কিভাবে শিক্ষার্থীরা একজন প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন

প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে
Share

আপনি কি একজন প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছেন?
পড়াশোনা শেষ করার পর বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং এ চাকরি খোঁজার ব্যাপারে দুশ্চিন্তা বা বিচলিত অনুভব করছেন?

প্রথম প্রথম কোড লিখা কিংবা প্রোগ্রামিং শুরু করাটা বেশ ভরপুর একটা কাজ মনে হতে পারে। কিন্তু এটা খুবই স্বাভাবিক! আপনার মনে নানা রকম চিন্তা ভাবনা এসে বাসা বাঁধা শুরু করে দেবে, যেমন আপনার ফোকাস কোনদিকে রাখা উচিত, ফ্রন্ট এন্ড বা সফটওয়্যারের বাইরের অবয়ব তৈরির দিকে নাকি ব্যাক এন্ড বা সফটওয়্যারের ভেতরের মূল গড়ন তৈরির দিকে? কিংবা হয়ত আপনি প্রোগ্রামিং শুরু করার প্রথম ধাপগুলো অতিক্রম করার সময়ও বিচলিত হয়ে পড়তে পারেন!

বাংলাদেশে, এমনকি বিশ্বব্যাপী প্রোগ্রামারদের জন্য একটি সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য যে পরিমাণ বিভিন্ন চাকরির সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে, তা থেকে সহজেই আপনি অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে পারবেন। এই চাকরিতে রয়েছে বিভিন্ন রকম সুবিধা, যেমন আপনার নিজের সুবিধা মত সময়ে কাজ করতে পারা, ভালো বেতন, অর্থবহুল কাজ এবং পাশাপাশি আপনার পছন্দমত যে কোন যায়গায় বসে কাজ করার স্বাধীনতা। একজন ভালো প্রোগ্রামার হয়ে উঠতে পারলে আপনি আপনার প্যাশন, প্রোজেক্ট ইত্যাদির ব্যাপারে নিজেই সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।

তবুও প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রে শুরুর ধাপগুলো সব সময়ই কেমন যেন এক আতঙ্কের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। নিয়োগকারীরা এমন এক ধরণের পরিপূর্ণ প্রোগ্রামারের খোঁজ করেন যার মধ্যে নানা রকম দক্ষতায় ভরপুর। কিন্তু মোটেও আশা হারাবেন না!

প্রার্থীদের মধ্যে প্রাকৃতিক ভাবে কিছু গুণাগুণ এমনিই থাকে, আর বাকি গুণগুলোকে ঝালাই করতে কিংবা অর্জন করে নিতে হয়য়!

একজন পরিপূর্ণ প্রোগ্রামারের দক্ষতা সমূহ

কারিগরী দক্ষতা:

এসকিউএল

জাভা

জাভা স্ক্রিপ্ট

মাইক্রোসফট সি শার্প

লিনাক্স

ডট নেট প্রোগ্রামিং

ওর‍্যাকল

সি প্লাস প্লাস

পাইথন

এক্সএমএল

আনুষঙ্গিক দক্ষতা:

যোগাযোগের দক্ষতা

সমস্যা সমাধান

টিমওয়ার্ক/ সহযোগিতা

রিসার্চ

সৃজনশীলতা

একজন প্রোগ্রামার হিসেবে কোথায় ও কিভাবে আপনার ক্যারিয়ার শুরু করবেন?

বাংলাদেশে ভালো চাকরির জন্য শুধুমাত্র দু’একটা গুণ নিয়েই একজন প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা সম্ভব নয়। একজন ভালো কম্পিউটার প্রোগ্রামার হয়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন রকম দক্ষতা আপনার মধ্যে থাকা জরুরি, যেমনটা উপরের ছকে বা তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

চলুন এবার শিক্ষার্থীদের জন্য এমন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করি, যেগুলো প্রোগ্রামিং এ ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আবশ্যক:

  • বেসিক গণিতে দক্ষতা

একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার মধ্যে ম্যাথমেটিক্স বা গণিতের ভালো বেসিক থাকা চাই। পাটিগণিত ও বীজগণিতের মত বেসিক ম্যাথমেটিক্সগুলোর উপর দক্ষতা কিংবা আগ্রহ না থাকলে আপনাকে প্রোগ্রামিং করার সময় বেশ ভুগতে হবে। অতএব এই দক্ষতাকে কোন ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আপনার উচিত নিজেকে গণিতের বেসিক বোঝার ব্যাপারে পারদর্শী করে তোলা।

  • সমস্যা সমাধানের প্রতি প্যাশন

প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ারে কাজ করার সময় আপনাকে যেকোন সমস্যা সমাধান করার জন্য কোড লিখার প্রয়োজন হতে পারে। অতএব আপনার মধ্যে সমস্যা সমাধান করার মত প্যাশন থাকতে হবে। আপনি যদি সমস্যা সমাধান করার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করতে ভাল না বাসেন, তাহলে আপনাকে সেই জন্য কোড লিখতেও ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

  • চমৎকার যোগাযোগের দক্ষতা

অনেকের মনেই বেশ ভুল একটা ধারণা রয়েছে যে একজন প্রোগ্রামারকে সব সময়ই শুধুমাত্র তার ডিভাইসের সামনে বসে কোড লিখে যেতে হয়। অনেকেই ঠিক এমনটাই করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এই উপায়ে তাদের সর্বোচ্চ পারফর্মেন্স দিয়ে থাকেন, কিন্তু সাফল্যের জন্য এটাই একমাত্র পথ নয়! এছাড়াও তাদেরকে তাদের যোগাযোগের দক্ষতায়ও বিশেষ পারদর্শী হতে হবে। যথাযথ যোগাযোগের দক্ষতা না থাকলে আপনাকে বাংলাদেশের যেকোন ধরণের চাকরিতেই আপনার কলীগ, সিনিয়র এবং অন্যান্যদের সাথে কথোপকথন চালিয়ে যেতে সমস্যা হবে।আপনি যদি মৌখিক আলাপচারিতায় পারদর্শী নাও হতে পারেন, তবে অন্তত লিখিত যোগাযোগ যেমন ইমেইল ইত্যাদির সাহায্যে কথোপকথন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

  • ভালো লেখার দক্ষতা

যোগাযোগের দক্ষতার কথা বলার সময় আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে আপনাকে লেখালেখির ব্যাপারেও ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। কিন্তু এছাড়াও কোড লিখা ও ডকুমেন্ট তৈরি করার জন্যও আপনার লেখার দক্ষতা ভালো হওয়া জরুরি। শুধুমাত্র যে প্রোগ্রামিং করার জন্য এর দরকার তা নয়, বরং আপনার নন-টেকনিক্যাল কলীগ, ক্লায়েন্ট কিংবা সিনিয়রদের সাথে ভালো বোঝাপড়ার জন্যও লেখনীর দক্ষতা অনেক বেশি দরকারি।

  • কম্পিউটারের উপর দক্ষতা

এখন এই গুণটি হয়ত শুনতে একেবারে মৌলিক মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি এমন একজন শিক্ষার্থীদের একজন হন যারা বাংলাদেশে তাদের ক্যারিয়ার অপশন এখনো বেছে নিতে পারেন নি এবং প্রোগ্রামিং এ আগ্রহী রয়েছেন, তাহলে প্রাথমিক ভাবে আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটারের ব্যবহার সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস অর্জন করে নিতে হবে। কেবলমাত্র তখনই আপনি একজন প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গঠন করতে পারবেন।

  • হাতের কাছে থাকা সব উৎসকে কাজে লাগানো

হয়ত এই দক্ষতাকে কখনোই আমরা সেইভাবে গুরুত্ব দিই না, কিন্তু আসলে এই দক্ষতাটির গুরুত্বও অনেক বেশি। আজকের দিনে আমাদের হাতের কাছে থাকা সবচেয়ে বড় ও কার্যকরী উৎস হচ্ছে গুগলের বিশাল দুনিয়া। কিভাবে গুগলে সার্চ করে নানা রকম তথ্য খুঁজে বের করা যায় এবং এই সব তথ্যের মধ্যে কোনগুলো সঠিক ও কার্যকর সেটা বুঝতে পারা যায়, সেই দক্ষতা থাকাটা এক ধরণের বিশেষ গুণ।

  • কৌতূহলী মনোভাব থাকা

একজন প্রোগ্রামার হিসেবে আপনাকে অবশ্যই বেশ কৌতুহলী হতে হবে! কিভাবে সব কিছু কাজ করছে এবং কেমন করে সেগুলো থেকে আরো ভালো পারফর্মেন্স বের করে আনা যায় বা কার্যকরী করে তোলা যায় সে ব্যাপারে যথাযথ ধারণা আপনাকে অর্জন করতে হবে। যদি আপনার মনে কোন আইডিয়া আসে, তাহলে সেই আইডিয়াটি তদন্ত ও কোডের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার মত কৌতুহলও আপনার মধ্যে থাকা জরুরি।

  • বিভিন্ন ধারণা সম্পর্কে জানা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সেগুলো প্রয়োগ করা

সব মিলিয়ে আপনাকে নানা রকম ধারণা সম্পর্কে জানা এবং বিশেষ বিশেষ সমস্যা সমাধানের জন্য সেই ধারণাগুলো প্রয়োগ করতে পারার মত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। অতএব শুধুমাত্র কোন কিছু শেখার জন্যই না, বরং সমস্যা সমাধানে সেই জ্ঞানকে কাজে লাগানোর জন্যও আপনাকে আপনার প্যাশন, ট্রেনিং, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।

তাহলে একজন সফল প্রোগ্রামার ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য আপনার আর কী কী প্রয়োজন হতে পারে?

আসলে, অনেক কিছুই প্রয়োজন!

কিন্তু আজকে আমরা এই প্রতিবেদনে একজন প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য শুধুমাত্র কারিগরি ধাপগুলোর দিকেই ফোকাস করবো না। যেকোন ক্যারিয়ারে সাফল্য অর্জন করার জন্য আপনার কারিগরি বিদ্যা এবং আনুষঙ্গিক বিভিন্ন দক্ষতার মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হবে। সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা ব্যবহার করে কেবলমাত্র একটি কার্যকর কোড লিখার মাধ্যমেই একজন প্রোগ্রামার সফল হতে পারেন। কিন্তু একই সাথে তাকে বার বার ব্যর্থতার মুখোমুখি হওয়ার মত সাহসী ও দৃঢ় হতে হবে। কেননা যতই অভিজ্ঞতা থাকুক না কেন, প্রত্যেকট প্রোগ্রামারই সঠিক ও কার্যকরী কোড লিখতে গিয়ে হিমসিম খান।

অনেক এক্সপার্টরা বলে থাকেন যে প্রোগ্রামিং সংক্রান্ত নানা রকম কারিগরি দক্ষতা অর্জন করাটা অত্যাবশ্যক, কিন্তু এর মধ্যে কোনটিই আনুষঙ্গিক অন্যান্য দক্ষতার প্রয়োজনকে ছোট করে দেখার জন্য যথেষ্ট নয়। সহজ ভাবে বলতে গেলে, আপনি যদি এমন একজন ব্যক্তি হন, যিনি সমস্যা সমাধান করতে জানেন, দ্রুত শিখে নিতে পারেন এবং মানুষের সাথে সমঝোতা করে চলতে জানেন; তাহলে ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা আপনারই রয়েছে।

প্রোগ্রামিং এ একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য এক্সপার্টের পরামর্শ এবং মতামত অনুযায়ী ৫টি বিশেষ পদ্ধতি নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. সমস্যা সমাধান

যেমনটা আমরা আগেই আলোচনা করেছি, প্রোগ্রামিং এর মূল উদ্দেশ্য হলো সমস্যা সমাধান করা। simpleprogrammer.com এ যেমনটা উল্লেখ করা হয়েছে, “কোথাও সমস্যা না থাকলে সফটওয়্যারেরও প্রয়োজন পড়ে না। সকল সফটওয়্যারই ডিজাইন করা হয়েছে কোন না কোন ব্যবহারের সমস্যা সমাধান করার জন্য এবং সেই সর্বজনীন সমাধানের মধ্যেই বেশ কিছু ছোট ছোট নতুন সমস্যার তালিকা থাকে, যেগুলোর সাহায্যে সমাধানটি তৈরি করা সম্ভব হয়।”

প্রোগ্রামিং এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো কোড লিখা ও প্রোগ্রাম তৈরি করার মাধ্যমে এমন কিছু সমাধান বের করে আনা, যেগুলোর সাহায্যে বিশেষ কিছু সমস্যার সমাধান করা যায়। সম্ভাব্য যেকোন রকম সমস্যা বের হলে সেটার বিপক্ষে কাজ করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধান করার জন্য আপনাকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। খুব ছোট একটা সমস্যা থেকেও যেকোন প্রোগ্রাম পুরোপুরি পণ্ড হয়ে যেতে পারে। একটি সফল ক্যারিয়ারে সহায়তা করার জন্য কার্যকরী একটি প্রোগ্রামিং সার্টিফিকেট হলো গ্রানথামস অনলাইন ইনট্রোডাকশন টু প্রোগ্রামিং এর সার্টিফিকেট কার্যক্রম।

২. তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি

একজন প্রোগ্রামার হিসেবে আপনাকে সব সময়ই কোড ও নির্দেশনা সমৃদ্ধ জটিল কিছু প্রোগ্রামিং সিকোয়েন্সের সাথে কাজ করতে হবে। আপনার মনের মধ্যে সারাক্ষণই নানা রকম সমস্যা ঘুরপাক খেতে থাকবে এবং এর থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে যথেষ্ট বিশ্রাম নেয়ার প্রয়োজন হবে। এভাবে চলতে থাকলে আপনি সহজ ব্যাপারগুলোও ভুলে যেতে শুরু করবেন এবং সামনে আপনার বড় রকম মানসিক ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে হওয়া দক্ষতাটি আসলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর, আর তা হলো মাল্টিটাস্কিং বা একসাথে নানা রকম কাজ করার অভ্যাস।

অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস এর সেরা লেখক, ডক্টর জোসেফ মারকোলা বলেন যে মাল্টিটাস্কিং এর ফলে আমাদের মন বিভ্রান্ত হয়ে আরো বেশি ভুল করে এবং তথ্য গুলিয়ে ফেলে। এই ক্ষেত্রে কাজ করছেন এমন সকলের জন্য তার এক্সপার্ট পরামর্শ হচ্ছে এক বারে কেবলমাত্র একটি সমস্যার দিকে ফোকাস করে সেটি সমাধানের চেষ্টা করা এবং তারপর নতুন কোন সমস্যায় হাত দেয়া।

তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি পাওয়ার জন্য এবং আপনার মনকে আরো কার্যক্ষমতা সম্পন্ন করে তোলার জন্য চাইলে আপনি অন্যান্য বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে দেখতে পারেন। যেমন ধরুন, মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার স্মৃতিশক্তিকে আরো প্রখর করে তুলতে পারেন। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণ ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, শখের কাজ করা এবং বিভিন্ন ব্রেইন গেম বা এক্টিভিটিতে অংশ নিতে পারেন।

৩. কার্যকরী অলসতা

বহু সফল ব্যক্তি যেমন বিল গেটস নিজের জীবনে প্রয়োগ করে থাকেন, সাফল্যের এমন অন্যতম জনপ্রিয় ও সহজ একটি মন্ত্র হচ্ছে: সবচেয়ে কঠিনতম কাজের ক্ষেত্রে একজন অলস ব্যক্তির কাছে সমাধান চেয়ে দেখুন। এর কারণ হচ্ছে একজন অলস ব্যক্তিই সেই সমস্যা সমাধান করার সবচেয়ে কার্যকরী একটি উপায় খুঁজে বের করতে পারবেন। অতএব, এখানে অলসতা মানে আসলে কোন কিছু না করে বসে থাকা নয়। বরং এটি হলো এমন এক অবস্থা যেখানে একজন মানুষ সবচেয়ে কম পরিশ্রমে যেকোন কাজ সম্পন্ন করতে চান। এই দিক থেকে অলসতা একটি ইতিবাচক গুণ বা দক্ষতা বলা চলে।

প্রোগ্রামিং এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যেকোন কাজ সম্পন্ন করার জন্য সবচেয়ে সেরা কিংবা সবচেয়ে সহজ কোন উপায় খুঁজে বের করা। এখানে পার্থক্য হচ্ছে এই যে এমনটি করার জন্য আপনাকে সবচেয়ে কার্যকরী কিছু কলাকৌশল এবং জাভা স্ক্রিপ্ট, এইচটিএমএল, সি এবং সি শার্প ইত্যাদি বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে নানা রকম পথ অবলম্বন করতে হবে।

৪. আত্ম-অনুপ্রেরণা

প্রোগ্রামিং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ডেডলাইন বা সময় সীমা। অতএব বাংলাদেশে চাকরি করার জন্য আপনাকে আপনার ক্লায়েন্ট, কোম্পানি এবং কলীগদের দেয়া কঠোর সময় সীমা মেনে চলতে হবে। সে কারণেই সব সময় নিজেকে উদ্যমী করে রাখা ও অনুপ্রেরণা যোগানো খুবই জরুরি, এমনকি যদি আপনাকে একা একা কাজ করতে হয় তখনও। অতএব নিজেকে অনুপ্রেরণা দেয়ার দায়িত্ব আপনার নিজেকেই নিতে হবে এবং একটি পেশাদারী পরিবেশে উন্নয়নের জন্য যথাযথ যোগাযোগের পাশাপাশি সময় সীমার মধ্যে কাজও সম্পন্ন করতে হবে।

৫. অধ্যবসায়

একজন প্রোগ্রামারের অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানের পরিধি যত বড়ই হোক না কেন, তাদের জীবনে পারফেক্ট কোডিং করার শতভাগ রেকর্ড থাকাটা বেশ দুর্লভ একটা ব্যাপার। প্রায় প্রত্যেকটি প্রোগ্রামারই প্রথম দফায় তাদের কোডকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন, এমনকি এর পরের অনেক দফায়ও মাঝে মাঝে কোড কাজ করে না। অতএব ব্যর্থতার সময় মনোবল হারাবেন না এবং বার বার চেষ্টা করার মাধ্যমে প্রত্যেক বারই কঠোর পরিশ্রম করতে থাকুন।

অতএব সামনে এগিয়ে চলার জন্য আপনাকে আপনার ব্যর্থতার সাথে মোকাবিলা করা শিখতে হবে। ঠিক পাজল কিংবা ধাঁধার মতই আপনার সকল ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখুন এবং যে করেই হোক তার সমাধান বের করার চেষ্টা চালিয়ে যান।

নিয়োগকারীরা কী কী গুণ খোঁজেন?

মূল কোড লেখার কাজটি নয়, বরং নিচে উল্লেখিত বিষয়গুলি আসলে প্রোগ্রামিং এর সবচেয়ে অবহেলিত কিছু দিক:

  • একজন প্রোগ্রামারকে সব সময় তার নিয়োগকারী, ক্লায়েন্ট, গ্রাহক এবং সহকর্মীদের সাথে কার্যকর ভাবে কাজ করার মত দক্ষ হতে হবে, যারা হয়ত এই টেকনিক্যাল জিনিসগুলো বোঝেন কিংবা নাও বুঝতে পারেন।
  • নতুনদের জন্য প্রবল সহমর্মিতা এবং যোগাযোগের  দক্ষতা আপনাকে যেকোন কোম্পানির জন্যই একটি সম্পদ করে তুলবে।
  • ক্লায়েন্ট এবং সিনিয়রদের নানা রকম প্রত্যাশা কার্যকর ভাবে সামলানো এবং তাদের অনির্দিষ্ট চাহিদাগুলো বুঝতে পারা।
  • কোনটি সম্ভব আর কোনটি সম্ভব নয় সে ব্যাপারে ক্লায়েন্ট এবং কলীগদের কাছে সত্যিকারের ব্যাখ্যা দেয়া।
  • টেকনিক্যাল হোক বা না হোক, যেকোন পরামর্শ, দিক নির্দেশনা ইত্যাদি গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকা।
  • আপনার কর্মস্থলের অন্যান্য মানুষদেরকে বোঝা, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাদের সাথে ভাব বিনিময় করা।

এই ব্যাপার গুলো মেনে চললে আপনি আরো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠবেন, ধারাবাহিক ভাবে উন্নতি করতে পারবেন এবং একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখার ব্যাপারে আপনার লক্ষ্য এবং প্রতিশ্রুতি মজবুত করে তুলতে পারবেন। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের যেকোন নামকরা কোম্পানিতে কিংবা আপনার আগ্রহ রয়েছে এমন যেকোন বিশেষ প্রোজেক্টের জন্য আপনি একজন মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারবেন।

উপসংহার

প্রোগ্রামিং এ একটি সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য আপনি উপরে আলোচিত দক্ষতা ও পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে আরো বিকশিত করে তুলতে পারবেন। প্রোগ্রামিং এর জটিল জগতে পা দেয়ার আগে আপনাকে কারিগরি এবং আনুষঙ্গিক দু’রকম দক্ষতাই রপ্ত করতে হবে, যাতে আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যেতে পারেন। এছাড়াও আপনার স্বাভাবিক পড়াশোনার পাশাপাশি ইনট্রোডাকশন টু প্রোগ্রামিং এর সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম গুলোতেও অংশ নিতে হবে। এতে আপনি বাংলাদেশে চাঞ্চল্যকর এবং চ্যালেঞ্জিং প্রযুক্তিগত বা কারিগরী ক্যারিয়ার গঠনের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারবেন। যেখানে মাত্র অল্প কয়েক মাসেই আপনি একটি সার্টিফিকেট অর্জন করে নিতে পারবেন, সেখানে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আপনাকে সেই শিক্ষা কাজে লাগানোর পেছনে আরো বেশি সময় দিতে হবে।

ট্রেনিং প্রোগ্রাম, ইন্টার্নশিপ, চাকরি এবং আপনার আগ্রহের নানা দিক, যেমন প্রোগ্রামিং, ডিজাইন ইত্যাদিতে ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে তথ্য খুঁজে পেতে সার্চ করুন Bikroy.com/Jobs এ।

আজই আপনার রুটিনে আমাদের এই টিপসগুলো প্রয়োগ করে দেখুন, আর প্রোগ্রামিং এ আপনার ভবিষ্যত ক্যারিয়ার গরে তোলার জন্য আমাদের প্রতিবেদনটি আপনাকে কিভাবে সাহায্য করছে তা আমাদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু!

আমাদের আরও  কিছু ক্যারিয়ার বিষয়ক প্রবন্ধঃ

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments