বাংলাদেশে জনপ্রিয় দামি বাইকগুলোর দাম

Share

ব্যক্তিগত বাহন হিসেবে মোটরবাইক দূর্দান্ত একটি যান। এটির মাধ্যমে আপনি সবচেয়ে সহজ ও দ্রুততম সময়ে সমগ্র নগরীতে ভ্রমণের সুযোগ উপভোগ করতে পারেন। তবে মোটরবাইক চালক হিসেবে সেফটি গিয়ার পরিধান ও ট্রাফিক আইন মান্য করা অবশ্য জরুরী। নিরাপদ ভ্রমণ অভিজ্ঞতার জন্য একটি ভালো মানের বাইকের বিকল্প নেই এটা বলাই বাহুল্য। তাই আজকের আর্টিকেলটিতে ২০১৯ সালের কিছু জনপ্রিয় দামি বাইক নিয়ে আলোচনা করা হলো। 

বাংলাদেশে জনপ্রিয় দামি বাইকগুলোর দাম (২০১৯)

হোন্ডা সিবিআর ১৫০আর

(মটোজিপি এডিশন)

দামঃ ৪,৮০,০০০ টাকা
ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ দামঃ ৫,৩০,০০০ টাকা
অ্যাপ্রিলিয়া আরএস৪ ১২৫ দামঃ ৫,৭৫,০০০ টাকা
কেটিএম ডিউক ১২৫ দামঃ ৩,২০,০০০ টাকা
সুজুকি জিএসএক্স আর১৫০ দামঃ ৪,০০,০০০ টাকা

আর্টিকেলটিতে শুধুমাত্র ৩ লক্ষাধিক বাংলাদেশী টাকার বাইকগুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। তবে অবশ্যই ডিলার কিংবা শোরুম ভেদে বাইকগুলোর দামের তারতম্য পরিলক্ষিত হতে পারে।

হোন্ডা সিবিআর ১৫০আর (মটোজিপি এডিশন)

হোন্ডা সিবিআর ১৫০আর (মটোজিপি এডিশন)

উদ্যমী বাইকারদের জন্য হোন্ডা সিবিআর ১৫০আর (মটোজিপি এডিশন) নিঃসন্দেহে একটি ব্যালেন্সড চয়েস। এটির বিক্রয়মূল্য আনুমানিক ৫,৬৫,০০০ টাকা ও বাইকটি আমদানি করেছে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড।

বাংলাদেশে মোটরবাইকটির লঞ্চিং এদেশের হোন্ডা ভক্তদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি দারুণ সংবাদ ছিলো। চমকপ্রদ ও অল-রাউন্ড স্পোর্টস বাইকটি বর্তমানে বাজারে বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছে যেটি শহুরে রাস্তা ও হাইওয়ের জন্য আদর্শ একটি বাইক।

হোন্ডা সিবিআর ১৫০আর (মটোজিপি এডিশন) হাইলাইটস

ইঞ্জিনঃ ১৪৯.১৬ সিসি

পাওয়ারঃ ১৬.৮৭ বিএইচপি ও ১৪.৪ এনএম টর্ক

দামঃ ৪.৮০ লক্ষ টাকা

হোন্ডা সিবিআর ১৫০আর (মটোজিপি এডিশন) বাইকটি বর্তমান বাংলাদেশের বাজারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দামি ও গুণসম্পন্ন বাইকগুলোর একটি। শুধুমাত্র ১৫০ সিসির এই বাইকটি যে শক্তিশালী তাই নয়, এটির আউটলুকও দুর্দান্ত। ফিচারের ও পারফর্মেন্সের চেকলিস্টের সকল উপাদান রয়েছে এই বাইকটিতে।

মোটরবাইক ব্র্যান্ড হিসেবে হোন্ডা তার ক্রেতাদের সেরা অভিজ্ঞতার প্রদান করে জনপ্রিয়। তাই উচ্চ স্পিডেও বাইকটি চালনায় স্বাচ্ছন্দ্যতা, জ্বালানী সাশ্রয় ও ন্যূনতম মেইনটেনেন্স খরচ বাইকটিকে করেছে বাজারের অন্যতম সেরা।

ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩

ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩

উচ্চমানের পারফর্মেন্স ও দীর্ঘসময় ব্যবহারের অভিজ্ঞতার জন্য ইয়ামাহা মোটরবাইক ব্র্যান্ডটি ব্যবহারকারী মহলে অধিক জনপ্রিয়। এই ব্র্যান্ডটির নতুন বাইক ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ ক্রেতামহলে ‘দ্য পারফর্মার’ খেতাব পেয়েছে। এটি এদেশে আমদানি করেছে ইআরএস গ্লোবাল। সুপার বাইক ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ৫,৩০,০০০ টাকায়।

হোন্ডা সিবিআর ১৫০আর এর পর এটিকেই বাজারের পরিপূর্ণ স্পোর্টস বাইক হিসেবে ধরা হচ্ছে। হোন্ডা সিবিআর ১৫০আর এর সঙ্গে তাই সমানতালে টেক্কা দিচ্ছে ইয়ামাহার এই অভিজাত বাইকটি।

ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ হাইলাইটস

          ইঞ্জিনঃ ১৫৫ সিসি

          পাওয়ারঃ ১৯.০৪ বিএইচপি ও ১৪.৭ এনএম টর্ক

          দামঃ ৫.৩০ লক্ষ টাকা

বাজারের সহজলভ্য ১৫০ সিসির অন্যান্য বাইকগুলোর মধ্যে এটির ইঞ্জিন সবচেয়ে শক্তিশালী। বড় ডিস্ক ব্রেক, সামনের এউএসডি এক্সপানশন, এলইডি হেডলাইট ও টেইল লাইট এই বাইকটির মূল ফিচার। এর মূল্য আপনাকে টয়োটা কিংবা মার্সিডিস ব্র্যান্ডের দিকে ঝোঁকার ব্যাপারে ভাবাতে পারে, তবে উক্ত ব্র্যান্ডটির পারফর্মেন্সের কারণে আপনাকে এটি কিনতে বাধ্য করবে।

যতদিন না ঊর্ধ্বতর সিসির বাইকগুলো এদেশে চালানোর অনুমতি পাচ্ছে, ইয়ামাহার এই বাইকটিই হবে সেরা পারফর্মার ও ভ্যালু ফর মানি।

অ্যাপ্রিলিয়া আরএস৪ ১২৫অ্যাপ্রিলিয়া আরএস৪ ১২৫

ইটালিয়ান বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় তা আর বলে দিতে হয়না। দেশটির ব্র্যান্ড নির্মিত অ্যাপ্রিলিয়া আরএস৪ ১২৫ সুপারবাইকটি বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে ৫,৩০,০০০ টাকায়।

দেশে ক্রমশই স্পোর্টস বাইকগুলোর দিকে বাইকারদের আগ্রহ বাড়ছে। অ্যাপ্রিলিয়া আরএস৪ ১২৫ নামের এই স্পোর্টসবাইকটি এদেশে আমদানি করেছে মোটরসাইকেল ওয়াল্ড লিমিটেড।

ইউরোপের বাজারে অ্যাপ্রিলিয়া ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় একটি বাইক ব্র্যান্ড। বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ব্র্যান্ডটির আবির্ভাব হলেও খুব অল্প সময়ে এটি বাইকারদের মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই বাইকটি ইউরো ৩ ইঞ্জিন সঙ্গে ফ্রন্ট ইউএসডি এক্সপেন্সন সম্বলিত। সঙ্গে রয়েছে এর নজরকাড়া হ্যালোজেল হেডলাইট।

অ্যাপ্রিলিয়া আরএস৪ ১২৫ হাইলাইটস

  •         ইঞ্জিনঃ ১২৫ সিসি
  •         পাওয়ারঃ ১৫ বিএইচপি ও ১১ এনএম টর্ক
  •         দামঃ ৫.৭৫ লক্ষ টাকা

অ্যাপ্রিলিয়া আরএস৪ ১২৫ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের টপ-রেটেড স্পোর্টস বাইকগুলোর একটি। ইটালিয়ান ব্র্যান্ড হিসেবে এর লুক অ্যান্ড ফিল ও স্টাইল অসাধারন। সঙ্গে এর স্পিড তোলার ক্ষমতা ও পারফর্মেন্স একে অন্য সব বাইক থেকে এগিয়ে রাখছে। এটি ১২৫ সিসি একক সিলিন্ডার চার স্ট্রোক ইঞ্জিন ফুয়েল ইঞ্জেকশন টেকনোলজি দ্বারা চালিত হয়। ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ১০,৫০০ আরপিএম পর্যন্ত পৌছাতে পারে।

তাইতো এই বাইকটির বিল্ড কোয়ালিটি, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও পারফর্মেন্সের ব্যাপারে অসন্তোষের সুযোগ খুবই সীমিত। এর ফিচারগুলো বিবেচনায় এটি হতে যাচ্ছে আগামী বছরগুলোর অন্যতম জনপ্রিয় বাইক।

কেটিএম ডিউক ১২৫

কেটিএম ডিউক ১২৫

বিশ্ববাজারে কেটিএম একটি শীর্ষস্থানীয় ও খ্যাতিসম্পন্ন বাইক ব্র্যান্ড। ভারতের বাজারে সফল বাইক কেটিএম ডিউক ১২৫ এবারে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশের বাজারে।

কেটিএম ডিউক ১২৫ এদেশে আমদানি করেছে মোটরসাইকেল ওয়াল্ড লিমিটেড ও বিক্রি হচ্ছে ৩,২০,০০০ টাকায়।

অস্ট্রেলিয়ান ব্র্যান্ড হিসেবে কেটিএম ডিউক ১২৫ বাংলাদেশে ২০১৭ সালে প্রবেশ করে বর্তমান বাইক বাজারে অন্যতম শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ১২৫ সিসি বাইক হিসেবে প্রিমিয়াম কোয়ালিটি বজায় রাখার জন্য খুব দ্রুতই ক্রেতামহলে সুনাম অর্জন করেছে।

কেটিএম ডিউক ১২৫ হাইলাইটস

  •         ইঞ্জিনঃ ১২৫ সিসি
  •         পাওয়ারঃ ১৪.৮ বিএইচপি ও ১১.৮ এনএম টর্ক
  •         দামঃ ৩.২ লক্ষ টাকা

ডুয়েল চ্যানেল এবিএস ও ইউএসডি ফ্রন্ট সাস্পেন্সন ডিউক বাইকটির ফিচার। ইউরো ৪ ইঞ্জিন এবং এলইডি হেড ও টেইললাইট এটির আকর্ষণীয় ফিচারগুলোর অংশ। ক্রয়মূল্য অধিক হলেও এই বাইকটিও তাই ভ্যালু ফর মানি।

২০১৭ সালে ইউরোপিয়ান বাইক ব্র্যান্ডটির এদেশে প্রবেশ একটি যুগান্তকারী বিষয় ছিলো, এবং সামনের দিনেও এদেশের বাজারে আরো ইউরোপিয়ান মোটরবাইক প্রবেশ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে অধিক সিসির উচ্চমানের বাইকগুলো চালাতে এদেশের বাইকাররা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকে মুখিয়ে আছে।

তাইতো কেটিএম শুধুমাত্র একটি দামি বাইকই নয়, এটির আসল পরিচয় এর প্রিমিয়াম কোয়ালিটি, পারফর্মেন্স ও আকর্ষণীয় ডিজাইনে।

সুজুকি জিএসএক্স আর১৫০

সুজুকি জিএসএক্স আর১৫০

দক্ষিণ এশিয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশেও সুজুকি ব্র্যান্ডটি সুখ্যাতি ও মোটরবাইক ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে।

এই জাপানিক মোটরবাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বহু আগে থেকেই মানসম্পন্ন বাইক তৈরি করে আসছে। সুজুকি এর জিএসএক্স আর১৫০ মডেলটি বাংলাদেশে আমদানি করেছে র‍্যানকম মোটরবাইক লিমিটেড ও এর মূল্য ধরা হয়েছে ৪,০০,০০০ টাকা।

মুক্তির ২ বছর পরও সুজুকি জিএসএক্স আর১৫০ এদেশের অন্যতম দ্রুততম ও দামি বাইক হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সময়ের ভেদে কিছুটা দাম কমলেও কমেনি এর গুণগত মান। এর টপ স্পিডও অবিশ্বাস্য, ১৫০০ কেএমপিএইচ!

বাইকটিতে রয়েছে ফুয়েল ইঞ্জেকশন সিস্টেম, কুলিং মোটরস এবং এটি অন্যান্য বাইকের চেয়ে তুলনামূলক কম ভারী। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিচার এর চাবি ছাড়া এটিকে স্টার্ট করার ব্যবস্থা যেটি শুধুমাত্র আজকের দিনের গাড়িগুলোতেই দেখা যায়। এটির এলইডি হেডলাইট এর লুককে করেছ আরও ড্যাশিং।

সুজুকি জিএসএক্স আর১৫০ হাইলাইটস

  •         ইঞ্জিনঃ ১৫০ সিসি
  •         পাওয়ারঃ ১৮.৯ বিএইচপি ও ১৪.৫ এনএম টর্ক
  •         দামঃ ৪ লক্ষ টাকা

র‍্যানকন মোটরবাইকস লিমিটেড এদেশে সুজুকির ইম্পোর্টার হিসেবে আফটার সেলস সার্ভিস, ওয়ারেন্টি, স্পেয়ার পার্টস সেবায় সুখ্যাতি অর্জন করেছে। সুজুকি জিএসএক্স আর১৫০ বাইকটি হয়ে উঠেছে ইয়ামাহা আর১৫ ও হোন্ডা সিবিআর ১৫০আর এর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।

জিএসএক্স আর১৫০ এর মত স্পোর্টস বাইক হোক কিংবা প্রাত্যহিক ব্যবহারের বাজেট বাইক; হায়াতে, সুজুকি শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয় সমগ্র পৃথিবীর বাজারেই সুখ্যাতি পেয়েছে।

কেন আপনি বাজারে জনপ্রিয় দামি বাইকগুলো থেকে নিজের বাইক বেছে নেবেন

আমরা ইতোমধ্যেই আর্টিকেলটির মাধ্যমে জেনে নিয়েছি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দামি বাইকগুলো সম্পর্কে। তবে কেন আপনি একটি দামি মোটরবাইক ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেবেন। সেটার ব্যাপারে আর্টিকেলটিতে এখনো আলোচনা করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি নয়, রয়েছে বেশ কিছু উত্তর।

আসুন জেনে নেয়া যাক কেন আপনি বর্তমান সময়ের সেরা মোটরবাইক ব্র্যান্ডগুলো থেকেই বাইক ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেবেন।

১) ভ্রমণের চূড়ান্ত স্বাধীনতা

এসব দামি বাইকগুলো আপনাকে দেবে ইচ্ছেমত ভ্রমণের ব্যাপারে চূড়ান্ত স্বাধীনতা। একটি ভালো বাইক চালানো আকাশে উড়ে বেড়ানোর অনুভূতির সমতুল্য, এটি অনেক বাইকাররাই বলে থাকেন। আপনি যখন বাইকে চড়ে রাস্তায় ভ্রমণ করবেন, চলাচলের স্বাচ্ছন্দ্যতার বিষয়টি আপনি খুব সহজেই অনুধাবন করবেন। বাইকে চড়ে আর যাই হোক আপনাকে জ্যামে বসে থাকতে হবেনা, অলিগলি খুঁজে ঠিকই যথাসময়ের আগেই দিব্যি পৌছে যাবেন নির্ধারিত গন্তব্যে।

২) সময় বাঁচায়

জ্যামময় রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত কোন অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোটা আজকালকার সময়ে অনেকটা ভাগ্যের বিষয়ে রূপ নিয়েছে। সিএনজি কিংবা বাসে জ্যামের দৌরাত্ম ঠিক যতোখানি, বাইকের ক্ষেত্রে চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। বাইকে চড়ে জ্যামে ঠাসা রাস্তায়ও আপনি ঝড়ের বেগে ধাবমান হয়ে সোজা পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ট্রাফিক জ্যাম থেকে আপনাকে বাঁচিয়ে বাইক আপনার জীবনে যোগ করবে কর্মশক্তি ও বাঁচাবে আপনার মূল্যবান সময়। জরুরী মিটিং, সাক্ষাৎ, ইন্টারভিউ, ক্লাস কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় আপনি হবেন ভোরের পাখি।

৩) অর্থ সাশ্রয় করে

ঢাকার মত এত বড় নগরীতে যানবাহনে ভ্রমণের খরচ বরাবরই অতিরিক্ত। সেটা সিএনজি, রিক্সা, বাস কিংবা রাইড শেয়ারিং থেকে ভাড়ায় চড়া যে যানই হোকনা কেনো। কেবলমাত্র বাইক ব্যবহার আপনাকে ভ্রমণের এ অতিরিক্ত খরচ থেকে বাঁচাবে। সামান্য কিছু মেইনটেনেন্স ও তেল খরচের বিনিময়ে আপনি পাবেন নির্ঝঞ্ঝাট ভ্রমণের সুযোগ। তাই ভালো বাইক কেনায় এককালীন বিনিয়োগ আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী খরচ থেকে বাঁচাবে।

৪) অ্যাডভেঞ্চারময় প্রতিদিন

মাঝে মধ্যেই বাইকারদেরকে গন্তব্য না জেনেই লং ড্রাইভে রাস্তায় নামতে দেখা যায়, যা অসাধারন একটি অভিজ্ঞতা। বাইক স্টার্ট দেয়ার পর প্রথম গিয়ারটি তুলে বাইক ছোটানোর অনুভূতি বাইকারদের কাছে সত্যিই প্রিয়। বাইক চালাতে চালাতে রাস্তায় পছন্দসই টং দোকানে ধূমায়মান চায়ের কাপে চুমুক দেয়া কিংবা ছবি তোলা, অথবা রাস্তায় যখন খুশি তখন থামার স্বাধীনতা আপনি অন্য কোন যানবাহনে পাবেননা।

৫) মজার অভিজ্ঞতা নিজেকে সর্বদা চাঙ্গা রাখে

বাইক চালানোর মজার অভিজ্ঞতাগুলো সকল বাইকারদের কাছেই স্মরণীয়। তবে সাবধানে গাড়ি চালানো ও ট্রাফিক আইন মানার ব্যাপারগুলো সর্বদা মাথায় রাখা জরুরী। বাইক চালানোর সময় আপনার অবশ্যই মোটরবাইকের সেফটি গিয়ারগুলো পরিধান করা উচিত। অন্য যানবাহনগুলো তুলনায় বাইক চালনা আপনাকে সর্বদাই চাঙ্গা ও ফুরফুরে রাখবে। যদি আপনার দিনটি খারাপ যায়, একটি চটজলদি বাইক রাইড আপনার মনকে নিমেষেই সতেজ করে দেবে।

শেষকথা

বাইকে সুন্দর আবহাওয়ায় একটি লং ড্রাইভের ফলে মনে আনন্দের সঞ্চার সকল বাইকারদের কাছেই প্রিয় একটি বিষয়। তবে এই সাময়িক সুখানুভূতির জন্যই যে দামি বাইক কিনবেন ব্যাপারটি তা নয়। দেখা গেছে নানাবিধ ব্যবহারিক সুবিধার কারনে দামি বাইক প্রাত্যহিক জীবনে অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কিছু মানুষ হয়তো বাইক চালানোর নেতিবাচক দিকগুলোতে বেশি প্রভাবিত হন। তবে বাইক চালানোর ইতিবাচক কিংবা ভালো দিকের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। নিয়মিত বাইক চালানোর মাধ্যমে আপনি হতে পারেন একটি সুস্বাস্থ্যকর ও শক্তিশালী জীবনের অধিকারী। বাইক চালনার সময় চালকের উরু এবং হাঁটুর মাংশপেশীর উপর বেশ চাপ পড়ে যা পেশীকে রাখে সচল। ব্যায়ামাগারে গিয়ে ওয়ার্কআউটের অনুরূপ ফল আপনি বাইক চালনার মাধ্যমেই পেতে পারেন। এটির মাধ্যমে আপনি নিয়মিত উল্লেখযোগ্য পরিমানে ক্যালরি বার্ন করতে পারবেন। 

তাই বাইক কেনার আগে বিবেচ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে আগেভাগেই ধারণা করে ফেলুনBikroy.com বাংলাদেশের অনলাইন কেনা বেচার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্লাটফর্ম। ব্রাউজ করুন Bikroy.com ও হাজারো নতুন ও ব্যবহৃত বাইকের তালিকা থেকে খুঁজে নিন আপনার পছন্দের বাইকটি।

নিজের, বন্ধুবান্ধব, পরিবার এবং আপনার সমস্ত সহযাত্রীদের ভ্রমন হোক নিরাপদ। রাস্তায় নিরাপদে চলুন আপনার প্রিয় বাইকটি নিয়ে।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments