বেতনের দিক থেকে এদেশের সেরা ১০ টি চাকরি

Share

চাকরির বাজারে উত্থান পতন থাকবে এবং এটাই স্বাভাবিক। বিশ্ব অর্থনীতিতে পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র স্তরে, এমনকি চাকরিজীবী এবং চাকরি প্রার্থীর জীবনেও পরিবর্তন আসে।

বিভিন্ন বাজারে অনেকগুলো বিষয় চাকরির প্রাপ্যতায় প্রভাব ফেলে। চাহিদা ও যোগান একটি বড় বিষয়। প্রযুক্তির অগ্রগতির কারনে অনেক পদ আজ বিলুপ্ত। সৌভাগ্যবশত, ভোক্তার নতুন নতুন চাহিদার ফলে নতুন নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এই পোস্টটিতে ঢাকা ও দেশের অন্যত্র বর্তমানে ট্রেন্ডিং ১০ টি চাকরির ব্যাপারে আলোচনা করা হবে; এবং www.SalaryExplorer.com-এর মতে, এসব চাকরি করে সর্বোচ্চ আয় সম্ভব। আপনার যদি কম্পিউটারের ব্যাপারে প্রবল আগ্রহ থাকে, ব্যবসা ভালো বোঝেন, বা নিজ বাড়ীর আরাদায়ক পরিবেশে কাজ করতে চান (যদি আপনার বাসায় একটি কম্পিউটার এবং নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ থাকে) তবে আপনি নিন্মে উল্লেখিত পেশার দিকে নজর দেবেন, কেননা ২০১৫ সালে এগুলোর চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে।

হিসাবরক্ষণের চাকরি

১. ডাটা এন্ট্রি অ্যাসিস্ট্যান্ট

জেপিয়ার (Zapier) এবং ইফ দিস দেন দ্যাট (আইএফটিটিটি) (If This Then That (IFTTT)) হচ্ছে এমন দু’টি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন যা এই মিলেনিয়ামের শুরুতে ডাটা এন্ট্রি অ্যাসিস্ট্যান্টরা যে ধরনের কাজ করতো সেই কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে ফেলে। কম্পিউটার কিভাবে মানুষের জায়গা দখল করেছে এবং তাঁদের কাজ করে দিচ্ছে তার আরেকটি উদাহরণ এটি।

যদিও ডাটা এন্ট্রি অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজ আর ঠিক আগের মতো নেই কিন্তু তারপরও এই ক্ষেত্রে লোকের প্রয়োজন রয়েছে। আপনি যদি এই ধরনের পেশায় আগ্রহী হন, তবে আপনি আপনার সংস্থার ব্যবসায় এই দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবেন যা তার ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবস্থাপনায় কাজে আসবে। সেটিকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে, আপনি তাঁদের সাথে ক্লাউড কম্পিউটিং টুলস নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন যা তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করতে সহায়তা করবে।

আপনার বেতনের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা:

৯০,০০০ বাংলাদেশী টাকা।

২. হিসাবরক্ষক

ডাটা এন্ট্রি অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো একজন ভালো হিসাবরক্ষককে জানতে হবে বাজেট ব্যবস্থাপনার জন্য কী করে বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন এবং সফটওয়্যার যেমন, এক্সেল, কুইকবুকস, এবং Mint.com ব্যবহার করতে হয়।

আপনার বেতনের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা:

৯০,০০০ বাংলাদেশী টাকা।

ফিন্যান্সের চাকরি

৩. ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট

ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। সরকারি এজেন্সি বা কর্পোরেশনের মতো ব্যাংকও ঠিকাদার নিয়োগ করবে। অর্থাৎ, ব্যাংকে কোনো খালি পদ না থাকার মানে এই নয় যে ব্যাংকে কাজ করার আর অন্য কোনো উপায় নেই।

বিভিন্ন ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্টের চাকরির কাজ অনেকটা স্ট্রাটেজিস্টসদের মতো। ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট সবসময় মার্কেট ট্রেন্ড, অর্থনৈতিক তথ্য গবেষণা, এবং কম্পিউটার মডেল তৈরি করে, যা জটিল সংখ্যা তত্ত্বের বিষয়গুলোকে সহজ করে তোলে এবং তাঁদের চাকরির এটি একটি দিক।

আপনার বেতনের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা:

১৪০,০০০ বাংলাদেশী টাকা।

৪. ট্রেডার

সেল-সাইড, বাই-সাইড, এবং হেজ ফান্ড ট্রেডিং এই কাজগুলো খুব প্রচলিত। আশ্চর্যজনকভাবে, এই ধরনের কাজে প্রবেশ করতে এম বি এ না থাকলেও চলবে।

ফিন্যান্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রিতে ট্রেডিংয়ের জন্য লোকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ট্রেডার হিসেবে দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পোর্টফোলিও ম্যানেজার, সিকিউরিটিজ ক্রয় বিক্রয় অথবা সত্ত্ব ও পণ্য নিয়ে কাজ।

আপনার বেতনের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা:

১৪০,০০০ বাংলাদেশী টাকা।

মার্কেটিংয়ের চাকরি

৫. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কেটিং, ইন্টারনেট ও সাধারণ মার্কেটিং-এর একটি উপসেট। ব্যবসা আজকাল তার ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ইতোমধ্যেই অনলাইনে চলে এসেছে যেখানে ভোক্তারা আগে থেকেই রয়েছেন। যেহেতু বিলিয়ন বিলিয়ন সক্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী রয়েছে, তাই সারা বিশ্বের প্রচুর মানুষ এই বাজারে ঢুকে পড়েছে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যেমন, ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস এবং ইউটিউবে তাঁদের পরিচিতি বাড়াতে বিভিন্ন পরিষেবার প্রদান করছে।

আপনি যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত হয়ে থাকেন, বিশেষ করে কোনো একটি সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে সক্রিয় হন, তবে সেটি কাজে লাগাতে পারেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপনন পরিষেবা প্রদান করতে পারেন। আপনি সরাসরি কাজের জন্য আবেদন করতে পারেন, ফ্রিল্যান্সার হিসেবে চুক্তি করতে পারেন বা নিজস্ব একটি ব্যবসা দাড় করাতে পারেন। আপনি যদি একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারেন তবে আপনি আরও বেশী সুবিধা পাবেন।

আপনার বেতনের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা:

৫০,০০০ বাংলাদেশী টাকা।

৬. ব্লগার

আপনি যদি সৃজনশীল না হন বা আপনার যদি সুযোগের অভাব থাকে তবে আপনি ভিন্নধর্মী কিছু করতে পারেন এবং নিজস্ব একটি ব্লগ খুলতে পারেন। হাজার হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ইতোমধ্যেই সেটি করেছেন। আপনি নিজস্ব ওয়েবসাইট চালালে অনেক স্বাধীনতা পাবেন। আপনি বিজ্ঞাপন দিয়ে, বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপনের জায়গা রেখে, স্পন্সরড পোস্ট লিখে, এবং আপনাকে পি পি সি রাজস্বের একটি অংশ দেবে এমন সব ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দিয়ে উপার্জন করতে পারেন।

আপনার বেতনের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা:

৬৫,০০০ বাংলাদেশী টাকা।

৭. এসইও কনসালটেন্ট

সোশ্যাল মার্কেটিংয়ের মতো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অনলাইনে ব্যবসার আরেকটি উপায়। এসইও দক্ষতা আরও বেশী প্রযুক্তিনির্ভর কিন্তু আপনার যদি কোডিং, প্রোগ্রামিং বা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের জ্ঞান থাকে তবে আপনি এই ক্ষেত্রটিতে ভালো করবেন।

আপনার বেতনের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা:

১২০,০০০ বাংলাদেশী টাকা।

৮. মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার

এই ক্ষেত্রের একটি অংশ মোবাইল-বান্ধব ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ সম্পর্কিত। অন্য অংশটি কোনো বিশেষ কাজের জন্য একমাত্র অ্যাপ নিয়ে কাজ করে। উভয় ক্ষেত্রেই, মোবাইল ও স্মার্টফোন প্রযুক্তির উত্তরোত্তর বিকাশের কারনে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপাররা তাঁদের টেকনিক্যাল ডিজাইনের দক্ষতা কাজে লাগানোর অনেক সুযোগ পাচ্ছেন।

আপনার বেতনের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা:

১২০,০০০ বাংলাদেশী টাকা।

অন্যান্য চাকরি

৯. ভার্চ্যুয়াল বা এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট

অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায় প্রায়ই দুর্গম এলাকা থেকে অনেক ধরনের কাজ করার জন্য ভার্চ্যুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট দরকার হয়। ভার্চ্যুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট কী করবে তা অনেক সময় বলা কঠিন, কিন্তু অধিকাংশ সময়ই তাঁদের ওপরে উল্লেখিত বিভিন্ন কাজ করতে হবে। এরকম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচুর কাজ রয়েছে যা কয়েক সেন্ট থেকে কয়েক ডলারের হতে পারে এবং যা করতে হয়তো কয়েক সেকেন্ড সময় লাগবে।

আপনার বেতনের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা:

৯০,০০০ বাংলাদেশী টাকা।

১০. সাংগঠনিক উন্নয়ন ব্যবস্থাপক

এটি সেরকম একটি পদ যেখানে আপনার একাধিক ভাষা জানা থাকলে কাজে আসবে। মাঝারি থেকে বড় কর্পোরেশনগুলোতে, বিশেষ করে, এমন লোকের প্রয়োজন যিনি অর্গানাইজেশনাল ডাইনামিক্স ভালো বুঝবেন এবং ক্লায়েন্টের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবেন।

এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই বাড়ীতে ব্যবস্থাপনার কাজ দেবে, কিন্তু অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানসমূহ- ঠিকাদারদের কাছে কাজ আউটসোর্স করে দেবে বা বিভিন্ন হায়ারিং সাইট যেমন, ফ্লেক্সজব, আলপাইন অ্যাক্সেস, অ্যারাইজ ভার্চ্যুয়াল সল্যুশন এর মতো সাইটগুলো থেকে কাজ করিয়ে নেবে।

আপনার বেতনের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা:

২৪২,৫০০ বাংলাদেশী টাকা।

এদেশে কাজ খুঁজে পাওয়ার জন্য সর্বশেষ পরামর্শ

আপনার পছন্দের ক্ষেত্রে কাজ পেতে আপনি ইন্ডিড, সিমপ্লি হায়ার্ড, ইল্যান্স, ওডেস্ক, মাইক্রো ওয়ার্কার্স, এবং ক্রেইগস লিস্টের মতো ওয়েবসাইটগুলো খুঁজে দেখতে পারেন।

আপনি আপনার পরিষেবা ফিভার (Fiverr) এবং এসইও ক্লার্কস (SEOClerks)-এ পোস্ট করতে পারেন। আপনি যদি স্পন্সর করা ব্লগ পোস্টের সুবিধা পেতে চান তবে পোস্ট জয়েন্ট (PostJoint) আরেকটি চমৎকার সাইট যেটি দেখতে পারেন।

আপনি বেতনভোগী চাকরি বা আত্মকর্মসংস্থান যেখানেই নিযুক্ত হন না কেনো, আপনাকে কোনো এক জায়গা থেকে শুরু করতে হবে এবং সেখান থেকে দ্রুত রোজগারের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

বাংলাদেশে বসবাস করলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে অবারিত সুযোগ! আপনার চাকরির সন্ধানের জন্য রইলো শুভকামনা।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments