চাকরি

কর্মসংস্থানের ৪টি বিকল্প উপায়

সত্যিই বড় দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে দিন পার করছি আমরা। আমাদের দেশে এমনিতেই লোকসংখ্যার বিবেচনায় কর্মসংস্থানে রয়েছে স্বল্পতা। আর এদিকে চাকরির বাজারে বিদ্যমান সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে কোভিড-১৯ নামক এক মহামারি। প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর সাথে এখন যুক্ত হচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীরাও। এই মহামারি আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে যে শুধু চাকরির উপর ভরসা করলেই চলবে না। এর সাথে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে অন্য পথ। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে কী কী হতে পারে আয়ের উৎস।

শখই হোক পেশা

চাকরির জন্য যেই শখকে এতদিন সময় দিতে পারেননি সেই শখকে লালন করবার এখনি সময়। আপনার হয়ত টুকটাক রান্না করার শখ থাকতে পারে। স্বল্প পরিসরে শুরু করে দিতে পারেন নিজের ক্যাটারিং সার্ভিস। ভালো মানের খাবার সরবরাহ করতে পারলে খুব কম সময়েই নাম কুড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আবার হয়ত বাগান করবার শখটা আপনার বেশ পুরনো। বিভিন্ন নার্সারি থেকে বীজ সংগ্রহ করে গড়ে তুলতে পারেন নিজের উঠান অথবা ছাদ বাগান আর তার অর্গানিক ফলমূল এবং শাকসবজি বিক্রি করতে পারেন সুপারশপগুলোতে। আর যদি আপনার মধ্যে থাকে কোনো কিছু দিয়ে নতুন একটা জিনিস তৈরি করার স্পৃহা তবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং এনজিও সংস্থাগুলো এসএমই খাতে ঋণ দিয়ে থাকে। সেখান থেকেই শুরু করে ফেলতে পারেন নিজের প্রোডাক্ট লাইন। এছাড়াও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা থেকে থাকলে মৎস্য অথবা গরু ছাগল এবং হাঁস মুরগি ইত্যাদি গবাদি পশু-পাখি পালন আয়ের একটি ভালো মাধ্যম হতে পারে।

অনলাইন উদ্যোক্তা

বর্তমানে ই-কমার্স এবং এফ-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তুমুল জনপ্রিয়। এক ক্লিকেই আপনার পণ্য বা সেবা পৌঁছে যেতে পারে লাখো আগ্রহী ক্রেতাদের কাছে। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে ফ্যাশন পণ্য এমনকি গৃহস্থালি সাজানোর সামগ্রী – কী নেই এখানে! একটু কৌশলী হলে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন অনলাইন উদ্যোক্তা। বাইরে থেকে আমদানি এই মুহূর্তে কঠিন মনে হলে ধীরে ধীরে তাঁদের নেটওয়ার্কের সাথে পরিচিত হতে থাকুন আর এরই মধ্যে দেশীয় পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের সরবরাহ পেতে পারেন। আর আপনার পণ্যটি দ্রুত বিক্রি করার জন্য বিজ্ঞাপন দিতে পারেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস Bikroy.com এ। এখানে রয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ মাসিক ভিজিটর। ফলে যেকোনো পণ্য খুব সহজেই বিক্রি করা সম্ভব এমনকি আগ্রহী ক্রেতা পেয়ে যেতে পারেন আপনার এলাকাতেই!  

অনলাইন ভিত্তিক কোর্স বা ট্রেনিং

আপনি যদি কোনো বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন, হোক তা পাঠ্যবই ভিত্তিক বা কারিগরি, তাহলে এই সময়ে শুরু করে দিতে পারেন অনলাইন কোর্স। ঘরে বসে অনেকেই এখন নিত্যনতুন বিষয়ে জানার চেষ্টা করছেন। তাই আপনি ঠিক কোন ধরণের কোর্স করাবেন তার একটা সিলেবাস এবং তার জন্য প্রাসঙ্গিক ম্যাটেরিয়াল প্রস্তুত করে ফেলতে পারেন। আজকাল শিক্ষার্থীরা কোনো কিছু শেখার ক্ষেত্রে ভিন্নতা এবং বৈচিত্র্য পছন্দ করে থাকে। শুধুমাত্র পুঁথিগত শিক্ষা নয়, চেষ্টা করুন এর সাথে বাস্তবিক উদাহরণ এবং ব্যবহারিক জ্ঞানের সামঞ্জস্য ঘটাতে। 

ফ্রিল্যান্সিং অথবা আউটসোর্সিং

ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং – দুটিই বর্তমানে বহুল প্রচলিত। এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা স্থায়ী ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করেন না কেননা তা বেশ ব্যয়বহুল। এর পরিবর্তে তারা কাজের চুক্তির ভিত্তিতে ফ্রিল্যান্সিং অথবা আউটসোর্সিং এর সহায়তা নিয়ে থাকেন। আপনার যদি লেখালেখির অভ্যাস থেকে তবে যেকোনো ওয়েবসাইটে পার্ট-টাইম ব্লগার হিসেবে যোগ দিতে পারেন। আবার গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এমনকি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) ইত্যাদি ক্ষেত্রেও ফ্রিল্যান্সিং অথবা আউটসোর্সিং এর যথেষ্ট কদর রয়েছে। এসব কাজ করে আপনি চুক্তি ভিত্তিক একটি ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন আবার নিজের কাজ স্বাধীনতার  সাথেও করতে পারবেন।

পরিশেষ

আসলে আপনি কোন খাতে নিজের মূলধন, সময় এবং প্রচেষ্টা বিনিয়োগ করবেন তা একেবারেই আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ এবং পারদর্শিতার উপর নির্ভর করছে। আপনার আগ্রহ, একাগ্রতাই আপনাকে নিয়ে যেতে পারে বহুদূর। তবে এই যাত্রায় আপনার মনোবল হতে হবে দৃঢ়। চলার পথে ছোট বড় অনেক রকম বাধাই আসবে কিন্তু আপনাকে লক্ষ্যে থাকতে হবে অবিচল। যতটা সম্ভব ইতিবাচক থেকে ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে আর মনে রাখতে হবে যে কোনো অভিজ্ঞতাই তুচ্ছ নয়।

শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য!

Facebook Comments
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close