প্রপার্টি

ঘরসজ্জার ৫টি টিপস । নবরূপে সাজিয়ে নিন অন্দরমহল

কখনো কী ভেবে দেখেছেন যে কিছু কিছু বাসার ভেতরে ঢোকার পর আপনি ঘরের চারপাশ মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে দেখছেন? এমনটা হওয়া বেশ স্বাভাবিক। ঐ সময়টায় আমরা হারিয়ে যাই ঘরের অন্দরমহলের মুগ্ধতায়। আর তা যদি হয় আধুনিক কিংবা প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনবদ্য মিশেল, তাহলে তো দু-চোখের পাতা যেন এক হতেই চায় না। আমরা সচরাচর সেই স্থান বা জায়গাগুলোকে আমাদের নিজস্ব ভাবনার আঙ্গিকে দেখি। সব কিছু মিলিয়ে মনে হয় আমরা যেন এক অপূর্ব স্থাপত্য দর্শনের সাক্ষী হয়ে আছি। ক্ষণিকের জন্যে আমরা হয়ত সেখানে নিজেকে কল্পনাও করে ফেলি। যেন কিছু সময়ের জন্যে কল্পনার এক জগতের বাসিন্দা হয়ে যাওয়া।  

বিশাল জায়গা জুড়ে একটি আরামপ্রদ বিছানা, সাথে নরম কুশন বালিশ, ঠিক এমন একটি জায়গাই আপনার চাই বিশ্রাম করার জন্যে। কিংবা একটি বড় বসার ঘর যেখানে রাখা রয়েছে একটি উষ্ণ সোফা, কফির জন্যে কাঠের টেবিল, চমৎকার হোম থিয়েটার সিস্টেম, যেখানে আপনি আপনার প্রাত্যাহিক সন্ধ্যাগুলো উৎযাপন করতে চান। একটি অত্যাধুনিক অথচ বেশ ছিমছাম একটি কিচেন যেখানে গিয়ে রান্নাকে আপনার একটি অনন্য শিল্প হিসেবে মনে হয়। 

আমরা কমবেশি সকলেই এরকম ইচ্ছে পোষণ করি যে আমাদের নিজের এবং নিজের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য নিজের মত করে সাজিয়ে নেয়া একটি বাসা থাকবে। রোজকার ছুটে চলার জীবনে, ঘরই যেখানে আমাদের একমাত্র স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবার জায়গা। ঠিক এই কারণে আমরা চাই আমাদের নিত্য বসবাসের ঘর হোক বেশ আরামদায়ক। ঘরের অন্দরসাজকে আরো সহজভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য যে জিনিসটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হচ্ছে- ইন্টেরিয়র রেনোভেশন অথবা অন্দরসজ্জার সংস্কার। তাই আজকে হোম রেনোভেশন এর আদ্যোপান্ত নিয়েই থাকছে আমাদের সম্পূর্ণ আলোচনা। 

আপনার ঘরের জন্যে অন্দরসাজের ছোঁয়া 

আপনি যদি বাসা সংস্কারের জন্য মনস্থির করে থাকেন তাহলে আপনার প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু অন্দরসজ্জার প্ল্যান। বর্তমান সময়ে এসে ঘর কিংবা বাসার অন্দরসজ্জা যেন একটি নিত্য চাহিদা। পট পরিবর্তন কিংবা ঘর সংস্কার এর অর্থ আজকের দিনে শুধু  সৌন্দর্য এবং সৌখিনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বাসার প্রতিটি জায়গার যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।  

আপনার ঘরের পট পরিবর্তন আপনার মধ্যে এনে দেবে এক অনন্য সজীবতা । তবে এক্ষেত্রে আপনি যদি ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের সাহায্য নিয়ে সংস্কার করাতে চান তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকবেন। যেমন, একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আপনাকে আপনার বাজেটের মধ্যে বাসা অথবা ঘরের জন্য ফিটিং, আসবাব, এবং অন্যান্য উপকরণের তালিকা করে দিতে পারে। পরবর্তী সময়ে আপনি আপনার প্রপার্টি বিক্রি করে দিতে চাইলেও ভালো দাম পেতে পারেন ঘরের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করা থাকলে। কারণ বিক্রি করার সময়ে স্বাভাবিকভাবেই আপনাকে আপনার ঘর কিংবা বাসার ছবি পোস্ট করতে হবে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে। আর এই সময় একটি মানসম্মত ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং কিংবা অন্দরসজ্জাই আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে অন্যদের থেকে। বাংলাদেশে ইন্টেরিয়র ডিজাইন সার্ভিস খুঁজে পেতে ঘুরে আসতে পারেন Bikroy.com থেকে। এখানে আপনি আপনার সাধ এবং সাধ্যের মধ্যেই পেয়ে যাবেন পছন্দসই কোনো ডিজাইনার। 

ধাপে ধাপে বদলে ফেলুন বাসার চেহারা 

আপনি কি গৃহসজ্জার কথা ভাবছেন কিংবা ভাবছেন কীভাবে বদলে ফেলা যায় চিরায়ত ঘরের পরিবেশ? আপনার যদি বাসার অথবা ঘরের সংস্কার বা সজ্জা সম্পর্কে একটি নিজস্ব প্ল্যান থাকে তাহলে যারা সংস্কারের কাজটি করবে তাদের ক্ষেত্রে বেশ সুবিধা হতে পারে। আপনিও আপনার খরচ, সময়, এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন। 

যদিও বাসা সংস্কার এর কাজটি ভীষণ ব্যক্তিগত। আপনার ঘর অথবা বাসাকে ঠিক আপনার মত করে সাজিয়ে নেবার কল্পনা অন্য কেউ করতে পারবে না। তবে সংস্কার বা সাজিয়ে নেওয়ার কাজটি নতুন কিংবা পুরাতন দুই ধরণের বাসাতেই হতে পারে। আপনি যদি বাড়ি কেনার ব্যাপারে দ্বিধায় থাকেন তাহলে নতুন নাকি পুরাতন বাড়ি কিনতে চান, এই ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণা থাকা ভালো। তবে সব রকম বাসা-বাড়ির সংস্কারের ক্ষেত্রেই কিছু “আদর্শ” নিয়ম থাকে, তারই কিছু এখানে তুলে ধরা হলো। 

১. জেনে রাখুন অন্দরসজ্জা প্ল্যানের আদ্যোপান্ত

একেবারে শুরুতেই একটি খসড়া তৈরি করে নিন যেখানে আপনার সম্পূর্ণ প্ল্যান, প্রতিটি কাজের বিবরণী, কাজের ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা থাকবে। ইন্টেরিয়র রেনোভেশন এর খসড়ায় আরো যা যা রাখতে পারেনঃ

  • যে সমস্ত কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে তার বিবরণ। 
  • যে ধরণের দ্রব্যাদি প্রয়োজন হবে তার বিবরণ। 
  • বর্তমানে চলছে এবং আগামীতে শুরু হবে এমন কাজের বিবরণ। 

প্ল্যান করার শুরুর দিকে যদি কোন আইনি কাগজ-পত্রের প্রয়োজন হয়, তা তৈরি করে রাখুন। যদিও অ্যাপার্টমেন্ট রেনোভেশনের কাজে প্রশাসনিক কাগজ-পত্রের প্রয়োজন নেই, তবে আপনার রেনোভেশন প্ল্যানিং এর মধ্যে বাসার আকার বদলানোর প্রয়োজন থাকলে এই সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রশাসনিক ছাড়পত্র সংগ্রহ করে রাখাই উত্তম। 

২. খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা চাই  

এই ধাপে নির্ধারণ করে ফেলুন আপনার যাবতীয় খরচার কাজগুলো। আপনার সামগ্রিক বাজেটে সংস্কার সংক্রান্ত খরচ, লেবারদের মজুরি, যন্ত্রপাতিসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ তালিকাভুক্ত করুন। আরও যে সমস্ত বিষয় মাথায় রাখতে পারেনঃ

  • আপনার বাজেটের ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণা রাখুন এবং মোট নির্ধারিত বাজেটের ১০ শতাংশ আলাদা করে রাখুন ইমার্জেন্সি সময়ে বা অপ্রত্যাশিত খরচের জন্যে। 
  • খরচ সংক্রান্ত ব্যাপারে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন। 
  • সমস্ত যন্ত্রপাতি বা অন্যান্য দ্রব্যের বর্তমান বাজারমূল্য জেনে নিতে পারেন। 

নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে অতিরিক্ত খরচ মনে হলে বাজেট কমানোর জন্য প্রয়োজনে কম দরকারি সংস্কার গুলো বাদ দিন।  

৩. কাজের জন্য দক্ষ কর্মী বেছে নিন 

প্রয়োজনীয় প্ল্যান আর বাজেট নির্ধারণ করার পরে আপনার কাজ হলো সঠিক কনট্রাকটর বেছে নেওয়া, যারা আপনার কল্পনার কাজটিকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হবে। ডিজাইনার বা কর্মী নিয়োগ দেওয়ার সময় অন্যান্য যেসব বিষয়ে লক্ষ রাখা যেতে পারেঃ

  • কর্মী নিয়োগের সময় দক্ষতার পাশাপাশি অভিজ্ঞতার দিকেও নজর দিন। অনলাইনে তাদের সাথে যোগাযোগ করার সময় তাদের পূর্বের কাজগুলো লক্ষ করুন। 
  • আপনার কন্ট্রাকটরের কোনো লাইসেন্স আছে কিনা যাচাই করে নিন, নয়ত পরবর্তীতে আইনি ঝামেলা হতে পারে। 
  • বেশিরভাগ ঠিকাদারদের তাদের কাজের ধরণের ভিত্তিতে বীমাপত্র রয়েছে।
  • ডিজাইনারের সাথে পেমেন্টের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করুন। নির্দিষ্ট সময় এবং কাজের আগে অথবা পরে লেনদেন করুন। 

একের অধিক কনট্রাকটর কিংবা ডিজাইনার নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা এড়াতে সময়সীমা নির্ধারণ করে রাখতে পারেন। 

৪. সময়সীমা নির্ধারণ করুন 

পরবর্তী ধাপে নির্ণয় করে ফেলুন আপনার কাঙ্ক্ষিত সময়সীমা। কাজ শুরু করার জন্য একটি উপযুক্ত দিন বেছে নিন, পাশাপাশি সমস্ত কাজের সময়সীমাও লিখে রাখতে পারেন। ভাগ করে রাখা প্রতিটি কাজ সম্পন্ন হবার পর আপনার কন্ট্রাকটর বা ডিজাইনারের সাথে পরবর্তী কাজের বিষয়, বাজেট এবং বরাদ্দকৃত সময় সম্পর্কে মিটিং সেরে নিন। এই সময় আরো যা যা প্রয়োজন হতে পারেঃ

  • ঘর কিংবা বাসা পরিষ্কারের জন্য কিছুটা সময় রাখতে হবে। 
  • প্রয়োজনীয় নতুন দ্রব্য আনা-নেওয়া এবং ব্যবহারের জন্য আলাদাভাবে কিছু সময় রাখা যেতে পারে। 
  • ধর্মীয় উৎসব বা অন্যান্য ছুটির দিনের বিকল্প রাখতে হবে। 

সময় নির্ধারণের সুবিধার্থে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা যেতে পারে। একইসাথে অপ্রত্যাশিত কাজের জন্য আলাদাভাবে কিছু সময় বরাদ্দ রাখাও জরুরি। 

৫. আপনার ঘর সংস্কারের জন্য প্রস্তুত করুন

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে, সংস্কারটি সম্পাদন করার জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করুন। এটি সংস্কার প্রক্রিয়া চলাকালীন আপনি আপনার বাড়িতে অবস্থান করছেন কিনা তার উপর নির্ভর করবে। যেমন, আপনি যদি আপনার রান্নাঘরে কাজ করান তবে আপনাকে অন্য কোনো জায়গায় রান্না করতে হবে বা বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করতে হতে পারে। অথবা আপনি আপনার মাস্টার বেডরুমটি সংস্কার করছেন, তবে কাজটি শেষ করতে আপনাকে অন্য কক্ষে ঘুমাতে হবে। আপনি যদি পুরো অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কারের পরিকল্পনা করছেন, তবে আপনাকে কিছু দিনের জন্য অন্য কোনো জায়গায় স্থানান্তর হতে পারে। 

শেষকথা 

স্থাপত্যের ভাষায় একটি কথা বহুল পরিচিত, সেটি হল- “The less is more” অর্থাৎ খুবই সাধারণ কোনো জিনিসকে অসাধারণ একটি রূপ দেওয়া। আধুনিকতার মিশেলে ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা অন্দরসজ্জা যেন ঠিক এই কথাটিই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। 

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ঢাকা শহরের মত জায়গায় নিজেরা একটি বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট কিনে নেবার সামর্থ্য রাখি না। তাই বলে কি আপনার ঘরের অন্দরসজ্জার সংস্কার এর ইচ্ছে থাকতে নেই? হ্যাঁ, ভাড়া বাসার দেওয়ালেও আঁকতে পারেন আপনার কল্পনার ছবি। আপনাদের প্রপার্টি রেনোভেশন এর ইচ্ছাকে পূর্ণতা দিতে দেখে নিতে পারেন ভাড়া বাসা সাজানো এর ক্ষেত্রে যে সমস্ত বিষয়ে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।

নিত্যদিনের ব্যস্ততার মাঝে আপনার হয়ে ফ্ল্যাট কিংবা বাসা খোঁজার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের সব থেকে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com। ঘুরে আসতে পারেন বিক্রয়ের প্রপার্টি সেকশন থেকে, এখানে আপনি পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দসই নতুন, পুরাতন ফ্ল্যাট বা বাসা। তারপর নান্দনিকতার রঙে সাজিয়ে তুলুন আপনার ঘর। 

Facebook Comments
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close