এসে গেলো অ্যাপল আইফোন ৭!

Share

1

সম্প্রতি আইফোন সেভেন এবং সেভেন প্লাস নামে আইফোনের যে সর্বশেষ সংযোজনটি বাজারে ছেড়েছে অ্যাপল, তাতে আইফোনের আগের সবকটি সংস্করণের সুবিধাদি থাকছে।

2

অ্যাপল এবার আইফোন-এর বাইরের দিকের নকশায় খুব অল্প কয়েকটি  পরিবর্তনই এনেছে। এন্টেনা ব্যান্ড নতুনভাবে বসানো হয়েছে। ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক আর নেই এবং ক্যামেরার বিশিষ্ট উপস্থিতি বোঝা যাচ্ছে (প্লাস মডেলে যা আরও স্পষ্ট)। ফলে নতুন এই আইফোনের সঙ্গে এর আগের দুই সংস্করণের মিল স্পষ্ট। এ কারণেই আপনি যদি মনে করেন আপনার নতুন ফোনের চেহারা চোখে পড়ার মতো হতে হবে, বা আপনি যে অ্যাপল-এর সর্বশেষ পণ্যটি ব্যবহার করছেন তা অন্যদের বোঝাতে হবে তাহলে আপনাকে একটু নিরাশই হতে হচ্ছে। তাই বলে অ্যাপল যে শুধু আইফোন সিক্স-এর হুবহু কিছুই বাজারে ছেড়েছে তা-ও না। আইফোন সেভেনে একেবারে নতুন কিছু ধারণার প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে, যাতে আগামী দিনের তারবিহীন বা ওয়্যারলেস হেডফোনের পথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিয়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, এই সংস্করণটির পাওয়া যাচ্ছে দু’টি রঙে –একটি জেট ব্ল্যাক আরেকটি ম্যাট ব্ল্যাক।

3

নতুন আই ফোনগুলোতে পানি প্রতিরোধ করার ক্ষমতাটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নতুন সংযোজন যা সম্পর্কে ক্রেতারা বেশি আগ্রহী। বর্তমানে আই ফোনগুলো ‘আইপি ৬৭’ রেটিংভুক্ত যার মানে হচ্ছে ফোনগুলোতে ধুলো-বালি প্রবেশ করতে পারবে না কিন্তু পানি প্রতিরোধক (৩ ফিট গভীর পানিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ডুবিয়ে রাখা যাবে)। এই রেটিংটি যদিও তাদের মূল প্রতিযোগী স্যামসাং-এর চেয়ে কম, স্যামসাং-এর মূল আকর্ষণ এস৭ এবং নোট ৭ স্মার্টফোনের পানি প্রতিরোধ ক্ষমতা ৫ ফিট গভীরতায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

4

এবার আসা যাক হেডফোন জ্যাক (সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা) না থাকা প্রসঙ্গে। নতুন আইফোনে একটিমাত্র পোর্টই আছে, যেটি লাইটনিং পোর্ট। এটি দিয়েই চার্জ দিতে হবে, একইসঙ্গে গান শোনার জন্য হেডফোন সংযোগ দিতে চাইলেও এ পোর্টটিই ব্যবহার করতে হবে (অথবা বক্সে নয় ডলারের যে অ্যাডাপ্টারটি আছে সেটির মাধ্যমে আপনি রেগুলার হেডফোনও ব্যবহার করতে পারেন)। তাই আপনার যদি গান শোনার অভ্যেস থাকে, তাহলে আপনি একটি তারবিহীন হেডফোন কিনে নিন। আর একই সঙ্গে চার্জ দিতে চাইলে ৪০ ডলারের একটি বেলকিন অ্যাডাপ্টার কিনে নিন। অনেকে হয়তো হেডফোনের জ্যাক ছাড়া কল্পনা করতেই পারছেন না, কিন্তু এর বদলে আইফোন যে ব্যবস্থা করেছে, তা সবাইকে চমকে দেবে।

5

6

এর এয়ার পড বা হেডফোনের যে অংশটি শব্দ বা গান শোনার জন্য কানের মধ্যে দেওয়া হয়, সেটি কিন্তু সাধারণ হেডফোনেরটার মতোই। তবে সেটি তার ছাড়া। আর এতে আরও কিছু অতিরিক্ত সুবিধা যোগ করা হয়েছে। একটি চার্জিং কেস আছে, একটি ছোট্ট কৌটোর আকারের। এই হেডফোনের অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে একটি নতুন ডব্লিউওয়ান বলে একটা চিপ বা ছোট যন্ত্র বসানো হয়েছে।  আমরা যত হেডফোন দেখেছি জীবনে, এই চিপের সুবাদে দ্রুততম ও সবচেয়ে নিখুঁত পেয়ারিং বা জোড়া মেলানো সম্ভব। যেহেতু এগুলো ব্লুটুথে ব্যবহার করা হয়, এই এয়ারপড অন্য ব্লুটুথেও ব্যবহার করা যাবে। এই এয়ারপডে ডাবল ট্যাপের মাধ্যমে, বা পরপর দু’বার বাটন টিপে সিরি’তে ঢোকা যাবে। চার্জে এগুলো একনাগাড়ে পাঁচ ঘন্টা চলবে। আর চার্জিং কেস থাকলে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত চার্জ থাকবে। এর খরচা  ১৫৯ ডলার। বাজারে বাকি যে এয়ারপডগুলো এই দামে পাবেন, জেনে রাখুন সেগুলো প্রতিটি ৩০ ডলার বাড়িয়ে দাম রাখছে।

শুধু যে ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক নেই তা-ই নয়, আগে যে দৃশ্যমান বাটনগুলো ছিল, সেগুলোও নেই। এর স্থলে একটি  গ্লাসপ্যাড বসানো হয়েছে (আইফোন সিক্স/সিক্সএস-এর মতো) যা ক্লিক করা যায় না। এর পেছনে একটা ভাইব্রেশন মটর আছে, যা ভাইব্রেটই ক্লিকের কাজ করবে, ২০১৫ সালের ম্যাকবুক ট্র্যাকপ্যাডের মতো।

7

স্ত্রিনের আকার আগের সংস্করণগুলোর মতোই, তবে এটি আগেরগুলোর চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আইফোন সেভেন এখনো ৭২০পি ডিসপ্লে ব্যবহার করে, আর সেভেন প্লাস ব্যবহার করে ১০৮০পি ডিসপ্লে। এই ২০১৬ সালে, এমনকি মাঝারিমানের ডিভাইসগুলোও যখন ফুল এইচডি ব্যবহার করছে, তখন এটা আসলেই খুবই হতাশাব্যঞ্জক।

8

9

গত বছরের মতো, ছোট আকারের আইফোনগুলো সুবিধার দিক থেকে পিছিয়েই ছিলো। তবে আইফোন সেভেনের একটি ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ আছে, যেটি এলজি‘র জিফাইভ, ভিটুয়েন্টি, এবং হুয়েই‘র অনার এইটের মতো। আইফোন সেভেনের ক্যামেরাটিতে একটি টেলিফটো লেন্স এবং একটি ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স রয়েছে। এই ক্যামেরা সুবিধা হচ্ছে, আপনার যখন ইচ্ছে দুটির যে কোনো একটিতে গিয়ে, বা একটি থেকে আরেকটিতে গিয়ে, ছবি তুলতে পারবেন। এই সুবিধেটিকেই অ্যাপল বলছে “অপটিকাল জুম”।

10

আসলে ২এক্স বা দ্বিগুণ পর্যন্ত জুম করলেও আপনার ফটোগুলি মান হারাবে না। অ্যাপল জানিয়েছে, তারা ডেপ্থ অব ফিল্ড ফিচারের ক্যামেরা বাজারে ছাড়বে অদূর ভবিষ্যতে, যা দিয়ে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড  আবছা করে দেওয়া যাবে। উভয় ক্যামেরার ১২ এমপি আর এফ/১.৮ এপার্চার। আর সেলফির জন্য ৭এমপি এবং এফ/২.২ এপার্চার।

11

আইফোন-এর নতুন একটি অসাধারণ সংযোজন হচ্ছে এটেন ফিউশন সিপিইউ। এটি আইফোন-এর মধ্যে প্রথম কোয়াড কোর সিপিইউ। এর ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী। এবং মানের দিক থেকে সম্প্রতি বেরোনো স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর-এর চেয়েও ভাল। এই চিপের সিঙ্গেল কোরের কর্মক্ষমতা তাত্ত্বিকভাবে ২০১৫ সালের  ম্যাকবুক এর চেয়েও বেশি।

আইফোনের নতুন মডেলগুলো আগেরগুলোর মতো সাড়া ফেলতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন ২০০৭ সালের পর এবারই প্রথম আইফোন বিক্রি কমে যেতে পারে। কারণগুলোও যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে। সর্বশেষ সংস্করণটিই সেরা বলছে আইফোন। কিন্তু সেটাই তো স্বাভাবিক। সবচে নতুনটাই তো সবচে ভাল হয়। এখনও, আইফোন-এর হাতে  খুব ভাল কিছু পণ্য আছে। যা ইতোমধ্যেই যেসব পণ্য বাজারে আছে, সেগুলো যেভাবে উন্নতি করতে করতে এই অবস্থায় এসেছে, সেখানে নতুন করে খুব বেশি আলাদা করার সুযোগ থাকে না। তাছাড়া বাজারে প্রতিযোগীরা তো আছেই। যারা অ্যাপল-এর বাঁধা গ্রাহক তারা হয়তো কিনবেন। কিন্তু সম্ভাব্য বিক্রি নিয়ে হতাশার পরিপ্রেক্ষিতে অদূরে ভবিষ্যতেই মারদাঙ্গা, মানে সেইরকম কিছুই মাঠে নামাবে শীর্ষ এই প্রযুক্তিনির্মাতা প্রতিষ্ঠান। সময়ই বলতে পারবে কেমন হবে সেই আইফোন। আর আপলই বা কীভাবে বাজারে তার প্রতিপত্তি রক্ষা করবে।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments