ইলেকট্রনিক্স

ট্যাব কেনার সময় যে ৬টি বিষয় জেনে রাখতে হবে

আপনি ল্যাপটপের মাধ্যমে যেসমস্ত কাজ করে এসেছেন এতদিন যেমনঃ ইন্টারনেট ব্রাউজ করা, ইমেইল করা, অথবা কন্টেন্ট উপভোগ করার মত সকল কাজই এর চেয়ে তুলনামূলক ছোট এবং সহজেই পরিবহনযোগ্য ট্যাবের মাধ্যমে করা যাতে পারে। এই জাতীয় সকল কাজ করার জন্য আপনার প্রথম পছন্দ হিসেবে ল্যাপটপ থাকতেই পারে তবে ট্যাবলেট কম্পিউটার আপনাকে দেবে বাড়তি আরামের নিশ্চয়তা। 

ট্যাব সাধারণত ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোনের মাঝামাঝি আকার এবং প্রযুক্তি সম্বলিত একটি পণ্য। শুধুমাত্র ইমেইল করা বা কন্টেন্ট উপভোগ করাই নয়, অনেকেই আছেন যারা নিয়মিত ভিডিও গেম খেলার জন্যেও ট্যাব ব্যবহার করে থাকেন। 

বাজারে নানা ফিচার এবং সুবিধা নিয়ে থাকা এসব ট্যাবের থেকে আপনার পছন্দসই কোনো ট্যাব বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী বিষয়ে জেনে রাখতে হবে এবং বর্তমানে দেশের বাজারে ট্যাবের দাম নিয়ে আমাদের আজকের এই আয়োজন। 

ট্যাব কেনার আগে

দেশের বাজারে বিভিন্ন রকম এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ট্যাব পাওয়া যায়। তবে ট্যাব কেনার আগে বিশেষজ্ঞদের মতামত হচ্ছে এর অপারেটিং সিস্টেম, হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত তথ্য, এবং ব্যবহারের ধরণ সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক ট্যাব কেনার সময় কী কী যাচাই করে নিতে হবেঃ 

১. সঠিক সাইজ এবং ওজনের ট্যাব 

ট্যাবলেট সাধারণ সহজে বহনযোগ্যতার কথা ভেবেই তৈরি হয়ে থাকে। তাই কেনার সময় আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সাইজ এবং ওজনের ট্যাবলেট বেছে নিতে হবে। মাঝে মাঝে আপনাকে দীর্ঘসময়ের জন্য ট্যাবলেট হাতে ধরে রাখতে হতে পারে, সেক্ষেত্রে আপনি হয়ত ভারী কোনো ট্যাব চাইবেন না। এছাড়াও যদি কোনো কারণে আপনার ট্যাবটি হাত থেকে পরে যায়  সেজন্যে ট্যাবলেটের  স্থায়িত্ব সম্পর্কে জেনে রাখাটাও প্রয়োজনীয়। 

ট্যাবলেট যেহেতু স্মার্টফোনের থেকে আকারে কিছুটা বড় তাই আপনার হাতের আকার অনুযায়ী ট্যাব বেছে নেওয়াই শ্রেয়। কারণ দীর্ঘক্ষণ আপনি ভারী কোনো ট্যাবলেট পোট্রেইট মোডে ধরে রাখা আপনার জন্য কঠিন হবে। 

২. ডিসপ্লে

ট্যাবলেটের প্রায় সমস্তটা জুড়েই যেহেতু এর স্ক্রিন, তাই ডিসপ্লে ট্যাব কেনার সময় অন্যতম প্রধান একটি অনুষঙ্গ হিসেবেই বিবেচিত হয়। ডিসপ্লের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যেসকল বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়ঃ ডিসপ্লে সাইজ, রেজ্যুলেশন, পিপিআই, কোটিং, এবং ব্রাইটনেস। অনেক ক্ষেত্রে ডিসপ্লের মান ডিসপ্লের সাইজের উপর নীরর্ভশীল হয়। তবে রেজ্যুলেশনের ব্যাপারটি আপনার ট্যাবে কোনো লেখা পড়তে অসুবিধা হচ্ছে কিনা তা দিয়ে সহজেই নির্ধারণ করা যায়। 

তবে আপনি যদি মোটামুটি মানের ভিডিও বা অন্যান্য কন্টেন্ট উপভোগ করতে চান তাহলে অন্তত ৭২০পি লাইন পোট্রেইট রেজ্যুলেশনের ট্যাবের খোঁজ করুন। 

এছাড়াও নিয়মিত বাইরে বের হওয়ার প্রয়োজন হলে ব্রাইটনেসের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ট্যাবের দাম অনেক ক্ষেত্রেই ডিসপ্লের আকার এবং রেজ্যুলেশনের উপর নীর্ভর করে থাকে। 

৩. অপারেটিং সিস্টেম

ট্যাবলেট কেনার সময় ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোনের তুলনায় অধিক অপারেটিং সিস্টেম বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড এর পাশাপাশি একজন ব্যবহারকারী অ্যামাজন’এর ফায়ার ওএস এবং মাইক্রোসফট উইন্ডোজ সম্বলিত ট্যাবলেট বেছে নিতে পারেন। 

প্রায় প্রতিটি অপারেটিং সিস্টেমের রয়েছে নিজস্ব ফিচার, বৈশিষ্ট্য, এবং কিছু ভালোমন্দ। তাই অপারেটিং সিস্টেম বেছে নেওয়ার আগে আপনার কাজের ধরণ এবং সেটি কীভাবে আপনাকে সাহায্য করবে তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবেঃ 

  • গতানুগতিক কম্পিউটারের মতো ট্যাবলেট চাইলে আপনি উইন্ডোজ ট্যাবলেট ব্যবহার করতে পারেন। 
  • আপনি যদি ভিডিও গেমস খেলতে এবং একইসাথে বিভিন্ন কন্টেন্ট উপভোগ করতে চান তাহলে আইওএস আপনার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। আইপ্যাডের দাম কিছুটা বাড়তি মনে হলেও আপনি ট্যাব ব্যবহারের অভিজ্ঞতা উপভোগ করার জন্য ক্রয় করতে পারেন। 
  • আপনি যদি আপনার ট্যাবলেট ব্যবহার করে মাল্টিটাস্ক করতে চান তাহলে অ্যান্ড্রয়েড ওএস-এর কোনো ট্যাব বেছে নিতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আপনি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো সহজেই আপনার বাজেটেই বাজারে পেয়ে যেতে পারেন, যেমন স্যামসাং ট্যাবলেট বাজারে এনেছে তাদের বিভিন্ন আকার এবং ফিচার সমৃদ্ধ ট্যাব। 

এছাড়াও অপারেটিং সিস্টেম বেছে নেওয়ার সময় আপনি কী কী অ্যাপ্লিকেশন ব্যাবহার করবেন তার সাথে সামঞ্জস্য নিলে ব্যবহার করতে সুবিধা হবে।  

৪. কানেক্টিভিটি

মোবাইল ডিভাইস হওয়ার কারণে ট্যাবের সাথে ইন্টারনেট-এর কানেকশন ব্যাপারটি জড়িত। দেশের বাজারে মূলত দুই প্রকার কানেক্টিভিটির ট্যাব পাওয়া যায়ঃ ওয়াই-ফাই, এবং সেলুলার (ওয়্যারলেস)। 

প্রযুক্তির কল্যাণে “ওয়াই-ফাই” শব্দটি প্রায় সকলেরই চেনা। তবে আপনার ট্যাবলেটটি ওয়াই-ফাই এর যেই ভার্সনটি সমর্থন করে তা জানা জরুরি। ওয়াই-ফাই এর জন্য সচরাচর যেই চ্যানেলটি ব্যবহৃত হয় তা হলো ৮০২.১১এন, এবং বাজারে প্রাপ্ত বেশিরিভাগ ট্যাব এই চ্যানেলটি সমর্থন করে। 

অন্যদিকে সেলুলার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা কিছুটা জটিল। সেলুলার সমর্থিত কোনো ট্যাব কেনার সময় বেশ কিছু জিনিস জেনে রাখা দরকার, যার মধ্যে রয়েছে ক্যারিয়ার, কভারেজ, কন্ট্র্যাক্ট রেট, এবং নেটওয়ার্ক জেনারেশন (৩জি/৪জি/৫জি)।  

৫. ব্যাটারি লাইফ  

আপনাকে যদি সারাদিনের বড় একটি সময় ট্যাবলেটটি নিয়ে বাইরে থাকতে হয় বা কাজ করতে হয়, তাহলে ট্যাবের ব্যাটারি লাইফ নিয়ে কেনার আগেই সচেতন থাকা উচিত। পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাপ যেমন বিভিন্ন রকম ব্যাটারি কনজিউম করে থাকে তাই ব্যাটারির আয়ু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

ব্যাটারির আয়ু কেমন থাকবে তা ব্যাটারির ধারণ ক্ষমতার পাশাপশি আরও দুটো জিনিস থেকে নিরূপণ করা যেতে পারেঃ টানা ওয়েব ব্রাউজিং এবং ভিডিও কন্টেন্ট দেখার অভিজ্ঞতা থেকে। এর মধ্যে ভিডিও দেখার মাধ্যমেই বেশিরভাগ ব্যাটারি লাইফ খরচ হওয়ার কথা। তবে আপনি যদি দীর্ঘসময় ভিডিও গেম অথবা মাল্টিটাস্কিং এর জন্য ট্যাব ব্যবহার করে থাকেন সেক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ব্যাটারি লাইফের চেয়ে কিছুটা কম পাওয়া যেতে পারে। মোটামুটি ৮ ঘণ্টা টানা ভিডিও প্লে-ব্যাক টাইমকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাটারি লাইফ বলা হয়।  

৬. স্টোরেজ 

যদিও আপনি ল্যাপটপের মত এতখানি স্টোরেজ আপনার ট্যাবে পাবেন না, তারপরেও ট্যাব কেনার সময় স্টোরেজ একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। দেশের বাজারে পাওয়া যায় এমন ট্যাবগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ট্যাবেই সলিড-স্টেট স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, কারণ এই স্টোরেজ আকারে ছোট, হালকা, এবং দীর্ঘস্থায়ী। 

বর্তমানে মোটামুটি ৮ থেকে ৬৪ জিবি স্টোরেজের মধ্যেই পাওয়া যাবে বেশিরভাগ ট্যাব। আপনি যদি হালকা গোছের কাজ যেমনঃ ইন্টারনেট ব্যবহার করা বা ইমেইল পাঠানোর জন্য ট্যাব ব্যবহার করতে চান তাহলে এই স্টোরেজের মধ্যেই আপনার সকল প্রয়োজনীয় কাজ হয়ে যাওয়া উচিত, অন্যদিকে আপনি যদি ট্যাবে এইচডি মুভি বা অন্যান্য গেম রাখতে চান সেক্ষেত্রে বাড়তি স্টোরেজ-এর ট্যাব খোঁজ করতে হবে। 

এছাড়াও যেসকল ট্যাবে ফ্ল্যাশ মেমরি আছে, সেখানে আপনি স্টোরেজ বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবেন। আর ইন্টারনেটের সাথে কানেক্টিভিটি থাকলে ক্লাউড স্টোরেজ তো থাকছেই।    

ট্যাব কিনতে হবে কাজের ধরন, এবং প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে

বাচ্চাদের জন্য ট্যাব

ছোটদের জন্য ট্যাব কেনার ক্ষেত্রে কিছু টিপস এবং পরামর্শঃ 

  • বয়সঃ বেশিরিভাগ ট্যাবই ছোটদের ব্যবহারের উপযোগী কিন্তু অ্যামাজন শুধু ছোটদের কথা মাথায় রেখে কিছু ট্যাব বাজারে এনেছে। যেখানে বিশেষ কিছু ফিচারের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্যঃ প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সিস্টেম যার মাধ্যমে অভিভাবকেরা বিভিন্ন অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে বাচ্চাদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। 
  • একাধিক প্রোফাইলঃ একাধিক বাচ্চার জন্য একই ট্যাব ব্যবহার করার ক্ষেত্রে যেসমস্ত ট্যাবে আলাদা আলাদা প্রোফাইল তৈরি করা যায় এমন ট্যাব বেছে নিতে হবে। 
  • ব্যাটারি লাইফঃ বাচ্চাদের নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে গেলে যেসমস্ত ট্যাব দীর্ঘক্ষণ ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম সেরকম ট্যাব কেনা ভালো। 

পরিশেষ

ট্যাবলেট কম্পিউটার বা ট্যাব কেনার আগে যেই প্রশ্নশুলোর উত্তর জেনে রাখা দরকারঃ 

  • ট্যাবের মাধ্যমে কী কী কাজ করতে চান? 
  • আপনার বাজেট কি রকম? 
  • আপনার কি নির্দিষ্ট কোনো ট্যাবলেট ব্র্যান্ড বা অপারেটিং সিস্টেম পছন্দ? 
  • আপনার কি ট্যাবের আকার, ওজন, এবং ডিজাইন নিয়ে কোনো চাহিদা রয়েছে? 

ট্যাব কেনার আগেই উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর এবং আপনি যেটি কিনতে চাইছেন সেই ট্যাবের দাম সম্পর্কে জেনে নিন, এতেকরে আপনার জন্য সঠিক ট্যাবটি খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। আমরা আশাকরি আজকের এই লেখার মাধ্যমে আপনি নিজের অথবা আপনজনের জন্য ট্যাবলেট কেনার সময় কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন। 

আপনার জন্য শুভকামনা!

Facebook Comments
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close