কেন প্লট ও জমিতে বিনিয়োগ আপনার ভবিষ্যতের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত?

প্লট ও জমিতে বিনিয়োগ
Share

যখনই বিনিয়োগ নিয়ে ভাবা শুরু করা হয়, তখন বেশিরভাগ মানুষের কিন্তু রিয়েল এস্টেটের কথাই আগে মাথায় আসে। এমনকি অর্থনৈতিক মন্দার সময়েও, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করাটা বেশ সম্ভাবনাময় ও কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হয়। যেখানে বেশির ভাগ মানুষেরই ধারণা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ মানেই বাড়ি, ফ্ল্যাট ও এপার্টমেন্ট, কিংবা কমার্শিয়াল স্পেস বেচা কেনা করা, সেখানে প্রকৃতপক্ষে রিয়েল এস্টেটের এমন একটি দিক আছে যেখানে একজন বিনিয়োগকারী খুব সামান্য পরিমান বিনিয়োগ করেই তার পুঁজির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে পারেন– প্লট ও জমি। প্লট ও জমিতে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার অনেক রকম সুবিধা রয়েছে; আর এই বিষয়ে আরো বেশি পড়াশোনা করার ও জানার পর, আপনি হয়ত এই ধরণের বিনিয়োগকেই আপনার জন্য সেরা সিদ্ধান্ত হিসেবে আবিষ্কার করতে পারবেন। এখন পর্যন্ত ব্যাপক ভাবে প্রচলিত ও ভিত্তিহীন একটি ধারণা মানুষের মনে রয়ে গেছে যে একটি খালি জমিতে বিনিয়োগ করাটা এক ধরণের “দুর্বল” কিংবা অর্থহীন বিনিয়োগ, কেননা…

  • এর থেকে সরাসরি কোন ইনকাম আসে না।
  • এটি শুধু পড়েই থাকে একটা জায়গায়, কিছুই ঘটে না
  • এক কথায় বোরিং!

আমরা মনে করি এইসব কারণে জমিতে বিনিয়োগ না করার কথা ভাবাটা অবান্তর, কেননা আসলে একটি খালি জমি থেকে অনায়াসেই বেশ ভালো পরিমান টাকা-পয়সা কামানো সম্ভব এবং এর সার্বজনীন ও নিষ্ক্রিয় স্বভাবের জন্য একে বিশ্বের সবচেয়ে সেরা বিনিয়োগ বলা চলে। এছাড়াও সত্যি বলতে গেলে, জমির শুধুমাত্র পড়ে থাকা আর কিছুই না ঘটার বৈশিষ্ট্যটা কিন্তু আমার কাছে দারুণ লাগে!

এইরূপ একটি সঠিক প্লট বা জমি বাজারের সেরা দামে কিনে এর মালিক হওয়ার মাধ্যমে যে সহজ ও স্থায়ী সমাধান আপনি অর্জন করে নিচ্ছেন তা অন্য যেকোন ধরণের রিয়েল এস্টেট প্রপার্টির সাথে আসা অগণিত সমস্যার বোঝাকে অনেক পেছনে ফেলে দেয়। আপনি যদি এতদিন ধরে অপরিবর্তিত জমিতে বিনিয়োগ করার মত একটি সম্ভাবনাময় সুযোগকে পাত্তা না দিয়ে থাকেন, তাহলে আজ আপনার উচিত কয়েক মিনিট সময় হাতে নিয়ে খালি জমি সংক্রান্ত বিস্তারিত ধারণা অর্জন করা এবং এর সম্পর্কে ভালো ভাবে জানা!

চলুন এখন আমরা জেনে নিই কেন প্লট ও জমিতে টাকা বিনিয়োগ করা উচিত সেই কারণ গুলো:

প্লট ও জমিতে টাকা বিনিয়োগ

১) একটি খালি জমি কিনলে আপনাকে সেটার জন্য নতুন করে কিছুই করতে হবে না

নির্মাণ কাজ ও সংস্কার করার কথা বাদই দিন! একটি প্রপার্টিকে নিজের হাতে নতুনের মত করে নেয়ার জন্য আপনাকে তেমন কিছুই জানতে হবে না বা কোন এক্সপার্টও হতে হবে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আপনাকে শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে আর তা হলো ‘জমিটি কি যেকোন ধরণের নির্মাণের জন্য অনুকূল?’ যতদিন পর্যন্ত জমিটিতে যেকোন ব্যক্তি তাদের ইচ্ছামত যেকোন ধরণের প্রপার্টি নির্মাণ করতে পারবে, ততদিন পর্যন্ত যুদ্ধের একটা বড় অংশে আমরা এমনিতেই বিজয়ী!

২) অপরিবর্তিত জমি একটি নিশ্চিন্ত বিনিয়োগের কেন্দ্র

আপনি কি একটি বিল্ডিং এর মালিক হওয়ার পাশাপাশি হোল্ডার, পোকামাকড়, ছত্রাক, টয়লেট, লনের যত্ন, ফাটা পাইপ, ফুটো ছাদ, ভাঙা গ্যাসের লাইন সহ আরো শত শত নানা রকম সমস্যার সাথে মোকাবিলা করতে করতে ক্লান্ত? তবে জেনে রাখুন, একটি খালি জমিতে এ সমস্যাগুলোর কোনটিই নেই। একবার আপনি একটি জমি কিনলেন, তারপর সেটা সেখানেই পড়ে থাকবে আর এতে তেমন কিছুই ঘটবে না!

৩) পরিসংখ্যান অনুযায়ী খালি জমির মালিকেরা জমি বিক্রির ব্যাপারে অধিক আগ্রহী থাকেন

কেন? কেননা খালি জমির মালিকেরা স্বভাবগত ভাবেই অনুপস্থিত মালিক হয়ে থাকেন। কেউ যখন এমন একটি প্রপার্টি বিক্রি করার চেষ্টা করতে থাকেন যেটার আশেপাশে কোথাও তারা বসবাস করেন না, তখন সেই প্রপার্টির প্রতি তাদের আবেগীয় সম্পর্ক বেশ কম থাকে – কেননা এটি তাদের প্রাথমিক বাসস্থান নয়। অনেক ক্ষেত্রেই আপনারা দেখতে পাবেন যে শুধুমাত্র এই জমি বা প্রপার্টি থেকে কোন রকম ইনকাম আসছে না সেই কারণে এ ধরণের বিক্রেতারা তাদের জমিটি অন্যান্য জমিতে বসবাসকারী বিক্রেতাদের তুলনায় বেশ কম দামে বিক্রি করার জন্য ইচ্ছুক থাকেন। এমনটি ঘটার অন্যতম কারণ হচ্ছে তারা ঠিকমত জানেনই না কীভাবে তাদের জমির সঠিক সদ্ব্যবহার করতে হয়, আর সেই ফলস্বরূপ তারা এই ব্যাপারে বেশ উদাসীন হয়ে থাকেন। ঠিক এই মানুষগুলোকেই খুঁজে বের করুন এবং এদের সাথে আপনি পাবেন দারুণ সব ডিল সম্পন্ন করার সুযোগ।

৪) জমি ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা খুবই কম থাকে

আপনি কি যেকোন প্রপার্টি কেনার চেষ্টা করার সময় তীব্র প্রতিযোগিতার সাথে পাল্লা দিতে দিতে ক্লান্ত? কোন রকমে খুঁজে পাওয়া একটি ভালো অফারে বার বার হেরে যেতে আর ভালো লাগছে না? আপনি কি জানেন? অপরিবর্তিত খালি জমিতে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে এই ধরণের কোন সমস্যা নেই, আর প্রতিযোগিতাও খুবই কম। আসলে বেশির ভাগ রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ অন্যান্য জিনিস যেমন বাড়ি, ফ্ল্যাট ও এপার্টমেন্ট, কমার্শিয়াল প্রপার্টি ইত্যাদির উপর নিবিষ্ট থাকে – কারণ বাকি মানুষেরাও এটাই করে থাকেন। একটি খালি জমির সাথে আসা বৃহত্তর সুযোগ সুবিধাগুলো বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীই বুঝতে পারেন না এবং এই ব্যাপারটা নিশ্চয়ই আপনার পক্ষে কিছু বাড়তি সুবিধা যোগ করবে।

৫) জমি বিনিয়োগকারীরা তাদের মনের মত সুযোগ সৃষ্টি করে নিতে পারেন

যখন আপনি সঠিক উপায়ে একটি খালি জমি কিনবেন, তখন প্রত্যেকটি প্রপার্টি আপনি আপনার নিজের ক্যাশ টাকায় খুব সহজেই কিনতে পারবেন এবং যেকোন রকম ব্যাংক লোন করা ও বন্ধক দেয়া থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে পারবেন। যখন আপনি জানেন ঠিক কোথায় প্লট ও জমির সেরা ডিল গুলো খুঁজে পাবেন, তখন আপনার ব্যবসা বা বিনিয়োগকে সক্রিয় ভাবে চালু করার জন্য খুব অল্প পরিমাণ পুঁজি নিয়ে মাঠে নামতে পারবেন। যেসব ব্যক্তি নিজের জমিতে নিজস্ব বাড়ি নির্মাণ করেন তাদের জন্যও এই ব্যাপারটি প্রযোজ্য।

৬) খালি জমি বেচা বা কেনার ক্ষেত্রে সব সময় সেগুলো চোখে দেখার দরকার হয় না

প্লট ও জমির অন্যতম দারুণ একটা ব্যাপার হচ্ছে যে এতে কোন রকম গঠনশৈলী বা নির্মাণ নেই। এর মানে হচ্ছে জমিটি পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ করাটা খুবই সহজ – আর যদি আপনি আপনার রিসার্চ ভালোভাবে সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আপনি বিনা ঝামেলায় না দেখেই আপনার প্রপার্টি গুলো কিনতে পারবেন। প্লট ও জমি সংক্রান্ত দারুণ সব অফার খুঁজে পাওয়ার জন্য আপনি বিভিন্ন অনলাইন ও অফলাইন প্রপার্টি পোর্টাল, যেমন- bikroy.com/property তে আপনার রিসার্চ সম্পন্ন করতে পারবেন। এখানে আপনি আপনার যেকোন ধরণের প্রপার্টি বেচাকেনাও করতে পারবেন কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই, আর যদি আপনি শুরু থেকেই যথেষ্ট স্মার্ট হন তাহলে সেটি সামনাসামনি যেয়ে দেখারও প্রয়োজন হবে না।

৭) প্লট ও জমির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী কদর

একটি খালি জমি কেনার সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হচ্ছে যে সাধারণত আপনার জমিটি কেনার সময় থাকা অবস্থাতেই অক্ষত রয়ে যায় বহু বছর ধরে। আবহাওয়া এবং আকস্মিক ভুমিকম্পের প্রভাব হয়ত কিছুটা পড়তে পারে, কিন্তু সার্বজনীন ভাবে একটি খালি জমির কদর দীর্ঘমেয়াদ ধরে বেশ উন্নত হয়ে থাকে।

সঠিক পদ্ধতিতে কেনা হলে আপনার জমির কদর বেশ ভালোভাবে বেড়ে যেতে পারে। এটি সচরাচর তখন ঘটে থাকে যখন জমিটি কোন একটি অপছন্দনীয় যায়গায় অবস্থিত থাকে, কিন্তু কোন একটা সময় এর আশে পাশের এলাকা বেশ কিছু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় এবং যায়গাটি থাকার জন্য বেশ পছন্দনীয় একটি এলাকায় পরিণত হয়। এই ঘটনাটি সেই সব এলাকার জন্য সত্য যেগুলোকে বৃহৎ বর্ধনশীল ও উন্নয়নশীল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে এবং এরা যেকোন ধরণের আবাসিক এলাকার ক্যাটাগরিতে পড়ে যায়, এইসব কারণে জমিটির দাম রাতারাতি অনেক বেড়ে যেতে পারে।

৮) একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে জমির মালিক হওয়াটা অনেক বেশি সাশ্রয়ী

যখন আপনি শেষমেষ সঠিক দামে এক টুকরো জমি কিনে ফেলেন, তখন আপনাকে আর কোন বন্ধকী পরিশোধ করতে হবে না, কোন আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধার বিলও দিতে হবে না। প্রপার্টির ইনস্যুরেন্সের খরচ যদি থাকে তবে তা খুবই সামান্য এবং প্রপার্টির ট্যাক্সও অনেক বেশি সাশ্রয়ী। যদি আপনি আপনার ক্যাশ টাকা কোথাও নিরাপদে সংরক্ষণ করে রাখতে ও সে ব্যাপারে ভুলে থাকতে চান, তাহলে একটি খালি জমিতে বিনিয়োগ করাটাই হবে আপনার জন্য সবচেয়ে সেরা অপশন।

৯) জমির মালিক মানসিক ভাবে শান্তিতে থাকেন

অতএব আপনারা ইতোমধ্যে বুঝে গেছেন যে প্লট ও জমি একটি দীর্ঘমেয়াদী, বাস্তবসম্মত সম্পদ যা সময়ের সাথে ক্ষয় কিংবা অবমূল্যায়িত হয় না এবং এর মধ্যে কোন কিছু ভাঙা, চুরি কিংবা ধ্বংস হওয়ার মত কিছুই নেই। এত সব সুবিধার পাশাপাশি যখন আপনি নামমাত্র দামে জমিটি কেনার স্বাধীনতা পাচ্ছেন, তখন এর চেয়ে ভালো কোন অফার কি আপনি ভাবতে পেরেছেন কখনও? এই সমস্ত বিষয় একজন জমির মালিকের মনে অপরিসীম শান্তি বয়ে নিয়ে আসে।

১০) পছন্দমত কাস্টমাইজ করার সুবিধা

একটি খালি জমি কেনার বিশাল একটি সুবিধা হচ্ছে যে জমিটি সম্পূরণ আপনার এবং আপনি এটি নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন, যতক্ষণ আপনি আইন মেনে চলছেন আর কি। আপনি জমিটি এমনিই রেখে দিতে পারেন, কিংবা আপনার মালিকানায় থাকা জমিতে নিজের একয়টি বাড়ি নির্মাণ করতে পারেন। আপনার ও আপনার পরিবারে আরামের জন্য একটি বাংলো ধাঁচের বাড়ি তৈরি করতে পারেন সব রকম আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সহ, অথবা একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করতে পারেন এবং তাতে বিক্রির জন্য ফ্ল্যাট সাজাতে পারেন। এছাড়াও আপনার হাতে অপশন রয়েছে যেকোন ডেভেলপার কোম্পানির কাছে জমিটি বিক্রি করে দেয়ার, যাতে সেখানে কমার্শিয়াল প্রপার্টি নির্মাণ করা যায় আর সেখানে লভ্যাংশ হিসেবে আপনি কয়েকটি ফ্ল্যাটও পেতে পারেন।

মাথায় রাখার মত কিছু ব্যাপার

জমি কেনা

যদিও একটি খালি জমি কেনার মধ্যে বিপুল পরিমাণ সুযোগ সুবিধা রয়েছে, তবুও এর কিছু অসুবিধা বা গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে যেগুলো আপনার মাথায় রাখাটা জরুরি। প্রথমত এটা অত্যাবশ্যক যে আপনি আপনার রিসার্চ ভালোভাবে করে নিয়ে তারপর একটি ভালো যায়গায় জমি কেনেন, যা থেকে পরবর্তী বছরগুলোয় জমিটির মূল্য বহুগুনে বেড়ে যাবে। আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না বিচ্ছিন্ন কোন এলাকায় এমন কোন জমি কিনে বসতে, যা কিনা পরবর্তীতে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়বে আর আপনার মাথায় বোঝার মত সেই জমিটি গেড়ে বসে থাকবে।

১) জমির ইতিহাস জানুন

একটি খালি জমি কেনার সময় আপনাকে জমিটির ইতিহাস ও আগে জমিটি কি কাজে ব্যবহৃত হত সে সব জেনে নিতে হবে, কেননা এই তথ্য গুলো আপনার ভবিষ্যত ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাজে আসবে। আপনি জমিটির একটি টপোগ্রাফি এবং সয়েল রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন এবং নিশ্চিত হতে পারেন যে সেই জমিতে কোন কিছু নির্মাণ করা সম্ভব কিনা, একই সাথে এটাও নিশ্চিত হবেন যে জমিটি পুরোপুরি আপনার নামে রয়েছে কিনা এবং এটি অন্য কোন ব্যক্তিকে এর উপর কোন কিছু করার অধিকার দেবে না। আপনার এটাও খুঁজে বের করা উচিত যে আগের মালিক জমিটি কেন বিক্রি করে দিচ্ছেন, বিশেষ করে যখন জমিটি বেশ কম দামে অফার করা হয়, কেননা এতে করে জমিটির কোন সমস্যা থাকলে সেটি আগেভাগেই আপনার নজরে পড়বে।

২) জমি থেকে শুরুতেই কোন ইনকাম আসে না

আপনি যদি আপনার জমি কোন পার্কিং এর জন্য বা কৃষকদের চাষের জন্য ভাড়া দিয়ে না থাকেন, তাহলে আপনার জমি থেকে তৎক্ষণাৎ কোন ইনকাম আসা শুরু হবে না। যদি আপনি জমিটি আপনার কেনা দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করে দিতে পারেন, তবেই এর থেকে তাৎক্ষনিক ইনকাম পাওয়া সম্ভব।

৩) রি-জোনিং বা আঞ্চলিক পরিবর্তন

আপনি যদি রি-জোনিং হওয়ার আশায় কোন জমি কিনার চিন্তা ভাবনা করে থাকেন, তাহলে আবারও ভেবে দেখুন। প্রথমত, জমিটি এমন কোন যায়গায় রি-জোন হতে বেশ কিছু সময় লাগবে যেখানে আপনি কিছু নির্মাণ করতে পারবেন, আবার তেমনটা কখনও নাও ঘটতে পারে! সেজন্য এটা অত্যাবশ্যক যে আপনি জমিটির অবস্থান নিয়ে ভালোভাবে চিন্তা করে নিন। মৌলিক চাহিদা ও সুযোগ-সুবিধা, যেমন- দোকান পাট, স্কুল এবং হাসপাতাল ইত্যাদির আশে পাশে জমি কেনার মানে হচ্ছে যে সেই জমিটি কোন সুবিধাবঞ্চিত বা অনুন্নত এলাকার জমির তুলনায় বেশি তাড়াতাড়ি মূল্যবৃদ্ধি হবে ও বিক্রি হবে। অনেক গুলো নিষিদ্ধ জমি থাকার তুলনায় এমন একটি জমি থাকা বেশি লাভজনক যেখানে কিছু নির্মাণ করা সম্ভব।

৪) জমির সাইজ

বড় মাপের প্লট ও জমি কেনার তুলনায় ছোট আকারের জমি কেনা অধিক লাভজনক। কেননা জমির আকার যত বড় হবে, সেটি বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা ততই কম ও কঠিন। আপনাকে জমির আকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান নিয়েও ভেবে ও লক্ষ্য করে দেখতে হবে যে জমিটি বন্যায় কবলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা। পাহাড়ি জমির তুলনায় সমতল ভূমি অধিক সুবিধার, কেননা এতে যেকোন প্রপার্টি নির্মাণ করা সহজ।

৫) রাস্তাঘাটের অবকাঠামো এবং সুযোগ সুবিধা

আপনাকে এটাও লক্ষ্য করে দেখতে হবে যে আপনার খালি জমিটির কোন রাস্তার সাথে সংযোগ আছে কি না এবং সেখানে মৌলিক সুযোগ সুবিধা, যেমন পানি, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা সহজ কিনা। যেকোন জমিতে নির্মাণ কাজ করার জন্য সেখানে ইউটিলিটি সংযোগ ও নালা নর্দমা যায়গা মত থাকা বাঞ্ছনীয়।

উপসংহার

সর্বোপরি, আপনার যদি বিনিয়োগ করার মত টাকা থাকে, তাহলে প্লট ও জমির মত একটি রিয়েল এস্টেট প্রপার্টি আপনার ও আপনার বাজেটের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। এগুলোর দাম নিয়ে সাধ্যের মধ্যে থাকে, আপনার জন্য দারুণ সুযোগ সুবিধা ও স্থিতিস্থাপকতা থাকে, শ্রম কম দিতে হয়, লাভ করার সম্ভাবনা থাকে এবং নিঃসন্দেহে এগুলো আপনার আর্থিক লক্ষ্য অর্জন করার জন্য আপনাকে সাহায্য করবে। আপনার চাহিদা এবং বিনিয়োগের বাজেটের সাথে মিলে যায় এমন একটি সঠিক জমি খুঁজে পাওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার সম্পূর্ণ জীবনকে বদলে দিতে পারবেন, আর্থিক ও ব্যক্তিগত উভয় দিক থেকেই। আপনার পরবর্তী রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্লট ও জমির কথা বিবেচনা করে দেখুন এবং আজই আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। আপনার খোঁজ হোক আনন্দের!

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments