কীভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন?

গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার
Share

আজকাল আমাদের দেশে বেশির ভাগ ঘরেই গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়।

আমাদের মধ্যে অনেকেই নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য এই গ্যাস সিলিন্ডার ছাড়া জীবন কাটানোর কথা ভাবতেই পারি না। আমরা যারা এমন সব এলাকায় থাকি যেখানে গ্যাসের নতুন লাইন সরবরাহ করা হয় না, সেখানে তো গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা ছাড়া কোন গতিই নেই। এছাড়াও অনেকেই বাসায় ব্যাক-আপ হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার রাখেন, যাতে গ্যাসের লাইনে সমস্যা হলে সেটা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়।

সিলিন্ডারের ব্যাপক মাত্রায় ব্যবহার এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অনেকগুলো প্রাণ কেড়ে নেয়া ভয়াবহ ঘটনাটির মত নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি হওয়ার কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিত্য দিনের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার সম্পর্কে একটি পরিপূর্ণ নিরাপত্তা গাইডলাইন আপনাদের জন্য উপস্থাপন করবো।

বিভিন্ন কারণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা তেমন একটা দুর্লভ নয়। বরং আমাদের কল্পনার চেয়েও বেশি পরিমাণে এমনটা ঘটে!

গ্যাস সিলিন্ডার এবং এর নানাবিধ ব্যবহার কী কী?

এটিকে আমরা সাধারণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার হিসেবে জানি, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে এটি এলপিজি সিলিন্ডার হিসেবে পরিচিত। এলপিজি অর্থ দাঁড়ায় লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস, যা আমাদের বাসাবাড়ি, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদির দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়াও আমরা সিএনজি সিলিন্ডারও চিনি, যেগুলো আমাদের বিভিন্ন যানবাহনে ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, আর সেজন্য  সিএনজি স্টেশনের সংখ্যাও আমাদের দেশে অনেক বেশি। সিএনজি এর অর্থ হচ্ছে কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস, যা যানবাহন চালনার জন্য ব্যবহার করা হয়।

যেখানে বাংলাদেশের সরকার এখন অনেক এগিয়ে গিয়েছে এবং নিরাপত্তার মান রক্ষা করতে নানা রকম উন্নয়ন সাধন করেছে, সেখানে জনসচেতনতা তৈরি হওয়া খুবই জরুরি। একটি দুর্ঘটনা যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে, আর সেজন্য এটা জরুরি যে আমরা আমাদের ও আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোর উপর যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তা দমন করার জন্য আমরা একটু চেষ্টা করে সব গুলো নিরাপত্তা টিপস শিখে নিতে পারি।

গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে নিরাপত্তার গুরুত্ব

গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুতকারকদের জন্য একটা বড় চিন্তার বিষয় হওয়া উচিত ব্যবহারকারী জনসাধারণের নিরাপত্তা, হোক তা প্রাইভেট কিংবা পাবলিক। খুব সামান্য একটা ভুল থেকেও ঘটে যেতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা।

বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র যেমন ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ, চিকিৎসা, আতিথেয়তা, বিজ্ঞান এবং শিক্ষা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে থাকা মানুষগুলো গ্যাস সিলিন্ডারে কমপ্রেসড আকারে গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন। এই গ্যাস অনেক বেশি চাপে কমপ্রেস করা হয়ে থাকে, এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তির উন্নয়ন এই পরিমাণ আরো বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে। অতএব যথাযথ এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন এখন সময়ের দাবি এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ!

আজকের দিনে গ্যাস সিলিন্ডার প্রায় সব রকম শিল্প এবং জায়গায় নিয়মিত ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কেননা এর সুবিধা ও কার্যকারিতা অন্যান্য বিকল্পগুলোর তুলনায় অনেক বেশি, যেমন- সাশ্রয়ী দাম, গতিশীলতা, পরিবেশ বান্ধব গুণাবলী, কম মাত্রায় দূষণ ইত্যাদি। ফসিল ফুয়েল এবং কার্বন নির্গমন জাতীয় জ্বালানীর বিপরীতে এটি বর্তমানে অন্যতম এক বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু এই দারুণ বিকল্প জ্বালানীর সাথে জড়িত বিপর্যয়ের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে আজকাল। এই দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই ঘটার পেছনে অন্য যেকোন কারণের চেয়ে অজ্ঞতা, অবহেলা এবং অসচেতন ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি দায়ী।

 গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের জন্য আবশ্যক

এছাড়াও গ্যাস সিলিন্ডারগুলো নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের সাথে ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। কেননা যথাযথ ব্যবহারে ত্রুটি হলে সেই থেকে বিস্ফোরণ, অগ্নিকান্ড, প্রপার্টির ক্ষতি এবং মানুষের জন্য মারাত্মক শারীরিক আঘাত, এমনকি মৃত্যুও ঘটে যেতে পারে। অতএব অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসিক নিরাপত্তামূলক প্রোটোকল যেমন ঘরে কিংবা বাইরে উভয় জায়গায় নিরাপদ ভাবে সংরক্ষণ করা ইত্যাদি ব্যাপার জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সত্যায়িত সার্টিফাইড কোম্পানি থেকে অনুমোদিত সিলিন্ডার কিনুন

সব সময় অনুমোদিত বিক্রেতাদের কাছ থেকেই পণ্য কেনা উচিত। এছাড়াও আপনাকে এটাও খেয়াল করে দেখতে হবে যেন সিলিন্ডারগুলো সার্টিফাইড প্রস্তুতকারক কোম্পানির দ্বারা তৈরি হয়। অতএব গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করে নেয়ার চেষ্টা করুনঃ

  • নিশ্চিত করুন সিলিন্ডারে কোম্পানির সিল রয়েছে কি না
  • নিশ্চিত করুন যে সিলিন্ডারটির সেফটি ক্যাপটি সুরক্ষিত ভাবে লাগানো রয়েছে কি না
  • বিক্রেতা কিংবা ডেলিভারি ম্যানকে সিলিন্ডারের যথাযথ ব্যবহার বিধি ও ম্যানুয়াল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধা করবেন না।
  • ভূমির সমতলে সমান ও শুষ্ক জায়গায় সিলিন্ডারটি রাখুন।
  • সিলিন্ডারটি টানা হেঁচড়া করবেন না, মাটিতে গড়াবেন না কিংবা ফেলে দেবেন না। এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিশেষজ্ঞরা বিশেষ ভাবে নিষেধ করে থাকেন।

শুধুমাত্র অনুমোদিত বিক্রেতাদের কাছ থেকে সব সময় কেনার চেষ্টা করুন। অনুমোদন ছাড়া, সার্টিফিকেশন ছাড়া কিংবা অন্য কোন উপায়ে অবৈধ হওয়া বিক্রেতাদের কাছ থেকে সস্তায় সিলিন্ডার কেনা আপনার ও আপনার আশেপাশের মানুষদের জীবনে বিপদ ডেকে আনার শামিল।

ব্যবহারের আগে ও পরের জন্য নিরাপত্তা টিপস

আপনি যদি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী হন কিংবা এমন কোন জায়গার আশেপাশে বসবাস করে থাকেন যেখানে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে নিচে উল্লেখিত নিরাপত্তা টিপস গুলো প্রয়োগ করা এবং অন্যদের জানানো আপনার জন্য খুবই জরুরিঃ

  • সর্বক্ষণ যেকোন ধরণের গন্ধ বা গ্যাস লিক হওয়ার যেকোন লক্ষণীয় চিহ্নের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
  • সিলিন্ডারে লিকেজ খোঁজার সময় মোমবাতি কিংবা ম্যাচের কাঠি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • সব সময় গ্যাস সিলিন্ডারের উপরের মুখটি উপরের দিকে রেখে সোজা ভাবে একটি সমতল ভূমিতে রাখুন কিংবা সংরক্ষণ করুন।
  • কোন বদ্ধ ক্যাবিনেট নয়, সব সময় যথাযথ বায়ু চলাচল করে এমন জায়গায় সিলিন্ডারটি রাখুন।
  • আগুন, বিদ্যুৎ এবং তাপের যেকোন রকম উৎস থেকে সিলিন্ডারকে দূরে রাখুন।
  • ব্যবহার শেষে প্রত্যেক বার সুইচ অফ করে রাখুন।
  • খালি সিলিন্ডারগুলো একটি শীতল ও খোলামেলা জায়গায় সংরক্ষণ করুন এবং খেয়াল রাখুন যেন সেফটি ক্যাপ লাগানো থাকে।
  • আপনার ম্যাচের কাঠি কিংবা আগুনের উৎস সব সময় সিলিন্ডার গ্যাস চালু করার আগে জ্বালিয়ে নিন।
  • সিলিন্ডারের বিভিন্ন কানেকশন ও রাবার টিউব ইত্যাদি প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।

গ্যাস লিকের ঘটনা ঘটলে যা কিছু করণীয়

আপনি যদি কখনও গ্যাস লিকের ঘটনার মত একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তখন নিচের জরুরী টিপস গুলো মেনে চলার চেষ্টা করুনঃ

  • আতঙ্কিত হবেন না।
  • শান্ত থাকুন, মাথা ঠাণ্ডা রাখুন এবং নিজেকে সামলে নিন।
  • কোথাও লিক হয়েছে এমন সন্দেহ হলে যে কোন ধরণের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বা বিস্ফোরক পণ্য চালু করা থেকে বিরত থাকুন।
  • সব ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বন্ধ করে ফেলুন এবং যেকোন ধরণের শিখা, লাইট, ধূপ কাঠি, মোমবাতি ইত্যাদি নিভিয়ে ফেলুন।
  • সিলিন্ডার কানেকশন বন্ধ করে দিন এবং সেখানে সেফটি ক্যাপ পরিয়ে দিন।
  • বাতাস ভালোভাবে চলাফেরা করার জন্য প্রত্যেকটি জানালা ও দরজা খুলে দিন, কিন্তু সব গুলো ফ্যান বন্ধ করে রাখুন।
  • ফায়ার সার্ভিস ও পার্শ্ববর্তী থানার সাথে যোগাযোগ করুন অথবা ৯১১ এ ডায়াল করুন।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের জন্য সহজ ও কার্যকরী গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপত্তামূলক টিপস

এটা সত্যি যে গ্যাস সিলিন্ডারের সাথে সম্পর্কিত নানা রকমের অজস্র ব্যাপার এমনিতেই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে। তাই এটি ব্যবহার করা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া, কিংবা এটি ব্যবহৃত হচ্ছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলা কখনওই সম্ভব নয়। আমাদের বাসাবাড়ি কিংবা রান্নাঘরে আমাদের প্রিয়জনরা থাকেন এবং আমরা আমাদের বেশির ভাগ সময় সেখানেই কাটাই।

অতএব আমাদের প্রাত্যহিক জীবন চলাকালীন সময়ে সহজ ও কার্যকরী কিছু জিনিস মাথায় রাখা উচিত। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার সুবিধার জন্য সহজ ও কার্যকরী কিছু টিপস নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

  • আপনার গ্যাস সিলিন্ডারটি এবং এর সাথে ব্যবহার হওয়া নানা রকম সামগ্রীর নিয়মিত ও যথাযথ সার্ভিসিং করানো হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করে নিন। হয়ত সেগুলোতে কোন সমস্যা নাও থাকতে পারে, তারপরও যেকোন দুর্ঘটনা ঘটে যেতেই পারে। অনেক ক্ষেত্রে এমন ঘটে যে সহজ ও দ্রুত কিছু রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করার কারণে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
  • গ্যাস সিলিন্ডার, ইলেকট্রনিক্স কিংবা গ্যাসের পণ্যসামগ্রী কেনার সময় অরিজিনাল ও ভালো মানের পণ্য দেখে কিনুন।
  • নিশ্চিত জানেন না বা পারেন না এমন কোন কাজ কখনওই একা হাতে করতে যাবেন না, যেমন- কীভাবে সিলিন্ডার সংযোগ দেয়া বা বিচ্ছিন্ন করতে হয় ইত্যাদি।
  • আপনার কুকার কিংবা রান্নাঘরে চুলার কাছাকাছি কোন  জানালায় পর্দা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা গোপনীয়তা রক্ষা করার আরো বিভিন্ন ধরণের উপায় রয়েছে, যেগুলোতে সহজে আগুন ধরবে না।
  • কেরোসিন বা এই জাতীয় অন্যান্য যেকোন দাহ্য বস্তু গ্যাস সিলিন্ডার বা চুলার কাছাকাছি রাখবেন না।
  • সেফটি ক্যাপটি স্থায়ীভাবে খুলে না ফেলাই ভালো। কেননা যেকোন ধরণের লিকের ঘটনা ঘটলে এটি ব্যবহার করা যায়।
  • ব্যবহারের পর সব সময় সিলিন্ডারটি বন্ধ করে ফেলুন এবং ঠিক ভাবে বন্ধ হয়েছে কি না তা আবারো চেক করে নিন।
  • কখনওই, কোন অবস্থাতেই আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না! শান্তভাবে, ভেবে চিন্তে সব রকম সিদ্ধান্ত নিন।
  • জরুরী অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য ইমারজেন্সি ফোন নাম্বার নাগালের মধ্যে রাখুন।
  • বিভিন্ন ধরণের ইমারজেন্সির ক্ষেত্রে আপনার বাসা, বিশেষ করে রান্নাঘরের মধ্যে নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি, যেমন- গ্যাস ডিটেক্টর, অগ্নি নির্বাপক ইত্যাদি কিনে রাখুন।

এত সব নিরাপত্তামূলক টিপসের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যেন আপনি যেকোন ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সেগুলো ঠেকাতে পারেন। আর যদি দুর্ঘটনা ঘটেই যায়, তাহলে নিজের ও নিজের আশেপাশের মানুষগুলোর নানা রকম ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারেন।

প্রতিরোধ সব সময়ই নিরাময়ের চেয়ে উত্তম!

আমাদের বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার আমাদের জীবনকে করে তুলেছে আরো সহজ এবং হয়ে উঠেছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিকে যেমন সরকার ও বিভিন্ন প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো এই সব পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন, অন্যদিকে আমাদেরও উচিত এই পণ্যগুলোর যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে জানা ও মানা। এতে করে যেকোন সময় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় যথাসম্ভব কমিয়ে আনা সম্ভব।

কমার্শিয়াল বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারে জন্য সর্তকতা ও নিরাপত্তামূলক টিপস

প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারে জন্য সর্তকতা ও নিরাপত্তামূলক টিপস

লিকুইফাইড কিংবা লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস দামে বেশ সাশ্রয়ী এবং কমার্শিয়াল ক্ষেত্রে আরো বেশি মাত্রায় জনপ্রিয়। যাই হোক, এই ব্যাপারটা খেয়াল রাখা জরুরী যে নানা রকম নিরাপত্তা ফিচার থাকা সত্ত্বেও এগুলো অনেক বেশি দাহ্য এবং জ্বালানীর এক রকম উৎস। এক্ষেত্রে কর্মী এবং ব্যবসা মালিকদের উচিত পরিপূর্ণ সতর্কতা এবং নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিশ্চিত করার মাধ্যমে হতাহতের ঘটনা কিংবা অন্যান্য বিপদ আপদ থেকে প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা।

অতএব, কমার্শিয়াল কিংবা শিল্পক্ষেত্র, যেমন- হোটেল, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি জায়গায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম কানুন মেনে চলা উচিত।

কমার্শিয়াল ব্যবহারের জন্য নানাবিধ সতর্কতা

  • ছোট হোক কিংবা বড়, যেকোন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অ্যালার্ম ব্যবহার করে সকলকে জানানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
  • লিক হওয়ার ঘটনায় দ্রুত পুরো ভবন খালি করার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সিলিন্ডারটি নিয়ে খোলা জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।
  • আগুন লাগার ঘটনায় অগ্নি নির্বাপক ব্যবহার করুন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দিন।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তৎক্ষণাৎ ইমারজেন্সি সার্ভিসকে জানাতে কোনরকম দ্বিধা করবেন না।

কমার্শিয়াল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বর্জনীয়

  • অবশ্যই গ্যাস সিলিন্ডারগুলো সব সময় খাড়া ও সমতল অবস্থানে রাখতে হবে।
  • সব সময় খেয়াল রাখবেন সিলিন্ডারে কোন রকম লিক হচ্ছে কি না।
  • সিলিন্ডার রয়েছে এমন জায়গায় সব অপেশাদার মানুষের প্রবেশ ও যাতায়াত সীমাবদ্ধ করে দিতে হবে।
  • স্টোরেজ কিংবা সিলিন্ডার আছে এমন এলাকায় কোন ভাবেই ধূমপান করতে দেয়া যাবে না।

ইতিকথা

সমগ্র বাংলাদেশে ব্যাপক হারে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে, যেকোন দুর্ঘটনাই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ততম শহর, যেখানে কমার্শিয়াল এবং আবাসিক এলাকায় যেকোন সময়ে সর্বদা অনেক বেশি পরিমাণ মানুষ একই সাথে অবস্থান করেন। এরকম প্রেক্ষাপটে ঠিক সময়ে যথাযথ নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেয়া না হলে, যেকোন দুর্ঘটনাই দুর্যোগের আকার ধারণ করতে পারে।

আশা করি গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহারের জন্য আমাদের এই সহজ ও কার্যকরী গাইডলাইনটি আপনাকে নতুন কিছু তথ্য জানাতে ও শেখাতে সাহায্য করেছে। নিশ্চয়ই আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এই কিছু সহজ পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে বিপদ আপদ থেকে দূরে থাকতে পারবো।

আপনার পরিবেশের সবাই, আপনার প্রতিবেশি, পরিবার এবং বন্ধুবান্ধব সকলেই আপনার অনেক কাছের এবং আপন। আর সেই সকলের জন্য নিরাপত্তার মান উন্নত করার জন্য সব রকম করণীয় ও বর্জনীয় পদক্ষেপ সহ আপনার সম্পূর্ণ জ্ঞান সকলের সাথে শেয়ার করা আপনার দায়িত্ব।

Bikroy.com এর মাধ্যমে আপনার বাসার জন্য নিরাপত্তামূলক যন্ত্রপাতি, গ্যাস সিলিন্ডার সহ আরো নানা রকম পণ্য কিনুন, আর ব্যবহার করে থাকুন সন্তুষ্ট।

সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন, এবং আপনার এলাকার সকলের জন্য একজন বন্ধুসুলভ হিরো হয়ে উঠুন, ঠিক স্পাইডারম্যানের মত!

Pujan Editor
SEO Specialist | Bikroy.com
follow me
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments