প্রপার্টি

৫টি উপায় মেনে ২০২১ সালে যেভাবে শুরু করবেন নিজের ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ব্যবসা

আমাদের অনেকের জন্যেই নিজ উদ্যোগে ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ব্যবসা শুরু করাটা কিছুটা সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টকর মনে হলেও পুরো প্রক্রিয়াটিকে সঠিক উপায়ে ভাগ করে পাওয়া যেতে পারে সর্বোচ্চ সফলতা। 

ঠিক এই মুহূর্তেই আমাদের দেশের বাজারে একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পেছনে যেসমস্ত কারণ রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ 

  • ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ব্যবসার জন্য শুরুতেই মোটা অংকের অর্থের প্রয়োজন নেই। 
  • স্বোপার্জিত হবার পাশাপাশি পেতে পারেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং-এর উপর অগাধ জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ। 
  • আপনি বাসা অথবা অন্যান্য যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করার সুযোগ পাবেন। 

অন্দরসজ্জা সম্পর্কে আপনার নান্দনিকতা এবং রুচিশীলতাকে প্রকাশ করার ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়েই আসতে পারেন এই ব্যবসায়। চলুন দেখে নেওয়া যাক ইন্টেরিয়র ডিজাইনের এই বিশাল পরিসরে আসতে চাইলে কীভাবে আপনার ব্যবসার প্ল্যানগুলোকে সাজিয়ে নিতে পারবেন এবং কীভাবে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে খুঁজে পাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের।  

১. আপনার ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ব্যবসার জন্য একটি ব্র্যান্ড তৈরি করুন

অন্দরসজ্জা ব্যবসার একটি বড় অংশ নির্ভর করছে আপনার ব্র্যান্ডের উপর, যা থেকে আপনার গ্রাহকেরা আপনি কে, আপনি কী কী পরিষেবা দিতে চাইছেন এবং কেন অন্যদের তুলনায় আপনি সেরা তা বুঝতে পারবে। ব্র্যান্ডের নাম, লোগো, এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চ্যানেল ছাড়াও ব্র্যান্ডিং করার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ রয়েছেঃ 

  • আপনার বিশেষ পরিষেবা কোনটি খুঁজে বের করুন- মার্কেটে সেবা পৌঁছানোর জন্য আপনার বিশেষ পারদর্শিতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। অনেকেই আছেন যারা ইন্টেরিয়র ডিজাইনের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো কাজে বিশেষজ্ঞ হয়ে থাকেন, যেমনঃ ঘরের অন্দরসজ্জা, ফ্ল্যাটের অন্দরসজ্জা, অথবা বিশেষ কোনো নান্দনিক ডিজাইন। আপনারও এরকম বিশেষ পারদর্শিতা থাকলে তার মাধ্যমেই শুরু করুন আপনার প্রারম্ভিক ব্যবসা। 
  • গ্রাহকের চাহিদা সম্পর্কে জানুন- আপনার মার্কেটিং কৌশল এবং ব্র্যান্ডিং করার জন্য সম্ভাব্য গ্রাহকদের চিহ্নিত করা প্রয়োজনীয়। তাদের চাহিদা, পছন্দ, অপছন্দ ইত্যাদির কথা মাথায় রেখে সেগেমেন্টেশন করে নিন এবং সেই অনুযায়ী ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইন সাজিয়ে নিন। 
  • আপনার ব্র্যান্ডের জন্য নাম এবং লোগো তৈরি করুন- আপনার ব্র্যান্ডের জন্য একটি গোছালো নাম বেছে নিন তবে খেয়াল রাখতে হবে আপনি যে ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং সেবা দিয়ে থাকেন তা যাতে ব্র্যান্ডের নাম শুনেই বোঝা যায়।

লোগো তৈরি করার সময়েও একই কথা মাথায় রাখার চেষ্টা করুন। এতে করে সহজেই আপনার ব্র্যান্ড এবং আপনার বিশেষ পারদর্শিতা ও দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা পাবে আপনার গ্রাহকেরা। 

  • নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোফাইল তৈরি- ব্যবসা শুরু করার প্রথম দিকেই একটি দ্রুত, নিরাপদ, এবং তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও আপনার ওয়েবসাইটের সাথে ব্লগ সংযুক্ত থাকলে তা হালনাগাদ রাখার চেষ্টা করুন কারণ বেশিরভাগ গ্রাহকেরা ওয়েবসাইটে আপনার পূর্ববর্তী কাজ এবং দক্ষতা লক্ষ্য করার মাধ্যমেই আপনার সাথে কাজ করতে আগ্রহী হবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোফাইল খুলে নিয়মিত হবার চেষ্টা করুন।  

২. প্রতিনিয়ত অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে

ব্যবসা শুরু করার প্রাথমিক পর্যায়ে আপনার পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে নতুন কাজ বা গ্রাহক পেতে অসুবিধা হতে পারে। তাহলে কীভাবে পেতে পারেন আপনার প্রথম ইন্টেরিয়র ডিজাইন ক্লায়েন্ট? 

ছোট ছোট কাজ সম্পাদন করা এবং সেখান থেকে মার্কেটিং করার মাধ্যমে শুরু করা যেতে পারে আপনার অভিজ্ঞতা অর্জনের যাত্রা। এছাড়াও এসময় আপনি আপনার পরিচিত কাউকে বিনামূল্যে ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং সেবা দেওয়ার কথাও বলতে পারেন। 

এবার সেই কাজের বা কাজগুলো থেকে আপনি পোর্টফোলিও তৈরি করে নিন এবং সেটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার গ্রাহকদের কাছে তুলে ধরুন। 

৩. আপনার কাজের ধরণ নির্ধারণ করুন

ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা তাদের গ্রাহকদের জন্য প্রায়শই বিভিন্ন ধরণের সেবা নিশ্চিত করে থাকেন। তবে বর্তমানে পরিপূর্ণ আঙ্গিকে অন্দরসজ্জা বিশেষজ্ঞ খোঁজার চেয়ে অনেকেই ঝুঁকছেন বিশেষ কোনো একটি বিষয়ে পারদর্শী এমন কাউকে বেছে নিতে, যেমনঃ ই-ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন পণ্য সরবরাহ, গৃহ সজ্জা, ঘর সজ্জা, ইত্যাদি। 

  • প্রথাগত ইন্টেরিয়র ডিজাইনিংঃ বর্তমানে দেশে ট্র্যাডিশনাল ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের অনেকেই রয়েছেন যাদের সাথে গ্রাহকেরা বেশ ভালো অর্থের বিনিময়ে অনেকেই কাজ করিয়ে নেন। তবে আপনি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে এই জায়গায় আসাটা এতখানি সহজ হবে না শুরুতেই। 
  • ই-ডিজাইনঃ বেশ কিছু বছর ধরে আমাদের দেশে অনলাইন ডিজাইন বা ই-ডিজাইনের চাহিদা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ই-ডিজাইনের সবচেয়ে সুবিধাজনক দিকটি হলো এর মাধ্যমে অন্যান্য ইন্টেরিয়র ডিজাইন সেবার তুলনায় তুলনামূলক কম দামে এবং অল্প সময়ে সেবা পাওয়া যেতে পারে। 
  • পণ্য সরবরাহঃ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, গ্রাহকেরা নিজে থেকেই কিছু ডিজাইন করবেন বলে মনঃস্থির করেন কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কোথায় খুঁজে পাবেন তা জানেন না। অনেক ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী এসমস্ত পণ্য সরবরাহ করে থাকেন। 
  • রুম সজ্জাঃ শুধুমাত্র একটি রুম সজ্জার জন্য প্রস্তাব দেওয়া বা কাজ করতে সম্মত হওয়া কিছুটা অবাস্তব শোনালেও আপনি যদি এতেই পারদর্শী হয়ে থাকেন তাহলে তা আপনার ওয়েবসাইটে উল্লেখ করুন। রুমসজ্জা আপনাকে এনে দিতে পারে আপনার মেধা এবং সৃজনশীলতা প্রকাশের অনন্য এক সুযোগ। 

৪. কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে রাখুন

একেবারে শুরু থেকেই আপনার অন্দরসজ্জার ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া যেমনঃ গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগের ধরণ, চুক্তি, কাজের দরপত্র, পেমেন্ট মেথড, ইত্যাদি নির্ধারণ করে রাখুন। 

  • গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগের ধরণঃ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার গ্রাহকের সাথে আপনার সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজের ধরণ প্রকাশিত হবে, প্রপোজাল থেকে কাজ সম্পাদন পর্যন্ত সমস্ত কিছুই এই অংশের অন্তর্গত। 

এই অংশের মধ্যেই আপনার ব্যবসায়িক সাফল্য নিহিত, তাই খুব জটিল ভাবে কিছু না ভেবে সাবলীল রাখার চেষ্টা করুন এবং নিয়মিত নতুন কিছু শেখাকে কাজে লাগান। 

  • ব্যবসায়িক কৌশলঃ এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আপনার ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু টেমপ্লেট প্রয়োজন হবে। যার মধ্যে রয়েছেঃ 

১. গ্রাহকের সাথে চুক্তিপত্র 

২. গ্রাহক আবেদন পত্র 

৩. কাজের বর্ণনা সংক্রান্ত পত্র 

৪. চালানপত্র 

৫. প্রশংসাপত্র   

উপরোক্ত টেমপ্লেটগুলো বিভিন্ন উপায়ে আপনার ব্যবসায়িক লেনদেন আরও স্বচ্ছ এবং গতিশীল করে তুলতে সাহায্য করবে, এবং আপনি প্রতিবার আলাদা আলাদা গ্রাহকদের জন্য টেমপ্লেটগুলো কিছুটা বদলে ব্যবহার করতে পারবেন। 

৫. বিপণন বা মার্কেটিং-এ জোর দিন

ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ব্যবসার মার্কেটিং করার বেশ কিছু উপায় রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কিছু হলোঃ 

  • স্থানীয় সংবাদপত্রঃ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের সাথে যোগাযোগ করে শুরু করা যেতে পারে এই যাত্রা। ব্যবসা লঞ্চ করার সময়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। হয়তো তারা একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাকে ইন্টারভিউ করতে আসতে পারে যা আপনার ব্যবসার প্রসারের জন্যও সহায়ক হবে। 
  • লোকাল এসইওঃ বেশিরভাগ ইন্টেরিয়র ডিজাইনার লোকাল এসইও উপেক্ষা করে যান। অথচ লোকাল এসইও-র মাধ্যমে আপনার ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভাবে অর্গানিক ট্র্যাফিক আনা সম্ভব হতে পারে। 
  • পরিচিতদের সুপারিশঃ যখন থেকে আপনি নিয়মিত গ্রাহকদের সেবা পৌঁছে দেওয়া শুরু করবেন, তাদের কাছ থেকে রেফারেন্স বা টেস্টিমোনিয়াল সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়াও আপনি রেফারেন্স দেওয়ার জন্যে ফ্রি সার্ভিসিং-এর মত কিছু অফার রাখতে পারেন। 
  • নিজস্ব ব্লগ সাইটঃ আপনার দক্ষতাগুলো আপনি ব্লগের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন। পাশাপাশি নিয়মিত ভাবে ব্লগ আপডেট রাখার চেষ্টা করুন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও নিয়মিত শেয়ার করুন। 

শেষকথা 

ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং-এর প্রসার নির্ভর করে অনেকটা মার্কেটিং করার প্রক্রিয়ার উপর, তাই বিপণনের উপর জোর দিন একেবারে শুরু থেকেই। এছাড়াও উপরোক্ত নিয়মগুলো চর্চা করার পাশাপাশি ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং কন্ট্র্যাক্টর, সাপ্লাইয়ার, ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে আপনার যোগাযোগ বা নেটওয়ার্কিং বাড়াতে থাকুন প্রতিনিয়ত। এছাড়াও নিয়মিত ভাবেই ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিয়ে অন্যান্য ডিজাইনারদের সাথে পরিচিতি বাড়াতে পারেন। 

আমরা আশা করি আমাদের আজকের লেখার মাধ্যমে আপনি প্রথমবার ইন্টেরিয়র ডিজাইন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করবেন। 

হ্যাপি ডিজাইনিং! সাজসজ্জা শুরু হোক ঘর থেকেই।  

Facebook Comments
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close