সঠিক ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে ৫টি পরামর্শ

Share

আপনার কোম্পানীর ভালোমন্দ নির্ভর করে সঠিক কর্মী নিয়োগ প্রদানের উপর। একজন বাজে কর্মী যেমনভাবে তার মানসিক সমস্যা দ্বারা রক্তচোষার মত তার চারপাশের সকলের কর্মশক্তি ও মেজাজকে শুষে নিতে পারেন, তেমনি একজন দৃঢ় মনোভাবের, কঠোর পরিশ্রমী কর্মী সকলের মনোবল এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনও হতে পারে যে, একজন বাজে কর্মী আসলে ব্যক্তি হিসেবে খারাপ নয়; কিন্তু সে হয়ত আপনার কোম্পানীর নির্দিষ্ট ধরনের কাজের উপযুক্ত নয়। যাহোক, হিসাবরক্ষণের জন্যই হোক কিংবা অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্যই হোক, সঠিক লোক নিয়োগের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হলে আপনার কিছু করণীয় রয়েছে।

১। সকল প্রার্থী সম্পর্কে আগেভাগেই কিছুটা ধারণা নিয়ে রাখুন

লোক নিয়োগ প্রদান শুরু করার আগে আপনার পছন্দের তালিকা ছোট করে আনতে আবেদনপত্রগুলোকে ব্যবহার করুন। শুরুতেই আপনি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন যে, আপনার নির্দিষ্ট কাজটির জন্য কিছু কিছু কর্মী উপযুক্ত নয়। যাহোক, এ কাজটি করার পর, প্রত্যেক কর্মীর অগ্রিম সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা একটি ভালো ধারণা হতে পারে। এ সময়টিতে আপনি তাদের যোগ্যতা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত না হয়ে বরং তাদের ব্যক্তিত্ব কেমন তা বোঝার চেষ্টা করুন। আপনাদের দুজনের মধ্যে কতটা ভালো যোগাযোগ গড়ে উঠলো? তারা কতটা সুন্দরভাবে কথা বলতে পারলো? এই ক্ষেত্রে আপনার মেজাজী ভাবটি বেশ কাজ দেবে; কোনো প্রার্থী সম্পর্কে যদি গোলমেলে কিছু আঁচ করতে পারেন তাহলে পরের প্রার্থীকে ডেকে নিন। এই প্রক্রিয়াটি অর্ধেক সময়ের মধ্যে সারতে চাইলে প্রার্থীদের আবেদনপত্র ও জীবনবৃত্তান্তগুলো খুঁটিয়ে দেখুন; নিম্নমানের ভাষা, বানান ভুল এবং অতীত কর্ম ইতিহাসের অনুপস্থিতি ইত্যাদির মত বিশেষ কিছু উপাদান থেকে আপনি, প্রার্থী আপনার অফিসে এসে সাক্ষাৎ প্রদানের অনেক আগেই, তার সম্পর্কে বেশ খানিকটা ধারণা নিয়ে নিতে পারবেন।

২। ব্যাকগ্রাউন্ড ও রেফারেন্স যাচাই করে দেখুন

প্রার্থীরা যদি তাদের আগের নিয়োগদাতা সম্পর্কিত কোনো তথ্য সরবরাহ না করে থাকে তাহলে তাদেরকে রেফারেন্স সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন। তারা যদি তা দিতে না পারে তাহলে যা বোঝার বুঝে নিন। যারা আগে থেকেই রেফারেন্স দিয়ে রেখেছে তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখুন; তাদের আগের নিয়োগদাতাগণের সাথে ফোনে কথা বলুন এবং খোঁজ নিয়ে দেখুন তারা কর্মী হিসেবে কেমন ছিল এবং তারা আপনার কোম্পানীর জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে। ভালো হয় যদি এ সম্পর্কে বিস্তারিত মতামত সংগ্রহ করতে পারেন, কারণ অনেকেই খারাপ সম্পর্ক নিয়ে চাকুরি ছেড়ে আসে। এক্ষেত্রে, সাবধানী হওয়ার জন্য প্রার্থীর কোনো অপরাধের ইতিহাস রয়েছে কি-না তা নিশ্চিত হতে তার ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করাটা একটি ভালো ধারণা হতে পারে। মোটের উপর, আপনি আপনার টাকাপয়সা সংক্রান্ত কাজে এমন কাউকে নিয়োগ দিতে চাইবেন না যে ব্যক্তি কি-না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল। ঐ ধরনের ইতিহাস যার জীবনে রয়েছে তেমন কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করলে তা আপনার কোম্পানীর সুনামের উপর কী প্রভাব ফেলবে সেই বিবেচনাও আপনাকে করতে হবে।

৩। সাক্ষাৎকারে সঠিক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন

আপনার একটি শুন্যপদ চাকুরি সন্ধানী শত শত মানুষকে আপনার দুয়ারে এনে হাজির করিয়ে দেবে। যাহোক, নির্দিষ্ট একজন কর্মীকে বেছে নেয়ার পূর্বে আপনার পক্ষে খানিকটা সময় নিয়ে সঠিক প্রশ্ন করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রশ্নগুলো এমন হওয়া উচিত যাতে সেগুলো আপনাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে যে, প্রার্থীরা কাজের উপযুক্ত কি-না এবং তারা কাজের ব্যাপারে আদৌ নিষ্ঠাবান কি-না। আপনার উচিত হবে কিছু কঠিন কঠিন প্রশ্ন করে প্রার্থীকে খানিকটা বাজিয়ে দেখা। কোনো প্রার্থী কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে তাকে অযোগ্য মনে করার কোনো কারণ নেই; অনেকেই এমন রয়েছে যারা কৌশলগতভাবে কাজটি কীভাবে করতে হয় তা জানে বটে, কিন্তু হাতেকলমে কাজের বেলায় ঠনঠন।

৪। আপনার অতীত অভিজ্ঞতাকে দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজে লাগান

লোক নিয়োগ দেয়া কোনো নিখুঁত বিজ্ঞান নয়। এখানে অনেক কিছুই পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে হয় এবং প্রত্যেক নিয়োগকর্তাই কমপক্ষে একজন হলেও এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করেছেন যে কি-না কাজের বেলায় শেষ পর্যন্ত একটা অকর্মা হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে। যাহোক, আপনার যদি লোক নিয়োগের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে থাকে তবে সেসব অভিজ্ঞতা থেকে আপনি যা কিছু শিখেছেন তা আপনার পক্ষে কাজে লাগান। একজন সম্ভ্যাব্য কর্মীর মধ্যে কী গুণাবলী খুঁজতে হবে আর কোন ত্রুটিগুলো থাকলে তাকে নেয়া চলবে না- এ বিষয়টি যদি আপনার জানা থাকে তাহলে লোক নিয়োগের কাজটি আপনার জন্য অনেক বেশি সহজ হবে।

৫। দ্রুত কোনো অনুমান করে নেবেন না

আপনি যখন প্রথমবারের মত কোনো প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেবেন তখন তার ব্যাপারে সকল সম্ভাবনার প্রতি দৃষ্টি উন্মুক্ত রাখবেন। কোনো একজন সম্ভ্যাব্য প্রার্থীর কেতাদুরস্ত হাবভাব আপনাকে তার ব্যাপারে সুপারিশ করতে সহজেই প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু আপনাকে বিবেচনা করতে হবে যে, সে কাজের পক্ষে আসলে কতটা যোগ্য। মনে রাখবেন, কিছু কিছু লোকের – বিশেষ করে আইটি খাতে –পোষাক পরিচ্ছদ দেখলে মনে হবে কোথাও চাকুরি পাওয়ার মত যোগ্যতা তাদের নেই। অথচ, তারা সাধারণতঃ উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এবং কর্মকুশলী হয়ে থাকে। তাই বলে, কোনো প্রার্থীর বাহ্যিক চেহারাকে পুরোপুরি মূল্যহীন ভাববেন না; কাজের ব্যাপারে তারা আসলে কতটা আন্তরিক এবং ভবিষ্যতে তাদের কাছ থেকে কেমন আচরণ আশা করা যেতে পারে- এ বিষয়গুলো আপনি তাদের বাহ্যিক চেহারা থেকেই প্রাথমিকভাবে আঁচ করতে পারবেন।

ঢাকায় এবং বাংলাদেশের অন্যত্র শুন্যপদগুলো ব্যাপক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে পূরণ করা হয়ে থাকে, এবং সেরা কর্মীদেরকে খুঁজে পেতে আপনাকে অন্যান্য কোম্পানীর সাথে টেক্কা দিয়ে চলতে হয়। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও কর্মকুশলী লোক নিয়োগের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হলে আপনাকে জানতে হবে প্রার্থীর মধ্যে কী খুঁজতে হবে আর কোন বিষয়গুলোর ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। সবচেয়ে সেরা কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে এই পাঁচটি পরামর্শ মেনে চলুন।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments