ইন্টারভিউ বোর্ড-এ কি করা উচিৎ আর কি উচিৎ না

Share

একজন ব্যক্তিকে বিচার করতে বা তার সম্পর্কে ধারণা নিতে আপনার সর্বোচ্চ কত সময় লাগে?

হ্যাঁ, এটা সত্য যে কোন ব্যক্তিকেই শুধুমাত্র তাদের বাহ্যিক রূপের মাধ্যমে বিচার করা ঠিক নয়! কিন্তু একজন সম্পূর্ণ অচেনা ব্যক্তির সম্পর্কে মোটামুটি একরকম ধারণা করে নিতে একজন সাধারণ মানুষ সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের মত সময় নেন।

এখন ভেবে দেখুন এমন একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যিনি নিজেই একজন পেশাদারী ব্যক্তিত্ব, একটা মানুষকে যতটা কম সময় নিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব, সেটি করার জন্য যাকে বেতন দিয়ে রাখা হয়েছে। জ্বি হ্যাঁ, আমরা ইন্টারভিউয়ার বা নিয়োগকারীদের দিকেই ইঙ্গিত করছি, যাদের কাজই হচ্ছে এক টুকরো কাগজ আর গড়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের বার্তালাপের উপর ভিত্তি করে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও সঠিক মূল্য যাচাই করা।

প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাইভেট কোম্পানির চাকরির জন্য মুখোমুখি ইন্টারভিউই হচ্ছে প্রার্থী বাছাই করা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। ইন্টারভিউ এর প্রার্থীদেরকে অনেক অল্প একটা সময়ের মধ্যে নিজ নিজ যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য বেশ বড় রকম চাপে থাকতে হয়। এক্ষেত্রে একজন প্রার্থীকে সব রকম টেকনিক্যাল প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর দিতে পারার পাশাপাশি ব্যবসায় ক্ষেত্রে কথোপকথন ও যোগাযোগের দক্ষতায় পারদর্শী হতে হয়।

আপনি কি জানেন যে আপনার মুখের কথার মতই সমান গুরুত্বপূর্ণ  একটি ব্যাপার রয়েছে, যা ইন্টারভিউয়ের সময় আপনার ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন  করে?

তা হলো আপনার অঙ্গভঙ্গিমা বা শারীরিক ভাষা!

এটা সত্যি যে, বেশির ভাগ ইন্টারভিউ প্রার্থীরাই অঙ্গভঙ্গিমা বা শারীরিক ভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত নন, কেননা তারা শুধুমাত্র ভাবেন ভালো পোশাক পড়া, সময়মত পৌঁছানো এবং আত্মবিশাসের সাথে সবগুলো প্রশ্নের ঠিক জবাব দেয়া নিয়ে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞ নিয়োগকারীদের মত অনুযায়ী প্রার্থীর শরীরের ভঙ্গিমা নিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার কাছে ব্যাপারটা হয়ত হাস্যকর বা তুচ্ছ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে মনস্তাত্বিক বিভিন্ন কারণ। ইন্টারভিউয়ের সময় কী কী করা উচিত নয় তা মুখে বলা খুবই সহজ, কিন্তু মুখের কথার বাইরে আপনি ইন্টারভিউয়ারের সামনে ঠিক কীভাবে আচরণ করছেন, বা কেমন প্রতিচ্ছবি তৈরি করছেন, সেটা আপনার চাকরি পাওয়া বা হারনোর পথ অনেকটাই সহজ করে দিতে পারে। এই সম্পর্কে আরও ভালো ধারনা নিতে আমাদের আরেকটি প্রবন্ধটি পড়ে নিন “চাকরি খুঁজছেন? ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে ভালো মত প্রস্তুত করুন“।

অতএব, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তর কোম্পানিগুলোতে, এমনকি ছোট স্টার্ট-আপ কোম্পানিতগুলোতেও ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার সময় কীভাবে আপনার শরীরের ভাষাকে নিজের প্রথম ইম্প্রেশন স্মরণীয় করে তোলার জন্য কাজে লাগানো যায়, সেটি আমাদের এই ইন্টারভিউয়ের অঙ্গভঙ্গিমার গাইডলাইনটির সাহায্যে আজ আপনারা শিখে নিতে পারবেন।

ইন্টারভিউয়ের সময় শরীরের ভঙ্গিমা – যেভাবে নিজেকে আরো উপস্থাপনযোগ্য করে তোলা যায়!

১. আত্মবিশ্বাসী চলাফেরা

অফিসের ভেতরে প্রবেশ করা হোক, কিংবা ওয়েটিং এরিয়া, অথবা ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার সময়ই হোক, পুরোটা সময় আপনাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসের সাথে চলাফেরা করতে হবে। আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে পেশাদারী এবং এটা সর্বক্ষণ মাথায় রাখতে হবে যে আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখা হচ্ছে। আমরা বুঝতে পারি আর নাই পারি, তবুও একজন ব্যক্তির আবেগ এবং আত্মবিশ্বাসের মাত্রা তার শরীরের ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অভিজ্ঞ নিয়োগকারীরা প্রার্থীদের চরিত্র, গাম্ভীর্য ইত্যাদি গুনগত বৈশিষ্ট্য তাদের ছোট খাটো আচরণ, যেমন চলাফেরার মাধ্যমেই অনেকটা মূল্যায়ন করতে পারেন।

২. দৃঢ় হাত

যখন আপনাকে কেউ হাত মেলাবার জন্য আহবান জানান, তখন সতর্কতার সাথে দৃঢ় ভঙ্গিমায় তার সাথে হাত মেলান। খেয়াল রাখবেন সেটি যেন খুব বেশি কোমল না হয় কিংবা খুব বেশি রুক্ষ, একেবারে সঠিক পরিমাণে আত্মবিশাস তাতে থাকা চাই! বিব্রতকর ও লম্বা হ্যান্ডশেক এড়িয়ে চলার জন্য খেয়াল করে সময় মত হাত ছেড়ে দিন; আর এখানে আপনি নিজে আগে হাত ছেড়ে দিলে দোষের কিছু নেই। আর যদি আপনি হ্যান্ডশেক করায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করেন, তাহলে স্পর্শ না করেই বিনয়ের সাথে তার প্রত্যুত্তরে একটি সম্মানজনক প্রতিক্রিয়া দিন।

৩. বেঞ্চে বসার চেষ্টা করুন

দুশ্চিন্তার কিছু নেই, আমরা সত্যি সত্যি আপনাকে কোন বেঞ্চ সাথে করে নেয়ার কিংবা ইন্টারভিউয়ের সময় সেটায় বসতে বলছি না। বসার ব্যবস্থা অর্থাৎ আপনার চেয়ার বা সীটটি যতই আরামদায়ক বা পীড়াদায়ক হোক না কেন, সব সময় তাতে এমন ভাবে বসুন, যেমনটি কোন কাঠের বেঞ্চে বসতে হলে করতেন। এতে করে কখনও কখনও আপনি একেবারে পেছনে হেলান দিয়ে কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যাওয়া থেকে বেঁচে যাবেন – একই সাথে আপনি আরো বেশি সতর্ক ও মনোযোগী থাকতে পারবেন। আপনার পা দু’টো সোজা করে রাখুন, সেগুলো আড়াআড়ি বা একটি অন্যটির উপরে দিয়ে বসবেন না। কিছুক্ষণ পর পর চাইলে আপনি কিছুটা সামনে হেলে আসতে পারেন, মনোযোগের সাথে শুনছেন এমনটি বোঝানোর জন্য।

৪. স্থির চোখ

আপনার আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ এবং ফোকাস প্রকাশ করার জন্য সব সময় চোখে চোখ রেখে কথোপকথন করাটা বহু যুগ ধরে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। অতএব, এই ব্যাপারটাকে নিজের স্বার্থে কাজে লাগান, এবং চোখ ফিরিয়ে নেয়া বা এদিক সেদিক তাকানো থেকে নিজেকে বিরত রেখে যার সাথে আলাপ করছেন সরাসরি তার চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। যদি আপনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও চোখ ফেরান, তাহলে তা নিজেকে কিছুটা চাঙ্গা করার জন্য করুন, রুমের অন্য কিছুর দিকে মনোযোগ সরাবার জন্য নয়। ঠিক কতটা সময় ধরে টানা স্থির ভাবে চোখে চোখ রাখবেন, সে ব্যাপারে কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই, তবে নিরাপদ ও গ্রহনযোগ্য একটি সীমা বলতে গেলে আমরা বলবো একটানা ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড।

৫. আপনার মুখভঙ্গি

যখনই আপনার সামনে সুযোগ আসবে, তখনই আপনার মুখে ও ভঙ্গিতে হাস্যোজ্জ্বল ভাব তুলে ধরার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি নিজে যেমন চাঙ্গা ও সতেজ অনুভব করবেন, তেমনি আপনি নিয়োগকারীদের আরো বেশি সুনজরে থাকতে পারবেন। তবে কোনওভাবেই মেকি বা বাঁকা হাসি হাসবেন না, সব সময় আন্তরিক ও বিনয়ী থাকুন! একটি আন্তরিক হাসি ও বিনয় আপনাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং প্রায় সাথে সাথেই পরিবেশে একটি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে!

৬. আপনার হাতের সঠিক ব্যবহার করুন

এখন এই পরামর্শটি কিছুটা অস্বস্তিকর শোনাতে পারে। বেশির ভাগ প্রার্থীরাই ইন্টারভিউয়ের সময় নিজেদের হাত নিয়ে কি করবেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেন না। যখন আপনি কথা বলবেন, তখন আপনার শব্দের সাথে নতুন ছন্দ মিলিয়ে হাতের ভঙ্গিমা যোগ করতে পারেন, তবে তা নিয়ে খুব বেশি বাড়াবাড়ি না করাই ভালো। আপনার যে হাত রয়েছে সেটা পুরোপুরি ভুলে বসবেন না, অনেক প্রার্থীরাই সচরাচর তাদের হাত লুকিয়ে রাখেন। কথা বলার সময় আপনার চেহারা ঢেকে না যায় এমন ভাবে আপনার হাত রাখুন এবং প্রয়োজনে কিছুটা নাড়াচাড়া করে স্বাভাবিক থাকুন।

ইন্টারভিউয়ের সময় করণীয় কিছু বাড়তি টিপস

  • ইন্টারভিউয়ের সময় স্বাভাবিক থাকার একটি ভালো উপায় হচ্ছে কিছু কথা প্রসঙ্গে নোটস নেয়া। ইন্টারভিউয়ারের অনুমতি নিয়ে আপনি শুধুমাত্র এখানে নোটসই নিচ্ছেন না, বরং একই সাথে আপনার হাতকেও অপ্রয়োজনীয় নাড়াচাড়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন।
  • আপনার সেলফোনটি বন্ধ করে রাখুন; তা সম্ভব না হলে অন্ততপক্ষে সেটি সাইলেন্ট করুন বা এয়ারপ্লেন মোডে সেট করে রাখুন।
  • মাথা উঁচু করে কথা বলুন ও পা গুলোকে স্থির রাখুন; কখনও কুঁজো হয়ে বসবেন না।
  • নিরলস এবং উদ্যমী থাকুন, তবে কমনীয়তা বজায় রাখুন।
  • ইন্টারভিউ বোর্ডের সব সদস্যদের সাথেই আলাপ করুন, শুধুমাত্র একজনের দিকে সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকাটা অশোভন।
  • মাঝে মাঝে মাথা নাড়িয়ে আপনার স্বপক্ষে সম্মতি জানান। এর মাধ্যমে আপনি যে আগ্রহী, সহানুভূতিশীল, বা একমত, তা প্রকাশ করুন এবং সাবলীল ভাবে নিজেকে তুলে ধরুন। ঘন ঘন মাথা ঝাঁকাবেন না, কেননা তাহলে আপনাকে ঠিক কাঠঠোকরার মত দেখাবে আর আপনার ভাবমূর্তি নষ্ট হবে!

ইন্টারভিউয়ের সময় শরীরের ভঙ্গিমা – যে কাজগুলো আপনার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে!

এখন যেহেতু আপনি জেনে নিয়েছেন যে ইন্টারভিউয়ের সময় ঠিক কী কী আচরণ করা যাবে, তাহলে চলুন এখন আমরা জেনে নিই যে ইন্টারভিউ দেয়ার সময় কোন কোন জিনিসগুলো করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং শরীরকে সেভাবে প্রস্তুত করে নিতে হবে-

১. অতিরঞ্জিত আত্মবিশ্বাস

আত্মবিশ্বাসকে অহংকারের সাথে মিলিয়ে ফেলবেন না! যদি আপনার বিশ্বাস থাকেও যে আপনি সব প্রার্থীর চেয়ে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন, তবুও ইন্টারভিউ রুমে প্রবেশ করার সময় এ রকম চিন্তা ভুলেও মাথায় আসতে দেবেন না। যদি আপনাকে সরাসরি বলাও হয় যে আপনি অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন, তবুও নিজের আত্মবিশাসকে অতিরঞ্জিত হতে দেবেন না। দাম্ভিকতা বা অহংকার যে শুধুমাত্র একটি বিরক্তিকর স্বভাব তাই নয়; একই সাথে এটি যেকোন ধরণের পেশাদারী কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। বার বার নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন যে আত্মবিশাস এবং অহংকার দু’টো সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস!

২. ইন্টারভিউ বহির্ভূত কার্যকলাপ

ইন্টারভিউ দেয়ার সময় আপনার ফোন ব্যবহার করা, কিংবা হাতের কলমটি নিয়ে আঁকিবুঁকি করা, বা আপনার চুল ও চেহারার কোন অংশ নিয়ে খেলা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। এই কাজগুলো স্পষ্টভাবেই বর্জনীয় বলে আমরা সবাই জানি, কিন্তু অনেকেই অবচেতন মনে এই কাজগুলো করে থাকেন, আর বুঝতেই পারেন না যে তারা নিজেদের বিব্রত করছেন। অতএব, নিজের খারাপ অভ্যাসগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং সেগুলো যথাসম্ভব বর্জন করার চেষ্টা করুন। নিজেকে আরো উন্নত ও অভিজ্ঞ করে তোলার জন্য নিজ নিজ পরিবার, বন্ধুমহল কিংবা অন্যদের সাথে ইন্টারভিউ দেয়ার চর্চা করুন।

৩. স্নায়বিক অস্থিরতা বা ছটফটে ভাব

প্রায় বেশির ভাগ মানুষই উদ্বিগ্নতায় কিংবা কঠিন প্রশ্নের মুখে বিচলিত হয়ে পড়েন ও ছটফট করেন। এ ধরণের অস্থিরতা ও ছটফটে ভাব প্রকাশ করা, ঘন ঘন হাতের আঙুল বা পা ঠোকানো ইত্যাদি থেকে বিরত থাকার জন্য অনুশীলন নিন। এতে করে নিয়োগকারীদের সামনে আপনার উদ্বিগ্নতাই শুধু প্রকাশ পায় না, একই সাথে ইন্টারভিউ বোর্ডের মনোযোগও আপনার থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। আপনি নিশ্চয়ই একেবারে কাঠের ব্লকের মত শক্ত ও আঁটসাঁট হয়ে থাকতে চাইবেন না, কিন্তু তাই বলে পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা একজন উদ্বিগ্ন কিশোরের মত ছটফট করাটাও আপনার জন্য শোভন হবে না।

ইন্টারভিউয়ের সময় বর্জনীয় কিছু বাড়তি টিপস

  • আচমকা, বেসামাল কোন কাজ করে বসবেন না।
  • ইন্টারভিউয়ের সময় চুইং গাম চাবানো, ক্যান্ডি বা কোন ধরণের খাবার মুখে রাখবেন না।
  • আপনার হাতগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন, কিন্তু তাই বলে সেগুলো পকেটে ভরে বা লুকিয়ে রাখবেন না।
  • হঠাৎ মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে কোন দিবাস্বপ্নে হারিয়ে যাবেন না। সর্বদা নিজের মনোযোগ ধরে রাখুন।
  • হাতের আঙুল টোকাটুকি, কলম দিয়ে শব্দ করা বা অস্থিরভাবে পা নাচাবেন না, ইত্যাদি।

বোনাস:

আজকের আধুনিক যুগে এসে একটি ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ একটি ধাপ হচ্ছে ফোনালাপের মাধ্যমে আপনার পরোক্ষ ইন্টারভিউ নেয়া। আপনার আত্মবিশ্বাসকে আরো প্রবল করা এবং একই সাথে আপনার শরীর ও মনকে শিথিল ও সাবলীল রাখার জন্য যদি ফোনে কথা বলার সময় আপনি কোথাও পায়চারী করেন, তাহলে যথেষ্ট উপকার পাবেন। আর এটা করার পাশাপাশি আপনার প্রত্যুত্তর ও কথোপকথন বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে, কেননা পায়চারী করার সময় আপনার মস্তিষ্ক প্রতিনিয়ত আপনার পদক্ষেপগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে থাকে।

যেকোন ধরণের ইন্টারভিউ থেকে বিদায় নেয়ার সময় নিজের ব্যাপারে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জোরালো ইম্প্রেশন তৈরি করার চেষ্টা করুন। তাই বলে কাউকে আলিঙ্গন করার প্রয়োজন নেই! যেকোন ইন্টারভিউ থেকে সুন্দরভাবে বিদায় নেয়ার চর্চা করুন। আপনার জিনিসপত্রগুলো শান্তভাবে গুছিয়ে নিন, বিনয় ও শৃঙ্খলার সাথে চলুন, হাসিমুখে সম্মতি নিন এবং পুরো ইন্টারভিউ বোর্ডের সাথে সম্ভব না হোক, অন্ততপক্ষে হায়ারিং ম্যানেজারের দিকে হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়িয়ে দিন।

এটা মনে রাখা আবশ্যক যে আপনি আপনার যোগ্যতার প্রমাণস্বরূপ যে কাগজের টুকরোগুলো তাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন, সেগুলো আপনার ইতোমধ্যে অর্জন করা শেষ। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে আপনি যেমন আচরণ করবেন, সেটিই আপনার বর্তমান প্রতিচ্ছবি তাদের সামনে তুলে ধরবে। অতএব ইন্টারভিউ দেয়ার সময় শুধুমাত্র আপনি কী করেছেন সেগুলো দেখানোর জন্য কয়েক টুকরো কাগজ উপস্থাপন করার চেয়ে একজন ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে কেমন রূপে তুলে ধরতে পারছেন সেটা নিঃসন্দেহে বেশি কার্যকরী। আপনার দক্ষতা, মেধা, অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশাস ইত্যাদি আপনার শারীরিক ভাষার মাধ্যমেই পরিপূর্ণতা লাভ করে।

শেষ কথা

এটা সত্যি যে এখানে উল্লেখিত পয়েন্ট ও টিপসগুলো তেমন কোন নতুন বা যুগান্তকারী বিশেষ সমাধান নয়, আমরা সেটা একবাক্যে মেনে নিচ্ছি। কিন্তু সারল্যেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় এটাও আমরা মানি! আপনার সিভিতে থাকা উক্তিগুলোর চেয়ে আপনার কাজ, শারীরিক ভাষা ও আত্মবিশ্বাসই আপনার হয়ে সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখে বেশি। অতএব ইন্টারভিউয়ের সময় এই সহজ ব্যাপারগুলো সুন্দর ভাবে মেনে চললেই আপনি নিজেকে নিয়োগকারীদের সামনে পরিপূর্ণ ভাবে প্রকাশ করতে পারবেন।

একজন ব্যক্তির ইম্প্রেশন তৈরি করার পেছনে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভূমিকা পালন করে তাদের শরীরের ভঙ্গিমা বা শারীরিক ভাষা, অতএব এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটিকে কোন ভাবেই অবহেলা করা চলবে না। আপনার চাকরির অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিস পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও আপনার শারীরিক ভাষা কিন্তু ঠিকই পরিবর্তন করা যায়! আরও দেখে নিন চাকরির জন্য সিভি তৈরির সঠিক নিয়ম

যেকোন ধরণের চাকরির ইন্টারভিউতে উদ্বিগ্ন হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক, সবাই এটা অনুভব করেন। কিন্তু আমাদের উল্লেখ করা টিপসগুলো মাথায় রাখতে পারলে আপনি শুধুমাত্র বাংলাদেশেই না, বরং বিশ্বব্যাপী বড় যেকোন নিয়োগকারী কোম্পানির সামনেই নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবেন আপনার সেরা পারফর্মেন্স নিয়ে।

সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে থাকা অজস্র নামকরা প্রাইভেট ও সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া চাকরির বিজ্ঞাপন খুঁজে পেতে আজই ব্রাউজ করুন Bikroy.com/Jobs.

শারীরিক ভাষা নিয়ে আলোচিত আজকের কোন টিপসগুলো আপনার কাছে সেরা মনে হয়েছে? কোনগুলো আপনারা আগেই ব্যবহার করেছেন, আর পরবর্তী ইন্টারভিউতে কোন টিপসটি কাজে লাগাতে চাচ্ছেন? আমাদের সকল পাঠকদের সাথে আপনার মতামত শেয়ার করুন নিচের কমেন্ট সেকশনে।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments