যেসব কারণে ঢাকায় আপনার কর্মস্থলের কাছাকাছি বাসা নেবেন

কর্মস্থলের কাছাকাছি বাসা
Share

মাঝে মধ্যে একটু সময় নিয়ে যদি চিন্তা করে দেখেন যে আপনার কর্মদিবস আসলে কতটা লম্বা, তাহলে হয়ত বেশ অবাকই হবেন। আপনি যদি আপনার ডেস্কে বসার সময় থেকে শুরু করে ঘন্টা ধরে কর্মদিবসের হিসাব করে থাকেন, তাহলে জেনে রাখুন, এটি সঠিক পদ্ধতি নয়। সত্যি বলতে আপনি আপনার ঘর থেকে বের হওয়ার মুহূর্ত থেকেই আপনার কর্মদিবস শুরু হয়, আর সেটা শেষ হয় যখন আপনি রাস্তার সব ঝক্কি ঝামেলা পোহানোর পর পরিশ্রান্ত হয়ে ঘরে প্রবেশ করেন তখন। হ্যাঁ, আপনার অফিসে হয়ত আপনি সব মিলিয়ে ৮ থেকে ৯ ঘন্টা সময় কাটান, কিন্তু ঢাকার মত একটা মেগা সিটিতে বসবাস করার বাস্তবতাটা চিন্তা করে দেখুন একবার, তাহলে ঠিক কত ঘন্টায় যেয়ে ঠেকছে আপনার কর্মদিবস?

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত ১০ বছরে ঢাকার ট্রাফিকের গড় গতি ২১ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা থেকে ৭ কিমি প্রতি ঘন্টায় নেমে এসেছে। এছাড়াও ২০৩৫ সাল নাগাদ এই গতি আরো কমে গিয়ে ৪ কিমি প্রতি ঘন্টায় নেমে যেতে পারে, যা কিনা গড় হাঁটার গতির চেয়েও কম! প্রতিদিন ঢাকা শহরের মানুষ তাদের দিনের প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘন্টা সময় অফিস আর বাসার মাঝে যাওয়া আসাতেই কাটিয়ে দেয়। যেখান থেকে হিসেব করে দেখলে, যাদের সপ্তাহে ৫ দিন অফিস করতে হয় তাদের সপ্তাহে ২০ ঘন্টা এবং  সপ্তাহে ৬ দিন কর্মদিবস যাদের তাদের সপ্তাহে পুরো একটি দিন পথেই কেটে যায়। ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে সপ্তাহে ৭ দিন অফিস করার চেয়েও বেশি ক্লান্তিকর!

থাকার জন্য যায়গা খোঁজার ব্যাপার যখন চলে আসে, তখন আপনাকে অনেক রকম বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আর হ্যাঁ, আপনার কাজের যায়গা বা কর্মস্থল এর মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল ঘনবসতির  দেশে ঢাকার মত একটি মেগা সিটিতে বসবাস করার সময় এখানকার মানুষরা প্রতিদিন রাস্তার করুণ অবস্থা এবং দুর্বল ট্রাফিক সিস্টেমের শিকার হয়ে থাকেন। তাই কর্মস্থলের কাছাকাছি বাসা নেয়ার মধ্যে অল্প কিছু অসুবিধার তুলনায় সুবিধাই অনেক বেশি।

তাহলে, চলুন দেখে নিই কর্মস্থলের কাছাকাছি বাসা নেয়ার ভালো দিকগুলো কী কী:

কর্মস্থলের কাছাকাছি বাসা নেবেন

১. টাকা সাশ্রয়

ঢাকা শহরে পরিবহন খরচ প্রতি বছর নাটকীয় ভাবে বেড়েই চলেছে, যদিও এ দেশের গণপরিবহনের মান বরাবরের মত করুণ দশায়ই রয়ে গেছে। আর যদি আমরা অটো রিকশা, ট্যাক্সি ক্যাব এবং রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নেয়ার কথা চিন্তা করি, তাহলে যতটা সময় আপনি শেষ না হতে চাওয়া ক্লান্তিকর ট্র্যাফিক জ্যামে কাটাতে বাধ্য হন তার মিনিটে মিনিটে আরো বেশি রেটে বিল বাড়তেই থাকে।

মাস শেষ হতে হতে ঢাকা শহরের বেশির ভাগ চাকরিজীবিদের পকেট ফাঁকা হয়ে আসে, কেননা তাদের বেসিক বেতনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ টাকা পরিবহন খরচেই চলে যায়। আর যারা নিজেদের কোন বাহন ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে, যেহেতু জ্বালানির দামও অনেক চড়া। একবার ভেবে দেখুন, জ্বালানির পেছনে আপনাকে প্রতি মাসে কত টাকা খরচ করতে হয়। অতএব, আপনি যদি আপনার কর্মস্থলের কাছাকাছি কোথাও বাসা নেন তাহলে নিশ্চিত ভাবেই অনেক পরিমানে জ্বালানি বা পরিবহন খরচ কমিয়ে আনতে পারবেন।

২. সময় সাশ্রয়

যেমনটা আমরা আগেই বলেছি, ঢাকা শহরের রাস্তায় আমরা যে পরিমাণ সময় কাটাই তা আমাদের দিনের একটা বড় অংশ নষ্ট করে ফেলে, বিশেষ করে পীক আওয়ার গুলোয়, যখন সবাই স্কুল কলেজ ও অফিসে যাতায়াত করে কিংবা বাড়ি ফেরে। ফলস্বরূপ আমাদের কর্মদিবসের সময় বেড়ে প্রায় ১৫০% হয়ে যায় এবং এভাবেই আমাদের জীবন থেকে বহু মূল্যবান সময় চলে যায় অনর্থক ভাবে।

আপনার কর্মস্থলের কাছাকাছি কোথাও বাসা নিয়ে থাকলে দিনে আপনি অনেক খানি সময় বাঁচাতে পারবেন এবং সেই বেঁচে যাওয়া সময় স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও পারিবারিক বন্ধন তৈরির পেছনে ব্যয় করতে পারবেন। আপনার কর্মদিবস ছোট হয়ে আসার পাশাপাশি আপনি তুলনামূলক কম ক্লান্তি অনুভব করবেন এবং আপনার চির আকাঙ্খিত ও বেশ প্রয়োজনীয় বিশ্রামটুকু নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাবেন।

৩. মানসিক চাপ কমে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়

আপনার প্রতিদিনের যাতায়াত আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বেশ ভালো পরিমানে প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে আপনি যদি ঢাকার মত একটি মেগা সিটির বাসিন্দা হন। এই শহরে যাতায়াত ও পরিবহন অনেক বেশি পীড়াদায়ক, ক্লান্তিকর এবং আপনার দিন শুরু হওয়ার আগেই ভেস্তে দিতে পারে। এতে করে আপনার উৎপাদনশীলতার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে, কেননা আপনি ইতোমধ্যে অফিস আসার পথে লম্বা ও কষ্টকর যাত্রায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন।

আপনি যদি আপনার কর্মস্থলের কাছাকাছি কোথাও থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আপনি নিজেকে এরকম পীড়াদায়ক সকালের কষ্ট থেকে বাঁচাতে পারবেন এবং কাজে পৌঁছানোর সময় ভালো মুডে থাকতে পারবেন। এভাবে আপনি আরো পরিষ্কার ভাবে চিন্তা করতে পারবেন এবং দিনভর আরো বেশি উৎপাদনশীল ও নিরলস থাকতে পারবেন।

৪. স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং কম মাত্রায় দূষণ

বোনাস হিসেবে কম চাপে থাকার পাশাপাশি নিজের জন্য আরো বেশি ফ্রী সময় পাওয়ার মানে হচ্ছে আপনি ঘুমানো, এক্সারসাইজ ও জীবনের জন্য স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় পাচ্ছেন। চাইলে আপনি আপনার কর্মস্থলে পায়ে হেঁটে কিংবা সাইকেল চালিয়ে যেতে পারবেন, যা আপনাকে ফিট ও স্বাস্থ্যবান থাকতে সাহায্য করবে এবং বেশ লম্বা একটা সময় ডেস্কে বসে কাটানোর জন্য আপনাকে বাড়তি শক্তির যোগান দেবে। শুধুমাত্র আপনার ঠিকানা পরিবর্তন করার মাধ্যমে আপনি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি লাভ করতে পারবেন। এটা এমন একটা বিশাল সুবিধা যা আপনার ক্যারিয়ার গঠনের চেয়েও অধিক লাভজনক, কেননা এটা আপনার সমগ্র জীবনযাত্রার মান উন্নত করে তুলবে।

এছাড়াও গণপরিবহন ও যানবাহন কম ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি প্রকৃতির জন্য সামান্য হলেও অবদান রাখতে পারবেন। ঐ সব বাহনে যত কম সময় চড়বেন, ততই কম পরিমানে দূষণ আপনি সৃষ্টি করবেন।

৫. একজন কর্মী হিসেবে আরো বেশি নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবেন

যখন প্রতিটি দিন কাজে পৌঁছানো আপনার জন্য সহজ হয়ে যায়, তখন সেখানে প্রতিদিন ‘সময় মত’ পৌঁছানোটাও আপনার জন্য আরো সহজ হয়ে যায়। কোন রকম ক্লান্তি বা দুর্বিষহ ট্রাফিকের তাড়নায় মাথা-গরম হওয়া ছাড়াই আপনি আপনার কাজে নিয়মিত হয়ে উঠতে পারবেন। লেট এন্ট্রি এবং মিস করে ফেলার পরিমাণও অনেক কমে আসবে, অনুপস্থিতি কমে আসবে, ফলস্বরূপ আপনার বসও আপনার ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন।

এর মানে এটাও দাঁড়ায় যে আপনি অন্যসব কর্মীদের তুলনায় সবার জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও প্রোজেক্টে কাজ করার সুযোগ পাবেন। ব্যস্ত ডেডলাইনের দিনগুলোয় আপনি অফিসে আরো অতিরিক্ত সময় দিতে পারবেন, বাসায় যেতে দেরি হওয়ার কোন দুশ্চিন্তাই আপনার তখন থাকবে না। হয়ত অন্য সবার চোখে এই ব্যাপারটা অফিসের কাছাকাছি থাকার সুবিধার মধ্যে পছন্দনীয় কোন বিষয় হবে না, কিন্তু চাকরিজীবিদের ওপরে ওঠার এটাই মূল সিঁড়ি এবং অধিক পরিমানে উপস্থিত থাকার দরুন আপনি দ্রুত প্রমোশনও পেতে পারবেন।

৬. কর্মক্ষেত্র এবং ঘর দুই যায়গায়ই সম্পর্কের উন্নতি হবে

যখন আপনাকে আপনার কর্মদিবসের অর্ধেক পরিমাণ সময় হারাতে হবে না কিংবা পথে কাটাতে হবে না, তখন আপনি অধিক পরিমাণ সময় আপনার সম্পর্কগুলোর পেছনে দিতে পারবেন এবং আপনার পরিবার পরিজন ও বন্ধুবান্ধবের সাথেও বেশি সময় কাটাতে পারবেন। আর যখন আপনি তাদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ বেশি পাবেন তখন তাদের সমস্যা কিংবা প্রয়োজনের সময় তাদেরকে সঙ্গ দেয়ার ও সাহায্য করার সুযোগও বেশি পাবেন। এছাড়া রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও, বিশেষ করে যখন আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষের সাথে পরিবার গঠনের পরিকল্পনা করছেন, তখন আপনার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য ঐ বাড়তি কিছু ঘন্টা পাওয়াটা অনেক বেশি অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

এছাড়াও আপনার কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কগুলোও আগের চেয়ে উন্নত হয়ে উঠতে পারে, যেহেতু আপনি আগের চেয়ে বেশি পরিমানে উপস্থিত থাকতে পারছেন। আপনি যদি সিঙ্গেল হয়ে থাকেন এবং একটি ভালো ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে সচেতন থাকেন, তাহলে আপনার উচিত বেঁচে যাওয়া সময়ের পর্যাপ্ত অংশ আপনার কলীগ এবং সিনিয়রদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার পেছনে ব্যয় করা। এভাবে খুব অল্প সময়েই আপনি অফিসে সবার পছন্দের ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারবেন।

৭. কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বাড়বে

আপনি যখন আপনার কর্মস্থলের বেশ কাছাকাছি কোথাও বাসা নেন, তাহলে খুব সহজেই আপনার লাঞ্চ ব্রেকে বাসায় এসে লাঞ্চ করতে পারবেন এবং একই সাথে আপনার পরিবার ও বাচ্চাকাচ্চার খোঁজ নিয়ে যেতে পারবেন। এছাড়াও খুব একটা ঝামেলা ছাড়াই আপনার বাচ্চাদের স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া কিংবা তাদেরকে এক্সট্রা কারিকুলার প্রোগ্রামগুলোয় নিয়ে যেতে পারবেন। এই ভাবে আপনি ঘরে ও অফিসে উভয় যায়গায়ই যথাযথ উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারবেন এবং আপনার জীবনে এক দারুণ ভারসাম্য চলে আসবে। কাজের যায়গা থেকে আপনার বাসার দুরত্ব যদি হয় মাত্র কয়েক মিনিটের, তাহলে আপনাকে কখনওই কঠিন কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ঝামেলায় পড়তে হবে না।

এছাড়াও আপনি আপনার বসের সাথে কথা বলে নিয়ে মাঝে মাঝে ঘরে বসেও কাজ করে যেতে পারবেন আর তিনি এতে খুব একটা আপত্তি করবেন না, কেননা আপনি এরপরও যেকোন বিশেষ মিটিং কিংবা কাজের জন্য এক ডাকে সারা দিয়ে অফিসে চলে আসতে পারবেন। এভাবে আপনি আপনার আরামের মধ্যে থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারবেন এবং নিজের ভালো যত্নও নিতে পারবেন একই সাথে।

৮. দুর্ঘটনার কবলে পড়ার সম্ভাবনা কমে যাবে

বাংলাদেশে বর্তমানে দুর্ঘটনা একটা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। ঢাকা শহরে এই সমস্যা আরো বেশি প্রবল, কেননা এখানে বেশির ভাগ ড্রাইভারদেরই পর্যাপ্ত ড্রাইভিং দক্ষতা নেই এবং ওভারটেকিং করার প্রবণতটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যেসব কর্মজীবী মানুষ গণপরিবহন সুবিধা, ব্যক্তিগত মোটরবাইক কিংবা রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলো ব্যবহার করে থাকেন তারা ব্যক্তিগত পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে এমন মানুষগুলোর তুলনায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন বেশি। অতএব, এটা খুবই স্বাভাবিক যে আপনি যত কম সময় ঢাকা শহরের রাস্তায় কাটাবেন, বিশেষ করে ব্যস্ত সময়গুলোতে, আপনার দুর্ঘটনা বা মারাত্মক ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা তত কম।

এবার চলুন অল্প কথায় দেখে নিই কর্মস্থলের খুব বেশি কাছাকাছি থাকার কিছু অসুবিধা, যেগুলো আপনাকে বিচলিত করতে পারে:

১) কোন রকম অজুহাতের সুযোগ আপনি পাবেন না। আবহাওয়া যেমনই হোক, ছোট খাটো অসুখ-বিসুখ, এমনকি যান্ত্রিক গোলযোগের ক্ষেত্রেও আপনাকে সব সময় কর্মস্থলে থাকতে বলা হবে।

২) প্রায় সব বিষয়েই আপনি সবার প্রথম পছন্দ হয়ে থাকবেন! কর্মস্থলের কাছাকাছি কোথাও বাসা নিলে আপনাকে যখন তখন অফিস আওয়ারের পরে, এমনকি মাঝে মাঝে ছুটির দিনগুলোতেও কোন কাজ করার কথা বলা হবে বা আপনার থেকে সহযোগিতা আশা করা হবে এমন সম্ভাবনা খুবই বেশি।

৩) অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আপনি মানুষের উপকার করতে করতে বিরক্ত হয়ে যাবেন। আপনার কলীগরা, এমনকি বস পর্যন্ত মাঝে মাঝে আপনার কাছে ছোট খাটো বিষয়ে সাহায্য চাইবেন, কেননা ঐ এলাকার সব কিছু সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকবে সবচেয়ে বেশি। আপনাকে কখনও কখনও বাসা থেকে কিছু জিনিসপত্র অফিসে আনার ব্যাপারেও বলা হতে পারে, যেটা প্রকৃতপক্ষে খুবই বিরক্তিকর!

৪) আপনার দুনিয়া অনেকটা ছোট হয়ে আসবে। অফিস আর বাসার মধ্যে যাতায়াতের দুরত্ব কম থাকা মানে হচ্ছে আপনি স্বেচ্ছায় আপনার পৃথিবীকে ছোট করে নিচ্ছেন। বাসা ও অফিসে যাতায়াতের পথ যদি খুব বেশি অল্প হয়, তাহলে আপনি বেশির ভাগ সময়ই ভালো ভ্রমণ ও শপিং এর অভিজ্ঞতা, কিংবা কাজের শেষে ভালো ভালো যায়গায় আড্ডা দেয়ার সুযোগ মিস করে ফেলবেন।

৫) একই রুটিনে চলাটা আপনার কাছে একঘেয়ে হয়ে যাবে। যদিও আপনার অফিস কিংবা বাসায় যাওয়া আসা করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগছে, এই পথ আপনার কাছে খুব অল্প সময়েই পুরনো আর একঘেয়ে হয়ে যাবে। রুট পরিবর্তন করা কিংবা অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরে যাওয়ার সুযোগ আপনি খুব কমই পাবেন। এছাড়া এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে একটা সময় আপনি আপনার যাওয়া আসার দুরত্বকে ১৫ মিনিট থেকে ৫ মিনিটে নামিয়ে আনার কথা ভাববেন। যখন সব কিছু একেবারে হাতের নাগালে পেয়ে যাওয়ার অভ্যাস হয়ে যায়, তখন আমরা খুব দ্রুতই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হারিয়ে ফেলি।

৬) আপনি হয়ত আপনার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে মিলিয়ে ফেলতে পছন্দ করবেন না। কর্মস্থলের খুব বেশি কাছাকাছি বাসা থাকলে আপনার সামাজিক জীবনও বিপর্যস্ত হতে পারে, কেননা এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি যে আপনি যখন আপনার কাছের মানুষগুলোর সাথে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর চেষ্টা করছেন ঠিক সেরকম সময়েই হুট হাট আপনার কোন কলীগ বা জুনিয়রের সামনে পড়ে গেলেন।

৭) কোন চাকরিই আজীবন মেয়াদী থাকে না! কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু আপনার কর্মস্থলের আশে পাশে কোন যায়গায় বাসা নিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়াটা এক ধরণের বড় অঙ্গীকার। এর মাধ্যমে আপনি এটা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন যে এই চাকরিতে আপনি যতদিন সম্ভব থাকতে চান। আপনার নিয়োগকারীর উপর নির্ভর করে এই বিষয়টা আপনার পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করতে পারে।

উপসংহার

সর্বোপরি আমরা আশা করছি যে আজকের এই প্রতিবেদনটি পড়ার পর এই ব্যাপারে আপনার মনে থাকা যেকোন ধরণের বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন। আপনি হয়ত ইতোমধ্যে ভাবছেন যে আপনার নিত্যদিনের যাতায়াতের পথ ছোট করার কথা মুখে বলা যতটা সহজ, সত্যিকার অর্থে সেটি ঘটানো বেশ কঠিন! আমরা পরামর্শ দেব যে আপনার কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার জন্য ভালো একটা যায়গা খুঁজে পাওয়ার বিভিন্ন উপায় ভেবে দিশেহারা না হয়ে দেখে নিন কিভাবে আপনার আশেপাশেই ভাড়ার জন্য অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাবেন এবং তারপর সেই এলাকার কাছাকাছি কোথাও ভালো চাকরি কীভাবে পাওয়া যায় সেটা নিয়ে ভাবুন।

সপ্তাহে ২০ থেকে ২৪ ঘন্টা আসলেই অনেক বিশাল একটা সময়, আর আপনি প্রত্যেক সপ্তাহে এই বিশাল পরিমাণ সময় হারিয়ে ফেলছেন, পাশাপাশি আপনি প্রত্যেকটি কর্মদিবসে চাপ এবং সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ধরে। আর সময় যদি উপার্জন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে থাকে, তাহলে দিন কে দিন কষ্টকর যাতায়াত করাটা এমন একটি চাপ যা থেকে আপনি কোন উপার্জনই করতে পারছেন না! অতএব এরপর থেকে সকালে আপনার অ্যালার্মের স্নুজ বাটনটি চাপুন, লাঞ্চের জন্য বাসায় যান এবং কর্মস্থলের থেকে সহনীয় দুরত্বে থাকার জন্য একটি যায়গা খুঁজে নিন, যাতে করে আপনাকে সব কিছু এক সাথে হারাতে না হয়। ব্রাউজ করুন Bikroy.com/Property আর আজই খুঁজে নিন আপনার কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার জন্য একটা মনের মত যায়গা!

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments