কর্মী নিয়োগের সময় এই সাধারণ ৫টি ভুল করছেন না তো?

Share

প্রতিষ্ঠানে সফলতা আনার জন্য সঠিক কর্মী নির্বাচন করা প্রয়োজন। উপযুক্ত কর্মী ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান-ই তাদের লক্ষ্যের দিকে আগাতে পারেনা। সেইসাথে, যেসব কর্মী, পদের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার সাথে নিজেদের মিলিয়ে নিতে পারেনা তাদের কে নিয়োগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে তা প্রতিষ্ঠানে অনেক অযাচিত সমস্যা এবং অদরকারি খরচ বয়ে আনে।  

চাকরিতে নিয়োগের সময় সাধারণ যে ভুলগুলো হয় তা এড়াতে, নিয়োগ কর্তাদের জানা উচিত, সঠিকভাবে কিভাবে কর্মী নিয়োগ করা উচিত যেনো পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানকে কোন ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয়। কেননা যদি ভুল কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে, একটা সময় কোন না কোন ভাবে  হয় তারা চাকরিচ্যুত হয় বা নিজে থেকেই চাকরি ছেড়ে চলে যায়। যার ফলস্বরুপ নিয়োগকর্তাদের আবারো নিয়োগের পুরো পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করতে হয়।

নিয়োগের সময় সাধারণ যেসব ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে সেগুলো হল-

১। প্রার্থীদের অপর্যাপ্ত সার্চ পুল

নিয়োগের সময়কার একটি বড় ভুল হয় আবেদনকারী প্রার্থীদের পুল তৈরির সময়। বেশিরভাগ নিয়োগকর্তাই বেশিরভাগ সিভি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র হাতে গোনা কয়েকটা সিভি রাখেন যা তাদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করে।

নিয়োগ কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কিভাবে সিভি তৈরি করতে পারেন তা বিস্তারিত জানতে আমাদের আরেকটি আর্টিকেল দেখুন “চাকরির জন্য সিভি তৈরির সঠিক নিয়ম

উপযুক্ত কর্মী নিয়োগের জন্য, যারা ভালো ক্যান্ডিডেট আছেন তাদের সর্টলিস্ট করা জরুরী কিন্তু এই কাজটা প্রাথমিক বাছাইয়ের সময় থেকেই করা উচিত নয়।

প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য লাভের অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে বৈচিত্রতা। বৈচিত্রতা বলতে, প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, বয়সের মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করা বোঝায়। বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের থেকে সঠিক কর্মী বাছাই, তাদের নানা ধরণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং মতাদর্শ যেসব নতুন এবং ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনার মিশ্রণ ঘটাবে কর্মস্থলে তা প্রতিষ্ঠানটিকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রমী করে তুলবে। নিয়োগকর্তারা তাদের ক্যান্ডিডেট পুলে যোগ্য কর্মীর আবেদন বাড়ানোর জন্য ভিন্নধর্মী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেন। মানুষজন আজকাল  খুব কমই সংবাদপ্ত্রের চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অংশটা পড়ে থাকেন, বেশিরভাগ-ই ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোতে চাকরির বিজ্ঞপ্তি খুজে বেড়ান। চাকরি সন্ধানিদের মাঝে ফেইসবুক এবং লিঙ্কড-ইন বর্তমানে চাকরি খোজার সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। Bikroy.com ও নতুন একটি প্লাটফর্ম bikroyJobs এমন ভাবে ডেভলভ করেছে যেন এর সাহায্যে নিয়োগকর্তারা খুব সহজেই খুজে নিতে পারবেন যোগ্য প্রার্থীদেরকে। BikroyJobs সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন দেখুনঃ জব পোর্টাল সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দিতে BikroyJOBS এর নতুন সূচনা!

 এছাড়াও প্রার্থীদের আবেদনের সংখ্যা বাড়াতে , নিয়োগকর্তাদের উচিত বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা,তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গুলো প্রকাশ করার জন্যে, যেমন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো, যেনো বিভিন্ন ধরণের মানুষ খুব সহজেই চাকরির আবেদন করতে পারেন।

২। নিয়োগকারীদের প্রার্থীর ব্যাপারে প্রথম ধারণা

এটা খুব-ই স্বাভাবিক যে ইন্টারভিউ এর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় আবেদনকারী প্রার্থীর ব্যাপারে নিয়োগকর্তারা কিছু একটা ধারণা পোষণ করবেন। একজন প্রার্থীর কথা বলার ধরণ, তার আচার-আচরণ এবং তার হাব-ভাব সকল কিছুর উপরেই নির্ভর করে একজন ইন্টারভিওয়ার তার ব্যাপারে এবং নির্দিষ্ট পদটির জন্য সে কতটুকু যোগ্য তা নিয়ে মতামত পোষণ করেন।

নিয়োগকর্তারা প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণত কি কি গুনাবলি খেয়াল করে থাকেন তা বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনঃ ইন্টারভিউ বোর্ড-এ কি করা উচিৎ আর কি উচিৎ না

একজন নিয়োগকর্তা যদি  নিয়োগের চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নেয় শুধুমাত্র প্রার্থীর প্রতি তার নিজস্ব ধারনার উপর ভিত্তি করে তবে এতে করে ভুল প্রার্থী নির্বাচনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একজন প্রার্থীর হয়তো নির্দিষ্ট পদের জন্য দরকারি সকল জ্ঞান এবং দক্ষতা দুইটিই আছে, কিন্তু নার্ভাসনেস কিংবা ইন্টারভিউতে সঠিক ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে না পারায় প্রথম ইমপ্রেশন খারাপ হয়ে গেছে। এতে করে নিয়োগকর্তাদের মনে হতে পারে ব্যক্তিটি পদটির জন্য উপযুক্ত নয়। এতে করে প্রতিষ্ঠানটিও একজন দক্ষ এবং যোগ্য লোককে হারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

এসব থেকে পরিত্রাণের জন্য নিয়োগ কর্তাদের উচিত ইন্টারভিউ এর সময় প্রার্থীদের সিভি তে উল্লিখিত দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অন্যান্য যেসব সহকারী তথ্য দেওয়া থাকে তার উপর প্রাধান্য দেওয়া। নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা ছাড়া অন্যান্য বিষয়াদির উপর গুরুত্ব প্রদান করা না হলে নিয়োগ কর্তাদের পক্ষে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে সুবিধা হবে।

৩। আবেদনকারী প্রার্থীদের চাকরি/ইন্টারভিউয়ের জন্য পূর্ব-প্রস্তুত না কর

ইন্টারভিউটা যেনো ভালোমত দিতে পারে, তার জন্য প্রার্থীদেরে একটা নির্দিষ্ট পরিমান পূর্ব প্রস্তুতির প্রয়োজন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ই ইন্টারভিউয়ার, প্রার্থীদেরকে প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি নিয়ে প্রশ্ন করে থাকেন এবং প্রার্থীর কাছ থেকেও একি রকম প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন আশা করে থাকেন। এইভাবে,সকল প্রার্থীকে একই ধরণের প্রশ্ন সেই সাথে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে ইন্টারভিউয়ের  অনেক মুল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য সময় বাচাতে এবং গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলা যেমন- প্রার্থীর দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে সে কতটুকু খাপখাওয়াতে পারবে, এসব নিয়ে কথা বলতে, নিয়োগ কর্তাদের উচিত ইন্টারভিউয়ের আগেই প্রার্থীদের উপরোক্ত বিষয়গুলো জানিয়ে দেওয়া। নিয়োগকর্তারা চাকরির পদটির একটি বিস্তারিত জব ডেসক্রিপশন প্রস্তুত করে তাতে পালনীয় দায়িত্বসমূহের উল্লেখ করে দিতে পারেন সেই সাথে কি কি কাজ করা লাগবে এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত তথ্যাবলি, রীতিনীতি সম্পর্কিত তথ্য । এসব ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে  কোম্পানির মিশন এবং উদ্দেশ্য বিষয়ে বর্ণনা দেওয়া থাকলে প্রার্থীরা তা পড়ে নিজেরাই বুঝতে পারবেন প্রতিষ্ঠানটি কি ধরণের এবং সেই সাথে যাচাই করে নিতে পারবেন তারা কতটুকু উপযুক্ত কাজ করার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানটিতে।

একজন প্রার্থী হিসেবে, কিভাবে নিজে থেকে কিভাবে ইন্টারভিউ এর প্রস্তুতি নিতে দেখে নিন ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে ভালো মত প্রস্তুত করবেন

৪। নিয়োগকর্তাদের পূর্ব প্রস্তুত না করা

নিয়োগকারীদের দিক থেকে একটি প্রধান ভুল হচ্ছে, বেশিরভাগই কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখেন না। অনেক নিয়োগ কর্তাই যেটা বোঝেন না সেটা হচ্ছে, একটা বিনা পরিকল্পনার রিক্রুট্মেন্টে ইন্টারভিউ করা শখানেক প্রার্থীর মধ্যে থেকে কে সব থেকে বেশি যোগ্য তা নির্ধারণ করা কষ্টকর। প্রার্থীদের যদি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন না করা হয় এবং যদি তা নিয়োগকর্তার প্রয়োজন অনুযায়ী না হয় সেক্ষেত্রে ভুল লোক নিয়োগের সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকখানি। অন্যদিকে প্রশ্নকর্তাদেরকেও প্রস্তুত করা উচিত, তাদেরও জানা উচিত কিভাবে সঠিক প্রার্থীকে বাছাই করতে হবে। সঠিক পূর্ব পরিকল্পনা করতে হবে যেখানে থাকবে – যেই পদের জন্য লোক নেওয়া হচ্ছে তার কার্যবিবরণী, প্রার্থীদের প্রাসঙ্গিক কি কি প্রশ্ন করা যায় এবং ইন্টারভিওয়ের সময় প্রার্থীর দক্ষতা এবং যোগ্যতার সঠিক যাচাই-বাছাই।

ইন্টারভিউটাকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে পারলে তা যেমন প্রতিষ্ঠানের  কাজ এবং সময় বাচাবে সেই সাথে, নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দরকারি তথ্য খুজে বের করতেও সুবিধা হবে।

৫। আবেদনকারী প্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাই করা

নিয়োগকর্তাদের উচিত আবেদনকৃত সব এপ্লিকেশন গুলো দেখা এবং একই ধরণের প্রার্থীদের সমগোত্রীয় করা। এডভান্স প্রযুক্তির সহায়তায় এখন আমাদের হাতের নাগালের মধ্যেই বিভিন্ন ধরণের সফটওয়্যার  আছে যা এই ক্লান্তিকর কাজ এর সমাধান করে দেয় অতি সহজেই। এপ্লিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে নিয়োগকর্তারা খুব সহজেই সেসব প্রার্থীদের সিভি আলাদা করে নিতে পারেন যাদের তাদের দরকার এবং যাদের পদটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা এবং পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। এই ভাবে কাজ করার মাধ্যমে, পুরো নিয়োগের জন্য নির্ধারিত সময়ের অনেকখানি বেচে যায় এবং নিয়োগকর্তাদেরও সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

প্রার্থী স্ক্রিনিং পদ্ধতিতে রেফারেন্স চেকিং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। এমন অনেক প্রার্থী থাকেন যারা ইন্টারভিউয়ের সময় তাদের সিভি তে সঠিক ভাবে বিভিন্ন তথ্যের উল্লেখ করেন না, এই আশায় সে উল্লেখ না থাকায় ওসব বিষয়গুলো উপেক্ষিত থেকে যাবে। কিন্তু এরকমটি যেনো না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য,তাদের উল্লিখিত তথ্য এবং রেফারেন্সের সত্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। এতে করে নিয়োগকর্তারা নিশ্চিত হতে পারবেন যে কে যোগ্য এবং সঠিক প্রার্থীকে বাছাই করতে পারবেন যারা প্রতিষ্ঠানের জন্যও হবে মানানসই।  

এখনকার দিনে, এতো মানুষের ভীড়ে আসল ট্যালেন্ট খুজে বের করা অনেক কষ্টসাধ্য। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান-ই এমন কর্মী চান যিনি তাদের এবং প্রতিষ্ঠানের জন্যে বয়ে নিয়ে আসবে সর্বাধিক লাভ কেননা কর্মীরাই হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সঠিক প্রার্থী নির্ধারণের মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা দৈনন্দিন সুইফট অপারেশন পরিচালনার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে পারেন কম খরচ এবং বেশি লাভ।

উপরে উল্লেখিত ভুল ত্রুটিগুলো খেয়াল রাখলে, নিয়োগকর্তারা বুঝতে পারবেন কীভাবে যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া যায়, যারা প্রতিষ্ঠানের জন্য সেরা হবে।

অন্য আর কোন কোন নিয়োগ সময়কার ভুলের কথা যেটা উল্লেখ করা হয়নি কিন্তু করা উচিত ছিলো আর্টিকেলটিতে, সেরকম কিছু সম্পর্কে আপনার মতামত জানান আমাদেরকে কমেন্ট সেকশনে।

নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য প্রার্থী খুজছেন? আপনার নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যবহার করুন আমাদের এডভান্সড টুল “ট্যালেন্ট সার্চএবং ৪,৩৪,০০০+ প্রোফাইল থেকে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য ব্যক্তি খুঁজে নিন।

Pujan Kumar Editor
SEO Specialist , Bikroy.com
follow me
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments

About Pujan Kumar

It's Pujan Kumar Saha, a Digital Marketing Expert from Bangladesh. I am passionate about Search Engine Optimization (SEO), Social Media Marketing (SMM) and other sectors of Digital Marketing. I also have experience in Programmatic Ad Operations sector.