ঢাকা শহরে মেয়েদের চলাচলের জন্য কেন স্কুটারই সেরা?

মেয়েদের জন্য স্কুটার
Share

ঢাকা শহরকে এক ভয়াবহ ছোঁয়াচে রোগের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য একটি স্থায়ী গণপরিবহন অবকাঠামো তৈরি করা ও প্রয়োগ করা অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে!

জানেন এই ভয়াবহ ছোঁয়াচে রোগটির নাম কী? ট্রাফিক জ্যাম!

ক্রমেই বাড়তে থাকা জনসংখ্যা ও তার সাথে পাল্লা দিয়ে ঢাকা শহরের অগোছালো রাস্তা গুলোয় বেড়ে চলা যানবাহনের ভীড়ে এই শহরের ভবিষ্যৎ কোথায় যেন হারিয়ে যেতে বসেছে।

বাংলাদেশে ট্রাফিক জটিলতার পেছনে অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে যথাযথ গণপরিবহন সুবিধার অভাব। বলতে গেলে ঢাকা শহরে গণপরিবহনের অপশন খুবই কম, মূলত বাসই এর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু রাজধানী ঢাকায় এই বাস সার্ভিস কার্যকর ভাবে প্রয়োগ না হওয়ার ফলে প্রায়ই এই ব্যস্ত মেগাসিটির বাসিন্দাদের সুবিধা হওয়ার চেয়ে রাস্তা ঘাটে ঝামেলাই সৃষ্টি হচ্ছে বেশি।

বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশে লিঙ্গভিত্তিক পৃথক পরিবহন সুবিধা যেমন মেয়েদের জন্য আলাদা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ, মহিলা বাস, সাধারণ বাসে মহিলাদের জন্য আলাদা করা সিটিং সুবিধা ইত্যাদি একেবারে অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা আর্থিক ভাবে কিছুটা স্বচ্ছল, সেইসব নারীরা তাদের প্রাত্যহিক চলাচলের জন্য একটি দুই চাকার বাহন  কিনে নিতে পারেন এবং ঢাকার মত একটি ব্যস্ত মেগা সিটিতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দের সাথে চলাচল করতে পারেন।

একটি দুই চাকার বাহন, হোক সেটা বাই-সাইকেল, মোটর সাইকেল কিংবা একটি স্কুটার, ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় দ্রুতগতি ও স্বনির্ভর চলাচলের সেরা মাধ্যম হচ্ছে এটি! আর হ্যাঁ, ঢাকা শহরে, বিশেষ করে মেয়েদের স্বাধীন ভাবে চলাফেরার জন্য সবচেয়ে ভালো পরিবহন হচ্ছে এই স্কুটার!

চলুন দেখে নিই কিভাবে স্কুটার বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য সেরা পরিবহন মাধ্যমে পরিণত হয়েছে এবং কিভাবে এগুলো ঢাকার মত মেগাসিটিতে সহজ ও ঝামেলামুক্ত ভাবে চলাচল করার জন্য মেয়েদেরকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার ট্রাফিক জ্যামে ঠাসা রাস্তাঘাট এবং বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় লিঙ্গ সমতার ব্যাপারে রয়ে যাওয়া ক্ষুদ্র মানসিকতা ও বাধা বিপত্তির সাথে আমাদের প্রতিনয়ত যে যুদ্ধ করে চলতে হয় সে সব কিছুর মাঝেও মেয়েদের জন্য একটি স্কুটার বিশেষ কী কী সুবিধা দিতে পারে সেগুলো নিয়েও আজ আমরা আলোচনা করবো।

মেয়েদের জন্য স্কুটার

বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশে বিশেষ করে এমন কিছু সামাজিক প্রথা রয়েছে, যেখানে একজন নারীকে ঘরের বাইরে যেকোন কিছুতে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে ব্যাপক ভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে। হোক তা কোন কাজের জন্য বাইরে যাওয়া কিংবা যেকোন রকম উপলক্ষ, এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে একজন নারীকে তার ব্যক্তিগত বা তার পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ সংক্রান্ত কাজেও বাধা দেয়া হয়। এর ফলে আমাদের সমাজের মধ্যে থেকে একজন নারীকে তাদের বাড়ির সীমানার বাইরে আজও প্রতিনিয়ত নিরুৎসাহ এবং ধিক্কারের সম্মুখীন হতে হয়। সত্যি বলতে এদেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ নারীদেরকে বাড়ির সীমানার বাইরে যাওয়া বা কাজ করাকে খারাপ চোখে দেখে থাকেন, সেই নারী পড়াশুনা, চাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য কিংবা প্রাত্যহিক কাজ যা কিছুই করার জন্য বের হোক না কেন।

এসবের পেছনে একটা বড় কারণ হচ্ছে পিতৃশাসিত সমাজ ব্যবস্থা যা বৈশ্বিক ভাবে আজও প্রচলিত, যদিও বিশ্বের কিছু কিছু দেশে এটি এখন আর দেখা যায় না। মজার ব্যাপার হচ্ছে সংখ্যার দিক থেকে এর প্রসার উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে উন্নত দেশগুলোতে বেশি, কিন্তু জনসংখ্যার ব্যাপক ঘনত্বের কারনে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ সমস্যার ভয়াবহতা প্রকট আকার ধারণ করে

কিন্তু বর্তমানে এ অবস্থায় পরিবর্তন এসেছে, আজকাল ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় কিংবা আমাদের দেশের যেকোন প্রান্তে মেয়েরা স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে কিংবা দুই চাকার বাহন সগর্বে চালিয়ে বেড়াচ্ছে, এমন দৃশ্য আর বিরল নয়। জ্বি হ্যাঁ, পেশাদারী পর্যায়ে এটি ততটা প্রসিদ্ধ না হলেও এদেশের প্রেক্ষাপটে অবশ্যই এটি একটি ভালো পদক্ষেপ!

দুই চাকার বাহনে আরোহনকারী একটি মেয়ে, দৃশ্যটি এখন কেবল টিভির কিংবা সিনেমার পর্দায় দেখার জন্য সীমাবদ্ধ নয়! ঢাকার বেশির ভাগ রাস্তায় আজকাল গাড়ি, বাইসাইকেল, মোটর সাইকেল, স্কুটার ইত্যাদি বাহনে চালক হিসেবে নারীদের দেখা যায়। তারা শুধু নিজেদের ও পারিবারিক বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য এগিয়ে চলেছেন তা নয়, বরং তারা একুশ শতকে আমাদের সামাজিক মানদণ্ডকেও সামনে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন গর্বের সাথে।

বর্তমানে মেয়েদের জন্য স্কুটার এদেশে একটি টেকসই সমাধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সাথে আমাদের দেশের আর্থিক সক্ষমতারও একটি সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। একটি গাড়ি হয়ত কোন বিলাসপণ্য নয়, কিন্তু এর মালিকানা অর্জনের খরচ অনেক বেশি হওয়ার কারণে অবশ্য একে এদেশে অনেকটা বিলাসপণ্যের মতই দেখা হয়। অপরদিকে যেকোন ধরণের একটি দুই চাকার বাহন কেনা এদেশে অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

উন্নত দেশ গুলোর মত আমাদের দেশে আমাদের গাড়ির জন্য উচ্চমূল্যের ইনস্যুরেন্স কিংবা রেজিষ্ট্রেশন ফির কথা চিন্তা করতে হয় না। এদেশে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে গাড়ি ক্রয়ের মূল্য, আমাদের উঁচু নিচু, ক্ষতি সৃষ্টিকারী, ট্র্যাফিকে ভরা রাস্তায় চলমান গাড়ির মেইন্টেইনেন্স খরচ ইত্যাদি। অতএব ব্যক্তিগত, এবং কখনও কখনও পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য বাইসাইকেল, মোটর সাইকেল এবং স্কুটার এর থেকে অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং উপযোগী।

ব্যাপারটা এমন নয় যে স্কুটার কেবল মাত্র নারীরাই চালান, একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার পুরুষ যাত্রীও দাপটের সাথে তাদের স্কুটার নিয়ে রাস্তায় চড়ে বেরান। স্কুটারের ব্যাপক জনপ্রিয়তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, এরা ব্যস্ত রাস্তায় যথার্থ পরিমানে জ্বালানী শক্তি ধারণ করতে পারে, ঘুরপথে চলাচলের ক্ষেত্রে যথেষ্ট জ্বালানী সাশ্রয়ী, ওজনে হালকা, চলাচলের জন্য অধিক উপযোগী ইত্যাদি।

মেয়েদের জন্য স্কুটার অনেক বেশি উপযোগী এবং সাশ্রয়ী একটি অপশন, কিন্তু এখানে নিরাপত্তাও একটি চিন্তার বিষয়। নারীরা হয়ত সব সময় অন্যান্য পুরুষদের মত তাদের আশে পাশের পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালো ভাবে অবগত থাকেন না, তাই নিরাপত্তার ব্যাপারে ভাবাটা এখানে যথেষ্ট স্বাভাবিক। একটি দুই চাকার বাহন গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি, সত্যি বলতে পুরোটাই খোলামেলা, আর এই ব্যাপারটা ঢাকা শহরের মত একটি ট্রাফিকে ঠাসা, উচ্চ মাত্রায় অপরাধ সংঘটনশীল এবং আপনার চিন্তায় আসা অন্য যেকোন বড় যানবাহনের বেপরোয়া চালনা সমৃদ্ধ মেগাসিটিতে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রায় আরো বেশ কিছু নতুন সমস্যার জন্ম দেয়।

নিরাপত্তা সত্যিকার অর্থে বড় একটি সমস্যা, কিন্তু এর চেয়েও বড় একটা সমস্যা এই সমস্যাকেও হার মানায় – আমাদের সমাজ! আমাদের সমাজে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা একজন নারী চালকের দিকে মনোযোগ দেয়ার জন্য যেকোন পর্যায়ে চলে যেতে ইচ্ছুক থাকেন। মানুষ তাদের চলার পথে থমকে দাঁড়ান এবং চালকেরা তাদের যানবাহন চালানো বন্ধ করে হলেও একজন নারী চালক কিংবা আরোহীর দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরকম পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র একজন নারী না, যেকোন রকম চালক কিংবা আরোহীর পক্ষেই স্বাভাবিক ভাবে যান চালনা কঠিন হয়ে পড়ে।

তারপর আসে আমাদের সমাজের বেশ কিছু মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন পুরনো খেয়ালের মানুষের বিপক্ষে লড়াই করা যারা পুরুষ ব্যাতীত অন্য যেকোন ধরণের মানুষের জন্য রাস্তাঘাটে চলাচলকে অসহনীয় করে তোলা নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করেন। সত্যি কথা বলতে তারা নিজেদের বাদ দিয়ে যেকোন ধরণের মানুষকে হেয় করতে পেছপা হন না। স্কুটারে আরোহী মেয়েদের অনেক সময় রাস্তায় সাইড কিংবা পার্কিং পেতেও অসুবিধা হয়, অথবা একটা বদ্ধ অবস্থানে আটকে পড়তে হয় যেখানে কেউ তাদেরকে সাইড দিয়ে যেতে দিতে চান না, কিংবা অনেক সময় অন্য বিভিন্ন রকম হয়রানির শিকারও হতে হয়। আজকের দিনে আমাদের সমাজে এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না, বিশেষ করে যে দেশ পরিচালিত হচ্ছে একজন নারী প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা।

মেয়েদের জন্য স্কুটার গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি সাধ্যের মধ্যে এবং একজন কর্মরত নারীর জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী। অতএব বোনেরা……ইতস্তত করার কোন কারন নেই, আপনারা যদি ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় চলাচলের সময় সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে নির্দ্বিধায় নিজের জন্য একটি স্কুটি কিনে ফেলুন!

নিজের দক্ষতা কে শাণিত করে নেবার জন্য একটি বাইসাইকেল চালিয়ে দেখুন, নিজের স্কুটার কেনার আগে কোন বন্ধুর মোটরসাইকেল বা স্কুটার ধার নিয়ে চালানো শিখুন। নিজের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্কুটার চালানোর সময় রাস্তায় বিভিন্ন ধরণের হয়রানির সম্মুখীন হওয়ার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকুন, কিন্তু কখনও পিছু হটবেন না। ভাবুন……দ্রুত কাজ করুন……আর সাহসী হউন! এটা কখনও কারো কাছ থেকে আশা করা যায় না যে সে এক্সিডেন্টকে ভয় পাবে না, এক্সিডেন্ট বেশ স্বাভাবিক একটা ব্যাপার এবং এটি যখন তখন ঘটে যেতেই পারে কিন্তু আবশ্যক হলো কোন ভাবেই আতঙ্কিত না হয়ে পড়া। যথাযথ যত্ন নিয়ে কাজ করলে আপনি চাইলেই ছোট বা বড় যেকোন রকম এক্সিডেন্টের ক্ষেত্রে নিজের এবং আপনার আশেপাশের মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারবেন।

বাংলাদেশে স্কুটার কিনুন

মেয়েদের জন্য স্কুটার

মেয়েদের জন্য স্কুটার প্রায়ই বিভিন্ন কঠিন কাজ যেমন অফিসে যাতায়াত, ছুটির দিনে যাতায়াত, তার সাথে মিলিয়ে শপিং, স্কুল, কোচিং ইত্যাদি বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যাতায়াতের মত ব্যাপারকে সহজ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। একজন নারীকে বিভিন্ন রকম ভূমিকা পালন করতে হয় এবং স্বতন্ত্রভাবে চলাফেরা করার সুবিধা তাদের এইসব বিভিন্ন রকম ভূমিকা পালন করার মত স্বাধীনতা দেয়!

অতএব নানা রকম হয়রানি এবং চ্যালেঞ্জকে পাত্তা দিয়েন না, বরং নিজের সুবিধার জন্য এসব সমস্যা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে আরো বেশি উদ্যমী করে তুলুন। আপনার খরচের কথা ভাবুন এবং ঢাকা শহরের রাস্তায় একজন বাইক আরোহী হওয়ার মত অপরিচিত ধারণার শিকল ভেঙ্গে বেরিয়ে আসুন। আপনি যদি একা একা স্কুটার চালানোর ব্যাপারে প্রস্তুত না থাকেন তাহলে সময় নিন এবং বন্ধুদের সাথে স্কুটার নিন, এবং সব কিছুর পর আপনি যদি বুঝতে পারেন যে আপনি সব সময়ই একটি বাইসাইকেল, মোটর সাইকেল কিংবা স্কুটারের চালক হতে চেয়েছেন, তাহলে বাংলাদেশে একটি স্কুটার কেনার আগে bikroy.com এ পোস্ট হওয়া বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ব্রাউজ করা শুরু করে দিন।

এখানে অবশ্যই ঝুঁকির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু সেগুলো নিয়ে ভাবুন এবং নিজেদেরকে সহায়তা করুন। একটি দুই চাকার বাহনে চড়ে উঁচু নিচু ব্যস্ত রাস্তায় চলাফেরা করার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য প্রথমে একটি ব্যবহৃত বাইসাইকেল কিনুন, এবং তারপর আস্তে আস্তে নিজেকে স্কুটারের দিকে নিয়ে যান। Bikroy.com এর মত অনলাইন পোর্টালে হাজার হাজার বিজ্ঞাপন ব্রাউজ করে দেখুন। বাংলাদেশে স্মার্টফোন ব্যবহার করে খুব সহজেই আমাদের অ্যাপটি ইনস্টল করুন এবং ব্রাউজ করে খুঁজে নিন আপনার স্কুটারটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বিজ্ঞাপন খুঁজে দেখুন, প্রয়োজনে ড্রাইভিং কোর্স করে নিন। কেনার আগেই নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত করে নিন!

একটি স্কুটার কেনার মাধ্যমে আপনি নিজেকে যেকোন আবহাওয়ায় লম্বা সময় ধরে রাস্তায় চলাচল ও আটকে থাকার দুঃস্বপ্ন থেকে বাঁচাতে পারবেন। বেশির ভাগ সময় ঢাকা শহর বিশ্বের অন্যতম কঠোর ট্র্যাফিক সমস্যা এবং উপযুক্ত গণপরিবহনের অভাবগ্রস্ত শহরের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলে। এই রাজধানী শহরে বর্তমান সংখ্যক পাবলিক বাসের দ্বারা হাজার হাজার বাড়তি মানুষকে কোনভাবেই পরিবহন করানো সম্ভব নয়।

প্রতিটি বাসে মাত্র ৯টি বিশেষ সংরক্ষিত মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আসন থাকার কারণে, এ শহরের পাবলিক বাসগুলো কোনভাবেই বর্তমান বিপুল পরিমান শহরবাসীদের প্রাত্যহিক চাহিদা মেটাতে পারে না। ফলস্বরূপ, বেশির ভাগ কর্মরত নারীই বাধ্য হন যেকোন রকম প্রাইভেট পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করতে, উদাহরণস্বরূপ রিক্সা, সিএনজি, ট্যাক্সি কিংবা বর্তমানে বিপুল পরিমানে প্রচলিত রাইড শেয়ারিং সার্ভিস, যেমন উবার ও পাঠাও। যাই হোক, এ সব রকম বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থাই বেশ ব্যয়বহুল।

মেয়েদের জন্য স্কুটার কেনার জন্য যথেষ্ট সাশ্রয়ী এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ করাও অনেক বেশি সাশ্রয়ী। এটি হলো এমন একটি নিরেট বিনিয়োগ যা আপনার সময়, টাকা এবং শক্তি সবই বাঁচাবে। একটি স্কুটারে ১ লিটার তেল আপনাকে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দুরত্ব ভ্রমণ করার সুযোগ দেয়। যা সত্যিই অতুলনীয়! এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ট্র্যাফিক জ্যামে বসে থেকে আমাদের দিনের বিরাট একটা সময় অপচয় হয়, একটি স্কুটার আপনার প্রাত্যহিক পরিবহনের সময়কে অর্ধেকেরও কমে নামিয়ে আনতে পারে। পরিবহনের গতিও একই ভাবে বেড়ে যায়, যেখানে জাতীয় গড় গতি আমাদের দেশে প্রতি ঘন্টায় ৫ কিলোমিটারেরও কম, যা সত্যিই দুঃখজনক!

একটি স্কুটারের সাহায্যে পাওয়া বিভিন্ন রকম খরচ থেকে সাশ্রয় এবং উপযোগীতা ছাড়াও এটি নারীদের জন্য উপার্জনের এক নতুন পথ খুলে দেয়। মেয়েদের জন্য স্কুটার শুধুমাত্র যাতায়াতকেই সহজ করে না, এগুলো তাদের বাড়তি উপার্জন করতেও সহায়তা করে। বর্তমানের বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের প্রচলন তাদের জন্য একটি বিশ্বস্ত পরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে যাদের নিজস্ব দুই চাকার বাহন নেই এবং যানের মালিকদের জন্য অর্থ উপার্জনেরও এক নির্ভরযোগ্য উৎসে পরিণত হয়েছে।

মেয়েদের জন্য রাইড শেয়ারিং সার্ভিস

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং একটি ট্রেন্ডের চেয়েও বেশি কিছুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সময়ে এধরণের সার্ভিসের ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য পৃথক অ্যাপ রয়েছে। যেখানে সাধারণ রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য, সেখানে মেয়েরা পুরুষ রাইডারদের সাথে চলাচল করতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেন কোন অদ্ভুত হয়রানি বা সাধারণ অসুবিধার কথা ভেবে।

অতএব মেয়েদের জন্য রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আইডিয়া, যা কিনা মেয়েদের দ্বারা চালিত, বর্তমানের রাইড শেয়ারিং ব্যবসায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। এ ধরণের সার্ভিস থাকার কারণে যেসব মেয়েদের স্কুটার কিংবা মোটর সাইকেল রয়েছে তারা চিন্তাহীন ভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেব এবং তারা শুধুমাত্র নারী যাত্রীই পেয়ে থাকেন। আমরা বলছি না যে সকল পুরুষ নারীদেরকে অসম্মান করেন, কিন্তু নারীরা স্বভাবগত ভাবেই একজন পুরুষের তুলনায় একজন মেয়ে রাইডারের পেছনে বসে চলাফেরা করতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

প্রতিনিয়ত আরো অধিক সংখ্যক মেয়েরা স্কুটার কিংবা মোটর সাইকেল কিনছেন, অতএব তারা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই মহিলাদের জন্য রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে যোগ দিয়ে নিজেদের কিছুটা জ্বালানী খরচ তুলে ফেলার মত অপশনও হাতে পাচ্ছেন। এই শহরে কর্মরত হাজার হাজার নারীদের জন্য এই সুবিধাটি তাদেরকে দ্রুত যাতায়াতের একটি কার্যকরী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যমও উপহার দিতে পেরেছে।

এই পর্যায়ে আরো একটি বড় চিন্তার বিষয় হলো বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের বৈধতা। যেখানে এই সমস্ত সেবাই সাদা ও কালোর মাঝামাঝি কোথাও অবস্থান করছে, সেখানে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ)-এর উচিত অন্যান্য সরকারী সংগঠনের সাথে মিলে বাংলাদেশের এই অসাধারণ শিল্পকে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা তৈরি করার চেষ্টা করা। তাদের উচিত এই সুবিধার কার্যকারিতাকে বোঝা এবং বিভিন্ন ট্রেনিং সুবিধা, নিরাপদ সড়ক ক্যাম্পেইন ইত্যাদি আয়োজন করে নারী ও পুরুষ উভয়কে রাস্তায় নিরাপদ চলাচলের ব্যাপারে সাহায্য করে অনুপ্রাণিত করা।

সঠিক জায়গায় যথাযথ হিসাব নিকাশ এবং আমাদের সমাজের প্রগতিশীল চিন্তা ভাবনার হাত ধরে শুধুমাত্র নারীরা না, আমাদের সমগ্র দেশ একটি জাতি হিসেবে আরো বেশি অগ্রগামী এবং উন্নত হয়ে উঠার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চলেছে এবং বিশ্বব্যাপী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এটি কি সমাজে ‘নারী অগ্রগতির একটি মূর্তিমান প্রতীক’?

একটি আদর্শ সমাজ যেখানে নারীদেরকে শুধুমাত্র নারী হওয়ার অপরাধে প্রতিনিয়ত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা নিয়ে আমাদের আর ভাবতে হবে না, কিংবা তাদের সাথে পণ্যের মত আচরণ করা হবে না, বা যৌন নিপিড়নের শিকার কিংবা অবহেলার পাত্র বানানো হবে না, সেই সমাজ সত্যিকার অর্থে আমাদের জন্য অগ্রগতি হিসেবে প্রমাণিত হবে!

কিন্তু আফসোস, আমাদের সমাজ মেয়েদের প্রতি এক ধরণের নিচু মানসিকতার আচরণের জন্ম দেয়, এবং এই রকম পরিস্থিতিতে একটি গাড়ি কিংবা স্কুটারে করে শহরের মধ্যে মেয়েদের স্বাধীন চলাফেরা করতে পারার ক্ষমতাটা শুধুমাত্র নারী অগ্রগতির প্রতীক হওয়া উচিত নয়, বরং এমনটি করতে পারাটা তাদের পরম অধিকার!

দুর্ভাগ্যবশত নারীদের এই অধিকারকে শুধুমাত্র একটি অগ্রগতির চোখে দেখা হয়, কিন্তু তাই যদি সত্যি হয় তাহলে তাদেরকে সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার অধিকার দেয়া উচিত। নারীদের, ঠিক পুরুষদের মতই যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন চাকরি পাওয়া কিংবা করার স্বাধীনতা দেয়া উচিত এবং তাদেরকে তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয়া উচিত। আমাদের সমাজের নিচু মন মানসিকতা নারীদের থেকে তাদের উঁচু মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে এবং তাদেরকে অবহেলিত ও নাজুক অবস্থায় ফেলে রেখেছে।

এই রকম একটা সময়ে, যখন নারীদেরকে তাদের নিজস্ব কোন কাজের জন্য স্কুটারে করে চলাচল করতে দেখা যায়, তখন এটা শুধুমাত্র নারীদের জন্য এই সমাজে একটি অগ্রযাত্রার প্রতীক হিসেবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু আমাদের ক্ষতবিক্ষত আদর্শকে আবারও উন্নত করে তোলার জন্য এরকম আরো অনেক সুযোগ প্রয়োজন।

ঢাকা শহরে শত শত এবং হাজার হাজার নারী রয়েছেন যারা ম্যানেজমেন্ট সহ আরো বিভিন্ন উচ্চতর পদগুলোতে কাজ করছেন এবং রাইড শেয়ারিং অ্যাপ গুলো এই লাভজনক মার্কেটে পা রেখেছে এমন একটি রাইড শেয়ারিং সার্ভিস, যা নারীদের জন্য এবং যা চালাবেনও নারীরাই। এটি এই শহরের অন্যান্য মেয়েদেরকেও এই লাভজনক যাতায়াত সার্ভিসে অংশ নেবার সুযোগ করে দিয়েছে, যা থেকে তারা একটি ভালো পরিমান মাসিক উপার্জন করতে সক্ষম। নারী রাইডারদের রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে অংশ নিয়ে অর্থ উপার্জন করাটা নারীদের জন্য আরো একটি অগ্রগতির নিদর্শন, যেহেতু এখানে তারা প্রচলিত রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে অংশ নেয়া পুরুষ রাইডারদের মত সমান অধিকার ও সুযোগ পাচ্ছেন।

একটি সাধারণ বাহন স্কুটার……অথচ এটি এখন আমাদের সমাজে নারীদের প্রগতি, উন্নতি এবং অগ্রগতির এক নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে!

উপসংহার

হ্যাঁ, বাইসাইকেল, মোটর সাইকেল এবং স্কুটার বর্তমান পরিস্থিতিতে যাতায়াতের সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যমে পরিণত হয়েছে, কিন্তু এটিই এর একমাত্র সমাধান হতে পারে না। বর্তমানে জনগনের কাছে এটি সবচেয়ে বেশি সাশ্রয়ী এবং সময় বাঁচানো একটি অপশন। বিগত বছরে লোকাল এবং আন্তর্জাতিক উভয় ধরণের কোম্পানির রাইড শেয়ারিং অ্যাপ এর তাৎক্ষণিক সাফল্য লাভের দ্বারা এই ব্যাপারটিই আরো ভালোভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

একটি উন্নয়নশীল দেশে নারীদেরকে এমন সব বাড়তি যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয়, যা হয়ত অন্যান্য উন্নত দেশগুলোর চোখে মাঝে মাঝে গুরুত্ব পায়, আবার অনেক সময়ই পায় না। যদিও যাতায়াতের যুদ্ধ মানুষের লিঙ্গের উপর নির্ভরশীল নয়, তবুও আমাদের দেশে নারীরা পুরুষদের তুলনায় কিছুটা হলেও বেশি যুদ্ধের সম্মুখীন হন। ফলস্বরূপ, ঢাকা শহরে মেয়েদের চলাচলের জন্য স্কুটারের ব্যবহারই সবচেয়ে সেরা একটি অপশন।

অতএব আজই Bikroy.com/vehicles এ ভিসিট করে দেখে নিন স্কুটার, বাইসাইকেল, মোটর সাইকেলের বিপুল পরিমান কালেকশন আর ঢাকা শহরের ট্র্যাফিক জ্যামকে বিদায় দিতে খুঁজে নিন আপনার স্বপ্নের রাইডটি!

আপনার কি মনে হয় এই শহরে নারীদের স্বাধীন ও নিরাপদ ভাবে চলাচল করার জন্য এর চেয়ে ভালো কোন অপশন রয়েছে?

নারীদের স্কুটার চলানো নিয়ে আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করুন কমেন্ট সেকশনে।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments