যানবাহন

বাংলাদেশে ব্যবহৃত গাড়ি কেনার নির্দেশিকা

বাংলাদেশে ব্যবহৃত গাড়ি কেনা সাধারণত বেশ সহজ, তবে কিছু জিনিস মনে রাখলে একটি ভালো ডিল এবং প্রচুর অর্থ সাশ্রয় করা যেতে পারে। যেহেতু মনের মতো একটি গাড়ি পেতে আপনাকে কিছুটা খোঁজাখুঁজি এবং দামাদামি করতে হতে পারে সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে একটু ধারণা নিয়ে নেয়া উচিত। আজ আমরা বাংলাদেশে ব্যবহৃত গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ছয়টি টিপস নিয়ে আলোচনা করবো।    

কি ধরণের গাড়ি চাচ্ছেন তা নির্ধারণ করুন 

যেকোনো ধরণের লেনদেনে যাওয়ার আগে অবশ্যই স্থির করুন যে, আপনি কী ধরণের গাড়ি কিনতে  চান। আপনি যদি গাড়িটি পুরো পরিবারের ব্যবহারের জন্য কিনতে চান সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে  বড় গাড়িগুলোর মধ্যে খুঁজতে হবে। অন্যদিকে, আপনি যদি কেবল নিজের জন্য গাড়ি চান, আপনি একটি সেডান গাড়ি বিবেচনা করতে পারেন। আরেকটু গভীরে গেলে, বিক্রেতার সাথে যোগাযোগের পূর্বে আপনাকে গাড়ির একটি নির্দিষ্ট মডেলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, কোন গাড়িটি আপনি বেশি পছন্দ করবেন Corolla নাকি Civic।     

পছন্দের গাড়িটি কোথায় খুঁজবেন

ব্যবহৃত গাড়ি সন্ধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সেরা স্থান হলো Bikroy.com – বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস, আপনার কাজটিকে আরও সহজ করতে সর্বদা প্রস্তুত। আপনি এখানে ব্যবহৃত গাড়িগুলোর সবচেয়ে বেশি সংগ্রহ পাচ্ছেন এবং খুঁজে নিতে পারেন আপনার পছন্দের গাড়িটি। এছাড়াও আপনি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং পেইজ গুলোতেও খুঁজে দেখতে পারেন। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিয়মিত খোঁজ রাখলে আপনি বাংলাদেশের গাড়ির দাম সম্পর্কে ভালো ধারণা অর্জন করতে পারবেন। মনে রাখবেন, আপনি যত বেশি গাড়ি দেখবেন, আপনার পছন্দের গাড়িটি খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি বেড়ে যাবে। আপনি যেই গাড়িটিই পছন্দ করুন না কেন বিক্রেতার সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করুন।    

সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করুন

বিশেষত ব্যবহৃত গাড়ির ক্ষেত্রে এই কাজটি খুবই গুরত্বপূর্ণ। আপনাকে জেনে নিতে হবে গাড়িটি কী অবস্থায় আছে এবং কী ধরণের দাম এর জন্য প্রযোজ্য। আপনার প্রথমে হুডের নিচে নজর দেওয়া উচিত যে তেল বা অন্যান্য তরল পদার্থের ঝরে পড়ার মতো কোনো গুরুতর সমস্যা আছে কিনা। এমনকি কোনো ধরণের অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করছেন কিনা। এরপর সেন্সর, ইলেক্ট্রনিক্স, গিয়ার, দরজা, জানালা, কার্পেট, আসন ইত্যাদি ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করুন। গাড়ির ভেতরটি পরীক্ষা করে নেওয়ার পরে বডির পেইন্ট এর দিকে লক্ষ্য করুন যে কোনো ডেন্ট বা স্ক্র্যাচ আছে কিনা। ইঞ্জিন কন্ডিশন, ইনট্যাক্ট চ্যাসিস কন্ডিশন, গাড়ির দুর্ঘটনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস সম্পর্কে বিক্রেতার কাছে জিজ্ঞাসা করা সবসময়ই ভালো। মনে রাখবেন, পুরাতন গাড়ি বিশেষত গাড়ির সৌন্দর্যে কিছুটা ঘাটতি থাকাটাই স্বাভাবিক তবে মূল টার্গেট হচ্ছে গাড়ির  প্রধান অংশগুলো সঠিকভাবে কাজ করার ব্যাপারে এবং সাথে একটি ভালো একটি ডিল নিশ্চিত করা।  

টেস্ট ড্রাইভ নিন 

যেই মূহর্তে আপনি মনে করবেন যে আপনার পছন্দের গাড়িটি পেয়ে গেছেন, গাড়িটিকে একটি টেস্ট বা পরীক্ষামূলক ড্রাইভে নিয়ে যান। এটি আপনাকে সামনে যেকোনো ধরণের সমস্যা থেকে রেহাই দিবে। বিশেষজ্ঞের মতামত পাওয়ার জন্য সম্ভব হলে আপনি একজন মেকানিককে সাথে নিয়ে আসতে পারেন, যিনি ইঞ্জিনের শব্দ শুনে গাড়িটির অবস্থা বিবেচনা করতে পারবেন। একটি ২০-৩০ মিনিটের টেস্ট ড্রাইভ করার মধ্য দিয়ে আপনি গাড়ির স্পিডোমিটার, ইন্ডিকেটর, ব্রেক, এয়ার কন্ডিশনিং এবং অন্যান্য অংশগুলোর পরীক্ষা করে নিতে পারেন। একটি পরিপূর্ণ টেস্ট ড্রাইভ এর পর যদি আপনার কোনো ধরণের জটিল মেকানিক্যাল সমস্যা অনুভব হয় অবশ্যই তক্ষনাৎ ডিল থেকে সরে আসতে দ্বিধা বোধ করবেন না।  আসলে ব্যবহৃত গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যেকোনো বড় ঝুঁকি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। 

ডকুমেন্ট এবং কাগজপত্র পরীক্ষা করুন

যথাযথ পরিদর্শন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা সত্ত্বেও এটা নিশ্চিত হওয়া বেশ কষ্টসাধ্য যে গাড়িটি চুরির গাড়ি নয়। রেজিস্ট্রেশন পেপার, ট্যাক্স পেপার, বীমার কাগজ, বৈধ ফিটনেস পত্র, বিক্রেতার কাছে থাকা আরও যত বেশি সম্ভব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যাচাই করে নেওয়া জরুরি। রেজিস্ট্রেশন পেপারে গাড়ির সাথে নিবন্ধিত তথ্য যেমন – রেজিস্ট্রেশনের বছর, গাড়ির মডেল বছর, চ্যাসিস নাম্বার ইত্যাদি ক্রস-চেক করুন যা বিগত বছরগুলোতে ট্যাক্স প্রদানের ইতিহাসকে প্রতিফলিত করে। অতীতের বকেয়া অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি আছে কিনা তা যাচাই করুন। বীমা কাগজপত্রগুলো থেকে দেখা যায় যে, গাড়িটি কোনও বীমা কভারেজের আওতায় পড়ে কিনা এবং যদি তাই হয় তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে পূর্বের অর্থ পরিশোধ হয়েছে। এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেননা এর পরেই শুরু হয় দামাদামি এবং আপনি অবশ্যই আপনার জন্য সেরা চুক্তিটি গ্রহণ করতে চাইবেন।

অভিজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় দরকষাকষি করুন

প্রথমত, আপনার ব্যবহৃত গাড়ির সঠিক মূল্য এবং অবস্থা জেনে রাখা উচিত। মালিক যদি বর্তমান বাজার মূল্য থেকে বেশি দাম চেয়ে থাকেন তবে আপনার অনেকটা দামাদামি করা লাগতে পারে। তবে যদি মালিকের দাম ইতিমধ্যে যুক্তিসঙ্গত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনার পছন্দের দামে গাড়িটি নিতে কিছুটা কষ্ট করতে হবে। দরকষাকষি এর ক্ষেত্রে, গাড়ির যদি কোনো ধরণের সমস্যা যেমন- ভাঙা হেডলাইট, স্ক্র্যাচ থাকে তা নির্দেশ করতে পারেন যা আপনাকে মালিকের সাথে দামাদামিতে সাহায্য করবে। গাড়ি সম্পর্কে আপনার যতটা সম্ভব প্রশ্ন করা উচিত। যেই মূর্তেই আপনি আপনার সর্বোচ্চ দামটি বলে ফেলবেন তখন এমনটা করুন যে আপনি লেনদেন থেকে সরে যেতে প্রস্তুত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিক্রেতা যদি মনে করে যে, এতটা দরকষাকষি করার পরও আপনি চলে যাচ্ছেন তখন তারা কিছু ছাড় দিয়ে থাকে, বিশেষত আপনি যদি নগদ টাকা সাথে নিয়ে এসে থাকেন। মনে রাখবেন, দরকষাকষির দক্ষতা আপনাকে আপনার পছন্দসই গাড়িটি পেতে সহায়তা করতে পারে!  

উপসংহার

গাড়ি কেনা একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। একটি ঠিকঠাক ডিল করতে অনেক পরিকল্পনা এবং চিন্তাভাবনা প্রয়োজন। কখনো কখনো সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই আপনার দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা এবং প্রয়োজনগুলো বিবেচনা করতে হবে। এছাড়াও আপনার অন্যান্য ব্যয় যেমন গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং বীমা ইত্যাদি নিয়ে ভেবে রাখা উচিত। সঠিক উপায়ে আপনার গাড়িটি পুরোপুরি পরীক্ষা করা উচিত এবং গাড়িটিকে সময় নিয়ে টেস্ট ড্রাইভের জন্য নেওয়া উচিত। সর্বশেষে, দরকষাকষির সময় প্রথম অফারেই রাজি না হওয়া ভাল। সময় নিয়ে ভালোভাবে যাচাই বাছাই করে দরকষাকষি করুন। আশা করি, বাংলাদেশে ব্যবহৃত গাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য এখানে উল্লেখ করতে সক্ষম হয়েছি। পূর্ব গবেষণা অবশ্যই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে অনেক সময় সাশ্রয় করবে।

আপনার ব্যবহৃত গাড়ি বিক্রি করতে চান? জেনে নিতে পারেন যেভাবে Bikroy.com বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যবহৃত গাড়ির ব্যবসার প্রেক্ষাপট

Facebook Comments
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close