যানবাহন

বাংলাদেশে লেটেস্ট বিলাসবহুল গাড়িগুলোর দাম

গাড়ি সবার জন্য শুধুমাত্র পরিবহনের একটি মাধ্যম নয়। কারো কারো জন্য এটি তাঁর গর্ব এবং সাফল্যের অন্যতম এক প্রতীক। সেরা মানের ও প্রথম সারির একটি গাড়ি পারে আপনাকে একজন সফল ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরতে।

বিগত বেশ কয়েক দশক ধরে নামকরা গাড়ির ব্র্যান্ডগুলো সেরা সব অটোমোবাইল বাহন তৈরি করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে যা বেশ ব্যয়বহুল। তাদের একেকটি বিলাসবহুল উদ্ভাবনের মধ্যে আপনি দেখতে পাবেন অসামান্য পারফরম্যান্স, আলট্রা স্লিক স্টাইলিশ ডিজাইন এবং ব্যয়বহুল ইন্টেরিয়র।

আজ আমরা বাংলাদেশের বেশ কিছু লেটেস্ট বিলাসবহুল গাড়ির নাম ও এদের স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে জানবো। আর এর থেকে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে, কেন একটি প্রিমিয়াম অটোমোবাইল গাড়ি কেনা সব মানুষের স্বপ্ন!

নিচে আমরা ৫টি লেটেস্ট মডেলের নাম ও তাদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছি – বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ৫টি সেরা ব্র্যান্ডের প্রতিটি থেকে একটি.করে মডেল আমরা দেখবো। 

স্পোর্টস গাড়ি

পোরশে ৭১৮ বক্সটার (জিটিএস)

পোরশে ৭১৮ বক্সটার (জিটিএস)

দামঃ বাংলাদেশে মাত্র ৫০,৪৮,৪০০ টাকা

৭১৮ বক্সটার মডেলের গাড়িটি সত্যিকার অর্থে একটি স্বপ্নের স্পোর্টস কার। এর বডিটি সুগঠিত নিচু গড়নের এবং চোখ ধাঁধানো বেশ উজ্জ্বল কিছু রঙের থিমে পাওয়া যায়। আর তাই এই রোডস্টার গাড়িটিতে একটি আলট্রা স্পোর্টি অনুভব চলে এসেছে। এর বডির আকৃতি এবং রেখা বিন্যাস এমনভাবে তৈরি, যাতে করে এর হেড উইন্ড গুলো গাড়িটির দুই পাশের বাতাস পরিবাহী  ইনটেক দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। আর এভাবেই এর সম্পূর্ণ নতুন টার্বো চার্জড ইঞ্জিনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাতাসের সরবরাহ চলতে থাকে।

ভেতরের দিকে ৭১৮ বক্সটার মডেলটিতে দেয়া হয়েছে ১৯৮৮ সিসির একটি দুর্দান্ত গতির ফ্ল্যাট ফোর ইঞ্জিন যা গাড়িটিতে বিস্ময়কর লেভেলে শক্তি এবং টর্ক উৎপাদন করতে সক্ষম। একই সাথে এটি এই মডেলটিকে ২৭৫ কিমি প্রতি ঘন্টার মত সর্বোচ্চ গতি অর্জন করতে সহায়তা করে।

এই মডেলটির ইন্টেরিয়র ডিজাইনে ফিচার করা হয়েছে স্বনির্ভর ও স্বজ্ঞাত হ্যান্ডলিং করার দক্ষতা, পারফরম্যান্স কেন্দ্রিক গঠনশৈলী এবং পরিচ্ছন্ন ঝকমকে লুক। এছাড়াও এর উপরিভাগে ফ্যাব্রিক টপ ঢাকা অবস্থায় গাড়িটিতে এক দারুণ আকৃতির সিল্যুয়েট দিতে পারে – কিন্তু এই মডেলের সেরা অনুভব তো আসলে এর ছাদবিহীন অবস্থাতেই পাওয়া যায়, তাইনা?

পোরশে ৭১৮ বক্সটার আসলে এক অসাধারণ রোডস্টার গাড়ি, যা  শুধুমাত্র আপনার গ্যারেজের আশ্রয়ে পড়ে থাকার জন্য নয় – বরং এর অসাধারণ পারফরম্যান্স আর নিখাদ সৌন্দর্য এমনই, যা বাকি পৃথিবীর সাথে শেয়ার করার মত!

মূল স্পেসিফিকেশন-

ইঞ্জিন এবং ট্রান্সমিশনঃ

  • ৩৬৫ হর্স পাওয়ার টার্বো চার্জড ২.৫ লিটার ফ্ল্যাট ফোর ১৯৮৮ সিসি ইঞ্জিন
  • ১৫১ পিএস প্রতি লিটার
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার ৩০০ পিএস @ ৬৫০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন ৩৮০ নিউটন মিটার @ ২০৫০-৪৫০০ আরপিএম
  • কম্বাইনড জ্বালানি খরচ – প্রতি ১০০ কিমি তে ৮.১ লিটার (ম্যানুয়াল), প্রতি ১০০ কিমি তে ৭.৯ লিটার (পিডিকে)
  • সর্বোচ্চ গতি ২৭৫ কিমি প্রতি ঘন্টা
  • ৬ স্পিড ম্যানুয়াল কিংবা ৭ স্পিড  অটোমেটিক ট্রান্সমিশন

পরিমাপ এবং ধারণ ক্ষমতাঃ

  • ৪৩৭৯ মিমি (দৈর্ঘ্য) x ১৮০১ মিমি (প্রস্থ) x ১২৮১ মিমি (উচ্চতা)
  • ২টি দরজা + ২ জন  মানুষ বসার ব্যবস্থা 
  • ৫৪ লিটার জ্বালানি ধারণ ক্ষমতার ট্যাংক

সাসপেনশন, ব্রেক এবং স্টিয়ারিংঃ

  • হালকা ওজনের স্প্রিং স্ট্রাট অ্যাক্সেল (ফ্রন্ট ও ব্যাক)
  • ব্রেকিং সিস্টেম – ফ্রন্ট ও ব্যাক ৪ পিস্টনের অ্যালুমিনিয়াম মনোব্লক ফিক্সড ব্রেক ক্যালিপার্স
  • স্পোর্ট ক্রনো প্যাকেজের সাথে ত্বরণ (০-১০০ কিমি প্রতি ঘন্টা) – ৫.৩ সেকেন্ড (ম্যানুয়াল), ৪.৭ সেকেন্ড (পিডিকে)
  • ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল ডিরেক্ট স্টিয়ারিং

সেডান গাড়ি

বিএমডব্লিউ ৭৪৫ এলই এক্স ড্রাইভ

বিএমডব্লিউ ৭৪৫ এলই এক্স ড্রাইভ

দামঃ বাংলাদেশে মাত্র ১,০২,৭৩,২০০ টাকা

সম্পূর্ন নতুন ৭৪৫ এলই এক্স ড্রাইভ গাড়িটি বাংলাদেশের অন্যতম লেটেস্ট গাড়িগুলোর মধ্যে একটি। এর সামনের দিকে ফিচার করা হয়েছে বিএমডব্লিউ -এর সিগনেচার কিডনি গ্রিল, প্রখর ফ্রন্ট হেডলাইট এবং একটি ঝলমলে মেটালিক পেইন্ট থিম। এক কথায় বিলাসিতার আরেক নাম হয়ে উঠেছে এই লেটেস্ট বিএমডব্লিউ গাড়িটি।

ভেতরের দিক থেকে এই মডেলটির সিট, এমনকি প্যানেলগুলোতেও সংযোগ করা হয়েছে দামি লেদারের সাজসজ্জা। ফলে ভেতরে বাইরে সব দিক থেকেই গাড়িটিতে একটি বিলাসিতা ও আড়ম্বরের ছাপ ফুটে উঠেছে।

গঠনগত দিক থেকে এই মডেলটিতে ফিচার করা হয়েছে একটি ২৯৯৮ সিসি রেঞ্জের অসাধারণ টুইন পাওয়ার টার্বো ইন লাইন ইঞ্জিন। এটি আপনাকে দারুণ মাইলেজ দেয়ার পাশাপাশি বিস্ময়কর পাওয়ার এবং টর্কের কম্বিনেশন উৎপন্ন করতে পারে। ৭৪৫ এলই মডেলটিতে ফিচার করা হয়েছে একটি হাইব্রিড জ্বালানি সিস্টেম, যা পেট্রোল এবং বিদ্যুতের কম্বিনেশন ঘটিয়ে গাড়িতে পাওয়ার সরবরাহ করে থাকে। ফলে এর থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হয় বেশ কম, আর এ কারণেই এই মডেলটি দারুণ পরিবেশবান্ধব।

এক দিকে যেমন এই মডেলটিতে বাইরে থেকে একটি খরচে ও বিলাসবহুল ভাব ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে কিন্তু এর ভেতরের ডিজাইনে ব্যবহারিক দক্ষতা এবং বাস্তবসম্মত ডিজাইনের দিক থেকে কোনো রকম আপোষ করা হয় নি। আর তাই ৭৪৫ এলই গাড়িটি এই রেঞ্জের অন্যতম সেরা সেডান গাড়ি হয়ে উঠেছে।

মূল স্পেসিফিকেশন-

ইঞ্জিন এবং ট্রান্সমিশনঃ

  • টুইন পাওয়ার টার্বো ইনলাইন ৬ সিলিন্ডার ২৯৯৮ সিসি ইঞ্জিন
  • হাইব্রিড জ্বালানি সিস্টেম
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার ২৮২ বিএইচপি @ ৫০০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন ৪৫০ নিউটন মিটার @ ১৩৮০ আরপিএম
  • মাইলেজ ৫৩ কিমি প্রতি লিটার
  • এডব্লিউডি ড্রাইভ ট্রেইন
  •  অটোমেটিক – ৮ গিয়ার, ডুয়াল ক্লাচ, কনভেনশনাল (প্রচলিত) + প্যাডেল শিফট, স্পোর্টস মোড

পরিমাপ এবং ধারণ ক্ষমতাঃ

  • ৫২১৯ মিমি (দৈর্ঘ্য) x ১৯০২ মিমি (প্রস্থ) x ১৪৮১ মিমি (উচ্চতা)
  • ৪টি দরজা + ৪ জন  মানুষ বসার ব্যবস্থা 
  • ৪৬ লিটার জ্বালানি ধারণ ক্ষমতার ট্যাংক

সাসপেনশন, ব্রেক এবং স্টিয়ারিংঃ

  • অভিযোজন ক্ষমত সম্পন্ন ২ অ্যাক্সেল এয়ার সাসপেনশন (ফ্রন্ট ও ব্যাক)
  • সামনে ও পেছনে রিজেনারেটিভ ডিস্ক ব্রেকিং সিস্টেম
  • ন্যূনতম ঘূর্ণনের পরিধি ৪৫ মিটার
  • পাওয়ারে চালিত স্টিয়ারিং

এসইউভি

অডি কিউ৭ ৩.০ টিএফএসআই কোয়াট্টরো

দামঃ বাংলাদশে মাত্র ১,১১,৩৮,৪০০ টাকা

অডির রেঞ্জ থেকে কিউ৭ মডেলটি একটি বিলাসবহুল এসইউভি গাড়ি হিসেবে সুপরিচিত। যদিও প্রচলিত আর দশটা এসইউভির তুলনায় এই মডেলটি আকারে বেশ ছোট, তবুও পারফরম্যান্সের দিক থেকে হিসাব করলে এটা বিশাল ক্ষমতা সম্পন্ন একটি গাড়ি। ২৯৬৭ সিসির রেঞ্জ থেকে একটি ভি টাইপ ইঞ্জিন এতে সংযোজন করায় এটি উচ্চতর পাওয়ার ও টর্ক উৎপাদনের পাশাপাশি ২১০ কিমি প্রতি ঘন্টার মত সর্বোচ্চ গতি তুলতে সক্ষম। এই মডেলটি শুধুমাত্র সব রকম রাস্তার উপযোগী শক্তিশালী গাড়িই নয়, বরং একই সাথে এটি একটি স্পোর্টস কার হিসেবেও দ্বিগুন পারফরম্যান্স দিতে পারে। শূন্য থেকে ১০০ কিমি প্রতি ঘন্টা ত্বরণ সৃষ্টি করাতে কিউ৭ গাড়িটির মাত্র ৬.৯ সেকেন্ড সময় লাগে।

পাওয়ারের পাশাপাশি কিউ৭ মডেলটি বেশ বাস্তবধর্মী এবং ব্যবহারিকও বটে। এর স্মার্ট স্টার্ট/ স্টপ ফাংশনটি অতি ট্রাফিকেও নিমেষেই এর ইঞ্জিন পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে সহায়তা করে – ফলে কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমন হয় খুবই কম। এছাড়াও এতে রয়েছে একটি বড়সড় মাপের জ্বালানি ধারণ ক্ষমতা এবং এটি একবারে ১০০ লিটার পর্যন্ত পেট্রোল ট্যাংকে ধরে রাখতে পারে। আর তাই আপনাকে বার বার পেট্রোল  নেওয়ার জন্য গ্যাস স্টেশনগুলোতে গিয়ে লাইন ধরতে হবে না।

এছাড়াও অডি কিউ৭ একই সাথে ৭ জন মানুষ আরাম করে বসার সুযোগ দিচ্ছে, আর তাই বড় পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি দারুণ পছন্দের অপশনে পরিণত হয়েছে।

মূল স্পেসিফিকেশন-

ইঞ্জিন এবং ট্রান্সমিশনঃ

  • ভি টাইপ ২৯৬৭ সিসি ইঞ্জিন
  • সিআরডিআই জ্বালানি সিস্টেম
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার ৩২৮ বিএইচপি @ ৫৫০০-৬৫০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন ৪৪০ নিউটন মিটার @ ২৯০০-৫৩০০ আরপিএম
  • মাইলেজ ৮ কিমি প্রতি লিটার
  • সর্বোচ্চ গতি ২১০ কিমি প্রতি ঘন্টা
  • এডব্লিউডি ড্রাইভ টাইপ
  •  অটোমেটিক – ৬ স্পিড গিয়ার ট্রান্সমিশন

পরিমাপ এবং ধারণ ক্ষমতাঃ

  • ৫০৮৬ মিমি (দৈর্ঘ্য) x ১৯৮৩ মিমি (প্রস্থ) x ১৭৩৭ মিমি (উচ্চতা)
  • ৫টি দরজা + ৭ জন  মানুষ বসার ব্যবস্থা 
  • ১০০ লিটার জ্বালানি ধারণ ক্ষমতার ট্যাংক

সাসপেনশন, ব্রেক এবং স্টিয়ারিংঃ

  • ফ্রন্ট সাসপেনশন – ৪ লিংক ফ্রন্ট, ডাবল আপার ও লোয়ার উইশবোন, এন্টি রোল বার, এয়ার সাসপেনশন
  • ব্যাক সাসপেনশন – উইশবোনের সাথে সেলফ ট্র্যাকিং ট্যাপিজয়েডাল লিংক, এন্টি রোল বার, এয়ার সাসপেনশন
  • ফ্রন্ট  ও ব্যাক ভেন্টিলেটেড ডিস্ক ব্রেকিং সিস্টেম
  • ত্বরণ শূন্য থেকে ১০০ কিমি প্রতি ঘন্টায় আসতে পারে ৬.৯ সেকেন্ডে
  • পাওয়ারে চালিত স্টিয়ারিং

মার্সিডিজ বেনজ জি৩৫০ডি

মার্সিডিজ বেনজ জি৩৫০ডি

দামঃ বাংলাদেশে মাত্র ১,৭৬,৯০,৪০০ টাকা

মার্সিডিজ বেনজ জি৩৫০ডি গাড়িটি মানেই পাওয়ারের সাথে ব্যবহারিক দক্ষতার সমন্বয়।

যদিও এই ব্র্যান্ডটি এর কিংবদন্তি রূপালি রঙা সেডান গাড়িগুলোর জন্য বিখ্যাত, তবুও এর জি সিরিজের মডেলগুলোর ক্ষেত্রে মার্সিডিজ সত্যিকার অর্থে পারফরম্যান্সের দিক থেকে বিরাট সাফল্য লাভ করেছে। জি৩৫০ডি মডেলটি পাওয়ার এবং বড়ত্বের হিসাবে বাজারের অন্যান্য যেকোনো এসইউভির তুলনায় বেশি এগিয়ে রয়েছে। এর ইন্ডাস্ট্রিয়াল মানের কঠোর মজবুত বাহ্যিক গড়ন এই মডেলটিকে বেশ রাফ অ্যান্ড টাফ আউটলুক এনে দিয়েছে। তবে এর ইন্টেরিয়র ডিজাইন আবার একেবারেই আলাদা।

ভেতরের দিক থেকে এই মডেলটিতে দেয়া হয়েছে দারুণ আরামদায়ক ও উচ্চ মানের লেদার সাজসজ্জা বিশিষ্ট সিট। এই এসইউভিটিতে খুব সহজেই ৫জন আরাম করে বসতে পারেন, আবার পেছনে ব্যাপক পরিমাণে ট্রাংক স্পেস খালি থেকে যায়। আর এতে একটি সুবিশাল ৯৬ লিটার জ্বালানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন  ট্যাংকও রয়েছে।

বাহ্যিক চেহারার কথা বাদ দিলে এই মডেলটিতে ফিচার করা হয়েছে একটি ভি৬ ২৯২৫ সিসির ইঞ্জিন, যা একটি পেট্রোল ইনজেকশন জ্বালানি সিস্টেম দ্বারা চলে। যদিও এই গাড়িটির মাইলেজ একেবারে সেরা মানের না হলেও এটা ১৯৯ কিমি প্রতি ঘন্টার মত সর্বোচ্চ গতি অর্জন করতে পারে এবং কঠোর থেকে কঠোরতর পথ ঘাটে চলাচল করতে সক্ষম। 

ইঞ্জিন এবং ট্রান্সমিশনঃ

  • ভি৬ পেট্রোল ২৯২৫ সিসি ইঞ্জিন
  • পেট্রোল ইনজেকশন জ্বালানি সিস্টেম
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার ২৮৬ বিএইচপি @ ১২০০-৩২০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন ৬০০ নিউটন মিটার @ ২৫০০-৩৫০০ আরপিএম
  • মাইলেজ ১৩ কিমি প্রতি লিটার
  • সর্বোচ্চ গতি ১৯৯ কিমি প্রতি ঘন্টা
  • এডব্লিউডি ড্রাইভ টাইপ
  •  অটোমেটিক – ৯ স্পিড গিয়ার ট্রান্সমিশন

পরিমাপ এবং ধারণ ক্ষমতাঃ

  • ৪৮১৬ মিমি (দৈর্ঘ্য) x ১৯৭৬ মিমি (প্রস্থ) x ১৯৩৮ মিমি (উচ্চতা)
  • ৫টি দরজা + ৫ জন বসার ব্যবস্থা 
  • ৯৬ লিটার জ্বালানি ধারণ ক্ষমতার ট্যাংক

সাসপেনশন, ব্রেক এবং স্টিয়ারিংঃ

  • দৃঢ় লিফ স্প্রিং সাসপেনশন (ফ্রন্ট ও ব্যাক)
  • ভেন্টিলেটেড ডিস্ক ব্রেকিং সিস্টেম (ফ্রন্ট ও ব্যাক)
  • ত্বরণ শূন্য থেকে ১০০ কিমি প্রতি ঘন্টায় আসতে পারে ৭.৪ সেকেন্ডে
  • পরিবর্তনযোগ্য পাওয়ারে চালিত স্টিয়ারিং

রেঞ্জ রোভার ভেলার পি৩৮০ আর-ডাইনামিক এইচএসই

রেঞ্জ রোভার ভেলার পি৩৮০ আর-ডাইনামিক এইচএসই

দামঃ বাংলাদেশে মাত্র ৬৩,২৫,২০০ টাকা

যখনই আপনি উচ্চ সারির এসইউভিগুলোর কথা চিন্তা করেন, তখন প্রথমেই আপনার মনে যে নামটি চলে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে, তা হলো রেঞ্জ রোভার।

আলট্রা স্টাইলিশ সব রাস্তায় চলাচলের উপযোগী এই বাহনগুলো বহু বছর ধরে আমরা দেখে আসছি এবং সারা বিশ্ব জুড়ে উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি পছন্দ হয়ে রয়েছে রেঞ্জ রোভার। রেঞ্জ রোভার মডেলগুলোর প্রত্যেকটিই সেই শুরু থেকে মসৃণ পারফরম্যান্স, বিশালাকার ধারণ ক্ষমতা এবং এর যাত্রীদের জন্য খুবই আরামদায়ক।

ভেলার পি৩৮০ ভার্সনের মডেলটি এর অন্যান্য ভার্সনের তুলনায় অনেক বেশি কাস্টমাইজ করার ক্ষমতা মানুষকে দিচ্ছে। ফলে গাড়ি মালিকেরা ঠিক তাদের নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী পারফেক্ট একটি কাস্টমাইজ করা ভার্সন পেতে পারেন। তার উপর এই ভার্সনটি অনেক বেশি ভবিষ্যৎ ধর্মী এবং স্লিক ডিজাইনের হওয়ার কারণে বাকি ভার্সনগুলোর তুলনায় এটাই সবচেয়ে বেশি স্টাইলিশ হিসেবে গণ্য করা হয়। 

অভ্যন্তরীণ গড়ণের সাথে এর আধুনিক ও স্লিক বাহ্যিক গঠনশৈলীর এক দারুণ সামঞ্জস্য রয়েছে। পি৩৮০ মডেলটিতে একই সাথে ৫ জন মানুষ বেশ আরামের করে বসতে পারেন এবং গাড়িতে চলাচলের পুরোটা সময় জুড়ে নানা রকম বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই মডেলটি ২১৭ কিমি প্রতি ঘন্টার মত অবিশ্বাস্য এক সর্বোচ্চ গতি অর্জন করতে পারে এবং শূন্য থেকে ১০০ কিমি প্রতি ঘন্টা গতি তুলতে এর সময় লাগে মাত্র ৬.৭ সেকেন্ড। এতে সংযোগ করা হয়েছে একটি টিডি৪ ১৯৯৭ সিসি ইঞ্জিন যাতে দেয়া হয়েছে একটি সিআরডিআই জ্বালানি সিস্টেম। এর অল হুইল ড্রাইভ (এডব্লিউডি) সিস্টেমের সাথে জোড় বেঁধেছে পাওয়ারে চালিত পরিবর্তনযোগ্য স্টিয়ারিং, আর তাই বাহনটির নিয়ন্ত্রণ হয়ে উঠেছে আরও ভালো এবং উন্নত।

সামগ্রিকভাবে একটি পারিবারিক গাড়ি হিসেবে রেঞ্জ রোভার ভেলার পি৩৮০ গাড়িটির তুলনা হয় না।

মূল স্পেসিফিকেশন-

ইঞ্জিন এবং ট্রান্সমিশনঃ

  • টিডি৪ পেট্রোল ১৯৯৭ সিসি ইঞ্জিন
  • সিআরডিআই জ্বালানি সিস্টেম
  • সর্বোচ্চ পাওয়ার ২৪৭ বিএইচপি @ ৫৫০০ আরপিএম
  • সর্বোচ্চ টর্ক/ ঘূর্ণন ৩৬৫ নিউটন মিটার @ ১৫০০ আরপিএম
  • মাইলেজ ৮ কিমি প্রতি লিটার
  • সর্বোচ্চ গতি ২১৭ কিমি প্রতি ঘন্টা
  • এডব্লিউডি ড্রাইভ টাইপ
  •  অটোমেটিক – ৮ গিয়ার ট্রান্সমিশন

পরিমাপ এবং ধারণ ক্ষমতাঃ

  • ৪৭৯৭ মিমি (দৈর্ঘ্য) x ২১৪৫ মিমি (প্রস্থ) x ১৬৬৫ মিমি (উচ্চতা)
  • ৪টি দরজা + ৫ জন  বসার ব্যবস্থা 
  • ৬৩ লিটার জ্বালানি ধারণ ক্ষমতার ট্যাংক

সাসপেনশন, ব্রেক এবং স্টিয়ারিংঃ

  • ইলেকট্রনিক এয়ার সাসপেনশন (ফ্রন্ট ও ব্যাক)
  • ক্যালিপার ভেন্টিলেটেড ডিস্ক ফ্রন্ট ব্রেকিং সিস্টেম (ফ্রন্ট)
  • ডিস্ক রিয়ার ব্রেকিং সিস্টেম (ব্যাক)
  • ত্বরণ শূন্য থেকে ১০০ কিমি প্রতি ঘন্টায় আসতে পারে ৬.৭ সেকেন্ডে
  • পাওয়ারে চালিত পরিবর্তনযোগ্য স্টিয়ারিং

উপসংহার

একটি উচ্চ সারির বিলাসবহুল গাড়ি কেনাকে অনেকেই তার জীবনের অন্যতম সেরা মাইলফলক হিসেবে দেখে থাকেন। পাশাপাশি একটি ভালো মানসম্মত বাহন আপনার সারা জীবনের পথচলার সঙ্গী হতে পারে। এছাড়াও এটা আপনাকে সব সময় মনে করিয়ে দেবে, জীবনের এই পর্যায়ে এসে আপনার প্রাপ্তিগুলো কতটা মধুর ছিল। আপনি যদি একটি প্রিমিয়াম মানের গাড়ি কেনার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে প্রথমেই আপনার উচিৎ হবে আপনার চাহিদা সম্পর্কে পুরো ধারণা প্রস্তুত করা।

আপনি যদি আপনার পরিবারের জন্য একটি গাড়ি কেনার কথা চিন্তা করেন, তাহলে এখানে উল্লেখ করা এসইউভি গুলোর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। শহরের মধ্যেই যদি আপনার চলাফেরা সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে রেঞ্জ রোভার গাড়িটি আপনার জন্য অসাধারণ একটি অপশন হতে পারে। কিন্তু আপনি ও আপনার পরিবার যদি কিছুদিন পর পর শহরের বাইরে কিছুটা দুর্গম স্থান, যেমন পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত করে থাকেন, তাহলে কিছুটা বাড়তি বিনিয়োগ করে জি৩৫০ডি গাড়িটি কেনাই আপনার জন্য সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্ত হবে।

অন্যদিকে আপনার সবচেয়ে বড় চাহিদা ও প্রাধান্য যদি গাড়ির গতি হয়ে থাকে, তাহলে পোরশে বক্সটার এবং অডি কিউ৭ এই দু’টো গাড়িই আপনার জন্য বেশ ভালো হবে।

সব শেষে আপনি যদি এমন একটি গাড়ি কিনতে চান যেটা বিলাসিতা ও আভিজাত্যের আরেক নাম হবে, তাহলে বিএমডব্লিউ ৭৪৫ এলই মডেলের সেডান গাড়িটি বেছে নিন। এটাই আপনার জন্য ব্যবহারিক ও বাস্তবসম্মত একটি অপশন হবে, বিশেষ করে আপনি যদি ঢাকা শহরের পথে চলাচল করার পরিকল্পনা করে থাকেন। এটা এতটাই মার্জিত যে, অনেক বেশি চোখ ধাঁধানো বা মাত্রাতিরিক্ত দৃষ্টি আকর্ষণ করবে না। আবার আপনার চলার পথে বেশ কিছু রুচিশীল মানুষের নজরও কাড়তে বাধ্য এই মডেলটি।

বাংলাদেশে লেটেস্ট গাড়িগুলোর দাম জানার জন্য আজই ভিজিট করুন Bikroy.com। সারা দেশের শত শত বিক্রেতাদের পোস্ট করা শত শত প্রিমিয়াম গাড়ির বিজ্ঞাপনের মধ্যে থেকে সার্চ করে খুঁজে নিন আপনার স্বপ্নের গাড়িটি – হোক সেটা নতুন, ব্যবহৃত, কিংবা রিকন্ডিশনড।

গ্রাহকদের নিয়মিত কিছু প্রশ্নের উত্তর:

বিশ্বস্ত ডিলারদের কোথায় খুঁজে পাবো?

এই জন্য সবার আগে যে কাজটা আপনাকে করতে হবে তা হলো বাংলাদেশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটগুলোতে আপনার পছন্দের গাড়ির ব্র‍্যান্ডটি সার্চ করে দেখা। সাধারণত তারা সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন অনুমোদন প্রাপ্ত ডিলারদের ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য দিয়ে থাকেন। 

এছাড়াও আপনি Bikroy এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ভালো ডিলারদের খোঁজ পেতে পারেন। দেশের অনেকগুলো শোরুম থেকেই তাদের গাড়ির প্রচারণা করার জন্য এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে থাকেন। অতএব আপনি এখানেও খুব সহজেই বাছাই করে নেওয়ার জন্য বেশ কিছু ভালো ডিল খুঁজে পাবেন। 

উচ্চ সারির সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়িগুলোতে ভালো ডিলস কীভাবে পেতে পারি?

Bikroy-এ আপনি পাবেন অগণিত বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে দারুণ সব অফার দেয়া বিভিন্ন সেকেন্ড হ্যান্ড উচ্চ সারির গাড়ির বিজ্ঞাপন। এখানে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মধ্যে থেকে স্ক্রল করে আপনি গাড়িগুলোর দাম এবং অবস্থার মধ্যে তুলনা করে দেখতে পারবেন এবং পণ্যের চাহিদার সাথে যেই বিক্রেতার অফার সবচেয়ে বেশি মিলে যায়, তাকেই বাছাই করে নিতে পারবেন।

উচ্চ সারির বিলাসবহুল গাড়িগুলোর জন্য কি কোনো রকম আর্থিক সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে?

আপনার গাড়ি কেনার বাজেটে কিছুটা অর্থ ফাইন্যান্স করার জন্য সেরা উপায় হচ্ছে যেকোনো নির্ভরযোগ্য ব্যাংকের কাছ থেকে একটি গাড়ির লোন নেওয়া। তবে আপনি যদি নানা ধরণের কাগজপত্রের ঝামেলা এবং সুদে অংশগ্রহণ কর বা পরিশোধ করার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে বিভিন্ন গাড়ির ডিলারশীপগুলোর কাছ থেকে ফাইন্যান্সিং সুবিধা লাভ করার চেষ্টা করতে পারেন। 

ডিস্ট্রিবিউটরদের মধ্যে অনেকেই স্বল্প পরিমাণ সুদে ইন্সটলমেন্ট ব্যবস্থায় গাড়ি কেনার সুবিধা দিয়ে থাকেন। অতএব আপনি আপনার সুবিধা ও অবস্থা বুঝে তাদের সাথে ভালো একটা ডিল পরিকল্পনা করে নিতে পারবেন।

বিলাসবহুল এই গাড়িগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কেমন?

সাধারণত অন্যান্য সাশ্রয়ী ও বাজেটধর্মী গাড়ি, যেমন টয়োটা, নিশান ইত্যাদির তুলনায় দামি ও বিলাসবহুল গাড়িগুলোর জন্য বেশ নিয়মিত এবং যত্নশীল রক্ষণাবেক্ষণ করার প্রয়োজন হয়। গড়ে আপনার গাড়ির জন্য প্রতি ৬ মাস পর পর অথবা ১০ হাজার কিমি চালানোর পর সার্ভিসিং সুবিধা নিতেই হয়। আর এর যাবতীয় সব রকম মেইনটেন্যান্স এবং পরিস্কার করার কাজ একটা বিশ্বস্ত গ্যারেজে করাতে হয়। এক বছরে এই ধরণের মেইনটেন্যান্স করানোর জন্য আপনাকে গাড়ির মোট দামের ১ থেকে ৫ শতাংশ পরিমাণ খরচ করতে হতে পারে।

একটি প্রিমিয়াম গাড়ির দীর্ঘ আয়ু এবং পারফরম্যান্স দীর্ঘদিন পর্যন্ত বহাল রাখার জন্য এর যথাযথ পরিচর্যা করার প্রয়োজন পড়ে। অতএব এরকম যেকোনো একটা গাড়ির পিছনে বিনিয়োগ করার আগে ভালোভাবে চিন্তা ভাবনা করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ!

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close