবে না। আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপনে ‘Buy Now’ সার্ভিসটি চালু করার জন্য প্রথমে আপনাকে Bikroy এর একজন মেম্বার হতে হবে। আর যখনই আপনি সেটা করবেন, তখন Bikroy আপনাকে আপনার নিজস্ব অনলাইন শপের লিঙ্ক তৈরি করে দিবে এবং সেই লিঙ্কে আপনার ব্যবসায়ের সমস্ত পণ্যের বিজ্ঞাপন একই পেইজে তালিকাবদ্ধ ভাবে চলে আসবে।

আপনার পণ্যের জন্য আপনার নির্ধারণ করা দামই চূড়ান্ত

’Buy Now’ সার্ভিসটি চালু করার পর আপনি আপনার প্রতিটি পণ্যের জন্য আপনার মনের মত দাম ঠিক করতে পারবেন ও বিজ্ঞাপনে যোগ করতে পারবেন। কাস্টমাররা আপনার নির্ধারণ করা দাম দেখে পণ্যটি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং Buy Now বাটনটি প্রেস করে ঐ দামেই পণ্যটি অর্ডার করতে পারবেন। এখানে দামাদামি ও বাকবিতণ্ডা করার কোন সুযোগই নেই, এবং আপনাকে কাস্টমারদের সাথে লম্বা সময় ধরে আলাপও করতে হবে না। কিন্তু হ্যাঁ, আপনি এই সুযোগে নিশ্চয়ই আপনার পণ্যের জন্য এমন কোন দাম বসাতে পারেন না যা বাস্তবসম্মত নয় কিংবা অবান্তর। স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ের নীতিমালা ও নৈতিকতার দিক থেকে এরকম করাটা মোটেও উচিত নয়।

ব্যান্ডিং এবং লেনদেনের খরচ অনেক কম

অনলাইনে যেকোন যায়গায় আপনার নিজস্ব একটি মার্কেটপ্লেস বা ভার্চুয়াল শপ তৈরি করাটা বেশ ব্যয়বহুল একটা ব্যাপার এবং বাজেট পরিকল্পনা নিয়েও আপনাকে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রথমত আপনাকে একটি উপযুক্ত ডোমেইন খুঁজে বের করতে হবে এবং বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এরপর সেই পারফেক্ট জায়গাটা আপনার নামে পাওয়ার জন্য ভালো অংকের দামে নিলাম ডাকতে হবে। আর সেটা পেয়ে যাওয়ার পর সাইটটি তৈরি করা ও ঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য আপনাকে কিছু ডেভেলপার ও ডিজাইনার নিয়োগ দিতে হবে। এত কিছুর পরও আপনাকে আপনার ব্যবসা বা কোম্পানির ব্র্যান্ডিং করানোর বিশাল একটা খরচের মুখোমুখি হতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টকর। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পেইজ বানিয়ে কাজ চালানোর ক্ষেত্রেও একটি স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য কাস্টমার বেইজ ধরে রাখার জন্য আপনাকে প্রতিনিয়ত আপনার ব্যবসায়ের পরিকল্পনা আপডেট করতে হবে ও প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে।

Bikroy -এর সাথে মেম্বারশিপ করলে আমাদের নিবেদিত কর্মীরা আপনার কাজের একটা বড় অংশ সামলানোর দায়িত্ব নিয়ে নেবেন। আমাদের মেম্বারশিপ প্রোগ্রামে একবার সংযুক্ত হয়ে যাওয়ার পর Bikroy -এর ডেভেলপার টিম আপনার অনলাইন শপটির জন্য একটা ব্যক্তিগত পেইজ তৈরি করবেন এবং এর ইউআরএল বা লিঙ্কে আপনার শপের নামটি উল্লেখ করে দেয়া হবে। যখনই আপনি আপনার নতুন কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন পোস্ট করবেন, তখন সেটা আপনার অনলাইন শপেও চলে আসবে। এছাড়াও বেশ অল্প একটা খরচেই আপনার পণ্য বাংলাদেশের যেকোন যায়গায় অপেক্ষারত কাস্টমারের হাতে পৌঁছে যাবে সহজ ও নিরাপদভাবে।

কোন আলাদা ডেলিভারি সার্ভিস নিয়োগ দিতে হবে না

আপনার বিজ্ঞাপনগুলোয় ‘Buy Now’ সার্ভিস চালু করার মাধ্যমে আপনি বাংলাদেশের যেকোন যায়গায় বিভিন্ন ধরণের কাস্টমারদের কাছে আপনার পণ্য ডেলিভারি দেয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব রকম সুবিধা পাবেন। অনলাইন শপ কিংবা ব্যবসা আছে এমন বেশির ভাগ ব্যক্তিকেই তাদের পণ্য ডেলিভারি দেয়ার জন্য একটি উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি ম্যান বা কুরিয়ার সার্ভিস খুঁজে বের করতে হয়। ডেলিভারি সংক্রান্ত সমস্যা কমানোর জন্য কখনও কখনও আমাদেরকে বিভিন্ন এলাকা বা দূরবর্তী কাস্টমারদেরকে কাস্টমার বেইজ থেকে বাদ দিয়ে দিতে হয়। কিন্তু Bikroy -এর ‘Buy Now’ সার্ভিস আপনাকে আপনার কাস্টমার বেইজ বাড়ানোর এবং বাংলাদেশের যেকোন যায়গায় আপনার পণ্য সহজ ভাবে পৌঁছে দেয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে পারে। আমাদের নিবেদিত কর্মীরা আপনার গোডাউন বা দোকান থেকে পণ্য সংগ্রহ করবেন এবং সেগুলোর নিজ নিজ ঠিকানায় ডেলিভারি করে দিবেন, আর আপনিও সময় মত আপনার পণ্যের দাম হাতে পেয়ে যাবেন। এর জন্য আপনাকে কেবল সঠিকভাবে আপনার বিজ্ঞাপন পোস্ট করতে হবে আর তাতে ‘Buy Now’ অপশনটি চালু করে দিতে হবে।

সুবিশাল কাস্টমার বেইজ

যখনই আপনি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সাইট, যেমন- ফেসবুকে একটি ব্যবসা সংক্রান্ত পেইজ খুলবেন, তখন আপনাকে সেই পেইজটি প্রোমোট করতে হবে কিংবা বিভিন্ন রকম মানুষকে সেই পেইজটি দেখা ও লাইক দেয়ার জন্য এক এক করে আলাদা ভাবে ইনভাইট করতে হবে। এই উপায়ে কোন সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে আপনার ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনেক বেশি সময় ও পরিশ্রম ব্যয় করতে হয়।

 

কিন্তু সারা বাংলাদেশে Bikroy -এর নিজস্ব এক সুবিশাল কাস্টমার বেইজ রয়েছে। এখানে আপনার মানুষের কাছে যেয়ে, নক করে কিংবা অনুরোধ করে ধীরে ধীরে কাস্টমার বেইজ তৈরি করার কোন প্রয়োজন হবে না। Bikroy -এর সাহায্যে আপনি তেমন কোন বিশেষ বন্ধুত্ব, পরিচিতি বা ঝামেলা ছাড়াই হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারবেন। আপনি যদি Bikroy কে আপনার ব্যবসায়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নেন, তাহলে Bikroy ই হয়ে উঠবে আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী বন্ধু!

ক্রেতাদের জন্য সুবিধা

একজন ক্রেতা হিসেবে অনলাইন থেকে যেকোন পণ্য কেনার সময় আপনার সবচেয়ে বড় ভয় বা দুশ্চিন্তা হচ্ছে ঠগ বা ছলনার শিকার হওয়া, ভুল কিংবা ত্রুটিযুক্ত পণ্য হাতে পাওয়া এবং এমন ক্ষেত্রে কোন রিটার্ন বা পরিবর্তনের সুযোগ না পাওয়া। Bikroy -এর ‘Buy Now’ সার্ভিস ব্যবশার করলে আপনি এই সমস্ত ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন, কেননা Bikroy আমাদের কাস্টমারদের নিম্নোক্ত বিভিন্ন উপায়ে সাহায্য করার চেষ্টা করে:

বিশ্বাসযোগ্য এবং মানসম্মত বিক্রেতা

Bikroy -এ রয়েছে আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং উদ্ভাবনী বিক্রেতাদের মেলা। তারা আমাদের নানা রকম ক্যাটাগরীতে হাজার হাজার পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন। ‘Buy Now’ সার্ভিস ব্যবহার করে আপনি আমাদের সাইটে তাদের বিজ্ঞাপনগুলো থেকে সরাসরি কেনাকাটা করতে পারবেন।

 

আমরা আমাদের দলে মেম্বারদেরকে নেয়ার সময় বিশেষ কিছু নিয়ম নীতি ও ধাপ অনুসরণ করি। এছাড়াও প্রতারণামূলক পোস্ট এবং নকল কিংবা বাতিল পণ্যের বিজ্ঞাপন সরিয়ে দেয়ার জন্য Bikroy -এ কর্মীদের একটা বড় দল রয়েছে, যারা সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা পোস্ট হওয়া সকল বিজ্ঞাপনগুলোর উপর নজর রাখেন। Bikroy -এ পোস্ট হওয়া ও আপনার চোখে পড়া প্রতিটি বিজ্ঞাপনই অকৃত্রিম, যা সত্যিকারের মানুষেরা সত্যিকারের পণ্যের জন্য পোস্ট করে থাকেন। অতএব কেনাকাটার সময় আপনাকে পণ্যের সত্যতা নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা করতে হবে না, শুধুমাত্র Bikroy -এ থাকা শত শত অপশনের মধ্যে ব্রাউজ করুন এবং তুলনা করে বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিন।

পণ্যের ডেলিভারি পেয়ে যান আপনার দোরগোড়ায়

আমাদের ‘Buy Now’ সার্ভিস ব্যবহার করলে আপনাকে আপনার পণ্য সংগ্রহ করার জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক যায়গা বাছাই করা কিংবা লেনদেনের জন্য অচেনা মানুষের সাথে পরিচয় করার কোন প্রয়োজনই হবে না। Bikroy -এর নিবেদিত ডেলিভারি সার্ভিস আপনার কেনা পণ্যটি বিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করবেন এবং আপনার কাছে পৌছে দেবেন আপনার পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যের ঠিকানায়। আপনাকে শুধু ‘Buy Now’ এর পপ-আপ উইন্ডোতে আপনার সুবিধামত একটি ডেলিভারির ঠিকানা উল্লেখ করে দেবেন এবং আমাদের পাঠানো একটি ওটিপি এর সাহায্যে আপনার ফোন নাম্বারটি ভেরিফিকেশন করবেন। তারপর Bikroy থেকে আপনার নাম্বারে একটি কল করা হবে অর্ডারটি নিশ্চিত করার জন্য। অতঃপর আপনার পণ্য আপনার কাছে পৌঁছে যাবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। এই সময় আপনাকে ডেলিভারি ম্যানের কাছ থেকে শুধুমাত্র একটি ফোন কলের অপেক্ষা করতে হবে, দেখে শুনে পণ্যটি রিসিভ করতে হবে এবং সবশেষে বিল পরিশোধ করতে হবে।

‘Buy Now’ এ পাবেন শুধুমাত্র নতুন ও অকৃত্রিম পণ্য

একটি পুরনো বা ব্যবহৃত পণ্য কোন রকম প্রশ্ন বা পরীক্ষা করা ছাড়া কিনে ফেলা কখনওই সম্ভব নয়। সেজন্যই Bikroy শুধুমাত্র সে সব পণ্যেই আমাদের ‘Buy Now’ সার্ভিসটি দিয়ে থাকে যেগুলো সম্পূর্ণ নতুন এবং আমাদের বিশ্বস্ত বিক্রেতারা দিয়ে থাকেন। এছাড়াও আমাদের ‘Buy Now’ সার্ভিসে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলোর প্রত্যেকটিই নির্ভেজাল ও অকৃত্রিম। Bikroy কখনওই রেপ্লিকা কিংবা কপি করা পণ্যের বিজ্ঞাপন পোস্ট হতে দেয় না। অতএব ‘Buy Now’ বাটনটি প্রেস করার সময় আপনাকে পণ্যের সত্যতা নিয়ে কোন রকম টেনশন করতে হবে না।

অনলাইনে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে কেনাকাটা করার সুযোগ

‘Buy Now’ সার্ভিসটি ব্যবহার করে আপনি আপনার পরিবহনের খরচ এবং দর কষাকষির ক্ষেত্রে অনেক সময়ও বাঁচাতে পারবেন। Bikroy এর লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের কাস্টমারদের কাছে সম্ভাব্য সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজ উপায়ে সেরা কোয়ালিটির পণ্য পৌঁছে দেয়া। তাই হাজার হাজার পণ্যের উপর সেরা সব ডিলস এবং ‘Buy Now’ সার্ভিসের সাশ্রয়ী ডেলিভারি চার্জের সাথে আজকের দিনের অনলাইন শপিং হয়ে উঠেছে একই সাথে আরো বেশি সুবিধাজনক ও আনন্দের!

‘Buy Now’ পণ্যসমূহ

আমাদের জীবন অনেক বেশি সহজ করতে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলায় সাহায্য করতে Bikroy -এ রয়েছে শত শত লাইফস্টাইল অর্থাৎ জীবনধারার পণ্য এবং গ্যাজেটের সাথে ‘Buy Now’ সার্ভিসের সুবিধা। আপনি ‘Buy Now’ ব্যবহার করে বিভিন্ন ফ্যাশনেবল ড্রেস, শীতের কাপড়, স্টাইলের অনুষঙ্গ, দারুণ সব ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট, যেমন- ইন্টারনেট বুস্টার, মশার হাত থেকে বাঁচার জন্য নানা রকম গ্যাজেট, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য হিটিং এবং কুলিং ডিভাইস, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, প্রোজেক্টর, ক্যামেরার যন্ত্রপাতি, ঘরের ইলেক্ট্রনিক এক্সেসরিজ, রান্নাবান্নার সামগ্রী সহ আরো নানা রকম পণ্য কিনতে পারবেন। আজই ব্রাউজ করুন Bikroy.com -এ এবং জীবনধারা উন্নত করার জন্য খুঁজে নিন দারুণ সব নতুন পণ্য!

আকর্ষণীয় সব অফার পেতে Bikroy ডিলস থেকে কিনুন ‘Buy Now’ পণ্য!

Bikroy Deals e-commerce shop in Bangladesh

কেমন হবে যদি আমরা বলি যে ‘Buy Now’ সার্ভিস ব্যবহার করে পণ্য কেনাটা হতে পারে আরো বেশি আনন্দের? আমাদের সম্পূর্ণ ই-কমার্স পেইজ Bikroy.com/Deals এ আজই ভিসিট করে দেখুন এবং শত শত লাইফস্টাইল পণ্যের উপর বুঝে নিন অবিশ্বাস্য রকম ডিসকাউন্ট ও আকর্ষণীয় সব অফার।

Bikroy ডিলস -এ থাকা সব রকম পণ্যই আপনার জীবনে লেটেস্ট ট্রেন্ড এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এনে দেয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত। ভিন্ন ভিন্ন মৌসুম এবং ভিন্ন ভিন্ন চাহিদার জন্য আপনারা সব সময়ই খুঁজে পাবেন কার্যকরী ও উপযুক্ত সব পণ্য। এদের মধ্যে রয়েছে দাঁড়ির ট্রিমার, স্মার্টওয়াচ, ব্লুটুথ স্পিকার, ম্যাসাজ পিলো, এয়ার ব্লোয়ার এবং ভ্যাকুয়াম ক্লিনার থেকে শুরু করে আকর্ষণীয় ও দারুণ ট্রেন্ডি মৌসুমি পোশাক এবং নানা রকম মাল্টিফাংশনাল ব্যাগপ্যাক, ঘর ও রান্নাঘরের সামগ্রী, ক্যামেরা এক্সেসরিজ সহ আরো কত কি! Bikroy ডিলস প্রত্যেকটি পণ্যেই রয়েছে আকর্ষণীয় সব অফার এবং ডেলিভারি চার্জের উপর নানা রকম ডিসকাউন্ট। Bikroy ডিলস এর বেশ কিছু পণ্য তাদের প্রকৃত দামের উপর সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত ডিসকাউন্টেও পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে আর দেরি কেন? এখনই ব্রাউজ করে খুঁজে নিন আপনার পছন্দের ডিলটি!


Bikroy এর #ILoveBangladesh গল্প প্রতিযোগিতার বিজয়ী ঘোষণা

ILoveBangladesh গল্প প্রতিযোগিতা

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com, বিজয় দিবস  উপলক্ষ্যে আয়োজিত #ILoveBangladesh (আই লাভ বাংলাদেশ) গল্প প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে। গত ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮-তে Bikroy.com এর হেড অফিসে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয় বিজয়ীদের নাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সুরকার শহীদ আলতাফ মাহমুদ এর কন্যা শাওন মাহমুদ। প্রতিযোগিতায় ২০০ এরও বেশি সংগৃহীত গল্পগুলো থেকে তিনটি গল্প বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন দিদারুল ইসলাম, দ্বিতীয় হয়েছেন মোঃ সাঈদ-বিন-আজিজ এবং তৃতীয় হয়েছেন মনজুরুল হক। অনুষ্ঠানে বিজয়ীরা বিশেষ অতিথির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। এছাড়া সম্মানিত অতিথির হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন Bikroy.com এর ম্যানেজমেন্ট টিম।

সম্প্রতি, Bikroy.com তরুণ প্রজন্মের কাছে এদেশের নাম না জানা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সত্যিকারের দেশ প্রেমিকদের সাহসী গল্প তুলে ধরার লক্ষ্যে #ILoveBangladesh গল্প প্রতিযোগিতা চালু করে। প্রতিযোগিরা বিক্রয় ব্লগ ভিজিট করে লেখা বা ভিডিও আকারে গল্প পাঠিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

গল্প নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা এবং Bikroy এর ম্যানেজমেন্ট টিমের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে ১০,০০০ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৫,০০০ টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ২,০০০ টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়াও বিজয়ীদেরকে Bikroy এর পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় এবং নির্বাচিত গল্প তিনটি খুব শীঘ্রই Bikroy ব্লগে প্রকাশ করা হবে।

বিজয়ীদের নাম ঘোষণাকালে বিক্রয় ডট কম-এর হেড অব মার্কেটিং এন্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন বলেন, “Bikroy সবমসয় উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন কিছু নিয়ে আসায় সচেষ্ট থাকে। মহান বিজয় উদযাপন করতে এইবার বিক্রয় #ILoveBangladesh প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে যাতে  অংশগ্রহণকারীরা মুক্তিযোদ্ধা এবং সত্যিকার দেশপ্রেমিকের গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে সবার আগ্রহ আর প্রানবন্ত অংশগ্রহণে আমরা অভিভূত। প্রচুর ভালো ভালো লেখা আমরা পেয়েছি যার মধ্য থেকে বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়েছে। Bikroy এর পক্ষ থেকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা মূল্যবান সময় নিয়ে গল্প পাঠিয়েছেন।”


কিভাবে শিক্ষার্থীরা একজন প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন

প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে

আপনি কি একজন প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছেন?
পড়াশোনা শেষ করার পর বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং এ চাকরি খোঁজার ব্যাপারে দুশ্চিন্তা বা বিচলিত অনুভব করছেন?

প্রথম প্রথম কোড লিখা কিংবা প্রোগ্রামিং শুরু করাটা বেশ ভরপুর একটা কাজ মনে হতে পারে। কিন্তু এটা খুবই স্বাভাবিক! আপনার মনে নানা রকম চিন্তা ভাবনা এসে বাসা বাঁধা শুরু করে দেবে, যেমন আপনার ফোকাস কোনদিকে রাখা উচিত, ফ্রন্ট এন্ড বা সফটওয়্যারের বাইরের অবয়ব তৈরির দিকে নাকি ব্যাক এন্ড বা সফটওয়্যারের ভেতরের মূল গড়ন তৈরির দিকে? কিংবা হয়ত আপনি প্রোগ্রামিং শুরু করার প্রথম ধাপগুলো অতিক্রম করার সময়ও বিচলিত হয়ে পড়তে পারেন!

বাংলাদেশে, এমনকি বিশ্বব্যাপী প্রোগ্রামারদের জন্য একটি সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য যে পরিমাণ বিভিন্ন চাকরির সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে, তা থেকে সহজেই আপনি অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে পারবেন। এই চাকরিতে রয়েছে বিভিন্ন রকম সুবিধা, যেমন আপনার নিজের সুবিধা মত সময়ে কাজ করতে পারা, ভালো বেতন, অর্থবহুল কাজ এবং পাশাপাশি আপনার পছন্দমত যে কোন যায়গায় বসে কাজ করার স্বাধীনতা। একজন ভালো প্রোগ্রামার হয়ে উঠতে পারলে আপনি আপনার প্যাশন, প্রোজেক্ট ইত্যাদির ব্যাপারে নিজেই সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।

তবুও প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রে শুরুর ধাপগুলো সব সময়ই কেমন যেন এক আতঙ্কের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। নিয়োগকারীরা এমন এক ধরণের পরিপূর্ণ প্রোগ্রামারের খোঁজ করেন যার মধ্যে নানা রকম দক্ষতায় ভরপুর। কিন্তু মোটেও আশা হারাবেন না!

প্রার্থীদের মধ্যে প্রাকৃতিক ভাবে কিছু গুণাগুণ এমনিই থাকে, আর বাকি গুণগুলোকে ঝালাই করতে কিংবা অর্জন করে নিতে হয়য়!

একজন পরিপূর্ণ প্রোগ্রামারের দক্ষতা সমূহ

কারিগরী দক্ষতা:

এসকিউএল

জাভা

জাভা স্ক্রিপ্ট

মাইক্রোসফট সি শার্প

লিনাক্স

ডট নেট প্রোগ্রামিং

ওর‍্যাকল

সি প্লাস প্লাস

পাইথন

এক্সএমএল

আনুষঙ্গিক দক্ষতা:

যোগাযোগের দক্ষতা

সমস্যা সমাধান

টিমওয়ার্ক/ সহযোগিতা

রিসার্চ

সৃজনশীলতা

একজন প্রোগ্রামার হিসেবে কোথায় ও কিভাবে আপনার ক্যারিয়ার শুরু করবেন?

বাংলাদেশে ভালো চাকরির জন্য শুধুমাত্র দু’একটা গুণ নিয়েই একজন প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা সম্ভব নয়। একজন ভালো কম্পিউটার প্রোগ্রামার হয়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন রকম দক্ষতা আপনার মধ্যে থাকা জরুরি, যেমনটা উপরের ছকে বা তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

চলুন এবার শিক্ষার্থীদের জন্য এমন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করি, যেগুলো প্রোগ্রামিং এ ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আবশ্যক:

  • বেসিক গণিতে দক্ষতা

একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার মধ্যে ম্যাথমেটিক্স বা গণিতের ভালো বেসিক থাকা চাই। পাটিগণিত ও বীজগণিতের মত বেসিক ম্যাথমেটিক্সগুলোর উপর দক্ষতা কিংবা আগ্রহ না থাকলে আপনাকে প্রোগ্রামিং করার সময় বেশ ভুগতে হবে। অতএব এই দক্ষতাকে কোন ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আপনার উচিত নিজেকে গণিতের বেসিক বোঝার ব্যাপারে পারদর্শী করে তোলা।

  • সমস্যা সমাধানের প্রতি প্যাশন

প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ারে কাজ করার সময় আপনাকে যেকোন সমস্যা সমাধান করার জন্য কোড লিখার প্রয়োজন হতে পারে। অতএব আপনার মধ্যে সমস্যা সমাধান করার মত প্যাশন থাকতে হবে। আপনি যদি সমস্যা সমাধান করার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করতে ভাল না বাসেন, তাহলে আপনাকে সেই জন্য কোড লিখতেও ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

  • চমৎকার যোগাযোগের দক্ষতা

অনেকের মনেই বেশ ভুল একটা ধারণা রয়েছে যে একজন প্রোগ্রামারকে সব সময়ই শুধুমাত্র তার ডিভাইসের সামনে বসে কোড লিখে যেতে হয়। অনেকেই ঠিক এমনটাই করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এই উপায়ে তাদের সর্বোচ্চ পারফর্মেন্স দিয়ে থাকেন, কিন্তু সাফল্যের জন্য এটাই একমাত্র পথ নয়! এছাড়াও তাদেরকে তাদের যোগাযোগের দক্ষতায়ও বিশেষ পারদর্শী হতে হবে। যথাযথ যোগাযোগের দক্ষতা না থাকলে আপনাকে বাংলাদেশের যেকোন ধরণের চাকরিতেই আপনার কলীগ, সিনিয়র এবং অন্যান্যদের সাথে কথোপকথন চালিয়ে যেতে সমস্যা হবে।আপনি যদি মৌখিক আলাপচারিতায় পারদর্শী নাও হতে পারেন, তবে অন্তত লিখিত যোগাযোগ যেমন ইমেইল ইত্যাদির সাহায্যে কথোপকথন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

  • ভালো লেখার দক্ষতা

যোগাযোগের দক্ষতার কথা বলার সময় আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে আপনাকে লেখালেখির ব্যাপারেও ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। কিন্তু এছাড়াও কোড লিখা ও ডকুমেন্ট তৈরি করার জন্যও আপনার লেখার দক্ষতা ভালো হওয়া জরুরি। শুধুমাত্র যে প্রোগ্রামিং করার জন্য এর দরকার তা নয়, বরং আপনার নন-টেকনিক্যাল কলীগ, ক্লায়েন্ট কিংবা সিনিয়রদের সাথে ভালো বোঝাপড়ার জন্যও লেখনীর দক্ষতা অনেক বেশি দরকারি।

  • কম্পিউটারের উপর দক্ষতা

এখন এই গুণটি হয়ত শুনতে একেবারে মৌলিক মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি এমন একজন শিক্ষার্থীদের একজন হন যারা বাংলাদেশে তাদের ক্যারিয়ার অপশন এখনো বেছে নিতে পারেন নি এবং প্রোগ্রামিং এ আগ্রহী রয়েছেন, তাহলে প্রাথমিক ভাবে আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটারের ব্যবহার সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস অর্জন করে নিতে হবে। কেবলমাত্র তখনই আপনি একজন প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গঠন করতে পারবেন।

  • হাতের কাছে থাকা সব উৎসকে কাজে লাগানো

হয়ত এই দক্ষতাকে কখনোই আমরা সেইভাবে গুরুত্ব দিই না, কিন্তু আসলে এই দক্ষতাটির গুরুত্বও অনেক বেশি। আজকের দিনে আমাদের হাতের কাছে থাকা সবচেয়ে বড় ও কার্যকরী উৎস হচ্ছে গুগলের বিশাল দুনিয়া। কিভাবে গুগলে সার্চ করে নানা রকম তথ্য খুঁজে বের করা যায় এবং এই সব তথ্যের মধ্যে কোনগুলো সঠিক ও কার্যকর সেটা বুঝতে পারা যায়, সেই দক্ষতা থাকাটা এক ধরণের বিশেষ গুণ।

  • কৌতূহলী মনোভাব থাকা

একজন প্রোগ্রামার হিসেবে আপনাকে অবশ্যই বেশ কৌতুহলী হতে হবে! কিভাবে সব কিছু কাজ করছে এবং কেমন করে সেগুলো থেকে আরো ভালো পারফর্মেন্স বের করে আনা যায় বা কার্যকরী করে তোলা যায় সে ব্যাপারে যথাযথ ধারণা আপনাকে অর্জন করতে হবে। যদি আপনার মনে কোন আইডিয়া আসে, তাহলে সেই আইডিয়াটি তদন্ত ও কোডের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার মত কৌতুহলও আপনার মধ্যে থাকা জরুরি।

  • বিভিন্ন ধারণা সম্পর্কে জানা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সেগুলো প্রয়োগ করা

সব মিলিয়ে আপনাকে নানা রকম ধারণা সম্পর্কে জানা এবং বিশেষ বিশেষ সমস্যা সমাধানের জন্য সেই ধারণাগুলো প্রয়োগ করতে পারার মত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। অতএব শুধুমাত্র কোন কিছু শেখার জন্যই না, বরং সমস্যা সমাধানে সেই জ্ঞানকে কাজে লাগানোর জন্যও আপনাকে আপনার প্যাশন, ট্রেনিং, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।

তাহলে একজন সফল প্রোগ্রামার ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য আপনার আর কী কী প্রয়োজন হতে পারে?

আসলে, অনেক কিছুই প্রয়োজন!

কিন্তু আজকে আমরা এই প্রতিবেদনে একজন প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য শুধুমাত্র কারিগরি ধাপগুলোর দিকেই ফোকাস করবো না। যেকোন ক্যারিয়ারে সাফল্য অর্জন করার জন্য আপনার কারিগরি বিদ্যা এবং আনুষঙ্গিক বিভিন্ন দক্ষতার মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হবে। সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা ব্যবহার করে কেবলমাত্র একটি কার্যকর কোড লিখার মাধ্যমেই একজন প্রোগ্রামার সফল হতে পারেন। কিন্তু একই সাথে তাকে বার বার ব্যর্থতার মুখোমুখি হওয়ার মত সাহসী ও দৃঢ় হতে হবে। কেননা যতই অভিজ্ঞতা থাকুক না কেন, প্রত্যেকট প্রোগ্রামারই সঠিক ও কার্যকরী কোড লিখতে গিয়ে হিমসিম খান।

অনেক এক্সপার্টরা বলে থাকেন যে প্রোগ্রামিং সংক্রান্ত নানা রকম কারিগরি দক্ষতা অর্জন করাটা অত্যাবশ্যক, কিন্তু এর মধ্যে কোনটিই আনুষঙ্গিক অন্যান্য দক্ষতার প্রয়োজনকে ছোট করে দেখার জন্য যথেষ্ট নয়। সহজ ভাবে বলতে গেলে, আপনি যদি এমন একজন ব্যক্তি হন, যিনি সমস্যা সমাধান করতে জানেন, দ্রুত শিখে নিতে পারেন এবং মানুষের সাথে সমঝোতা করে চলতে জানেন; তাহলে ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা আপনারই রয়েছে।

প্রোগ্রামিং এ একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য এক্সপার্টের পরামর্শ এবং মতামত অনুযায়ী ৫টি বিশেষ পদ্ধতি নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. সমস্যা সমাধান

যেমনটা আমরা আগেই আলোচনা করেছি, প্রোগ্রামিং এর মূল উদ্দেশ্য হলো সমস্যা সমাধান করা। simpleprogrammer.com এ যেমনটা উল্লেখ করা হয়েছে, “কোথাও সমস্যা না থাকলে সফটওয়্যারেরও প্রয়োজন পড়ে না। সকল সফটওয়্যারই ডিজাইন করা হয়েছে কোন না কোন ব্যবহারের সমস্যা সমাধান করার জন্য এবং সেই সর্বজনীন সমাধানের মধ্যেই বেশ কিছু ছোট ছোট নতুন সমস্যার তালিকা থাকে, যেগুলোর সাহায্যে সমাধানটি তৈরি করা সম্ভব হয়।”

প্রোগ্রামিং এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো কোড লিখা ও প্রোগ্রাম তৈরি করার মাধ্যমে এমন কিছু সমাধান বের করে আনা, যেগুলোর সাহায্যে বিশেষ কিছু সমস্যার সমাধান করা যায়। সম্ভাব্য যেকোন রকম সমস্যা বের হলে সেটার বিপক্ষে কাজ করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধান করার জন্য আপনাকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। খুব ছোট একটা সমস্যা থেকেও যেকোন প্রোগ্রাম পুরোপুরি পণ্ড হয়ে যেতে পারে। একটি সফল ক্যারিয়ারে সহায়তা করার জন্য কার্যকরী একটি প্রোগ্রামিং সার্টিফিকেট হলো গ্রানথামস অনলাইন ইনট্রোডাকশন টু প্রোগ্রামিং এর সার্টিফিকেট কার্যক্রম।

২. তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি

একজন প্রোগ্রামার হিসেবে আপনাকে সব সময়ই কোড ও নির্দেশনা সমৃদ্ধ জটিল কিছু প্রোগ্রামিং সিকোয়েন্সের সাথে কাজ করতে হবে। আপনার মনের মধ্যে সারাক্ষণই নানা রকম সমস্যা ঘুরপাক খেতে থাকবে এবং এর থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে যথেষ্ট বিশ্রাম নেয়ার প্রয়োজন হবে। এভাবে চলতে থাকলে আপনি সহজ ব্যাপারগুলোও ভুলে যেতে শুরু করবেন এবং সামনে আপনার বড় রকম মানসিক ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে হওয়া দক্ষতাটি আসলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর, আর তা হলো মাল্টিটাস্কিং বা একসাথে নানা রকম কাজ করার অভ্যাস।

অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস এর সেরা লেখক, ডক্টর জোসেফ মারকোলা বলেন যে মাল্টিটাস্কিং এর ফলে আমাদের মন বিভ্রান্ত হয়ে আরো বেশি ভুল করে এবং তথ্য গুলিয়ে ফেলে। এই ক্ষেত্রে কাজ করছেন এমন সকলের জন্য তার এক্সপার্ট পরামর্শ হচ্ছে এক বারে কেবলমাত্র একটি সমস্যার দিকে ফোকাস করে সেটি সমাধানের চেষ্টা করা এবং তারপর নতুন কোন সমস্যায় হাত দেয়া।

তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি পাওয়ার জন্য এবং আপনার মনকে আরো কার্যক্ষমতা সম্পন্ন করে তোলার জন্য চাইলে আপনি অন্যান্য বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে দেখতে পারেন। যেমন ধরুন, মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার স্মৃতিশক্তিকে আরো প্রখর করে তুলতে পারেন। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণ ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, শখের কাজ করা এবং বিভিন্ন ব্রেইন গেম বা এক্টিভিটিতে অংশ নিতে পারেন।

৩. কার্যকরী অলসতা

বহু সফল ব্যক্তি যেমন বিল গেটস নিজের জীবনে প্রয়োগ করে থাকেন, সাফল্যের এমন অন্যতম জনপ্রিয় ও সহজ একটি মন্ত্র হচ্ছে: সবচেয়ে কঠিনতম কাজের ক্ষেত্রে একজন অলস ব্যক্তির কাছে সমাধান চেয়ে দেখুন। এর কারণ হচ্ছে একজন অলস ব্যক্তিই সেই সমস্যা সমাধান করার সবচেয়ে কার্যকরী একটি উপায় খুঁজে বের করতে পারবেন। অতএব, এখানে অলসতা মানে আসলে কোন কিছু না করে বসে থাকা নয়। বরং এটি হলো এমন এক অবস্থা যেখানে একজন মানুষ সবচেয়ে কম পরিশ্রমে যেকোন কাজ সম্পন্ন করতে চান। এই দিক থেকে অলসতা একটি ইতিবাচক গুণ বা দক্ষতা বলা চলে।

প্রোগ্রামিং এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যেকোন কাজ সম্পন্ন করার জন্য সবচেয়ে সেরা কিংবা সবচেয়ে সহজ কোন উপায় খুঁজে বের করা। এখানে পার্থক্য হচ্ছে এই যে এমনটি করার জন্য আপনাকে সবচেয়ে কার্যকরী কিছু কলাকৌশল এবং জাভা স্ক্রিপ্ট, এইচটিএমএল, সি এবং সি শার্প ইত্যাদি বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে নানা রকম পথ অবলম্বন করতে হবে।

৪. আত্ম-অনুপ্রেরণা

প্রোগ্রামিং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ডেডলাইন বা সময় সীমা। অতএব বাংলাদেশে চাকরি করার জন্য আপনাকে আপনার ক্লায়েন্ট, কোম্পানি এবং কলীগদের দেয়া কঠোর সময় সীমা মেনে চলতে হবে। সে কারণেই সব সময় নিজেকে উদ্যমী করে রাখা ও অনুপ্রেরণা যোগানো খুবই জরুরি, এমনকি যদি আপনাকে একা একা কাজ করতে হয় তখনও। অতএব নিজেকে অনুপ্রেরণা দেয়ার দায়িত্ব আপনার নিজেকেই নিতে হবে এবং একটি পেশাদারী পরিবেশে উন্নয়নের জন্য যথাযথ যোগাযোগের পাশাপাশি সময় সীমার মধ্যে কাজও সম্পন্ন করতে হবে।

৫. অধ্যবসায়

একজন প্রোগ্রামারের অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানের পরিধি যত বড়ই হোক না কেন, তাদের জীবনে পারফেক্ট কোডিং করার শতভাগ রেকর্ড থাকাটা বেশ দুর্লভ একটা ব্যাপার। প্রায় প্রত্যেকটি প্রোগ্রামারই প্রথম দফায় তাদের কোডকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন, এমনকি এর পরের অনেক দফায়ও মাঝে মাঝে কোড কাজ করে না। অতএব ব্যর্থতার সময় মনোবল হারাবেন না এবং বার বার চেষ্টা করার মাধ্যমে প্রত্যেক বারই কঠোর পরিশ্রম করতে থাকুন।

অতএব সামনে এগিয়ে চলার জন্য আপনাকে আপনার ব্যর্থতার সাথে মোকাবিলা করা শিখতে হবে। ঠিক পাজল কিংবা ধাঁধার মতই আপনার সকল ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখুন এবং যে করেই হোক তার সমাধান বের করার চেষ্টা চালিয়ে যান।

নিয়োগকারীরা কী কী গুণ খোঁজেন?

মূল কোড লেখার কাজটি নয়, বরং নিচে উল্লেখিত বিষয়গুলি আসলে প্রোগ্রামিং এর সবচেয়ে অবহেলিত কিছু দিক:

  • একজন প্রোগ্রামারকে সব সময় তার নিয়োগকারী, ক্লায়েন্ট, গ্রাহক এবং সহকর্মীদের সাথে কার্যকর ভাবে কাজ করার মত দক্ষ হতে হবে, যারা হয়ত এই টেকনিক্যাল জিনিসগুলো বোঝেন কিংবা নাও বুঝতে পারেন।
  • নতুনদের জন্য প্রবল সহমর্মিতা এবং যোগাযোগের  দক্ষতা আপনাকে যেকোন কোম্পানির জন্যই একটি সম্পদ করে তুলবে।
  • ক্লায়েন্ট এবং সিনিয়রদের নানা রকম প্রত্যাশা কার্যকর ভাবে সামলানো এবং তাদের অনির্দিষ্ট চাহিদাগুলো বুঝতে পারা।
  • কোনটি সম্ভব আর কোনটি সম্ভব নয় সে ব্যাপারে ক্লায়েন্ট এবং কলীগদের কাছে সত্যিকারের ব্যাখ্যা দেয়া।
  • টেকনিক্যাল হোক বা না হোক, যেকোন পরামর্শ, দিক নির্দেশনা ইত্যাদি গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকা।
  • আপনার কর্মস্থলের অন্যান্য মানুষদেরকে বোঝা, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাদের সাথে ভাব বিনিময় করা।

এই ব্যাপার গুলো মেনে চললে আপনি আরো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠবেন, ধারাবাহিক ভাবে উন্নতি করতে পারবেন এবং একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখার ব্যাপারে আপনার লক্ষ্য এবং প্রতিশ্রুতি মজবুত করে তুলতে পারবেন। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের যেকোন নামকরা কোম্পানিতে কিংবা আপনার আগ্রহ রয়েছে এমন যেকোন বিশেষ প্রোজেক্টের জন্য আপনি একজন মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারবেন।

উপসংহার

প্রোগ্রামিং এ একটি সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য আপনি উপরে আলোচিত দক্ষতা ও পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে আরো বিকশিত করে তুলতে পারবেন। প্রোগ্রামিং এর জটিল জগতে পা দেয়ার আগে আপনাকে কারিগরি এবং আনুষঙ্গিক দু’রকম দক্ষতাই রপ্ত করতে হবে, যাতে আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যেতে পারেন। এছাড়াও আপনার স্বাভাবিক পড়াশোনার পাশাপাশি ইনট্রোডাকশন টু প্রোগ্রামিং এর সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম গুলোতেও অংশ নিতে হবে। এতে আপনি বাংলাদেশে চাঞ্চল্যকর এবং চ্যালেঞ্জিং প্রযুক্তিগত বা কারিগরী ক্যারিয়ার গঠনের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারবেন। যেখানে মাত্র অল্প কয়েক মাসেই আপনি একটি সার্টিফিকেট অর্জন করে নিতে পারবেন, সেখানে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আপনাকে সেই শিক্ষা কাজে লাগানোর পেছনে আরো বেশি সময় দিতে হবে।

ট্রেনিং প্রোগ্রাম, ইন্টার্নশিপ, চাকরি এবং আপনার আগ্রহের নানা দিক, যেমন প্রোগ্রামিং, ডিজাইন ইত্যাদিতে ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে তথ্য খুঁজে পেতে সার্চ করুন Bikroy.com/Jobs এ।

আজই আপনার রুটিনে আমাদের এই টিপসগুলো প্রয়োগ করে দেখুন, আর প্রোগ্রামিং এ আপনার ভবিষ্যত ক্যারিয়ার গরে তোলার জন্য আমাদের প্রতিবেদনটি আপনাকে কিভাবে সাহায্য করছে তা আমাদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু!

আমাদের আরও  কিছু ক্যারিয়ার বিষয়ক প্রবন্ধঃ


জেনে নিন কীভাবে জ্বালানী খরচ কমাবেন

কীভাবে জ্বালানী কমাবেন

আপনি কি নিত্যদিনের জ্বালানীর পেছনে আপনার কষ্টের টাকা ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত?
তাহলে ছুটোছুটি করার আর প্রয়োজন নেই……আপনি ঠিক যায়গাতেই এসেছেন। এই প্রতিবেদনটি আপনারই জন্য!

জেনে নিন বাংলাদেশে কীভাবে জ্বালানী খরচ কমিয়ে চলতে পারবেন সেই সংক্রান্ত নানা রকম উপায়।

জ্বালানী খরচ ব্যাপারটাই এমন যা দিন দিন শুধু বেড়েই চলে, কমার কোন লক্ষণ নেই। একটি দেশের অর্থনীতি যতই মজবুত হোক না কেন, পৃথিবীর সব প্রান্তেই গ্যাসোলিনের দাম বেড়ে যাওয়াটা একটা বড় সমস্যার আকার ধারণ করেছে, যা নিরূপণ করা বেশ কঠিন। যেখানে সারা বিশ্বের মানুষ একযোগ হয়ে চাইছে জ্বালানীর দাম কমানো হোক, হোক তা যে কোনো যানবাহন এর জন্য, সেখানে কোন দেশের সরকারেরই সামর্থ্য নেই সহজে সকলের সেই দাবি পূরণ করে দেয়ার বা এই সমস্যার কোন স্থায়ী সমাধান উপস্থাপন করার।

কিন্তু আজ আমরা এই প্রতিবেদনটিতে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি সবচেয়ে সেরা এবং কার্যকরী এমন কিছু উপায়, যার সাহায্যে চালক ও মালিকেরা জ্বালানী খরচ বেশ কমিয়ে নিতে পারেন। বিশেষ করে আপনার গাড়ি কিংবা মোটর সাইকেলটি চালানোর সময় কীভাবে কম জ্বালানী পুড়িয়ে বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে চলাচল করতে পারবেন সে বিষয়ে কিছু উপায় আমরা এখানে উপস্থাপন করব।

অতএব যেখানে আমাদের মধ্যে অনেকেই তাদের জ্বালানীর ট্যাংক ভরার সময় আতংকে ভুগি, সেখানে এই টিপস গুলো আপনার জ্বালানী তেল কিংবা গ্যাসের শেষ বিন্দু পর্যন্ত প্রত্যেকটি ইউনিটের সঠিক সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করবে। ফলস্বরূপ আপনি আপনার জ্বালানী খরচ অনেক পরিমাণে কমিয়ে আনতে পারবেন, যা এড়িয়ে চলা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব!

অতএব, চলুন দেখে নিই বাংলাদেশে জ্বালানী খরচ কমিয়ে চলাচল করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কিছু উপায়:

রাস্তায় কাটানো পুরোটা সময়

আমরা আগেই উল্লেখ করেছি, জ্বালানী খরচ কমিয়ে আনার অন্যতম সেরা উপায় হলো সেটি কম মাত্রায় ব্যবহার করা। সে জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে যা করতে হবে তা হলো রাস্তায় চলাচলের সময় যতটা কম করে সম্ভব ঠিক ততটা জ্বালানী পোড়াবেন। এখন হয়ত শুনতে হাস্যকর মনে হতে পারে, কিন্তু মাঝে মাঝে কার পুলিং ও রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের মত গুরুত্বপূর্ণ উপায়গুলো ব্যবহার করার কথা ভেবে দেখবেন। আপনার যদি একই এলাকায় বসবাসরত কোন কলীগ থেকে থাকেন, তাহলে দু’জনেই প্রতি দিন নিজ নিজ বাহন (গাড়ি কিংবা মোটর সাইকেল) চালিয়ে কাজে যাওয়ার বদলে মাঝে মাঝে শেয়ার করে চলুন বা এক সাথে কোণ রাইড শেয়ারিং সার্ভিস ব্যবহার করুন। এই ভাবে আপনারা দু’জনই অনেক পরিমাণে জ্বালানী খরচ কমিয়ে আনতে পারবেন, যা নিজেরা একা একা করা প্রায় অসম্ভব।

কাছাকাছি রয়েছে এমন কোন যায়গায় যাওয়ার জন্য বা ছোট খাটো দুরত্ব অতিক্রম করার জন্য, যেমন বাজারে যাওয়া বা অন্য কোথাও ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিমান কমিয়ে আনতে পারেন। এলাকার মধ্যে কোন রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার সময় ড্রাইভ করে বা গাড়ি চালিয়ে না গিয়ে, পায়ে হেঁটে, সাইকেল চালিয়ে কিংবা বন্ধু বান্ধবদের কাছ থেকে রাইড নিয়ে যেতে পারেন। রাস্তায় আপনার গাড়ি কম নামিয়ে বা ব্যবহার কম করার অন্যতম উপায় গুলোর মধ্যে এগুলো কয়েকটি, যা মেনে চলা বেশ সহজ এবং জ্বালানী খরচ কমানোর মাধ্যমে আপনার কষ্টের উপার্জন করা টাকা কিছুটা হলেও বাঁচাতে বা জমিয়ে রাখতে পারবেন।

জ্বালানী কেনার অভ্যাস

আপনার বাহনের জন্য যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী ও উপযুক্ত মানের জ্বালানী ব্যবহার করার কথা ভেবে দেখুন, হোক সেটা আপনার গাড়ি কিংবা মোটর সাইকেল। যেখানে বেশির ভাগ গাড়ি কিংবা মোটর সাইকেলে একটি বিশেষ মাত্রার মান ও গুন সম্পন্ন জ্বালানী পেট্রোল ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে, সেখানে অনেক যানবাহনই কম গুন মান সম্পন্ন জ্বালানী গ্যাসোলিন ব্যবহার করে কোন সমস্যা ছাড়াই ভালো পারফর্মেন্স দিতে পারে। অতএব আপনি একজন মেকানিকের সাহায্য নিয়ে আপনার বাহনটি চেক করিয়ে নিতে পারেন যে সেটিতে ঠিক কতটা বেশি দামের জ্বালানী ব্যবহারের প্রয়োজন হবে, নাকি সেটি কম দামের মাঝারী মানের জ্বালানী ব্যবহার করলেও কার্যকরী ভাবে চালানো সম্ভব কি না। এছাড়াও আপনি বিভিন্ন গ্যাস স্টেশনে জ্বালানীর দাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনে রাখতে পারেন ও তুলনা করতে পারেন। আপনার মাসিক কিংবা বাৎসরিক জ্বালানী খরচ কম বা বেশি হওয়ার ক্ষেত্রে এই দু-চার পয়সার দামের ব্যবধানও অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যেখানে গ্যাসের দাম এমনিতেই কম বেশি হয়ে থাকে, সেখানে কিছু গ্যাস পাম্প বা স্টেশন রয়েছে যারা সব সময়ই কিছুটা বেশি দাম রাখে। অতএব জ্বালানীর পেছনে খরচ কমিয়ে আনার জন্য আপনার জ্বালানী কেনার অভ্যাসের মধ্যেও কিছুটা পরিবর্তন আনার কথা চিন্তা করে দেখুন।

গতির সর্বোচ্চ মাত্রা

আরেকটি গুরুতর সমস্যা হচ্ছে আপনার ড্রাইভিং এর অভ্যাস এবং সেটি কিভাবে আপনার বাহনটির মাইলেজ, জ্বালানী খরচ, বাহনটির সামগ্রিক অবস্থা ইত্যাদির উপর প্রভাব ফেলে। এরকম সামান্য একটা অভ্যাস যে আসলেই আমাদের বাহন অথবা জ্বালানী খরচের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে সেই ব্যাপারটি আমরা প্রায়ই ঠিকমত লক্ষ্য করতে ভুলে যাই। আমাদের অন্যতম প্রাথমিক ও মূল অভ্যাস হচ্ছে অতি দ্রুত গাড়ি বা মোটর সাইকেল চালানো। যেখানে বাংলাদেশের  রাস্তাঘাট প্রতিটি কোনায় কোনায় গতি সীমা নির্ধারণ করে তৈরি করা হয়নি, সেখানে আমাদের উচিত সব সময় একটি মাঝারী গতিতে ড্রাইভ করা। মাত্রাতিরিক্ত গতি বৃদ্ধি করা অর্থাৎ ত্বরণ, হার্ড ব্রেক কষা ইত্যাদি করার সময় অনেক বেশি জ্বালানী খরচ হয়। অতএব মাঝারী গতিতে গাড়ি কিংবা মোটর সাইকেল চালানোটা শুধুমাত্র নিরাপদ এবং বিপদমুক্তই নয়, বরং একই সাথে আপনার জ্বালানীর খরচ বাঁচাতেও অনেক বেশি সহায়কও বটে।

হালকা ওজন নিয়ে ভ্রমণ

ড্রাইভং এর ক্ষেত্রে আমাদের আরেকটি খারাপ অভ্যাস হলো গাড়িতে অনেক বেশি ওজনের মালামাল বহন করা। আপনার পরবর্তী ট্রিপ গুলো শুরু করার আগে গাড়িতে কি কি মালামাল টেনে নিয়ে যাবেন সে ব্যাপারে কিছুটা ভেবে নিন। মাঝে মাঝে আমরা আমাদের গাড়িতে এমন অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস রাখি, যেমন ব্যাগ, কিন্তু সাথে এমন কিছু জিনিসও বহন করে নিই যেগুলো আসলে গাড়িতে রাখার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় মালামাল বহন করা হলে সেটার প্রভাব আপনার বাহনটির জ্বালানী ব্যবহার, সর্বোপরি খরচের ওপরও গিয়ে পড়ে। অতএব সব সময় চেষ্টা করুন হালকা ভাবে কম ওজন নিয়ে চলাচল করতে।

এয়ার কন্ডিশনিং

একটি গাড়িতে এসি অর্থাৎ এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহারও নজরদারীতে রাখা উচিত। যেখানে প্রখর তাপমাত্রা ও অসহনীয় গরমের মৌসুমে এটা এড়িয়ে চলা একেবারেই অসম্ভব, তবুও আপনাকে সামগ্রিক ভাবে এসি এর ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে আনার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এসি চালানোর জন্য অনেক বেশি পরিমানে জ্বালানী পোড়াতে হয়! সন্ধ্যা এবং রাতের সময় জানালা খোলা রেখে গাড়ি চালান এবং বাইরের হালকা মৃদু বাতাসের ঝাপ্টা উপভোগ করুন। শীতের সময় এলে খেয়াল রাখবেন যেন অতিরিক্ত গরম বা বিশেষ কোন প্রয়োজন ছাড়া এসি ব্যবহার না করা হয়।

ইঞ্জিন বন্ধ করে রাখুন

যেমনটা আমরা আগেও বলেছি, রাস্তায় চলাচলের সময় গতি সীমা অতিক্রম হয়ে যাচ্ছে কি না সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। ঠিক তেমনই আপনার উচিত যতটা কম করে সম্ভব ব্রেক কষা। অন্যান্য গাড়ি গুলোর থেকে সব সময়ই একটি নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে চলুন, যাতে করে হার্ড ব্রেক না করতে হয়। এতে করে আপনাকে বার বার নতুন করে ত্বরণ সৃষ্টি করতে হবে না। এছাড়াও, যখনই আপনি ঢাকা শহরের বেশির ভাগ এলাকায় ট্র্যাফিক জ্যাম কিংবা ট্র্যাফিক স্টপেজে আটকে যান, তখন এক মিনিটের বেশি সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন হলে আপনার ইঞ্জিনটি বন্ধ করে রাখুন। অচল দশায় আপনার বাহনের ইঞ্জিন চালু করে রাখলে আমাদের ধারণার চেয়ে বেশি পরিমাণ জ্বালানী খরচ হয়ে যায়। অতএব আপনি ড্রাইভার হন কিংবা একজন প্যাসেঞ্জার, লম্বা বিরতির ক্ষেত্রে সব সময় ইঞ্জিন বন্ধ রাখুন কিংবা ড্রাইভারকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিন।

রাস্তা বা যাত্রাপথ নির্ধারণ

যে সমস্ত কাজ গাড়ি বা মোটর সাইকেল কেনার প্রায় সাথে সাথেই আপনাকে করতে হবে সেগুলোর মধ্যে একটি হলো আপনার কর্মস্থল, বাসা ও অন্যান্য যেসব যায়গায় নিয়মিত যাওয়া আসা করেন সেই সব যায়গায় যাতায়াতের পথ কিংবা রুট নিয়ে একটু গবেষণা করে দেখুন। এতে করে শুধু যে আপনার সময় বাঁচবে তাই না, একই সাথে প্রায় প্রতিদিন আপনি যেসব ট্রিপ দিচ্ছেন বা যাতায়াত করছেন, সেখানেও জ্বালানীর খরচও বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে আসবে। হাইওয়ের পথ, ভাঙা রাস্তা, শর্ট কাট, ট্র্যাফিক জ্যাম ইত্যাদির কথা ভেবে এমন একটি রুট বেছে নিন যা আপনার সময় ও দুরত্বের ক্ষেত্রে সর্বাধিক কার্যকরী ও উপযুক্ত। দিনের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পথ ব্যবহার করে ট্র্যাফিক জ্যাম, সিগন্যাল ইত্যাদির ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সময় বাঁচানো যায়।এছাড়াও আপনি চাইলেই বিভিন্ন জিপিএস ট্র্যাকিং সার্ভিস, যেমন গুগল ম্যাপস এর সাহায্য নিয়ে ও ব্যবহার করার মাধ্যমে সর্বনিম্ন সময়ে অল্প দুরত্ব, দ্রুততম রুট ইত্যাদি খুঁজে পেতে পারেন। আপনার পরিকল্পনা অন্যদের সাথে শেয়ার করার মাধ্যমে তাদেরকেও কিছুটা সাহায্য করতে পারবেন।

আপনার বাহনের রক্ষণাবেক্ষণ

একটি ভালো ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা বাহনের কার্যকারীতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই, মোটর সাইকেল এবং গাড়ি উভয়ের ক্ষেত্রেই। আমাদের মধ্যে অনেকেই আমাদের বাহন গুলোকে ঠিক ভাবে যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করি না এবং এর ভালো সার্ভিসের অপব্যবহার করি। অতএব খেয়াল করে তেল বা লুব্রিকেটর পরিবর্তন, ফিল্টার পরিবর্তন ইত্যাদি থেকে শুরু করে যেকোন রকম যত্নের জন্য নিয়মিত ওয়ার্কশপ গুলোতে নিয়ে যান, যাতে করে আপনার বাহনটি দীর্ঘ দিন পর্যন্ত এর সেরা পর্যায়ে পারফর্মেন্স দিতে পারে। বিভিন্ন রকম নিয়মিত সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো টায়ারে যথেষ্ট পরিমাণে বাতাস না থাকা। অতএব টায়ারের চাপ এবং টায়ারের তলগুলো পরীক্ষা করিয়ে নিন কিছু দিন পর পরই। যদি আপনার বাহনের ইঞ্জিন সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করানো হয়ে থাকে, তাহলে তা কম জ্বালানী শক্তি ব্যবহার করবে এবং আপনার রাইড গুলোতে ভালো পাওয়ারের পারফর্মেন্স দিতে পারবে। অতএব আপনার টায়ারগুলোকে একই সমতলে রাখুন, ফিল্টার, তেল, স্পার্ক প্লাগ ইত্যাদি সময় মত পরিবর্তন করুন, যাতে করে আপনার গাড়ি থেকে লম্বা সময় পর্যন্ত সেরা পারফর্মেন্স পেতে পারেন।

হাইব্রিড গাড়ির উঠতি জনপ্রিয়তা

হাইব্রিড গাড়ির

এতক্ষণে আমরা যা বুঝে ফেলেছি, তা হলো এই যে জ্বালানীর পেছনে হওয়া খরচ কমানোর জন্য সবচেয়ে সেরা উপায় হচ্ছে জ্বালানীর ব্যবহার ও অপচয় কমানো। অতএব আমরা সব সময়ই পরামর্শ দেব এমন একটি বাহন ক্রয় ও ব্যবহার করুন যা এর গ্যাস বা তেলের সাপেক্ষে ভালো মাইলেজ দেয়ার জন্য সুপরিচিত। অনেকেই অটোমেটেড পরিবহনের তুলনায় ম্যানুয়াল গাড়ি চালানোটাই বেশি পছন্দ করেন, কেননা একটি ম্যানুয়াল গাড়িতে জ্বালানীর কার্যকারিতা অনেক বেশি। এছাড়াও ভালো পরিমাণ মাইল প্রতি লিটার জ্বালানী ব্যবহারের ক্ষমতা সম্পন্ন এমন অনেক সাশ্রয়ী মূল্যের যানবাহন বাজারে রয়েছে, যেগুলো বাহ্যিক চেহারা দেখে গাড়ি কেনার চেয়ে অধিক লাভজনক প্রমাণিত হয়।

বাংলাদেশে একটি ট্রেন্ডের জনপ্রিয়তা অতি দ্রুত বেড়েই চলেছে আজকাল। তা হলো ইলেক্ট্রিক বা হাইব্রিড গাড়ির বেচা কেনা। আজকাল সাধ্যের মধ্যে একটি জ্বালানী সাশ্রয়ী গাড়ির মডেল খুঁজে পাওয়া বেশ সহজ, আগে হয়ত যা আমাদের প্রত্যাশা ও কল্পনার বাইরে ছিলো। অতএব বাংলাদেশের বেশির ভাগ গাড়ির মালিকরা বর্তমানে বড় মাপের উচ্চমূল্যের গাড়ি এড়িয়ে চলার কথা ভাবছেন এবং জ্বালানী সাশ্রয়ী, আকারে ছোট, হাইব্রিড মডেলের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন।

নতুন কিংবা ব্যবহৃত হাইব্রিড মডেলের গাড়ির বেচা কেনা বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে এগুলোর জ্বালানী মিতব্যয়িতা এবং সামগ্রিক ভাবে কম মূল্যের বাহন হওয়া। এছাড়াও বাংলাদেশের সরকার হাইব্রিড গাড়ির মডেল গুলোর উপর ট্যাক্স কিছুটা হালকা করে দিয়েছেন। ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভেনিউ অনুযায়ী ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে হাইব্রিড গাড়ি গুলোর মধ্যে ১৬০০ সিসি পর্যন্ত মডেলগুলোর উপর পরিষেবা শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে ৫%। তার উপর ১৬০০ সিসি এর উপরের মডেলের হাইব্রিড গাড়িগুলোতে ট্যাক্স এখন ১৫% কমে গিয়ে মাত্র ৪৫% হয়েছে। আর ২০০০ সিসি এর উপরে থাকা মডেলগুলোর ক্ষেত্রে ১৫০% থেকে কমে গিয়ে এখন মাত্র ৬০% হয়েছে।

বিভিন্ন গাড়ি আমদানীকারক এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী হাইব্রিড এবং ইলেক্ট্রিক গাড়ি এদেশে গাড়ির ভবিষ্যতে পরিণত হবে এবং বর্তমান সময়ের মার্কেটপ্লেস গুলো এই ট্রেন্ডের সত্যতা ধরে রেখেছে। নতুন গাড়ির মালিকদের চাহিদা পূরণের জন্য এই গাড়ি গুলোর আমদানী বেড়ে যাওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যারা বর্তমানে সক্রিয় মাত্রায় বাংলাদেশে জ্বালানী সাশ্রয়ী যানবাহন কেনার কথা ভাবছেন।

হাইব্রিড এবং ইলেক্ট্রিক গাড়ির একটি বড় অসুবিধার দিক হচ্ছে এদের লভ্যতা এবং রিপ্লেসমেন্ট ব্যাটারীর রক্ষনাবেক্ষণ করানো, গাড়ির দাম যেমনই হোক না কেন। হাইব্রিড গাড়িগুলোর ব্যাটারি যথেষ্ট ব্যয়বহুল এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনও পড়ে বেশি। এই ব্যাটারি গুলোর উৎপাদন স্থানীয় ভাবে শুরু করা হলে এই অসুবিধা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং বাংলাদেশে আরো বেশি দূষণমুক্ত রাস্তাঘাট এবং সহনীয় ট্র্যাফিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অতএব আপনার ও আপনার পরিজনদের জন্য আরো বেশি জ্বালানী সাশ্রয়ী একটি সমাধান পাওয়ার জন্য বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেমন Bikroy.com এ ব্রাউজ করে খুঁজে নিন নতুন ও ব্যবহৃত হাইব্রিড গাড়ি, ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন গাড়ি এবং অন্যান্য বিভিন্ন বাহন যেমন মোটর সাইকেল ইত্যাদি!

উপসংহার

আপনার বাহনটিতে জ্বালানী কম ব্যবহার ও পোড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানীর পেছনে খরচ কমিয়ে আনার অনেক রকম উপায়ই আপনার হাতে রয়েছে। অতএব স্মার্ট হউন এবং কম জ্বালানী ব্যবহার করে জ্বালানীর খরচ বাঁচান।  তাৎক্ষণিক পরামর্শ হিসেবে আমি আপনাদের সুপারিশ করবো যে আপনারা এমন একটি বাহন কিনুন যা নিজেই জ্বালানী সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ ড্রাইভিং এর চর্চা ও অভ্যাস গড়ে তুলুন। একই সাথে আপনার গাড়ি কিংবা মোটর সাইকেলটি রক্ষণাবেক্ষণ করার মাধ্যমে আপনার জ্বালানীর সর্বশেষ ফোঁটা পর্যন্ত এর পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। রাস্তার অবস্থা, গাড়ির অবস্থা ইত্যাদির দিকে নজর রাখুন এবং রাস্তায় আপনার অভ্যাস গুলোর সাথে মোকাবিলা করার একটি মোক্ষম বুদ্ধিদীপ্ত উপায় খুঁজে বের করে নিন, আর সেই থেকে আপনার জ্বালানী খরচ কমিয়ে সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত সাশ্রয় করুন।

যেখানে জ্বালানীর খরচ কমানোর আরো অনেক উপায়ই আমাদের হাতে রয়েছে, সেখানে আপনার পছন্দের সেরা উপায়টি আমাদের কমেন্ট সেকশনে লিখে সবার সাথে শেয়ার করুন। বাংলাদেশের রাস্তায় দূষণ সৃষ্টিকারী সমস্যাগুলোর মধ্যে জ্বালানীর অপচয় অন্যতম, অতএব দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে জ্বালানীর অপচয় রোধ করার চেষ্টা করুন এবং পাশাপাশি আপনার কষ্টের উপার্জিত টাকাও বাঁচিয়ে ফেলুন।

যেকোন ব্যক্তি কিংবা ব্যবসার জন্য, হোক তা বড় কিংবা ছোট, জ্বালানীর পেছনে হওয়া খরচ অন্যান্য বিভিন্ন বড় খরচগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপনি হয়ত জ্বালানীর দামকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না, কিন্তু কীভাবে সেই জ্বালানী ব্যবহার করবেন সেটার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আপনার হাতে। অতএব আজকে আমাদের উল্লেখ করা টিপস গুলো কাজে লাগিয়ে দেখুন এবং বাংলাদেশে ড্রাইভ করার সময় জ্বালানীর খরচ যথাসম্ভব কমিয়ে আনুন।

আজই ভিসিট করুন Bikroy.com আর খুঁজে নিন বাংলাদেশে বিক্রির জন্য শত শত নতুন এবং ব্যবহৃত গাড়ি ও মোটর সাইকেলের বিজ্ঞাপন।


কবুতর পালনের ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ

ব্যবসার উদ্দেশ্যে কবুতর চাষ

বাংলাদেশে পোষা পাখি হিসেবে কবুতর অত্যাধিক জনপ্রিয় এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কবুতরের লালন পালন ও ফার্ম দেয়া ব্যাপক আকর্ষণীয় ও লাভজনক। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা ও আগ্রহ রয়েছে এমন অনেকেই নিজের বাসা বাড়িতে কবুতর লালন পালন ও পরিচর্যা করতে ভালোবাসেন। আমাদের দেশে এই পাখি গুলো ঘরে ঘরে পালিত হয়ে আসছে অনেক লম্বা সময় ধরে এবং এদেরকে শান্তির প্রতীক হিসেবেও গণ্য করা হয়ে থাকে। অন্যান্য গৃহপালিত গবাদি পশু কিংবা পাখির তুলনায় কবুতর পালনে অনেক কম পরিশ্রম করতে হয় এবং এতে বেশ অল্প পরিমাণ মূলধন লাগে। আপনার হাতে যদি ভালো পরিমাণ অবসর সময় থাকে এবং পাখির প্রতি আপনার মনে অগাধ ভালোবাসা থেকে থাকে তাহলে খুব সহজেই আপনি আপনার বাসার ছাদে কিংবা বারান্দায় কবুতর লালন ও পরিচর্যা করতে পারবেন।

বাচ্চা কবুতরের (স্কোয়াব) মাংস অনেক সুস্বাদু, উচ্চমাত্রায় পুষ্টিকর এবং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য পুনরুজ্জীবনী ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া মার্কেটপ্লেস গুলোতে স্কোয়াবের চাহিদা এবং দামও বেশ। এছাড়াও ভালো বংশোদ্ভূত ও মানসম্মত কবুতরও বিভিন্ন উদ্দেশ্যের জন্য মার্কেটপ্লেস গুলোয় অনেক বেশি চাহিদাসম্পন্ন, যেমন- রেসিং, ব্রিডিং ইত্যাদি। ঠিক এই কারণেই বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি অতিরিক্ত উপার্জনের পথ এবং বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় আধুনিক পদ্ধতিতে কবুতর পালন করাটা আসলে অধিক লাভজনক। অতএব, সঠিক ভাবে একটি কবুতরের ফার্মের ব্যবসা শুরু করা এবং সফল হওয়ার জন্য আপনাকে লালন পালনের আধুনিক পন্থাগুলো অবলম্বন করতে হবে এবং আপনার পাখিগুলোর ভালো করে যত্ন নিতে হবে। আজকে আমরা কবুতর পালনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক, সুযোগ সুবিধা এবং কীভাবে বাসায় বসে এই লাভজনক ব্যবসাটি শুরু করা যায় সে সব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

কবুতরের ফার্ম দেয়ার বিভিন্ন সুবিধা

কবুতরের ব্যবসা আমাদের জীবনে আর্থিক ও বিনোদনমূলক উভয় দিক থেকে বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা দিতে পারে। এই ব্যবসার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সুযোগ সুবিধা নিচে উল্লেখ করা হলো-

  • প্রায় ছয় মাস বয়সের কাছাকাছি সময় থেকে এরা ডিম দেয়া শুরু করে এবং গড়ে প্রতি মাসে অন্তত ২টি করে বাচ্চা ফোটাতে পারে।
  • সীমিত পুঁজি নিয়ে ছোট একটি জায়গায় আপনি আপনার কবুতরের জন্য বাসা বানানো যায়। বাড়ির উঠান কিংবা ছাদের মত জায়গায় খুব সহজে অনেক গুলো কবুতর এক সাথে পালা যায়।
  • ডিম ফোটাতে ওদের প্রায় ১৮ থেকে ২০ দিনের মত সময় লাগে।
  • কবুতরের খাবারের খরচ যথেষ্ট কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই নিজেদের খাবার সংগ্রহ করে নিতে পারে।
  • কবুতরের বাচ্চা অর্থাৎ স্কোয়াবগুলোর বয়স যখন ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ, তখন থেকে সেগুলো খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে।
  • বড় এবং বাচ্চা উভয় কবুতরের মাংস অনেক বেশি সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং মার্কেটপ্লেস গুলোয় এদের অনেক বেশি দাম ও চাহিদা রয়েছে।
  • মাত্র সামান্য কিছু পুঁজি এবং অল্প পরিমান শ্রম বিনিয়োগ করে আপনি এদের থেকে সর্বোচ্চ পরিমান লাভ করতে পারবেন। এদের দাম কবুতরের জাত, গুনগত মান, ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনের হার ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। বেশির ভাগ মানুষই তাদের কবুতর ব্যবসায় মাত্র ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন। কিন্তু কখনও কখনও প্রতি মাসে একটা ভালো পরিমান লাভ হওয়া শুরু হতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়।
  • কবুতরের মধ্যে অসুখ বিসুখ হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীর তুলনায় বেশ কম।
  • কবুতরের মল ও উচ্ছিষ্ট ফসল, বাগান এবং ঘরোয়া উদ্ভিদের জন্য বেশ ভালো সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
  • কবুতরের পালক ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের খেলনা তৈরি করা যায়।
  • কবুতর বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলে, এভাবে ওরা আমাদের পরিবেশ এবং ফসলকে নিরাপদ ও সুস্থ রাখায় ভূমিকা পালন করে।
  • রোগী ও বয়ষ্ক ব্যক্তিদের জন্য পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার হিসেবে বাজারে স্কোয়াব বা বাচ্চা কবুতরের কচি মাংসের বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে।
  • সব মিলিয়ে কবুতরের ফার্ম করা বেশ আনন্দের কাজ। আপনার আশে পাশে কবুতর গুলো যখন ঘুরে ও উড়ে বেড়াবে তখন তাদেরকে দেখে আপনার মন আনন্দে ভরে উঠবে, আপনার কাঁধে কিংবা কোলে ওরা যখন উড়ে এসে বসবে তখন আপনার সময় অনেক বেশি ভালো কাটবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ইত্যাদি বিভিন্ন দেশের দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের জন্য কবুতরের ফার্ম করাটা উপার্জন করার একটি উত্তম উপায় হয়ে উঠতে পারে।

জীবন চক্র

পুরুষ এবং স্ত্রী কবুতরের জোড়া

কবুতর সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় পালন করা হয়। পুরুষ এবং স্ত্রী কবুতরের একটি জোড়া সাধারণত তাদের জীবদ্দশার প্রায় পুরোটা সময়ই একসাথে কাটিয়ে দেয়। এছাড়াও একেকটি কবুতর প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। পুরুষ ও স্ত্রী উভয় কবুতর একসাথেই খড়কুটো সংগ্রহ করে এবং তাদের পরিবার গঠনের উদ্দেশ্যে ছোট খাটো একটি বাসা তৈরি করে নেয়। স্ত্রী কবুতরের বয়স যখন ৫ থেকে ৬ মাসের মত, তখন থেকেই তারা ডিম পাড়া শুরু করে। প্রত্যেক বার একটি জোড়া ২টি করে ডিম পারে এবং প্রায় ৬ থেকে ৮ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত ভাবে ডিম দেয়ার ক্ষমতা রাখে।

পুরুষ ও স্ত্রী উভয় কবুতরই পালা করে ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করে। স্বাভাবিকভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে তাদের ১৮ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার ২ দিন আগে মাতা ও পিতা উভয় কবুতরের পেটের ভেতরে একটি থলিতে শস্যদুগ্ধ বা ক্রপ মিল্ক উৎপাদিত হয়, যা তারা তাদের বাচ্চাদের ৪ দিন বয়স পর্যন্ত খাইয়ে থাকে। স্ত্রী কবুতরেরা মুখের মধ্যে গুড়ো করা অর্ধতরল খাবার দশ দিন পর্যন্ত মুখের সাহায্যে তাদের বাচ্চাদের খাইয়ে থাকে। এর পর তাদের বাচ্চারা নিজে থেকেই সরবরাহকৃত খাবার খাওয়া শুরু করে দেয়। ওদের বয়স যখন ২৬ দিন পূর্ণ হয়, তখন ওরা পূর্ণবয়ষ্ক কবুতরে পরিণত হয়ে যায়।

কবুতরের জনপ্রিয় জাতসমূহ

সারা বিশ্বে প্রায় তিনশ এর মত কবুতরের জাত খুঁজে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে সর্বাধিক প্রচলিত দু’টি প্রধান উদ্দেশ্যে পালিত কবুতরের জাতগুলো নিম্নে দেয়া হলো:

  • মাংস উৎপাদনকারী কবুতরের জাত: হোয়াইট কিং, সিলভার কিং, টেক্সোনা, গোলা, লক্ষা ইত্যাদি এদেশে মাংস উৎপাদনকারী কবুতর হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়।
  • সৌন্দর্য ও বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে পালিত কবুতরের জাত: ময়ূরপঙ্খী, সিরাজী, লাহোরী, ফ্যান-টেইল, জ্যাকবিন, ফ্রিল-ব্যাক, মদীনা, ট্রাম্পেটার, ট্রুবিট, মুখী, গিরিবাজ, টেম্পলার, লোটান ইত্যাদি এদেশের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনমূলক কবুতর। এদের মধ্যে কিছু জাত তাদের সৌন্দর্যের জন্য জনপ্রিয় এবং অন্যগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ খেলাধুলা করানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সাধারণত কবুতর পালনের বা ফার্ম করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মাংস উৎপাদন। বাচ্চা কবুতর বা স্কোয়াবের কচি মাংস পূর্ণবয়স্ক কবুতরগুলোর তুলনায় যথেষ্ট নরম এবং সুস্বাদু হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই কবুতরের সৌন্দর্যকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন এবং পোষ মানানোর জন্য কবুতর কিনে থাকেন।

আপনার কবুতরের জন্য বাসা বা খোপ

কবুতর পালা কিংবা ফার্ম দেয়ার ব্যাপারে তাদের ঘর তৈরি করাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ। আপনার কবুতরগুলোর জন্য ঘর তৈরি করার আগে নিম্নে উল্লেখিত বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে:

  • চেষ্টা করুন উঁচু কোন যায়গায় ওদের বাসা গুলো তৈরি করতে। এভাবে আপনি আপনার কবুতর গুলোকে কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর ও মাটিতে চলাচলকারী অন্যান্য ক্ষতিকর ও শিকারী প্রাণীর হাত থেকে নিরাপদ রাখতে পারবেন।
  • ওদের ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো এবং বাতাস চলাচলের সুযোগ রাখতে হবে। এমন একটি দিকে ফিরিয়ে ঘরগুলো তৈরি করুন, যাতে করে বৃষ্টির পানি এবং শীতের ঠান্ডা বাতাস ওদের বাসার মুখ দিয়ে সরাসরি ঢুকতে না পারে।
  • বৃষ্টির পানি যেন ঘর থেকে দূরে প্রবাহিত হতে পারে, সেজন্য উপযুক্ত ড্রেন বা নালার ব্যবস্থা করে দিন। এতে করে কবুতরগুলো এই নালা থেকে পানিও পান করতে পারে।
  • ওদের বাসা পাতলা কাঠের বোর্ড কিংবা টিন, বাঁশ অথবা কার্ডবোর্ডের প্যাকেজ বাক্স ব্যবহার করেও বানাতে পারেন। প্রত্যেকটি কবুতরের বাসায় প্রায় ৩০ সেমি লম্বা, ৩০ সেমি চওড়া এবং ৩০ সেমি উচ্চতার যায়গা থাকা জরুরি।
  • ঘর গুলোর মুখের সামনে অন্তত ৪ সেমি বা তার অধিক চওড়া একটি কাঠের তক্তা রাখুন। এতে করে সেই উড়ন্ত অবস্থা থেকে সেই তক্তার উপর অবতরণ করে তারপর কবুতরগুলো ঘরের ভেতর স্বাচ্ছন্দ্যে ঢুকতে পারে। সরাসরি উড়ন্ত অবস্থা থেকে ঘরের ছোট মুখ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করাটা কবুতরদের জন্য খুবই কঠিন।
  • কবুতরের বাসা গুলোর প্রত্যেকটি রুমে একই সাথে দু’টি করে কবুতর থাকার মত পর্যাপ্ত যায়গা ও ধারণক্ষমতা থাকতে হবে।
  • ঘরগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত ভাবে তৈরি করুন এবং সম্ভব হলে বাসাটি বহুতল করে নিন।
  • প্রত্যেকটি ঘরের দরজার মাপ অন্তত ১০x১০ সেমি হতে হবে।
  • কবুতরের বাসা সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। মাসে অন্তত একবার কিংবা দুইবার করে সেগুলো পরিষ্কার করুন। নয়ত ডিম গুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং কবুতরগুলো সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।
  • যখন কবুতররা তাদের বাসায় ডিম পারে, তখন সকাল হলেই ওরা ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য ছটফট করা শুরু করে দেয়। প্রত্যেক সকালে ওদের ঘরের মুখগুলোর ওপর থেকে ঢাকনা সরিয়ে দিতে হয়, তা না হলে ওদের পায়ের নিচে পড়ে ডিমগুলো ভেঙ্গে যেতে পারে।
  • কবুতরের বাসার কাছাকাছি কোথাও ওদের খাবার ও পানির পাত্র গুলো রাখুন।
  • ওদের বাসার কাছাকাছি কিছু খড়কুটো রেখে দিন, যাতে করে সেগুলো নিয়ে ওরা ওদের ঘরের মধ্যে আরাম অথবা ডিম পাড়ার উদ্দেশ্যে তাদের বাসা বানিয়ে নিতে পারে।
  • ওদের বাসার কাছাকাছি কিছুটা পানি এবং পরিষ্কার বালু রাখুন। কেননা পানি ও বালির সাহায্যে ওরা নিজেদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে।

বাসা তৈরির ধরণের সাথে দামের সম্পর্ক

বাংলাদেশে কবুতরের ব্যাপারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে যে এদের দাম মৌসুম এবং আবহাওয়া ও পরিবেশের উপর নির্ভর করে নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। আপনি যদি বাংলাদেশের গ্রামীন অঞ্চলগুলোতে আপনার কবুতর গুলো রেখে লালন পালনের কথা ভেবে থাকেন, তাহলে আপনার এটা জেনে নেয়া ভালো যে গ্রামাঞ্চলে এদের দাম বর্ষা ও শীতকালে সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। কেননা ঐসব এলাকায় বেশির ভাগ মানুষ কবুতরের বাসা ভূমির সমতলে রেখে তৈরি করেন ও মাটিতে রেখেই কবুতর পালেন। তাদের কবুতর গুলো ঠান্ডা ও ভেজা মাটিতে চলাফেরা করে থাকে এবং ঘরে সেই ভেজা ঠান্ডা পা নিয়ে প্রবেশ করার কারণে তাদের ডিমগুলো সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও শীত ও বর্ষা কালে প্রাপ্তবয়ষ্ক কবুতর গুলো খুব সহজে চুরি হয়ে যায় অথবা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে ও অধিক হারে মারা যায়।

অন্যদিকে শহরে কবুতর গুলোর দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায় গ্রীষ্ম কালে। কেননা শহরের বেশির ভাগ মানুষ তাদের কবুতর গুলো হারিয়ে ফেলা বা চুরি হওয়ার ভয়ে নিজেদের বদ্ধ ঘরে ছোট আকারের খাঁচায় রেখে পালতে চান। কিন্তু গরম ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় থাকার কারণে পাখিগুলো সহজে অসুস্থ হয়ে পরে ও মারা যায়। অতএব আপনি কোথায় এবং কোন অবস্থায় রেখে আপনার কবুতর গুলো ফার্ম করে পালার পরিকল্পনা করছেন, সেই ব্যাপারটি এই ব্যবসায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেজন্য সব সময়ই ভূমির থেকে যথেষ্ট উঁচু কোন যায়গায় ওদের জন্য বাসা বা খোপ তৈরি করাটা অনেক বেশি নিরাপদ। সব সময় ওদের বাসা গুলো বড় আকারের ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখুন, এছাড়াও ওদেরকে রুক্ষ ও কঠোর আবহাওয়ায় সরাসরি বৃষ্টির পানি অথবা ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন।

কবুতরের খাবার

সাধারণ ভাবে কবুতর গম, ভুট্টা, ধান, চাল, কলাই, শুঁটি, ছোলা এবং সরিষা দানা বা বীজ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। ঘরের সামনেই ওদের খাবার কোন পাত্রে রাখুন কিংবা আপনার ছাদ বা উঠানে নিয়মিত সেগুলো ছিটিয়ে দিন। এভাবে ওরা নিজেরাই খাবার সংগ্রহ করতে পারে ও খেয়ে নিতে পারে। স্বাস্থ্যকর গঠন, ভালো স্বাস্থ্য এবং যথাযথ উৎপাদন ক্ষমতার জন্য আপনার উচিত আপনার কবুতরদের বিভিন্ন রকম খাবারের একটি পরিমিত মিশ্রণ তৈরি করে খাওয়ানো। এছাড়াও আপনি চাইলে ওদেরকে নিয়ন্ত্রিত পরিমানে মুরগীর খাবার খাইয়ে দেখতে পারেন, কিন্তু কবুতরের পুষ্টিগত চাহিদা মুরগীর তুলনায় অনেক বেশি। কবুতরের খাবারের মিশ্রণে অন্তত ১৫-১৬% প্রোটিন থাকা উচিত।

প্রতিটি কবুতর দিনে ৩৫ থেকে ৫০ গ্রাম পরিমাণ দানাদার খাবার খেতে পারে। বাচ্চা কবুতর দ্রুত বড় করা এবং পরিণত কবুতরগুলোর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য আপনি ওদেরকে নিয়মিত স্বাভাবিক খাবারে পাশাপাশি ঝিনুকের খোলস, চুনাপাথর, হাড়ের গুড়া, লবণ, গ্রিট মিশ্রণ, মিনারেল মিশ্রণ ইত্যাদি খাওয়াতে পারেন। এ সব কিছুর পাশাপাশি মাঝে মাঝে যদি ওরা পছন্দ করে তাহলে নিয়ম করে ওদের শাক সবজি খাইয়ে দেখতে পারেন। নিয়ন্ত্রিত ব্যালেন্সড কবুতরের খাবারের একটি মিশ্রণে উপাদানের নাম ও পরিমাণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

খাবার মিশ্রণের উপাদান

পরিমাণ (কেজি)

ভাঙা গম

ভাঙা ভুট্টা

সরিষা

ভাঙা ছোলা

সয়াবিন টুকরো

চাল ও তুষ

লবণ

২.৮ কেজি

২.২ কেজি

১.০ কেজি

১.০ কেজি

০.৮ কেজি

১.৮ কেজি

০.৪ কেজি

মোট ১০ কেজি

বাচ্চা কবুতরের খাবার

বাচ্চা কবুতরের খাবার

বাচ্চা কবুতর বা স্কোয়াবের জন্য ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত কোন বিশেষ খাবার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। তাদের পিতা মাতার পেটের ভেতর উৎপাদিত ক্রপ মিল্ক বা শস্যদুগ্ধ খেয়েই তারা প্রয়োজনীয় সব রকম পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে। এই দুধকে কবুতরের দুধও বলা হয়ে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ উভয় কবুতরই তাদের পেটের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত করা উপকরণের সংমিশ্রণ বাচ্চাদের খাইয়ে থাকে প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত। এর পর বাচ্চাগুলো যথেষ্ট বলবান হয়ে উঠে এবং উড়তে শিখে। তখন থেকে শুরু করে তারা তাদের নিজেদের জন্য খাবারের মিশ্রণ নিজেরাই সংগ্রহ করে নিতে পারে ও খেতে পারে। সব সময় শুধু খেয়াল করে পরিষ্কার খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি ওদের বাসার আশে পাশে কোথাও রাখবেন, তাহলেই যথেষ্ট।

পানি

কবুতর গুলোর বাসার কাছাকাছি একটি বড় আকারের পাত্রে পরিষ্কার পানি ভরে রাখুন। কবুতর ও তাদের বাচ্চারা এই পাত্র থেকে পানি পান করে ও প্রয়োজনে গোসলও সেরে নিতে পারে। নিয়মিত ভাবে এই পানির পাত্রটি পরিষ্কার করুন। সব সময় যথাযথ পরিমানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার চেষ্টা করুন।

ডিম উৎপাদন

সাধারণত একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী কবুতর তাদের সমস্ত জীবন জোড়া বেঁধে কাটিয়ে দেয়। তাদের ডিম পাড়ার সময় হলে তারা কাছাকাছি ঘুরে ফিরে খড়কুটো সংগ্রহ করে এবং তাদের খোপের মধ্যে ছোট একটী বাসা তৈরি করে নেয়। স্ত্রী কবুতর ৫ থেকে ৬ মাস বয়স হলেই ডিম পাড়া শুরু করে দেয়। এর পর থেকে তারা প্রতি মাসে একবার দু’টো করে ডিম দিতে পারে। পুরুষ এবং স্ত্রী উভয় কবুতরই তাদের ডিমে পালা বদল করে তাদেয় ও বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করে। এভাবে কবুতরদের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ দিনের মত সময় লাগে। মাঝে মাঝে আপনাকে ওদের জন্য কৃত্রিম বাসা তৈরি করে দেয়ার প্রয়োজন মনে হতে পারে, তাই করুন। এছাড়াও মাঝে মাঝে কিছু কবুতর তাদের ডিমে তা দিতে বা ফোটাতে অনীহা করে ও বাইরে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। এমতাবস্থায় আপনাকে সেই ডিম গুলো অন্য কবুতর জোড়ার কাছে তা দেয়া ও পালন করার জন্য দিয়ে দিতে হবে। ডিম খাওয়ার চেয়ে স্কোয়াব উৎপাদন অধিক পরিমানে লাভজনক, যেহেতু ডিমের আকৃতি অনেক ছোট হয়ে থাকে।

রোগ বালাই

অন্য যেকোন খামারের পাখির তুলনায় কবুতরের মধ্যে অসুখ বিসুখে পড়ার সম্ভাবনা অনেক কম। কিন্তু মাঝে মাঝে ছোট খাটো কিছু রোগ ওদের স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি করে ফেলতে পারে এবং ছড়িয়ে দলের অন্য সুস্থ কবুতর গুলোকেও সহজে আক্রান্ত করে ফেলতে পারে। কবুতরের নানা রকম রোগ বালাই হতে পারে, যেমন- টিবি, প্যারাটাইফয়েড, কলেরা, পক্স, রানীক্ষেত, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি। তাছাড়াও ওরা বিভিন্ন রকম উকুন ও পরজীবি অথবা বিভিন্ন স্বাস্থ্যহানিকর রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কবুতরদের এরকম প্রাণঘাতী রোগ বালাই থেকে দূরে রাখার জন্য আপনি কিছু প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা বা পন্থা আগে থেকেই অবলম্বন করতে পারেন। যেমন:

  • কোন অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ও ভালোভাবে মেনে চলুন।
  • কবুতরের বাসা গুলো পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করে রাখুন, চেষ্টা করুন প্রতিদিন সেগুলো পরিষ্কার করতে।
  • অসুস্থ ও আক্রান্ত পাখিগুলোকে সুস্থ পাখিদের থেকে আলাদা করে সরিয়ে ফেলুন।
  • সময় মত ওদের সব গুলো টীকা দেয়ার চেষ্টা করুন।
  • এন্টি-সেপটিক ও পানির দ্রবণে ওদেরকে নিয়মিত পরিষ্কার করার মাধ্যমে পোকা ও কৃমি দূরে রাখুন। যখনই আপনার কবুতরের ঝাঁকের মধ্যে নতুন কোন কবুতর এনে রাখবেন, তার আগেই সেটাকে ভালোভাবে সতর্কতার সাথে গোসল করিয়ে জীবানুমুক্ত করে নিন এবং ভুলেও ওদের চোখ ও মুখে এই এন্টি-সেপটিক দ্রবণ লাগতে দিবেন না।
  • ওদেরকে নিয়মিত ব্যালেন্সড খাবারের মিশ্রণ ও লিভার টনিক কোর্স দিন, যাতে করে ওরা স্বাস্থ্যহানিকর ও প্রাণঘাতী রোগ বালাই থেকে নিরাপদ থাকতে পারে।
  • যথাযথ ঔষধ ব্যবহার করে ওদের শরীর থেকে উকুন দূর করুন।

উপসংহার

আশা করি কবুতর পালন ও ফার্ম দেয়ার ব্যাপারে আপনার মনে থাকা যাবতীয় সব প্রশ্নের উত্তর এই প্রতিবেদনে আমরা দিতে পেরেছি। আপনি যদি ব্যবসার কথা চিন্তা করে একটি ফার্ম দেয়ার কথা ভেবে থাকেন, কিংবা আপনি শুধু একজন শান্তিপ্রিয় ও পাখিপ্রেমী মানুষ  এবং নিজের শখের জন্য কিছু সুন্দর কবুতর বাড়িতে রেখে পালন করতে চাচ্ছেন, তাহলে এই প্রতিবেদনটি নিশ্চয়ই আপনার কাজে আসবে। এছাড়াও এখন আপনি উদ্দেশ্য ও চাহিদার ভিত্তিতে বাজারে থাকা নানা রকম কবুতরের নাম জানেন, অতএব আপনার জন্য এখন বাছাই করা অনেক সহজ।

আপনার কারণ যেমনটাই হোক না কেন, আপনার পছন্দের ব্রীড বা জাতের কবুতর, তাদের জন্য খাবারের মিশ্রণ এবং তাদের লালন পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যেকোন ধরণের সরঞ্জাম কেনার জন্য আজই ভিসিট করুন Bikroy.com. ধীরে সুস্থে শুরু করুন, আপনার কবুতর গুলোকে নিজের সন্তানের মত করে ভালোবাসুন, আজকে আলোচনা করা সব গুলো ধাপ এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ঠিক ভাবে অনুসরণ করুন, ধৈর্য রাখুন এবং অচিরেই আপনি খুব অল্প সময়ে হয়ে উঠতে পারবেন কবুতর ব্যবসায় একজন সফল উদ্যোক্তা।


Bikroy-এর #ILoveBangladesh গল্প প্রতিযোগিতা

I love Bangladesh Competition

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com, এবারের বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে নিয়ে এসেছে  #ILoveBangladesh গল্প প্রতিযোগিতা। এই গল্পগুলো হতে পারে কোনো মুক্তিযোদ্ধার গল্প বা যিনি দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসেন এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এমন কারো। দেশকে ভালোবেসে কিছু করার এমন গল্প থাকতে পারে প্রতিযোগীর নিজের, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন অথবা পরিচিতজনের।

 
প্রতিযোগীরা বিক্রয় ব্লগে ভিজিট করে লেখা বা ভিডিও আকারে গল্প পাঠাতে পারেন। এরপর পাঠানো গল্পটি #ILoveBangladesh – এই ক্যাপশনের সাথে ফেসবুক টাইমলাইনে শেয়ার করতে হবে। প্রতিযোগিতাটিতে অংশগ্রহণের শেষ তারিখ ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮।

সংগৃহীত গল্পগুলো থেকে তিনটি গল্প বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হবে। গল্প নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং Bikroy এর ম্যানেজমেন্ট টিমের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ (মঙ্গলবার)। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে ১০,০০০ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৫,০০০ টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ২,০০০ টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়াও বিজয়ীদেরকে Bikroy এর পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে এবং নির্বাচিত গল্প তিনটি Bikroy.com এর ব্লগ সাইটে প্রকাশ করা হবে।

 
প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে Bikroy.com-এর হেড অব মার্কেটিং এন্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন বলেন, “এ বছরের বিজয় দিবস আমরা এমন কাউকে নিয়ে উদযাপন করতে চাই, যারা সত্যিই এই দেশটাকে ভালোবাসেন এবং নিজেদের অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করেছেন। এমন মানুষরা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার এবং সেইসকল মানুষদের গল্প সবার সামনে তুলে ধরার জন্য এটি একটি চমৎকার একটি সুযোগ বলে আমি মনে করি। তাই দেরী না করে এখনই শুরু করুন, তাদের গল্প পাঠান এবং চলুন, বাংলাদেশের ৪৮ তম বিজয় দিবসে আমরা তাঁদের সম্মানিত করি”।


Bikroy-এর পেমেন্ট পদ্ধতি

Bikroy-এর পেমেন্ট পদ্ধতি

Bikroy.com হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস, যেখানে আপনার কাছে ব্যবহৃত গাড়ি থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার যেকোনো কিছু কেনাবেচা, চাকরি, এমনকি প্রপার্টিও খুঁজে নিতে পারবেন।

Bikroy.com এর প্রিমিয়াম পরিশোধিত সেবা গ্রহণের জন্য, Bikroy এ ৩ টি প্রধান পেমেন্ট পদ্ধতি রয়েছেঃ

  • অনলাইন পেমেন্ট
  • সরাসরি বিকাশ
  • ক্যাশ অন ডেলিভারি বা সংগ্রাহক

অনলাইন পেমেন্টঃ

Pay.bikroy.com আপনাকে ওয়ান-স্টপ অনলাইন সমাধান প্রদান করে যেখান থেকে আপনি আমাদের যেসকল বিজ্ঞাপনের জন্য মূল্য পরিশোধ করতে হয়, সেসকল ক্ষেত্রে বিভিন্ন পেমেন্ট অপশন বাছাই করতে পারেন।

  • বিজনেস মেম্বারশীপ
  • প্রিমিয়াম লিস্টিং ভাউচার কোড
  • লিস্টিং ফি

একবার আপনি আপনার উপযুক্ত পণ্য বা সেবাটি নির্বাচন করলে, আপনার ব্যবসার প্রয়োজন, অবস্থান এবং প্যাকেজের সময়কাল অনুসারে বিভিন্ন মূল্যের প্যাক রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন পেমেন্ট বিকল্পগুলি ব্যবহার করে আপনি কিভাবে বিভিন্ন প্যাকেজের জন্য অনলাইনে অর্থ প্রদান করতে পারবেন।

বিজনেস মেম্বারশীপঃ

বিজনেস মেম্বারশীপ পেমেন্টের জন্য pay.bikroy.com এ যান এবং নিচের মেম্বারশীপ প্যাকেজগুলো থেকে আপনার প্রয়োজনীয় প্যাকেজটি সিলেক্ট করুনঃ

  • বিজনেস প্লাস
  • বিজনেস প্রিমিয়াম

এবার লোকেশন সিলেক্ট করুনঃ

  • ঢাকা
  • চট্টগ্রাম
  • অন্যান্য

এবার মেম্বারশীপের সময়সীমা সিলেক্ট করুনঃ

  • ১ মাস
  • ৩ মাস
  • ৬ মাস

ক্যাটাগরি সিলেক্ট করুনঃ

  • যানবাহন (গাড়ি, মোটরবাইক ও স্কুটার, বাইসাইকেল ও থ্রি হুইলার, পার্টস ও এক্সেসরিজ, ট্রাক, ভ্যান ও বাস, অটো সার্ভিস, ট্র্যাক্টর ও হেভি ডিউটি, জল পরিবহন)
  • প্রপার্টি
  • চাকরি (বিদেশে চাকরি)
  • অন্যান্য (মোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, হোম এবং লিভিং, ফ্যাশন, স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য্য, ব্যবসা ও শিল্পকারখানা, শখ, খেলাধুলা এবং শিশু, সার্ভিস, শিক্ষা, পোষা প্রাণী ও জীবজন্তু, কৃষি এবং খাদ্যদ্রব্য)

মেম্বারশীপ প্যাকেজ, লোকেশন, সময়কাল এবং ক্যাটাগরি বাছাই করার পর, সর্বমোট টাকার পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণনা করা হবে।

 

membership

এরপর আপনার পূর্ণ নাম (আবশ্যক), ইমেল ঠিকানা, বিজ্ঞাপন পোস্ট করা বা আইটেমটি অর্ডার করার জন্য ব্যবহৃত ফোন নাম্বারটি (আবশ্যক) টাইপ করুন। তারপর, “Pay Now” বাটনে ক্লিক করার মাধ্যমে উল্লেখিত সকল শর্তাবলী স্বীকার করে পেমেন্ট করুন। আপনি পেমেন্ট চ্যানেলটি নির্বাচন করে নির্দেশাবলী অনুসরণ করে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারেন।
your detail

পেমেন্ট চ্যানেলঃ

একবার আপনি “Pay Now” বাটনে ক্লিক করলে, আপনি নিচের ৪ টি পেমেন্ট অপশন পাবেনঃ

  • কার্ড
  • মোবাইল
  • নেট ব্যাংকিং

উপরের অপশনগুলো থেকে আপনি আপনার সুবিধাজনক একটি প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করতে পারেন।

মোবাইলঃ

মোবাইল পেমেন্ট এর অধীনে আছেঃ

  • বিকাশ
  • রকেট
  • শিউর ক্যাশ
  • মাই ক্যাশ

উপরের অপশনগুলো থেকে আপনি আপনার সুবিধাজনক একটি প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করতে পারেন।

channels

ব্যাংক কার্ডঃ

ব্যাংক কার্ড পেমেন্টের ক্ষেত্রে আছেঃ

  • ভিসা
  • মাস্টার কার্ড
  • আমেরিকান এক্সপ্রেস
  • ডিবিবিএল নেক্সাস

আপনি আপনার পছন্দমতো পেমেন্ট চ্যানেলটি নির্বাচন করতে পারেন এবং তারপরে “Pay Now” বাটনটি ক্লিক করে আপনি প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে পারেন।

bank card

নেট ব্যাংকিংঃ

নেট ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিং পেমেন্টের অধীনে আমাদের ইসলামী ব্যাংকের পেমেন্ট রয়েছে। তারপরে “Pay Now” বাটনটি ক্লিক করে আপনি প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে পারেন।

net banking

লগইনঃ

উপরের উল্লিখিত অপশনগুলো ছাড়াও, যদি আপনার Port Wallet এর সাথে একটি অ্যাকাউন্ট থাকে তবে আপনি লগ ইন করতে এবং আপনার Port Wallet অ্যাকাউন্ট থেকেও পেমেন্ট করতে পারেন।

portal login

প্রিমিয়াম লিস্টিং ভাউচার কোড

প্রিমিয়াম লিস্টিং ভাউচার কোড পেমেন্টের জন্য pay.bikroy.com এ যান এবং প্রিমিয়াম লিস্টিং ভাউচার কোড নির্বাচন করুন। তারপরে, আপনি নিচের উইন্ডোটি পাবেন এবং আপনি যেটি কিনতে চান তার টাকার পরিমাণটি টাইপ করুন।

 

voucher code

এরপর আপনার পূর্ণ নাম (আবশ্যক), ইমেল ঠিকানা, বিজ্ঞাপন পোস্ট করা বা আইটেমটি অর্ডার করার জন্য ব্যবহৃত ফোন নাম্বারটি (আবশ্যক) টাইপ করুন। তারপর, “Pay Now” বাটনে ক্লিক করার মাধ্যমে উল্লেখিত সকল শর্তাবলী স্বীকার করে পেমেন্ট করুন। আপনি পেমেন্ট চ্যানেলটি নির্বাচন করে নির্দেশাবলী অনুসরণ করে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারেন।

detail

লিস্টিং ফিঃ

লিস্টিং ফি প্রদানের জন্য আপনাকে pay.bikroy.com এ যেতে হবে এবং লিস্টিং ফি নির্বাচন করতে হবে। তারপরে, আপনি নীচের উইন্ডোটি পাবেন এবং ড্রপ-ডাউন থেকে যে ক্যাটাগরির অধীনে আপনি বিজ্ঞাপন পোস্ট করতে চান সেটি সিলেক্ট করুন।

listing fees

 

এরপর আপনার পূর্ণ নাম (আবশ্যক), ইমেল ঠিকানা, বিজ্ঞাপন পোস্ট করা বা আইটেমটি অর্ডার করার জন্য ব্যবহৃত ফোন নাম্বারটি (আবশ্যক) টাইপ করুন। তারপর, “Pay Now” বাটনে ক্লিক করার মাধ্যমে উল্লেখিত সকল শর্তাবলী স্বীকার করে পেমেন্ট করুন। আপনি পেমেন্ট চ্যানেলটি নির্বাচন করে নির্দেশাবলী অনুসরণ করে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারেন।

your payment detail

Buy Now:

Buy Now এর পেমেন্টের জন্য pay.bikroy.com এ যান এবং Buy Now বাছাই করুন। এরপরে, আপনি নিচের উইন্ডোটি পাবেন এবং আপনার কাছে বিক্রির জন্য টাকার পরিমাণ টাইপ করুন।

buy now

এরপর আপনার পূর্ণ নাম (আবশ্যক), ইমেল ঠিকানা, বিজ্ঞাপন পোস্ট করা বা আইটেমটি অর্ডার করার জন্য ব্যবহৃত ফোন নাম্বারটি (আবশ্যক) টাইপ করুন। তারপর, “Pay Now” বাটনে ক্লিক করার মাধ্যমে উল্লেখিত সকল শর্তাবলী স্বীকার করে পেমেন্ট করুন। আপনি পেমেন্ট চ্যানেলটি নির্বাচন করে নির্দেশাবলী অনুসরণ করে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারেন।

payment detail

বিকাশঃ

আমাদের বিকাশ মার্চেন্ট নাম্বার হচ্ছে (০১৮৪৭১৩৪০৪৯)। আমাদের মার্চেন্ট বিকাশ নাম্বারের মাধ্যমে বিজনেস মেম্বারশীপ, লিস্টিং ফি বা প্রিমিয়াম সার্ভিসের জন্য অর্থ প্রদান করতে পারে। একবার পেমেন্ট সম্পন্ন হলেই বিজ্ঞাপন প্রকাশিত বা প্রচারিত হয়ে যায়।

ক্যাশ অন ডেলিভারি বা সংগ্রাহকঃ

বিকাশ এবং অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতির পাশাপাশি আমাদের একটি ডেডিকেটেড সংগ্রাহক দল রয়েছে, যারা আমাদের মেম্বারদের স্থান পরিদর্শন করে এবং নগদ/চেক এর মাধ্যমে মেম্বারশীপ ফি সংগ্রহ করে। এছাড়াও Buy Now এর জন্য আমাদের রয়েছে ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা।