প্রপার্টি

৭ টি উপায় মেনে এবার সহজেই ভাড়া দিন আপনার রুম

আপনার বাসার কিছু রুম বা ঘর কি খালি পরে আছে? বাসার জায়গার উপর নির্ভর করে এই রুমগুলো কিন্তু আপনার বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 

অনেক বাড়িওয়ালাই আছেন যারা তাদের বাসার খালি থাকা রুমগুলো ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে মাসের শেষে একটি ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছেন। যদিও অন্যের কাছে নিজের বাসা বা রুম ভাড়া দেওয়া নিয়ে সংশয় কাজ করতে পারে, তবে আজকের দিনে আমাদের দেশে এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। এতে করে আপনার বাসা সংক্রান্ত যাবতীয় বিল পরিশোধ কিংবা বাড়তি উপার্জন দুটোই সম্ভব। 

তো কীভাবে সমস্ত আইন-কানুন মেনে আপনার রুমের জন্য ভাড়াটে খুঁজে পাওয়া যাবে? নিচে উল্লেখিত কিছু টিপসের মাধ্যমে তা জেনে নিন আর সহজেই দিন রুম ভাড়া। 

ঘর ভাড়া এবং সাবলেটের মধ্যে পার্থক্য

মনে রাখা ভালো, আপনি যখন নিজে ভাড়া নিয়ে থাকছেন, এবং সেই ফ্ল্যাটের-ই কোনো রুম বা ঘর ভাড়া দিতে ইচ্ছুক তখন তা হবে সাবলেট। এক্ষেত্রে আপনাকে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হতে পারে। 

এছাড়াও রুম ভাড়া এবং সাবলেট দেওয়ার জন্য আমাদের দেশে আলাদা আলাদা আইন প্রণয়ন করা আছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো আপনি তখনই মালিক হিসেবে বিবেচিত হবেন যখন আপনি আপনার নিজের ফ্ল্যাটের বা বাড়ির একটি অংশ অন্য কাউকে ভাড়া দিচ্ছেন। 

অপরদিকে, আপনার ভাড়া নেওয়া বাসা বা ফ্ল্যাটের একটি রুম পুনরায় অন্য কারো নিকট ভাড়া দিলে সেই ভাড়াটিয়া আপনার ফ্ল্যাটমেট হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে রুম ভাড়া বা সাবলেট যাই দিতে চান না কেন, ভাড়া দেওয়ার উপায়গুলো অনেকটা একই।  

কীভাবে ঘর ভাড়া দেবেন?

চলুন দেখে নেওয়া যাক সুষ্ঠু উপায়ে রুম ভাড়া দেওয়ার জন্য কার্যকর কিছু উপায়ঃ  

১. ভাড়া দেওয়ার আইন সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে

ঘর ভাড়া দেওয়ার জন্য ঠিক কী কী আইন কানুন মেনে চলতে হবে এই বিষয়ে দ্বিধায় থাকেন অনেকেই। এছাড়াও রুম ভাড়া দেওয়া মানে কোনো একজনকে কিছু টাকার বিনিময়ে নিজের বাসায় বা ঘরে থাকতে দেওয়াই নয়। তাই এ সম্পর্কিত প্রতিটি আইনের ধারার ব্যাপারে জেনে রাখা ভালো। 

দেশের মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে রয়েছে বাড়ি মালিকদের জন্য বিশেষ কিছু দিকনির্দেশনা। এছাড়াও স্থানীয় আবাসন আইন এবং বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কেও থাকতে হবে পর্যাপ্ত জানাশোনা। 

২. ভাড়া দেওয়ার জন্য বরাদ্দ রুম গুছিয়ে রাখুন

হ্যাঁ এটা আপনার নিজস্ব বাসা, কিন্তু যেই মুহূর্তে আপনি অন্য কারো কাছে এটি ভাড়া দিচ্ছেন তখন থেকেই এটা তার ব্যক্তিগত জায়গা বা ঘর। তাই নিশ্চিত করুন, ভাড়া দেওয়া ঘরে লক সিস্টেম বা তালা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এটা আপনার ভাড়াটিয়াকেও নিশ্চিত করবে যে তাদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য  বাড়ির মালিক প্রতিজ্ঞ। পাশাপাশি তারা যখন বাইরে অবস্থান করবে তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও সুরক্ষিত থাকবে। 

এছাড়াও আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে যে, আপনি কি আপনার ঘরটি সম্পূর্ণ ফাঁকা অবস্থায় ভাড়া দিতে ইচ্ছুক যেখানে ভাড়াটে তার নিজস্ব ব্যবহারের সমস্ত আসবাবপত্র ব্যবহার করবে নাকি আপনি নিজেই ঘর সাজিয়ে রাখবেন বা আসবাবপত্র সহ ঘর ভাড়া দিবেন। তবে দুক্ষেত্রেই ভাড়াটের ব্যবহার্য আসবাবপত্র সম্পর্কে জেনে নিতে ভুলবেন না। 

৩. জরুরি সময়ের জন্য কিছু অর্থ আলাদা করে রাখুন

ভাড়া দেওয়ার পরবর্তী সময়ে কী হতে পারে এ সম্পর্কে সহজেই অনুমান করা যায় না। একজন বাড়ি মালিক হিসেবে আপনার ব্যক্তিগত সম্পত্তির যেভাবে খেয়াল রাখতে হবে সে সম্পর্কে আপনি হয়তো ভালোই জানেন, কিন্তু আপনার ভাড়াটের এই ব্যাপারে পর্যাপ্ত জ্ঞান নাও থাকতে পারে। তাই ভাড়া দেওয়ার সময় কিংবা পূর্বে জরুরি সময়ে ব্যবহারের জন্য কিছু টাকা আলাদা ভাবে সরিয়ে রাখা ভালো। 

ভাড়া দেওয়ার ফলস্বরূপ আপনি হয়তো মাস শেষে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাবেন, তবে সেটা কি বাসার বড় কোনো সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত? তাই ইমার্জেন্সি ব্যবহারের জন্য কিছু টাকা রেখে দেওয়া নিঃসন্দেহে আপনাকে ভবিষ্যতে সাহায্য করবে। 

৪. জানতে হবে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পর্কে

অনেকেই চাননা হঠাৎ করে বাজে কোনো পরিস্থিতিতে পড়তে। কিন্তু এরকম একটি পরিস্থিতিতে ভাড়াটে আর বাড়ির মালিককে পড়তে হতেই পারে। যদি কখনো আপনার ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ বা চলে যেতে বলতে হয়, সেক্ষেত্রে করণীয় কী? আমাদের জীবনে যেকোনো মুহূর্তেই পরিবর্তন আসতে পারে। হয়তো আপনার পরিবার বড় হয়েছে বা আপনার পরিবারের কেউ আপনার সাথে বসবাস করতে আগ্রহী কিংবা ভাড়াটে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ব্যর্থ হচ্ছেন। 

তাই একজন ভাড়াটিয়ার ভাড়াটে উচ্ছেদের আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজনীয়। এছাড়াও বাসার মালিক হিসেবে আপনাকেও এই সমস্ত ধারা জানতে হবে, যাতে আপনার সাথে ভাড়াটের সুষ্ঠু সম্পর্ক নিশ্চিত হয়। 

৫. ভাড়াটিয়ার সমস্ত তথ্য যাচাই করে নিন

আপনি নিশ্চয়ই যেকাউকে আপনার রুম ভাড়া দিতে চাইবেন না। তাহলে কীভাবে পাওয়া যাবে মানানসই একজন ভাড়াটে? শুরুতেই নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার ভাড়াটের পূর্ববর্তী কোনো ক্রাইম রেকর্ড আছে কিনা। 

এছাড়াও আপনাকে ভাড়াটের আর্থিক অবস্থার ব্যাপারে বা পেশা সম্পর্কে জানতে হবে যে আদৌ তিনি দীর্ঘদিন বসবাসের ক্ষেত্রে ভাড়া পরিশোধ করতে সমর্থ কিনা। 

৬. সঠিক এবং সাবলীল প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন

এখানে কিছু প্রশ্ন একত্রিত করা হয়েছে, যেসব জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেওয়ার পূর্বেই আপনার সাথে আপনার ভাড়াটের সমঝোতা করতে সাহায্য করবে। চলুন দেখে নেওয়া যাকঃ 

  • আপনি বর্তমানে কোথায় বসবাস করছেন? 
  • কী কারণে আপনি বাসস্থান পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক? 
  • এই বাসা বা রুমে কোন জিনিসটি আপনাকে এখানে থাকতে আগ্রহী করেছে? 
  • আপনি কবে বাসা পরিবর্তন করতে চান? 
  • আপনি কতদিন এখানে থাকতে চান?
  • আপনার বর্তমান পেশা কী ? 
  • আপনার পেশাগত অভিজ্ঞতা কত দিনের? 
  • আপনার বর্তমান আর্থিক অবস্থা কী? 
  • আপনি কি বিবাহিত? 
  • আপনার সাথে আর কে কে থাকতে পারে? 
  • আপনি কি ধূমপান অথবা মদ্যপান করেন? 
  • আপনি কি “ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম” পূরণ করতে ইচ্ছুক? 

বাড়ির মালিক হিসেবে উপরোক্ত প্রতিটি প্রশ্ন করার অধিকার আপনার রয়েছে। এছাড়াও অন্য কোনো ব্যাপারে প্রশ্ন থাকলে তা করে নিতে পারেন। যেমন আপনার ভাড়াটে বিবাহিত কিনা বা বিবাহিত হলে কতজন থাকবেন তারা।  

৭. ভাড়াটিয়ার গোপনীয়তা নিশ্চিত করুন

ভাড়াটে রুমে ওঠার পর থেকে যতদিন আছেন ঠিক ততদিন পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা এবং তাদের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করুন। এতে করে তারা দীর্ঘদিন ধরে আপনার বাসায় বা ঘরে থাকতে আগ্রহী বোধ করবেন। 

তাদের ঘরকে তাদের ব্যক্তিগত জায়গা হিসেবেই দেখার চেষ্টা করুন। ভাড়াটের গোপনীয়তা সম্পর্কিত আইন-কানুন সম্পর্কে জানুন নয়তো পরবর্তী সময়ে আপনি নিজে আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে পারেন। 

রুম ভাড়া সম্পর্কিত তথ্য
ভাড়া দেবার আগে যাচাই করে নিতে হবে অনেক কিছুই

ঘর ভাড়া দেওয়ার কিছু ভালোমন্দ

একজন অজানা বা স্বল্প দিনের পরিচিত ব্যক্তির কাছে আপনার ঘর ভাড়া দেওয়ার কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে। ভাড়া দেওয়ার আগে এগুলো সম্পর্কে জেনে নিন। 

রুম ভাড়া দেওয়ার সুবিধা

রুম ভাড়া দেওয়ার অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো এটা আপনাকে প্রতি মাসের শেষে আর্থিক ভাবে সাহায্য করবে এবং আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাবে। সমস্ত দিক বিবেচনায় ভাড়ার মাধ্যমে আপনি আপনার উপার্জনকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন। 

এছাড়াও আপনি বয়স্ক নাগরিক হলে, একজন ভাড়াটে থাকলে আপনি মানসিক ভাবে নিশ্চিন্ত বোধ করতে পারবেন। বিশ্বাসযোগ্য কেউ পাশে থাকলে মেডিকেল বা অন্যান্য ইমার্জেন্সিতেও সাহায্য পেতে সুবিধা হবে। 

রুম ভাড়া দেওয়ার অসুবিধা

হঠাৎ করে ঘর ভাড়া দিলে নিরাপত্তা জনিত কিছু ব্যাপার থেকে যেতে পারে। অচেনা কারো জন্য ঘর খুলে রাখা আপনার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্যেও অস্বস্তিদায়ক। এছাড়া আপনি চিন্তিত হতে পারেন এই ভেবে যে আপনার ভাড়াটে হয়ত অসামাজিক কাজ করতে পারে ঘরের ভেতর। এসমস্ত চিন্তার প্রশমন ঘটাতে বাসায় লাগিয়ে নিতে পারেন কিছু  নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যা আপনাকে বাসার চারপাশে কি ঘটছে এই ব্যাপারে সচেতন রাখবে। 

সব সময় আপনার পছন্দনুযায়ী ভাড়াটে খুঁজে পাওয়াটাও সম্ভব নয়। যেমন আপনি হয়তো নিরিবিলি জীবনযাপনে অভ্যস্ত বা সন্ধ্যে ৮ টার পরপরই ঘুমোতে যান অপরদিকে আপনার ভাড়াটে রাত জেগে থাকতে অভ্যস্ত, সেক্ষেত্রে বাসা বা ঘর ভাড়া দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত আপনার জন্য কঠিন হতে পারে। 

শেষকথা

বাসা ভাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে ঠিকঠাক ভাড়াটে খুঁজে পাওয়ার জন্য নিঃসন্দেহে আপনাকে কাঠখড় পোহাতে হবে। তবে এই ভোগান্তির শেষ হতে পারে প্রযুক্তির কল্যাণে। অনলাইনে বাসা বা রুমের খোঁজে থাকা হাজার হাজার মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে এখন সহজেই খুঁজে নেওয়া সম্ভব পছন্দসই ভাড়াটে। 

আমরা আশা করি আমাদের আজকের লেখা আপনাকে কিছুটা হলেও আপনার রুমের জন্য মানানসই ভাড়াটে খুঁজে পেতে এগিয়ে রাখবে। 

আপনার জন্য শুভকামনা! 

Facebook Comments
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close