ফ্যাশন, স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য্য

কেন ন্যাচারাল স্যানিটাইজিং হ্যান্ডওয়াশ হাতের ত্বকের জন্য উপকারী?

সেই ছোট বেলা থেকে টিভির মীনা কার্টুন আমাদের শিখিয়ে আসছে বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার কথা। আর আজ মহামারী করোনার সময়ে এসে মনে হচ্ছে যেন ক্ষণে ক্ষণে টিয়া পাখি মিঠু আমাদের মনে করিয়ে দেয় “ছোট্ট বন্ধু! সাবান দিয়ে হাত ধোও রে!!” কেননা, প্রতিদিন আমরা নিজেদের অজান্তেই নানা রকম জিনিস আর মানুষের সংস্পর্শে চলে আসি। যতই নিজেকে আলাদা করে রাখার চেষ্টা করি না কেন, টাকার মত নিত্য ব্যবহার্য একটা জিনিস থেকেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। তাই, জীবাণুমুক্ত থাকার সর্বোপরি সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে হাত ধোয়া এবং সর্বোপরি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।

নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরী করলে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। অপরিষ্কার অথবা বাইরের যেকোনো কিছু স্পর্শ করার পর হাত ভালো করে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। অ্যালকোহল যুক্ত সাবান কিংবা বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধুতে হবে।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়েও হাত জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব। কিন্তু এটা ব্যবহারের পর কিছু খেতে চাইলে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড অপেক্ষা করে হাত শুকিয়ে নেয়া প্রয়োজন। তাছাড়া স্যানিটাইজার একটি জটিল রাসায়নিক মিশ্রণ, যা অতিরিক্ত ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। আবার এটা কোন দৃশ্যমান কঠিন ময়লা পরিষ্কার করতে পারে না। তাই হাতের কাছে পানি ও সাবান অথবা হ্যান্ডওয়াশ থাকলে সেগুলো দিয়ে ভালো ভাবে হাত ধুয়ে নেয়াটাই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।

কোনটা বেশি নিরাপদ – হ্যান্ডওয়াশ নাকি সাবান

সাবান আর হ্যান্ডওয়াশের কাজ মূলত একই রকম। কিন্তু তারপরও কিছু কিছু দিক থেকে এদের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ কিংবা অ্যালকোহল যুক্ত সাবানের চেয়েও আপনার হাতের সুরক্ষায় কোমল পরশ এনে দেবে সেপনিল এক্সট্রা মাইল্ড হ্যান্ডওয়াশ।

হাতের ত্বকের যত্নে সেপনিল হ্যান্ডওয়াশ

যেসব কারণে সাবানের চেয়েও সেপনিল হ্যান্ডওয়াশ বেশি নিরাপদ, তা নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রতিটি ফোঁটাই নিরাপদঃ

সাধারণ হাত ধোয়ার সাবান প্রতিদিন বহু বার বহু মানুষের হাতে ব্যবহার হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহারের পর হাতের ময়লা বা জীবাণু সাবানের গায়েই লেগে থাকে, আর সেই সাথে সেখান থেকে রয়ে যায় কোভিড-১৯ সহ বিভিন্ন ভয়াবহ রোগের জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা। এই রকম নোংরা সাবান ব্যবহার করে হাত পরিষ্কার হোক বা না হোক, মনের মধ্যে এক রকম সন্দেহ ঠিকই রয়ে যায়।

অন্যদিকে সেপনিল এক্সট্রা মাইল্ড হ্যান্ডওয়াশের মত মানসম্মত হ্যান্ডওয়াশগুলো সম্পূর্ণভাবে মানুষের হাতের স্পর্শ ছাড়াই বোতলজাত করা হয় এবং ব্যবহারের সময়ও বোতলের মধ্যে নিরাপদ থাকে। 

হাতের ত্বকের সুরক্ষাঃ

সাধারণ সাবানে প্রচুর পরিমাণে ক্ষার জাতীয় উপাদান থাকে। করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য এখন স্বাভাবিকের চেয়ে আরো বেশি পরিমাণে ও লম্বা সময় ধরে হাত ধোয়ার প্রয়োজন হয়। আর তার ফলস্বরূপ আমাদের হাত হয়ে পড়ে শুষ্ক আর রুক্ষ। এই সমস্যা থেকে আমাদের হাতকে সুরক্ষা দিতে সেপনিল এক্সট্রা মাইল্ড হ্যান্ডওয়াশে দেয়া হয়েছে গ্লিসারিন। পাশাপাশি এর দারুণ সুন্দর ঘ্রাণ আপনাকে একটা ফ্রেশ আর পরিচ্ছন্ন অনুভব এনে দেবে প্রত্যেক ওয়াশে।

কখন হাত ধুতে হবে

হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে বাজারে সেপনিলের মত উন্নতমানের যেসব লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করাই উত্তম হবে। পাশাপাশি জেনে নিতে হবে কার্যকরভাবে হাত ধোয়া ও জীবাণুমুক্ত করার নিয়মাবলী। এ বিষয়ে পরিবারের ছোটদেরও সচেতন করতে হবে আর লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ওরাও নিয়ম মেনে ঠিকমত হাত পরিষ্কার করে। নিচে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে হাত ধোয়া অত্যাবশ্যকঃ

  • খাবার প্রস্তুত করার আগে এবং পরে,
  • একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার করা জিনিস স্পর্শ বা ব্যবহার করলে,
  • খাওয়ার আগে ও পরে,
  • অসুস্থ কারো কাছে কিছু নিয়ে যাওয়ার আগে এবং পরে,
  • কাটা কিংবা ক্ষতস্থানের চিকিৎসা দেয়ার আগে ও পরে,
  • টয়লেট ব্যবহার করার পর,
  • নবজাতক থেকে শুরু করে ছোট শিশুর কাছে যাওয়া বা তাদের ধরার আগে,
  • বাচ্চাকে খাওয়ানোর আগে, ডায়াপার পরিবর্তন বা মল-মূত্র পরিষ্কারের পর,
  • হাঁচি বা কাশি দেয়ার পর,
  • কোনো পশু বা প্রাণীর খাবার, বর্জ্য বা ওই পশু বা প্রাণীকে ছোঁয়ার পর,
  • পোষা পশু-পাখিকে খাবার দেয়া বা চিকিৎসা করার পর,
  • আবর্জনা নাড়াচাড়া করার পর।

হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম

এখনকার পরিস্থিতিতে বিশেষ করে সঠিক ভাবে দুই হাত ধোয়া খুবই জরুরি। সাবান পানি বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

  • প্রথমে হাত পরিষ্কার উষ্ণ কিংবা ঠাণ্ডা পানিতে ভালো করে ভিজিয়ে নিন।
  • এরপর হাতে সেপনিল এক্সট্রা মাইল্ড হ্যান্ডওয়াশ অথবা কোন বিশেষ জীবাণুনাশক সাবান বা সাধারণ সাবান প্রয়োগ করতে হবে। ফেনা তৈরি করে তা দিয়ে সম্পূর্ণ হাত ঘষতে হবে।
  • হাতের প্রতিটি আঙুল ও তাদের সব পাশে যেন সাবান লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এক হাতের আঙুলের ফাঁকে আরেক হাতের আঙুল ঢুকিয়ে সময় নিয়ে ঘষতে হবে।
  • প্রতিটি নখের চারপাশ আর নিচেও ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে।
  • খেয়াল করে দুই হাতের বুড়ো আঙুল সাবান দিয়ে ঘষতে হবে।
  • দুই হাতের তালু এক করে ঘষতে হবে এবং এক হাতের তালু দিয়ে অন্য হাতের পিঠও সম্পূর্ণ ঘষতে হবে।
  • ঘড়ি, আংটি বা হাতে পরার যেকোনো জিনিস খুলে সেই স্থানের ত্বকও পরিষ্কার করতে হবে।
  • কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে ফেনা তুলে ভালো করে হাত ঘষতে হবে।
  • স্থির পানিতে নয়, বরং সম্ভব হলে কলের চলমান পরিষ্কার পানির ধারায় ভালো করে হাত ধুয়ে সম্পূর্ণ সাবান ছাড়িয়ে নিতে হবে।
  • হাত ধোয়ার পরে তোয়ালে কিংবা রুমাল নয়, বরং ওয়ান টাইম টিস্যু দিয়ে হাত পুরোপুরি শুকিয়ে নিতে হবে। গবেষণায় জানা গেছে যে ভাইরাস ভেজা হাতে ১০০ গুণ বেশি বংশবিস্তার করে। তাছাড়া, একাধিক ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে কিংবা নিজের একই তোয়ালে দিয়েও বারবার হাত শুকানো ঠিক না।
  • হাত শুকানোর টিস্যুটি দিয়েই পানির কল ধরে বন্ধ করতে হবে এবং ওয়াশরুমের দরজার হাতল খুলতে হবে। কেননা, পানির কল ও দরজার হাতলে ভাইরাস থাকতে পারে। এরপর টিস্যুটি ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে।

শেষকথা

যেহেতু আমাদেরকে দিনে বহুবার হাত ধুতে হয়, তাই ত্বকের জন্য কোমল ও মানসম্মত সাবান কিংবা হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা উচিত। আর আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে সেপনিল এক্সট্রা মাইল্ড হ্যান্ডওয়াশ হাতের সুরক্ষার জন্য কতটা কোমল।

আশেপাশে সাবান-পানির ব্যবস্থা না থাকলে ৭০% অ্যালকোহলযুক্ত সেপনিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। তবে সম্ভব হলে হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া সবচেয়ে বেশি উত্তম। আর তাই সবসময় কাছে রাখুন সেপনিল এক্সট্রা মাইল্ড হ্যান্ডওয়াশ। আপনার চাহিদার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন ফ্লেভার এবং সাইজের হ্যান্ডওয়াশ বাজারে নিয়ে এসেছে সেপনিল, আরও জানতে ভিজিট করুন।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close