কেন কিনবেন আইফোন ১১?

কিনুন আইফোন ১১
Share

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ব্র্যান্ডের গ্যাজেটগুলো যে বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড এটি সবারই জানা। আর সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এদেশে বাড়ছে ব্র্যান্ডটির জনপ্রিয়তা। যতবারই অ্যাপল তার নতুন ব্র্যান্ডের ফোন বাজারে প্রকাশ করে, ঠিক ততবারই এদেশের টেকপ্রেমী মানুষদের একটি চেনা প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়, “এবারের আইফোনটি কেনা উচিত হবে তো?” কিংবা “ফোনটির নতুন স্পেসিফিকেশন ও ফিচারগুলো ভ্যালু ফর মানি কি?” বাজারে সম্প্রতি ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে আইফোন ব্র্যান্ডের নতুন ফোন আইফোন ১১। আজকের আর্টিকেলটিতে এই ফোনের যাবতীয় দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে যা আপনাকে ফোনটি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

প্রাককথা

১৯৮৪ তে ২৪ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপি মুক্তি পায় অ্যাপল ম্যাকিনটোশ পার্সোনাল কম্পিউটার। ব্যবহারকারীরা তখন প্রথমবারের মত শিখেছিলো কিভাবে মাউস ব্যবহার করতে হয়। এরপর নানা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে ২০০৭ সালে এলো আইফোন নামক স্মার্ট মোবাইল ডিভাইস। নানা সময়ে বিভিন্ন চমকের মাধ্যমে অ্যাপল টেক বাজারে ব্যবহারকারীদের দিয়েছে নতুন সব অভিজ্ঞতা এবং তার প্রতিযোগীদের দিয়েছে অনুসরণ করার মতো সব জিনিস। অ্যাপলের বর্তমান জনপ্রিয় সব গ্যাজেটের মধ্যে রয়েছে আইপড, আইম্যাক, ম্যাকবুক প্রো, আইফোন এবং আইপ্যাড। তবে এদের মধ্যে প্রতিবছর আইফোনের নতুন সংস্করণ মুক্তির সময়ে সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নতুন সংস্করণে একের পর এক চোখ ধাঁধানো ফিচার দিয়ে অ্যাপল ছাড়িয়ে যায় নিজেকেই। সদ্য বাজারে আসা আইফোন ১১ নিয়ে বিশ্লেষণ জেনে আসা যাক।

বৈশিষ্ট্যসমূহ

এটি সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন যে, বর্তমান বাজার অনুসারে আইফোন ১১ মোটেও দামের দিক দিয়ে ধরাছোঁয়ার মধ্যে কোনো ফোন নয়। এদেশের বাজারে আইফোন ১১ এর দাম আনুমানিক ৮০,০০০ টাকা এবং আইফোন ১১ প্রো কিনতে আপনাকে গুনতে হবে প্রায় ১১৮,০০০ টাকা। চলুন দেখে নেই এর ফিচারগুলোঃ

আইফোন ১১ ক্যামেরা

  • ক্যামেরাঃ এই ফোনটির অন্যতম সেরা ফিচার হচ্ছে এর ক্যামেরা কোয়ালিটি। আইফোন ব্র্যান্ডটি বরাবরই এর অসাধারণ ক্যামেরা এবং সন্ধ্যা কিংবা কাকডাকা ভোর সহ যে কোন সময় দারুণ সব ছবি তোলার জন্য বিখ্যাত। আইফোন ১১ এর রয়েছে ডুয়েল ১২+১২ মেগাপিক্সেল পেছনের ক্যামেরা এবং ডুয়েল ১২ মেগাপিক্সেল+টিওএফ থ্রিডি সামনের ক্যামেরা। আর তাদের প্রো সংস্করণটির পেছনে রয়েছে ৩টি ক্যামেরা। আইফোন ১১ প্রো এবং প্রো ১১ ম্যাক্স এ রয়েছে একটি ১২ মেগাপিক্সেল ওয়াইড লেন্স, একটি ১২ মেগাপিক্সেল টেলিফটো লেন্স এবং একই মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড লেন্স সঙ্গে ১২০ ডিগ্রি ফিল্ড অব ভিউ। এছাড়াও আইফোনের ১১ এর সকল মডেলগুলোরই রয়েছে সেরা ভিডিও ক্যাপচার দক্ষতা। এসব ফিচারগুলো থেকে অনায়াসে বলা যায়, আইফোন ১১ এর ক্যামেরা বাজারের সেরা পোর্টেবল ডিজিটাল ক্যামেরাগুলোর একটি। 
  • দ্রুততর প্রসেসর এবং সেরা ব্যাটারিঃ নতুন আইফোনে রয়েছে এ১৩ বায়োনিক প্রসেসর যা অ্যাপলের মতে এযাবতকালের সবচেয়ে দ্রুততর প্রসেসর। তাই একসঙ্গে মোবাইল গেমস সহ কয়েকটি অ্যাপ আপনি চালাতে পারবেন স্বচ্ছন্দভাবে। অ্যাপলের মতে আইফোন ১১ এর ব্যাটারি আইফোন এক্সএস এর ব্যাটারির চেয়ে প্রায় এক ঘন্টা বেশী দীর্ঘস্থায়ী। তাই ঢাকার কোন ট্রাফিক জ্যামে দীর্ঘসময় আটকে থাকলেও আপনার পাশে থাকছে আইফোন, তার বোর হবার কোন সুযোগই নেই।

আইফোন ১১ ইন্টারফেস

  • ইন্টারফেসঃ আইফোন ১১ বাজারে এসেছে অ্যাপলের সর্বশেষ মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম আইওএস ১৩ নিয়ে। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে যেমন ইন্টারফেসগুলো ব্যবহারকারীরা নিজের মত করে পরিবর্তন করে নিতে পারেন, আইফোনে সেই সুযোগটি নেই যা অনেক ব্যবহারকারীদের জন্য বিরক্তির কারণ হতে পারে। তবে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, অ্যাপল বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা নিজের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারগুলো নিজেরাই তৈরি করে। এই দুই এর মিশেলে ব্যবহারকারী পায় সেরা পারফর্মেন্স এবং স্থায়িত্ব। যদিও নন-অ্যাপল ডিভাইসে কম্পাটিবিলিটির সমস্যা অ্যাপলে রয়েছে, তবে ম্যাক ও আইপ্যাডের সঙ্গে আইফোনের সিংকটি দুর্দান্ত। সেটা ফাইল কিংবা অ্যাক্টিভিটি ট্রান্সফার এর বিষয়ই হোক না কেন।
  • দামঃ এটা সবাই জানে যে অন্যান্য স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের তুলনায় আইফোনের মূল্য সর্বদা প্রিমিয়াম হয়ে থাকে। যেমনটা পূর্বে আলোচিত হচ্ছিলো, আইফোন ১১ এর দাম ৮০ হাজার টাকার মতো এবং ১১ প্রো সংস্করণ এর দাম এর কিছুটা বেশি। তাই যদি দাম একটি বিষয় হয়ে থাকে তবে আইফোন আপনার জন্য মানানসই ব্র্যান্ড নয়। একই ফিচারে বাজারে আপনি অনেক কম মূল্যের অ্যান্ড্রয়েড ফোনই কিনতে পারবেন। তারপরও যদি আপনি আইফোন নিতেই চান তবে অনেক আউটলেট কিংবা দোকানে আপনি পেয়ে যাবে সুলভ সব ইএমআই স্কিম।
  • দীর্ঘস্থায়িত্বঃ শুধুমাত্র ক্যামেরা ব্যতীত, আইফোন ব্র্যান্ডটি তার দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড। আমরা এমন কিছু ডিভাইস কিনি যা ২-৩ বছরে ধীরগতির কিংবা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তবে আইফোনের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘস্থায়িত্বের মাত্রাটা অনেক বেশি। সবমিলিয়ে হার্ডওয়ার বিল্ড কোয়ালিটি এবং কম্প্যাটিবিলিটির মাধ্যমে আইওএস নিশ্চিত করে দ্রুততর পারফর্মেন্স। সহজ কথায় বলতে গেলে আইফোন ১১ ব্যয়বহুল একটি ফোন মনে হলেও এর দীর্ঘস্থায়িত্ব এর ব্যায়কে পুষিয়ে নিতে যথেষ্ট।
  • বিক্রয় পরবর্তী সেবাঃ যেহেতু অ্যাপল তার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারগুলো নিজেরাই তৈরি করে, তাই এর বিক্রয় পরবর্তী সেবার মানটিও উঁচু দরের। বিশ্বের অন্যতম সেরা বিক্রয় পরবর্তী সেবা অ্যাপলই প্রদান করে থাকে এবং বাংলাদেশেও আপনার অ্যাপল গ্যাজেটটির সারাইয়ের জন্য অ্যাপল দ্বারা প্রশিক্ষিত প্রকৌশলী রয়েছে। সার্ভিসের নানা খুঁটিনাটি জানতে অবশ্যই যোগাযোগ করুন “অ্যাপল অনুমোদিত রিসেলার” এর সঙ্গে।

কোথায় থেকে কিনবেন?

এদেশে অনলাইনে ফোন কেনা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। আপনি Bikroy এর মাধ্যমে সহজেই আইফোন ১১ অর্ডার করতে পারবেন এবং তারা দ্রুততর সময়ে ফোনটি পৌছে দেবে আপনার দোরগোড়ায়। অথবা সরাসরি ফোন দেখে কিনতে চাইলে অবশ্যই যোগাযোগ করুন অ্যাপল অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রে।

শেষকথা

সবমিলিয়ে আইফোন ১১ একটি চমৎকার ডিভাইস। এর পছন্দ এবং অপছন্দের দিক অবশ্যই রয়েছে, তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করছে আপনি কেমন ব্যবহারকারী তার উপরে। দিনশেষে সিদ্ধান্ত আপনার যে আপনি ফোনটি কিনবেন নাকি কিনবেন না। তবে অবশ্যই কেনার আগে এর নানা দিক যাচাই বাছাই করে নেবেন। কারণ আইফোন ১১ এর ক্রয় সিদ্ধান্ত কোন ছোট আকারের বিনিয়োগ নয়। এছাড়াও আরেকটি পরামর্শ হলো আইফোন ১১ এর বাইরে আপনি গত বছরের আইফোন এক্স এস মডেলটি দেখে নিতে পারেন। তবে আপনি যদি অ্যাপলের ভক্ত হয়ে থাকেন, তবে চোখ বুজে নিয়ে নিতে পারেন আইফোনের নতুন মডেলটি

হ্যাপি শপিং!

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments

About Md. Altamis Nabil

ডিজিটাল সার্ভিস বিশেষজ্ঞ | লেখক, কলামিস্ট ও স্বাধীন চলচ্চিত্রকার কন্টেন্ট লেখক, বিক্রয়.কম অতিথি লেখক, ভোরের কাগজ ও বাংলানিউজ২৪.কম প্রকাশিত গ্রন্থঃ মহারাজা তোমারে সেলাম (২০১৯)