প্রপার্টি

বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টর নিয়ে Bikroy.com এর প্রথম ওয়েবিনার আয়োজন


গত জুন মাসে প্রচারিত হয় Bikroy.com এর সর্বপ্রথম ওয়েবিনার সেশন যার আলোচ্য বিষয় ছিলো “বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টরে কোভিড-১৯ এর প্রভাব এবং ক্রেতা ও বিক্রেতাদের করণীয়”। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টরের প্রতিষ্ঠিত এবং স্বনামধন্য কয়েকজন ব্যক্তিত্ব। তাঁরা হচ্ছেন – Building Technology & Ideas Ltd. (bti)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এফ. আর খান, Anwar Landmark Ltd.-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হোসাইন খালেদ, এবং Assure Group-এর সিইও এম. আরিফুর রহমান সজল; তাঁদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন Bikroy.com-এর কো-ম্যানেজিং ডিরেক্টর ঈশিতা শারমিন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা ওয়েবিনারটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন Bikroy.com-এর হেড অব প্রপার্টি এমদাদুল হক (মবিন)।

Bikroy ডাটা অনুযায়ী প্রপার্টি মার্কেটের ট্রেন্ড

শুরুতেই Bikroy.com ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রপার্টি মার্কেটের কিছু ট্রেন্ড তুলে ধরা হয়। সেই ডাটা অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে মে মাসে বিক্রেতাদের গ্রোথ রেট ছিলো ৫৭%। প্রপার্টি ক্যাটাগরিতে মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫%। বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করা আগ্রহী ক্রেতাদের সংখ্যা প্রায় ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধুমাত্র প্রপার্টি ক্যাটাগরিতে পেইজ ভিউ ছিলো প্রায় ১ কোটি। এছাড়াও সেশন সংখ্যা ছিলো প্রায় ৬ লাখ এবং প্রপার্টি ক্যাটাগরি ভিজিটররা গড়ে ৮ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে দেখেছেন।

রিয়েল এস্টেট সেক্টরে কোভিড-১৯ এর প্রভাব এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের করণীয়

এই প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে Building Technology & Ideas Ltd. (bti)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এফ. আর খান জানান যে, ২০১৮ সাল থেকেই বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টরে বাজারমূল্য মোটামুটি একটি   স্থিতিশীল পর্যায়ে ছিলো। কোভিড-১৯ এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এটি পুরো পৃথিবী জুড়েই বিরাজমান এবং এটির প্রভাব ঠিক কতদিন পর্যন্ত থাকবে সে সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে জানার উপায় নেই। তাই প্রতিষ্ঠিত ডেভেলপার কোম্পানি, যারা ক্রেতাদের কাছে ভালোমানের প্রজেক্ট হস্তান্তর করে থাকে তাদের পক্ষে আমদানি করা কাঁচামালের দাম বেড়ে যাবার কারণে খুব বেশি লাভেরও সুযোগ নেই আবার ভবিষ্যতে দাম কমানোর সুযোগও কম থাকবে। এই সময় ডেভেলপার কোম্পানিগুলোকে সরকার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কম ইন্টারেস্ট রেটে যদি আর্থিক ব্যাক-আপ দিতে পারে তবে আগামী ৬ মাসের মধ্যেই রিয়েল এস্টেট সেক্টরের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। একই সঙ্গে তিনি জমির মালিকদের কাছেও তিনি বাজারমূল্যের বাস্তবতা বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। 

একই বিষয়ে Anwar Landmark Ltd.-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হোসাইন খালেদ এর কাছে মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যত তাড়াতাড়ি স্টিমুলাস বা উদ্দীপনামূলক প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে তত ক্রেতারা উপকৃত হবেন। শহর এবং গ্রামাঞ্চল উভয় জায়গার জন্যই যদি ব্যাংকিং এবং নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ৫-১০ হাজার কোটি টাকার ফাইন্যান্সিয়াল স্কিম প্রদান করার ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়, তবে তা গ্রাহকরা সাবলীলভাবে রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে হোম লোনের পরিমাণ বাড়ানোর ব্যাপারে পরামর্শ দেন তিনি যেহেতু হোম লোনের ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। সর্বোপরি তিনি গ্রাহকদের বুঝে শুনে কেবলমাত্র প্রতিষ্ঠিত ডেভেলপারদের সাথেই যুক্ত হবার জন্য আহ্বান জানান। 

Assure Group-এর সিইও এম. আরিফুর রহমান সজল এর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন যে, মানসম্মত প্রজেক্ট ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে হলে তা ব্যয়বহুল হবেই, এক্ষেত্রে দাম কমানোর সুযোগ খুব কম। তাঁরা চলমান প্রজেক্টগুলো ক্রেতাদের কাছে যথাসময়ে হস্তান্তরের লক্ষ্যে ভার্চুয়াল ট্যুর, ইমেইলের মাধ্যমে নিয়মিত সাইট আপডেট, দর্শনার্থীদের এবং কর্মরত শ্রমিকদের বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে থাকেন। একই সাথে তিনি সকল অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় কামনা করেন। ক্রেতাদের বিনিয়োগে উৎসাহী করতে অনুষ্ঠানের বাকি ২ জন অতিথির মতো তিনিও সরকার এবং ব্যাংকগুলোর ভূমিকার কথা বলেন। তিনি বলেন যে আগামী ৬ মাস যদি দৈনিক এবং মাসিক ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ক্ষেত্রে ডেভেলপারগুলোকে কম ইন্টারেস্ট রেট প্রদান করা হয় তবে প্রজেক্টগুলোর কাজ অব্যাহত রাখা সহজ হবে। এছাড়াও তিনি জানান যে, যেসব ক্রেতা রিয়েল এস্টেট সেক্টরে বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং এর ক্রমান্নোতি সম্পর্কে অবগত আছেন তাঁরা অবশ্যই প্রপার্টি মার্কেটে বিনিয়োগ করবেন। 

প্রশ্নোত্তর পর্ব

ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের কাছে দর্শকদের কিছু প্রশ্ন ছিলো। নিচে তার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলোঃ

প্রশ্ন ১. SME পর্যায়ের রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের জন্য আপনাদের পরামর্শ কী থাকবে?

উত্তরঃ এই প্রশ্নের উত্তরে Building Technology & Ideas Ltd. (bti)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এফ. আর খান এই পর্যায়ে নতুন কোনো প্রজেক্টে কাজ না করে হাতে থাকা প্রজেক্টগুলো চালিয়ে যাবার ব্যাপারে পরামর্শ দেন। তিনি তাঁদেরকে ভীত হয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে দাম কমিয়ে না ফেলার পরামর্শও দেন কেননা এতে মার্কেটে থাকা সকল পক্ষের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রজেক্ট চালিয়ে যাবার জন্য তাঁদেরকে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে একটু বেশি সময় এবং ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে একটু বেশি ইক্যুয়িটি চেয়ে নেবার ব্যাপারেও পরামর্শ দেন।

প্রশ্ন ২. কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে আন্ডার-কন্সট্রাকশন প্রজেক্টগুলোর তুলনায় কী রেডি-ফ্ল্যাটগুলোর চাহিদা বেড়ে যাবার কোনো সম্ভাবনা রয়েছে?

উত্তরঃ এই প্রশ্নের উত্তরে Anwar Landmark Ltd.-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হোসাইন খালেদ বলেন যে, ডেভেলপারদের জন্য ব্যাংকগুলো র‍্যাংকিং ব্যবস্থা করে থাকে, আগ্রহী গ্রাহকরা সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আর গ্রাহকদের বিনিয়োগে উৎসাহী করতে ব্যাংকগুলোর হোম লোন সুবিধা তো আছেই। এই পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের উচিত হবে তাঁদের সম্পত্তির মাননির্ণয় করা। তাই যদি গ্রাহকের কাছে  নিষ্পত্তিযোগ্য আয় থেকে থাকে তবে অবশ্যই উচিত হবে এই সেক্টরে বিনিয়োগ করা। সেটি রেডি ফ্ল্যাট, আন্ডার-কন্সট্রাকশন প্রজেক্ট বা জমি – যেকোনোটিই হতে পারে। 

প্রশ্ন ৩. এই সময়ে গ্রাহক আকর্ষণের জন্য ডেভেলপারদের কী করা উচিত?

উত্তরঃ Assure Group-এর সিইও এম. আরিফুর রহমান সজল এর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন যে, ডেভেলপারদের উচিত হবে হাতে থাকা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল এবং আর্থিক ব্যাক-আপ বিবেচনা করে তবেই কোনো নতুন কাজে জড়িত হওয়া। আর যারা ভাড়া বাসায় থাকছেন তাঁরা যদি ভাড়ার টাকার সাথে আরও কিছু টাকা মিলিয়ে কিস্তি পরিশোধে আগ্রহী থাকেন তবে তাঁদের একটি নিজস্ব ফ্ল্যাট থাকবে যা একটি চিরস্থায়ী সম্পত্তি। কোনো ডেভেলপারের সাথে কাজ শুরু করার পূর্বে গ্রাহকদের উচিত হবে রিয়েল এস্টেট সেক্টরে তাঁদের নাম এবং খ্যাতি, তাঁদের হ্যান্ড ওভার করা প্রজেক্ট, বর্তমানে চলমান প্রজেক্ট, আর্থিক পার্টনার ইত্যাদি বিবেচনা করে নেওয়া।

প্রশ্ন ৪. এখন যেহেতু Below The Line (BTL) মার্কেটিং বন্ধ রয়েছে, সেক্ষেত্রে ডেভেলপারদের কীরকম মার্কেটিং কৌশল অবলম্বন করা উচিত?

উত্তরঃ Bikroy.com-এর কো-ম্যানেজিং ডিরেক্টর ঈশিতা শারমিন এই প্রশ্নের উত্তরে জানান যে, অনলাইন মার্কেটিং-ই এই সময়ে সবচেয়ে উপযুক্ত একটি মাধ্যম। ক্রেতা আকর্ষণের জন্য এখন ডেভেলপারগুলোর ডিজিটাল উপস্থিতি বাড়াতে হবে। সাথে সাথে গ্রাহকদের এটাও জানাতে হবে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়েল এস্টেট সেক্টরে যেই প্রাইসিং রয়েছে সেটা কোনোভাবেই অযৌক্তিক নয়। আর বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টরে সবসময়ই ক্রমোন্নতি হয়। ক্রেতাদের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাসটা আমাদের গড়ে তুলতে হবে। 

একই প্রশ্নের উত্তরে Assure Group-এর সিইও এম. আরিফুর রহমান সজল বলেন যে, রিয়েল এস্টেট-এর প্লেয়ারদের এখন উচিত হবে স্মার্টলি বিজনেস এর কৌশলকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করা। ছবির পাশাপাশি থ্রিডি মডেল, ওয়াক-থ্রু ভিডিও গ্রাহক আকর্ষণের জন্য করা যেতে পারে। এছাড়াও সেকেন্ডারি মার্কেটে যেসব মার্কেটপ্লেস রয়েছে তাঁদেরকেও তিনি রেডি ফ্ল্যাটগুলোতে লাইভ সেশন করার আহ্বান জানান। সাথে সাথে তাঁদের ডেভেলপারদের জনবল, বিনিয়োগ ক্ষমতা, হ্যান্ড ওভার করা প্রজেক্ট এবং আগামী ৩ বছরের আর্থিক ব্যাক-আপ মূল্যায়নের মাধ্যমে র‍্যাংকিং করার ব্যাপারেও পরামর্শ দেন তিনি।

প্রশ্ন ৫. ঢাকার বাইরের শহর বা এলাকাগুলোতে বিশেষ করে চট্টগ্রামে রিয়েল এস্টেট সেক্টরের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ অবস্থা কীরকম হতে পারে?

উত্তরঃ প্রশ্নটির উত্তরে Building Technology & Ideas Ltd. (bti)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এফ. আর খান বলেন যে, চট্টগ্রামে সবসময়ই ঢাকার তুলনায় বেশি কন্সট্রাকশন প্রাইস বেশি কিন্তু সে তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম। তাই ডেভেলপারদের জন্য সেখানে টিকে থাকা বেশ কঠিন। আর টিকে থাকতে হলে বেশি বেশি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতে হবে। কুমিল্লার ব্যাপারে তিনি বলেন যে এখনো সেখানে নিজস্ব বাড়ি এবং একান্নবর্তী পরিবারের আধিক্য বেশি।

তবে ঢাকা শহরকে বিকেন্দ্রীকরণ করার জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের প্রধান কার্যালয়গুলো যেমনঃ নৌবাহিনীর হেড কোয়ার্টার চট্টগ্রাম এবং মৎস্য অধিদপ্তরকে বরিশাল এরকম প্রাসঙ্গিক জেলা শহরগুলোতে সরিয়ে নেবার ব্যাপারে পরামর্শ দেন। ভবিষ্যতে ঢাকার অদূরে ডাউনটাউন গড়ে ওঠার ব্যাপারেও জানান তিনি যেখানে বসবাসসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থাকবে, মানুষ কেবল চাকরির জন্য ঢাকায় আসবে। 

প্রশ্ন ৬. এখন অনেক প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা ছোট অফিস নিয়ে কাজ করছে – এ অবস্থায় কমার্শিয়াল প্রপার্টিগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

উত্তরঃ প্রশ্নটি করা হলে Anwar Landmark Ltd.-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হোসাইন খালেদ বলেন যে, মানুষকে একসময় না একসময় কাজে ফেরত যেতেই হবে। কমার্শিয়াল প্রপার্টির চাহিদা সবসময়ই ছিলো, তাই খুব বেশি পরিবর্তন হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

Assure Group-এর সিইও এম. আরিফুর রহমান সজল এই পর্যায়ে বলেন যে বাংলাদেশের সম্পূর্ণ রিয়েল এস্টেট সেক্টরকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সময় চলে এসেছে যেখানে সবাই একই লক্ষ্যে একসাথে কাজ করবে। 

পরিশেষ

বর্তমানে বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টরের অবস্থা, কোভিড-১৯ পরবর্তীতে এর ভবিষ্যৎ এবং সম্পত্তি বিক্রয় বা নতুন বিনিয়োগ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়।

ফ্ল্যাট, রুম, জমি, কমার্শিয়াল প্রপার্টি ভাড়া বা কেনাবেচা ও এ সংক্রান্ত সার্ভিস নেওয়ার জন্য আজই ভিজিট করুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রপার্টি মার্কেটপ্লেস Bikroy.com-এ!

Facebook Comments
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close