সিএনজি নাকি পেট্রোল, কোনটি ব্যবহার করবেন?

Share

ঢাকা মহানগরী বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিশীল ও ব্যস্ত একটি শহর। এই শহর কখনও কারো জন্য থেমে থাকে না। আসলে ঢাকা শহরের অগ্রগতি আর উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয়। আর একই শর্ত আপনার গাড়ির ক্ষেত্রেও খাটে। গাড়ির ভূমিকা আমাদের জীবনে অনেক বড়, কেননা এটি আমাদের প্রতিটা দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্ভিস দিয়ে যায়। আর একটি গাড়ির দীর্ঘমেয়াদী আয়ু ও ভালো পারফরম্যান্স পাওয়ার জন্য সেটির যান্ত্রিক খুঁটিনাটি ও গোটা স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়াই একমাত্র উপায়। এই মেশিনগুলোকে যদি সময়মত যথাযথ যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, তাহলে আমাদের ঢাকা মহানগরীতে চলাচলকারী মানুষগুলোর জীবন অনেকটাই সহজ হয়ে যেতে পারে। আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য সঠিক গাড়িটি বেছে নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ; আর এ কারণেই এই সিদ্ধান্তটা আপনার বেশ ভালো ভাবে ভেবে চিন্তে নেয়া উচিত। বাংলাদেশের সেরা ও সর্বাধিক বিক্রিত গাড়িগুলো সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে বাংলাদেশের সেরা ৫ সর্বাধিক বিক্রিত গাড়িগুলো শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়ে দেখতে পারেন।

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে, বিশেষ করে মহানগরী ঢাকায় ট্র্যাফিক জ্যামের পরিমাণ বেশ প্রবল ও অসহনীয় আকার ধারণ করেছে। এইভাবে মানুষ তাদের নিজ নিজ গাড়িতে বেশ লম্বা একটা সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। অতএব আজকের যুগের এই ব্যস্ত সময়ে টিকে থাকার জন্য আপনার কিংবা আপনার পরিবারের জন্য সঠিক গাড়িটি খুঁজে বের করা অত্যাবশ্যক। আবার সঠিক গাড়িটি বাছাই করার পর আমাদেরকে এটাও সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে সেটিকে আমরা পেট্রোলে চালাবো নাকি সিএনজিতে।

সিএনজি আসলে কী?

প্রথমত, সিএনজি এবং পেট্রোল দুটোই যানবাহন চালানোর জন্য এক প্রকার শক্তির উৎস বা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সিএনজি, অর্থাৎ কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস হচ্ছে এক প্রকার স্বচ্ছ, গন্ধহীন ও গঠনমূলক জৈব গ্যাস। জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে তৈরি প্রচলিত পেট্রোল বা জ্বালানী তেলের বিপরীতে সিএনজি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি একে পেট্রোলের এক পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে বলতে গেলে সোজা বাংলায় সিএনজি হলো পেট্রোল বা জ্বালানী তেলের এক অনন্য বিকল্প, যা কিনা আমাদের গাড়ি কিংবা অন্যান্য যানবাহনের জন্য শক্তির উৎস হিসেবে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। বাংলাদেশে গাড়িতে সিএনজির ব্যবহার ও প্রয়োগের জনপ্রিয়তা বেশ কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, আর আজকাল ঢাকা শহর এবং দেশের অন্যান্য জায়গার রাস্তায় পেট্রোল কিংবা জ্বালানী তেলচালিত গাড়ি আর তেমনটা লক্ষণীয় ভাবে চোখে পড়ে না। গাড়িতে সিএনজি ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অনেকে প্রায়ই এটা জানতে চান যে কীভাবে এটি পেট্রোলের চেয়ে বেশি সাশ্রয়ী, আর কেনোই বা এটি পেট্রোলের চেয়ে বেশি ভালো বিকল্প হয়ে উঠেছে। এখন যদি তাদের মত আপনার মনেও এই একই প্রশ্ন দানা বেঁধে থাকে, তাহলে আপনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন!

কীভাবে পেট্রোল থেকে সিএনজিতে রূপান্তর করা যায় এবং এতে খরচ কেমন পড়তে পারে?

আমাদের দেশে পেট্রোল চালিত গাড়িকে সিএনজিতে রূপান্তর করিয়ে নেয়া আসলে অনেক সহজ। আপনাকে শুধু একটু কষ্ট করে গাড়িটি একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে যেতে হবে, ব্যস! সেই ওয়ার্কশপ বা গ্যারেজে থাকা কর্মীরা প্রথমে আপনার গাড়িটি পেট্রোল থেকে সিএনজিতে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপাদান ও পার্টস সংগ্রহ করবে, তারপর সেগুলো জুড়ে দেবে। এই পুরোটা কাজ সম্পন্ন করতে খুব একটা বেশি সময় লাগে না, সঠিক পরিমাণে পরিশ্রম দেয়া হলে এই কাজটি মোটামুটি ৫ ঘন্টার মধ্যেই শেষ করে ফেলা সম্ভব। বাংলাদেশে এই কনভার্সন বা রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় আপনার প্রায় ৬০,০০০ টাকার মত খরচ হতে পারে। আপনি কোন জায়গা থেকে রূপান্তরের কাজটি করাচ্ছেন এবং ঐ সময়ে সব কিছুর গড়পড়তা দাম কেমন তার উপর নির্ভর করে আপনার এই খরচের অংক কিছুটা উনিশ-বিশ হতে পারে। আপনার গাড়িতে পেট্রোল ব্যবহারের খরচের সাথে তুলনা করে দেখলে এই খরচটা বেশ কম বলেই মনে হবে। তবে যাই হোক, সঠিক কৌশল ও টিপস ব্যবহার করে চললে যেকোনো জ্বালানীই এমনভাবে ব্যবহার করা সম্ভব, যাতে করে আপনার বেশ কিছু টাকা বেঁচে যেতে পারে। কীভাবে আপনার জ্বালানীর খরচ বাঁচানো যায় সে সম্পর্কে আর ভাল ভাবে জানতে চাইলে আমাদের বাংলাদেশে জ্বালানী খরচ বাঁচানোর উপায় সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি পড়ে দেখতে পারেন।

সিএনজি ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ তাহলে, কীভাবে সিএনজি পেট্রোলের চেয়েও বেশি ভালো?

যদিও আমরা ইতোমধ্যে সিএনজি ব্যবহারের প্রধাণ সুবিধাগুলোর কথা উপরে কিছুটা উল্লেখ করেছি। এখন আমরা খতিয়ে দেখবো কীভাবে এটি আমাদের গাড়ি ও অন্যান্য বাহনের স্বাস্থ্য বা আয়ুষ্কালের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব ফেলে।

  • খরচঃ বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আপনার গাড়িতে পেট্রোলের বদলে সিএনজি ব্যবহার করার খরচ লক্ষণীয় মাত্রায় কম হবে। আর এভাবেই গাড়ি ব্যবহারকারীদের জন্য সিএনজি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত তুলনামূলকভাবে লাভজনক একটি অপশন বলা চলে।
  • নিরাপত্তাঃ আসলে একটি সিএনজি করা গাড়ির তুলনায় পেট্রোল চালিত গাড়ির নিরাপত্তা অনেক বেশি। যদি আপনার গাড়িতে আগে থেকেই বিল্ট-ইন সিএনজি ইঞ্জিন থেকে থাকে তাহলে একটি তৃতীয় পক্ষের লোক দিয়ে পেট্রোল থেকে সিএনজি করানো গাড়ির চেয়ে সিএনজি গাড়িটির নিরাপত্তার লেভেল কিছুটা হলেও বেশি। কিন্তু বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই ব্যাপক হারে তৃতীয় পক্ষের লোকের কাছে যান।
  • পারফরম্যান্সঃ দিনশেষে পেট্রোল চালিত গাড়ির পারফরম্যান্স অবশ্যই সিএনজি চালিত গাড়ির চেয়ে অনেকখানি বেশি হবে। তবুও যদি সিএনজি চালিত গাড়িটির মেন্টেইন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমত করানো হয়, তাহলে হয়ত সেটি একই রকম পারফরম্যান্স দিতে পারে।
  • সুযোগ সুবিধাঃ আপনার ট্যাংকে যদি একটি মোটাসোটা ও ভারী সিএনজি ট্যাংক ফিট করা থাকে, তাহলে আবার পেট্রোল চালিত গাড়ির তুলনায় একটি সিএনজি চালিত গাড়ির সুযোগ সুবিধা পরিষ্কারভাবেই বেশ কম হবে।
  • পরিবেশের উপর প্রভাবঃ আপনি যদি একজন প্রকৃতিপ্রেমী হন ও একটি সবুজ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে থাকেন, তাহলে আপনার জন্যই সিএনজি গাড়ির সৃষ্টি হয়েছে! এটি পেট্রোলের তুলনায় বেশ পরিচ্ছন্ন এবং এই কারণে সিএনজি গাড়ির পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কিন্তু তারপরও সিএনজি ব্যবহারের কারণে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ যেমন বেড়ে যায়, তেমনি পরিবেশে সেই পরিমাণেই তাপ নির্গত হয়ে থাকে।
  • যোগান বা সরবরাহঃ আমাদের দেশে সিএনজি গ্যাসের সরবরাহ তেমন একটা বেশি না। তাছাড়া সিএনজির অত্যধিক ব্যবহারের সাথে সাথে আমাদের রান্নার গ্যাসের সরবরাহও বেশ কমে যায়।
  • রিফিল ওয়েটিং টাইমঃ আমাদের দেশে সিএনজি পাম্পগুলোতে গাড়ির লাইন সব সময়ই অনেক লম্বা হয়। আর সে কারণে বহু সংখ্যক মানুষের জন্য লাইনে দাঁড়ানোটা এক প্রকার সময় নষ্ট বলা চলে।

সিএনজিচালিত নতুন ও অনাগত গাড়ির মডেলগুলো

তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে একটি গাড়িকে পেট্রোল থেকে সিএনজিতে রূপান্তর করার চেয়ে যেসব গাড়িতে আগে থেকেই বিল্ট-ইন সিএনজি ইঞ্জিন থাকে, সেগুলো অনেক বেশি ভালো হয়। আমাদের দেশে বেশ কিছু গাড়ি বাজারে আনা হচ্ছে যেগুলো মাত্রই সিএনজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। আর যারা ২০১৯ সালে একটি গাড়ি কেনার কথা ভাবছেন তাদের জন্য এটি আরও ভালো। এই গাড়িগুলোর মধ্যে ভারতীয় ব্র্যান্ডের যেমন বেশ কিছু গাড়ি রয়েছে, তেমনি নতুন ও উঠতি ব্র্যান্ডগুলোর গাড়িও বাজারে এসে পড়েছে। নিচে এই নতুন গাড়িগুলোর মধ্যে বেশ কিছু গাড়ির মডেল নিচে তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে।

  • মারুতি সুজুকি ওয়াগন আর
  • মারুতি সুজুকি অল্টো কে১০
  • হুন্দাই স্যান্ট্রো
  • হুন্দাই গ্র্যান্ড আই১০
  • মারুতি সুজুকি সেলেরিও
  • টাটা ন্যানো
  • মারুতি সুজুকি আরটিগা সিএনজি
  • হোন্ডা অ্যামেজ

ইতিকথা

নিজের কিংবা পরিবারের জন্য একটি নতুন গাড়ি কেনা কিংবা আপনার গাড়িটিকে রূপান্তর করে নতুন ভাবে চালানোটা বেশ বড় একটি সিদ্ধান্ত। যদি আপনি একটি নতুন গাড়ি কিনতে চান, তাহলে ভিজিট করুন Bikroy.com -এর ওয়েবসাইটটি। কেননা এখানে ক্রেতা ও বিক্রেতারা একই প্ল্যাটফর্মে এসে বেচা-কেনা করেন এবং এর ফলে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেসে পরিণত হয়েছে। 

এগুলোর মধ্যে কিছু গাড়ি ইতোমধ্যে পেট্রোল ইঞ্জিন থেকে সিএনজি-তে ইঞ্জিনে রূপান্তরিত করা রয়েছে। তো আপনার গাড়িতে পেট্রোল ইঞ্জিন নাকি একটি সিএনজি ইঞ্জিন লাগাবেন? সিদ্ধান্ত যেটাই হোক না কেনো, সেটার জন্য আপনাকে জানতে হবে যে আপনার গাড়ির মধ্যে কোন ইঞ্জিন ঠিক কেমন ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি এই ব্যাপারে আপনাকে বেশ ভালো ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছে। যদি আপনি আপনার পরিবারের জন্য একটি নতুন গাড়ি কিনার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে খুঁজে নিন বাংলাদেশে আপনার পরিবারের জন্য সেরা গাড়িটি শীর্ষক আমাদের প্রতিবেদনে আমাদের গাইডলাইনটি পড়ে দেখুন, আপনার সিদ্ধান্ত নেয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি! আর যদি আপনি পরিসংখ্যানের ভক্ত হন এবং বিগত ২০১৮ সালের গাড়ির মার্কেটপ্লেস নিয়ে কিছুটা নিরীক্ষণ করতে চান, কিংবা শুধুমাত্র জানতে চান যে কোনটি জনপ্রিয় আর কোনটি নয়, তাহলে আরো ভালো ধারণা পেতে আমাদের ২০১৮ সালের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের গাড়ির মার্কেট প্রতিবেদনটি একবার পড়ে ফেলুন। কেননা এটি তৈরি করা হয়েছে বাস্তব তথ্য উপাত্ত ও প্রামাণিক ইনফোগ্রাফিক নিয়ে। তাই আর এদিক সেদিক না ঘুরে বাজারের লেটেস্ট সিএনজি গাড়ি ও পেট্রোল গাড়ি খুঁজে পেতে আজই ভিজিট করুন Bikroy.com -এ, আর আজই বাসায় নিয়ে আসুন আপনার নতুন গাড়িটি!

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments