যানবাহন

বাংলাদেশের জনপ্রিয় বাজাজ মোটরবাইকগুলোর দাম

যখনই ইন্ডিয়ান মোটরবাইকের কথা ভাবতে যাবেন, তখনই প্রথম যে নামটি যে কারো মাথায় আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তা হচ্ছে বাজাজ। সেই শুরু দিনগুলো থেকেই বাজাজ অটো বিভিন্ন নতুন ও উদ্ভাবনী ডিজাইনের মোটরবাইক বাজারে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপমহাদেশের সব জায়গায় ভক্তদের মন জয় করে এসেছে। এমনকি তাদের শাখা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে; বর্তমানে নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন এবং কম্বোডিয়ার মত দেশগুলোতে তারা দুই চাকার মোটরবাইক সরবরাহ করছে।

বহু বছর ধরে আমাদের দেশের রাস্তায় এই ব্র্যান্ডের নামে অগণিত মোটরবাইক চলাচল করে আসছে – আর তার পেছনে কারণটাও আমাদের সবার জানা! বাজাজ মোটরবাইকগুলোর মান তাদের জাপানি প্রতিদ্বন্দ্বীর মতই অবিচল রয়েছে, আর দেশে বেশ দুর্দান্ত দামে বিক্রিও হচ্ছে।  

আমাদের সবার চেনা ও প্রিয় মোটরবাইকগুলোর নতুন ও আরো উন্নত ভার্সন গ্রাহকদের কাছে নিয়ে আসার জন্য বাজাজ প্রতিনিয়তই তাদের বাইকগুলোকে আপডেট করে যাচ্ছে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা বাংলাদেশে চলমান বাজাজ মোটরবাইকের কিছু অন্যতম জনপ্রিয় মডেল ও তাদের স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে জানবো।

বাজাজ সিটি ১০০ ইএস অ্যালয় সিবিএস

বাজাজ সিটি ১০০ ইএস অ্যালয় সিবিএস

মার্কেটে থাকা বাজাজের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রাথমিক লেভেলের মোটরবাইকগুলোর মধ্যে ‘সিটি ১০০’ বাইকটি অন্যতম। এই বাইকটির নতুন ভার্সনে আপনারা পাচ্ছেন আরো উন্নত নান্দনিক গড়ন, একটি ফুয়েল (জ্বালানি) গজ এবং দু’পাশে নমনীয় সাইড ইনডিকেটর। এই বাইকটির নতুন সিট ডিজাইনের সাথে আপনারা উপভোগ করতে পারবেন আরো ভালো আরাম ও স্বাছন্দ্য, আর এতে দু’জন কিংবা আরো বেশি প্যাসেঞ্জার বসতে পারবেন সহজেই। স্প্রিং ইন স্প্রিং (এসএনএস) সাসপেনশন সিস্টেম থাকার কারণে ‘বাজাজ সিটি ১০০’ বাইকটি চালানোর অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে আরো স্মুথ। শহরের যেকোনো ধরণের কঠোর পরিস্থিতি আর রুক্ষ পথ ঘাটেই পড়ুন না কেন, এই বাইকে চড়ে আপনার যাত্রাপথ হয়ে উঠবে বাতাসের মত ফুরফুরে।

স্পেসিফিকেশনঃ

  • ইঞ্জিন টাইপ – সিঙ্গেল ভালভ, ৪ স্পিড 
  • ডিসপ্লেসমেন্ট – ৯৯.৩ সিসি
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার – ৮.০৮ বিএইচপি @ ৭৫০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন – ৮.০৫ নিউটন-মিটার (N-m) @ ৪৫০০ আরপিএম
  • মাইলেজ – ৮৯.৫ কি.মি. প্রতি লিটার
  • কুলিং – এয়ার কুলিং
  • ইগনিশন টাইপ – কার্বুরেটর
  • স্টার্ট করার পদ্ধতি – কিক স্টার্ট
  • ক্লাচ – মাল্টি-প্লেট ওয়েট ক্লাচ 
  • ফ্রন্ট সাসপেনশন – হাইড্রোলিক টেলেস্কোপিক, ১২৫ মিমি ট্র্যাভেল
  • ব্যাক সাসপেনশন – এসএনএস সাসপেনশন, ১০০ মিমি হুইল ট্র্যাভেল
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ফ্রন্ট/ব্যাক) – ১১০ মিমি ড্রাম

দাম – বাংলাদেশে মাত্র ৮৮,৫০০ টাকা

বাজাজ ডিসকভার ১১০

বাজাজ ডিসকভার ১১০

এই কোম্পানির ১১০ সিসি মোটরবাইক তৈরির চাকাকে আবারও চালু করার প্রথম ইঙ্গিত দিয়েছে ‘ডিসকভার ১১০’ বাইকটির উন্মোচন। ডিসকভার ১২৫ সিরিজের প্রায় সবগুলো ফিচারের সাথে এই মডেলটির দুর্দান্ত মিল রয়েছে। কিন্তু ডিসকভার ১১০ বাইকটি এর তুলনামূলক ছোট এবং যাত্রা বান্ধব ইঞ্জিনের জন্য আলাদা। এতে রয়েছে বাজাজের পেটেন্ট নেয়া ‘ডিটিএস-আই টুইন স্পার্ক’ প্রযুক্তি এবং দামের বিবেচনায় আপনারা পাবেন অসাধারণ মান ও পারফরম্যান্স।

‘টিভিএস ভিক্টর’, ‘হোন্ডা লিভো’ ও ‘হিরো প্যাশন প্রো’ -এর মত অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী মডেলগুলোর শক্তির সাথে বাজাজ ডিসকভার ১১০ পাল্লা দিতে পারবে খুব সহজেই। বর্তমানে এই বাইকটি ৪টি ভিন্ন রঙের অপশন দিচ্ছে – কালো, কালোর সাথে ধূসর ডিক্যাল, নীল এবং লাল।

স্পেসিফিকেশনঃ

  • ইঞ্জিন টাইপ – সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ২ ভালভ
  • ডিসপ্লেসমেন্ট – ১১৫.৫ সিসি
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার – ৮.৪৬ বিএইচপি @ ৭০০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন – ৯.৮১ নিউটন-মিটার (N-m) @ ৫০০০ আরপিএম
  • মাইলেজ – ৭৬.৩ কি.মি. প্রতি লিটার
  • কুলিং – এয়ার কুলিং
  • ইগনিশন টাইপ – কার্বুরেটর
  • স্টার্ট করার পদ্ধতি – সেলফ / কিক স্টার্ট
  • গিয়ার – ৪ স্পিড
  • ক্লাচ – মাল্টি-প্লেট টাইপ, ওয়েট ক্লাচ 
  • ফ্রন্ট সাসপেনশন – ১৪০ মিমি ফর্ক ট্র্যাভেল, টেলেস্কোপিক
  • ব্যাক সাসপেনশন – ১২০ মিমি রিয়ার হুইল ট্র্যাভেল, নাইট্রক্স (গ্যাস পূর্ণ)
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ফ্রন্ট/ব্যাক) – ১১০ মিমি ড্রাম

দাম – বাংলাদেশে মাত্র ১১৫,৫০০ টাকা

বাজাজ ডিসকভার ১২৫

বাজাজ ডিসকভার ১২৫

সিসি বাজাজ ডিসকভারের নতুন ২০১৮ সালের ভার্সন হচ্ছে এই মডেলটি। আউটলুকের দিক থেকে দেখলে সামান্য কিছু পার্থক্য ছাড়া এটা দেখতে অনেকটাই এর পূর্বসূরিদের মত। বর্তমানে এই মডেলটি দু’টি ভিন্ন রঙের কম্বিনেশনে পাওয়া যাচ্ছে – আবলুস (ইবোনি) ব্ল্যাকের সাথে নীল রঙা ডিটেইল এবং ইবোনি ব্ল্যাকের সাথে লালচে ডিটেইল।

এই নতুন ও আরো উন্নত ইঞ্জিনটি ১১০ কি.মি. প্রতি ঘন্টার চূড়ান্ত গতিতে পৌঁছানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে বলে বাজাজের দাবি। আর এসব কিছুই পাওয়া যাবে অসামান্য ৬৭ কি.মি. প্রতি লিটার মাইলেজের সাথে।

স্পেসিফিকেশনঃ

  • ইঞ্জিন টাইপ – সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ২ ভালভ
  • ডিসপ্লেসমেন্ট – ১২৪.৫ সিসি
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার – ১০.৮৪ বিএইচপি @ ৭৫০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন – ১১ নিউটন-মিটার (N-m) @ ৫৫০০ আরপিএম
  • মাইলেজ – ৬৭ কি.মি. প্রতি লিটার
  • কুলিং – এয়ার কুলিং
  • ইগনিশন টাইপ – কার্বুরেটর
  • স্টার্ট করার পদ্ধতি – সেলফ / কিক স্টার্ট
  • গিয়ার – ৫
  • ক্লাচ – মাল্টি-প্লেট টাইপ, ওয়েট ক্লাচ 
  • ফ্রন্ট সাসপেনশন – ১৪০ মিমি ফর্ক ট্র্যাভেল, টেলেস্কোপিক
  • ব্যাক সাসপেনশন – ১২০ মিমি রিয়ার হুইল ট্র্যাভেল, নাইট্রক্স (গ্যাস পূর্ণ)
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ফ্রন্ট/ব্যাক) – ১৩০ মিমি ড্রাম

দাম – বাংলাদেশে মাত্র ১৩১,৫০০ টাকা

বাজাজ ডিসকভার ১৫০এফ

বাজাজ ডিসকভার ১৫০এফ

‘১৫০ এস’ এর সাথে ‘ডিসকভার ১৫০ এফ’ বাইকটির অনেকটাই মিল রয়েছে, কিন্তু এর সাথে যুক্ত হয়েছে সেমি-ফেয়ারিং এবং বেশ চড়া এক দাম। বাইকটি ড্রাম ও ডিস্ক দুই রকম ভার্সনেই পাওয়া যাচ্ছে। ‘ডিসকভার ১৫০’ ও ‘পালসার ১৩৫’ বাইক দু’টির ঠিক মাঝামাঝি পর্যায়ের বাইক হচ্ছে এই মডেলটি; আর খুব সহজেই টক্কর দিতে পারবে ‘হিরো ইগনিটর’ ও ‘হোন্ডা স্টানার’ -এর মত বাইকগুলোর সাথে।

ডিসকভার ১৫০ এফ বাইকটি বৃহত্তর ৭২ কি.মি. প্রতি লিটার মাইলেজের সাথে অফার করছে চূড়ান্ত ১১০ কি.মি. প্রতি ঘন্টার মত দুর্বার গতি। বর্তমানে এটি ৪টি ভিন্ন রঙের অপশন দিচ্ছে – গাঢ় নীল, ওয়াইন রেড (গাঢ় লাল), ইবোনি ব্ল্যাক এবং গাঢ় বটল গ্রিন (সবুজ)।

স্পেসিফিকেশনঃ

  • ইঞ্জিন টাইপ – ৪ স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ৪ ভালভ
  • ডিসপ্লেসমেন্ট – ১৪৪.৮ সিসি
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার – ১৪.৩ বিএইচপি @ ৮৫০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন – ১২.৭৫ নিউটন-মিটার (N-m) @ ৬৫০০ আরপিএম
  • মাইলেজ – ৭২ কি.মি. প্রতি লিটার
  • কুলিং – এয়ার কুলিং
  • ইগনিশন টাইপ – কার্বুরেটর
  • স্টার্ট করার পদ্ধতি – সেলফ / কিক স্টার্ট
  • গিয়ার – ৫
  • ক্লাচ – মাল্টি-প্লেট টাইপ, ওয়েট ক্লাচ 
  • ফ্রন্ট সাসপেনশন – ১৩০ মিমি ফর্ক ট্র্যাভেল, টেলেস্কোপিক
  • ব্যাক সাসপেনশন – মনোশকস, ১১০ মিমি রিয়ার হুইল ট্র্যাভেল, নাইট্রক্স (গ্যাস পূর্ণ)
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ফ্রন্ট/ব্যাক) – ১৩০ মিমি ড্রাম

দাম – বাংলাদেশে মাত্র ১৭৭,০০০ টাকা

বাজাজ প্লাটিনা ১০০ কেএস

বাজাজ প্লাটিনা ১০০ কেএস

‘প্লাটিনা ১০০ কেএস’ মডেলটিতে সংযুক্ত হয়েছে কম্বাইনড ব্রেকিং সিস্টেম (সিবিএস), যা গ্রাহকদের রাইডিং অভিজ্ঞতাকে করে তুলবে ফুরফুরে। ইলেক্ট্রিক স্টার্ট (ইএস) ভার্সনটির তুলনায় এই মডেলটি অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং প্লাটিনা সিরিজের সেরা প্রাথমিক লেভেলের মোটরবাইকগুলোর মধ্যে ১০০ কেএস অন্যতম জনপ্রিয়। এছাড়াও এই মডেলে রয়েছে ‘কমফোর্টেক’ প্রযুক্তি, অর্থাৎ রাইডারদের স্বাচ্ছন্দ্যের ও সুবিধার জন্য এতে রয়েছে ফ্রন্ট ও ব্যাক দুই দিকেই আরো লম্বা সাসপেনশন, রাবার ফুটপেগ, স্প্রিং সিট এবং দিক নির্দেশক টায়ার। শহরের পথে নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য এই বাইকটি এক কথায় আদর্শ।

স্পেসিফিকেশনঃ

  • ইঞ্জিন টাইপ – সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ২ ভালভ, ExhausTEC (এক্সহস্টেক) সহ ডিটিএস-আই
  • ডিসপ্লেসমেন্ট – ১০২ সিসি
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার – ৮.০৮ বিএইচপি @ ৭৫০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন – ৮.৬ নিউটন-মিটার (N-m) @ ৫০০০ আরপিএম
  • মাইলেজ – ৭০ কি.মি. প্রতি লিটার
  • কুলিং – এয়ার কুলিং
  • ইগনিশন – ৯.৫:১
  • স্টার্ট করার পদ্ধতি – কিক স্টার্ট
  • গিয়ার – ৪
  • ক্লাচ – মাল্টি-প্লেট টাইপ, ওয়েট ক্লাচ 
  • ফ্রন্ট সাসপেনশন – টেলেস্কোপিক
  • ব্যাক সাসপেনশন – এসএনএস
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ফ্রন্ট/ব্যাক) – ড্রাম

দাম – বাংলাদেশে মাত্র ৯৭,৯০০ টাকা

বাজাজ পালসার ১৫০

বাজাজ পালসার ১৫০

বাজাজের ১৫০ সিসির তালিকায় নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা ও সবচেয়ে জনপ্রিয় বাইক হচ্ছে ‘পালসার ১৫০’। দামের হিসাবে এই বাইকটি অফার করছে উচ্চতর মাইলেজ ও অতুলনীয় মান, আর তাই চোখ বন্ধ করে সবার প্রথম পছন্দ এই মডেলটি। পালসার ১৫০ বাইকে দেয়া হয়েছে একটি ১৪৯ সিসি, সিঙ্গেল সিলিন্ডার ডিটিএস-আই ইঞ্জিন, আর এটি অভাবনীয় ১১৫ কি.মি. প্রতি ঘন্টা পর্যন্ত চূড়ান্ত গতি দিতে সক্ষম।

২০১৭ সালে ভারতীয় মার্কেটে নির্গমনের উপর নতুন বিধি জারি করা হলে মেনে চলার খাতিরে এই মডেলটিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। আর আগামী বছর এই মডেলটির ইঞ্জিন ও বাহ্যিক ডিজাইনে আরো কিছু পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

স্পেসিফিকেশনঃ

  • ইঞ্জিন টাইপ – সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ২ ভালভ
  • ডিসপ্লেসমেন্ট – ১৪৯ সিসি
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার – ১৩.৮ বিএইচপি @ ৮০০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন – ১৩.৪ নিউটন-মিটার (N-m) @ ৬০০০ আরপিএম
  • মাইলেজ – ৬৫ কি.মি. প্রতি লিটার
  • কুলিং – এয়ার কুলিং
  • ইগনিশন টাইপ – কার্বুরেটর
  • স্টার্ট করার পদ্ধতি – সেলফ / কিক স্টার্ট
  • গিয়ার – ৫
  • ক্লাচ – মাল্টি-প্লেট টাইপ, ওয়েট ক্লাচ 
  • ফ্রন্ট সাসপেনশন – এন্টি ফ্রিকশন (ঘর্ষণ প্রতিরোধী) বুশ সহ টেলেস্কোপিক
  • ব্যাক সাসপেনশন – ৫ উপায়ে নিয়ন্ত্রণযোগ্য, নাইট্রক্স শক অ্যাবজর্বার
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ফ্রন্ট) – ২৪০ মিমি ডিস্ক
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ব্যাক) – ১৩০ মিমি ড্রাম

দাম – বাংলাদেশে মাত্র ১৭৪,৯০০ টাকা

বাজাজ পালসার এএস ১৫০

বাজাজ পালসার এএস ১৫০

‘পালসার এএস ১৫০’ হচ্ছে একটি অ্যাডভেঞ্চার ধর্মী স্পোর্টস বাইক, যা অনুসন্ধানী ও ঘুরাঘুরি প্রিয় রাইডারদের জন্য এক দারুণ অপশন। এটির বড় ‘এএস ২০০’ ভার্সনটির সাথে ‘এএস ১৫০’ এর অনেক মিল রয়েছে, কিন্তু এটির ইঞ্জিন তুলনামূলক ভাবে ছোট। এই বাইকটির মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে একটি সংশোধিত ১৫০ সিসি এয়ার কুলিং ডিটিএস-আই ইঞ্জিন।

এই মডেলটিতে ফিচার করা হয়েছে একটি স্টাইলিশ সেমি-ফেয়ারিং, একটি প্রজেক্টর হেড ল্যাম্প এবং ঠিক ‘এএস ২০০’ মডেলটির মত একটি লম্বা উইন্ডস্ক্রিন। বর্তমানে এটি ৩টি ভিন্ন রঙের অপশনে পাওয়া যাচ্ছে – কালো, লাল ও নীল।

স্পেসিফিকেশনঃ

  • ইঞ্জিন টাইপ – সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ৪ ভালভ
  • ডিসপ্লেসমেন্ট – ১৪৯.৫ সিসি
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার – ১৬.৭৬ বিএইচপি @ ৯৫০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন – ১৩ নিউটন-মিটার (N-m) @ ৭০০০ আরপিএম
  • মাইলেজ – ৪৫ কি.মি. প্রতি লিটার
  • কুলিং – এয়ার কুলিং
  • ইগনিশন টাইপ – কার্বুরেটর
  • স্টার্ট করার পদ্ধতি – সেলফ / কিক স্টার্ট
  • গিয়ার – ৬
  • ক্লাচ – ওয়েট ক্লাচ, মাল্টি-ডিস্ক টাইপ (হাইড্রোলিক)
  • ফ্রন্ট সাসপেনশন – এন্টি ফ্রিকশন (ঘর্ষণ প্রতিরোধী) বুশ সহ টেলেস্কোপিক
  • ব্যাক সাসপেনশন – ক্যানিস্টার সহ নাইট্রক্স মনো শক অ্যাবজর্বার
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ফ্রন্ট) – ২৪০ মিমি ডিস্ক
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ব্যাক) – ১৩০ মিমি ড্রাম

দাম – বাংলাদেশে মাত্র ২২৩,৫০০ টাকা

বাজাজ পালসার এনএস ১৬০

বাজাজ পালসার এনএস ১৬০

‘পালসার এনএস ১৬০’ বাইকটি ১৫০ ও ১৮০ সিসি বাইকের মধ্যে একটা নতুন অপশন সংযোজন করেছে। এতে ফিচার করা হয়েছে একটি ১৬০.৩ সিসি ইঞ্জিন, যাতে ব্যবহার করা হয়েছে অয়েল কুলিং। বাজাজের মোটরবাইকে সাধারণত আমরা যে সাধারণ এয়ার কুলিং সিস্টেম দেখেছি, সেগুলোর তুলনায় এই মডেলটি সম্পূর্ণ ইউনিক। ‘পালসার এনএস ১৬০’ -এর চূড়ান্ত গতি ঘন্টায় ১১১.১৭ কি.মি. পর্যন্ত তোলা সম্ভব। প্রাথমিক ভাবে ২০১৭ সালে ইন্ডিয়ান মার্কেটে এই মডেলটি উন্মোচন করা হয়।

পালসার এনএস ১৬০ -এ রয়েছে সিঙ্গেল চ্যানেল এবিএস এবং ফ্রন্ট ও ব্যাক দুই দিকেই দেয়া হয়েছে ডিস্ক ব্রেক। বর্তমানে ৩ টি ভিন্ন কালার অপশনে এটি পাওয়া যাচ্ছে – নীল, ধূসর এবং লাল।

স্পেসিফিকেশনঃ

  • ইঞ্জিন টাইপ – সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ২ ভালভ
  • ডিসপ্লেসমেন্ট – ১৬০.৩ সিসি
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার – ১৫.২ বিএইচপি @ ৮৫০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন – ১৪.৬ নিউটন-মিটার (N-m) @ ৬৫০০ আরপিএম
  • মাইলেজ – ৪৫ কি.মি. প্রতি লিটার
  • কুলিং – অয়েল কুলিং
  • ইগনিশন টাইপ – কার্বুরেটর
  • স্টার্ট করার পদ্ধতি – সেলফ / কিক স্টার্ট
  • গিয়ার – ৫
  • ক্লাচ – মাল্টি-প্লেট টাইপ, ওয়েট ক্লাচ 
  • ফ্রন্ট সাসপেনশন – ১৩০ মিমি ফর্ক ট্র্যাভেল, টেলেস্কোপিক
  • ব্যাক সাসপেনশন – ১২০ মিমি হুইল ট্র্যাভেল, নাইট্রক্স সহ মনো সাসপেনশন
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ফ্রন্ট) – ২৪০ মিমি ডিস্ক
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ব্যাক) – ১৩০ মিমি মেকানিক্যাল ড্রাম

দাম – বাংলাদেশে মাত্র ১৯৯,৫০০ টাকা

বাজাজ ভি ১৫

বাজাজ ভি ১৫

ভি ১৫ বাইকটির পেছনে ছোট্ট একটা গল্প রয়েছে। এই মডেলগুলো তৈরি করার জন্য যে ধাতু ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি সংগ্রহ করা হয় ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ব্যবহৃত আইএনএস ভিকরান্ত বিমান ক্যারিয়ার থেকে। তাই এই বাইকটি হয়ে উঠেছে শক্তি ও সতর্কতার এক অনবদ্য প্রতীক। এই মডেলটি হার না মানার প্রতিচ্ছবি এবং বাজাজের দাবি অনুযায়ী বাইকটি ‘রাইডারের মনে অতুলনীয় গর্ব ও সম্মানের অনুভূতি জন্ম দেয়’।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ২৫% অধিক ঘূর্ণন অর্থাৎ টর্ক অর্জন করার জন্য বাইকটিকে আরো উন্নত করা হয়েছে। আর এটি দু’ট ভিন্ন রঙের অপশনে পাওয়া যাচ্ছে – পার্ল হোয়াইট এবং ইবোনি ব্ল্যাক।

স্পেসিফিকেশনঃ

  • ইঞ্জিন টাইপ – সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ২ ভালভ
  • ডিসপ্লেসমেন্ট – ১৪৯.৫ সিসি
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার – ১২.৮ বিএইচপি @ ৭৫০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন – ১২.৭ নিউটন-মিটার (N-m) @ ৫৫০০ আরপিএম
  • মাইলেজ – ৭০ কি.মি. প্রতি লিটার
  • কুলিং – এয়ার কুলিং
  • ইগনিশন টাইপ – কার্বুরেটর
  • স্টার্ট করার পদ্ধতি – সেলফ / কিক স্টার্ট
  • গিয়ার – ৫
  • ক্লাচ – মাল্টি-প্লেট টাইপ, ওয়েট ক্লাচ 
  • ফ্রন্ট সাসপেনশন – টেলেস্কোপিক
  • ব্যাক সাসপেনশন – টুইন শকস, নাইট্রক্স (গ্যাস পূর্ণ)
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ফ্রন্ট) – ২৪০ মিমি ডিস্ক
  • ব্রেক করার পদ্ধতি (ব্যাক) – ১৩০ মিমি ড্রাম

দাম – বাংলাদেশে মাত্র ১৫৯,৫০০ টাকা

তাহলে, কোনটা কেনা যায়?

আপনার বাজেট এবং ব্যক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভর করে দেশে সুলভ প্রত্যেকটি মোটরবাইকেই পাবেন ভিন্ন ভিন্ন আকর্ষণীয় সব ফিচার।

আপনি যদি বাজেটের মধ্যে প্রাথমিক লেভেলের বাইক কিনতে চান, তাহলে আমাদের মতে ‘বাজাজ সিটি ১০০’ বাইকটি যাচাই করে দেখতে পারেন। কেননা তুলনামূলক কম দামে সাশ্রয়ী বাইকগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভালো।

আর বাইরে অ্যাডভেঞ্চারে যাওয়ার জন্য আপনার পছন্দ যদি একটি স্পোর্টি ও স্টাইলিশ ধরণের বাইক হয়, তাহলে ‘পালসার এএস ১৫০’ আপনার জন্য পারফেক্ট হতে পারে। উচ্চ সারির দামি বাইকগুলোর মধ্যে এই মডেলটি অসাধারণ; শহরের রাস্তায় চলাচলের সময় নিঃসন্দেহে বাইকটি সকলের নজর কাড়বে।

আর হ্যাঁ, যেকোনো প্রয়োজন ও চাহিদায় আপনি সবসময়ই বেছে নিতে পারেন ‘পালসার ১৫০’ -এর মত একটি ক্লাসিক বাইক। বহু বছর ধরে আজও এই মডেলটি দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রথম পছন্দ হয়ে রয়েছে। একই দামের মধ্যে দেশের যেকোনো বাইকের তুলনায় পালসার ১৫০ দিতে পারে সেরা মূল্যে সর্বোচ্চ মান ও পারফরম্যান্স। তাই আপনার কষ্টের টাকায় নিশ্চিত ভাবে ষোল আনা সুখ ও স্বাছন্দ্য পাওয়ার জন্য এই বাইকে বিনিয়োগ করাই সেরা সিদ্ধান্ত।

বাজাজ সহ আরো নানা ব্র্যান্ডের মোটরবাইকের বিজ্ঞাপন খুঁজে পেতে বা বাজাজ মোটরবাইকগুলোর দাম যাচাই করতে আজই ভিজিট করুন Bikroy.com -এ! আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আস্থার ব্র্যান্ড থেকে খুঁজে নিন হাজার হাজার বাইকের বিজ্ঞাপন আর বেছে নিন আপনার পছন্দের বাইকটি।

 

গ্রাহকদের নিয়মিত কিছু প্রশ্নের উত্তর:

বাজাজ মোটরবাইক কোথায় কিনতে পারব?

আপনি যদি কোনো দোকান বা শো-রুম থেকে সরাসরি কিনতে চান, তাহলে সারা দেশ জুড়ে অনেক বাইক ডিলারই বিক্রির জন্য তৈরি আছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাজাজের নিজস্ব ফ্ল্যাগশিপ শপও রয়েছে।

আপনি যদি অনলাইনে বাইক কেনার কথা চিন্তা করেন, তাহলে Bikroy আপনার জন্য এক দারুণ অপশন! এখানে অগণিত সংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা রয়েছেন, যারা নতুন কিংবা ব্যবহৃত দুই রকম বাইকই বেশ ভালো দামের অফার দিচ্ছেন।

বাজাজের কিছু আসন্ন মোটরবাইকের নাম কী?

শোনা যাচ্ছে ২০২০ সালে বাজাজের নতুন দু’টি বাইক আসতে পারেঃ

  • বাজাজ পালসার ১২৫ নিয়ন
  • বাজাজ এভেঞ্জার ১৬০ এবিএস

বাজাজ মোটরবাইক কোম্পানির কাছ থেকে কোন ধরণের ওয়ার‍্যান্টি পাওয়া যায়?

আপনি আপনার মোটরবাইক কোথা থেকে কিনছেন, তার উপর করে আপনি ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে মেইনটেন্যান্স, মেরামত ও পার্টসের উপর যেকোনো পরিমাণ ওয়ার‍্যান্টি পেতে পারেন। যদি আপনি একজন সেকেন্ড হ্যান্ড ডিলারের কাছ থেকে বাইক কেনেন, তাহলে কোনো ধরণের ওয়ার‍্যান্টির সুবিধা আপনি পাবেন না। কিন্তু যদি ফ্ল্যাগশিপ শপ থেকে কেনেন, তাহলে বাইকভেদে বিভিন্ন মেয়াদের ওয়ার‍্যান্টি সুবিধা পেতে পারেন অনায়াসে।

বাইকের দাম ও স্পেসিফিকেশন তুলনা করার জন্য কোথায় খুঁজব?

মোটরবাইকের উপর বিশেষজ্ঞ বেশ কিছু ওয়েবসাইটে তুলনামূলক ফিচার দেয়া হয়। এদের মধ্যে মোটরসাইকেল ভ্যালী একটি ভালো উদাহরণ – যেখানে আপনি আপনার পছন্দ মত দু’টি মোটরবাইক বাছাই করে সেই দু’টোর মধ্যে পাশাপাশি তুলনা করে দেখতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি Bikroy – এ বাইকের পেইজে ম্যানুয়াল উপায়ে ভিন্ন ভিন্ন বাইকের মধ্যে তূলনা করতে পারেন! আপনার সুবিধার জন্য দামের রেঞ্জ এবং মডেলের ভিত্তিতে বাইকের বিজ্ঞাপনগুলোকে আলাদা ক্যাটাগরি আকারে দেখা সম্ভব। 

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close