২০১৫ সালের ৫ টি সাশ্রয়ী ডিএসএলআর ক্যামেরা

Share

অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ডিএসএলআর কিনতে গেলে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে এর দাম। কিন্তু, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর দাম অনেক কমে গেছে, এবং আপনি বর্তমানে দারুণ সব এন্ট্রি লেভেল ডিএসএলআর পাবেন যা কিনতে খুব বেশী খরচ হবে না। আপনি যদি ডিএসএলআর ফটোগ্রাফির রোমাঞ্চকর জগতে প্রবেশ করতে চান তবে ২০১৫ সালের সাশ্রয়ী ৫ টি ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনতে আপনার জন্য এই সহায়িকা।

১. নিকন ডি৫২০০

বাজারে সাশ্রয়ী অনেক ডিএসএলআর পাবেন কিন্তু এদের কোনটিই নিকন ডি৫২০০ এর চেয়ে ভালো নয়। এটি নিকনের সেরা এন্ট্রি লেভেল ডিএসএলআর। চমৎকার উচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবি তোলার জন্য এতে রয়েছে ২৪ মেগাপিক্সেল। ডি ৫২০০-এর চমৎকার সব ফিচারের মধ্যে রয়েছে তিন ইঞ্চি এলসিডি স্ক্রিন যা বিভিন্ন দিক থেকে দেখতে সহায়তা করবে। এবং অন্যান্য ডিএসএলআর-এর চেয়ে এর আকার ছোট, যা সহজেই চলার পথে ছবি তুলতে সহায়তা করবে। ডি৫২০০ দিয়ে ১০৮০ সম্পুর্ণ এইচডি ভিডিও ধারণ করা সম্ভব, এবং নতুনদের জন্য এটি সহজে ব্যবহারযোগ্য ডিএসএলআরগুলোর একটি।

২. সনি আলফা এসএলটি-এ৬৫

বিশ্বে ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সনি অগ্রগামী, যার ফলে এর চমৎকার সব ডিএসএলআর ক্যামেরা দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বাজারে এর অনেক ধরনের মডেল পাওয়া যায় এবং আলফা এসএলটি-এ৬৫ বর্তমান বাজারে স্বল্প মুল্যের ক্যামেরাগুলোর মধ্যে সেরা। আপনি যদি বেশী মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা চান তবে আলফা এসএলটি-এ৬৫-এর চাইতে ভালো আর কিছু পাবেন না। এর দুর্দান্ত ২৪ মেগাপিক্সেলের সাহায্যে উচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবি তোলা যাবে। এই ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারে ২.৪ মিলিয়ন ডট রয়েছে, এবং তিন ইঞ্চি এলসিডি স্ক্রিনে ৯২১,৬০০ ডট রয়েছে। এটি দিয়ে এইচডি ভিডিও ধারণ করা সম্ভব এবং এটি বিরতিহীনভাবে সেকেন্ডে ১০ টি পর্যন্ত ফ্রেমের ছবি তুলতে পারে।

৩. ক্যানন ইয়স ৬০ডি

যে সকল প্রতিষ্ঠান সর্বপ্রথম ডিএসএলআর ক্যামেরা বাজারে নিয়ে আসে তাদের মধ্যে ক্যানন অন্যতম যা দিয়ে পেশাদার মানের ছবি তোলা সম্ভব এবং এর সব ধরনের বাজেটের জন্য ক্যামেরা তৈরি করার একটি সুনাম রয়েছে। ক্যানন ইয়স ৬০ডি বর্তমান বাজারে স্বল্পমূল্যের ক্যামেরাগুলোর একটি। এতে ১,০৪০,০০০ ডট সম্পন্ন চমৎকার তিন ইঞ্চি এলসিডি ডিসপ্লে রয়েছে যা দিয়ে আপনি ছবি তোলার সময় রিভিউ করতে পারবেন। ক্যামেরাটিতে ১৮ মেগাপিক্সেলের এবং উচ্চ শাটার স্পিডে অসাধারণ সব ছবি তোলার জন্য এটি সুপরিচিত। আপনি যদি ভিডিও ধারণ করতে চান তবে ইয়স ৬০ডি দিয়ে ১০৮০পি এইচডি ভিডিও ধারণ করতে পারবেন। এর উচ্চমানসম্পন্ন এক্সটারনাল মাইক্রোফোন চমৎকার শব্দ ধারণ করতে পারে।

৪. অলিম্পাস পেন ই-পিএল৫

যারা প্রথম ডিএসএলআর ক্যামেরা ব্যবহার করবেন, তাদের জন্য পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরা থেকে ডিএসএলআর-এর রাজ্যে পা রাখার জন্য এই ক্যামেরাটি আদর্শ। অলিম্পাস পেন ই-পিএল৫-এ ২৩ টি ভিন্ন ভিন্ন সিন-সিলেক্ট মোড রয়েছে যা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চমৎকার সব ছবি তুলতে পারবেন। এটি দিয়ে এইচডি ভিডিও ধারণ করা সম্ভব। এটি অন্যান্য ডিএসএলআর-এর চাইতে হালকা, তাই যারা ঘোরাঘুরি পছন্দ করেন তাদের জন্য পেন ই-পিএল৫ আদর্শ ডিএসএলআর। এটি অনেক মজবুত ক্যামেরা, অর্থাৎ আপনি যদি পুরনো ব্যবহার করা ডিএসএলআর কিনতে চান তবে অলিম্পাস পেন ই-পিএল৫ কিনতে পারেন।

৫. নিকন ডি৯০

নিকন সারা বিশ্বে অনেকদিন ধরেই সেরা ক্যামেরা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম, এবং পুরনো ফিল্ম পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিবর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেরা। তাদের অসংখ্য চমৎকার ডিএসএলআর ক্যামেরা রয়েছে, এবং নিকন ডি৯০ এদের এন্ট্রি লেভেল মডেলগুলোর একটি। নিকন ডি৯০ ক্যামেরাটিতে সেলফ-ক্লিনিং সেন্সর রয়েছে, যা এর সেন্সরের ওপর ধুলো জমলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পনের মাধ্যমে পরিষ্কার করে ফেলে। ছবি তোলার পাশাপাশি এটি দিয়ে ভিডিও ধারণ করা যাবে। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৪.৩ টি করে ফ্রেম তুলতে সক্ষম। ডি৯০-এর রেজ্যুলেশন ১২.৩ মেগাপিক্সেল এবং এতে একটি তিন ইঞ্চি এলসিডি স্ক্রিন রয়েছে যাতে ৯২০,০০০ কালার ডট রয়েছে। যারা স্বল্পমুল্যে মানসম্পন্ন ক্যামেরা কিনতে চান তাদের জন্য নিকন একটি চমৎকার পছন্দ।

আপনি যদি একবার ফটোগ্রাফির প্রতি আসক্ত হয়ে যান তবে আপনি বুঝতে পারবেন যে পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরা দিয়ে আপনি প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে পারবেন না। যদিও আপনি পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরা দিয়ে সাধারণ ছবি তোলার কাজটি সেরে ফেলেতে পারবেন, কিন্তু ভালো ছবি পেতে হলে আপনাকে সত্যিই ভাগ্যবান হতে হবে। আপনি যদি আপনার ফটোগ্রাফির উন্নতি করতে চান তবে আপনাকে ডিএসএলআর ক্যামেরার পেছনে অর্থ ব্যয় করতে হবে। আপনি ডিএসএলআর দিয়ে ছবি তোলা আয়ত্ত করতে পারলে আপনার ফটোগ্রাফির দ্রুত উন্নতি হবে।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments