আপনার বাজেটের মধ্যে সেরা ল্যাপটপটি কিনুন

বাজেটের মধ্যে পছন্দের ল্যাপটপ কিনুন
Share

বহনের জন্য উপযোগী, আবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশন চালানোর মত বহুমুখী ক্ষমতা সম্পন্ন, আপনার জরুরি কাজ বলেন কিংবা সাধারণ গেম খেলা, সকল কাজের কাজী হিসেবে একটি ল্যাপটপ আপনার পাশে থাকবে যেকোন যায়গায়। যেখানে এই যুগে মানুষের পছন্দের তালিকায় স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলেট পিসি এককভাবে জনপ্রিয়, সেখানে এখনো বেশির ভাগ মানুষ বিশ্বাস করেন যে একটি রিসার্চ পেপার লিখা থেকে শুরু করে নিত্যদিনের ভিডিও দেখা কিংবা গেম খেলার মত কাজের জন্য ল্যাপটপই সেরা।

এখন একটি নতুন ল্যাপটপ কেনার প্রক্রিয়া বেশ কিছুটা সময় সাপেক্ষ। আপনি আগে নিশ্চিত হতে চাইবেন যে ল্যাপটপটি আপনার সবরকম প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম কিনা, আবার একই সাথে এটাও খেয়াল রাখবেন যে এর পিছনে খুব বেশি টাকা নষ্ট করছেন কি না। আপনি আপনার কষ্টের টাকার বিনিময়ে সেরা জিনিসটি কিনতে চাইবেন যা কিনা অন্তত বেশ কিছু বছর কোন ঝামেলা ছাড়াই চলতে পারবে। সাইজ, ফিচার এবং দামের ভিত্তিতে ল্যাপটপের ব্যাপক সংখ্যক ভিন্ন মডেলের সংগ্রহ রয়েছে বাজারে, যে কারণে আপনার জন্য সঠিক ল্যাপটপটি বেছে নেয়া বেশ কঠিন একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেজন্যই আগে আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে আপনার প্রয়োজন গুলো ঠিক কী কী। আজ আমরা এসেছি আপনাকে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা ল্যাপটপটি বেছে নিতে সাহায্য করার জন্য, বাজেট যেমনই হোক না কেন।

সংক্ষিপ্ত টিপস

আপনি যদি অল্প কথায় বেসিক তথ্য ও পরামর্শ জেনে নিতে চান, তাহলে নিচের পয়েন্টগুলো আপনার ল্যাপটপ কেনার সময় মনে রাখাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কাজের। আরো বিস্তারিত তথ্যের জন্য এই সেকশনটির পরের অংশ গুলোও পড়ে দেখুন।

  • ১২.৫ থেকে ১৪ ইঞ্চি মাপের স্ক্রিন আপনাকে বহনযোগ্যতা এবং ব্যবহারের সুবিধার মধ্যে এক অনন্য সমতা এনে দিতে পারে। আপনি যদি খুব বেশি ভ্রমনপ্রিয় না হয়ে থাকেন তাহলে এর চেয়ে বড় স্ক্রিনও আপনার জন্য চলবে, আবার এর চেয়ে ছোট স্ক্রিন গুলো শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ ভালো।
  • আপনার বাজেট যদি ৫০ হাজার টাকার বেশি হয়ে থাকে, তাহলে নিচের নূন্যতম কনফিগারেশন গুলো কেনার চেষ্টা করুন:
    • কোর আই৫ সিপিইউ
    • ১৯২০ x ১০৮০ স্ক্রিন
    • ৮ জিবি র‍্যাম
    • হার্ড ড্রাইভের বদলে এসএসডি স্টোরেজ.
    • যদি কোন যায়গায় নিয়ে গিয়ে ল্যাপটপটি চালাতে চান তাহলে ৮ ঘন্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় চলার মত ব্যাটারি যথেষ্ট।
  • আপনি যদি আপনার ল্যাপটপটি বহুমুখী ভাবে ব্যবহার করতে চান (যেমন ট্যাবলেট পিসি হিসেবে) তাহলে একটি টু ইন ওয়ান কেনার কথা ভাবতে পারেন। আর তেমন প্রয়োজন না হলে আদর্শ ক্ল্যাম-শেল স্টাইলের নোটবুকই আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে।
  • ক্রোম-বুক শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে ভালো। উইন্ডোজ ল্যাপটপ আর ম্যাক-বুক দু’টোই অনেক রকম ফিচার ও কার্যকারিতা দেয়; কে কোন প্ল্যাটফর্ম বেশি পছন্দ করেন সেটা পুরোটাই ব্যক্তিগত রুচির ব্যাপার।

১. আপনার প্ল্যাটফর্ম বেছে নিন: উইন্ডোজ, ম্যাক নাকি ক্রোম ওএস?

উইন্ডোজ, ম্যাক নাকি ক্রোম ওএস

এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া ততটা সহজ নয়, বিশেষ করে আপনি যদি ম্যাক এবং পিসি দু’টোর সাথেই পরিচিত না হয়ে থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং এদের ভালো ও খারাপ দিক সম্পর্কে আমাদের এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আপনাকে একটু হলেও ধারনা দিতে পারবে।

বেশিরভাগ ল্যাপটপেই সর্বাধিক জনপ্রিয় ৩টি অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে যেকোন একটি সেট-আপ করা থাকে যথা উইন্ডোজ, ক্রোম ওএস কিংবা ম্যাক ওএস (যা কেবল মাত্র ম্যাক-বুকেই পাওয়া যায়)। নিজের জন্য একটি বাছাই করে নেয়াটা যার যার ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার, কিন্তু এদের কোনটি কিরকম সুবিধা আপনাকে দিতে পারে সেই বিষয়ে নিচে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে।

উইন্ডোজ ১০

সেরা ৩ অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক ও ফ্লেক্সিবল উইন্ডোজ, ক্রোম কিংবা ম্যাক ওএস এর তুলনায় সর্বাধিক সংখ্যক ব্র্যান্ড ও মডেলের কম্পিউটারে এই অপারেটিং সিস্টেম চলে। উইন্ডোজ নোটবুকের দাম ১২ হাজার টাকার নিচ থেকে শুরু করে এক লাখ টাকার উপরে হয়ে থাকে এবং নানা রকম বহুমুখী ফিচার যেমন টাচ স্ক্রিন থেকে শুরু করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রীডার, এমনকি ডুয়াল গ্রাফিক্স চিপ পর্যন্ত। মাইক্রোসফট এর ফ্ল্যাগশিপ ওএস এর সর্বশেষ ভার্সন, উইন্ডোজ ১০ উইন্ডোজ ৭ ও ৮ এর সাপেক্ষে নানারকম দিক থেকে উন্নত, এর মধ্যে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট পিসি দু’টো মোডের মধ্যে সুইচ করার বা পরিবর্তন করার সুবিধা অন্যতম। এছাড়াও এতে রয়েছে একটি পুনর্গঠিত স্টার্ট মেনু, যাতে রয়েছে লাইভ টাইল এবং শক্তিশালী ডিজিটাল এসিসট্যান্ট, করটানা। ২০১৫ সালে মুক্তি পাবার পর থেকে উইন্ডোজ ১০ এ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে, এর মধ্যে করটানা কে পরস্পর সম্পর্কিত পর পর কয়েকবার প্রশ্ন করার ক্ষমতা, স্বভাবগত ভাষায় ইমেইল সার্চ করার ক্ষমতা এবং আপনার স্টাইলাস ব্যবহার করে যেকোন যায়গায় বসে আঁকিবুঁকি করার ক্ষমতা অন্যতম।

অ্যাপল ম্যাক ওএস হাই সিয়েরা

সকল ম্যাকবুকেই অ্যাপল এর সর্বশেষ ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেম, ম্যাক ওএস হাই সিয়েরা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সর্বোপরি এই অপারেটিং সিস্টেমের কার্যকারিতা উইন্ডোজ ১০ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে এর ইউজার ইন্টারফেস বা থিম এ একটু ভিন্নতার ছোঁয়া রয়েছে, যেখানে মাইক্রোসফট এর স্টার্ট মেনু ও টাস্কবারের বিপরীতে রয়েছে স্ক্রিন এর নিচে একটি অ্যাপ ডক। করটানা ডিজিটাল এসিসট্যান্ট এর বিপরীতে ম্যাক ওএস এ রয়েছে সিরি। ম্যাক ব্যবহারকারীরা তাদের সব রকম লেনদেন অ্যাপল পে এর মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারেন, ফোনের কল বা টেক্সট ম্যাসেজ রিসিভ করা কিংবা তাদের ল্যাপটপ আনলক করার জন্য অ্যাপল এর স্মার্ট অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহার করতে পারেন। যদিও ম্যাক-বুক এ আপনি টাচ স্ক্রিন এর আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন না, কেননা ম্যাক ওএস এ টাচ এর সিস্টেম সাপোর্ট করে না।

ক্রোম ওএস

স্বল্পমূল্যের ক্রোম-বুক যেমন স্যামসাং ক্রোম-বুক ৩ এ পাওয়া যায়। গুগল এর এই ওএস যথেষ্ট সরল ও নিরাপদ, কিন্তু উইন্ডোজ কিংবা ম্যাক ওএস এর তুলনায় বেশ সীমিত। এর ইউজার ইন্টারফেস অনেকটাই উইন্ডোজ এর মত, যাতে রয়েছে একটি এপ্লিকেশন মেনু, একটি ডেস্কটপ এবং এতে আপনার ওপেন করা উইন্ডো গুলো এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায় টেনে নিয়ে যাবার ক্ষমতা, কিন্তু এতে যে অ্যাপটি আপনি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করবেন তা হলো ক্রোম ব্রাউজার। তবে এর সমস্যা হলো যে অফলাইনে আপনি যে সব ওয়েব অ্যাপ ব্যবহার করতে চাইবেন সেগুলো ক্রোমবুকে তত ভালোভাবে কাজ করে না। যাই হোক, এখন এই সমস্যা আর ততটা প্রকট নয়, কেননা অনেকগুলো ক্রোমবুক মডেল, যেমন উচ্চমূল্যের গুগল পিক্সেলবুকে এখন এন্ড্রয়েড অ্যাপ সাপোর্ট করে।

আপনার যদি নিত্যদিনের ইন্টারনেট ব্রাউজ করা ও ইমেইল চেক করা, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গুলো ঘুরে দেখা ও অনলাইনে চ্যাট করার জন্য একটি ডিভাইসের প্রয়োজন হয়ে থাকে, তবে ক্রোমবুক অধিক মাত্রায় বহনযোগ্য এবং কম দামে ভালো ব্যাটারী ব্যাক-আপ দিতে পারে। স্কুল গুলোয় এবং অভিভাবকদের কাছে এগুলো অনেক বেশি জনপ্রিয়, কেননা এগুলোতে বাচ্চারা সহজে ভাইরাস আক্রান্ত করতে পারে না এবং এগুলো ট্যাবলেট পিসি এর তুলবায় অধিক কার্যক্ষমতা সম্পন্ন। আপনি যদি একটি ক্রোমবুক কিনতে ইচ্ছুক হন, তাহলে অন্তত ৪ জিবি র‍্যাম ও ১৬ জিবি স্টোরেজ সহ কিনতে চেষ্টা করুন। ডিসপ্লে এর ক্ষেত্রে একটি ১৯২০x১০৮০ স্ক্রিন সবচেয়ে ভালো, কিন্তু সচরাচর ক্রোমবুকে এই রেসল্যুশনের স্ক্রিন পাওয়া যায় না। আর যদি এন্ড্রয়েড অ্যাপস ব্যবহার করতে আগ্রহী হন তবে একটু বাড়তি খরচ করে একটি টু ইন ওয়ান কেনার চেষ্টা করুন।

২. সিদ্ধান্ত নিন টু ইন ওয়ান কিনবেন কিনা

নিন টু ইন ওয়ান ল্যাপটপ বাছুন

আজকের দিনে অনেক এমন ল্যাপটপ রয়েছে যেগুলো টু ইন ওয়ান কিংবা হাইব্রিড ল্যাপটপের তালিকায় পড়ে, যেগুলো প্রচলিত ক্ল্যাম-শেল মোড,ট্যাবলেট মোড এবং অন্যান্য পজিশন যেমন টেন্ট বা তাঁবু অথবা স্ট্যান্ড মোডের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। সচরাচর টু ইন ওয়ান ল্যাপটপ গুলো দু’টি ভিন্ন স্টাইলে পাওয়া যায়- ডিটাচাবল, যাতে কীবোর্ডের থেকে স্ক্রিন পুরোপুরি আলাদা হয়ে যেতে পারে এবং ফ্লেক্সিবল বা এমন জোড় সম্পন্ন যাতে করে ল্যাপটপ টি ০ থেকে ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত কোণে ভাঁজ করা সম্ভব হয় এবং এতে করে বিভিন্ন মোডে ল্যাপটপটি কাজ করে। এই ল্যাপটপগুলোর বেশির ভাগই একে অপরের তুলনায় বেশ ভালো পারফর্ম করতে পারে এবং একেকটি একেক রকম উদ্দেশ্যে ব্যবহারে জন্য ভালো, বেন্ড-ব্যাক অর্থাৎ ফ্লেক্সিবল ল্যাপটপ গুলো ল্যাপটপের ভূমিকা বেশি পালন করে এবং ডিটাচাবল গুলো ট্যাবলেট পিসি ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও দিতে সক্ষম।  যাই হোক, আপনি যদি আপনার ল্যাপটপটি স্লেট এর মত ব্যবহার করায় আগ্রহী না হন, তবে আমরা পরামর্শ দেব আপনার কষ্টের টাকায় সর্বোচ্চ পারফর্মেন্স পাবার জন্য প্রচলিত ক্ল্যামশেল ল্যাপটপই সবচেয়ে ভালো।

আর যদি টু ইন ওয়ান কিনতে ইচ্ছুক হন, তবে জেনে রাখা ভালো যে ডিটাচাবল ল্যাপটপের তুলনায় ফ্লেক্সিবল ধাঁচের ল্যাপটপগুলোর ব্যাটারী ব্যাক-আপ যথেষ্ট ভাল।

৩. সঠিক সাইজ বাছাই করুন

ল্যাপটপ স্ক্রীন সাইজ

স্পেসিফিকেশন অথবা দামের দিকে তাকানোর আগে আপনাকে এটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আপনি আপনার ল্যাপটপ কতটা বহনযোগ্য পেতে চান। এখানে ডিসপ্লে সাইজ অনুযায়ী ল্যাপটপের শ্রেনীবিভাগ দেখানো হলো:

  • ১১ থেকে ১২ ইঞ্চি: বাজারের সবেচেয়ে হালকা পাতলা ও স্লিম ডিজাইনের ল্যাপটপ গুলোতে ১১ থেকে ১২ ইঞ্চি স্ক্রিন থাকে এবং সাধারণত ২.৫ থেকে ৩.৫ পাউন্ড ওজনের হয়ে থাকে।
  • ১৩ থেকে ১৪ ইঞ্চি: বহনযোগ্যতা ও ব্যবহারের সুবিধার মধ্যে সেরা সমন্বয় পাওয়া যায় ১৩ থেকে ১৪ ইঞ্চি ল্যাপটপগুলোয়। আর যদি আপনি ৪ পাউন্ডের কম ওজনের একটি ল্যাপটপ কিনতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই।
  • ১৫ ইঞ্চি: এটি ল্যাপটপের বাজারে সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি সাইজ। একটি ১৫ ইঞ্চি ল্যাপটপ সাধারণত ৪.৫ থেকে ৬.৫ পাউন্ড ওজনের হয়ে থাকে। আপনি যদি একটি বড় স্ক্রিনের ডিভাইস ব্যবহার করতে পছন্দ করেন এবং খুব অল্প সময় বাইরে আনা নেয়া করতে চান তাহলে এই সাইজের নোটবুক বা ল্যাপটপ কেনার কথা ভেবে দেখতে পারেন।
  • ১৭ থেকে ১৮ ইঞ্চি: আপনার ল্যাপটপ যদি সারাদিন সবসময় ডেস্কের ওপরই রাখতে চান, তাহলে একটি ১৭ থেকে ১৮ ইঞ্চি ডিভাইস আপনাকে এমন শক্তিশালী প্রসেসিং পাওয়ার দিতে সক্ষম যাতে আপনি সহজেই উচ্চমানের গেমস খেলতে কিংবা ওয়ার্কস্টেশন লেভেলের উৎপাদন ক্ষমতার কাজ করতে পারবেন আপনার ল্যাপটপে।

৪. কীবোর্ড এবং টাচপ্যাডটি চেক করুন

পৃথিবীর সর্বাধিক আকর্ষণীয় স্পেসিফিকেশনের ডিভাইসও মূল্যহীন হয়ে পড়ে যদি আপনি এমন একটি ল্যাপটপ কিনেন যার বাহ্যিক গঠনশৈলী আপনার ব্যবহারের জন্য সুখকর না হয়। আপনি যদি আপনার ল্যাপটপে অনেক বেশি কাজ করার ইচ্ছায় থাকেন তাহলে চেক করুন যেন আপনার কীবোর্ডটির স্পর্শকাতরতা অর্থাৎ ব্যবহারে প্রতিক্রিয়া ভালো মানের হয়, যথেষ্ট ভারটিকাল বা উলম্ব গমন (কী চাপার পর যতটুকু নিচে নামে, সাধারণত ১ থেকে ২ মিলিমিটার হয়ে থাকে) এবং কী গুলোর মধ্যে যথেষ্ট পরিমান ফাঁক থাকে।

একটি নিখুঁত টাচপ্যাড খুঁজুন যা আপনাকে কাঁপতে থাকা কার্সর দেবে না অর্থাৎ কার্সর মসৃণ ভাবে কাজ করবে এবং বিভিন্ন মাল্টিটাচ জেসচার যেমন জুম করার জন্য পিনচ এধরণের একাধিক আঙ্গুলের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে। যদি আপনি একটি বিজনেস ল্যাপটপ কিনতে চান তাহলে কীবোর্ডের G এবং H কী এর মাঝে একটি নাব বা পয়েন্টিং স্টিক থাকে এমন ল্যাপটপ খুঁজুন, যাতে করে আপনি কীবোর্ডের হোম রো থেকে আঙ্গুল না তুলেই আপনার কম্পিউটারের বিভিন্ন ফোল্ডারে ও স্ক্রিনের বিভিন্ন যায়গায় নেভিগেট করতে পারেন।

৫. স্পেসিফিকেশন বাছাই করুন বুঝে

ল্যাপটপ স্পেসিফিকেশন

নোটবুকের বিভিন্ন পার্টস যেমন প্রসেসর, হার্ড ড্রাইভ, র‍্যাম এবং গ্রাফিক্স চিপের নানা ধরণের সমারোহ মাঝে মাঝে নোটবুক পাগল এক্সপার্টদেরও হিমশিম খাইয়ে দেয়। অতএব স্পেসিফিকেশন শীটটি দেখে আপনার কাছে অর্থহীন হযবরল মনে হলেও দুঃখ করার কোন কারণ নেই। যেই যেই অংশ গুলো আপনাকে বিশেষ ভাবে খেয়াল করতে হবে সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • সিপিইউ: আপনার কম্পিউটারের মস্তিষ্ক হচ্ছে এই সিপিইউ। এতে অবস্থিত প্রসেসর আপনার ল্যাপটপের পারফর্মেন্সের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে. তবে আপনি ঠিক কী ধরণের ব্যবহার করতে চান তার উপর নির্ভর করে সবচেয়ে নূন্যতম ব্যয়বহুল মডেলটিও আপনার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। বিভিন্ন প্রসেসরের ধরন নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
    • ইনটেল কোর আই৫: আপনি যদি একটি সর্বজনীন ল্যাপটপের খোঁজে থাকেন যা কিনা দাম ও পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে এক সেরা সমন্বয়, তাহলে ইনটেল কোর আই৫ সিপিইউ সমৃদ্ধ একটি ল্যাপটপ কিনুন। যে মডেল গুলোর নামের শেষে ‘ইউ’ থাকে (যেমন কোর আই৫-৭২০০ইউ) সেগুলো সবচেয়ে কমন। যেগুলোর নামের মধ্যে ‘ওয়াই’ থাকে সেগুলো কম পাওয়ারের এবং সবচেয়ে খারাপ পারফর্মেন্স দেয়, যেখানে ‘এইচকিউ’ ওয়ালা নামের মডেলগুলো বেশি ওয়াট-শক্তি খরচ করে এবং ভারিক্কি গেমিং এবং ওয়ার্কস্টেশন সিস্টেমগুলোয় ব্যবহৃত হয়। ইনটেলের নতুন অষ্টম জেনারেশনের সিপিইউ গুলোতে মডেল নাম্বার গুলোর নাম শুরু হয় ‘৮’ দিয়ে (যেমন কোর আই৫-৮২৫০ইউ) এবং এগুলোতে দুই কোরের প্রচলন থেকে দ্বিগুন হয়ে চার কোর বিশিষ্ট হয়ে থাকে। এতে করে এদের পারফর্মেন্স নাটকীয় ভাবে উন্নত হয়েছে।
    • ইনটেল কোর আই৭: কোর আই৫ থেকে এক ধাপ উপরে, যেগুলোর মডেল নাম্বার ‘এইচকিউ’ অথবা ‘কে’ দিয়ে শেষ হয় এবং এগুলো অধিক ওয়াট-শক্তি খরচ করে ও চার কোর বিশিষ্ট হয়, যাতে করে আরো উন্নত ও গতিশীল গেমিং এবং উৎপাদন ক্ষমতা পাওয়া যায়। আছাড়াও রয়েছে কোর আই৭ ওয়াই সিরিজ চিপসেট যাতে কম শক্তি ও পারফর্মেন্স পাওয়া যায়। এমন সিপিইউর খোঁজ করুন যার মডেল নাম্বারে ‘৮’ রয়েছে (যেমন কোর আই৭-৮২৫০ইউ), কারণ এগুলো ইনটেলের সর্বশেষ অষ্টম জেনারেশনের কোর সিরিজের সদস্য এবং অধিকতর ভালো পারফর্মেন্স দেয়। যাহোক, বর্তমানে অষ্টম জেনারেশনের প্রসেসর কেবল মাত্র ইউ সিরিজে পাওয়া যাচ্ছে।
    • ইনটেল কোর আই৩: পারফর্মেন্সে এটি কোর আই৫ এর চেয়ে এক ধাপ নিচে এবং একই সাথে এর দামটাও। যদি আপনার বাজেট একটি কোর আই৫ কেনার মত হয়ে থাকে তবে আমরা পরামর্শ দেব সেটিই কিনুন।
    • এএমডি রাইজেন মোবাইল: একটি নতুন ধরণের চিপসেট যেগুলো ইনটেল কোর আই৫ ও কোর আই৭ কে টক্কর দেয়ার মত করে তৈরি করা হয়েছে।
    • এএমডি এ, এফএক্স অথবা ই সিরিজ: কম দামী ল্যাপটপ গুলোয় পাওয়া যায়। এএমডির প্রসেসর গুলোকে এদের কোম্পানি সিপিইউ না বলে এপিইউ বলে থাকেন। কষ্টের টাকায় এরা যথাযথ পারফর্মেন্স দিতে পারে, যা কিনা ওয়েব সার্ফিং, মিডিয়া ভিউইং এবং উৎপাদনশীল কাজ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট।
    • ইনটেল পেন্টিয়াম / সেলেরন: ৩৩ হাজার টাকার নিচে যেসব ল্যাপটপ পাওয়া যায় সেগুলোতে এই চিপসেট খুবই প্রচলিত। এগুলো সবচেয়ে কম পারফর্মেন্স দেয় কিন্তু যদি আপনার মেইন কাজ ওয়েব সার্ফিং ও হালকা ডকুমেন্ট এডিটিং হয়ে থাকে তাহলে আপনার জন্য যথেষ্ট। আর যদি একটু বেশি টাকা দিয়ে একটি কোর আই৩ কিংবা আই৫ কিনার সামর্থ্য আপনার থাকে তাহলে আপনার চিন্তার আর কোন কারনই থাকে না।
    • ইনটেল কোর এম/ কোর আই৫/ আই৭ ‘ওয়াই সিরিজ’: কম পাওয়ার ও কম তাপ সৃষ্টিকারী এই চিপসেট গুলো যেই সিস্টেমে থাকে সেগুলো ফ্যান ছাড়াই চলতে পারে অনায়াসে। সেলেরন এর চেয়ে পারফর্মেন্সে ভালো, কিন্তু কোর আই৫ ইউ সিরিজের চেয়ে সামান্য নিচে এদের অবস্থান।
    • ইনটেল জীওন: অতীব শক্তিশালী এবং ব্যয়বহুল প্রসেসর এগুলো এবং বড় মাপের ভ্রাম্যমান ওয়ার্কস্টেশন গুলোতে এগুলো ব্যবহৃত হয়। আপনি যদি ব্যবসায়ী পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ারিং, থ্রি-ডি মডেলিং অথবা ভিডিও এডিটিং করে থাকেন, তাহলে আপনি একটি জীওন কিনতে চাইবেন, কিন্তু এক্ষেত্রে ভালো ব্যাটারী ব্যাক-আপ কিংবা হালকা ওজনের ল্যাপটপ কোনটাই পাওয়া সম্ভব নয়।
  • র‍্যাম: কিছু কিছু ২০ হাজার টাকার কম দামের ল্যাপটপে মাত্র ২ জিবি র‍্যাম থাকে, কিন্তু একটা কম দামে বাজেটের মধ্যে ল্যাপটপ কিনলেও আপনার অন্তত ৪ জিবি এবং আরো কিছুটা খরচ করতে পারলে ৮ জিবি র‍্যাম কেনা উচিত। বেশির ভাগ ব্যবহারকারীদের জন্য ১৬ জিবি র‍্যাম একটু বাড়াবাড়ি মনে হয়।
  • স্টোরেজ/ হার্ড ড্রাইভ: সিপিইউ এর স্পিডের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার হার্ড ড্রাইভের পারফর্মেন্স। আপনার যদি বাজেট ভালো থাকে এবং অনেক বেশি অভ্যন্তরীণ স্টোরেজের দরকার না হয়, তবে এমন একটি ল্যাপটপ কিনুন যাতে হার্ড ড্রাইভের বদলে একটি সলিড স্টেট ড্রাইভ বা এসএসডি রয়েছে। কেননা এতে আপনি ৩ গুন স্পিড এবং সর্বোপরি একটি ভালো গতির ল্যাপটপ উপভোগ করতে পারবেন।
  • ডিসপ্লে: যত বেশি পিক্সেলের ল্যাপটপ হবে, তত বেশি তথ্য বা উপাদান আপনার স্ক্রিনে আটবে এবং তত বেশি তীক্ষ্ণ ছবি হবে। দুঃখের কথা হলো বেশির ভাগ বাজেটের মধ্যে ও প্রচলিত ল্যাপটপগুলোয় ১৩৬৬ x ৭৬৮ রেশিও এর ডিসপ্লে থাকে এবং প্রায় অর্ধেকেরও বেশি বিজনেস ল্যাপটপ গুলোতেও একই ঘটনা ঘটে। কিন্তু আপনি যদি আপনার বাজেট আরো একটু বাড়াতে পারেন, তাহলে আমরা পরামর্শ দেব এমন একটি প্যানেল কেনার যাতে ১৯২০ x ১০৮০ তে চলে, যাকে আমরা সবাই ফুল এইচডি বা ১০৮০পি নামে চিনি। কিছু উচ্চমূল্যের ল্যাপটপে ২৫৬০ x ১৬০০, ৩২০০ x ১৮০০ এমনকি ৩৮৪০ x ২১৬০ এর স্ক্রিনও রয়েছে, যেগুলো হয়ত দেখতে অনেক উজ্জ্বল ও তীক্ষ্ণ হয় কিন্তু অধিক শক্তি শোষণ করে, যার কারণে এগুলোর ব্যাটারী ব্যাক-আপ অনেক কমে যায়।
  • টাচ স্ক্রিন: আপনি যদি টু ইন ওয়ান এর বদলে একটি সাধারণ ক্ল্যামশেল ল্যাপটপ কিনে থাকেন, তাহলে আপনি টাচ স্ক্রিনের তেমন কোন বিশেষ সুবিধা পাবেন না, তার ওপর এগুলোর ব্যাটারী ব্যাক-আপ ১ থেকে ৩ ঘন্টা পর্যন্ত কমে যায়। টু ইন ওয়ান গুলোয় টাচ স্ক্রিন কাজের এবং যথার্থ।
  • গ্রাফিক্স চিপ: আপনি যদি পিসি গেম না খেলেন বা থ্রি-ডি মডেল তৈরি না করেন অথবা উচ্চ রেসল্যুশনের ভিডিও এডিটিং না করেন, একটি ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স চিপ আপনার জন্য যথেষ্ট, যা কিনা সিস্টেম মেমরির সাথে কাজ করে ও সাথেই দেয়া থাকে। উপরোক্ত কাজগুলোর মধ্যে কোন একটিও যদি আপনার করার প্রয়োজন থাকে, তাহলে এএমডি কিংবা এনভিডিয়ার একটি পৃথক গ্রাফিক্স প্রসেসর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সিপিইউ এর ক্ষেত্রে কম ও বেশি উভয় রকম দামেরই গ্রাফিক্স চিপসেট রয়েছে। আজকাল হালকা পাতলা গেমিং কিংবা ওয়ার্কস্টেশন সিস্টেমগুলোতে এনভিডিয়া জিটিএক্স ১০৫০ থাকে, যেখানে মাঝারি দামের মডেল গুলোতে জিটিএক্স ১০৫০ টিআই অথবা জিটিএক্স ১০৬০ এবং বেশি দামের মডেল গুলোয় জিটিএক্স ১০৭০ বা ১০৮০ থাকে। এনভিডিয়া কম দাম থেকে শুরু করে বেশি দাম পর্যন্ত বিভিন্ন দামের মধ্যে নানা রকম গ্রাফিক্স চিপসেট সংগ্রহে রাখে, এএমডিরও একই রকম তালিকা রয়েছে।
  • পোর্ট: ল্যাপটপ বাছাই এর ক্ষেত্রে পোর্ট কম বেশি থাকা তেমন কোন বড় সমস্যা নয়, কিন্তু প্রয়োজনের সময় বাড়তি এডাপ্টার সাথে নিয়ে না ঘুরে সিস্টেমের সাথে সরাসরি কিছু কানেকশন দিতে পারা টা আসলে বেশ কাজে দেয়। বেশির ভাগ প্রচলিত ল্যাপটপে ইউএসবি ৩.০ পোর্ট এবং ভিডিও এর জন্য একটি এইচডিএমআই আউট পোর্ট থাকে। যাই হোক, আজকাল ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় ল্যাপটপের মডেলগুলোতে ইউএসবি টাইপ সি অথবা থান্ডারবোল্ট থ্রি পোর্ট থাকে যা ইউএসবি টাইপ সি কে সাপোর্ট করে। টাইপ সি পোর্ট পাওয়াটা অবশ্যই একটি বাড়তি সুবিধা, কেননা এর সাহায্যে আপনি ইউনিভার্সাল চার্জার এবং ডক কানেকশন দিতে পারবেন।
  • ডিভিডি/ ব্লু-রে ড্রাইভ: খুব অল্প সংখ্যক ল্যাপটপেই অপটিক্যাল ড্রাইভ থাকে, কারণ সকল সফটওয়্যার এবং মুভি ডাউনলোড করা সম্ভব। যাই হোক, আপনার যদি ডিস্ক রিড বা রাইট করার দরকার পড়ে এবং আপনার পছন্দের ল্যাপটপটিতে কোন বিল্ট ইন ডিভিডি ড্রাইভ না থাকে, তাহলে একটি বাহ্যিক ড্রাইভ কিনে নিতে পারেন যা ইউএসবি এর মাধ্যমে সংযোগ দেয়া যায় এবং দামও খুব একটা বেশি না, ১৬০০ টাকার মধ্যে।
  • আর যদি কিছু টাকা বাঁচাতে চান তাহলে কিছু অপ্রয়োজনীয় ফিচার যেমন ইনফ্রারেড ক্যামেরা বা উইন্ডোজ ১০ প্রো অপারেটিং সিস্টেম ইত্যাদি কেনা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

৬. ব্যাটারী ব্যাক-আপ খুবই দরকারী

আপনি যদি একটি বড়, ভারী নোটবুক কিনেন যা আপনি শুধুমাত্র ডেস্কের উপর কোন পাওয়ার আউটলেটের কাছে রেখে চালাতে চান। তাহলে আপনার ব্যাটারী ব্যাক-আপ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নেই। যাই হোক, আপনি যদি আপনার কোলে রেখে ল্যাপটপ চালাতে চান, সেটা ঘরে হোক কিংবা অফিসে, তাহলে অন্তত ৫ ঘন্টার ব্যাটারী ব্যাক-আপ আপনার প্রয়োজন হবে, আদর্শ ক্ষেত্রে তা ৭ থেকে ৮ ঘন্টার অধিক হয়ে থাকে। যেকোন নোটবুকের সম্ভাব্য ব্যাটারী ব্যাক-আপ বা আয়ু সম্পর্কে জানার জন্য শুধুমাত্র উৎপাদনকারীর কথার উপর নির্ভর করে থাকলেই চলবে না। বরং অনলাইনে রিভিউ রেখে বা bikoy.com/laptops এর মত নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করে নিন।

৭. বাজেট অনুযায়ী সিধান্ত নিন

ল্যাপটপ এর দাম

আজকাল ব্যবহারের উপযোগী ল্যাপটপ ১৬ হাজার টাকার নিচেও পাওয়া যায়, কিন্তু আপনার যদি বাজেট একটু বেশি হয় তাহলে আপনি আরো ভালো ও উন্নত ডিজাইন এবং বিল্ড-কোয়ালিটি, অধিক শক্তিশালী পারফর্মেন্স এবং উন্নত ডিসপ্লে এর সিস্টেম পাবেন। বিভিন্ন দামের ল্যাপটপ এর কিছু নমুনা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

  • ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায়: বাজারের সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল ল্যাপটপগুলো হয় ক্রোমবুক, যা গুগলের ব্রাউজার ভিত্তিক ওএস এ চলে, নয়ত কম দামী উইন্ডোজ সিস্টেম যাতে যৎসামান্য স্টোরেজ এবং ধীর গতির প্রসেসর থাকে, যেমন এইচপি স্ট্রিম ১১ এবং ডেল ইন্সপিরন ১১ ৩০০০। এগুলো হয় মাধ্যমিক পিসি হিসেবে কিনতে পারেন নয়ত বাচ্চাদের শিখার জন্য দিতে পারেন।
  • ২৯ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায়: ৫০ হাজার টাকার নিচে বেশ ভালোভাবেই আপনি একটি নোটবুক কিনতে পারবেন যাতে ইনটেল কোর আই৫ বা এএমডি এ৮ সিপিইউ, ৪ থেকে ৮ জিবি র‍্যাম এবং একটি ৫০০ জিবি হার্ড ড্রাইভ থাকবে, এগুলো বেশ যৌক্তিক স্পেসিফিকেশন। যদিও এই দামের মধ্যে বেশির ভাগ ল্যাপটপেই এসএসডি, ফুল এইচডি ডিসপ্লে কিংবা দীর্ঘ ব্যাটারী ব্যাক-আপ থাকে না। এদের মধ্যে আবার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যাতিক্রম রয়েছে, যেমন এসার এস্পায়ার ই১৫ এবং এসাস ভিভোবুক ই৪০৩এনএ।
  • ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায়: ৫০ হাজার থেকে আপনি যতই উপরে যেতে থাকবেন, ততই প্রিমিয়াম সব ডিজাইন আপনি পাবেন, যেমন মসৃণ ধাতব ফিনিসের বডি। আর দাম বাড়ার সাথে সাথে উৎপাদক কোম্পানিগুলোও অন্যান্য আকর্ষণীয় সব ফিচার যোগ করতে শুরু করে, এর মধ্যে উচ্চ রেসল্যুশনের ডিসপ্লে এবং এসএসডি ড্রাইভ।
  • ৭০ হাজার টাকার উপর: এই রকম দামের মধ্যে এমন নোটবুক আশা করতে পারেন যেগুলো অধিক বহনযোগ্য, বেশি শক্তিশালী অথবা দু’টোই। অধিক রেসল্যুশনের স্ক্রিন, দ্রুততর প্রসেসর এবং সম্ভাব্য পৃথক গ্রাফিক্স পাবেন। সবচেয়ে হালকা, সর্বাধিক দীর্ঘস্থায়ী আলট্রা পোর্টাবল ডিভাইস, যেমন অ্যাপলের ম্যাকবুক এবং ডেল এক্সপিএস ১৩, এগুলোর দাম বাংলাদেশে ৮৫ হাজার টাকার বেশি হয় (যদিও আপনি ডেল এর ল্যাপটপটি আরো কম দামে পেতে পারেন যদি টাচ স্ক্রিন এর আশা না করেন)। উচ্চমানের গেমিং সিস্টেম এবং ভ্রাম্যমান ওয়ার্কস্টেশনের দাম ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার বেশি হতে পারে, এমনকি মাঝে মাঝে ২ লাখ কিংবা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

উপসংহার

অতএব, যখনই আপনি আপনার ঘর কিংবা কর্মস্থলের জন্য একটি নতুন পিসি কেনার কথা ভাবেন, তখন এইসব বিষয়গুলো অবশ্যই ভালোভাবে ভেবে নিন। অনলাইনে আপনার পছন্দের মডেলটির রিভিউ দেখে ও বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেমন Bikroy.com এ ব্রাউজ করে ল্যাপটপ এর দাম ও দামের পার্থক্য বুঝে নিন এবং সবকিছু সাধ্যের মত দামে পেয়ে যান। Bikroy.com এ থাকা সব ধরনের ল্যাপটপ ও টু ইন ওয়ান পিসি সুলভমূল্যে ও আকর্ষণীয় অফারে পাওয়া যাচ্ছে। আজই ভিসিট করুন ও আপনার নতুন পার্সোনাল ল্যাপটপ কিংবা টু ইন ওয়ানটি ঘরে নিয়ে আসুন। শপিং হোক আনন্দের!

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments