শিক্ষার জন্যে উপযোগী ৫টি উন্নতমানের ল্যাপটপ এবং নোটবুক

Share

সাশ্রয়ী দামের ল্যাপটপ খুঁজতে ইন্টারনেটে সার্চ করা সবসময়ই বুদ্ধিমানের কাজ।  নতুন ল্যাপটপের দাম অনেক বেশি হওয়ায় কিছুদিন ব্যবহার করা হয়েছে এমন ল্যাপটপই এখন ক্রেতাদের কাছে বেশি পছন্দ। একটু পুরানো এই ল্যাপটপগুলো ক্লাসে নোট নেওয়া, বিভিন্ন পেপার এবং পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি করার জন্য উপযুক্ত । এই আর্টিক্যালে পর্যালোচনা করা অনেক কম্পিউটারেই বিভিন্ন গেমস খেলা এবং সিনেমা দেখার জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে।

সামস্যাং এটিআইভি বুক নাইন লাইটঃ

এটি বুক নাইন পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য। এটি পতলা এবং হালকা ওজনের হলেও মজবুত। এটির কবজাগুলো মসৃন এবং এটি খুব সহজে এবং ঝামেলা ছাড়াই খোলা এবং বন্ধ করা যায়। এটির একটি ২.০ ইউএসবি পোর্ট, একটি ৩.০ ইউএসবি পোর্ট, একটি অডিও জ্যাক, একটি গিগাবিট ইথারনটে পোর্ট যেটির একটি ডঙ্গেল প্রয়োজন। এছাড়া একটি করে এইচডিএমএল এবং ভিজিএ পোর্ট আছে যেগুলোরও ডঙ্গেল প্রয়োজন। এটির ডিসপ্লে বেশিরভাগ ফাংশনের জন্যই যথেষ্ট এবং রেজ্যুরেশন হল ১৩৬৬*৭৬৮ যা সর্বোচ্চ ২৫০ নিটস উজ্জলতা সম্পন্ন। এটির কিবোর্ডের টাচ এবং টাচপ্যাডগুলো ভালো এবং মাত্রাতিরিক্ত সংবেদনশীল নয়। এই নোটবুকটির স্টার্ট বাটন প্রেস করার ১৩ সেকেন্ডের মধ্যে স্ক্রিন পুরোপুরি কার্যকর হয়। এর এ্যান্টি-গ্লেয়ার এবং এলইডি ব্যাকলিট স্ক্রিনের আকার ১৩.৫ ইঞ্চি । প্রসেসর এএমডি এসিক্স এপিইউ (৬০০-১৪০০মেগাহার্টজ) যার ৪ জিবি মেমোরি এবং ১২৮ জিবি স্টোরেজ রয়েছে। এছাড়া এটাতে ওয়েব ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন আছে এবং ওজন ১.৭৫ পাউন্ডেরও কম।

সুবিধা:

১। দ্রুত চালু হয়

২।   ইন-গ্লেয়ার স্ক্রিন

অসুবিধাঃ

১।  ব্যাটারির মেয়াদ সীমিত

২।  নেটওয়ার্ক এবং ভিজিএ’র জন্য বিশেষ ডঙ্গেল প্রয়োজন

৩। হার্ডওয়্যার আপগ্রেড সুযোগ সীমিত

গুগল সিআর-৪৮   ক্রোম নোটবুকঃ

এই নোটবুকটি গুগল ক্রোমের অপারেটিং সিস্টেমে চলেএবং একটি ওয়েব ব্রাউজার হিসবে বেশি উপযোগী। এটির ১২.১ ইঞ্চি বিশিষ্ট ম্যাট স্ক্রিন যার রেজ্যুলেশন ১২৮০* ৮০০ এবং এলইডি ব্যাকলাইটিং। এটি একটি ইন্টেল এটম এন৪৫৫ প্রোাসেসর এবং ইন্টেল ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিকস ব্যবহার করে। এটি ২ জিবি র‌্যাম এবং ১৯ জিবি এসএসই ফ্ল্যাস মেমোরী রয়েছে। ওজন ৪ পাউন্ডেরও কম।

এটির ডিজাইন খুবই সাধারন ক্লামশেল বক্স সাথে ম্যাট রাবারাইজড ব্ল্যাক পেইন্ট যা ব্যবহারকারীকে পুরানো থিঙ্ক প্যাডের কথা মনে করিয়ে দিবে। কিন্তু এটার ভেতরটা দেখতে অনেক আধুনিক এবং অনেকটা ম্যাকবুকের মতো। দুই পাশেই পোর্ট রয়েছে এবং একটি ভিজিএ পোর্ট রয়েছে যার ফলে এটি মনিটরের সাথে সংযুক্ত করা যায়। এছাড়া একটি ইউএসবি পোর্ট, এবং একটি এসডি/এসডিএইচসি মেমোরি কার্ড রিডার এবং একটি অডিও জ্যাকও রয়েছে।

এটার দেখার এ্যাঙ্গেলগুলো বেশ ভালো এবং এর স্ক্রিনের প্রান্তের কাছাকাছি ছোট ব্যাকলাইট ব্লিডিং আছে।  কী-বোর্ডের কী গুলোর মাঝে বাড়তি জায়গা থাকায় কী-বোর্ডটি বেশ প্রশস্ত যা টাইপারকে সহায়তা করবে, এবং এটির টাচ দৃড় এবং মসৃন।

সুবিধাঃ

১।অনেক স্টোরেজ

২। সুন্দর এন্টি-গ্লেয়ার এক্সটেরিয়র

৩।দ্রুত চালু হয়

৪। সাশ্রয়ী দাম

অসুবিধাঃ

১। শুধুমাত্র একটি ব্রাউজার হিসেবে কার্যকর

২। অফলাইন মোড নাই

৩।লোকাল স্টোরেজ এ সমস্যা

ডেল লেটিটিউড ডি ৮২০ঃ

ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসা-বণিজ্য এবং কর্পোরেশনের কথা মাথায় রেখে ১৫.৪ ইঞ্চি প্রশস্ত স্ক্রিনের এই নোটবুকটি তৈরি করা হয়েছে। এটির কোর ড্ওু টি২৪০০ সিপিইউ, ্এবং ডিসপ্লে ১৬৮০*১০৫০, ১০২ মেগা বাইট’এর ডিডিআর২-৬৬৭ র‌্যাম এবং ৬০ জিবি’র হার্ড ড্রাইভ রয়েছে। এছাড়্ওা এটির একটি ৮এক্স সিডি- আরই/ডিভিডি ডুয়েল লেয়ার ড্রাইভ, ব্লু-টুথ রেডিও এবং উইন্ডোজ এক্সপি আছে। এটির ওজন ৬ পাউন্ডের একটু বেশি।

এটি একটি মজবুত কম্পিউটার বিশেষত যেসব ছাত্র-ছাত্রী ব্যাকপ্যাক ব্যাবহার করে তাদের জন্য সহজে বহনযোগ্য এবং খুবই উপযোগী। এটি এর প্রতিদ্বন্দ্বি আইবিএম এবং এইচপি’র থেকে একটু সস্তা। একটি ম্যাগনেসিয়াম আ্যালোয় দিয়ে তৈরি যা এটিকে বেঁকে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে।  এটি যেসব ছাত্র-ছাত্রী  ক্লাসে কম্পিউটার নিয়ে যায় তাদের  জন্য আরেকটি ভালো দিক ।  এটির স্ক্রিন ম্যাট, যা সাধারনত ব্যাবসার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এটি খুব বেশি উজ্জল নয়। স্পিকারগুলো একটু কোণার  দিকে রয়েছে এবং স্ক্রিনের প্রান্তগুলোতে কিছু ব্যাকলাইট ব্লিড হয়। হিট এবং শব্দের মাত্রা ভালো হলেও সিডি ড্রাইভ বেশ শব্দের সৃষ্টি করে।

সুবিধাঃ

১। সুগঠিত

২। সাশ্রয়ী দাম

৩।খুব তাপ কিংবা শব্দ উৎপন্ন করে না।

অসুবিধাঃ

১।অস্পষ্ট স্ক্রিন

২।শব্দপূর্ণ অপটিক্যাল ড্রাইভ

৩।অনুন্নত গ্রাফিক্স

সনি ভিএআইও পিঃ

এই পকেট সাইজ নোটবুকটি যেকোনো পার্স বা ব্যাকপ্যাক’এ সহজে বহনযোগ্য । এটির একটি ১.৩৩ গিগা হার্টজ বিশিষ্ট এ্যাটম প্রসেসর, ২ জিবির ডিডিআরএস ৮০০ মেগা হার্টজ, উইনডোজ ভিসতা এবং আট ইঞ্চি বিশিষ্ট ১৬০০*৭৬০ গ্লসি এলইডি ব্যাকলিট ডিসপ্লে রয়েছে। এছাড়া এটির ৬৪ জিবির সলিড স্টেট ড্রাইভ  এবং ইন্টেল জিএমএ ৫০০ ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্সও রয়েছে। একটি থ্রিজি ডব্ল্ওি ডব্ল্ওিএএন ভ্যারিজন কার্ড, এসডি/ এসডিএচিসি মিডয়া কার্ড রিডার, মেমোরী স্টিক কার্ড রিডার এবং একটি ওয়েব ক্যাম রয়েছে। এটির ওজনমাত্র দেড় পাউন্ডেরও কম।

এটি দেখতে নেটবুক এবং স্মার্টফোনের মাঝামাঝি কিছু একটা মনে হয়। ভিএআইপি’এর কোয়ালিটি একদম সলিড, বিশেষত এই আকারের নোটবুকের জন্য। এর গ্লসি উপরিভাগ বাইরের হালকা আঁচর থেকে রাক্ষা করে এবং এটি ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য চুম্বক হিসেবেও কাজ করে। ভিএআইও পি কে আপগ্রেড করা খুব সহজ নয় এবং ব্যবহারকারীর পক্ষে এর হার্ড ড্রাইভ অথবা সিস্টেম র‌্যাম পাওয়াও প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।  যাই হোক, এটি এধরনের কম্পিউটারের জন্য একটি সাধারন সমস্যা।

সুবিধাঃ

১। হালকা ওজন এবং ছোট

২।  সুগঠিত

৩। কী-বোর্ড অত্যন্ত কার্যকর

অসুবিধাঃ

১।  আপগ্রেড করার কোন সুযোগ নেই

২।  ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাগনেট

৩। হালকা গরম হয়ে যাওয়ার প্রবণতা

এইচপি প্রো-বুক ৪৪২৫এসঃ

এই প্রো-বুকের একটি এএমডি ফেমন আইআই পি৯২০ কোয়াড কোর, উইন্ডোজ ৭, একটি ১৪ ইঞ্চি এলইডি ব্যাকলিট এ্যান্টি-গ্লেয়ার স্ক্রিন সাথে ১৩৬৬*৭৮৬ ডিসপ্লে াএবং ৪ জিবি’র ডিডিআর৩ ১০৬৬ মেগা হার্টজ র‌্যাম রয়েছে। এটির একটি লাইটস্ক্রাইব ডিভিই+/আরডব্ল্ওি অপটিক্যাল ড্রাইভ এবং একটি ৬-সেল ৪৭ ডব্ল্ওি এইচআর ব্যাটারিও রয়েছে। ওজন পাঁচ পাউন্ডের একটু বেশি।

এটি একটি ব্রাশড মেটাল লিড দিয়ে মজবুতভাবে তৈরি কম্পিউটার যা এটির স্ক্রিনকে রক্ষা করে। এর কী- বোর্ড একটু নমনীয় যা ব্যাবহার করা অনেক সহজ। এর উপাদানগুলো পরিবর্তন করা কঠিন এবং পুরো  প্রো-বুকই খুলে ফেলার দরকার হয়।  কিন্তু এটির পোর্টগুলো খুব ভালো, যার মধ্যে তিনটি   ইউএসবি ২.০ পোর্ট , একটি ই-এসএটিডি/ইউএসবি পোর্ট, একটি ল্যান মোডেম এবং ভিজিএ এবং এইচডিএমএল-আউট রয়েছে। একটি অডিও জ্যাকও রয়েছে। এছাড়া একটি এসডিএইচসি-কার্ড স্লট এবং এক্সপ্রেস কার্ড/৩৪ রয়েছে যার মাধ্যমে পরবর্তিতে এক্সপেসশন করা যাবে ।

এটির ১৩৬৬*৭৬৮ রেজ্যুলেশনের স্ক্রিন এলইডি ব্যাকলিট। এটি কোন ব্যকালাইট ব্লিড শো করে না এবং এর উজ্জলতা  এই ধরনের নোটবুকের যেরকম থাকে তেমনি। এর স্পিকারগুলোও মোটামুটি ভালো  যা হাই নোট এবং মিডরেঞ্জের সাথে ভালোভাবে কাজ করে। এটির একটি ট্র্যাক প্যাড রয়েছে যা খুব মসৃন এবং সহজে ব্যবহার করা যায়।

সুবিধাঃ

১।সুগঠিত

২।সহজে ব্যবহারযোগ্য কী-বোর্ড

অসুবিধাঃ

১।স্বল্প মেয়াদী ব্যাটারি

২। ইন্টেল ভার্সনের বিপরীতে ভালোভাবে কাজ করে না।

এই কয়েকটি ল্যাপটপের উপর চোখ বুলিয়ে নেওয়া খুব সহজ, যেখানে  শিক্ষার ক্ষেত্রে উপযোগী সাধ্যের মধ্যে অনেক ল্যাপটপ কম্পিউটার এবং নোটবুক আছে । যেগুলোর বেশির ভাগই হালকা ওজনের, টেকশই এবং পার্স কিংবা ব্যাকপ্যাকে সহজে বহনযোগ্য। এগুলোর সবগুলোরই অপারেটিং সিস্টেমের সম-সাময়িক ভার্সন রয়েছে এবং ওয়্যারলেস (তারবিহীন) এবং হার্ডওয়্যার ইন্টারনেট সংযোগের সাথে ভালোভাবে কাজ করতে পারবে।

নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments