২০১৫ নতুন চাকুরি, নতুন আপনি

Share

আপনার জীবনকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে এবং নতুন নতুন লক্ষ্য স্থির করতে নতুন বছর হতে পারে উত্তম সময়। এটি আপনার পেশাজীবনের লক্ষ্যগুলো পুনর্মূল্যায়ন করার এবং ভবিষ্যতে আপনি নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান তা ঠিক করারও উপযুক্ত সময়। আপনি যদি বেশ কিছুদিন ধরেই আপনার পেশাগতজীবনে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করে থাকেন তবে আপনার কাঙ্খিত চাকুরিটি পেতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর জন্য নতুন বছরটিকে কাজে লাগাতে পারেন। সেই কাজটি সঠিক উপায়ে শুরু করার জন্য এই নিবন্ধে আপনি কিছু পরামর্শ পাবেন।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন বছর শুরু করুন

অতীতে আপনার পেশাজীবন নিয়ে অসন্তুষ্টি কিংবা চাকুরি সন্ধানে ব্যর্থতা সত্ত্বেও আপনার উচিত নতুন আশায় উজ্জীবিত হয়ে নতুন বছর শুরু করা। সম্ভ্যাব্য চাকুরিদাতাদেরকে খুশি করার মত যা কিছু যোগ্যতা আপনার রয়েছে তার উপরই মনোনিবেশ করুন। সত্যিই যখন চাকুরির জন্য সাক্ষাৎকার দিতে যাবেন তখন বুঝতে পারবেন যে, আশাবাদ ধরে রাখার গুরুত্ব কতখানি। কারণ নিয়োগদাতা কর্তৃপক্ষ এমনসব লোকজনকেই খোঁজেন যারা আত্মবিশ্বাসী এবং উজ্জীবিত। আপনি যদি আপনার ইতিবাচক যোগ্যতাসমূহের উপর মনোযোগ দেন তাহলে আপনার ভেতর থেকে এই বৈশিষ্টগুলো প্রকাশিত হবে।

আপনার সত্যিকারের যোগ্যতাগুলো খুঁজে বের করুন এবং কাঙ্খিত চাকুরির সাথে সেগুলো কীভাবে সম্পর্কিত তা ভেবে দেখুন

উপরে যেমনটি বলা হয়েছে, নতুন বছরের প্রারম্ভ হলো আপনার নিজের সম্পর্কে এবং জীবনে আপনার অবস্থান সম্পর্কে ভেবে দেখার মোক্ষম সময়। বিগত বছরগুলো জুড়ে আপনি যা কিছু পেশাগত দক্ষতা ও শিক্ষা অর্জন করেছেন সে সম্পর্কেও আপনাকে পুনরায় ভেবে দেখতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আপনার কাঙ্খিত চাকুরিটি পাওয়ার জন্য তা যথেষ্ট কি-না। যখন শুন্যপদের জন্য খোঁজাখুঁজি করবেন তখন নিজেকে চাকুরির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত যোগ্যতার স্তরে উন্নীত করে নেবেন। এটি অন্য প্রার্থীদের সাপেক্ষে আপনার স্বতন্ত্র অবস্থানকে ফুটিয়ে তুলতে এবং প্রতিযোগিতার বাজারে আপনাকে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করবে।

আপনার সর্বশেষ চাকুরির অনুসন্ধানটি কেন ব্যর্থ হয়েছিল তা যাচাই করে দেখুন

গত বছর আপনি যদি একান্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আপনার সেই স্বপ্নের চাকুরিটি পেতে ব্যর্থ হয়ে থাকেন তবে তার কারণ খুঁজে বের করুন। একই ভুল বারবার করলে আপনার পক্ষে সফল হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। আপনার আগের চাকুরি অনুসন্ধানগুলো যদি শুধুই অনলাইনে কিছু আবেদনপত্র পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে, তাহলে এবার আপনার উচিত হবে চাকুরিদাতাদের সাথে সশরীরে সাক্ষাতের চেষ্টা করার মাধ্যমে তাদেরকে আপনার আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা দেয়া।

আপনার এলাকার ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সাথে একটি নিবিড় গড়ে তোলার জন্য আপনার উচিত গুরুত্বসহকারে চেষ্টা করা। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি বাংলাদেশে চাকুরির সন্ধান করে থাকেন, তাহলে স্থানীয় কিছু পেশাজীবি সংগঠন অথবা ব্যবসায়ী গোষ্ঠির সাথে যোগদান করুন। আপনি যে নির্দিষ্ট ধরনের একটি চাকুরি খুঁজছেন সে কথাটি বিভিন্ন ব্যবসায়িক আলোচনা অনুষ্ঠান ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সকলকে জানিয়ে দিন। খুব সম্ভবত, আপনার যোগাযোগের পরিসর বাড়ানোর মাধ্যমে আপনি এমন একজন চাকুরিদাতাকে খুঁজে পেতে পারেন যিনি হয়ত আপনাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকে পাঠাবেন।

আপনার দক্ষতাগুলো ঘষামাজা প্রয়োজন আছে কি-না তা ভেবে দেখুন

আপনি যদি আপনার স্বপ্নের চাকুরির জন্য দরকারি যোগ্যতাগুলোর যাচাই বাছাই শেষ করে থাকেন এবং সেগুলো যদি আপনার সাথে না মেলে, তবে আপনার দক্ষতা উন্নয়নের কথা ভাবুন। সেক্ষেত্রে, আপনি আপনার পেশা সংশ্লিষ্ট কোনো সার্টিফিকেট ক্লাস অথবা স্বল্পমেয়াদি ট্রেনিং কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারেন। প্রয়োজন হলে, চাকুরির বাজারে নিজেকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলতে দরকারি ডিগ্রী অর্জনের জন্য আপনি নতুন করে পড়াশুনা আরম্ভ করতে পারেন। অতীতে আপনি যদি প্রধানতঃ হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত চাকুরি করে থাকেন এবং বর্তমানে কোনো অর্থ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চাকুরির সন্ধানে লিপ্ত থেকে থাকেন, তাহলে এই ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ডিগ্রী আপনার দায়বদ্ধতা এবং নতুন নতুন বিষয় আয়ত্ব করার সামর্থকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রমাণ করবে।

উপযুক্ত চাকুরির সন্ধান করুন

আপনার চাকুরির অনুসন্ধানটি অর্থবহ হচ্ছে কি-না তা নিশ্চিত করুন। আপনি যদি আপনার জীবনের বেশিরভাগ সময় পর্যটন এবং অতিথি পরিষেবা সংক্রান্ত কাজে ব্যয় করে থাকেন, তবে সেটি বাদ দিয়ে বিপণন সংক্রান্ত কোনো চাকুরির সন্ধান করা আপনার পক্ষে উচিত হবে না। আপতঃদৃষ্টিতে আকর্ষণীয় মনে হওয়ায় বা বেশি বেতন পাওয়া যাবে বলে ঝোঁকের মাথায় যেখানে সেখানে চাকুরিতে ঢুকে পড়বেন না, বরং এমন কোনো কিছুর খোঁজ করুন যেটিতে আপনি সত্যিই খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন। আপনি যদি আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে সম্ভাবনাময় চাকুরির চাহিদামাফিক উন্নীত করতে পারেন, তবে আপনি দেখবেন যে, আপনি অনেক জায়গা থেকে সাড়া পাচ্ছেন।

সাক্ষাৎকারের জন্য নিখুঁতভাবে তৈরি হোন

সম্ভবতঃ আপনি ইতোমধ্যেই জেনে থাকবেন যে, আপনার চাকুরি অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারের সময় আপনার নিজের সম্পর্কে বাজে ধারণা প্রদান করলে চলবে না। সাক্ষাৎকারের নির্ধারিত তারিখের আগেই নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে এবং চাকুরিটির জন্য দরকারি যোগ্যতাসমূহ সম্পর্কে ব্যাপক খোঁজখবর নিন। সাক্ষাৎকারে সাধারণতঃ যেসব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়ে থাকে সেগুলোর উত্তর তৈরি ও মুখস্ত করে নিন যাতে করে আপনি ফলপ্রসূভাবে সেগুলোর জবাব দিতে পারেন। নিয়োগদাতাকে জিজ্ঞেস করার জন্য কিছু প্রশ্নও তৈরি করে নিন যাতে করে বোঝাতে পারেন যে, আপনি জানতে উৎসুক এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানী বা সংস্থাটি সম্পর্কে সত্যিই আগ্রহী।

সাক্ষাৎকার পরবর্তীকালে আবার যোগাযোগ করুন

সাক্ষাৎকার দিয়ে আসার পরে, পদটির জন্য আপনার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করতে নিয়োগদাতার সাথে আরও একবার যোগাযোগ করা বাঞ্ছনীয়। সাধারণ একটি ধন্যবাদজ্ঞাপক বার্তার মাধ্যমে এটি করা যেতে পারে অথবা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গিয়েছে কি-না তা জানতে সেখানকার জনবল শাখায় ফোন করা যেতে পারে। নিয়োগদাতাগণ স্ব-উদ্যোগী চাকুরিপ্রার্থীদেরকে পছন্দ করেন এবং আপনার নাছোড়বান্দা মনোভাবটি তাদেরকে আপনার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।

ধৈর্যশীল এবং ইতিবাচক থাকুন

প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, ধৈর্য বড় গুণ। আপনার পেশাজীবনকে নতুনভাবে গড়ে নেয়ার ক্ষেত্রে একথাটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য। উপরে বর্ণিত ধাপগুলো অনুসরণ করা সহজ কাজ নয়। আপনার লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে আপনাকে সবসময় ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করার ব্যাপারটি স্মরণ রাখতে হবে। ঢাকায় চাকুরির আবেদন করার ক্ষেত্রেও আপনাকে ধৈর্যশীল হতে হবে এবং সঠিক সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments