২০১৯ এর বহুল প্রতীক্ষিত স্মার্ট গ্যাজেট

২০১৯ এর স্মার্ট গ্যাজেট
Share

আপনি কি টেকপ্রেমী? যদি তাই হন, তবে অবশ্যই আপনি জানেন একটি টেক পণ্য ক্রয়ের আগে কিভাবে জানাশোনার কিংবা রিসার্চের কাজটা সেরে নিতে হয়। আর যদি বাজারের সেরা টেক পণ্যটির দিকেই আপনার নজর থাকে, তবে অবশ্যই আপনার পকেট থেকে বিরাট অংক বের করার জন্য প্রস্তুত থাকুন। তবে কথায় আছে, শখের তোলার দাম নাকি লাখ টাকা!

আজকের দিনের জনপ্রিয় গ্যাজেটগুলো এই দশকের উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফসল। সময়টা এমন চলছে যেখানে কোন টেক পণ্য অথবা গ্যাজেটের আগের ভার্সনটির সাথে ব্যবহারকারীরা খাপ খাইয়ে নেয়ার আগেই বাজারে এসে পড়ে নতুন একটি ভার্সন। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, ক্রয়ের জন্য কোনটি সেরা সেটা কীভাবে বিবেচনা করবেন? আজকের আর্টিকেলটিতে আলোচনা করা হবে ২০১৯ এর বহুল প্রতীক্ষিত টেক গ্যাজেটগুলোর মধ্য থেকে বিভিন্ন মডেলের স্পেসিফিকেশন, পছন্দ ও অপছন্দের দিকগুলো নিয়ে। সেরা টিভি থেকে শুরু করে সেরা ফোন, সেরা ক্যামেরা থেকে সেরা হেডফোন, কোনটি হবে আপনার কষ্টার্জিত টাকায় কেনা সেরা পণ্য তা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

 

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯+

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯+

বৃহদায়তনের স্ক্রিন সাইজ ও দারুণ রেজ্যুলেশনের ক্যামেরার দিয়ে এ বছরের সেরা ফোনটি গ্রাহকদের কাছে নিয়ে এসেছে স্যামসাং।

টেক জায়ান্ট স্যামসাং তাদের গ্যালাক্সির এস৯ সিরিজের ফোনের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে অন্যান্য ব্র্যান্ডদের চেয়ে আলাদা একটা স্থান করে নিয়েছে। এর ড্যুয়েল ১২ এমপি ক্যামেরাটি আলাদাভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। ফোনটির বিস্তৃত ক্যামেরা অ্যাপারেচার, ছবির মান, এমনকি অল্প আলোতে ক্যামেরার ছবি তোলার ক্ষমতা একে বাজারের অন্য ফোন থেকে এগিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। ইনফিনিট ডিসপ্লে, বড় ও আকর্ষণীয় স্ক্রিন একে খুব দ্রুতই ভোক্তাপ্রিয় করছে।

চলুন দেখে আসা যাক স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯ প্লাস এর স্পেসিফিকেশনগুলো কী কীঃ

ফোনটির স্পেসিফিকেশন
            ওজনঃ ১৮৯ গ্রাম

          ডাইমেনশনঃ ১৫৮.১ x ৭৩.৮ x ৮.৫ মিমি

          ওএসঃ অ্যানড্রয়েড ৮

          স্ক্রিন সাইজঃ ৬.২ ইঞ্চি

          রেজ্যুলেশনঃ ১৪৪০ x ২৯৬০

          সিপিইউঃ স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫/ এক্সিনোস ৯৮১০

          র‍্যামঃ ৬জিবি

          স্টোরেজঃ ৬৪ জিবি/১২৮জিবি

          ব্যাটারিঃ ৩,৫০০ এমএএইচ

          রেয়ার ক্যামেরাঃ ডুয়েল ১২ এমপি

          ফ্রন্ট ক্যামেরাঃ ৮ এমপি

 

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         অল্প ও কম আলোতে ক্যামেরাটির লো লাইট পারফর্মেন্স
  •         প্রিমিয়াম ম্যাটেরিয়াল ও ডিজাইন

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         এআর ইমোজি মুডটি ফোনটির অন্যতম ওভাররেটেড ফিচার
  •         স্পেসিফিকেশনের দিক দিয়ে অনেকটা এস৮ প্লাস সিরিজের কাছাকাছি।

উল্লেখিত নানান কারণে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯ প্লাস ফোনটিকে ২০১৯ এর সেরা ফোন ঘোষণা করা যেতেই পারে। লো লাইট ক্যামেরায় দারুণ সব ছবি তোলার অভিজ্ঞতা সহ আরো নানান নতুন ফিচারস ফোনটিকে নিঃসন্দেহে বর্তমান বাজারের অন্যতম সেরা ফোন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

তবে সর্বশেষ বাজারে আসা সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত স্যামসাং এস১০ মডেলটিও অল্প সময়ে তার ফিচারের ঝলকে গ্রাহকদেরকে আকৃষ্ট করছে।

২০১৯ এর সেরা ল্যাপটপ

হুয়াওয়ে মেটবুক এক্স প্রো

হুয়াওয়ে মেটবুক এক্স প্রো

আমাদের রেটিং এ ২০১৯ এর সেরা ল্যাপটপ এটিই।

হুয়াওয়ে মেটবুক এক্স প্রো-তে রয়েছে আকর্ষণীয় ডিজাইন ও মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে স্ক্রিন। এই ল্যাপটপটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে বাজারের সর্বশেষ আধুনিক সব যন্ত্রাংশ ও উপাদান। দীর্ঘতম ব্যাটারি স্থিতি, ও সাশ্রয়ী মূল্যের কারনে এটিকে ব্যবহারকারীদের জন্য বর্তমান বাজারের সেরা প্যাকেজ হিসেবে তৈরি করেছে। ল্যাপটপটিতে আরো নানান ফিচার রয়েছে, যেগুলোয় আকৃষ্ট হয়ে আপনি এটিকে আপনার অফিসের ও বাসার কাজের সঙ্গী করতে পারেন।

চলুন দেখে নেয়া যাক ল্যাপটপটির বৃত্তান্তঃ

ল্যাপটপটির স্পেসিফিকেশন
  ·         সিপিইউঃ ৮ম জেনারেশন ইনটেল কোর আই৫-আই৭

·         গ্রাফিক্সঃ ইনটেল ইউএইচডি গ্রাফিক্স ৬২০, এনভিডিয়া জিফোর্স এমএক্স১৫০ ২জিবি জিডিডিআর৫

·         র‍্যামঃ ৮জিবি-১৬জিবি

·         স্ক্রিনঃ ১৩.৯ ইঞ্চি ৩কে (৩,০০০ x ২,০৪০)

·         স্টোরেজঃ ৫১২ জিবি এসএসডি

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         অসাধারণ ডিজাইন যার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে
  •         মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে স্ক্রিন

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         দরকারী এসডি স্লট থাকলেও এর কোন বাড়তি উপকার নেই
  •         ওয়েবক্যামটি বড় হলেও গুণগত মানে অতটা এগিয়ে নেই

হুয়াওয়ে মেটবুক এক্স প্রো বর্তমান বাজারে অর্থের বিপরীতে নিঃসন্দেহে সেরা ক্রয়। আপনি এই মেশিনের কর্মক্ষমতা বছরের পর বছর ভোগ করতে পারবেন। ল্যাপটপের জগতে হুয়াওয়ে নতুন হলেও এই মডেলটি দিয়ে ব্র্যান্ডটি নানা গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে শুরু করছে।

২০১৯ এর সেরা টিভি

স্যামসাং কিউ৯এফএন কিউ এলইডি (২০১৮)

স্যামসাং কিউ৯এফএন কিউ এলইডি (২০১৮)

টিভির জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত বাজারে আসা সকল টিভির মধ্যে কী এটিই সেরা? 

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপভোগ করুন স্যামসাং কিউ৯এফএন কিউ এলইডি এর ৬৫ ইঞ্চি জায়ান্ট স্ক্রিনে। বৃষ্টি বিশ্বকাপের ম্যাচকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতেই পারে, কিন্তু এই অসাধারণ ডিসপ্লেতে এই টিভির উপভোগ্যতা কিছুতেই কমবেনা।

এ বছরের শুরুটা স্যামসাং এর জন্য তেমন ভালো না হলেও ২০১৮ তে এই ব্র্যান্ডটি রয়েছিলো টিভি বিক্রিতে সেরা ফর্মে। স্যামসাং এর এই উল্লেখিত মডেলটি এখন পর্যন্ত ব্র্যান্ডটির সকল টিভি মডেলের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও রঙ্গিন। এই প্রশংসা অনেকটা নতুন আবিষ্কৃত ডিসপ্লে সিস্টেম এফএএলডি প্যানেলেরই প্রাপ্য। ফুল অ্যারে লোকাল ডিমিং (এফএএলডি) সঙ্গে কিউএলইডি কোয়ান্টাম ডটস টিভির ডিসপ্লেকে করেছে আরো জীবন্ত।

এখন দেখে আসা যাক টিভিতে কী ধরণের টেকনোলোজি ব্যবহৃত হয়েছেঃ

টিভিটির স্পেসিফিকেশন
  ·         স্যামসাং কিউই৬৫কিউ৯এফএন

·         ৬৫-ইঞ্চি টিভি

·         ফুল অ্যারে লোকাল ডিমিং

·         এইচডিআর১০+

·         কিউ এইচডিআর এলিট ম্যাক্স

·         কিউএলইডি কোয়ান্টাম ডটস

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         দৃষ্টি আকর্ষক পিকচার কোয়ালিটি যা তৈরি করেছে এইচডিআর ভিউ
  •         শক্তিশালী ও সাররাউন্ডেড সাউন্ড সিস্টেম

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         সীমিত দেখার অ্যাঙ্গেল
  •         স্যামসাং এর ২০১৯ এ বের হওয়া অন্যান্য মডেলগুলোর সঙ্গে ফিচারস নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা

এসব উল্লেখিত ফিচারস ও স্পেসিফিকেশন দ্বারা দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্টরা কি এই মডেলটিকে বাজারের সেরা হিসেবে আশা করতে পারে? হয়তোবা, তবে সামনের দিনে প্রযুক্তিগত বিকাশের দিকে স্যামসাং যে প্রথম কাতারে থাকবে তা সহজেই অনুমেয়।

২০১৯ এর সেরা গেমিং সিস্টেম

পিএস৪ প্রো

পিএস৪ প্রো

যারা ফোরকে টিভিতে গেম খেলেন, তারা সনির পিএস৪ মডেল থেকে পিএস৪ প্রো মডেলে একটি বড় ধরণের পার্থক্য পাবেন। অবশ্যই এই পার্থক্যটি ভালোর দিকে। উচ্চমানের টেকনোলোজি অন্তর্ভূক্ত করার ফলে নতুন এ মডেলটি ফোরকে এবং এইচডিআর সাপোর্ট করে। ফ্রেম রেট ও প্রসেসিং স্পিডে উন্নতিসাধনের মাধ্যমে এটি ব্যবহারকারীকে দেয় একটি দারুণ গেমিং অভিজ্ঞতা।

পিএস৫ মুক্তির আগেই দেখে নেয়া যাক পিএস৪ প্রো তে কী কী ছিলোঃ

গেম কনসোলটির স্পেসিফিকেশন
  ·         ডাইমেনশনঃ ২৯.৫ ডব্লিউ x ৩২.৭ এল x ৫.৫ এইচ সিএম

·         জিপিইউঃ ৪.২০ টিএফএলওপিএস, এএমডি রেডিয়ন ভিত্তিক গ্রাফিক্স ইঞ্জিন

·         র‍্যামঃ ৮ জিবি জিডিডিআরএস, ১ জিবি ডিডিআর৩

·         ম্যাক্স রেজ্যুলেশনঃ ৩৮৪০ x ২১৬০

·         ম্যাক্সিমাম কন্ট্রোলারঃ ৪

·         স্টোরেজঃ ১টিবি

·  কমিউনিকেশনঃ ইউএসবি ৩.১, এইচডিএমআই ২.০এ, ইথারনেট, অপটিকাল অডিও ও প্লে-ষ্টেশন ক্যামেরা পোর্টস, ডুয়েল ব্যান্ড ৮০২.১১এসি ওয়্যারলেস, ব্লুটুথ ৪.০

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         সনির প্রথম গেমিং কনসোল যেটি ফোরকে এইচডিআর সাপোর্ট করে
  •         ১ টিবি হার্ড ড্রাইভ

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         ফোরকে ব্লুরে প্লেয়ার মিস করবেন এতে
  •         এর প্রো মুডটি ইউনিভার্সেলি সাপোর্টেড নয়

সনি প্লেষ্টেশন ও মাইক্রোসফট এক্স বক্স এর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সেরা হার্ডওয়ার, গেমিং অভিজ্ঞতা ও অনলাইনের সেরা অফারগুলোর কারণে সনি প্লেষ্টেশনকেই সেরা বলা চলে।

২০১৯ এর সেরা ফিটনেস ট্রাকার

মুভ নাউ

মুভ নাউ

‘নো স্ক্রিন ওয়ান্ডার’ শব্দটির সার্থক উদাহরণ ২০১৯ সালের মুভ নাউ ফিটনেস ট্র্যাকার। এ বছরটিতে সেরা ডিসপ্লে, বড় স্ক্রিনের ফোন ও টিভি নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন ডিসপ্লে ছাড়া মুভ নাউ ফিটনেস ট্র্যাকার বাজারে এলো অনেকটা রীতিবিরুদ্ধ রূপে। একটি ফিটনেস ট্র্যাকারের যা যা থাকা প্রয়োজন সেগুলোর সঙ্গে সঙ্গে সাশ্রয়ী মূল্য ও ৬ ঘন্টা ব্যাটারি স্থিতি নিয়ে এটি এখন বাজারে।

ফিটনেস ট্র্যাকারটির ফিচার
  ·         স্ক্রিনঃ নেই

·         হার্ট রেট ট্রাকার নেই

·         পানিরোধকঃ হ্যা

·         অ্যাক্টিভিটি ট্রাকিংঃ আছে

·         জিপিএসঃ হ্যা, ফোনের মাধ্যমে

·         ব্যাটারি লাইফঃ ছয় মাস

·         কম্পেটিবিলিটিঃ অ্যান্ড্রয়েড/আইওএস

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         বিস্ময়কর ব্যাটারি স্থিতি
  •         সুলভ মূল্য

 

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         অন্যান্য ফিচারের অপ্রতুলতা
  •         এটির আলাদা স্ক্রিন না থাকায় সিঙ্ক করা ফোনের উপর নির্ভরশীলতা

জিপিএস ট্র্যাকিং ও স্ক্রিন না থাকা স্বত্বে বাজারে সবার থেকে আলাদা মুভ নাউ। তবে আপনার হাঁটা চলার ৬ মাসের স্টেপগুলোর ট্র্যাকিং, ঘুমানোর প্যাটার্ন, দৌড়ানোর স্টাইল, সামগ্রিক ফিটনেস ও নানাকিছুর মাধ্যমে এটি হয়ে উঠেছে ব্যবহারকারীদের প্রিয় পছন্দ। আরও দেখে নিন চলতি বছরের সেরা স্মার্টফোন এক্সেসরিজের ট্রেন্ড

২০১৯ এর সেরা ক্যামেরা

নাইকন জেড৬

নাইকন জেড৬

আধুনিক আউটলুক ও ব্যবহারের সুবিধাকে সমন্বয়ে রেখে ব্যবহারকারীদের জন্য বাজারে এসেছে নাইকন জেড৬। ডিএসএলআর ব্যবহারকারী নতুন ফটোগ্রাফারদের প্রধানতম সমস্যা ঘোলা ছবি তুলে ফেলা! তবে এই ক্যামেরাটির ২৭৩ পয়েন্ট অটোফোকাস সিস্টেম, ১২ এফপিএস বার্ষ্ট মুড আপনাকে ছবি ঘোলা হওয়া থেকে বাঁচাবে ও ছবিকে করবে ঝকঝকে ও প্রাণবন্ত।

এটির কার্যকরী ডিজাইন ও শেপ আপনাকে ছবি তোলার সময় হাতের দারুণ একটি কন্ট্রোল দেবে। আপনি যদি নিকনের ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন, তবে আপনার কেনা সমস্ত লেন্সই সাধারন এফজেডটি অ্যাডাপ্টর দিয়ে ব্যবহার করা যাবে।

চলুন দেখে নেয়া যাক এই ক্যামেরার ফিচারসগুলোঃ

ক্যামেরাটির ফিচার
  ·         সেন্সরঃ ফুল ফ্রেম সিমস

·         রেজ্যুলেশনঃ ২৪.৫এমপি

·         অটোফোকাসঃ ২৭৩-পয়েন্ট এএফ

·         স্ক্রিন টাইপঃ ৩.০-ইঞ্চি টিলট অ্যাঙ্গেল টাচস্ক্রিন, ২,১০০কে ডটস

·         ম্যাক্সিমাম কন্টিনিউয়াস শ্যুটিং স্পিডঃ ১২এফপিএস

·         মুভিসঃ ৪কে, ৩০পি

·         ইউজার লেভেলঃ নব্য আগ্রহী অথবা এক্সপার্ট

 

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         ব্যবহারকারীর জন্য সহজ ইউজার এক্সপেরিয়েন্স
  •         যেকোনো শটের জন্য দারুণ ইমেজ কোয়ালিটি

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         সীমিত বাফার ডেপথ
  •         সীমিত এক্সকিউডি সাপোর্ট

ফিচার, পারফরম্যান্স ও মূল্যে নিকনের এই মডেলটি বাকিসব ব্র্যান্ড থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। এর ২৪.৫ এমপি সেন্সর ব্যবহারকারীকে দেবে সেরা ও শার্প ইমেজ কোয়ালিটি। সুতরাং আপনি নব্য আগ্রহী কিংবা এক্সপার্ট ফটোগ্রাফার যাই হোননা কেন, আপনার পছন্দের তালিকায় নাইকন জেড৬ কে নিঃসন্দেহে রাখতে পারেন।

 

২০১৯ এর সেরা ট্যাবলেট

আইপ্যাড প্রো ১১ (২০১৮)

আইপ্যাড প্রো ১১ (২০১৮)

যদি আপনার কাছে বাজেটের কোন সীমাবদ্ধতা না থেকে থাকে, তবে ২০১৮ এ বাজারে মুক্তিপ্রাপ্ত আইপ্যাড প্রো ১১ ই হবে আপনার কেনা বাজারের সেরা ট্যাবলেট। এতে রয়েছে ১ এর ভেতর ২, মানে আইপ্যাডের পাশাপাশি এতে ফোলিও কিবোর্ড কেস লাগানোর মাধ্যমে মেটাতে পারবেন ল্যাপটপের প্রয়োজনগুলো।

আগের মডেলগুলো সমস্যা ও অসুবিধাগুলো দূর করে এটি বাজারে মুক্তি পেয়েছে অনেকটা ত্রুটিমুক্ত হয়ে। আইওএস ১২ এর মাধ্যমে আপনি এই ট্যাবলেটে উপভোগ করতে পারবেন ল্যাপটপের ফিচারগুলোও।

আইপ্যাড প্রো ১১ এর স্পেসিফিকেশন
  ·         ওজনঃ ৪৬৮ গ্রাম

·         ডাইমেনশনঃ ২৪৭.৬ x ১৭৮.৫ x ৫.৯ এমএম

·         ওএসঃ আইওএস ১২

·         স্ক্রিন সাইজঃ ১১-ইঞ্চি

·         রেজ্যুলেশনঃ ২৩৮৮ x ১৬৬৮ পিএক্সেলস

·         সিপিএইঃ এ১২এক্স বায়োনিক

·         স্টোরেজঃ ৬৪ জিবি/২৫৬ জিবি/৫১২ জিবি/ ১ টিবি

·         মাইক্রো এসডি স্লটঃ নেই

·         ব্যাটারীঃ ৭,৮১২ এমএএইচ

·         রেয়ার ক্যামেরাঃ ১২ এমপি

·         ফ্রন্ট ক্যামেরাঃ ৭ এমপি

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         পেন্সিলটি ম্যাগনেটিকভাবেই এর গায়ে লেগে থাকে
  •         বাজারের অন্যান্য ট্যাবলেটের তুলনায় দারুন ব্যাটারি স্থিতি

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         অপারেটং সিস্টেম হিসেবে আইওএস বরাবরই ব্যবহারকারীদের কাছে বাড়াবাড়ি রকমের নিয়ন্ত্রিত
  •         অন্যান্য অ্যাপেল এক্সেসরিজের মত এর পেন্সিল ও কিবোর্ডও বেশ দামী

এই ট্যাবলেটে আপনি হেডফোন জ্যাকের অনুপস্থিতিবোধ করবেন, যেমনটি অ্যাপেলের নতুন ডিভাইসগুলিতে ব্যবহারকারীরা অনুভব করে থাকেন। তবে বর্তমানে ট্যাবলেট হিসেবে এটিই বাজারের অন্যতম সেরা! যদিও আপনি এতে ১ এর ভেতর ২ এর অনুভূতি পাবেন, তবে কিছুতেই এটি ম্যাকবুক প্রো কিংবা একটি পূর্ণাঙ্গ ল্যাপটপের পুরোপুরি প্রয়োজনকে মেটাতে পারবেননা।

২০১৯ এর সেরা স্মার্টওয়াচ

স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ

স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ

অ্যাপেল ওয়াচকে টেক্কা দিয়ে টেক জায়ান্ট স্যামসাং এ বছর তৈরি করেছে স্পোর্টি স্মার্টওয়াচ স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ। টানা ৪ দিনেরও বেশী ব্যাটারির স্থিতির মাধ্যমে এটি হয়েছে আরো ক্রেতাপ্রিয়।

এটতে ব্যবহৃত হয়েছে স্যামসাং এর নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম “টাইজেন”। চলুন এর স্পেসিফিকেশনগুলো দেখে নেয়া যাক।

 

স্মার্টওয়াচটির স্পেসিফিকেশন
  ·         ওএসঃ টাইজেন ওএস

·         কম্পেটিবিলিটিঃ অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস

·         ডিসপ্লেঃ ১.২” অথবা ১.৩“ ৩৬০ x ৩৬০ সুপার অ্যামোলেড

·         প্রসেসরঃ ডুয়েল কোর ১.১৫ গিগাহার্টজ

·         ব্যান্ড সাইজঃ ২২ মিমি অথবা ২০ মিমি

·         অনবোর্ড স্টোরেজঃ ৪ জিবি

·         ব্যাটারির স্থিতিঃ ৪ দিন ৪৬ মিমি/ ৪২ মিমিতে এর চেয়ে কম

·         চার্জিং মেথডঃ ওয়্যারলেস

·         আইপি রেটিংঃ ৫০ এম

·         কানেক্টিভিটিঃ ওয়াই ফাই, ব্লুটুথ

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         দারুণ ব্যাটারি স্থিতি
  •         কার্যকরী রোটেটিং বেজেল

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         বিরক্তিকর চার্জার ও চার্জিং সিস্টেম
  •         স্যামসাং এর কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ‘বিক্সবি’ এখনও সিরি, অ্যালেক্সার পর্যায়ে আসতে পারেনি

টাইজেন ওএস হওয়ার দরুন এই স্মার্টওয়াচটিতে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে বাজারের অন্যান্য স্মার্টওয়াচের সঙ্গে পাল্লায় কোন অংশে পিছিয়ে নেই এই স্মার্টওয়াচটি।

২০১৯ এর সেরা ভিআর হেড গিয়ার

এইচটিসি ভাইভ

এইচটিসি ভাইভ

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেড গিয়ারে ২০১৯ সালে নিঃসন্দেহে বিজয়ী এইচটিসি ভাইভ। এর কন্ট্রোলগুলো খুব সহজবোধ্য ও রেজ্যুলেশন এর মান অসাধারণ। এটি ব্যবহারের সময় আপনি অবিশ্বাস্য ১০৮০পি স্ক্রিন উপভোগ করতে পারবেন। অসাধারন এই গ্যাজেটটির মাধ্যমে ভিআর এর সেরা ভিডিও কাজগুলো হয়ে উঠবে আরও উপভোগ্য।

অকুলাস ভিআর সিরিজের হেড গিয়ারের সঙ্গে পাল্লায় নামা এইচটিভি ভাইভে কি আছে চলুন দেখে নেইঃ

ভিআর হেডসেটটির ছবি স্পেসিফিকেশন
  ·         স্ক্রিন রেজ্যুলেশনঃ ২১৬০ x ১২০০

·         কম্পেটিবিলিটিঃ উইন্ডোজ

·         ফিল্ড অব ভিউঃ ১১০ ডিগ্রি

·         প্লে স্পেসঃ ১৩ x ১৩ ফিট

·         কন্ট্রোলারসঃ যুক্ত

·         ওজনঃ ৪৭০ গ্রাম

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         সামগ্রিকভাবে ভিআর গেমিং এর অভিজ্ঞতা অসাধারণ
  •         বিখ্যাত কোম্পানি ভাল্ভ এর সঙ্গে পার্টনারশিপ এইচটিসি ভাইভ এ যোগ করেছে দারুণ সব সফটওয়ার অপশন

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         এটির জন্য অনেক উচ্চমানের গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) এর দরকার
  •         অন্যান্যদের তুলনায় এটি অনেক দামী

আর্টিকেলে উল্লেখিত অনান্য গ্যাজেটগুলোর মত এটিও একটি প্রিমিয়াম মূল্যের প্রোডাক্ট। যখন আপনি বাজারের সেরাটা খুঁজবেন, তখন দেখা যাবে দামের সঙ্গে পণ্যের মানও উপর অথবা নিচে পরিবর্তিত হয়। তবে প্রথম প্রজন্মের বাজারের সেরা ভিআর হেডসেট যে এইচটিসি ভাইভ তা আর আলাদা করে বলে দিতে হয়না।

২০১৯ এর সেরা হেডফোন

সনি ডব্লিউএইচ-১০০০এক্সএম৩

সনি ডব্লিউএইচ-১০০০এক্সএম৩

২ বছরেরও বেশী সময় ধরে বহুজাতিক কোম্পানি সনি সেরা নয়েস ক্যান্সেলিং হেডফোন তৈরি করে আসছে। এ বছরেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সর্বশেষ মডেল ডব্লিউএইচ-১০০০এক্সএম২ তে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা এ বছরের মডেলটি মুক্তি দিয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো এউএসবি সি টাইপ চার্জিং।

এসবের দ্বারা নতুন মডেলটি আগেরটির চেয়ে কিছুটা কার্যকরী ও উন্নত হয়েছে। নতুন এই মডেলটিতে যা আছে তা হলোঃ

হেডফোনটির ডিজাইন
  ·         অ্যাকুয়েষ্টিক ডিজাইনঃ ক্লোজড

·         ওজনঃ ৮.৯৯ আউন্স

·         কেবল দৈর্ঘ্য” ৩.৯৪ ফিট

·         ফ্রিকোয়েন্সি রেপ্সন্সঃ ৪ গিগাহার্টজ থেকে ৪০ গিগাহার্টজ

·         ড্রাইভারসঃ ৪০ এমএম ডুয়েল লেয়ারড ডায়াফ্রেম

·         ড্রাইভার টাইপঃ ডায়নামিক

·         সেনসিটিভিটিঃ ১০৪.৫ ডিবি

·         ইম্পিডেন্সঃ ৪৭ ওহমস

·         ব্যাটারির স্থিতিঃ ৩০ ঘন্টা

·         ওয়্যারলেস রেঞ্জঃ ৩০ মিটার (৯৮ ফিট)

·         এনএফসিঃ আছে

পছন্দের দিকগুলোঃ

  •         বাজারের সেরা নয়েস ক্যান্সেলেশন
  •         অসাধারন সাউন্ড
  •         ৩০ ঘন্টা ব্যাটারি স্থিতি

অপছন্দের দিকগুলোঃ

  •         আগের বছরের মডেল থেকে সামান্য পরিমানে পরিবর্তন
  •         সাউন্ডের তুলনায় কল কোয়েলিটি ততটা উন্নত নয়

কমদামে আপনি বাজারে গতবছরের উল্লেখিত হেডফোনের মডেলটি পাবেন, কিন্তু ডব্লিউএইচ-১০০০এক্সএম৩ কেনার জন্য আপনাকে গুনতে হবে বাড়তি পয়সা।

শেষকথা

২০১৯ এর স্মার্ট গ্যাজেট নিয়ে তুলনামূলক এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আশা করছি এই আর্টিকেলটি পরবর্তী বড় কোন গ্যাজেট কেনার ক্ষেত্রে অনেকটাই সাহায্যে আসবে।

আপনি কি সত্যিই বাজারের সর্বশেষ, সবচেয়ে সেরা, বহুল প্রতীক্ষিত টেক গ্যাজেট সম্পর্কে জানার জন্য মুখিয়ে থাকেন?

তবে নিয়মিত Bikroy.com ব্লগ এ চোখ রেখে জানুন নতুন সব গ্যাজেট এর ইতিবৃত্ত! এছাড়াও আছে ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি, জবস, প্রপার্টি সহ সমগ্র বাংলাদেশের আরো নানা কিছু, শুধুমাত্র Bikroy.com-এ।

যদি আপনি ভোগ্যপণ্য কেনার জন্য নির্ভরযোগ্য কোন মাধ্যম খুঁজে থাকেন, Bikroy.com রয়েছে আস্থার প্রতীক হিসেবে। আসল ও নির্ভরযোগ্য ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মিলনস্থল তৈরি করার মাধ্যমে Bikroy.com

আমাদের সেরা গ্যাজেটের তালিকাটির সাথে আপনি কি একমত?

অসাধারন সব গ্যাজেটের লিস্ট ঠাসা আর্টিকেলটি নিয়ে আপনার মতামতের কথা জানান কমেন্ট সেকশনে, অথবা জানাতে পারেন আপনার প্রিয় গ্যাজেটটির সম্পর্কেও।

পণ্যের মান এ কোন রকম ছাড় না দিয়ে আসল বিক্রেতার কাছ থেকে সেরা গ্যাজেটটি কিনতে ভিজিট করুন Bikroy.com পোর্টালে।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments

About Md. Altamis Nabil

ডিজিটাল সার্ভিস বিশেষজ্ঞ | লেখক, কলামিস্ট ও স্বাধীন চলচ্চিত্রকার কন্টেন্ট লেখক, বিক্রয়.কম অতিথি লেখক, ভোরের কাগজ ও বাংলানিউজ২৪.কম প্রকাশিত গ্রন্থঃ মহারাজা তোমারে সেলাম (২০১৯)