চাকরির জন্য সিভি তৈরির সঠিক নিয়ম

চাকরির জন্য সিভি
Share

একটি ভালো চাকরি পাওয়ার জন্য কোন কাজটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবার আগে করা জরুরী?

আপনি কি এর সঠিক উত্তরটি জানেন? আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়ত নানা রকম উত্তর ভাববেন, যেমন- ভালো পড়াশোনা কিংবা ট্রেনিং, বা এই ধরণের কিছু একটা বেশি দরকারি। কিন্তু সত্যি বলতে গেলে, আপনার স্বপ্নের চাকরিটি পাওয়ার জন্য সবার আগে আপনাকে সেখানে একটা আবেদন করতে হবে!

একটি চাকরির আবেদন করার সময় আপনার পরিচয় ও প্রতিনিধি হয়ে থাকে শুধুমাত্র একটি ডকুমেন্ট – তা হলো আপনার ‘কারিকুলাম ভিটায়’, যা সংক্ষেপে শুধুমাত্র সিভি নামে পরিচিত।

সিভি হলো এমন একটি শক্তিশালী দলিল, যা কাগজে কলমে আপনার যাবতীয় তথ্য, যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। আমাদের মধ্যে অনেকেই একটি ভালো মানের সিভির গুরুত্ব বুঝতে পারেন না কিংবা অবহেলা করেন। অথচ ইন্টারভিউ এর জন্য প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য নিয়োগকারীরা সর্বপ্রথম এই সিভি দেখেই আবদনকারীদের যাচাই করে থাকেন। শুধুমাত্র যাদের সিভি কিছুটা আকর্ষণীয় আর বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় তারাই ইন্টারভিউ বা পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন!

আজ আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো কীভাবে একটি ভালো সিভি লেখা যায়। এই পরিপূর্ণ গাইডলাইনটি আপনাকে বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বের যেকোন দেশে চাকরির আবেদন করা ও মানসম্মত সিভি লেখার ব্যাপারে সাহায্য করবে। চাকরির ধরণের উপর ভিত্তি করে একাধিক সিভির টেমপ্লেট তৈরি করা ও ব্যবহার করার জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। আরও দেখে নিন  আমাদের সাম্প্রতিক প্রকাশিত ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে ভালো মত প্রস্তুত করার টিপস

সিভি ব্যাপারটা আসলে  কী ও এটি কেমন হয়?

আমরা একটু আগেই সংক্ষিপ্ত ভাবে সিভির গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু এটি আসলে কী?

একটি সিভি (অর্থাৎ কারিকুলাম ভিটায়) হলো এমন একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী দলিল, যা একজন নিয়োগকারীর নজরে একজন চাকরি প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সামগ্রিক মান ইত্যাদির সংক্ষিপ্তসার হিসেবে কাজ করে।

হয়ত অনেকেই বলবেন যে সিভি হচ্ছে এমন একটি পরচা বা লিফলেট যা নিজেকে বিকিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়।

এই কথাটার সাথে আমরা কোন ভাবেই একমত নই!

আমরা বলবো, একটি সিভি হচ্ছে একটি ব্যবসা কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য আপনি যে মূল্যমান প্রতিষ্ঠা করতে পারেন এবং কীভাবে আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা একজন নির্দিষ্ট নিয়োগকারীকে আপনার সার্ভিস থেকে উপকার পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে, সে ব্যাপারে খোলাখুলি কথা বলার একটি প্রফেশনাল সুযোগ।

অতএব, যেসব ক্ষেত্রে আপনি আপনার সেরা পারফর্মেন্স দিতে পারবেন, অর্থাৎ আপনার শক্তির উপর গুরুত্ব আরোপ করাটা একদিকে যেমন জরুরী; অন্যদিকে আপনার দুর্বলতার দিকগুলো তুলে ধরাটাও দরকারী, যাতে তারা বুঝতে পারেন যে কীভাবে আপনি আপনার স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে থাকা যেকোন পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করতে পারবেন।

একটি সিভি সর্বোচ্চ কতটুকু লম্বা করে লেখা সম্ভব? আর অন্তত কতটুকু এতে না লিখলেই নয়!

ইউনাইটেড কিংডম এবং ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা এর মত বেশির ভাগ উন্নত দেশে, একটি আদর্শ সিভির দৈর্ঘ্য সচরাচর ২ পৃষ্ঠার বেশি হয় না। তবে এই দৈর্ঘ্য চাকরির ভূমিকা এবং আবেদনকারীর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কম বেশি হতে পারে। একটি সিভি কতটা ভালো ভাবে লিখা বা সাজানো তার উপর নির্ভর করে সিভির কোন নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য বা আকার নেই।

বাংলাদেশে একটি প্রচলিত সিভির আকার বেশ লম্বা হয়ে থাকে। যখন আপনি বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার আশায় একটি সিভি লেখেন, তখন সেটির আকার অন্তত পক্ষে ২ পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে তার চেয়েও বেশি লম্বা হবে এমনটাই আশা করা হয়। এর কারণ হলো, বাংলাদেশের বেশির ভাগ কোম্পানিগুলোই তাদের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা চাকরি ও কাজের অভিজ্ঞতা, বিস্তারিত পেশাদারী ভূমিকাগুলো ইত্যাদি ব্যাপারে একটি বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেখতে চান।

আপনার সিভিটি লিখার সময় এমন ভাবে সব তথ্য সাজানো দরকার যাতে করে আপনার পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের বিশেষ দিকগুলোর দিকে নিয়োগকারীদের নজর আকৃষ্ট করে আনা যায় সবচেয়ে বেশি। তা না হলে, দ্রুত চোখ বোলানোর সময় নিয়োগকারীদের নজর ঐ নির্দিষ্ট চাকরিটির জন্য আপনার সবচেয়ে উপযুক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো এড়িয়ে যেতে পারে।

সিভি তে কি কি তথ্য ও বিবরণ দিতে হবে?

নিজের সিভি লেখার সময় যেসব সহজ ও বেসিক তথ্য তাতে উল্লেখ করতে হয় সেগুলো অনেকেই মাঝে মাঝে খেয়াল করে লিখতে ভুলে যান।

  • যোগাযোগের বৃত্তান্ত:

আপনার পূর্ণ নাম, বাসার ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার, ইমেইল এড্রেস ও অন্যান্য ইত্যাদি সব রকম ব্যক্তিগত যোগাযোগের বৃত্তান্ত আপনার সিভিতে উল্লেখ করা খুবই দরকারি। তবে, যদি বিশেষ প্রয়োজন না পড়ে, তাহগলে আপনার জন্ম তারিখ কিংবা ফটোগ্রাফ ইত্যাদি সিভিতে না থাকলেও চলে।

  • প্রোফাইল / উদ্দেশ্য:

সিভি পাঠকদের দ্রিষ্টি আকর্ষণ করার জন্য অন্যতম প্রথম ব্যাপার গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এই অংশটি – আপনার প্রোফাইলের সারমর্ম বা উদ্দেশ্যমূলক উক্তি। এই উক্তিতে সাধারণত একটি বিশদ বাক্য বা ছোট ছোট অল্প কিছু বাক্যের সাহায্যে আপনার বেশ কিছু প্রধাণ শিক্ষাগত দখল, দক্ষতা কিংবা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি বিষয় প্রকাশ করা হয়। প্রতিটি এপ্লিকেশনের মধ্যে এই অংশটি যতটা সম্ভব চাকরি সম্পর্কিত ও নির্দিষ্ট রাখা যায় তত ভালো। এটি যেন একঘেয়ে না হয়, বরং ছোট, প্রাণোচ্ছল, স্মার্ট এবং বুদ্ধিদীপ্ত হতে হবে!

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা:

এই অংশে আপনার সম্পূর্ণ শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করতে হয়, যার মধ্যে নানা রকম সার্টিফিকেট, কোর্স, বিশেষ ট্রেনিং প্রোগ্রাম সহ অন্যান্য নানা রকম যোগ্যতা উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়। সব সময় সবার শুরুতে আপনার সর্বশেষ সমাপনী বা গ্র্যাজুয়েশনের কথা লিখতে হয়, আর তার পর থেকে সেই ক্রম অনুযায়ী পেছনের তথ্য গুলো দিতে পারেন।

  • কাজের অভিজ্ঞতা:

ঠিক আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার মতই যাবতীয় কর্ম অভিজ্ঞতাগুলো সময়ের বিপরীত ক্রমানুসারে সাজিয়ে তালিকাবদ্ধ ভাবে প্রকাশ করতে হইয় এই অংশে, এখানেও সর্বশেষ অভিজ্ঞতাটি সর্বপ্রথমে লেখা উচিত। এর মধ্যেই আপনি যদি কোন ট্রেনিং, স্বেচ্ছাসেবা বা ভলান্টিয়ার সার্ভিস এবং ইন্টার্নশিপ ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে থাকেন তবে সেগুলোও উল্লেখ করতে হবে। এক্ষেত্রে মনে করে প্রতিটি চাকরির জন্য আপনার কর্ম ভূমিকা এবং দায়িত্ব-কর্তব্যের পাশাপাশি আগের চাকরিগুলোয় বিশেষ কোন সাফল্য বা অর্জন থাকলে সেটাও উল্লেখ করবেন।

  • দক্ষতা ও কৃতিত্ব:

এটি হলো এমন একটি অতিরিক্ত অনুচ্ছেদ যেখানে আপনার অন্যান্য বিভিন্ন দক্ষতা ও অর্জন, যেমন- একাধিক ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা ইত্যাদি লক্ষণীয় ভাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। নিয়োগকারীরা এসব গুণাগুনকেও প্রাধান্য দেন কেননা এগুলো কর্মক্ষেত্রে আমাদের অনেক কাজে আসে।

  • আগ্রহের দিকগুলো:

সিভিতে আপনার আগ্রহ, রুচি ও পছন্দের কাজগুলো সম্পর্কে কথা বলাটা দৈনন্দিন নানা রকম কাজের সাথে কীভাবে আপনি খাপ খাইয়ে নিতে পারেন সেটি প্রকাশ করার একটা উপায় হতে পারে। পরবর্তীতে এই ধরণের গুণাগুনগুলো কীভাবে আপনার ক্যারিয়ার এবং লক্ষ্যে সাফল্য অর্জন করার জন্য কীভাবে সাহায্য করতে পারে, সেটিও লিখতে পারেন। তবে তাই বলে সাদামাটা যেকোন ধরণের শখ যেমন শপিং মলে ঘুরতে যাওয়া বা মুভি দেখা এসব লেখা থেকে বিরত থাকুন।

  • আপনার বিভিন্ন পেশাদারী সম্পর্ক বা রেফারেন্স:

আপনার বিভিন্ন পেশাদারী সম্পর্ক বা আপনার সম্পর্কে রেফারেন্স দিতে পারবেন এমন ব্যক্তিদের তথ্য দেয়াটা যেকোন সিভির জন্য এক অসামান্য সংযোগ। এখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা রেফারেন্সের তুলনায় পেশাদারী রেফারেন্স ব্যবহার করা বেশি যুক্তিসঙ্গত, কেননা নিয়োগকারীরা এ ধরণের রেফারেন্সকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

আপনার সিভিটির গড়ন ও বিন্যাস

ইতোমধ্যে আপনি জেনে গেছেন যে আপনার সিভিতে কী কী ধরণের তথ্য ও বিবরণ থাকা আবশ্যক। অতএব, এখন আপনাকে জানতে হবে এই সমস্ত তথ্য ও বিবরণ কীভাবে একটি কার্যকরী বিন্যাসে উপস্থাপন করা যায়। পেশাদারী সিভির জন্য এই বিন্যাস ও গড়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এটি আপনাকে নিম্নোক্ত উপায়ে সাহায্য করবে:

  • আপনার পেশাদারী স্বভাব এবং সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি মনোযোগকে তুলে ধরবে।
  • সিভিটি পড়তে এবং যেকোন প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
  • মূল্যবান তথ্য লক্ষণীয় ভাবে চোখে পড়বে এবং সিভিটি দ্রুত চোখ বুলিয়ে নেয়া সহজ হবে।

আপনার সমস্ত তথ্য সংক্ষিপ্ত এবং সহজপাঠ্য আকারে রাখার চেষ্টা করুন, সম্ভব হলে বুলেট পয়েন্ট এবং অনুচ্ছেদ ও প্যারার মাঝে রুচিসম্মত স্পেসিং ব্যবহার করা ভালো। সিভিটি বিন্যস্ত করার সময় সরলতা ও পাঠযোগ্যতার দিকে খেয়াল রাখুন। আপনি যদি একজন ডিজাইনার কিংবা অন্য ধরণের সৃজনশীল কর্মীও হন, তবুও আপনার ডিজাইন বা কাজের প্রোফাইলের থেকে সিভিটি পৃথক রেখে তৈরি করুন।

  • আপনার সিভিটির সফট কপি পাঠানোর সময় প্রত্যেক বার পিডিএফ ফরম্যাট করে পাঠান, যাতে করে আপনার তৈরি করা ডকুমেন্টটি অক্ষত থাকে ও ফন্ট বা ডিজাইনের কোন সমস্যায় না পড়তে হয়।
  • যদি সিভিটি কোথাও ডাকযোগে বা কুরিয়ার করে পাঠান তাহলে খেয়াল রাখবেন যেন সেটি ভালো মানের এ-ফোর কাগজে প্রিন্ট করা হয়। একই পাতার দুই পাশে কখনই প্রিন্ট করবেন না।
  • সব সময় চেষ্টা করুন একটি স্পষ্ট, সহজ এবং সহজ পাঠ্য ফন্ট আদর্শ আকারে ব্যবহার করতে। ফ্যান্সি বাহারি ফন্ট এড়িয়ে চলুন, এবং  পেশাদারি লুক আনার জন্য বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট, যেমন এরিয়াল, তাহোমা এবং ক্যালিবরি ইত্যাদি ব্যবহার করুন।
  • ডিজাইন ও সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ও কটকটে রঙ ও ছবি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

সিভিটি বিন্যাস করার সময় মাঝে মাঝে এটিকে জুম আউট করে বা পুরোটায় চোখ বুলিয়ে খেয়াল করা প্রয়োজন যে সেটির মধ্যে প্রফেশনাল ভাইব কাজ করছে কি না। টেক্সট ও ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য বিশুদ্ধ কালো ও সাদা রঙ-ই শ্রেষ্ঠ। আর অন্য কোন রঙ ব্যবহার করতে হলে শুধুমাত্র হেডার বা অনুচ্ছেদের নামের ক্ষেত্রে ব্যবহার করুন।

এবার চলুন আলাপ করি সিভিতে কী ধরণের ভাষা বা লেখার ধরণ ব্যবহার করা উচিত সে প্রসঙ্গে। “did, had, got, completed,” ইত্যাদির বদলে বিভিন্ন ক্রিয়াশীল শব্দ, যেমন- “created, analyzed and researched” ইত্যাদি ব্যবহার করুন। বার বার ডকুমেন্টটি প্রুফরিড করে বা রিভিশন দিয়ে অবাঞ্ছিত ছোট খাটো ভুল ও গুরুতর বানান কিংবা ব্যাকরণের ভুল এড়িয়ে চলুন। পুঁথিগত বিবরণ যেমন- “punctual, team worker, hard worker” ইত্যাদি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, এবং সম্ভব হলে বাস্তব জীবনের উদাহরণ ও পূর্বের চাকরির অভিজ্ঞতার আলোকে নিজের এই গুনগুলোকে উপস্থাপন করুন।

যেই কোম্পানি থেকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে সেটির সম্পর্কে ভালোভাবে পড়াশোনা করুন এবং কেমন সিভি সেটার জন্য ভালো হবে সেই অনুযায়ী সিভির টেমপ্লেট তৈরি করুন। যদি কোন একটি চাকরির জন্য উত্তম শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় তাহলে সিভিতে আপনার জীবনের সেই দিকটিকে বিশেষ ভাবে হাইলাইট করুন। যদি কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থীর খোঁজ করে, তাহলে আপনার চাকরির অভিজ্ঞতার দিকগুলো সর্বোচ্চ পর্যায়ে হাইলাইট করে সিভি লিখুন।

কখনও, ভুলেও সিভিতে মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না!

যদি আপনার ইন্টারভিউ চলাকালীন সময়ে আপনার সিভিতে লেখা কোন কথার প্রমাণ দিতে বা পারফর্ম করতে একবার ব্যর্থ হন, তাহলে নিয়োগকারীদের নজরে এক নিমেষে আপনার সম্মান ও মূল্য হারিয়ে ফেলবেন।

এতকিছুর পর দিনশেষে, আপনার সিভি তৈরির মূল উদ্দেশ্যটি কী?

যখন আপনি চাকরির আবেদন করার জন্য সিভি লিখেন, তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনার সিভিটি তৈরির পেছনে মূল উদ্দেশ্য কোনটি?

একটি ভালো সিভি তৈরি করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যেন পাঠক এটি পড়ে আপনার সাথে দেখা করতে ও আপনার সম্পর্কে আরো কিছু জানতে উৎসুক হয়ে ওঠেন। কিংবা হয়ত পাঠককে এটুকু প্রমাণ করে দিন যে ঐ নির্দিষ্ট চাকরিটির জন্য আপনিই একজন সেরা প্রার্থী – ব্যাস!

বলতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, করার সময় ব্যাপারটা আর ততটা সহজ থাকে না, তাইনা?

চাকরিটির ভূমিকার জন্য আপনিই যে একজন সঠিক ব্যক্তি, সেটা প্রমাণ করার জন্য নিজের সেরা প্রয়াসটি দিন, এবং ইন্টারভিউ দেয়ার সময় আপনার সিভিতে ফুটে ওঠা সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলুন। এভাবেই আপনার স্বপ্নের চাকরিটি পেয়ে যাওয়ার পথে আপনি পেরিয়ে যাবেন আরো একটি ধাপ!

যদি সিভির সাথে কোন ধরণের কভার লেটার দেয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে আরো একটু খাটুনি করে হলেও সব সময় একটি ভালো কভার লেটার দেয়ার চেষ্টা করুন। এটি আপনাকে চাকরিটির জন্য নিজেকে যথাযথ ভাবে প্রচার করা ও নিজের সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি করার একটা বাড়তি সুযোগ তৈরি করে দেবে। এছাড়াও একটি স্বতন্ত্র কভার লেটার নিয়োগকারীদের প্রভাবিত করবে, কেননা এতে করে আপনার প্রচেষ্টা ও কোম্পানির সম্পর্কে জানা শোনা থাকার ব্যাপারটা তাদের কাছে আরো বেশি করে প্রতীয়মান হয়ে উঠবে।

আপনার ইন্টারভিউয়ের দক্ষতা আরো একটু শাণিত করে নেয়ার জন্য আমাদের আগের প্রতিবেদনটি পড়ে দেখতে পারেন। চাকরি খুঁজছেন? ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে ভালো মত প্রস্তুত করুন

ইতিকথা

আশা করি, একটি ভালো সিভি তৈরি সম্পর্কিত আমাদের এই গাইডলাইনটি আপনাকে বাংলাদেশে চাকরি প্রার্থীদের জন্য ভালো মানের সিভির প্রয়োজনীয়তা ও সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শেখাতে কিংবা মনে করিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিভিন্ন গাইডলাইন, টিপস, কৌশল এবং করনিয় ও বর্জনীয় কাজের তালিকা ইত্যাদি আপনাকে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই না, বরং বিশ্বের যেকোন কোম্পানিতে চাকরির জন্য মানসম্মত সিভি লিখতে সাহায্য করবে।

এই সহজ ও কার্যকরী গাইডলাইনটি মেনে চললে, আপনি এতটুকু নিশ্চিত থাকতে পারবেন যে, একটি ভালো চাকরি পাওয়ার জন্য নিজেকে ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে ভালোভাবে উপস্থাপন করা ও ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য আপনাকে ডাকা হবেই!

আজকাল পরামর্শ ও টিপস  সব জায়গায় বেশ সহজেই পাওয়া যায়, কিন্তু সেরা ফলাফল পাওয়ার জন্য সেই পরামর্শ গুলো আপনাকে নিজে থেকে খাটিয়ে চলতে হবে। অতএব, আজই নিজের জন্য ভালো কিছু সিভির টেমপ্লেট তৈরি করার চেষ্টা করুন এবং পরবর্তী চাকরির আবেদনটি করার জন্য আপনার সেই টেমপ্লেট ব্যবহার করে লিখে ফেলুন ভালো একটি সিভি।

Bikroy.com/Jobs -এ খুঁজে নিন বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি করার সুযোগ, আর আপনার দক্ষতা, জ্ঞান ও ব্যক্তিত্বের দারুণ সমন্বয়ে তৈরি একটি আকর্ষণীয় ও বিশ্বাসযোগ্য সিভি ব্যবহার করে হয়ে উঠুন সবার থেকে আলাদা।

শুধুমাত্র অনলাইন থেকে একটি পুস্তকী ভাবগম্ভীর সিভি টেমপ্লেট নামিয়ে ব্যবহার না করে, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি করুন নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র সিভি। আর সব সময়ই খেয়াল রাখুন যেন সেটি প্রফেশনাল মানের হয়। নিয়োগকারীর অবস্থানে নিজেকে কল্পনা করে দেখুন এবং ভেবে দেখুন যে আপনার তৈরি সিভিটি পড়ার পর একজন প্রার্থীকে আপনি নিয়োগ দিতে আগ্রহী হবেন কি না।

একটি নিরপেক্ষ ও সৎ প্রতিক্রিয়া দিতে পারলে আপনি প্রত্যেক বার আপনার সিভিটিকে আরো বেশি পারফেক্ট করে তুলতে পারবেন। সব সময় চেক এবং রিচেক করার মাধ্যমে আপনার সিভিতে থাকা যেকোন ভুল সনাক্ত করুন এবং নিশ্চিত করুন যেন সেটি পরিচ্ছন্ন, গোছানো এবং আকর্ষণীয় হয়।

আপনার পরবর্তী চাকরির আবেদনটির জন্য রইলো শুভকামনা!

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments